Home নিবৃতা নিবৃতা পর্ব ১৫

নিবৃতা পর্ব ১৫

নিবৃতা পর্ব ১৫
নেহার ছায়ালিপি

রিমলেস চশমার আড়ালে থাকা স্বচ্ছ দৃষ্টির গভীর মনোনিবেশ হাতে থাকা বইয়ের পাতায় পাতায়। অথচ মসৃণ কপাল কেমন গুটিয়ে রাখা। কিঞ্চিৎ অস্বস্তি বোধহয়। তীক্ষ্ণ চোয়াল, চিন্তায় বুদ থাকার স্পষ্টতা। তখনই দরজায় করাঘাতের শব্দ হয়ে মুহুর্তে প্রতিক্রিয়ায় তাবিবের কান খাড়া হয়ে যায়। দরজা হাট করে খোলা, তবুও আগন্তুক অনুমতি চাইছে, অথচ ভেতরে কেউ নয় বরং তার স্বামীই রয়েছে। মেয়েটা অধিকার বোধ বাসায় থাকা সেই আরেজন অর্থাৎ তানহার উপরেই খাটাতে শিখেছে সে। অপরদিকে একজন যে নিজের সর্বস্ব হাতের তালুতে তার জন্য একত্রিত করে বসে আছে, কখন তুলে দিবে সেই অপেক্ষায় অন্তর ক্ষুইয়ে যাচ্ছে, সেদিকে তার বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ নেই। নেই তাবিবের পানে মদিরা দৃষ্টি দেওয়ার কোনরূপ আকাঙ্ক্ষা। আক্ষেপে মাথা নাড়ে ও। কপালে দু’আঙুল ঘষে স্থির হয়। হাতের বইটা জায়গামতো রেখে চলে আসে ঘরের মধ্যস্থলে। সেখান থেকে পর্দার নিচ দিয়ে স্পষ্ট দৃশ্যমান নীল শাড়ির নিম্নাংশ। নিশ্চয়ই তাবিবকেও দেখা যাচ্ছে ওপার থেকে? ও চুপ করে থাকে। বুকে দু’হাত গুজে ঠায় দাঁড়িয়ে রয়। না নিজে নড়চড় করে নাইবা অপেক্ষামানকে ভেতরে আসার অনুমতি প্রদান করে। তাবিব দেখতে চায় তার ধৈর্য ঠিক কতটা শক্ত। এভাবেই মুহুর্তের পর মুহুর্ত গড়িয়ে দশ মিনিট হয়ে গেলো। এক পর্যায়ে নিজের লড়াইতে তাবিব খোদ পরাজিত হলো। কপাল কুঁচকে ফোঁস করে এক শ্বাস ছাড়লো।

– আসো!
ভারি গলার অনুমতি পেতেই নিবৃতা নড়ে উঠলো। সে তো বিভ্রমে ছিল। লোকটা যে এতক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেও কেন ওকে আগে অনুমতি দিলো না আসার, সেটাই মাথায় আসছিলো না। অবশেষে যখন ডাক পেলো তখন আর কিছু বললো না। নত মস্তকে চলে এলো অন্দরে। মাথায় ঘোমটা দেওয়া, আটপৌরে শাড়িতে এক অনিন্দ্য সৌন্দর্যের অধিকারীনি। তাবিব বেজায় বেকায়দায় পরেছে। এরূপ রূপের প্রতিমার থেকে চোখ দুরে রাখা কষ্টকর। কিন্তু একবার দৃষ্টি নিবদ্ধ হলে তা হটানো আরও বেশি কসরতের। তাইতো সে থেমে থেমে নজর চুরি করছে। নয়তবা আজ নিজ কঠোর সংযমের উপর বড়াই করা তাবিব না মুখ থুবড়ে পরে। ইশ কি কান্ডটাই না হয়ে যাবে! কিন্তু তার কি আদৌও নিজেকে সামলে রাখার প্রয়োজন আছে? আপাত দৃষ্টিতে নেই। একদমই নেই। কিন্তু সম্মুখে দাঁড়ানো কোমলতার প্রতীকের সেই দ্বিধান্বিত অভিব্যক্তি কিংবা সংশয় পূর্ণ দৃষ্টি দেখলে ওর সেই ইচ্ছেগুলোর প্রাবল্যতা মিইয়ে যায়। সঠিককেও ভুল মনে হয়।

