নীতিহীন রাজ পর্ব ২
আশিকা আক্তার সোহাগী
‘ধর বললাম তুই একটা গরুর বাচ্চা। কিংবা বললাম গাধা তাহলে কি খুশি হবি?হবি না।কেন হবি না? গরু উপকারী প্রাণী। গরুর বর্জ্য থেকে চামড়া সব কাজে লাগে। গাধাও নিজ মনিবের কাজ করে মৃত্যু পর্যন্ত। কিন্তু যদি বলি ‘সিংহের বাচ্চা বা বাঘের বাচ্চা ‘ তাহলে কিন্তু খুশি হবি। বাঘ-সিংহ কারো উপকার করে?বরং নাগালে পেলে খপ করে ধরে কেল্লাফতে।
মোরাল অফ দা স্টোরি কি বুঝলি? উপকারী মানুষকে সবাই গরু আর গাধার মতো ব্যবহার করে।’
প্রতিদিন এইভাবেই তার সাঙ্গুপাঙ্গুদের দশ মিনিট মোরাল ক্লাস নেয় সুখনীল নিবিড়। সামনে কমিটি গঠন হবে তাই নিবিড় যেটাই বলবে তারা সহমত ভাই। মাথায় ঢুকলেও সহমত ভাই ,না ঢুকলেও তাই।
‘নিবিড় ,আমরা কিন্তু গরু আর সিংহ দুইটাই। দিনে উপকারী গরু, সামাজিক কাজ করি। আর রাতে সিংহ’ বলে সজীব মাথা চুলকায়।
‘তুই আর কি সিংহ? গার্লফ্রেন্ডরে এখনো বিছানায় নিতে পারলি না!’ বলে পাশে বসলো তাদের ফ্রেন্ড সমুদ্র।
‘প্লিজ ভাই পরিবারের দিকে যাস না। জেনি আমার গার্লফ্রেন্ড না বউ। প্রতিদিন বিয়ে করি। ওর গ্রেজুয়েশন কমপ্লিট করলেই ফাইনাল বিয়ে।’
হঠাৎ নিবিড় ঘুরে বসলো সজিবের দিকে ‘জেনির সাথে ওই অদ্ভুত মেয়েটা কে রে?’
‘ও জেনির ছোট বোন। আমার শ্বশুরের হাইব্রিড মাইয়া। বিচ্ছুর বিচ্ছু ,আমার প্রেমের বারোটা বাজায় প্রায় প্রায়। তবে ওর সম্পর্কে জেনি তেমন কিছু বলে না। তো হঠাৎ এমন টমবয়ের দিকে নজর কেন আমাদের নেতা মশাইয়ের?’
‘আমার কি দুর্ভিক্ষ চলে যে তোর ওমন শালীর দিকে নজর দেওয়া লাগবে? মেয়ে মানুষ হবে মেয়ে মানুষের মতো। মুডটাই নষ্ট করে দিলি।’
সজীব আর সেইদিকে না গিয়ে কথা ঘুরালো সামনের সমাবেশের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করে।
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
জেনির ক্লাস শেষে জিয়ানার জন্য অপেক্ষা করছে তার ডিপার্টমেন্টের নিচে। সজীব এসে পাশে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করলো ‘আমার টমশালী কই?’
‘সজীব! জিয়ুর সাথে ওত কথা বলার দরকার নাই ,আর বলেও সাবধানে।তার মুখ শুধু মুখ না ,ল্যান্ড মাইন।’
তখনই জিয়ানা দপদপ পায়ে ছেলেদের মতো করে হেঁটে এলো। “ইয়ো ব্রো ” বলে হাত মুঠো করে এগিয়ে দিলো সে।
সজীব মুচকি হেঁসে একই ভাবে হাত বড়িয়ে দিলো।
‘সো শালী আধা ঘরওয়ালী মাস্ক তো খুলো ,এখনো তোমাকে দেখার সৌভাগ্য হলো না।’
‘দেখে যদি মনে হয় দুর্ভাগ্য ,সেই দ্বায় কিন্তু আমার না?’
