Home তোমার নামে নীলচে তারা তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ৬৩

তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ৬৩

তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ৬৩
নওরিন মুনতাহা হিয়া

রাত প্রায় তখন ১০:০০। রিসোর্টের বাহিরে বাগানে দাঁড়িয়ে আছে মেঘ। নিস্তব্ধ প্রকৃতির মাঝে একটু সময় কাটানর ইচ্ছা করছে তার৷ ফুলের সুবিশাল বাগান থেকে সুঘ্রাণ বয়ে আসছে! সমগ্র জায়গা যেন‚ শীতল ঠান্ডা বাতাস আর ফুলের মধুকর সুঘ্রাণে সুরভিত হয়ে উঠছে! মেঘ চোখ বন্ধ করে বাতাসের কনকন শব্দ অনুভব করছে।
হঠাৎ তার চোখ থাকা অবস্থায় অনুভব করে‚ কেউ একজন পিছন থেকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছে। মেঘ জানে এই মানুষটা আদ্রিয়ান ছাড়া আর কেউ না। তবুও রিসোর্টে অনেক ছাত্র ছাএী রয়েছে তাই নিশ্চিত ঘাড় উঁচু করে ঘুরিয়ে তাকায় পিছনে। তার ধারণা ঠিক। এই মানুষটা তার স্বামী ডক্টর: আদ্রিয়ান রেদোয়ান। সারাদিনের ক্লান্ত শরীর মেঘের সংস্পর্শে এসে যেন শান্তি খুঁজে পেয়েছে। হাতের বাঁধনে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে নিজ প্রেয়সীকে‚ মুখ দিয়ে কোন শব্দ না করে শুধু চোখ বন্ধ করে মেঘের সঙ্গ অনুভব করে সে!
আদ্রিয়ানের এমন কাণ্ড দেখে মেঘ মুচকি হেঁসে উঠে। তার হাত পিছনে নিয়ে চুল স্পর্শ করে আর্দ্রর ‚ এরপর বলে উঠে

“ঘুমাবেন না আপনি।”
জড়িয়ে ধরে রাখা অবস্থায় আদ্রিয়ান বলে উঠে
“তোমায় ছাড়া ঘুম আসছে না বউ।”
আদ্রিয়ানের এমন কথা শুনে মেঘ হেঁসে উঠে।“ বউ ” ডাকটা আদ্রিয়ানের কণ্ঠে বরাবরই ভীষণ সুন্দর আর কিউট লাগে। স্বামীর এমন ডাকে‚ যেন মেঘ প্রশান্তি খুজে পায়। বাসায় থাকার সময় তারা দুইজন একসাথে ঘুমাত। আদ্রিয়ান প্রায় প্রতিদিন মেঘকে জড়িয়ে ধরে‚ শক্ত করে নিজ বুকের মাঝে রেখে দিত! মাথায় হাত বুলিয়ে মেঘকে ঘুম পাড়িয়ে দিত। গত নয় বছর ধরে যে অপেক্ষা সে মেঘকে করছে তার চেয়েও বেশি যত্ন সে নেয় মেঘের। তার কথায়‚ ভালোবাসায় বুঝিয়ে দেয় সে মেঘকে কতটা ভালোবাসে! স্বামীর এমন যত্ন পেয়ে‚ মেঘও খুশি হয়। আমেরিকায় তাদের দুইজনের সুখের সংসার খুব সুন্দর চলছে।
জড়িয়ে ধরার মাঝে আদ্রিয়ান এক আদুরে আবদার করে বসে

