Home তুমি আমার শেষবেলা তুমি আমার শেষবেলা পর্ব ৪১

তুমি আমার শেষবেলা পর্ব ৪১

তুমি আমার শেষবেলা পর্ব ৪১
নীতি জাহি

নয়ন তৎক্ষনাৎ নিচে বসে পড়ে। ইশতিয়াক, ইশান,মিনহাজ,সোহান ওকে ধরে সামলাতে পারছেনা। শরীর ছেড়ে দিয়েছে। ইশতিয়াক নয়নের ফোন টা হাতে নিয়ে মেসেজটা দেখে,পাশে ইশান থাকাতে সে ও দেখে। ইশানের চিৎকারে আশপাশটা কেঁপে উঠে,
‘পাপায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়া…..’
ইশতিয়াক ফোনে ইমরানকে ট্রাই করেই যাচ্ছে কিন্তু ফোন সুইচড অফ বলছে।
মিনহাজ মাথা ঠান্ডা রেখে বলে,’ আগে নাইটিংগেল ইন এ চল। মেসেজটা স্পাম ও হতে পারে। আমাদের ভয় লাগান্নোর জন্য। কারণ ইমরানের কিছু হলে কেউ আমাদের এভাবে মেসেজ দিয়ে বলবে বলে আমার মনে হয়না। নয়ন তুই এভাবে কেনো ভেঙ্গে পড়েছিস?’
‘ মিনহাজ আংকেল ঠিক বলেছে,নয়ন ভাই নিজেকে সামলাও। কথায় ঘাপলা আছে। আমি ফোর্স পাঠাচ্ছি।’
সবাই কিছুক্ষনের মধ্যেই পৌছে যায় নাইটিংগেল ইনে। হোটেল টা সাজানো সুন্দর। কিন্তু পরিবেশটা থমথমে। ভেতরেই ঢুকতেই অনেক গুলো লোক তাদের ঘিরে ধরে বড় একটা ছিমছাম রুমে নিয়ে যায়। সেখানেই আটকে দেয় সবাইকে।

‘ এত বড় বোকামী কি করে করলাম।নিজের কপাল চাপড়াতে মন চাচ্ছে। কেউ মেসেজ দিলো আমরা সেটা বিশ্বাস করলাম। এখন যে ফোন টা নিয়ে নিলো ওরা ভাই কে জানাবো কি করে। আমার মত লোক পুলিশ ডিপার্টমেন্টে থাকার কোনো মানেই হয়না।’
ইশতিয়াক নিজেকে গাল মন্দ করতে লাগলো। সবাই অসহায় চোখে ওর দিকে তাকিয়ে আছে। বাড়ির মহিলা গুলো ভয়ে কুকড়ে আছে। পুরুষগুলো আজ নিশ্চুপ। ধপ করে চারপাশ টা আলোকিত হয়ে উঠলো। দেয়ালে আটকানো সাদা প্রজেক্টরে ভেসে উঠেছে কিছু মুখ। সেখানে দেখা যাচ্ছে মিনহাজের বাইশ বছরের কন্যা মোনাকে। যার হাত পা দড়ি দিয়ে চেয়ারের সাথে বাঁধা। অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে মোনা। সকলের শ্বাস প্রশ্বাস সেখানেই থমকে গিয়েছে। ইমরান কোথায়? ওরা তো একসাথেই থাকার কথা ছিলো। কি থেকে কি হয়ে গেলো। তাহলে কি মেসেজের প্রতিটি শব্দ,বাক্য সত্য হয়ে গেলো।
মিনহাজ কাঁপা কাঁপা গলায় বলে,

‘ ইশতিয়াক.. এটা আমার মেয়ের মতো না??’
ইশতিয়াক বুঝতে পারছেনা কি উত্তর দিবে। অক্ষর বিহীন শব্দ যদি উচ্চারনের সাধ্য থাকতো তাহলে হয়তো ইশতিয়াক দুটো কথা বলতো।
‘ ও চাচ্চু এটা তো আমার মা। পাপা কই আমার। ওরা কি আমার পাপাকে মে*রে ফে*লে*ছে চাচ্চু।আমি কি আর পাপার বুকে যেতে পারবো না।’
তোমরা কি শুরু করেছো বলোতো, ‘ বাবা আয় এদিকে। কাঁদে না, মা পাপা ঠিক আছে। আর এটা মোনা হলেই যে ইমরান ভাইয়ের এর কিছু হয়েছে তার গ্যারান্টি কি?’
রিক্তার কথায় একটু নড়ে চড়ে বসলো সবাই। আইরিন এর প্রেশার ফল করেছে। তুশি, সামান্তা আইরিনকে নিয়ে ব্যস্ত।
‘ আমাদের কে বন্দি করলো তাহলে?’
নয়নের কথায় ইশতিয়াক মাথা নেড়ে বললো,
‘ দেখছি দাড়াও কি হয়। আমার ফোর্স রীতিমত কাজে নেমে পড়ার কথা।লোকেশন দিয়েছিলাম।’