থাক দেখা লাগবে না। বের হওয়ার আগে আব্বু তেল মেখে দিয়েছে তার মুখে। যেন মাস্ক না খুলে।’বলে জেনি আর জিয়ানা একসাথে হাসা শুরু করলো।
সজীব বোঁকার মতো চেয়ে জিজ্ঞেস করলো ‘মানে?’
‘মানে হচ্ছে আব্বু মনে করে আমিও আপির মতো যদি আংকি পাংকি করি তাই আমার ব্যাপারে ওভার পজেসিভ।’
‘শুধু কি তাই ক্লাস নাইন পর্যন্ত আব্বু ছয়মাস পর পর জিয়ুকে ন্যাড়া করে দিতো। বেচারি কেঁদে কেটে কতদিন স্কুল মিস দিতো। চুল একদম ছোট রাখার শর্তে চুল ছিলা বন্ধ করেছে।’ বলে জেনি আবার হাসা শুরু করলো।
‘ওরেহ ব্যস, উনি দুই মেয়ের প্রতি এমন বৈষম্যমূলক আচরণ করেন কি জন্য?’
‘আব্বুর আনকমপ্লিট ড্রিম কমপ্লিট করতে আমাকে বেঁচে নিয়েছেন। কজ আই এম স্ট্রং এমং মাই সিব্লিং। বাকি দুইটা গরু ,অনেক উপকারী।’ বলে মাথা চুলকালো জিয়ানা।
সজীবের হঠাৎ মনে হলো নিবিড় কথা বলছে। একই টোন। একই আত্মবিশ্বাস। নিজেকে ধাতস্থ করে অফার করলো কফি খাওয়ার জন্য।তারা অফার ডিনাই করে একটা কাজের কথা বলে সজীবকে বিদায় জানালো।
তিনবছর থেকে ভার্সিটির সেরা সুন্দরী প্রতিযোগিতায় টানা জয়ী তামান্না শিকদার। ধনাঢ্য পরিবারের মেয়ে হওয়াই চালচলন আর পোশাক আশাকেও আভিজাত্য। অডি এ৮ গাড়ি করে ভার্সিটি আসা যাওয়া করে। সবচেয়ে বড় পরিচয় নিবিড়ের দীর্ঘমেয়াদী গার্লফ্রেন্ড। প্রায় একমাস সম্পর্ক ছিলো তাদের।
তামান্না গাড়ি থেকে নেমে শো-অফ করার জন্য প্রতিদিন নিবিড়ের ক্লাবের সামনে দিয়ে হেঁটে যায়। নিবিড়ের চেলা গুলা হা করে তাকিয়ে থাকে ,সেটা তামান্না খুব এনজয় করে। কিন্তু আজ হিতের বিপরীত কিছু হলো। তামান্নাকে দেখেই ছেলে গুলা একসাথে নাক চেপে ধরে গলায় বীণ বাজানোর সুর তুললো।তামান্না হাঁটা থামিয়ে একবার ঘুরে তাকায়। সেই সময় নিবিড় বের হয়ে বলে ওঠে,
‘আরেহ সাপুড়িয়ার দল থাম। তোদের এই ম্যানুয়াল বীণে কি আর বিষধর সাপের কিচ্ছু হবে? মরণবীণ লাগবে রে।’
সবাই হোঁ হোঁ করে হেসে দিলো। আর তামান্না রাগে গজগজ করতে করতে ভার্সিটির ভেতরে ঢুকে গেল।
নিবিড় বাঁকা হেসে বাইকে উঠে বসলো। মেয়ে মানুষ চোখের বিষ তার কাছে। ধনী গরীব ,সুন্দরী অসুন্দরী সব যেনো সস্তা গাছের পাতা। হাত বাড়ালেই ছোঁয়া যায় ,ছিড়ে ফেলেও দেয়া যায়। দুনিয়াতে সম্মান করার মতো কোন নারী তার জীবনে নেই। সব যেনো শখ মিটানো খায়েশ মাত্র।