– পায়েশ রেধেছিলাম।
সোনার বালা পরা, সরু লতার ন্যায় লিকলিকে দুটো শুভ্র শীর্ণ হাতে একটি কাচের পেয়ালা ধরে রাখা। তাতে মিষ্টি জাতীয় খাবার। দেখতে বেশ লোভনীয়। এবং অবশ্যই তাবিবের আরেকটি পছন্দের খাবার। তাবিব দেখলো সেটুকু। গলার স্বর তুলনামূলক ভারি করে বললো,
– কার জন্য বানিয়েছিলে?
তানহার পায়েশ পছন্দ নয়। দুধের মাঝে রান্না করা চাল তার কাছে বিশেষ কিছু মনে হয় না। তাই সে ভ্রুক্ষেপহীন। বাবার সাথে অনেক স্বভাব মিললেও পছন্দ অপছন্দের মাঝে তাদের বিস্তর ফারাক রয়েছে অন্য আরেকজনের কারণে। তাবিবের প্রশ্নে নিবৃতার অন্তঃকরনের তখন বেহাল দশা। লোকটা সবসময়ই এমন করে ওর সাথে। নিবৃতা তো জানে তানহার পায়েশ নিয়ে কোন আগ্রহ নেই। তাই অস্বীকার করে যাওয়ার উপায় নেই। ও কিয়ৎক্ষণ চুপ থেকে চোখের পাতা বুজে বললো,

– আপনার জন্য।
পুরুষালী পাতলা খয়েরি ওষ্ঠে সূক্ষ্ম হাসির ঝলক ভেসে উঠে। ভালোবাসার মানুষের সবকিছুই ভালো লাগে। আর সে যদি আমাদের জন্য সামান্য প্রয়াস কিংবা শ্রম প্রয়োগ করে, তাহলে এতেই এই হৃদয় নেচে ওঠে। যেমনটা তাবিবের সাথে হলো। খুশির প্রতিচ্ছবি চোখের তারায় খেলে গেলো। হাত বাড়িয়ে দিলো তাবিব। শক্ত হাতে নম্রতার ছোয়া। প্রথমে আলতো করে নীকার আঙুলগুলো ছুঁয়ে দিয়ে খপ করে পেয়ালাটা নিয়ে দিলো। অল্প সময়ের মধ্যে কি হলো তা তড়িৎ ধরতে ব্যর্থ নিবৃতা। শুধু অস্থিরতায় বারংবার চোখের পলক ফেললো।
– আমার পাশে এসে বসো।
বিছানার প্রান্তে বসেছে তাবিব। আঙুলগুলো তার পিতলের চামচ আঁকড়ে ধরেছে ইতিমধ্যে। নিবৃতা নীরবে আদেশ পালন করে। জড়োসড়ো হয়ে গিয়ে ওর পাশে বসে।
– আমার দিকে তাকাও।
এ আবার কেমন কথা? বসতে বললে, ও বসেছে। এখন আবার তাকাতে হবে কেন? সে তো জানে, বুঝে নিবৃতার এসবে বেশ দ্বিধা। ও তো পারে না। ওকে তখনও কাঠ হয়ে বসে দেখে তাবিব গম্ভীর হওয়ার ভান ধরলো।

