Home না চাইলেও তুমি শুধু আমারই না চাইলেও তুমি শুধু আমারই পর্ব ৩১

না চাইলেও তুমি শুধু আমারই পর্ব ৩১

না চাইলেও তুমি শুধু আমারই পর্ব ৩১
মাইশা জান্নাত নূরা

অনু ফ্রেশ হয়ে ওয়াশরুম থেকে বের হতেই দেখলো ইলমা পোশাক পরিবর্তন করে বিছানায় বসে আছে। অনুকে দেখামাত্র ইলমা বললো…
—”খাবারটুকু খেয়ে নাও আমি একটু হাত-মুখ ধুয়ে নেই।”
অনু ছোট্ট করে ‘আচ্ছা’ বললো। তখুনি নীরা ওদের রুমে প্রবেশ করে বললো…..
—”দুই বোন-টি মিলে কি করা হচ্ছে শুনি!”
নীরার কন্ঠ কর্ণপাত হতেই ইলমা ও অনু নীরার দিকে তাকালো। ইলমা বললো….
—”এই তো অনু ফ্রেশ হলো। আমিও হবো। তুমি কি কিছু বলবে?”
নীরা ওর হাতে থাকা ঔষধ এর প্যকেটটা ইলমার দিকে এগিয়ে দিয়ে বললো…..
—”তেজ ভাই ঔষধের প্যকেটটা দিলো তোমাকে দেওয়ার জন্য। এগুলো সব অনুর ঔষধ। ভিতরে প্রেসক্রিপশন আছে। আমি কি বুঝিয়ে দিবো?”
ইলমা ধীর স্বরে বললো…..

—”উহুহ, আমি বুঝে নিতে পারবো নীরা।”
নীরার হাসিমুখটা খানিকটা মিইয়ে গেলো। ওভাবেই সে বললো…..
—”আচ্ছা ঠিক আছে।”
অনু বেড সাইড টেবিলের উপর থেকে খাবার ট্রে-টা নিয়ে বিছানায় বসে খেতে শুরু করলো আর ইলমা চলে গেলো ওয়াশরুমে। নীরা কিয়ৎক্ষণ নিরব ভাবে বিষয়টা পর্যবেক্ষণ করে স্থান ত্যাগ করলো। রুমের বাহিরে আসতেই নীরা বিরবিরিয়ে বললো….
—”এই ইলমা আপুর কথা ধারণ একেক সময় একেক রকম মনে হয় আমার কাছে। এই মনে হয় খুব ভাবে চেষ্টা করছে মিশে যাওয়ার আবার এই মনে হয় নিজেকে পুরোপুরি গুটিয়ে নিতে চাইছে। প্রয়োজন বুঝে প্রিয়জন তৈরি করার চেষ্টা চালাচ্ছে যেনো!”
কথাগুলো বলা মাত্রই নীরা নিজের মাথার পিছনে নিজেই আলতো করে বা*রি মে*রে আবারও বিরবিরিয়ে বললো….

—”ধূ*র আমিও না কিসব ভেবে বসি! অতিরিক্ত ভাবার এই বা*জে স্বভাব আমার কখনও যাবে না। আমি তো বিষয়টাকে এভাবেও ভাবতে পারতাম জার্নি করে এসেছে ওরা এখন ফ্রেশ হওয়াটাই জরুরী কাজ এরপর খেতে হবে এখন কি আমার সাথে হেসে হেসে গল্প করার মতো সময়!”
কথাগুলো বলতে বলতেই নীরা সিঁড়ি বেয়ে দোতলা থেকে নিচে নেমে আসতে শুরু করলো।
কিয়ৎক্ষণ পর ইলমা ওয়াশরুম থেকে বের হতেই দেখলো অনু ইতিমধ্যেই ওর ভাগের সবটুকু খাবার শেষ করে নিয়েছে। ট্রে-তে যা অবশিষ্ট আছে তা ইলমার জন্য যথেষ্ট। ইলমা তোয়ালের সাহায্যে নিজের ভেজা মুখশ্রী মুছতে মুছতে অনুর সামনে এসে দাঁড়িয়ে হালকা হেসে বললো….