“বউ‚ চল না রুমে। একসাথে ঘুমায়।”
বাসায় থাকলে হয়ত আদ্রিয়ানের এমন আবদারে মেঘ সাড়া দিত। কিন্তু এখানে রিসোর্টে! অসম্ভব। কলেজের শত শত শিক্ষার্থী রয়েছে। যদি তার মধ্যে কেউ একজন তাদের একসাথে দেখে ফেলে তখন কি হবে? এমনি দুইদিন আগে কলেজ গাউনের ঘটনা নিয়ে সবার মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। মেঘ বলে
“আদ্রিয়ান‚ আমরা এখন রিসোর্টে অবস্থান করছি। এখানে একসাথে ঘুমান যাবে না। আমরা স্বামী স্ত্রী তা কেউ জানে না।”
মেঘের কথায় বাস্তবতায় ফিরে আসে আদ্রিয়ান। কিন্তু ঘুমানর আগে মেঘকে জড়িয়ে ধরা তার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এই অভ্যাস সে কি করে পরিবর্তন করবে? আজ সারারাত হয়ত তার ঘুমই হবে না৷ আদ্রিয়ান বলে
“মেঘ‚ কিন্তু আমি তোমায় ছাড়া থাকতে পারব না। কেউ দেখবে না। চল রুমে যায়।”
আদ্রিয়ানের হাতের বাঁধন থেকে মুক্ত হয়ে মেঘ‚ পিছনে ঘুরে তাকায়। এরপর ওর দিকে তাকিয়ে বলে
“আদ্রিয়ান‚ যদি জিয়া আমাদের একসাথে দেখে তখন কি হবে? প্লিজ দুইদিন দূরে থাকুন আমার থেকে। যেন কারো সন্দেহ না হয়।”

মেঘের গালে হাত দিয়ে আর্দ্র বলে উঠে
“ডোন্ট ওরি মেঘ। জিয়ার ব্যবস্থা করা হয়ে গেছে। মামার সাথে কথা বলেছি আমি। ওনি খুব ইরফান স্যারের সাথে কথা বলবে।”
“কিন্তু জিয়া যে পরিমাণ সাইকো। যদি কোন ক্ষতি করার চেষ্টা করে। তখন কি হবে?”
আদ্রিয়ান মেঘকে স্বান্তনা দিয়ে বলে উঠে
“মেঘ‚ তুমি টেনশন কর না। জিয়া যতই চেষ্টা করুক না কেন। আমি সবসময় তোমাকে ভালোবাসব। আমার প্রিয় বউ মালিহা জান্নাত মেঘকে।”
মেঘ আদ্রিয়ানকে জড়িয়ে ধরে বলে উঠে
“আমিও সারাজীবন শুধু আপনার হয়ে থাকব। আদ্রিয়ান। কোন তৃতীয় ব্যাক্তি আমাদের স্বামী স্ত্রী সম্পর্কের মাঝে আসতে পারবে না।”

কিন্তু হঠাৎ তাদের দুইজনের খুনসুটির মাঝে মেঘ খেয়াল করল। দেয়ালের অপর পাশে লুকিয়ে এক ছায়া তাদের দেখছে। মেঘ মাথা উঁচু করে তাকায় সেইদিকে‚ কিন্তু তখন কোন ছায়া দেখা যাযনি! তবে কি মেঘ ভুল দেখেছে? না‚ সত্যি তাদের কেউ লুকিয়ে দেখছিল? মেঘের চিন্তিত মুখ দেখে আদ্রিয়ান বলে
“ কি হয়েছে মেঘ? কি দেখছ ওইদিকে?”
মেঘ মাথা নাড়িয়ে না বলে
“না‚ কিছু না।”
দেয়ালের অপর পাশ থেকে লুকিয়ে এতোখন ধরে তাদের দেখছিল জিয়া। রাগে, হিংসার তার শরীর জ্বলে পুড়ে ছারখার হয়ে যাচ্ছে? কতো বড়ো সাহস তার থেকে সত্যি লুকিয়ে রাখা। মেঘ আর আদ্রিয়ান স্বামী স্ত্রী সেটা সে জানত না?তার প্রথমে সন্দেহ হয়েছিল, যখন আদ্রিয়ানকে মেঘের যত্ন করতে সে দেখেছিল। কিন্তু যখন ফারহানের প্রপোজে মেঘ রাজি হয়েছিল। তখন তার ধারণা ছিল মেঘ ফারহানকে ভালোবাসে।

