নীতিহীন রাজ পর্ব ৪৩
আশিকা আক্তার সোহাগী
“নেক্রোম্যান্সি বা ব্ল্যাক ম্যাজিক অতি আদিম কাল থেকেই চলে আসছে।প্যালিওলিথিক যুগের গুহামানবদের সময় থেকেই এই ব্ল্যাক ম্যাজিক চলে আসছে বলে গভেষকদের ধারনা।
ইহুদিদের জাদুবিদ্যার ধারণা ছিলো অন্য রকম।তারা বাষ্পস্নানের মাধ্যমে বলি দিয়ে উৎস্বর্গ করতো। সাথে অল্পবয়সী ছেলেদের সাথে স্থুল যৌনাচার করতো।তাদের ধারণা ছিলো সবার শরীরের মাধ্যমে এই বিদ্যা প্রয়োগ করা যায় না।বিশেষ দক্ষতা সম্পন্ন কাউকেই লাগে।তাদের ভাষ্য মতে এবং স্বীকৃতি অনুযায়ী “কিং অফ সলোমান ”
বইটি শ্রেষ্ঠ যাদুবিদ্যার বই। আমরা যেটা জানি সুলেইমান (রাঃ) এর বই হিসেবে।আমাদের রাসূল (সাঃ) এর নবুয়াত প্রাপ্তির আগেও সেমেটিক জাতি গুলোর মাঝেও প্রচুর যাদুবিদ্যার প্রভাব ছিলো।
এই কালো জাদুর অন্য ধর্মাবলম্বীরা বলে আত্মা কিন্তু আমরা মুসলিমরা জানি এটা খারাপ জ্বীনের প্রভাব।”
বলে থামলেন সুখের মকতবখানার হুজুর। সাদা ধপধপে চুল দাড়ি মেহেদী দিয়ে লাল করেছে বুঝা যাচ্ছে।ড্রয়িং রুমে সকল পুরুষের সামনে বসে আছে।আর পেছনে সকল মহিলারা কান সজাগ করে দাঁড়িয়ে।
হুজুর প্রশ্ন করলেন,
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
-এই বাড়িতে নামাজি কে কে আছেন? মানে এক ওয়াক্তও বাদ দেন না?
আব্বা বললো
-আমরা সবাই নামাক কালাম পড়ি তবে নিয়মিত না।তবে আমার মেয়ে আর স্ত্রী নিয়মিত পড়ে।
হুজুর এবার গলা উঁচিয়ে বললেন,
-আপনারা কি অদ্ভুত বা অস্বাভাবিক কিছু দেখেছেন?
আমি না করলাম। সত্যি বলতে সবাই কম বেশি নানা বিষয় উপলব্ধি করলেও আমি আর সুখ এখনো কিছু দেখি বা শুনিনি।তবে আম্মা কালটি রাতের বেলায় ওইদিনে ঘটনা হুজুরকে বললেন।
হুজুর তারপর যে কথা বলেছে শুনে আমাদের রক্ত হিম হয়ে যায়।
-যেহেতু মা জননী পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সহ তাহাজ্জুদও পড়েন।তাহলে আপনি যা দেখেছেন সেটা ভ্রম না। সম্পুর্ণ সত্যি দেখেছেন।কারণ দুনিয়ার এমন কোন শক্তি বা যাদু নেই যা একজন নামাজি ব্যাক্তির ক্ষতি করতে পারে।যারা দোয়া কালাম পাঠ করে তাদের শরীরের চারপাশ একটা বলয় তৈরি করে রাখে ফেরেস্তারা। যার ফলে কোন খারাপ জ্বিন উক্ত ব্যাক্তিকে দেখতে কিংবা শুনতে পর্যন্ত পায় না।এবং আমার মনে হচ্ছে আপনাদের পরিবারের কেউই এই কালোজাদুর পেছনে আছে।হতে পারে সবাইকে প্রতিনিয়ত কিছু খাওয়াচ্ছে যার ফলে নামাজি ব্যাক্তি ছাড়া বাকিরা তার বশবর্তী হয়ে কখন কি করছে নিজেও জানে না
-আর বাকিরা কে কি দেখেছেন বা উপলব্ধি করেছনে?