– লুক এট মি নিবেদিতা।
বদন জুড়ে এক অসহনীয় অদ্ভুত তরঙ্গ ঢেউয়ের ন্যায় আছড়ে পরলো। এই আদেশ অমান্য করার সাধ্য কোথায় ওর? নিঃশ্বাস আটকে ও মুখ তুলে চাইলো। তৎক্ষনাৎ দৃষ্টিতে পড়লো দু’টি জ্বলজ্বলে মনি জোড়ায়। প্রজ্জ্বলিত মাদকতার অস্তিত্ব সেথায়। ঠোঁটের কোনে অভিভূত মুচকি হাসি, যা ওর রূহের মাঝে কম্পন ধরিয়ে দেয়৷ মুখ তুললেও আঁখি জোড়া স্থির রাখতে ব্যর্থ হলো৷ কবে যে সে সাহস ও স্বাচ্ছন্দ্য মিলবে, তা জানা নেই নিবৃতার। হঠাৎই ও খেয়াল করলো মানুষটা ওর মুখের সম্মুখে পায়েশ সমেত চামচ এগিয়ে দিয়েছে।
– পায়েশে মিষ্টিটা আমার একটু বেশিই পছন্দ।
চতুর মানুষটার কথার প্যাচ, নির্বোধ, সাদাসিধা নিবৃতার সামর্থ্যের বাহিরে। ক্ষীন গলায় বললো,
– আমি বেশিই দিয়েছি তো।
ঠোঁট ভেদ করে বেরিয়ে আসা হাসির স্ফুরনকে কোনমতে সামলালো তাবিব। গলা খাঁকারি দিয়ে বললো,
– তুমি একটু খেয়ে দেখো তো আগে। সমস্যা কোথায় এতে?
নিজের কাজ বরাবরই নির্ভুল হওয়া চাই নিবৃতার। আলাভোলা মনে নিবৃতা পায়েশটুকুন খাওয়ার জন্য উদ্যত হতেই তাবিব আলতো হাতে সেটা ওর মুখে পুরে দিলো। পায়েশ খেতে খেতে ভাবুক বনে যাওয়া নিবৃতা বললো,

– ঠিক আছে তো।
– আচ্ছা।
মাথা নেড়ে তাবিব সায় জানাতেই নিবৃতা তাড়া দিয়ে বললো,
– আপনি একটু অপেক্ষা করুন। আমি আরেকটা চামচ নিয়ে আসি, এটা তো এঁটো হয়ে গেলো।
এরূপ কথায় নিস্প্রভ চোখে তাকালো তাবিব। উঠতে চাওয়া নিবৃতার হাত আঁকড়ে আবার বসিয়ে দিয়ে, থমথমে সুরে বললো,
– নির্বোধ!
হঠাৎ এ সম্বোধনের কারণ বুঝলো না নিবৃতা। মুখটা ছোট করে চেয়ে চেয়ে দেখলো, তাবিব সেই চামচেই বড্ড প্রমোদে পায়েশ খাচ্ছে। চেহারার ভাবভঙ্গিতে স্পষ্ট যে সে তৃপ্ত হয়েছে এতে। নিবৃতা হাঁপ ছেড়ে বাচলো কিন্তু মনের ভার ওর কমলো না। পাল্টা পাল্লা দিয়ে বাড়লো। লোকটা এবারও কিছু বললো না। নিজের মতো করে খেয়েই যাচ্ছে। পায়েশের পেয়ালা সম্পূর্ণ ফাঁকা হওয়ার পথে। অন্তঃস্থল চিরে আসা দীর্ঘশ্বাস এবার আর আড়াল হলো না। ছুঁয়ে গেলো তাবিবের কর্ণধার। ও খাওয়া শেষ করে তাকালো নিবৃতার নত মুখের দিকে। শুভ্রতায় মোড়া চন্দ্র আজ ঘন কালো মেঘমালার আড়ালে চাপা পরেছে। ঠিক কি কারণে তার মন খারাপ? বুঝতে ব্যর্থ তাবিব। কিন্তু নিজে যা ভেবে স্থির করে রেখেছিলো সেটাই বাস্তবায়নের চেষ্টা করলো।

