তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ৩৫
নওরিন মুনতাহা হিয়া
তুষপাত বরফখণ্ড দ্বারা ঘিরে থাকা সরু রাস্তা দিয়ে গাড়ি চলছে জানালা দিয়ে আসা ঠাণ্ডা ধমকা হওয়া শীতের তীব্র জানান দিচ্ছে। কিন্তু বাহিরে কণকণে ঠাণ্ডা থাকার পর ও গাড়ির পরিবেশ এখন গরম তার কারণ হলো মেঘ। মেঘ রাগে দাঁত কটমট করে আদ্রিয়ানের দিকে তাকিয়ে রয়েছে চোখ মুখ দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে রাগ আর জেদের বশবর্তী হয়ে সে হয়ত এখুনি আদ্রিয়ানকে খুন করে ফেলবে! কিন্তু মেঘের রাগকে ভয় না পেয়ে বরং মিটমিট করে হাসছে। মেঘ রাগী দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে
“আদ্রিয়ান স্যার‚আপনি কি করে জানলেন মালিহা কালো আর হাতির মতো মোটা? আপনার সাথে ওর কি দেখা হয়েছে? নিজের বউয়ের নামে এমন মিথ্যা অপবাদ দিতে লজ্জা করে না আপনার?”
আদ্রিয়ান তার হাসি থামিয়ে মেঘের দিকে ফিরে বলে উঠে
“বিশ্বাস কর মেঘ একটু ও লজ্জা করে না। যা সত্যি তাই বলেছি আমি। আমার বউকে দেখতে সত্যি খুব বাজে! না ‚হলে এই নয় বছরের মধ্যে কেন একবার ও আমার সামনে আসেনি! সুন্দরী হলে অবশ্যই আসত। নিশ্চয়ই খুব বাজে দেখতে হবে।”
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
আদ্রিয়ানের কথা শুনে মেঘের প্রচুর রাগ হয় সে কি জানে না মেঘ কোন এতোদিন তার সামনে আসেনি? তবুও এমন নাটক করছে কেনো? আর মেঘ যথেষ্ট সুন্দরী।স্কুল বা কলেজে পড়ার সময় কতো ছেলেরা তাকে প্রপোজ করেছে। কিন্তু মেঘ তাদের না করে দিয়েছে শুধুমাএ ওর স্বামী আদ্রিয়ান রোদায়ানের জন্য! আর এখন আদ্রিয়ান তাকে হাজার খানিক কথা শুনিয়ে দিচ্ছে! অবশ্য ক্লাসে সবচেয়ে সুর্দশন স্যার এখন ওনি জুনিয়র সিনিয়র সব মেয়েরা এখন তার সাথে প্রেম করতে চাই। এতো সুন্দরীসুন্দরী ছাএীকে দেখার পর নিজের বউকে কুৎসিত লাগা স্বাভাবিক বিষয়। মেঘ তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বলে
“ক্লাসে বিউটিফুল আর হট্ ছাএীদের দেখে এখন নিজের বউকে তো কুৎসিত লাগবেই?”
মেঘের কথার অর্থ হয়ত আদ্রিয়ান বুঝতে পারল তবুও সে ইচ্ছা করে জ্বালাতন করার উদ্দেশ্য বলে উঠে
“হুম মেঘ‚তোমার কথা কিন্তু সত্য। অবশ্য আমার ক্লাসের মেয়েরা সত্যি অনেক সুন্দরী। ইচ্ছা করে এমন সুন্দরী মেয়েদের সাথে প্রেম করতে! প্রথম সারিতে বসে থাকা কোন মেয়ে আমার বিয়ের পাএী হিসাবে ভালো হবে ?তুমি একটা পাএী খুঁজে দিবে আমাকে মেঘ?”
মেঘের রাগের আগুনে ঘি ঢালার জন্য হয়ত এই কথায় যথেষ্ট ছিল। মেঘ রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বলে
“আমি কোন আপনার পাএী খুঁজতে যাব? আমাকে কি ঘটক মনে হয় আপনার? আর নিজের ছাএীকে এমন কথা কি করে বলছেন আপনি?”