মেজো ভাবি এগিয়ে এসে বলে ,
-আমার ছেলে মেহেদীকে আমি পরশু রাতে একসাথে তিন চারটা দেখি। ভয়ে চোখ বন্ধ করে দোয়া দুরুদ পড়ার পরে তাকিয়ে দেখি কিছু নাই।
অনুরাধার মা এগিয়ে এসে বলে,
-মাগরিবের আযানের পর কাল আমি গেছি পেছনে বাগানে ডুমুরের পাতা আনতে। গিয়ে দেখি চারপাঁচটা ছোট ছোট উলঙ্গ বাচ্চা সুপারি গাছ বেয়ে পিলপিল করে উঠতাছে। ভয়ে আমি দৌঁড়ে ঘরের ভেতরে চইল্লা আসি।
বড় ভাবি বলে,
-আমি গোসল করতে পারতাছি না।বালতি ভরা পানি লাল টকটকে রক্তের মতো দেখা যায়।
তারপর আব্বা বলেন ,
-অদ্ভুত হলেও সত্য বাড়ির পুরুষরা কোন কিছুর সম্মুখীন হয় নাই।শুধু বাচ্চা গুলার উপর দিয়ে বিপদ যায়।যেমন আমার নাতী মেহেদী পরশু পানিতে পড়ে যায়।নিবিড় তাকে উঠাতে গেলে উঠা বাদ দিয়ে নিবিড়কে পানির নিচে ঠেসে ধরে ছিলো দুই তিন মিনিট। তারপর রাফিনকে ইশারা করে দেখিয়ে বলে এই ছেলে গিয়ে উঠাইছে।
আবার বড় ছেলের জমজ ছেলেরা খুবই মিল ছিলো। কিন্তু কিছুদিন থেকে একে অপরের জাতশত্রুতে পরিনত হয়ছে।কাল একজন আরেক জনকে রান্নাঘরের বটি দিয়ে মা*রতে গেছে।
প্রতিটা বাচ্চাই খুব হিংস্রাত্মক আচরণ করছে। শুধু আপনার ছাত্র নিবিড় ছাড়া।
হুজুর নিবিড়ের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেঁসে বলে,
-ওতো খুব বাধ্য ছাত্র আমার।এত দ্রুত কুরআন শিখতে আমার কোন ছাত্রকে আমি দেখি নাই।যারা নামাজ কালাম পড়ে তাদের দিন আর আখিরাত আল্লাহ হেফাজতে রাখেন।
তারপর হুজুর একটু গম্ভীর হয়ে বললেন,
-এই কালোজাদুর প্রভাব এতটাই খারাপ আপনাদের গৃহের শান্তি একেবারে নষ্ট করে দিবে।সাথে আর্থিক আর সামাজিক সম্মানও চলে যাবে।বেশিরভাগ সময় যারা এইসব কালোজাদু করে তাদের লাভের লাভ তেমন কিছু না হলেও ,যাদের উপর করা হয় তারা অনেক সময় ধ্বংসও হয়ে যায়।স্বাস্থ্যহানি সাথে প্রাণনাশেরও সম্ভাবনাও থাকে।
আমাদের রাসূল (সাঃ) এর উপরও কালোজাদু করা হয়েছিলো।আল্লাহ কুরআনুল কারিমে সমস্ত কিছুর মাসালা দিয়ে দিয়েছেন। এই অতি ঘৃণিত কাজেরও মাসালা আছে। তবে যারা এসব কালোজাদুর সাথে জড়িত হয় দুনিয়া এবং আখেরাতে তাদের জন্য কঠিন শাস্তি রেডি থাকে।
তারপর হুজুর আব্বাকে বললেন
-ঘরের সবাইকে ওষু করে আসতে বলেন।আর মকতব থেকে দশ বারো জন হাফেজদের আনার ব্যাবস্থা করুন।
আব্বা হুজুরের কথা অনুযায়ী সবাইকে হাজির করলেন।
সবাই ওযু করে বসে গেলেন ড্রয়িংরুমে। মহিলারা বসলেন অন্দরে।বাচ্চারা ভয়ে মিহিয়ে গেছে।সুখ আমাকে জড়িয়ে ধরে থাকে।মেহেদী আর রাফিনেরও একই অবস্থা। আমি দুই হাতে তিনজনকেই আগলিয়ে রাখি।
প্রতিটা হাফেজ কুরআন নিয়ে বসে একসাথে সমসুরে সুরা পাঠ শুরু করলো। প্রথমে সুরা ফাতিহা ,তারপর চার কুল পর পর সুরা বাকারার বিভিন্ন আয়াত ,সুরা আলে ইমরান ,সুরা আ’রাফ,সুরা ইউনুস, সুরা হাশর ,সুরা আর রাহমান সহ আরও বেশ কয়েকটা সুরা টানা পড়ে গেলো ঘন্টাখানেক ধরে।