– তোমার হাতে রান্না অনেক সুস্বাদু নিবেদিতা।
সরল, গভীর কন্ঠের আকাঙ্ক্ষিত প্রশংসা পেতেই চনমনে হয়ে উঠলো হৃদয়। খুশির দমকে পেলব ওষ্ঠ ছড়িয়ে হাসি ফুটে উঠলো। চট করে ও তাকালো তাবিবের দিকে। মুখাবয়ব জুড়ে ঝকমকে আনন্দের ফোয়ারা। মেয়েটা কখনও এভাবে হাসে নি ওর সম্মুখে। তাবিব শুধু চেয়ে চেয়ে দেখলো। সামান্য গুণগানে এতোটা প্রফুল্ল হলো সে? তাহলে কি এতক্ষণ তাবিব কিছু বলে নি দেখেই মনটা খারাপ করে ছিল? আশায় ছিল প্রশস্তি শোনার? তাবিব নিজেও খুশি হলো।
– তোমার চমৎকার হাতদুটো এর প্রাপ্য সম্মান পাওয়ার দাবিদার।
লজ্জা পেলো সে! সফেদ গাল মুহুর্তে ডালিম রাঙা হলো। মস্তক নত হতেই ওর চিকন হাতদুটো আগলে তুললো তাবিব। স্বচ্ছ সরব হেসে, মেয়েলি নরম হাত সম্মুখে টেনে এনে ওষ্ঠ দাবিয়ে চুম্বন করলো। এতক্ষণ বিস্ময়ে ডোবা নিবৃতা এবার আইঢাই করে উঠলো। চিবুক গিয়ে প্রায় গলায় ঠেকলো। ঠোঁট না সরিয়েই তাবিব বললো,

– ম্যাগনেফিসেন্ট!
কয়েক পল, অতঃপর ছেড়ে দিলো তাবিব। সুযোগ পেয়েই হাত দুটো জড়ো করে নাজুক বদনে বসে রইলো নিবৃতা। না কিচ্ছুটি বলল, না নড়লো এক বিন্দু। তাবিব কিছুক্ষণ তাকিয়ে দেখে উঠে দাঁড়ালো। এতো লম্বা সফর করার দরুন মাথায় ভীষন পীড়া হচ্ছে। ভেবেছিল কমে যাবে কিন্তু কোন উন্নতি দেখলো না। ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ার খুলে কিছু একটা খুঁজতে শুরু করলো। শব্দ পেয়ে নত দৃষ্টি কৌতুহলে আড়চোখে দেখলো পুরুষটাকে। পরপর স্পষ্ট হলো হাতে একটি ছোট কৌটা দেখে। নিবৃতা চিনে এটা। মাথা ব্যাথার মলম। ওর মা লাগাতো মাঝেমধ্যে। অতিরিক্ত ব্যাথায় ছটফট করলে নিবৃতাকে দিয়ে মালিশ করাতো। এতটুকু নিবৃতা পারে। ও কি আগ বাড়িয়ে বলবে, নিবৃতাকে দিতে? নিবৃতার তো তার প্রতি দায়িত্ব কর্তব্য রয়েছে কিছু। জড়তা ওকে শক্ত করে বেঁধে রাখলেও, এতো দিনে জমা হওয়া সেই অদৃশ্য, অস্পষ্ট মায়া ওকে বাধ্য করলো দ্বিধা সরিয়ে কিছুটা সাহস দেখাতে।
– আমি মালিশ করে দিবো?
চমকে তাকিয়েছে তাবিব। দৃষ্টিতে অবিশ্বাস! সে কি ঠিক শুনলো? এরূপ বিভ্রান্ত নজরে নিবৃতার অস্বস্তি বাড়লো। আবার ভুল কিছু বলে ফেলে নি তো?