মার্কেটের ফুটপাত ধরে হাঁটছে জেনি আর জিয়ানা। উদ্দেশ্যে তাদের আব্বু-আম্মুর বিবাহবার্ষিকীর জন্য উপহার কেনা। পাশ দিয়ে এক বৃদ্ধা ভিক্ষুক জিয়ানার শার্ট টেনে ধরে ভিক্ষা চাইলো।জেনি বলল,
‘কলেজে না তোমাকে দিলাম টাকা?’বৃদ্ধা মুখটা বিষ বানিয়ে বলে ‘হেই তো দেয় নাই।’
ততক্ষনে জিয়ানা ব্যাগে টাকা খুঁজছে। ‘দুঃখিত দাদি ভাঙতি নাই। পরবর্তীতে দেখা হলে বেশি দিবো।’ বলে সামনে এগোবে তখন শুনতে পেলো
‘এগুলার বিয়া না হোক ,হইলেও জামাই মদ খাইয়া প্রতি রাইতে কেলানি দিক।’
জিয়ানা ঘুরে বৃদ্ধাকে টেনে ধরলো ‘এই বুড়ি তোমার অভিশাপ কি কার্যকর হয়? হলেও কত পার্সেন্ট?’
জেনি হাত ধরে বললো ‘আহা চল। এরা এমনই। এই জন্যই তো ভিক্ষা করে খাওয়া লাগে।’ বৃদ্ধা চোর ধরা পড়ার মতো কাচুমাচু শুরু করলো।
জিয়ানা ব্যাগ থেকে একশো টাকার নোট বের করে সামনে ধরে বললো ‘নাও অভিশাপ স্টার্ট করো ,তবে আমাকে না। এই দেশের রাজনীতিবিদদের। তোমার অভিশাপটা হবে এমন ‘উলাউঠা হোক ,ক্যান্সার হোক ,সবগুলার বউ পরকীয়া করে মিডিয়ায় ধরা পড়ুক।আর তোমার ডিকশিনারিতে যত খারাপ অভিশাপ আছে সব দিবা। তাহলে এই একশো টাকা দিবো।’
বৃদ্ধা টাকা না দিয়ে কুঁজো হয়েই হনহন করে প্রস্থান করলো। ‘আরেহ বুড়ি, যাও কেন?রাজনীতিবিদদের অভিশাপ দিতে আপত্তি কেন?তুমিও কি তাদের বউ ছিলা নাকি?’ বলে
জিয়ানা পেট ধরে হেসে যাচ্ছে। রাস্তায় অনেকেই তাকিয়ে দেখছে এমন উদ্ভট পোশাকের মেয়েকে।
দূর থেকেই বৃদ্ধা ঘুরে বলে উঠলো’আমার হবো ক্যা। তোরই ভাতার।’ জেনি পিঠে একটা থাপ্পড় দিয়ে হাত ধরে হাঁটা ধরলো। জিয়ানা হাসতে হাসতেই হাটা ধরলো। আর পাশের দোকান থেকে বের হয়ে এলো বাঁকা হাসি সমেত নিবিড়।
বাজারে ঘুরেফিরে জেনি আর জিয়া ম্যাচিং শাড়ি পাঞ্জাবি কিনল। দুইবোন সেইম কুর্তাও কিনল।আর তাদের ভাই জুনায়েদের কথা মনে পড়তেই জেনি চুপসে গেলো দেখে জিয়ানা তারজন্যও নিলো একই পাঞ্জাবি ‘হাদারামটা যেদিন বাড়ি ফিরবে সেদিন দেয়া যাবে।’
‘তোর সাহস আছে ভালোই। আব্বু দেখলে বাড়ি মাথায় উঠিয়ে ফেলবে।’
‘দেখলে তো।’বলে নিজের ব্যাগে আলাদা করে রাখলো জিয়ানা।সামনের বেকারি থেকে একটা দুই পাউন্ডের কেক নিয়ে বাসায় ফিরে এলো। ঘরে ঢুকেই নিজের শার্ট আর মাস্ক খুলে ঢিল মারলো ফ্লোরে। জেনি চিল্লিয়ে ওঠে,”সবার সামনে এমন পোশাক চেইঞ্জ করিস কেন? একেমন পশুর মতো ব্যবহার? লজ্জার কথা বাদ দিলাম ,একটু ভদ্র হতে পারিস না?’