—”বাহ, আজ এতো তাড়াতাড়ি সবটুকু খাবার খাওয়া শেষ করেছো দেখছি!”
অনু স্মিত হেসে বললো…..
—”পিহু ভাবীর হাতের রান্না অনেক সুন্দর আপা। সকালে ঘুম থেকে উঠার পর মনে হচ্ছিলো ক্ষুধা বোধ নেই একটুও। কিন্তু নিচে সবার সাথে বসে এক লোকমা মুখে নিতেই মনে হয়েছিলো রুচি বৃদ্ধি হয়েছে, ক্ষুধা পেয়েছে। তখনও অনেকটুকু খাবার খেয়েছিলাম। এখনও খেলাম। এই সাদাভাতের সাথে আলু ভর্তা-ডাল-ডিম ভাজি পুরো জমে গিয়েছে।”
ইলমা অনুর এঁ*টো প্লেট-বাটিগুলো ওর সামনে থেকে সরিয়ে রাখলো। অতঃপর নিজের জন্য রাখা বাকি খাবারগুলো থেকে খেতে শুরু করলো ইলমা নিজেও। খেতে খেতে ইলমা বললো….
—”হুম সত্যিই, ডালটা বেশি মজা লাগছে।”
অনু মাথা নেড়ে সম্মতি জানালো। ইলমাও ওর খাওয়া শেষ করলো।

নির্ঝর তেজের হাতটা ধরে নিজের বুকের ডানপার্শে রেখে বললো…..
—”তেজ ভাই, দেখো আমার বুকের ভিতরে কেমন ভূমি-কম্প, ট*র্নে*ডো, সাই-ক্লো*ন, হারিকেন, সু*নামি সব একসাথে হচ্ছে!”
তেজ ঝ*টকা মে*রে নিজের হাত ছাড়িয়ে নিয়ে বললো….
—”মানুষের বুকের বাম পার্শে সব ঝড়-তু*ফান হয় আর শালা তুই আমার হাত তোর বুকের ডান পার্শে রেখে অনুভব করার জন্য বলছিস? তুই যে মানুষ না, তুই আসলে একটা ছা*গল তা আবার প্রমাণ করলি।”
নির্ঝর ওর মুখে আমটি-চামটি ভাব এনে বললো….

—”যতো পঁ*চানোর পঁ*চাও শুধু সারফারাজ ভাইয়ের জু*তার বা*রি খাওয়া থেকে বাঁচিয়ে নাও আমায়। আর কিচ্ছুটি চাই না তোমার থেকে। তোমার ছোট্ট ভাইটার এই একটাই আবেদন তোমার কাছে। প্লিজ প্লিজ প্লিজ….!”
—”এসস, কচি খোকা টা আমার। যেনো নাক টিপলে দুধ পড়ে এখনও।”
নির্ঝর ওর ৩২ পাটি দাঁত বের করে হেসে বললো….
—”যদি না বাঁচাও তাহলে নাক টিপলে যা বের হবে তা তোমায় খাওয়াবো বলে রাখলাম।”
নির্ঝরের এমন ঘৃ*ণ্য যুক্ত, রুচিহীন কথা শোনামাত্র তেজের মনে হলো ভিতর থেকে সবকিছু উ*ল্টে বেড়িয়ে আসবে এখুনি। তেজ বমি করার মতো একবার শুকনো উঁকি তুলে পরপরই নিজের পায়ে থাকা একটা জু*তো খুলে রাগী স্বরে বললো…..

—”সারফারাজ ভাইয়ের থেকে জু*তোর বা*রি খাওয়ার আগে আমার থেকে খা*বি তুই শা*লা শু*য়া…!”
নির্ঝর সঙ্গে সঙ্গে উঠে ছুটে ড্রয়িংরুমের অন্য সাইডে চলে গেলো। তেজও উঠলো জু*তোটা নির্ঝরের দিকে তাঁক করে ছুঁ-ড়ে মা*রলো। কিন্তু দূর্ভাগ্যবশত তা নির্ঝরকে লাগলো না। তেজ দাঁত কিড়মিড়িয়ে বললো…..
—”হাতের নাগালে আসিস না ঘন্টা খানেকের মধ্যে তাহলে তোর মাথা আমার টয়লেটের ফ্লাশে চুবাবো।”
নির্ঝর সঙ্গে সঙ্গে এক হাতে নাক চেপে ধরলো আর অন্য হাত মুখের সামনে নাড়াতে শুরু করলো যেনো এক্ষুণি ওর নাকে কোনো বা*জে গন্ধ এসে লাগছে।
প্রায় মিনিট ৩ হলো নির্ঝর আর তেজের এমন ঘে*ন্না যুক্ত কথা ও কর্ম কান্ড দেখে নীরার মুখ পুরোপুরি হা হয়ে গিয়েছে। স্তব্ধ হয়ে সিঁড়ির নিম্ন ধাপে দাঁড়িয়ে আছে সে। তেজ নীরাকে দেখা মাত্র ভ্রু উঁচিয়ে বললো….