‘ স্যার আপনি কি যাবেন হাসপাতালে? ‘
‘ না জহির, আমার অনেক কাজ। তুমি যাও।’
জহির বস এর কথা অনুযায়ী হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। টেবিল কাঁপানো যন্ত্রটা হাতে নিয়ে কানে লাগায় কালো হুডি পরিহিত ব্যক্তি। এজন্যই ভালো মানুষের কোনো দাম নেই। কি করেনি ইমরান নিজের লোকদের জন্য। আজ পেছন থেকে ছু*রি মা*র*লো কাছের মানুষরাই। ফোনের অপর পাশ থেকে মিষ্টি একটা আওয়াজ ভেসে আসলো।এতক্ষন অন্য ধ্যানে ছিলো বলে ওপাশ থেকে কি বলা হয়েছে তা শুনতে পায়নি। আবার ডাকে সম্বিত ফিরে আসে,
‘ জনাব আপনি কি আজ বাড়িতে আসবেন?’
‘ না বেগম আমার আজ অনেক বড় একটা কাজ আছে, একজন বন্ধু বিপদে পড়েছে।তাকে একটু সাহায্য করতে হবে।’
‘ সাবধানে থাকবেন এবং আমার জন্য সুস্থভাবে ফিরে আসবেন।’
‘আপনার মুখের এক চিলতে হাসির জন্য আপনার সুপারম্যান নিজের জান শূলে চড়াতে পারে। ইনশাআল্লাহ ফিরে আসবো।দোয়ায় রাখবেন।’
ফোনটা কেটে কায়েস রহমান যাকে সবাই কে.আর নামে চেনে, উঠে দাঁড়িয়ে পড়ে। মনে পড়ে যায় এক যুগ আগের কথা কত সুন্দর ছিলো স্মৃতিগুলো।

কিছুক্ষন আগে নয়নদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কে ছেড়েছে তাও জানেনা। পুরা নাইটিংগেল ইন পুলিশে ঘেরা। ইমরান শরীফ ও তার স্ত্রী মোনাশা ইকবাল নিখোঁজ। ঘড়িতে সকাল সাড়ে আটটা। পুরো একটা রাত পার হয়ে গিয়েছে। পুলিশ গিয়েছিলো “ফুড ইন ফরেস্ট” রেস্টুরেন্টে। যার সত্ত্বাধিকারী ইমরান নিজে। গতকাল সেখানে ইমরান এবং মোনা রাত্রী যাপন করেছিলো। ওদের কামরাতে এখনো ক্যান্ডেল ছড়িয়ে আছে। পুরো কামরা লণ্ডভণ্ড। রক্তের ছিটাফোঁটা। ইনভেস্টিগেশন চলছে। অপরাধী কোনো ক্লু ফেলে যায় নি। তবে রেস্টুরেন্টের পেছনের দিকটাতে কাঁদা মাটিতে স্পষ্ট জুতার ছাপ পাওয়া গিয়েছে। পুলিশের ধারণা অনুযায়ী ইমরান মোনাকে নিয়ে এখান দিয়ে বেরিয়ে গিয়েছে। জুতার ছাপ বলে দিচ্ছে মহিলা পুরুষের ছাপ।যদিও নিশ্চিত না। মিনহাজ, নয়ন এবং ইশতিয়াকের কাছে এসে অনুরোধ করে বলে,