– পারবে তুমি?
– জ্বি। মা’য়ের মাথা ব্যাথা সমস্যা ছিল তো, তাই…
সুযোগ সন্ধানী তাবিব এক পায়ে দন্ডায়মান যেন। সুরসুর করে এসে সোজা নিবৃতার দিকে পীঠ দিয়ে মেঝেতে বসে পরলো। হঠাৎ করেই আক্রমণ! তবে হকচকানোর রাস্তা নেই। দমে গেলো নিবৃতা।
– এই নাও!
মলমের কৌটা বাড়িয়ে দিলে সেটি নিয়ে নেয় নিবৃতা। আঙুলের ডগায় কিছুটা অংশ তুলতেই কোলের মাঝে তাবিবের ভারি মাথাটি এসে পরলো আচমকা। অভিভূত, বিমুগ্ধ নজর সরাসরি ওর মুখের সম্মুখে। নিষ্পলক, নিরবিচ্ছিন্ন, নিস্তব্ধ অথচ অন্তঃপটে তুফান গড়ে তোলার ন্যায় সরব। লোকটা ওকে নাজেহাল, পর্যদুস্থ করতে বেশ পটু। একটু কারনের সন্ধান পেলেই হয়। ও বড় এক শ্বাস টেনে মসৃণ, শক্ত কপালে আঙুল ছুঁতেই তরতর করে কম্পিত হলো সেগুলো। জহুরি নজর সয়ে নিয়ে কাজ করা অসহনীয়। ঠোঁটে ঠোঁট চেপে, নিভু নিভু, ম্লান চোখে তাকিয়ে পুরুষালী ললাট মালিশ করে গেলো। শীর্ণকায় শরীরে বলের অভাব। তাবিবের কাছে পাখির পালকের ন্যায় হালকা লাগলো। তবুও মুখ ফুটে কিছু বললো না। যা পাচ্ছে তাইতো ওর কল্পনাতীত। উৎফুল্ল মনটা উপচে পরা উষ্ণ অনুভূতিতে লাগাম টানতে ব্যর্থ হচ্ছে। কতশত অভাবনীয়, নিয়ন্ত্রণহীন চিন্তারা যে মস্তিষ্ক গ্রাস করে নিচ্ছে তা ব্যাখাতীত! শুধু মনে হচ্ছে হৃদয়টা বুঝি থমকে গেলো পর মুহুর্তে। দৃষ্টি ঘোলাটে হয়ে এলো। নরম হাতের ছোঁয়ায় ওর সমস্ত অস্তিত্ব বাঁধা পরলো। সময় গড়ালো সংযমের প্রচেষ্টায়৷ শীতল আবহাওয়ার তোড়ে যান্ত্রিক পাখা চলছে না। বাতাবরণ গুমোট, নীরব, শব্দহীন। ঘড়ির কাঁটার টিকটিক আওয়াজ কানে লাগছে৷ সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে তাবিবের হৃদযন্ত্রের অবাধ, বেপরোয়া বেগে চলা। নাসারন্ধ্র এক মিষ্টি সুবাসে জড়িয়ে যেতেই ও শ্বাস আটকে বসে রইলো। পরপর ঝট করে মাথা সরিয়ে, দৃষ্টি লুকিয়ে নিনাদি স্বরে বললো,

– ঘরে যাও নিবেদিতা।
কাজের মাঝে মশগুল থাকা নিবৃতা অকস্মাৎ এমন কথায় ভড়কেছে। বিপরীতে কিছু একটা বলতে চাইলো ও।
– আপনি…
– দেরি করলে সমস্যা তোমারই হবে। চলে যাও।
কঠোর সেই ভঙ্গিমা এড়ানো কঠিন। নিবৃতা আবারও মনে মনে নিজেকে দোষী সাব্যস্ত করে উঠে এলো। ঘর থেকে বের হতেই নজরে এলো, বেড সাইড টেবিলে থাকা খালি পানির জগটা। ইশ ভুল হয়ে গিয়েছে। ও ত্রস্ত কদমে সেটি তুলে নিয়ে গেলো। তাবিব চুপচাপ পর্যবেক্ষণ করে গেলো ওকে।

নিবৃতা পর্ব ১৪

মিনিট খানিক বাদে ও আবারো এলো ভরা অন্য একটি জগ নিয়ে, সাথে পরিষ্কার চকচকে গ্লাসও। দায়িত্ব সম্পূর্ণটাই বুঝে নিয়েছে সে। আসেপাশে লক্ষ্য রাখা শিখেছে। নিজের কর্তৃত্ব ফলিয়ে রেখেছে সংসার জুড়ে। অথচ একমাত্র যাকে নজরে রাখে না ও সে হলো তাবিব। ওকে দেখেও যেন দেখে না। বুঝতে গিয়েও চায় না বুঝতে। এতোটা অবহেলা? নীল রঙা শাড়ির শেষ অংশটুকু দৃষ্টির আড়াল হতেই বুকের বা পাশ আঁকড়ে ধরলো তাবিব। নিঃশক্তির ন্যায় কাতর স্বরে বললো,
– কবে যে আমি এক মনের সঙ্গী পাবো, তোমায় আপন ভেবে হৃদয় নিঙরে দিবো!

নিবৃতা পর্ব ১৬