—”কি রে খা*ম্বার মতো ওখানে ওমন হা করে দাঁড়িয়ে আছিস কেনো?”
সঙ্গে সঙ্গে নীরা ওর মুখ বন্ধ করে নাক-মুখ কুঁ*চকে নিয়ে বললো….
—”আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেদের শারীরিক গঠন আর রূপটা দেখিও তো তোমরা তোমাদের বয়সটা কতো হয়েছে তা একটু হলেও হয়তো আন্দাজ করতে পারবে।”
তেজ ভাবলেশহীন কন্ঠে বললো….
—”রোজই আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের হ্যন্ডসাম মুখটা, ফিটনেস বডিটা দেখি কিন্তু আয়নার কোনো পার্শে তো বয়সটা উল্লেখ থাকতে দেখি নি আজ পর্যন্ত।”
নীরা তেজের এরূপ কথা শুনে নিজের কপালে নিজেই একবার চা*প*ড় মা*রলো। অতঃপর সোফায় বসতে বসতে বললো….

—”মাথার বুদ্ধি যখন হাঁটুতে নামে তখনই আমি তোমাদের ভালো কোনো জ্ঞান দিতে বসি। ফলস্বরূপ যে প্রতিত্তুর পাই তাতে আমার আক্কেল হয়ে যায় অপাত্রে জ্ঞান ঢালার জন্য।”
—”তোর তখন ওমন হা করে খা*ম্বার মতো দাঁড়িয়ে থাকা রূপটা দেখে আমার একজনের কথা মনে পড়লো আবার।”
নীরা কিছুটা ক্ষে*পা*ন্বিত স্বরে বললো….
—”বারবার খা*ম্বা খা*ম্বা করো না তো মেজ ভাইয়া। শুনতে ভিষণ ওড লাগছে শব্দটা।”
—”এসস, ২দিন কি কানাডার রাস্তায় গড়াগড়ি করেছিস আমাদের দেশীয় ভাষা এখন ওড লাগছে!”
নীরা প্রতিত্তুরে কিছু না বলে ঘন ঘন কয়েকবার এপাশ ওপাশ করে মুখ বাঁ*কালো। পিছন থেকে নির্ঝর একটু জোরেই বললো….

—”হা করা আন্টির কথা স্মরণ হয়েছে তোমার তাই না তেজ ভাই? ঐ তো যে তোমার স্পার্ম হাওয়ায় উড়ে যাওয়ার কারনে প্রেগ*ন্যান্ট হয়ে গিয়েছিলো!”
তেজ ঘাড় ঘুরিয়ে চোখ রা*ঙিয়ে তাকালো নির্ঝরের দিকে। অতঃপর দাঁত চি*বি*য়ে বললো…..
—”গলা ফাঁ*টিয়ে এতো সুন্দর কথাটা বললি এখন নিশ্চয়ই গলা ব্য*থা করছে তোর! এদিকে আয় তোর গলাটা একটু টিপে দেই আমি।”
নির্ঝর সঙ্গে সঙ্গে ওর মুখ দু’হাতে চেপে ধরে মাথা এপাশ-ওপাশ নেড়ে ‘না’ সূচক জবাব দিলো। তখুনি তেজের ফোনটা বেজে উঠলে তেজ ওর পকেট থেকে ফোনটা বের করে ফোনস্ক্রিণে তাকাতেই ওর চোখে-মুখে একরাশ বিরক্তির ছাপ স্পষ্ট হলো। নীরা উঁকিয়ে ঝুঁকিয়ে দেখার চেষ্টাটা বাদ রাখছে না। তেজ কল রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে নিশা বললো…..
—”কি খবর ডার্লিং এতো সুন্দর একটা সারপ্রাইজ দিলাম তোমায় কিছুদিন আগে অথচ তুমি এখনও আমার কাছে আসলে না মনে হলো যেনো গায়েব-ই হয়ে গিয়েছো! দিস ইজ নট ফেয়ার।”
তেজের সর্বশরীর যেনো রাগে গি*জ গি*জ করছে এই মূহূর্তে। তবুও তেজ নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে নম্র স্বরে বললো…..