আদ্রিয়ান ঠোঁট চেপে তার হাসি লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করে মেঘের এমন হিংসাত্মক চেহারা দেখতে তার ভীষণ আনন্দ লাগছে। রাগে ‚ মেঘের গাল লাল টুকটুকে টমেটোর ন্যায় লাল হয়ে গেছে। যার প্রতি একটু লোভ জন্মাল আদ্রিয়ানের। কিন্তু এখন প্রেম বা রোমান্স করার সময় নয় মেঘকে বিরক্ত করতে হবে। আদ্রিয়ান ঠোঁটে দুষ্ট হাসি দিয়ে বলে
“মেঘ তুমি রাগ করছ কোন? আর তুমি কি শুধু আমার ছাএী হও। সম্পর্কে আমার বিয়াইন ও হও। আর স্যার বা বিয়াইয়ের জন্য কি এইটুকু করতে পারবে না!”
মেঘ তার কাঁধে থাকা মেঘ জোরে শব্দ করে তার রাখে আর আদ্রিয়ানের দিকে তাকিয়ে বলে
“না ‚ পারব না। কারণ আমি ডক্টর হতে চাই ঘটক না৷ এখন তাড়াতাড়ি গাড়ি থামান৷ আমি নেমে যাব।”
আদ্রিয়ান মেঘের সাথে এতোখন দুষ্টামি আর সয়তানি করছিল কিন্তু এখন মেঘ রেগে গিয়ে গাড়ি করে নেমে যেতে চাইছে দেখে। আদ্রিয়ান তার হাসি থামিয়ে মেঘের রাগ শান্ত করতে বলে
“মেঘ তুমি রাগ করছ কেনো? আমি মজা করছিলাম মেঘ!”
মেঘ আদ্রিয়ানের কথা শুনল না ও হাতে থাকা ব্যাগ কাঁধে ঝুলিয়ে নিয়ে রাগী কণ্ঠে হুমকি দিয়ে বলে উঠে
“আমি আপনার কোনো কথা শুনতে চাই না। আপনাকে গাড়ি করে আর আমাকে পৌঁছে দিতে হবে না। আমি একাই চলে যেতে পারব। গাড়ি থামান।”
আদ্রিয়ান গাড়ি থামায় না দেখে মেঘ চলন্ত গাড়ির দরজা খুলার চেষ্টা করে। আদ্রিয়ান ভয় পেয়ে মেঘের শরীরে এখন প্রচুর রাগ যদি চলন্ত গাড়ি থেকে নামার চেষ্টা করে তবে নিশ্চয়ই হাত পা ভেঙে ফেলবে! দ্রুত ব্রেক কসে গাড়ি থামিয়ে দেয় আদ্রিয়ান। মেঘ আদ্রিয়ানের কোনো কথা না শুনে গাড়ির দরজা খুলে বের হয়ে যায়। বড় বড় পা ফেলে রাস্তা দিয়ে হাঁটা শুরু করে।
আদ্রিয়ান গাড়ি থামিয়ে দরজা খুলে নেমে দাঁড়ায় এরপর মেঘের পিছনে হাঁটা শুরু করে। মেঘ এক পা এগিয়ে যাচ্ছে আর পিছনে ফিরে ঘুরে তাকিয়ে দেখছে আদ্রিয়ান ঠিক আছে কি না! মেঘের কাণ্ড দেখে আদ্রিয়ান মুচকি হাসতে থাকে।
পিচ ঢালা বরফখণ্ডিত রাস্তার জমে থাকা বরফের উপর দিয়ে আলতো পায়ে হেঁটে যাচ্ছে মেঘ। বর্ষাকালেল ঝিরিঝিরি বৃষ্টির মতো আকাশ থেকে তুলোর ন্যায় সাদা বরফ পড়ছে। যার আকার খুব ছোট আর নরম হওয়ায় মেঘের শরীরে গড়িয়ে পড়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র হয়ে ভেঙে যাচ্ছে। মুক্ত পাখির ডানার মতো মেঘ দুই _ হাত মেলে দিয়ে বরফ কণা ছুঁয়ে দিচ্ছে আবার কখন হাতে নিয়ে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছে। মেঘ মনে আনন্দ করছে জীবন থেকে হারিয়ে যাওয়া সুখ যেনো আজ বরফ কণা হয়ে তার উপর বর্ষিত হচ্ছে।