‘ ইশতিয়াক আমরা ইমরান, মোনার ব্যাপারে দেরি করাটা ঠিক হবে না। তুই রাগ না করলে একটা অনুরোধ করি?’
‘ কি আংকেল?’
‘ কে.আর কে একটা ফোন দেয়। ও পারবে বের করতে। আমার মেয়ে আর মেয়ের জামাই জীবিত বা মৃত যাই থাকুক আমার সামনে দেখতে চাই। আমি এত কষ্ট নিতে পারছিনা। ভেতরটা জ্বলছে আমার।’
নয়ন চেঁচিয়ে উঠে,
‘ তুমি কি পাগল হলে মিনহাজ ভাই কে.আর কে ইনফর্ম করেছি ইমরান যদি টের পায় চিবিয়ে খাবে আমাদের। আমরা ওর কাছ থেকে কোনো সাহায্যই নিতে পারবোনা। পুরোনো দ্বন্দ্ব আবার জেগে উঠবে দোস্ত। বিপদ আবার গা ঝাড়া দিয়ে উঠবে।’
‘ নয়ন ভাই আর উপায় নেই। আমাকেও মাঝে মাঝে কিছু মারাত্নক সিদ্ধান্ত নিতে হয় আইনের বিরুদ্ধে গিয়ে। পুলিশ পুলিশের কাজ করছে তুমি কে.আর কে ফোন দাও।বলো ভাইয়া বিপদে। ‘
ইশতিয়াকের কথায় নয়ন বিস্মিত হলো,

‘কে. আর এর অবৈধ কাজ,অন্যায়মূলক কাজ সম্পর্কে তোর কি কম ধারণা আছে? আমি কি করে একটা পাওয়ারফুল ক্রিমিনালের সাথে যোগাযোগ করবো সেটা বল। ও এখন কোথায় কেউ জানেনা। ও নিজ থেকে ধরা না দিলে অধরাই থেকে যায়।’
‘বাহ একসময়ের বন্ধু আজ ক্রিমিনাল। যাক শুনে এতটা খারাপ লাগে নি নয়ন।’
পেছন থেকে কারো ভারিক্কি কন্ঠস্বর শরীরে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিলো। পেছনে ফিরে দেখে ফয়সাল দাঁড়িয়ে আছে। মিনহাজ কোনো কিছু না ভেবে ঝাঁপিয়ে পড়ে ফয়সালের উপর। ফয়সাল জড়িয়ে ধরে দাঁড়িয়ে আছে।
‘ দাঁড়িয়ে না থেকে বুকে আয়।’ নয়নকে উদ্দেশ্য করে ফয়সাল বাক্য ছুড়ে। নয়ন ও আর দেরি না করে বন্ধুর বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
নয়ন,মিনহাজ,ফয়সাল,ইমরান এবং কায়েস। একসাথে বড় হয়েছে। অদৃষ্টের পরিহাসে আজ সেই বন্ধন দুভাগে বিভক্ত। নয়ন, মিনহাজ এবং ইমরান এক জোট হয়েছিলো এবং ফয়সাল, কায়েসকে আলাদা হয়ে নিজেদের ব্যবসায়ের কাজে লেগে পড়েছে।
‘ তোদের এখানে আমি আর কায়েস আটকে রেখেছি।কাল ইমরানের উপর অ্যাটাক হবে এটা ইমরান জানতো। আমি দেশে এসেছি গত পরশু।কায়েস আমাকে এই কথা জানায়। ইমরান তাই বুদ্ধি খাটিয়ে তোদের সবাইকে বাড়ি থেকে সরিয়ে ফেলে, নিজেও সরে যায়। বাড়িতে আক্রমণ করার কথা ছিলো। আমার সাথে যোগাযোগ হয়েছিলো ওর। ভেবেছিলাম রেস্টুরেন্টের খোঁজ পাবে না কিন্তু আমি ওখানে পৌছানোর আগেই ওরা অ্যাটাক করে।’

‘বড় মামা কি বেঁচে আছে ফয়সাল মামা?’
‘ জানিনারে সোহান। ওদের খোঁজ লাগিয়েছি কিন্তু পাচ্ছিনা। মাথা ঠান্ডা রাখ। দেখা যাক কি হয়।’
‘কায়েস কোথায় ফয়সাল?দেশে এসেছে?’
মিনহাজের কথা ফয়সাল ক্ষীন হাসলো।
‘হ্যাঁ এক মাস হয়েছে।’
নিরবতা ঘিরে ধরেছে সবাইকে। এখনো খোঁজাখুজির কাজ চলছে। মিনহাজ চিন্তিত। বাড়িতে জানিয়ে দিয়েছে কাজের জন্য বাইরে আছে। ইমরান এবং মোনার কথা টা কাউকে জানানো যাবেনা। চোখের সামনে এখনো ভাসছে মোনার হাত পা বাঁধা অবস্থা। চোখ জ্বলছে। আইরিন পুরোপুরি বেডে। ভাই এবং মোনার চিন্তায় সে এখন শয্যাশায়ী।