‘সবার সামনে কোথায়?আর লজ্জার কি আছে? তোমার যা আমারও তাই। অহেতুক ন্যাকড়াবাজি করো নাতো।’
ফুস করে নিশ্বাস ছাড়লো জেনি। এই মেয়েকে আব্বু এমন অদ্ভুত বানিয়েছে। একে কোথায় বিয়ে দিবে ,কে নিবে এমন অদ্ভুত মেয়েকে বউ করে?
প্রতিটা কাজ ছেলেদের মতো ,শুধু পারে না দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করতে। সেটাও ছোট বেলায় বায়না করতো। ভাইয়া বারান্দা দিয়ে প্রস্রাব করতো দেখে তারও এমন মেশিন চায়। আব্বুকে প্রায়ই বলতো ভাইয়ার মতো এমন তাকেও বানিয়ে দিতে। বাধ্য হয়ে ভাইয়াকে মেরে ধরে অভ্যাস পাল্টানো হয়েছে।কিন্তু বিধিবাম সেই ভাইয়ার খাৎনার সময় ঘটেই গেলো।ভাইয়ার খাৎনা হবে ,তার কেনো হবে না? সেও এমন রঙিন লুঙ্গী পড়বে। সে কি কান্না তার। কোনভাবেই যখন বুঝানো যাচ্ছিলো না ,তখন নানু বাধ্য হয়েই বলেছিলো তোর জন্মগত খাৎনা করানো।
সবাই গ্রামে গেলে ,পুকুরে গোসলের সময় জিয়ানাকে ছেলেরা তাদের দলে নিতে চাইতো না দেখে তার ইগোতে লাগতো। একবার খুব বড় মুখ করে তো বলেছিলো ,’তোদের মতো আমারও ছিলো। আমি টেনে ছিড়ে ফেলছি। এমন বাড়তি জিনিস আমার পছন্দ না।’ হাজার খানেক কান্ড ঘটিয়েছে বুঝে উঠার আগ পর্যন্ত।
মেনস্ট্রুয়াল সাইকেল শুরুর প্রথমবার আম্মুর পা ধরে হাউমাউ করে কান্না করে মাফ চেয়েছে। সে কোথাও ব্যথা পায়নি ,এমনকি পড়েও যায়নি উঁচু থেকে। আম্মু যেনো না বকে। অথচ এই পুরুষের বেশ ধরলেও ভেতরে যে একটা কোমল নারীহৃদয় আছে সেটা পরিবারের মানুষ ছাড়া কেউ জানে না। প্রথম অনুভূতির কাছে চরমভাবে অপমানিত হওয়াই আরও বিগড়ে গিয়েছে।
ঘুরে দেখলো তার ভাইরুপী বোনটাকে। কি সুন্দর আঁকানো চেহারা। ধনুকের মতো ভ্রু আর চোখের ঘনপল্লব ,নাকটা একটু চাপা ,এই নাকটা যেনো ওর জন্যই পারফেক্ট। একটা ছোট নোজপিন পড়লে প্রচণ্ড সুন্দর লাগতো। আব্বু যে কেনো ওকে এমন বেশে রাখে কে জানে। ওকে তো এখনো বলাই হয়নি তোর ক্রাশ তোরই ভার্সিটির প্রফেসর। যদিও সেসব অতীত।
রাতের ভন্ড আড্ডায় সব ভণ্ডরা দুষ্টু পানি খাচ্ছে। নিবিড়ের আজ সেসবে মন নেই। উঠে দাঁড়ানো দেখে সজীবও দাঁড়িয়ে গেলো। তার হালকা নেশা চড়েছে। সজীব ঢুলে ঢুলে জিজ্ঞেস করলো ‘বাড়ি যাবি নাকি ফাইটিং করতে কাছে যাবি?’
