Home তোমার নামের রোদ্দুরে তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ৬

তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ৬

তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ৬
আশফিয়া হিয়া

রাত করে বাড়ি ফেরায় আরু রুদ্ধ কারোরই এখনো ঘুম ভাঙেনি। আহি আর রুহানি আগেই উঠে পড়েছে। আজ শুক্রবার সবারই ছুটির দিন হওয়ায় সকল পুরুষরা আজ বাড়িতেই আছে।আরু পাশ ফিরে কোল বালিশ জড়িয়ে আরামে ঘুমাচ্ছে। আহি এসে অনেকক্ষন ধরে বোনকে খোঁচাচ্ছে।

– ” অ্যাই আপু উঠ না। ”
– ” উফফ কি সমস্যা তোর জ্বালাছিস কেনো? ঘুমাতে দে।” আহি তাও ডাকতে লাগল।
– ” এক চড় মারবো। আরেকবার যদি বিরক্ত করিস।
– ” আমি তোর উপকার করতেই এসেছি।”
– ” দূর হ আমার এত উপকারে প্রয়োজন নেই।”
– ” আরেহহ শোন না?”
আরু এইভাবে অল্প চোখ মেলে তাকাল।
– ” কি সমস্যা তোর! আমি যদি উঠেছি তোর একটা মা*র ও মাটিতে পড়বে না।”
– ” রুদ্ধ ভাইয়ের সাথে দেখা করতে একটা মেয়ে এসেছে। মেয়েটা এত সুন্দর আপু পুরোই বলিউড ফেল।”
আরু ধরফর করে উঠে বসল।
– কিহ্ বললি?”
– সত্যি বলছি বিশ্বাস না হয়ে গিয়ে দেখ। আমি তো তখন থেকে তোকে এটাই বলতে চাইছি।”
আরু কোনোদিক না তাকিয়ে ছুটে ঘর থেকে বের হয়ে গেল।আরু বেরিয়ে যেতেই সে হিহি করে হেসে দিল। এবার সে গেল ইয়াজের রুমে। এদের জ্বালাতে এত মজা।

আরু ধুপধাপ পা দিয়ে নিচে নেমে এল। বড়রা নাস্তা করছে। রুদ্ধ আশে- পাশে কোথাও নেই।
– ” ঘুম ভেঙেছে মহারাণীর। ছুটির দিন সবাই মিলে একসাথে নাস্তা করবে তা না করে উনি ঘুমাচ্ছে।
মায়ের কথা শুনে আরু কাচুমাচু হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।
– ” ছুটির দিনে বাচ্চারা তো একটু ঘুমাবেই। তাছাড়া বাড়ির বড় নবাব কোথায়? সেও তো ঘুমাচ্ছে ও তো বাচ্চা মানুষ।
– ” সারা সপ্তাহ কত খাটাখাটুনি করে ছেলেটা ভাইজান ওর সাথে কি আরুর তুলনা চলে? ভাসুরের গলা শুনে কিছুটা মিইয়ে গেলেন মিতা বেগম।
– ” আমার মেয়েটাও কিন্তু কম খাটুনি করে না মিতা সারা সপ্তাহ কলেজ করে টিউশন পড়ে এইগুলে কি কম?” বাব- চাচ্চুর কথা শুনে আরু আরও একটু আস্কারা পেল।
সবাই আরুর হয়ে কথা বলতে লাগল। মিতা বেগম হার মানলেন। এত এত আদর পেয়েই মেয়েগুলো এমন বাদঁড় হচ্ছে। ছোটটাও কম না দুটোই একইরকম হয়েছে। কেউ কারোর থেকে কম যায় না।
সবার কথার মাঝে আরু চুপচাপ ভদ্র হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। রুদ্ধ ভাই তার মানে ওপরে ঘুমাচ্ছে। আহি বেয়াদবটা তাকে বোকা বানাল। একবার দেখতে হচ্ছে। সে ওপরে উঠার জন্য দৌড় লাগাল।
– ” আম্মা কোথায় যাচ্ছ? নাস্তা করে নাও।”
– ” ফ্রেস হয়ে আসছি চাচ্চু।” সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে জবাব দিল সে।