পিট পিট করে চোখ খুলে তাকিয়ে দেখে চারপাশে অনেক আলো। একটা চেয়ারে বাঁধা অবস্থায় আছে। গায়ে একটা টি শার্ট তার উপর ডেনিম জ্যাকেট, পরনে ডেনিম প্যান্ট,পায়ে স্নিকারস। তৎক্ষনাৎ মনে পড়লো গতকাল রাতের কথা।
ইমরান আর মোনা নিজেদের গল্পে মগ্ন। মোনা তখন ইমরানের বুকে। ইমরান কিছুক্ষন পর পর মোনার চুলে, মাথায়,মুখে উষ্ণ অধর স্পর্শ করছে দুষ্টুমিতে মেতে উঠেছিলো দুজন। হঠাৎ ইমরান বলে উঠে,
‘ আচ্ছা মোনালিসা,আমি যদি কখনো হারিয়ে যাই আমাকে কি ভুলে যাবে??’
আচমকা এমন প্রশ্নে মোনার বুকের পাশটাতে চিনচিন ব্যাথা করে উঠলো। চিৎকার দিয়ে বললো,
‘ আপনি সবসময় আমাকে কাঁদানোর জন্য বসে থাকেন।’
রাগে ক্ষোভে মোনা চেঁচামেচি শুরু করলো। তখনই আবার আদরে আদরে আগলে ধরলো। কিছুটা মূহুর্তে নিজেদের মধ্যে কাটালো।উষ্ণ আদরে রাঙিয়ে দিলো মোনালিসাকে। প্রথমদিনের মত সযত্নে আদরের সন্ধিক্ষন ছিলো সময়টা।ইমরান নিজের ফোনের দিকে তাকিয়ে মোনাকে বললো,

‘ মোনালিসা একটা এডভেঞ্চার করবো তুমি কি রাজি?’
‘কি রকম?’
‘ব্যাগটা নিয়ে ওয়াশরুমে যাও শাড়িটা চেঞ্জ করে ফ্রেশ হয়ে ডেনিম প্যান্ট,জ্যাকেট পরে এসো। স্নিকার্স আছে আরেকটা ব্যাগে।’
মোনা খুশি হয়ে ব্যাগ নিয়ে ফ্রেশ হয়ে আসে। তাকিয়ে দেখে ইমরান ও নিজের গেট আপ চেঞ্জ করে ফেলেছে ইতিমধ্যে। মোনা তৎক্ষনাৎ বলে উঠলো,
‘ আমরা কি পাহাড়ে চড়বো। আপনাকে এই লুকে খুব সুন্দর লাগছে,টিশার্ট, ডেনিম এন্ড ইমরান সাহেব।ওয়াও কম্বিনেশন।’
মোনার কথায় অন্যসময় মজা পেলেও আজ মজা পাচ্ছে না। মোনাকে তাড়া দিয়ে বেরিয়ে পড়লো দুজন। অকস্মাৎ গোলাগুলির আওয়াজ শুনতে পায়। মোনাকে নিয়ে ছুটতে গিয়ে শোপিছের সাথে লেগে হাত কেটে গিয়েছে। পেছনের দরজা দিয়ে মোনাকে নিয়ে দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে জঙ্গলের দিকটাতে চলে এসেছে এবং ইমরান থমকে দাঁড়ায়,

‘ মোনালিসা আজকের পর কি হবে জানিনা। আমাকে মাফ করে দিও। কিছু সত্য তোমার কাছ থেকে লুকিয়ে ছিলাম। ভেবেছিলাম অতীত আমার পিছু ছেড়ে দিয়েছে। আমি এমন একটা অন্যায় করেছিলাম যার জন্য আমাকে আজো পস্তাতে হচ্ছে। তোমার জন্য আমার একটাই চিন্তা আমার অবর্তমানে ভেঙে পড়োনা। তুমি সেইফ থাকবে। এখান থেকে তোমাকে উদ্ধার করা হবে। পালাও। আমি আর আগাতে পারবোনা।’
মোনা চমকে উঠে বলে, ‘আপনি পারবেন উঠে দাঁড়ান।পায়ে কি বেশি লেগেছে?
পেছনে পিঠের দিকে তাকিয়ে দেখে ইমরানের পিঠে গুলি লেগেছে। মোনা বুঝতেই পারলো না।
‘আমি আপনাকে ধরছি।আপনি পারবেন,উঠুন বসে পড়েছেন কেনো?’
ততক্ষনে ইমরানের শরীর নিস্তেজ হয়ে আসছে। পায়েও প্রচন্ড আঘাত পেয়েছে গাছের গুড়ির সাথে লেগে। ইমরান চেঁচিয়ে বলছে,