ওদের গ্রুপে একমাত্র এই সজীব ছেলেটাই গ্র্যাজুয়েট আর মেধাবী এবং চরিত্রবান।এখনো চাকরির চেষ্টায় আছে। নেশা না চড়লে এভাবে কথা বলে না। নেশা জিনিসটা আসলেই ভেতরের শুয়ারকে টেনে বের করে আনে। কিন্তু বন্ধুর মহব্বত ছাড়তে পারে না বিধায় নিজেই নিজের সর্বনাশ করছে।
‘আম্মুর কাছে যাবো।’ বলে নিবিড় বের হয়ে গেলো। আর আড্ডায় সবাই অবাক হয়ে দেখলো। যে নিজের মায়ের নাম মুখে আনলে তিনবার কুলি করে সেই ছেলে মায়ের কাছে যাবে। এ যেনো ডিজিটাল আশ্চর্য।
আর্শিতে নিজের প্রতিবিম্ব দেখে মুচকি হাসলো জিয়ানা।পার্পেল কুর্তি আর ধুতি সেলোয়ার সাথে নাগড়া জুতা পড়ে চোখে একটান কাজল দিলো। তারপর চুলটা কম্ব করে উইগটা হাতে নিলো। কি যেনো ভেবে উইগ হাত থেকে নামিয়ে টিস্যু দিয়ে চোখ মুছে ফেললো।অনেকক্ষণ থেকে জেনি তার কাজকারবার দেখে যাচ্ছে।
‘দিলিই কেন আবার মুছেই ফেললি কেন?’
‘তোমার জাদরেল বাপ দেখলে আমার চোখ উঠিয়ে মারবেল খেলবে। আর দিলাম প্র্যাকটিসের জন্য। ভবিষ্যতে যদি দরকার লাগে।’
‘চোখ উঠিয়ে মারবেল খেলবে কিনা জানি না। কিন্তু চুল যে এত বড় করেছিস সেটা দেখলে টাকলু করে দিবে এটা সেন্ট পার্সেন্ট নিশ্চিত।’
‘সাত বছর থেকে লুকিয়ে আসছি এখন যদি ধরাও পড়ি তবুও কাটবো না।এই চুলের জন্য আমার নারীসত্ত্বা এখনো মনে হয় বেঁচে আছে।’
তখনই আঞ্জুয়ারা দরজায় নক করলেন আর বলল, ‘তোদের আব্বু এসে গেছে।’
‘আপি কেকের দাম কিন্তু তিনশো বলবা। নাহলে আব্বু ঝামেলা করবে।’
‘এখানে প্রাইভেট না পাওয়া পর্যন্ত এভাবে টাকা উড়াচ্ছিস কেন?’ জেনি উইগ পাড়িয়ে দিতে দিতে বলল।
‘এই এলাকায় আমাকে কেউ প্রাইভেট দিবেও না।সবাই এমন ভাবে তাকায় আমি যেনো অতি আশ্চর্যজনক কোন জন্তু।’
‘ঠিকই তো ,তুই তো সেটাই।’
জেনির বাবা জিয়াউল হক একজন রিটায়ার্ড আর্মি। আজ সাত বছর থেকে রিটায়ার্ড হয়েছেন। গ্রামে একটা গরুর ফার্ম করেছেন। আর্নিং যা হয় সেখান থেকেই টুকটাক চলে। আর আঞ্জুমান মানে জেনি মা একটা এমপিভুক্ত কলেজের শিখিকা।বেতন খুবই সামান্য। বাচ্চারা সবাই ভালো জায়গায় চান্স পেয়েছে ,তাই নিজের হাতখরচের টাকা প্রাইভেট পড়িয়েই পুষিয়ে নিতে পারে।