—”তোমাকে কি ভুলে থাকা যায় বেব? ইউ নো না হাউ মাচ আই লাভ ইউ!”
তেজের থেকে এমন কথা এইমূহূর্তে নিশা একদমই আশা করে নি। তাই সে অবাকের চরম পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে মূহূর্তেই। পরক্ষণেই নিশা নিজেকে সামলে নিয়ে জোর পূর্বক হেসে বললো…..
—”তুমি কি ড্রিংকস করেছো তেজ?”
—”কেনো? আমার কথা শুনে তোমার কি আমায় মা*তাল মনে হচ্ছে?”
—”না না।”
—”তাহলে এমন প্রশ্ন করছো যে?”
—”তার মানে তুমি সম্পূর্ণ সজ্ঞানে আমায় ভালোবাসার কথা বলছো তাই তো?”
—”হুম বলছি।”
এখন নিশার মনে হচ্ছে ও নিজের হাতে আকাশের চাঁদটাকেই ছুঁতে পেরেছে এতোটা খুশি কাজ করছে ওর মনে। নিশা খুশিতে গদগদ হওয়া স্বরে বললো….

—”ইয়েস ডার্লিং। আই নো, আই নো।”
—”কাল তাহলে দেখা করা যাক। তোমার ইচ্ছেটা এবার পূরণ করবো ভাবছি।”
—”আমার কোন ইচ্ছে?”
—”আমার সাথে পারসোনালি সময় কাটানোর ইচ্ছেই তো ছিলো এতোকাল তোমার। এখন নেই নাকি?”
নিশা সঙ্গে সঙ্গে বললো…..
—”আছে তো, থাকবে না কেনো? কাল কোথায় দেখা করবে বলো!”
—”মেসেজ করে জানিয়ে দিবো আমি তোমায়।”
—”আচ্ছা ঠিক আছে।”
—”রাখছি তাহলে।”
—”হুম।”

তেজ কল কেটে দিলো। নিশার সাথে চলা এতোসময়ের কথপোকথনে কেবল তেজের কথাগুলোই শুনতে পেয়েছিলো নির্ঝর ও নীরা। নীরা কথার আগামাথা বুঝতে না পারলেও নির্ঝর যে কিনা শেয়ালের পাঁ*ছায় লেগে থাকা তার লেজের মতো সর্বক্ষণ তেজের সাথে থাকতে থাকতে ওর নাড়ি-নক্ষত্রে চলতে থাকা সব পেঁ*চ সম্পর্কে ভালোই আন্দাজ করতে পারে। নীরা অবাক স্বরে বললো…..
—”ফোনের ওপাশে থাকা মেয়েটা তোমার বেব হলে, তাকে তুমি ভালোবাসলে দোতলায় থাকা ইলমা আপার প্রতি তোমার ফিলিংস কাজ করে কিভাবে মেজ ভাইয়া? তাকেও তো তুমি লাইক করো বলেছিলে!”
তেজ বক্র হাসি হেসে বললো….
—”তোর ছোট্ট মাথায় এমন জটিল বিষয়গুলো ঢুকবে না রে লিলি পুট।”
নীরা ফোঁস করে উঠে বললো….
—”খবরদার আমায় লিলি পুট বলে ডাকবে না। আমার হাইট এখন যথেষ্ট বেড়েছে। ৫ ফুট ৩ ইন্ঞ্চি আমি।”
—”আমার হাইট কতো জানিস?”
—”কতো আর ৬ ফুট নিশ্চয়ই?”
—”এমন ভাবে বললি যেনো তোর থেকে আমিই সর্ট!”
নীরা বসা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে বললো….

—”উঠো।”
—”কেনো?”
—”উঠে দাঁড়াও আমার সামনে।”
—”পারবো না।”
—”দাঁড়াও না মেজ ভাইয়া।”
—“ধূর কি জ্বা*লায় পড়লাম।”
এই বলে তেজ নীরার সামনে উঠে দাঁড়ালো। নীরা ওর মাথা উঁচু করে তেজের চোখের দিকে তাকিয়ে বললো….
—”আমার দিকে তাকাও।”
—”তোর এই খা*ম্বা মার্কা চেহারার দিকে তাকানোর রুচি কাজ করছে না এইমূহূর্তে সর।”
—”তুমি স্বইচ্ছায় তাকাবে নাকি বড় ভাইয়াকে ডেকে তোমার নামে বিচার দিবো আমি?”
তেজ নীরার দিকে তাকিয়ে ভ্রু নাচিয়ে বললো….