মেঘ মায়া ভরা মুখশ্রী আর বাচ্চাময় খুনসুটি থেকে মৃদু হাসে আদ্রিয়ান। তার হৃদয় আজ নিদারুণ সুখ অনুভূতি হচ্ছে! গত আটাশ বছরের দীর্ঘ জীবনে আজ প্রথমবার তার কারো উপর এতো মুগ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। প্রেম নামক এক ব্যাধি তার সমস্ত শরীরে আক্রমণ করছে। আজ তার অনুভব হচ্ছে ভালোবাসা কি! প্রেম কি? অবশ্য আদ্রিয়ান এখন ও তার হৃদয়ে থাকা অনুভূতি নিয়ে সন্দিহান! আদ্রিয়ান কি সত্যি তার “মেঘবালিকার”প্রেমে পড়ে গিয়েছে?না ‚ এইটা কোন সাধারণ নিছক মায়া! আদ্রিয়ান তার মনে থাকা প্রশ্নের উত্তর জানে না অবশ্য জানার চেষ্টা ও সে করে না। কারণ তার মেঘের প্রতি তার হৃদয়ে থাকা সুপ্ত অনুভূতি মায়া হোক বা ভালোবাসা! তার হৃদয় জুড়ে শুধু মেঘই থাকে। আর এই একজীবন না হয় তার মেঘের হয়ে কাটিয়ে দিবে।
মেঘ তার পিছনে থাকা আদ্রিয়ানের অস্তিত্ব উপলব্ধি করতে পারে ‚বরফ খণ্ডের উপর হাঁটা পায়ের শব্দ তার কানে ভেসে আসে। হয়ত আদ্রিয়ান তার পিছনে আছে বলে অচেনা ‚অজানা রাস্তায় একা হাঁটার সাহস তার হয়েছে। মনে থাকা ভয় দূরে ঠেলে দিয়ে আনন্দঘন পরিবেশ সে উপভোগ করতে পারছে। তবুও মেঘ কয়েক মিনিট পর পর পিছনে ফিরে আদ্রিয়ানের দিকে তাকায়। তার ভয় হয় যদি জীবনের যাএাপথের মতো রাস্তার পথ থেকে ও হুট করে আদ্রিয়ান হারিয়ে যায়। তখন সে খুব একা হয়ে পড়বে। কিন্তু মেঘের ধারণা প্রতিবার ভুল প্রমাণিত হয়! পিছনে ফিরে তাকালে মেঘ দেখতে পায় আদ্রিয়ান হাসছে তাকে নিভর্য়ে হেঁটে যাওয়ার জন্য চোখ দিয়ে ইশারা করছে।
তবে কি আদ্রিয়ান থাকবে মেঘের সাথে? শুধু রাস্তা নয় বরং সারাজীবন তার ভয় ‚ আর কষ্ট দূর করে আশার আলো হয়ে। মেঘ হয়ত চাই আদ্রিয়ান থাকুক। মেঘ সব ভয় ‚ বিপদ ‚ কাটিয়ে সফলতার উঁচু পাহাড়ে উঠবে। তখন যেন ঠিক এমন করে আদ্রিয়ান তার পিছনে দাঁড়িয়ে থাকবে মেঘের মনে সাহস দিবে! হয়ত অভিমান ‚ রাগ ‚ জেদের কারণে মেঘ হয়ত চাইবে আদ্রিয়ান তার থেকে দূরে থাকুক। কিন্তু আদ্রিয়ান যেন তার সব অভিমান ভাঙিয়ে দুই হাতে জড়িয়ে নেয় মেঘকে। আদরে ‚ যত্নে ‚ভালোবাসায় সব দূরত্ব কমিয়ে ভালোবেসে আবার মেঘের কাছেই ফিরে আসে।
