নীতিহীন রাজ পর্ব ৬
আশিকা আক্তার সোহাগী
কথায় আছে ‘নামে কি যায় আসে কর্মই আসল পরিচয় ‘ উঁহু নামেও অনেক কিছু যায় আসে। নাম শুনলেও বোঝা যায় ভদ্র আর অভদ্রের লেভেল। এই যেমন নিবিড়ের দুই চ্যালা মক্কু আর বদি। এই নাম শুনলেই ভেতর বাড়ি খবর চলে যায় এ কোন ভদ্রলোকের নাম হতে পারে না। নিশ্চিত রাস্তার পাতি মাস্তান কিংবা কোন সাণ্ডু-মাণ্ডুর চ্যালা।আজকে রেস্টুরেন্ট থেকে মার্কেটে ঢোকার গলির পথে জিয়ানাকে তারা সাহায্য করেছে। সাহায্য না আং সাং কে জানে। হয়তো আবার ফলো করছিলো আর কাকতালীয় ভাবে তখনই জিয়ানা ছিনতাই কারির খপ্পরে পড়ে।আজ মক্কু আর বদি না থাকলে তার সাইকেল কেনার টাকাটা গোল্লায় যেতো।
যাই হোক সাইকেল আগেরবারেরটা এখানে পাওয়া যায়নি। অপেক্ষা করাও পসিবল না।অন্য এক মডেলের যেটা আবার দোকানের রেটের চেয়ে পাঁচ হাজার টাকা কম দামে পেয়েছে। শুধু মাত্র মক্কু আর বদির জন্য। দোকানদার পারে নাই একশো পাঁচ পারসেন্ট ডিসকাউন্ট দিতে। সাইকেল কেনার টাকা থেকে তার ছয় হাজার বেঁচে গেছে। তাই মক্কু আর বদির জন্য একটা গিফট কিনবে বলে প্ল্যান করেছে।জিয়ানা কারো কাছে ঋণী থাকে না। নগদের উপকার নগদে শোধবোধ। কাদা পানি শরীরে শুকিয়ে গেছে বহু আগেই। মাঝেমধ্যে কুটকুট করে চুলকালেও ওও ব্যাপার না। গ্রামের বাড়িতে সাঁতার শিখার সময় ন্যাচারাল সান্সক্রিম হিসেবে বহু কাদা মেখেছে শরীরে।
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
আজ অনেক দেরি হয়ে গেছে বাসায় ফিরতে। কত ঘন্টা লটকে থাকা লাগবে কে জানে।
কিন্তু বাসার দরজা লক দেখে কপাল ভাজ করলো তারপর জেনিকে ফোন দিয়ে জানলো তাদের নানুর হঠাৎ শরীর খারাপ করেছে।তারা সবাই সেখানেই আছে। ফিরতে রাত হবে। আর তারাহুরো করে সবাই চলে গেছে তাই রান্নাও হয়নি।চাবি বাইরের পাদানীর নিচে রাখা। জিয়ানারই আজ দিন। গুন গুন করে গান গেয়ে বাসায় ঢুকলো।
নানুর বাসায় সবাই গেলেও জিয়ানা যায় না। বিশেষ কারণে তাদের নানু তাকে পছন্দ করেন না। কেন করেন না কে জানে?জিয়ানাও সেই বুড়িকে দেখতে পারে না। বয়স্ক মানুষ হবে ধার্মিক। আল্লাহ খোদার নাম জপতে থাকবে। তানা খালি কূটনামি করে এই বুড়ি। মামিদের বদনাম তার ঠোঁটের আগায় বেজে থাকে। দাদাবাড়ী বলতে নেই কিছুই। এক চাচা ছিলো উনিও নিরুদ্দেশ। দাদা দাদি কবেই মারা গেছেন। থাক সেসব ,তার চমৎকার একটা পরিবার আছে না। সাইড ফ্যামিলি ডাজন্ট ম্যাটার। ব্যাগটা বিছানায় ঢিল দিয়ে রেখে ফটাফট টাওয়াল নিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে গেল।
নাক টানার শব্দে বিরক্ত হয়ে নিবিড় কড়া একটা ধমক দিয়ে উঠলো “নাটক করার জন্য যদি ফোন দিয়ে থাকেন তাহলে নাটকের স্কিন টাইম আপ। ”
রাখছি বলে ফোন নামাবে তখন শুনতে পেলো “আব্বু একবার আই। কতদিন দেখি না তোকে। আসবি? আম্মু তোর জন্য রেজালা করেছি সাথে মিক্সড চাটনি। ”
“ওইসব ঢং আপনি আপনার রক্ষক আর তার ছেলের জন্য করবেন ,কাজে দিবে। আমাকে বিরক্ত করতে আসবেন না।” বলে লাইন কেটে ফোনটা দেয়ালে জোরে একটা ঢিল দিলো। ভাঙ্গার শব্দে মক্কু দৌঁড়ে রুমে ঢুকে। তাকিয়ে দেখলো ফোন গুড়াগুড়া। খাটের নিচ থেকে একটা শপিংব্যাগ বের করে ভাঙা ফোন থেকে সিমটা বের করে বাকিটুকু রেখে দিয়ে বলল”বিশ নম্বার ফোনের ভবলীলা সাঙ্গ হলো।”
ঘুরে চলে আসবে তখন নিবিড় জিজ্ঞেস করলো “এতক্ষন কোথায় ছিলি?”