আদ্রিয়ান আগে বলেছিল, সে বিবাহিত তার স্ত্রীর নাম হলো মালিহা। কিন্তু জিয়া জানতে না, মেঘের আসল নাম মালিহা জান্নাত মেঘ। হঠাৎ আদ্রিয়ানের ব্যবহারের এমন পরিবর্তন হয়েছে এই কারণে? জিয়া এখন বুঝতে পারছে? জিয়ার সন্দেহ কখনও ভুল হয় না। কিন্তু এতো সহজে তাদের একসাথে সংসার করতে দিবে না সে। অসম্ভব। আদ্রিয়ান শুধু মাএ তার। এই জীবনে যখন প্রথম আদ্রিয়ানকে ভালোবেসেছে,তখন তার আদ্রিয়ানকে চাই! যদি এর জন্য মেঘকে খুন করতে হয়, তবুও তার হাত কাপঁবে না।
আদ্রিয়ানের ভালোবাসা পাওয়ার মাঝে সবচেয়ে বড়ো বাঁধা হলো, এই মেঘ। যদি এই মেঘই বেঁচে না থাকে, তবে আদ্রিয়ান কাকে ভালোবাসবে? অবশ্যই তাকে? মেঘকে সে মারতে চাইনি, কিন্তু এখন বাধ্য। জিয়া দেয়ালের এপাশ থেকে সামনের দিকে তাকায়। বাগানে একে অপরের জড়িয়ে ধরে আছে মেঘ আর আদ্রিয়ান। আদ্রিয়ানের বুকে মাথা রেখে শান্তির নিঃশ্বাস ছাড়ে! কিন্তু এই শান্তি আর একান্ত মুহুর্ত তাদের বেশি সময় দীর্ঘ স্থায়ী হবে না। জিয়া বেঁচে থাকতে।

জিয়া সয়তানি হাসি দিয়ে তার রুমে চলে যায়। মেঘকে খুন করার পরিকল্পনা করার জন্য। রুমে গিয়ে বিছানায় শব্দ করে ধপ করে বসে পড়ে জিয়া! তার মাথায় এখন প্রতিশোধের নেশায় মত্ত হয়ে গেছে। কি করে খুন করবে সে মেঘকে? কি করে? তাদের দুইজনকে একসাথে সে থাকতে দিবে না। আমেরিকায় আসার পর, আদ্রিয়ানকে সে আগে ভালোবেসেছে! তবে মেঘ কেন তার জীবনে কাটাঁ হয়ে আসবে? আর জিয়ার রাস্তার কাটাঁ হলে ওই কাটাঁ কি করে উপড়ে ফেলতে হয় তা জিয়া জানে।
জিয়ার ভাবনার মাঝে হঠাৎ তার ফোনে কল আসে তার বাবা ইরফান সাহেবের! পাশে বিছানায় পড়ে থাকা ফোন উঠিয়ে জিয়া চিৎকার করে বলে উঠে

“”আব্বু‚ তুমি জানো আদ্রিয়ান আমাকে ভালোবাসে না আব্বু। ও ওই মেঘকে ভালোবাসে? মেঘ ওর বউ হয়। আদ্রিয়ান আমার সাথে চিটিং করেছে, ওর সাহস কি করে এমন করার?”
জিয়ার রাগ আর জেদের কথা ইরফান সাহেব জানেন। কিন্তু এখন জিয়ার কথায় সায় দেওয়া বিপদ! যদি জিয়া মেঘের কোন ক্ষতি করে ফেলে তখন কি হবে? মিলন সাহেব তার ব্যবসার সবচেয়ে বড়ো শেয়ার হোল্ডার, ওনি যদি ব্যবসা থেকে সরে দাঁড়ায় তবে বিজনেস শেষ হয়ে যাবে তার। তাছাড়া খুন করার অপরাধে জিয়ার শাস্তি স্বরূপ জেল হবে। একমাত্র মেয়েকে হারাতে চান না ওনি। জিয়াকে শান্ত করতে ইরফান সাহেব বলে
“জিয়া‚ আমার আম্মু শান্ত হও তুমি। আদ্রিয়ান তোমায় ভালোবাসে। মেঘকে নয়। আদ্রিয়ানকে তোমার কাছে এনে দিব আমি।”

কিন্তু ইরফান সাহেবের কোন কথায় কানে তুলল না জিয়া। কারণে সে জানে সব মিথ্যা। আদ্রিয়ান মেঘকে ভালোবাসে! আর ওই মেঘ তার সবচেয়ে বড়ো সমস্যা! জিয়া বলে
“না, আব্বু তুমি মিথ্যা বলছ। আদ্রিয়ান আমায় ভালোবাসে না। তুমি ওকে কখনও আমায় এনে দিবে না! আর জিয়ার নিজের ভালোবাসার মানুষকে হাশিল করতে কারো সাহায্যর প্রয়োজন নাই। ভালোবাসা ছিনিয়ে নিতে সে জানে। তাই আমি জানি কি করতে হবে আমার।
জিয়ার কথা শুনে ইরফান সাহেব তাকে ধমক দিয়ে বলে
“জিয়া‚ তুমি পাগল হয়ে গেছ? কি বলস এইসব? কি করবে তুমি?”
জিয়া প্রতিশোধ ময় কণ্ঠে হুংকার দিয়ে বলে উঠে
“খুন করব আমি। খুন।”
ইরফান সাহেব বলে উঠে