কণকণে শীতল বাতাসে আবহাওয়া অত্যাধিক ঠাণ্ডা হয়ে যায়। বেশ দীর্ঘক্ষণ যাবত রাস্তায় হাঁটার কারণে মেঘের এখন শীত করছে। মেঘ তার দুই হাত দিয়ে তার বাহুদ্বয় জড়িয়ে ধরে শীতে ক্ষণে ক্ষণে তার শরীর কেঁপে উঠছে। তাছাড়া বরফ খণ্ড শরীরে পড়ে গলে যাচ্ছে বিধায় তার সয়র্টার ভিজে যাচ্ছে। আদ্রিয়ান হয়ত খেয়াল করল সে বুঝল মেঘের শীত করছে।
আদ্রিয়ান তার হাঁটার গতি বাড়িয়ে দেয় বড় বড় পা ফেলে মেঘের কাছে গিয়ে পৌঁছায়। এরপর পিছন থেকে মেঘের পড়নে জামা টান দিয়ে ধরে তাকে নিজ দিকে ঘুরিয়ে নেয়। হঠাৎ এমন কাণ্ডে মেঘ ছোট ছোট চোখ করে তাকায় আদ্রিয়ানের দিকে। কিন্তু তার কোন প্রশ্ন করার আগেই আদ্রিয়ান দ্রুত নিজের পড়নে থাকা হুডি খুলে হাতে নেয় এরপর তার হুডি মেঘের শরীরে জড়িয়ে দেয় আর বলে
“হুডি গায়ে জড়িয়ে নাও। পরে কিন্তু বেশি শীত করবে?”
মেঘ তাকায় আদ্রিয়ানের শরীরের দিকে তার পড়নে খুব হালকা আর সফ্ট শার্ট। যা এই শীতল পরিবেশে পড়ে থাকার জন্য যথেষ্ট নয়। অথচ সে নিজের গায়ের হুডি মেঘকে দিয়ে দিল। মেঘ প্রশ্ন করে উঠে
“আপনার কি শীত করবে? শরীরে শার্ট ছাড়া অন্য কিছু পড়েন নাই আপনি!“
“এই ওয়েদারের সাথে মানিয়ে নেওয়ার অভ্যাস আমার আছে। আমি বিগত নয় বছর ধরে এখানে থাকি। আর তুমি নতুন এসেছ? তাছাড়া অতিরিক্ত শীতে তোমার জ্বর বা ঠাণ্ডা লাগতে পারে। সামনে পরীক্ষা রয়েছে।”
মেঘ আর কথা বলল না সে আবার হাঁটা শুরু করল আদ্রিয়ান তার কয়েক পা পিছে রয়েছে। বরফ কণা যতবার মেঘের মাথায় বা গায়ে পড়ে আদ্রিয়ান ঠিক ততবার হাতে দিয়ে তা সরিয়ে দেয়। যাতে বরফ গলে মেঘের শরীর ভিজে ঠান্ডা না লাগে। বেশ কিছুক্ষণ হাঁটার পর তারা উপস্থিত হয় এক মেলায়‚ শীতের মধ্যে প্রায় আমেরিকায় এই মেলা হয়।
মেলার জমজমাট আয়োজন আর হাজারো আলোর ঝলমল আর শত মানুষের সমাহার দেখে মেঘের মন উত্তলা হয়ে যায় মেলায় যাওয়ার উদ্দেশ্য। মেঘ এক মূহুর্ত দেরি না করে মেলার ভিতরে যাওয়ার জন্য পা বাড়ায়। ঠিক তখন পিছন থেকে মেঘের হুডি টান দিয়ে ধরে মেঘ ভ্রু কুঁচকে পিছনে ফিরে তাকায় আদ্রিয়ানের দিকে। আদ্রিয়ান গম্ভীর কণ্ঠে বলে
“কোথায় যাচ্ছ তুমি মেঘ?”