তারপর এক বালতি পানি নিয়ে হুজুর নিজের হাত সেই পানিতে ডুবিয়ে আবার দোয়া পড়তে শুরু করলেন।পড়া শেষে সেই পানি বাড়ির আঙিনা সহ ঘরের আনাচে-কানাচেতে ছড়িয়ে দিলেন।এবং সবাইকে নির্দেশ দিলেন আগামী সাতদিন সবাই গোসলের পানিতে হাত ডুবিয়ে সাতবার সুরা ফাতিহা সহ চার কুল সাতবার করে পড়ে সাতবার ফু দিয়ে পানি পবিত্র করে নিবেন। আর সেই পানি দিয়ে গোসল করবেন।অবশ্যই গোসলের ফরজ মেনে গোসল করতে হবে।মাগরিবের আযানের সাথে সাথে ঘরের প্রতিটা দরজা জানালা বন্ধ করে দিবেন।বাচ্চারা সূর্য ডোবার পর বাহিরে বের হবে না।
সবাই ফরজ নামাজ পড়বেন।তবেই কোন অপশক্তি একচু্ল পরিমানের ক্ষমতা নেই এই ঘরে ঢুকার।আর হ্যা পানি পানের সময় সুন্নাহ মেনে তিন ঢুকে বসে খাবেন।তবে খাবারের সাথে কিছু খাওয়ালেও সেটা নষ্ট হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। আজ উঠি।
উনাকে আব্বা আর ভাইয়েরা বাহির পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে আসেন।বেশ কয়েকদিন পর ঘর সত্যি সত্যি হালকা অনুভূত হলো।
এরপর কয়েকমাস সব স্বাভাবিক চললো। তবে সুখ মাঝেমধ্যেই আমাকে স্বপ্না ভাবিকে নিয়ে নানা অভিযোগ করতো।বিশেষ করে মাঝরাতে বের হয়ে উনি নাকি রুপকদার রুমের দিকে যেতো।রুপকদা দরজা খুলতো না।আবার একা একা ছাদের চলে যেতো।পুকুরপাড়ে সন্ধ্যায় বসে থাকতো।ভাবি এই বাড়ি আসছে থেকেই উদাসীন। আমি বাচ্চার কথা ভেবে ধরিনি।আর ওকেও নিষেধ করি আর কাউকে যেনো এসব কথা না বলে।এরমাঝে আমিও ভাবির গতিবিধি লক্ষ্য করি।হঠাৎ করেই ভাবি আমার সাথেও খারাপ আচরণ শুরু করলো।আমি আমলে নেই না।উনি আসলে দুঃখীই ছিলেন।নির্যাতিত ভেঙে যাওয়া একজন নারী।নামে মাত্র বিয়ে করে শ্বশুরঘরে পড়ে আছেন।
এরকিছুদিন পর হঠাৎ একদিন স্কুল থেকে বাচ্চারা বাসায় ফিরলো না। স্কুল থেকেই নিখোঁজ হলো রনি জনি ,রাফিন ,মেহেদী আর সুখ।
টানা চব্বিশঘন্টা পুলিশ আর আব্বার পার্টির লোকজনের খোঁজাখুঁজির পর সবাইকে পাওয়া গেলো সেই কবিরাজের ডেরায়। যার কাছে দাদি আর আম্মা গিয়েছিলো।
তবে পাঁচজনের মাঝে ফিরে এলো চারজন।রনি এলো লা*শ হয়ে। সেকি বীভৎস লা*শ হয়ে ফিরে এসেছিলো বাচ্চাটা। হাত পায়ের প্রথম গিট পর্যন্ত কাটা ছিলো। সাথে গলায় বড় কাটার দাগ।চোখ উপড়ে ফেলা।
আমরা সবাই ভেঙে পড়লাম।দাদি এই শোক নিতে পারলেন না। দুইদিন পরেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করলেন।বাকি বাচ্চারা বলতে পারেনি কিছুই। তবে সুখকে তারা সহ্য করতে পারতো না একেবারেই। আর সুখ হয়ে গেলো একদম নিশ্চুপ। শাড়ি পড়া কাউকেই সহ্য করতে পারতো না।হঠাৎ হঠাৎ ভয়ে চিৎকার করে পাগলের মতো ছটফট করতো। সবচেয়ে খারাপ হলো যখন পুকুরে গোসলের সময় বড় ভাইয়ের বাচ্চা মেয়েটার উলঙ্গ শরীর দেখলো। মাইমোনার গলা এমন ভাবে চেপে ধরেছিলো যে আর কয়েক সেকেন্ডে থাকলে সেদিন আরেকটা দূর্ঘটনা ঘটতো। বড়রা কেউ সুখকে ছাড়াতে পারিনি।একটাবাচ্চার শরীরে সেদিন মনে হয়েছে কোন অশরীরী ভর করেছিলো।সুখ নিজেই ছেড়ে মাটিতে পড়ে যায়। আর চোখ মুখ উল্টে খিচুনি শুরু করে। মুখ দিয়ে ফেনা পড়তে থাকে।