‘ মোনালিসা পালাও। যদি আমার কোনো বংশধর আসে তাকে বলবে তার বাবা ফাইটার ছিলো। আমার,ইশানের দিব্যি। ইশানকে দেখে রেখো।পালাও।ওরা তোমাকে ছাড়বেনা।’
ঠিক তখনই কয়েকজন মুখোস পরা লোক এসে মোনাকে ধরে নিয়ে আসলো। একবার ইমরানের দিকে তাকাতেই দেখলো রক্তে রঞ্জিত ডান হাতে মোনার দিকে ফ্লাইং কিস ছুঁড়ে দিয়েছে। আরেকটা গুলি এসে ইমরানের সেই হাতে লেগেছে। ইমরান একেবারে নিস্তেজ হয়ে গিয়েছে। হয়তো যাত্রা এখানেই শেষ। মোনাও নিস্তেজ। নিজেকে কারো কাঁধে অনুভব করছে। হয়তো সেই মুখোশ পরা লোকগুলো ওকে নিয়ে যাচ্ছে। আর কিচ্ছু মনে নেই। ইমরান সাহেব নেই।
বর্তমানে সামনের দিকে টেবিলে গম্ভীর হয়ে বসে থাকা আগন্তুককে দেখছে। যার সারা শরীর কালোতে ঢাকা। মুখে মাস্ক। মোনাকে সেখানে উপস্থিত একজন সম্ভবত ওই লোকের আন্ডারে কাজ করে। প্রশ্ন ছুড়লো,
‘ কি খাবেন ম্যাডাম? কি খেতে ইচ্ছে করছে ম্যাডাম?’
‘ আমার স্বামী কোথায়? উনাকে দেখতে চাই। আপনারা কেনো নিয়ে এসেছেন আমাকে?’
‘ ম্যাডাম আপনি নিরাপদে আছেন। আপনার স্বামী কোথায় আমরা জানিনা। আমাদের ইনফরমেশন দিয়েছে আপনাকে এখানে এনে রাখতে। মোনা টেবিলে বসে থাকা চুপচাপ লোকটার দিকে তাকিয়ে বলে,

‘ উনি বুঝি আপনাদের বস?’
‘ জ্বি ম্যাডাম।’
‘আপনার নাম কি?’
কেউ কোনো উত্তর দিচ্ছে না। মোনা পুনরায় বলে,
‘আমাকে একটা ইনফরমেশন দিতে পারবেন? আমার স্বামী কি বেঁচে আছে না মারা গিয়েছে?’
‘স্যরি ম্যাডাম জানিনা।’
‘উনি যদি মা/রা যায়, আপনারা আমাকে দয়া করে মে/রে ফেলবেন। আমার উনাকে ছাড়া বাঁচার কোনো ইচ্ছে নেই। নিশ্বাস নিতে কষ্ট হয়।’
আগন্তুক নিরব হয়ে দেখছে। কিছুক্ষন পর বলে উঠলো,

তুমি আমার শেষবেলা পর্ব ৪০

‘আসলাম খাইয়ে দিস উনাকে। যা খেতে চায় সব দিবি। আমি চাই না উনি কোনো ভাবে অসুস্থ হোক। কথা দিয়েছি কাউকে। দেখে রাখবি এইদিকটা।’
‘ওকে ভাইজান।’
মোনা চেয়ারে হেলান দিয়ে দুচোখ দিয়ে অশ্রু বর্ষন করছে। আপনার সাথে আমার পথচলা এত অল্পদিনের কেনো ছিলো ইমরান সাহেব। কেনো আর কয়েকটা বছর বুকে আগলে রাখলেন না? মোনালিসা কি এতই খারাপ ছিলো? কি নিয়ে বাঁচব এবার??

তুমি আমার শেষবেলা পর্ব ৪২