“ভাই জিয়ানার সাথে সাইকেল কিনতে গিয়ে দেরি হয়ছে। পথে আবার মকবুইল্লার এক চ্যালারে ছিনতাই করার সময় হাতেনাতে ধরছি। হেইডারে ডলা দিতে গিয়ে আরও দেরি হয়ছে। ”
তখন প্রবেশ করলো বদি হাতে ফোনে কিছু একটা চলছে। নিবিড়ের দিকে ফোন বাড়িয়ে দিয়ে বলল”ভাই ভার্সিটির টেলেন্ড হান্ট গ্রুপ থেকে শেয়ার দিছে। ”
নিবিড় ফোন হাতে নিয়ে থমকালো। কালো কুর্তি আর ঢিলা পায়জামা পড়া মাথায় টাওয়াল প্যাঁচানো একটা মেয়ে পটপট করে কথা বলছে।
“হাই গাইস আমি জিয়ানা হক। এইটা আমার লাইফের ফাষ্ট এন্ড লাষ্ট ফেসবুক লাইভ। এন্ড অলসো লাইফের ফাষ্ট রান্নাঘরে এন্ট্রি। তাই সেটাকে স্মরণীয় করে রাখতে আজ এই লাইভ ,লাইভ ,লাইভ ইকো ইকো ইকো……”
“আরেহ বাব্বা এত লাইক কেমতে আইলো আমি তো চ্যাংস্কৃতিজীবি কেউ না। ওকে ফাইন লাইফ এখন ভাইরালের। আমি যেহেতু আজই ফাষ্ট এবং ফ্যামিলির জন্য ডিনারের চিন্তা করেছি তাই সহজ কোন আইডিয়া দাও সবাই। দেখিতো কিতা কিতা আছে ঘরে। ” ফোন একটা ওয়ালে ঠেস দিয়ে রেখে ঘুরেফিরে দেখছে কী কী আছে। আর গাইছে
“আগে যদি জানতাম রে বন্ধু
তুমি হইবা পর
অনেক আগেই কইতাম তোমায়
তারাতাড়ি মর ”
নিবিড় অট্টহাসি দিয়ে ফোন বিছানায় রেখে শুয়ে পড়লো। হেসেই যাচ্ছে সে। বদি আর মক্কুও এতক্ষণ হাসছিল কিন্তু নিবিড়ের এমন প্রাণখোলা হাসি দেখে তারা থমকালো , চমকালো সাথে অভিভূত হলো।নিবিড় মুচকি হাসি ,বাকা হাসি আর শয়তাইন্না হাসি দেয় অহরহ কিন্তু এইবার নিয়ে দ্বিতীয়বার জিয়ানার কর্মকান্ডে তাদের ভাই এমন প্রাণখোলা হাসি দিলো। দুইজনই চোখ চাওয়া চাওয়ি করে আবার নিবিড়ের দিকে তাকায়।
জিয়ানার কথায় আবার ফোন হাতে তুলে নিলো নিবিড়।
“ডাল আর ডিম ভাজি। ওকে রেসিপি দাও।সহজ হলেও আমি কখনো একটা ডিম অমলেটও করিনি। ওয়েট স্টোভ কীভাবে চালায় সেটাও তো জানি না। ” বলে চুলায় অহেতুক মুচড়া মুচড়ি করলো। জ্বলছে না দেখে গাইলো
“জ্বলে উঠো বাংলার চুলা
গর্জে উঠো “বলার সাথে সাথে ফট করে জ্বলে উঠায়। চমকে পিছিয়ে গেল। জিয়ানার সাথে নিবিড়ও চমকে “সাবধানে “বলে উঠলো।
এদিকে বদি আর মক্কুর চোয়াল হা হয়ে ঝুলে গেছে তাদের ভাইয়ের এত মনোযোগ দিয়ে লাইভ দেখার জন্য।
সবার সাহায্য নিয়ে জিয়ানা ডিম আর ডাল বসিয়েছে। তার আনাড়িপনা দেখে নিবিড় হেসে কুটোকুটি হয়েছে। জিয়ানা ফ্রিজ খুলে মসলার বাটি বের করলো। ডালে একচামচ আদা ,পেয়াজ আর রসুন বাটা দিয়ে দিলো। কমেন্টে সবাই হাই হাই শুরু করলো। আরেহ মসুরের ডালে বাটা মসলা দেয় না। সে কারো কথা পাত্তায় দিলো না। এমনকি ডিমের সাথে বাটা মসলা দিয়ে বলল”তোমরা ডিমে মসলা দাও না দেখেই ডিমের গন্ধ যায় না। আজ আমার কাছে শিখো। অনেক কাজে আসবে। বড় পেয়াজকে চারটুকরা করে ডালে দিয়েছে। রসুন কাটতে গেলে সেটা ভারি জটিল মনে হওয়াই বাদ দিলো। রসুন বাটাই দেয়া হয়েছে। গোটা দেয়ার কি দরকার?