আমার লাইফের সবচেয়ে খারাপ দিন মনে হয় সেটাই ছিলো। সুখের এই অবস্থা দেখে বড় ভাই আর ভাবি ঘোষণা দিলেন সুখকে পিশাচ বানিয়ে দিয়েছে কবিরাজ।সেই কথার প্রেক্ষিতে দিনরাত আমার অনুপস্থিতিতে অকথ্য গালাগালি আর নির্যাতন চলতে লাগলো তার উপর।উনিশ থেকে বিশ হলেই বাড়ির অধিকাংশ মানুষ বিশেষ করে বড় ভাই আর ভাবি সাথে ছোট ভাই ছোট্ট শরীরটাকে ক্ষতবিক্ষত করে দিতো।
অপরদিকে মেন্টালি ট্রমা সাথে পারিবারিক সবার নির্যাতনে সুখ অতি বুদ্ধিমান বাচ্চা থেকে হয়ে উঠলো নিশ্চুপ আর কঠিন।
এতকিছুর পর স্বপ্না ভাবির টনক নড়ে। সে এতদিনে ছেলের প্রতি টান অনুভব করেন।সবার কাছ থেকে আগলিয়ে রাখেন।তবে সুখ নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছে শক্ত খোলসে।সে জানে তার কেউ নেই এক আমি ছাড়া।খেতো না পড়তো না।মাথার যন্ত্রণায় তড়পাতো খুব।এইভাবেই চলছিলো আরও কয়েকমাস।
তবে নিরেট স্বাভাবিক জীবন আমাদের শেষ হয়ে গিয়েছিলো বহু আগেই। এরমাঝে পার্টিতে কি ঝামেলায় আব্বা রুপকদাকে দল থেকে এমন কি বাড়ি থেকেও বের করে দিলেন।রাফিন আমাদের সাথেই থাকে।রুপকদা কখনোই নিজেকে কোন আলাদা ধর্মের মনে করতো না।সব ধর্মের সব অনুষ্ঠানে যেতো আর সবার সাথেও সমান ব্যবহার করতো।শুধু গরুর মাংসটা খেতো না।বাদ বাকি উনাকে দেখে বুঝাই যেতো না উনি আসলে কোন ধর্মের।তবে আমাকে মাঝেমধ্যে বলতো দোয়া বলে ফু দেতো নীলু যেনো বাতাস না লাগে। আমি হেঁসে হেঁসে ফু দিতাম।আমার মাথায় হাত বুলিয়ে বের হয়ে যেতো।সত্যি বলতে এই মানুষটার প্রতি আমাদের সবার ছিলো অঘাত মায়া। যা আমার ভাইদের প্রতি আসতো না।
রুপকদাকে দল থেকে বিতাড়িত করার পর উনি একেবারেই নিখোঁজ হয়ে গেলেন।
প্রায় প্রতিদিন পাত্রপক্ষের সামনে বসতে বসতে আমার অবস্থাও বেশ নাজেহাল। আমার বয়স বিশ পাড় করে একুশ। এই বয়সেও বিয়ে দিতে না পারায় আব্বা আর আম্মা খুবই হতাশ আর চিন্তিত হয়ে পড়লেন।সবাই দেখে পছন্দ করে যায় কিন্তু আর যোগাযোগ করে না।এভাবে কেটে যায় দুইবছর।
জীবন কোথায় কখন নিয়ে যায় জানি না। নাটকের চেয়েও নাটকিয় এই জীবন আল্লাহর দেয়া বড় নেয়ামত। আমি হতে পারতাম সামান্য পিপড়া কিংবা কুৎসিত কদাকার কোন প্রাণি কিন্তু আমার মহান আল্লাহ আমাকে সৃষ্টিরসেরা জীব হিসেবে সৃষ্টি করেছেন।নেই কোন অভিযোগ না হতাশা।কালকের দিনটা কালকের জন্যই তুলা থাক।কারো ক্ষতির কারণ না হয়ে আয়ু পর্যন্ত বেঁচে থাকতে চাই।যদি নিজের অজান্তেই কারো ক্ষতির কারন হই আল্লাহ যেনো আমাকে এই দুনিয়াতেই তার উপযুক্ত শাস্তি দেন।নিজের জন্য চাওয়ার নেই।শুধু প্রার্থনা করি আমার সুখটা আবার স্বাভাবিক জীবন পাক। ওর জীবনে কেউ আলো হয়ে কেউ আসুক।আবার আগের মতো হাঁসুক ,খেলুক। নিশ্চয়ই আল্লাহ উত্তম পরিকল্পনাকারি।
শেষ ডায়েরির পাতা।জিয়ানার চোখ ভেজা।সেকি এতক্ষন কাঁদলো।কিন্তু এখানে সুখের বিষয় আর ওদের বাড়ির সেই দূর্ঘটনার কথা উল্লেখ নেই। সুখদের সাথে কি হয়েছিলো? কিছুই তো জানা গেলো না।সুখের নারী ফোবিয়া তার মানে সত্যি?মেহেদী রাফিনের সাথে কি এমন ঘটেছে যার ফলে এত ভালো বন্ধুত্ব দুশমনে পরিনত হলো?কি হয়েছিলো কবিরাজের ডেরায়?রুপক কোথায় নিখোঁজ হলো?ওদের বাড়ির এতগুলা মানুষ কি শুধু সম্পত্তির জন্যই খু*ন হলো?