—”কি বিচার দিবি?”
নীরা তৃপ্তির হাসি হেসে বললো…..
—”দেখছো সর্ট হাইট হওয়ার ফায়দা কতোটা?”
নীরার কথার মানে তেজ বুঝতে না পেরে বললো….
—”মানে?”
—”এই যে তুমি ৬ ফুট হওয়া স্বত্তেও কথা বলার সময় তোমায় মাথা নত করে আমার চোখের দিকে তাকাতে হচ্ছে আর আমি ৫ ফুট হওয়া সত্ত্বেও ঠিকই মাথা উঁচু করে কথা বলতে পারছি। কার সম্মান বাড়লো বলো বলো?”
তেজ নীরার যুক্তি দেখে সঙ্গে সঙ্গে ওর কান টেনে ধরে ঝাঁ*কাতে শুরু করলো। নীরা হালকা ব্য*থায় ‘ছাড়ো মেজো ভাইয়া লাগছে কিন্তু’ বললো। তেজ ওভাবেই ধরে বললো…

—”হাইটে ও বয়সে দুই দিক থেকে বড় হওয়ার ফায়দাটা এবার তুই দেখ। তোর কান আজ আর কানের জায়গায় রাখবো না। টেনে লম্বা বানাবো।”
নীরা নিজের কান ছাড়ানোর চেষ্টা করছে। তেজ ছাড়ার পাত্র নয় যেনো। ওদের থেকে খনিকটা দূরে দাঁড়িয়ে থাকা নির্ঝর বললো…..
—”ছেড়ে দাও ওকে তেজ ভাই। এই বয়সে যদি কানটা হাতির কানের মতো লম্বা হয়ে যায় তাহলে কি ওর আর বিয়ে হবে বলো!”
নীরা ক্ষে*পে যাওয়া স্বরে বললো….

—”ছোট ভাইয়া, একদম আমার পিছনে লাগতে আসবে না এখন বলে দিচ্ছি।”
তেজ নীরার কান ছেড়ে দিয়ে হাসতে হাসতে বললো….
—”হুম ঠিক বলেছিস। তখন আমাদেরই লস হবে। কারণ বিয়ে না হলো তো সারাজীবন আমাদের ঘাড়ের উপর বসেই রাজত্ব করবে মহারানী।”
নীরা ওর মুখ ভে*ঙিয়ে বললো….

—”তা তো করবোই। ১০ টা না ৫ টা না ১টা মাত্র বোন আমি আমার ৩ ভাইয়ের। তাদের ঘাড়ে বসে রাজত্ব করার সুযোগ কি হাতছাড়া করা যায় নাকি!”
এই বলে নীরা খিলখিল করে হেসে উঠলো। তেজ আর নির্ঝর নীরার দিকে মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে আছে। অনেক লম্বা সময় পর নীরাকে এভাবে হাসতে দেখছে ওরা। তেজ নীরার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেই নীরার হাসি থেমে গেলো। তেজ বললো…..
—”তোর চাঁদের মতো সুন্দর মুখটা এভাবেই সবসময় হাস্যোজ্জ্বল হয়ে থাকুক বনু এই দোয়া-ই করি।”
নীরা তেজের বাম বাহু জড়িয়ে ধরে হাতের উপর মাথা ঠেকিয়ে বললো…..

—”তোমাদের মতো ভাই যে মেয়ের আছে তার দুঃখ করে কাটানোর সময় আছে নাকি? হেসে-খেলেই সব সময় ফুরিয়ে যাবে।”
নির্ঝরও এগিয়ে এলো ওদের দিকে। তখুনি নীরা নির্ঝরের হাত খ*প করে ধরে তেজকে বললো…..
—”মেজ ভাইয়া, মেজ ভাইয়া দেখো দেখো তোমার শি*কার এখন আমার কব্জায়।”
নির্ঝর নীরার থেকে নিজের হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করতে করতে বললো….
—”সিরাজুদ্দৌলার ঘরের মীরজাফর কোথাকার আসছিলাম ভালো সময়ে একটু সঙ্গ দিবো বলে আর তোর মনে কি না ছিলো এমন শ*য়*তানী! ছাড় বলছি। ছাড় আমার হাত।”
তেজ হেসে বললো….

না চাইলেও তুমি শুধু আমারই পর্ব ৩০

—”যাহ ক্ষমা করে দিলাম তোকে এবারের মতো নিজ্ঝরিয়া। আমার ছোট্ট বনুটা আমায় খুশি করে দিয়েছে তার বদৌলতে।”
নীরা নির্ঝরের হাত ছেড়ে দিয়ে আফসোসের সহিত বললো….
—”এটা কি তুমি ঠিক করলে মেজ ভাইয়া? ছোট ভাইয়ার থেকে মীরজাফরি ট্যগ পাইলাম খামোখা আর তুমি তাকে কিনা ক্ষমা করে দিলে! ষ্যাহ।”
নির্ঝর সঙ্গে সঙ্গে বললো ‘তবে রে’! নীরা হাসতে হাসতে ছুটে অন্যপাশে চলে গেলো। নীরাকে পালাতে দেখে তেজ আর নির্ঝরও হাসতে শুরু করলো।

না চাইলেও তুমি শুধু আমারই পর্ব ৩২