“মেলার ভিতরে যাচ্ছি।”
“মেলায় কতো মানুষের ভিড় দেখেছ তুমি? যদি হারিয়ে যাও তখন কি হবে? আমেরিকার কোন জায়গা কি তুমি চিনো?”
“মেলায় হারিয়ে যাব কেন? আমি কি বাচ্চা?
“হুম তুমি বাচ্চা। আমেরিকায় নতুন তুমি যদি একবার রাস্তা ভুলে হারিয়ে যাও। তখন কি করে বাড়ি ফিরবে তুমি!”
আদ্রিয়ানের কথা শুনে মেঘ আবদার করে বলে
“কিন্তু আমি যেতে চাই। আমি মেলার ভিতরে যাব।”
আদ্রিয়ান মেঘের দিকে তার হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলে
“তবে আমার হাত ধরে রাখবে সবসময়। কখন হাত ছেড়ে অন্য কোথায় যাবে না।প্রমিজ কর।”
“না‚আমি আপনার হাত ধরব না।”
“তবে তোমাকে মেলায় যাওয়ার অনুমতি ও আমি দিব না।”
“আমি কেন আপনার অনুমতি নিয়ে মেলায় যাব? আমি একাই গেলাম মেলাম। পারলে আটকে দেখান।”
“সাহস থাকলে এক পা বাড়িয়ে দেখাও। পা ভেঙে হাতে ধরিয়ে দিব। চুপচাপ আমার হাত ধরে মেলায় যাও। আর না হলে কিন্তু এখুনি বাড়িতে ফিরত নিয়ে যাব।”
মেঘ বাধ্য হয়ে রাগ করে আদ্রিয়ানের হাত ধরে এরপর তারা একসাথে মেলায় ঢুকে। প্রথমে তারা একটা খেলার দোকানে যায় ‚যেখানে দুইটা বাক্স রাখা৷ যার ভিতরে কিছু পুতুল রাখা আর পুতুলগুলো ধরার জন্য এক ধরণের যন্ত্র রাখা। আদ্রিয়ান তার পকেট থেকে কয়েন বের করে বাক্সর নিচ দিয়ে এর ভিতরে দেয়। এরপর মেঘকে উদ্দেশ্য করে বলে
“এখন ওই যন্ত্র দিয়ে পুতুল ধরার চেষ্টা কর।”
মেঘ দ্রুত বাক্সর কাছে এগিয়ে যায় এরপর ভিতরে থাকা যন্ত্র দিয়ে পুতুল ধরার চেষ্টা করে। কিন্তু যন্ত্রটা অনেক লুস থাকায় সে পারছিল না যা দেখে আদ্রিয়ান এগিয়ে যায় মেঘের কাছে৷ এরপর মেঘের হাত ধরে যন্ত্রটা দিয়ে পুতুল উঠাতে সাহায্য করে। মেঘ পুতুল রেখে তার হাতে রাখা আদ্রিয়ানের হাতের দিকে তাকায়। এরপর একটু ঘুরে আদ্রিয়ানের চোখের দিকে তাকায় তাদের দুইজনের চোখ মিলিত হয়। মেঘ হয়ত বিরক্ত বোধ করছে ভেবে আদ্রিয়ান তার হাত ছেড়ে দেয়। এতোখনে পুতুল যন্ত্র দিয়ে ধরে নিচে ফেলা হয়ে গেছে।
___ মেঘ দেখে পুতুল নিচে পড়ে গেচে তাই সে দ্রুত পুতুল তুলে নেয়। মেঘ আর আদ্রিয়ান মেলা ঘুরে দেখতে থাকে সেখানে সুন্দর সুন্দর খাবারের দোকান আর বিভিন্ন গৃহ সজ্জিত জিনিসপত্র উঠেছে। মেলার এক সাইডে বড় এক নাগর দোলা দেখে মেঘ আবদার করে বলে
“আদ্রিয়ান স্যার ‚ চলুন নাগর দোলায় উঠি।”