জিয়ানা মাথা চেপে ধরে।কোথায় পাবে এসব প্রশ্নের উত্তর? আশেপাশে তাকিতুকি করে।নিবিড় কি লিখেনি নিজের কথা গুলা?
জিয়ানা আবার খোঁজে চলে প্রতিটা বই। তাকে তো জানতেই হবে সব।
আধারের ঘনত্ব যত বেশি থাকে তারার মেলা তত জমজমাট হয়।তারাদের এখন উৎসব চলছে গগন পানে।গভীর রাতের নিস্তব্ধত চারপাশ।
নিজের গবেটামিতে নিবিড় নিজের চুল খামচে ধরলো।এত দিনের তিলে তিলে গড়া সব প্রমাণ মুখ থুবড়ে পড়েছে। এই ব্যার্থতা যেনো দগদগে ঘায়ের মতো চিনচিনে অসহ্যকর যন্ত্রণার।এখান থেকে দাড়াতে অনেক সময় লেগে যাবে।জিয়ানা তাকে আগেই বলেছিলো তার ক্লাবেই সিক্রেট ইনফর্মার আছে।তাই তো রেজাউলের কাছে আগেই ইনফরমেশন পাচার হয়ে গেছে। সে আগেই সব দিকে সেটাপ দিয়ে রেখেছে বিধায় নিউজ কোনটাই পাবলিশ হয়নি। উল্টা নিবিড়ের নামে মিথ্যা নিউজ পাবলিশ হয়েছে।তবে আশরাফ ওরফে আর্থার ডয়েল এক্সপোজ হয়েছে।
নিবিড়ের ফোনে কল আসে।রেজাউলের কল।ফোন রিসিভ করে কানে দিতেই শুনতে পেলো খ্যাকখ্যাকে বিদঘুটে হাঁসির শব্দ।
-রাজনীতিতে এখনো তুমি নাদান বাচ্চা নিবিড়।আমার পালতু হয়ে আমাকেই পিঠ দেখাও। এ্যা? শোন একটা গল্প বলি লাইফে বহুত কাজে লাগবে।
“হরিণ এক লাফে ১৩হাত যেতে পারে। আর বাঘ পারে ১২হাত। হরিণের সাথে দৌঁড়ে বাঘের কখনোই জিতার কথা না।কিন্তু হরিণ দৌঁড়ানোর সময় পেছনে ফিরে দেখে। আর এটাই পয়েন্ট বাঘের জিতে যাওয়ার জন্য।”
নিবিড়ের চোয়াল শক্ত হয়।দাঁতে দাঁত পিশে বলে,
-এবার আমার একটা গল্প শুনোন।
-আরেহ আরেহ আজ তো শুধু আমার বলার পালা।তুমি আর কি বলবে? “সুন্দরবনে শুধু বাঘ না সিংহও আছে? তবে তোমার সিংহীটা হেব্বি তেজওয়ালা।বাট আই লাইক হার বডি মোষ্ট “বলে উচ্চশব্দে হেঁসে কেটে দেয়।
নিবিড় নিজের ফোন ঢিল মারতে গিয়েও নিজেকে সংবরণ করে।
নিবিড়ের নামে মিথ্যা নিউজ হয়েছে এরুপ” নারী নির্যাতনকারি একই সাথে দলীয় ক্লাবের নিচে গোপন কামরায় অবৈধ্য মাদক দ্রব্যের ব্যবসা করে দিনের পর দিন ক্ষমতার অপব্যবহার করে টিকে আছে সাভারের এক নং ইউপি চেয়ারম্যান পুত্র সুখনীল নিবিড়।
পাশে মক্কু কপালে হাত দিয়ে বসে আছে।নিবিড় আকাশ আর মক্কু ছাড়া বাকি সবাইকে বাহিরে যেতে বলে।তারা বের হয়ে গেলে নিবিড় বলে,
-আমাদের এই ছয়জনের টিমের মাঝে গাদ্দার আছে।তোদের কাকে সন্দেহ হয়?
আকাশ আর মক্কু একসাথে বলে
-কি বলেন ভাই? আমাদের মাঝে?
-হ্যাঁ। ভালো করে ভেবে দেখ অল্প সময়ে কে বেশি তৎপর ছিলো বেশি।কার বেশি ফ্রেম পাওয়ার পায়তারা ছিলো।কে নিজেকে লয়াল প্রমাণের জন্য চব্বিশঘণ্টায় বিনাশব্দে ক্লাবে পাড় করেছে?
মক্কু বলে ,
-রনি?