___” চুপ কর জিয়া! খুন করবে মানে? তুমি মেঘকে খুন করলেও আদ্রিয়নাকে পাবে না! বরং তোমার জেল হবে, ফাঁসি হবে।”
জিয়া ইরফান সাহেবের কোন কথা শুনে না! তার মধ্যে থাকা রাগ, জেদ, এখন পাগলামিতে রূপান্তর হয়েছে। জিয়া যতখন না মেঘকে খুন করবে। তার শান্তি হবে না। অসম্ভব! যদি মেঘকে খুন করার অপরাধে তার মৃত্যুর শাস্তি হয়। তবুও সে রাজি। জিয়া বলে
___” যদি আমার শাস্তি হয়। তবুও আমি রাজি। কিন্তু মেঘকে আমি খুন করব ডেড।”
ফোনের অপর পাশ থেকে, ইরফান সাহেব শুধু বারবার ‘না’ না’ বলছে কিন্তু জিয়া শুনল না। মুখের উপর কল কেটে দিয়ে বিছানায় ছুড়ে মারে ফোন৷ তার রাগ চোখে মুখে উপচ পরে! আজই সে খুন করবে মেঘকে!

_____ [ রাত_ ১২:০৯] ___
পাশাপাশি দুই সিট। এক বিছানায় ঘুমিয়ে আছে নূহা, আর অন্যটায় মেঘ। বালিশে মাথা রেখে শান্ত হয়ে ঘুমিয়ে আছে মেঘ? মাএ তার চোখে ঘুম এসেছে। ঠিক তখুনি, দরজায় কড়া নাড়ার শব্দে তার ঘুম ভেঙে যায়। বালিশের নিচে হাত দিয়ে দেখে, রাত তখন প্রায় বারোটা! এতো রাতে কে দরজায় নক করছে? পরিচিত কেউ?
পুনরায় দরজায় নক করার শব্দ শুনে, মেঘ বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়ায়! এরপর ধীরে ধীরে পা ফেলে এগিয়ে যায় দরজার কাছে। একটু দ্বিধা নিয়ে দরজা খুলে, সামনে জিয়াকে দেখে অবাক হয়ে যায়। মেঘ বলে
__” জিয়া ম্যাম, আপনি এখানে কি করছেন? এতো রাতে?
মেঘকে দেখে জিয়ার দুই ঘণ্টা আগের ঘটনার কথা মনে পড়ে যায়। বাগানে আদ্রিয়ান আর মেঘকে একসাথে দেখার দৃশ্য তার চোখের সামনে ভেসে উঠে! রাগে শরীর জ্বলে উঠে জিয়ার! এখুনি গলা টিপে খুন করার ইচ্ছা হয় তার মেঘকে। কিন্তু নিজের রাগকে নিয়ন্ত্রণ করে সে, মেঘকে এখন মারা যাবে না! জিয়া শান্ত হয়ে হাসি দিয়ে বলে

___” মেঘ, আমার ফোনে চার্জ নাই। আব্বুকে ফোন করা উচিত আমার! জরুরি কথা বলার ছিল। তাই বাহিরে যেতে চাই। কিন্তু একা বাহিরে যেতে ভয় করছে আমার।”
জিয়ার কথা শুনে প্রথমে অবাক হয় মেঘ! এতো রাতে কি কথা বলার আছে ইরফান স্যারের সাথে তার! আর ফোনে নেট নাই মানে? মেঘ একটু আগেও ফোন চেক করছিল তখন ফোনে নেট ছিল এখন থাকবে না কেন? জিয়া একা একা এখানে চলে এসেছে কিন্তু বাহিরে যেতে ভয় পায়! জিয়ার উপর সন্দেহ হয়, মেঘের! ও কি সত্যি বলছে না মিথ্যা?
মেঘ বলে উঠে
—-” জিয়া, রিসোর্টের সবার ফোনে নেট আছে কিন্তু তোমার নেই? আর এতো রাতে তুমি ইরফান স্যারের সাথে কি কথা বলবে? রাত বারোটার সময়।”
জিয়া বুঝে যায়, মেঘের তার উপর সন্দেহ হচ্ছে জিয়া বলে
__” মেঘ, আসলে আমার আম্মু অনেক অসুস্থ। তাই আব্বুর সাথে ফোনে কথা বলব। আম্মুর এখন বর্তমানে শরীর কেমন আছে তা জানতে চাই।”
জিয়ার এই কথায়ও মেঘের বিশ্বাস হয় না! মেঘ বলে