ডগমগ করে রান্না সে ত্রিশমিনিটে শেষ করলো। ডালের কালার অতি পানসে হওয়াই রান্না করার পর এক চামচ হলুদ দিলো। সবাই এখন উল্টাপাল্টা মজার কমেন্ট করছে। জিয়ানা সবারটা ফলো করতে গিয়ে এই গোলমাল করে ফেলছে।
“নিবিড় বদির আইডি দিয়ে কমেন্টস করলো একচামচ খেয়ে জানাও কেমন হয়েছে খেতে।”
জিয়ানা এই কমেন্টস পড়ে একচামচ মুখে দিয়ে ব্ল্যা করে ফোলে ফেলে দিয়ে বলল” ভন্ডুরা আমার এখন বিয়ার গেইলসের মতো বলতে ইচ্ছা হচ্ছে অতি জঘন্য খেতে।এই খাবার খেয়ে বেঁচে থাকলেও দেখা হবে না ,মরে গেলেও তো নাইই। আল্লাহ হাফেজ ” বলে কেটে দিলো। নিবিড়ের হাসি হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে গেল। সে কী এতক্ষন এই দুইজনের সামনে দাঁত কেলিয়েছে। ঘুরে বদি আর মক্কুর দিকে তাকালো তারা দুইজন নিবিড়ের দিকে থেকে ফট করে নিজেরদের দিকে তাকিয়ে একে অন্যের পিঠ চুলকানো শুরু করলো। মক্কু বলল”ডাইনে ডাইনে আর একটু উপরে। হ হ ওইখানেই দে। আহ আরাম। ”
আলহাজ্ব মামুন ইসলাম দেখা করতে এসেছেন স্থানীয় সংসাদের হুইপের সাথে। কিন্তু উনি ভেতর বাড়ি ব্যাস্ত। ঘন্টা দেড়েক থেকে অপেক্ষায় বসা উনি সহ আরো কয়েকজন ইউপির চেয়ারম্যান আছেন। উনার সেক্রেটারি আশরাফ এসে কানে কানে জানালেন রাফিন স্যারকে ক্যাম্পাসের বাহিরের একটা রেস্টুরেন্টে ছেলেরুপী একজন মেয়ের সাথে দেখা গেছে। উনি ইশারা করলেন নজর রাখতে। তখনই ভেতর থেকে বের হয়ে আসলো একজন জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা। আলহাজ্ব মামুন ইসলাম বাঁকা হাসলেন। তারপর আসরাফকে বললেন “একদম কষা কষা করে রান্না চাই আশরাফ। অনেকদিন পর সুযোগ হলো।”
“হয়ে যাবে স্যার। ”
মাননীয় সাংসদের সাথে বড্ড নমনীয় এবং অত্যান্ত বিনয়ী হয়ে যখন প্রতিটা ইউপি চেয়ারম্যান নিজেদের ঘাটতি তুলে ধরছিলো তখনই হন্তদন্ত হয়ে প্রবেশ করলো উনার সেক্রেটারি। আর কানে কানে কিছু বলার সাথে সাথে উন চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে পড়লেন। মাঘের শেষের দিক হওয়ার পরেও কুলকুল করে ঘাম শুরু হয়। মিটিংরুমের সবাই মুখ চাওয়াচাওয়ি করছে। সেক্রেটারি এখানেই মিটিং শেষ করতে বলে উনাকে ধরে ভেতরে চলে গেলেন।
মামুন ইসলাম বাহিরে বের হয়ে আশরাফকে বললেন “আমার আসনে অন্যকেউ অনেক দিন অযাচিত হয়ে বসে ছিলো। এইবার আসল উত্তরাধিকার বসবে। কি বলেন আশরাফ সাহেব?”