নিবিড় মাথা নাড়ে।
-ঠিক।ক্লাবে জয়েন্ট করছে সাত মাস।এরমাঝে ওর এক্টিভিটি ছিলো সর্বোচ্চ আর নিট এন্ড ক্লিন।নিজেকে খুব ডেডিকেটেড দেখাতো।আর আমি সত্যি বলতে এই প্রথম মানুষ চিনতে ভুল করেছি।আর তার কাফফারা তো দিতেই হবে।তবে আমার কাজ জিয়ানা সহজ করে দিয়েছে।এই পেনড্রাইভে আমাকে নিয়ে কিছু ডকুমেন্টস আছে। আপলোড ডে আকাশ।তবে রনিকে যে আমরা সন্দেহ করছি এটা বুঝতে দেয়া যাবে না কাটা দিয়েই কাটা তুলবো।বুঝতে পেরেছিস?
আকাশ আর মক্কু মাথা নাড়ে।মক্কু বলে ,
-ভাই আপনার নামে এই ভুয়া তথ্য গুলার রেফারেন্সে কাল তো এরেষ্ট হইতে পারেন।
-হইতে পারি না। নিশ্চিত হবো।যদি হয় তোকে একটা কাজ করতে হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সাথে যোগাযোগ করতে হবে।আর তোদের উপরেও যেতে পারে বিপদ।ছন্নছাড়া না হয়ে এক হয়ে কাজ করবি।সবাইকে ডাক।
আকাশ হাক ছাড়ে। সবাই ভেতরে এলে নিবিড় বলে,
-কাল আমাদের উপর দিয়ে অনেক কিছু যাবে।সবাই এক হয়ে কাজ করবি মক্কুর আন্ডারে।আর যদি মক্কুও এরেষ্ট হয় তবে আকাশের আন্ডারে। আর ফ্ল্যাটের নিচে আরও দুইজন লোকের পাহারা বাড়িয়ে দিবি কাল থেকে।
তারপর ডেক্সটপে বসে জিয়ানার পেনড্রাইভ থেকে নিবিড়কে নিয়ে ডকুমেন্টস গুলা কপি করলো।সজলকে বলল,
-মিলিয়ন ফলোয়ার সহ কয়েকটা গ্রুপে আপ দে এই ডকুমেন্টস গুলা।রাজনীতিতে ফ্রেম পাওয়া ছাড়া আসলে মাঠে নামতে নাই।আগে নিজের ইমেজ ঠিক করে সবার কাছে গ্রহন যোগ্যতা বাড়াতে হবে।সাথে আমরা যে ক্যাম্পাসের গরীব স্টুডেন্টদের লেখাপড়ার ভার বহন করি সেটা নিয়ে একটা চকটদার পোষ্ট করবি তালহা।আর রনি তুই হেট কমেন্টস গুলা হাইড করবি।আর রিপোর্ট মারবি। চল কাজ শুরু কর।
জালিমের মসনদ ভাঙ্গা অত সহজ? না সহজ না।পাপ এমন ভাবে এরা বিস্তার করে উপরে যতটা দেখা যায় ভেতরে তারচেয়ে হাজারগুন বেশি জমা থাকে।ক্ষমতা আর টাকা যার আছে দুনিয়াটা তার।তার কথায় সত্য বাকি সব মিথ্যা আর গুজব।
জিয়ানা থপ করে বসে পড়লো ফ্লোরে আর কিচ্ছু নেই। তন্ন তন্ন করে খোঁজেও কিচ্ছু পেলো না।এবার বের হয়ে যাবে ভাবলো।
চা*কু রুপি কলমটা তখন পেনহোল্ডারে রেখেছিলো ,সেটা নেয়ার জন্য হাত বাড়াতে দেখলো আরও কিছু অদ্ভুত কলম রাখা।বেশিরভাগ কলমই পিতলের। সব গুলাই উইনিক ডিজাইন।কোনটা যদি আবার চা*কু হয় তাই প্রেস করে করে দেখছিলো। এরমাঝে একটা কলম দেখলো অদ্ভুত শেপের।ছোট চাবি টাইপ।জিয়ানা হাতে নিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখতে থাকলো।হ্যাঁ এটা কোন কিছুর চাবি।কিন্তু এঘরে কোন ড্রয়ার বা লক করার মতো কিছু নেই। তবে? শুধু বুক সেল্ফটা ছাড়া কোন আসবারও নেই।বুক সেল্ফটা আবার খুতিয়ে খুতিয়ে দেখে জিয়ানা।উদ্দেশ্য কোন ছিদ্র আছে কিনা। নেই কোন ছিদ্র উপর থেকে নিচ দেখে পেনহোল্ডারে রেখে দরজায় চলে এলো।কি মনে করে আবার যায় পেনহোল্ডারের কাছে।সেটা হাতে উঠানোর পর মুখে হাঁসি ফুটে।পেনহোল্ডারে নিচেই লক।কলমটা প্রেস করে সেই ছিদ্রে সেট করতেই বুক সেল্ফ মাঝ বরাবর ফাঁকা হয়ে গেলো।জিয়ানা অবাক হয়ে ভাবছে বিদেশি থ্রিলার মুভি গুলাতে এমন হয়।এইদেশের কাঠমিস্ত্রীরাও এমন জিনিস বানাতে পারে? পরক্ষনেই সেল্ফটার লগো দেখলো।”কার্টেল “নাম।এই নামের কোন ফার্নিচার ব্র্যান্ডের নাম জিয়ানার জানা নেই।