___” তুমি দাঁড়াও। আমার ফোনে নেট আছে। তা দিয়ে ইরফান স্যারের সাথে কথা বলবে।”
___” না, মেঘ সম্ভব না। তুমি একটু বাহিরে এসে দাঁড়াও।”
জিয়ার কাজে মেঘের যথেষ্ট সন্দেহ হয়! এই জিয়ার কোন কথায় সহজে বিশ্বাস সে করে না। তাছাড়া হঠাৎ এতো রাতে তার মেঘের রুমে আসার কারণ কি?জিয়া যে পরিমাণের সাইকো মহিলা! যদি আদ্রিয়ানের সাথে মেঘকে একটু হেঁসে হেঁসে কথা বলতে দেখে। তবে খুন করার জন্য পাগল হয়ে উঠবে। তাই এখন মেঘের যাওয়া উচিত হবে না! মেঘ বলে
___” না জিয়া, তোমার সাথে এখন কোথাও যেতে চাই না আমি। সরি।”
মেঘ এই কথা বলে দরজা বন্ধ করে তার রুমে যাওয়ার জন্য পা বাড়ায়। তখুনি হঠাৎ পিছন থেকে জিয়া, তার মুখে কাপড় চেপে ধরে! মেঘ যেন কিছুই বুঝে উঠতে পারে না! শুধু তার হাত দিয়ে নিজেকে ছাড়ানর চেষ্টা করতে থাকে। কিন্তু পারে না!
বিছানায় শুয়ে থাকা নূহাকে ডাকার জন্য মুখ খুলে মেঘ। কিন্তু পারে না! জিয়া চোখের ইশারা করার সাথে সাথেই দরজার আড়াল থেকে পাঁচ ছয়জন কালো মুখশ ধারী লোক এসে ওর মুখ চেপে ধরে! মেঘ কোন কথায় বলতে পারে শুধু মুখ দিয়ে অস্পষ্ট স্বরে উচ্চারণ করে

___ উমম উমম। ”
মেঘের কণ্ঠ থেকে আর কোন আওয়াজ বের হওয়ার আগেই তার জ্ঞান হারায়! দরজার আড়ালে নিয়ে যায় লোকগুলো! কিডন্যাপ করে। পাঁচ ছয়জন মিলে তাকে রিসোর্টের বাহিরে নিয়ে যায়! জিয়া তাদের পাশে ছিল। মেঘের অবস্থা দেখে খিলখিল করে হেঁসে উঠে! কি অদ্ভুত তার হাসি! যেন সম্পূর্ণ জায়গায় নে হাসির শব্দের ঝংকার শুনা যায়।

তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ৬২

এই মেঘকে খুন করার অপরাধে যদি তার জেল ফাঁসি হয়। তবে সে মাথা পেতে নিবে। কিন্তু এই মেঘকে এই পৃথিবী থেকে চিরতরে বিদায নিতে হবে। আদ্রিয়ান যদি তার না হয় তবে অন্য কারো নয়! জিয়া এখনও হার মানতে শেখেনি! আর হার মানবেও না!
পাঁচ ছয়জন লোক মিলে মেঘকে গাড়ি করে নিয়ে চলে যায়! জিয়া গাড়ির মধ্যে বসে মেঘের মুখের দিকে তাকায়! তার হাতে শক্ত দাঁড়াল ছুরি, মেঘের গলা বরাবর ছুরি ধরে জিয়া বলে উঠে
___” মেঘ, তোমার ধব্বংস নিজ হাতে লিখব আমি। খুন করব তোমায়। আজ রাতেই। দেখি কে বাঁচায় তোমায়।

তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ৬৪