এককথায় আদর্শ মধ্যবিত্ত পরিবারের চিত্র। কিছুদিন আগ পর্যন্ত সুখী সুন্দর ছিলো কিন্তু জুনাইদের জেদের জন্য আপাতত খুশির একটু ভাটা পড়েছে। জন্মের সময় জুনাইদের হার্টে ছোট একটা ছিদ্র ছিলো। বহু চিকিৎসা করে অনেক বছরে সেটা রিপেয়ার হয়েছে। কিন্তু এই ছেলের কি সেসবে খেয়াল আছে? সে ক্রিকেট খেলতে খুবই বেশি পছন্দ করে। এবং ভালো অলরাউন্ডারও। দৌঁড়ঝাপ যে তার জন্য হারাম। এটা সে বুঝতে চায় না। বাবা মার সাথে রাগ করে একটা প্রাইভেট জবে ঢুকেছে,বর্তমানে ঢাকাতে একা একাই থাকে।
কেক নিয়ে সবাই অপেক্ষা করছে জিয়াউল হকের জন্য। উনি এসেই জিয়ানাকে একবার দেখে কেক কেটে ফেললো। রাতে ডিনারের পর জিয়ানাকে নিজ রুমে ডাকলেন। মিসেস হক বলল,
‘আমি পড়তে বলেছি এই ড্রেস ,বকাঝকা করবে না প্লিজ। এখন বড় হয়েছে।’
উত্তরে একটা শীতল চাহনি দিয়েছেন শুধু। জিয়ানাও তৈরি পাল্টা প্রশ্ন করতে। কি জন্য তার এই বিশবছরের জীবনের গোল একটাই বলে বলে ডানকান থেকে বামকান পঁচিয়ে ফেলেছেন নিজ পিতা। আর গোলটাই বা কি?
রুমে ঢুকে দেখতে পেলো মিষ্টার হক ইজি চেয়ারে চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছেন। জিয়ানা কাছে গিয়ে আস্তে করে আব্বু বলে ডাকলো।
চোখ বন্ধ অবস্থায় উনি বলল ‘আমি চাই প্রতিনিয়ত তুমি শক্ত থেকে শক্ত হয়ে গড়ে উঠো। সামান্য মেয়ে মানুষের মতো বেঁচে না থাকো…’
জিয়ানা জানে পরের টুকু ‘মেয়ালী শাড়ি গহনা ,স্বামী সন্তান তোমার একমাত্র বাঁচার অবলম্বন না হোক। এইজন্য এই সব সামান্য জিনিসের প্রতি আমি তোমার মোহ তৈরি হতে দেয়নি। কিন্তু আমি ভুল ছিলাম। তুমি প্রমাণ করেছো তোমার মাঝেও একটা দূর্বল নারীসত্তা আছে। কাল থেকে তোমার ট্রেইনিং একঘন্টা আগানো হলো।’
দীর্ঘশ্বাস ফেলে রুম থেকে বের হলেই জেনি আর আঞ্জু ঘিরে ধরলো। জিয়ানা হেসে বক্তিতার মতো হাত উঠিয়ে বলল, ‘মা জননী কাল আরও একঘন্টা আগে আমাকে ঘুম থেকে ডেকে দিবেন।’ জেনি পিঠে একটা কিল দিয়ে চলে গেলো। এরা অহেতুক এই ফাজিল মেয়ের জন্য ভয়ে থাকে। তার কোন বাতাসই গায়ে লাগে না।
নীতিহীন রাজ পর্ব ১
পরেরদিন ক্যাম্পাসে একটা রমরমা খবর বাতাসের গতিতে ছড়িয়ে গেল। নতুন এক মেয়ে ক্যাম্পাসের মিস বিউটি তামান্নার গাড়ির লুকিং গ্লাস ভেঙে নিয়ে গেছে। বিচার গেলো ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি সুখনীল নিবিড়ের কাছে।