যায় হোক নিজ হাত সেই ফাঁকে ঢুকিয়ে দুইদিকে ধাক্কা দিতেই সরু একটা জায়গা হয়ে গেলো।এবং জিয়ানা ভেতরে গিয়ে হা করে তাকিয়ে আছে।আবছা অন্ধকারে বুঝতে পারলো একটা ছোটখাটো রুম বলা চলে। আশেপাশে সুইচ খুঁজে অন করে দিলো লাইট।আলোয় স্পষ্ট হলো এখানেও বুক সেল্ফ তবে সেখানে রাখা ধর্মীয় গ্রন্থসমূহ। একপাশে জায়নামাজ।নামাজের ঘর এমন লুকানো কেনো জিয়ানার মাথায় ধরলো না।একরুমে অ*স্ত্র আর ম*দ।আরেক বাদ্যযন্ত্র আর কবিতার বই। আবার এই সিক্রেট রুমে ধর্মীয় জিনিসপত্র। সে ভেবে পাচ্ছে না নিবিড়ের আসলে কয়টা স্বত্ত্বা? কয়টা রুপ। আসল কোনটা আর নকলই বা কোনটা? সুস্থ না অসুস্থ?
ধর্মীয় গ্রন্থের একসাইডে কালো মলাটের কিছু বই। জিয়ানার ওযু নেই ধরবে না ধরবে ভেবে একটা কালো মলাটের বই হাতে নিয়ে দেখে পুরাটাই খালি একটা ডায়েরি।ডায়েরির পাতাও কালো।পাশের ডায়েরি একই তবে এটার পাতা সাদা।ডায়েরিটা আলোর কাছে নেয় জিয়ানা। কোন ছাপ আছে কিনা দেখার জন্য। কিংবা অন্ধকারে পড়া যায় কিনা।এমন ফাঁকা ডায়েরি নিশ্চয়ই এত গোপনে সে রাখবে না?
জিয়ানা শুনেছে ম্যাজিক কলমের নাম।যেটার অস্তিত্ব আদতে আছে কিনা আজ প্রমান হবে।প্রথমে আলোতে নিলে কোন পরিবর্তন হলো না।এবার সুইচ অফ করে দিলো।এবং হ্যাঁ আস্তে আস্তে কিছু একটা ভাসছে পাতায়।জিয়ানার ভ্রম কিনা সিউর হওয়ার জন্য নিজেই নিজের হাতে কামড় বসালো। এতক্ষণে পুরাপাতায় লেখা ভেসে উঠেছে।
পরের পাতা উল্টায়। এটাও আগের মতো আস্তেধীরে ভেসে উঠে। জিয়ানা প্রথম পাতায় ফিরে যায়।ফ্লোরে হাটু মুড়িয়ে বসে,
সুখনীল নিবিড় (1996-1996)
(জিয়ানা অবাক হয়। জন্মের সালেই মৃত্যু?আবার কনসেন্টেন্ড করে লেখায়।)
যখন থেকে আম্মু আমাকে আম্মু ডাকতে মানা করতো বলতো আমি তার ফুপু।সেদিন থেকে বুঝেছিলাম আমি আসলে এই পরিবারের কেউ না।আমার কেউ নাই।রাফিনদাকে এরা পালিত ছেলে বললেও আমি কোন কাতারেই পরতাম না।আমার না ছিলো রন-জনি ভাইয়ার মতো আম্মু না আব্বু।
কয়েকদিন পর থেকে দিদা আম্মুকে আমার সাথে ঘুমাতে দিতেন না।আমি একাই ঘুমাই।জানালা আটকাতে ভয় লাগতো তাই গরমেও কাথা মুড়িয়ে লুকিয়ে থাকতাম বিছানায়।পর্দা গুলা নড়াচড়া করলেই কেপে কেপে উঠতাম।আম্মু আম্মু বলে ডাকতাম।ততদিনে আমি আম্মুকে ফু-আম্মু বলা শিখে গেছি।ফু-আম্মু বলতো আমার দুইটা মা।অথচ ভয়ের সময় কিংবা জ্বরের রাতেও আমার একটা আম্মুও আসতো না।আমি নিজেই কলপাড়ে গিয়ে একহাতে কল চেপে মাথায় পানি দিতাম।
আমার প্রচন্ড জড়তা আসতো মেহেদীর আব্বুকে আব্বু ডাকতে।ফু-আম্মু বলেছেন ওইটা আমারও আব্বু।হঠাৎ করেই একদিন ডেকে কাছে যাবো ভেবেছি।কিন্তু উনি আমার দিকে তাকানই না।আমি ঘরে প্রেক্টিস করতাম আব্বু ডাকার।আমার গলায় শব্দটা কেমন শুনাবে?