ইয়াজ এখনো ঘুমিয়ে আছে বিছানায়। পিঠ অব্দি চাদর টেনে আরামে ঘুমাচ্ছে।কেউ না ডাকলে দুপুর একটার আগেও উঠবে না আহি জানে। সেই সুযোগ তাই নিল সে। রুমের ঢুকেই আগে ইয়াজের টেবিল এলোমেলো করল। টেবিলে কি কি আছে ভালো করে ঘেঁটে ঘেঁটে দেখল। এরপর ওর বই খাতা গুলো এলোমেলো করল। বইয়ের ভেতর একটা কলম পেলো খুব সুন্দর দেখতে এবার সেটা নিজের জন্য নিয়ে নিল। ইয়াজের আলমারি হাতড়ে নতুন কয়েকটা টিশার্ট পেল। এইগুলো কাল এনেছে বোধ হয় হাতে প্যাকেট দেখেছিল। সেখান থেকে দুটো টিশার্ট নিজের জন্য নিল। ড্রেসিং টেবিলটাও বাদ দিল না। তবে সেখানে অনেক কিছু নেই নিশ্চয় বদটা সব সরিয়ে রেখেছে।আর বেশি ঘাটাঘাটি না করে সে নিশব্দে ঘর থেকে বের হয়ে গেল। ইয়াজ উঠে পড়লে তাকে ক্যালাবে আগে আগেই সরে যাওয়া ভালো।

রুহানি ছাদের গাছে পানি দিচ্ছে। বাড়িতে থাকলে এইসব সেইই করে। গাছগুলো তার খুব পছন্দের। নিজের হাতে লাগানো সব গাছ। ফজরের নামাজের পড়ে আর ঘুমাই নি। বাড়ির টুকটাক কাজ করে এখন এসেছে গাছে পানি দিতে। সে বরাবরই খুব লক্ষী মেয়ে। হঠাৎ পাশের ছাদ থেকে ফারিশ ডেকে উঠল,
– ” এই মেয়ে?”
রুহানি এইভাবে ডাকায় হকচকিয়ে উঠল।ফারিশের দিকে তাকিয়ে বুকে থু থু দিল।
– ” এইভাবে কেউ ডাকে?”
ফারিশ ভ্রু কুঁচকে বলল,
– কিভাবে ডাকলাম?”
– ” আমার নাম এই মেয়ে না বুঝেছেন? নাম ধরে ডাকবেন।
– ” ওকে।”
– ” এখানে কি?”
– ” আমার মামার বাসায় আমি আসবো না?”
– ” ভালো কথা এসেছেন যখন আপনার ন্যাকু মামাতো বোনকে কোলে নিয়ে বসে থাকুন।”
– ” ছি্হ ছিহ্ আসতাগফিরুল্লাহ ওকে কেনো কোলে নিতে যাব! কোলে তো নিব তোমাকে।”
– ” তোমার কোলে উঠার জন্য বসে নেই আমি।”
বলেই হনহন করে ছাদের দরজা দিয়ে বের হয়ে গেল।

তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ৫

– ” বাবারে কি ঝাঝঁ। ভাই বোন কেউ কারোর থেকে কম না। জীবনটা তেজপাতা বানিয়ে ছাড়ল।
রুদ্ধর রুমের দরজা ভেড়ানো ছিল। বাড়িতে কোনো গেস্ট না থাকলে সে দরজা খুব একটা আটকায় না।আরো একটা কারণ আছে অবশ্য যেটা আরু জানে না। আরু পা পা টিপে টিপে রুমে প্রবেশ করল। বিছানার কাছে যেতেই রুদ্ধর দিকে তাকিয়ে রইল। ইশস কি কিউট লাগছে। রুদ্র পিঠ পর্যন্ত কাঁথা টেনে উপুড় হয়ে ঘুমাচ্ছে। চুলগুলো এলোমেলো হয়ে আছে। আরুর খুব ইচ্ছে করল চুলগুলো টেনে দিতে। ইচ্ছে তাকে প্রশয়ও দিল। বিছানার পাশে বসে যেই না চুলে হাত দিতে যাবে ওমনি কেউ খপ করে হাতটা ধরে নিল।

তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ৭

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here