আদ্রিয়ান না বোধক সম্মতি দিয়ে মেঘকে শাসিত কণ্ঠে বলে
“না‚ নাগরদোলা অনেক উঁচু ভয় পাবে তুমি। আবার পড়ে ও যেতে পার।”
“ভয় পাব না। আর পবর ও না। চলুন না নাগরদোলায় উঠি।”
“মেঘ ভয় পাবে তুমি।এইটা সত্যি অনেক উচুঁতে উঠবে।”
“শুনুন মেঘ ভয় পায় না। মেঘ অনেক সাহসী। ভীতু হলেন আপনি। এইজন্য যেতে চাইছেন না।”
“ও্হ ভীতু আমি তাই না! চলো তবে নাগর দোলায় উঠি দেখা যাবে কে কতো বড়ো ভীতু।”
“হুম চলুন।”
আদ্রিয়ান আর মেঘ নাগর দোলায় উঠব। প্রথমে শুরুর দিকে মেঘ অনেক এক্সাইটেড ছিল নাগর দোলায় উঠার জন্য। কিন্তু ধীরে ধীরে যখন নাগর দোলা উঠা উপরে উঠতে থাকে ‚ মেঘের ভয় বাড়তে থাকে। তার গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে যায় সে পাশে থাকা রড ধরে গুটিসুটি মেরে বসে থাকে। নাগর দোলা ধীরে ধীরে উপরে উঠছে মেঘের ভয় আরো বাড়ছে।
আদ্রিয়ান খুব ফুরফুরে মেজাজ নিয়ে বসে আছে তার ভয় করছে না। কারণ তার নাগর দোলায় উঠার অভ্যাস আছে। মামা ‚মামি সাথে ছুটির দিনে প্রায় সে বিভিন্ন জায়গা বেড়াতে যেতো আবার একা একা কখন আমেরিকার বিভিন্ন মেলা ঘুরতে গিয়ে নাগর দোলায় উঠব। আদ্রিয়ান খুব সাধারণ বিষয়ে ভয় পায় না। মেঘ ভয় পেয়ে তার এক হাত দিয়ে আদ্রিয়ানের হাত চেপে ধরে রাখে। যার ফলে তার চোখ হাতের নখ আদ্রিয়ানের হাতের কনুইয়ে লেখে র’ক্ত বের হয়ে গেছে।
আদ্রিয়ান পাশ থেকে তাকিয়ে দেখে মেঘ ভয়ে চোখ মুখ খিঁচে বন্ধ করে বসে আছে। সে জানত মেঘ ভয় পাবে তাই আগে থেকেই সাবধান করছিল নাগর দোলায় না উঠতে কিন্তু মেঘ শুনল না! আদ্রিয়ান মেঘের ভয়ার্ত মুখ দেখে হাসল। মেঘ একবার চোখ খুলে তাকিয়ে দেখে আদ্রিয়ান তার দিকে তাকিয়ে মিটমিট করে হাসছে। যা দেখে মেঘ সাহস দেখানর মিথ্যা অভিনয় করল এরপর নাগর দোলার উপর থেকে নিচুঁ হয়ে মাটি দেখার চেষ্টা করে।
তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ৩৪
নাগর দোলায় এখন মাটি থেকে অনেক উপরে রয়েছে যা দেখে আরো ভয় পায়। আদ্রিয়ানের মেঘের থুতনি ধরে তার দিকে ফিরায় এরপর মেঘের মাথা তার বুকের সাথে চেপে ধরে। মুষ্টি বদ্ধ করা রাখা হাত তার হাতের ভাঁজে নিয়ে শক্ত করে ধরল চোখ দিয়ে ভয় না পাওয়ার ইশারা করল। মেঘ ভয়ে আদ্রিয়ানের বুকে মুখ গুঁজে। আদ্রিয়ান মৃদু হেঁসে মেঘের চুলের সাইড দিয়ে হাত নিয়ে গিয়ে বাহু ধরে শক্ত করে চেপে ধরল।