মকতবের হুজুর বলেছেন যত্নে রতন বাড়ে। প্রতিটা সম্পর্ককেই প্রচুর যত্ন করতে হয়।তাই আমি তখন আগ বাড়িয়ে সবার সাথে কথা বলতাম।রুপমামুকে আমি অনুসরণ করতাম।বড় হয়ে আমি অবশ্যই রুপমামুর মতো হবো বলে ঠিক করি।
রুপমামু সবাইকে চকলেট একটা করে দিলেও আমাকে দিতেন দুইটা। আমি একটা খেতাম আর একটা জমাতাম।সেটা আবার মকতবের সবচেয়ে অসহায় ছেলেটাকে দিতাম।পাশেই দাদুর এতিম খানায় থাকে সে ।নাম মুসাদ্দিক।আমি একে ভালোবেসে ডাকি মক্কু।
রাফিনদা ছিলো সুপার হিরো। কখনোই রাগতো না। মেহেদীর গোয়ার্তমির জন্য পাড়ার ছেলেদের সাথে আমাদের প্রায়ই ঝামেলা হতো।কিন্তু রাফিন দা সব সামলিয়ে আবার খেলা শুরু করতো সবাইকে নিয়ে।
মেহেদী যেবার টাইফয়েড হলো আমার খুশি দেখে কে।কারণ তার ফাইনাল পরিক্ষা দেয়া হয়নি বিধায় আমার ক্লাসে চলে আসে।আমরা দুইভাই এখন থেকে একক্লাসে পড়বো।মেহেদী নিজেও খুশি।মেহেদীর সব ভালো লাগলেও আমার জিনিসে ভাগ বসানোটা একদম ভালো লাগতো না। শ্লা আমার ব্যাগ জুতা আর ডায়েরি লুকিয়ে নিয়ে যেতো।আমিও আবার ছলা করে সব নিয়েও আসতাম।
আমাদের মাঝে চমৎকার প্রতিযোগিতা হতো। সাতারের আর দৌঁড়ের। দৌঁড়ে সবসময় রাফিনদা প্রথম হতো।গাছে উঠাতে মেহেদী তবে সাতাঁরে আমি ছিলাম সেরা।
একবার মেলায় গিয়ে সেখানে নানা বাদ্যযন্ত্র দেখে আমি বায়না ধরি গিটারের। রুপমামু বলেন এনে দিবে যদি আমি প্রথম হয় পরিক্ষায়।সেবার আমি মেহেদীকে ছাড়িয়ে প্রথম হলাম।আমার চেয়ে মেহেদী বেশি খুশী হলো।পরে শুনি মেহেদী ইচ্ছা করে ইংলিশে প্যারাগ্রাফ লিখে নাই।যেনো আমি নাম্বার বেশি পাই আর গিটারটা রুপমামু এনে দেন।গিটারের লোভ মেহেদীরও হয় সেদিন।কিন্তু আমি আগেই চেয়ে ফেলাই সে আর চাইতে পারে নাই।
নীতিহীন রাজ পর্ব ৪২
মামু গিটার এনে দিলেন।কিন্তু দাদি এই জিনিস ঘরে তুলতে দিলেন না।তাই ছাদের চিলেকোঠায় আমরা অহেতুক টুংটাং করি।রুপমামু ভিসিআর এনে সেটাতে সিডি এনে দিলেন বিভিন্ন টিউটোরিয়াল। আমরা সেগুলা ফলো করি।আমাদের দিন যায় স্বর্গের মতো।আমি ভুলে থাকি আমার কলুষিত জন্ম। আমি ভুলে থাকি আমার অস্বীকৃত বাবা মার কথা।কারণ আমার আছে রুপমামুর মতো একজন মামা আর ফু-আম্মুর মতো একজন ফুপ্পি।আর মেহেদী আর রাফিদার মতো ভাই।তবে রনি আর জনি ভাই মাঝেমধ্যেই আমাকে অজাত বলে গালি দিতো।একবার রাগে আমিও বলেছিলাম ,
-আর একবার এটা বললে তোকে আমি খু*ন করে ফেলবো রনি।
ব্যস, এটাই সবাই বিশ্বাস করেছিলো……..