আশরাফ নত মস্তিষ্কে উচ্চারণ করলো “বিলকুল। ”
সারা শহরে তুলকালাম পড়ে গেছে। “মাননীয় সংসদ সদস্য রেজাউল সরকার আর চিত্র নায়িকা রুমঝুমের গোপন ভিডিও ফাঁস ” এই এক হেড লাইনের জন্য। হাতে হাতে মোবাইলে সবাই একই জিনিস দেখে চলেছে। উপরমহলে খবর পৌঁছাতে বেশি সময় লাগলো না।
পরেরদিনই তাকে ঢাকা হলো কেন্দ্রীয় পার্টি অফিসে। সেখান থেকে যা ব্যবস্থা সেটা নেয়া হবে। নিবিড়ের কাছে এই খবর পৌঁছালো কিছুটা দেরিতে। খবর শুনেই ছুঁটে চলল। আজ মক্কুও নাগালে পেলো না তাকে। নিবিড়ের সাথে রেজাউল সরকারের সম্পর্ক ভালো। উনি নিজ হাতেই নিবিড়কে তৈরি করেছেন। নিবিড়ের কয়েক সেকেন্ডও লাগেনি বুঝতে এর পেছনে কার হাত। মামুন ইসলামের যে চেয়ারম্যানের চেয়ার আর ভালো লাগছে না সেটা বুঝেছিলো আগেই। জাতীয় নির্বাচনের লোভ উনার বহুদিনের। কিন্তু নিবিড় বেঁচে থাকতে তা হতে দিতে পারে না। রাত যে অনেক গভীর সেদিকে তার খেয়াল নেই। বাজার পাড় হয়ে শুনশান রাস্তায় উঠার পর টনক নড়লো অদূরে অন্য একটা বাইক তাকে ফলো করছে। বাইকের গতি বাড়িয়ে সটানে একবারে গিয়ে থামলো এমপির বাড়ির গেইটের সামনে। দারোয়ান ঘুমে ঝিমাচ্ছিলো। বাইকের শব্দে দফারফা করে উঠে সালাম দিয়ে গেইট খুলে দিলো।
ততক্ষনে পেছনের বাইকও কাছে চলে আসছে। মক্কু আর সমুদ্র। নিবিড় মুচকি হাসলো। ভাগ্য করে কিছু বন্ধু পেয়েছে। মরতে গেলেও সাথে যাবে। নিবিড়কে গিয়ে অপেক্ষা করতে হলো না।ওয়েটিং রুমেই ছিলেন রেজাউল সরকার। নিবিড়কে দেখে এগিয়ে এসে বললেন “তোমার অপেক্ষায় ছিলাম। কী এক মসিবত বল? এই বয়সে এসে এমন এক কেলেঙ্কারির হলো পার্টি অফিসে মুখ দেখাতেও লজ্জা লাগছে। ”
“খুলে বলুন তো কি ঘটেছিলো?” নিবিড় সোফায় বসতে বসতে জিজ্ঞেস করলো।
“কিছুদিন থেকে এই নায়িকা ফোন দিচ্ছে। উনাদের এক এনজিওর জন্য অনুদান লাগবে। আজ ফ্রি ছিলাম তাই আসতে বলেছি। এখন রুমে ঢুকেই সে বলল গরম লাগছে এসি দিতে। শীতের দিন তাই এসির রিমোট কোন চিপায় কে জানে। তবুও আমি ড্রয়ার গুলোতে খোঁজা শুরু করি। না পেয়ে ভাবলাম ফ্যানটাই ছেড়ে দেই। তারপর ফ্যান দেয়ার পর আমি উনার চেয়ার ক্রস করে আসার সময় উনার শাড়ির আচঁল আমার হাতে কেমনে জানি বেজে কাধ থেকে খুলে পড়ে। সেই শাড়ির আচঁল আমার হাতের কাছের ছবি ভাইরাল। আমার মেয়েটার বিয়ে সামনে।এমন এক সময় ষড়যন্ত্রের শিকার হলাম ঘর আর বাহির সব জায়গাতেই ছি ছি ডাক উঠে গেছে। ”
নিবিড় নিরবে সব শুনে জিজ্ঞেস করলো ” সেই নায়িকার স্ট্রেটমেন্ট নিলেই তো সব জল পরিস্কার হয়ে যায়। ”
“সমস্যা তো এখানেই তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। এখন যদি মার্ডার টার্ডার হয় সব দ্বায় পড়বে আমার উপর। ”
“আপনার সিসি ক্যামেরার কি হলো? ”
“কাকতালিয় ভাবে দুইদিন থেকে সেটাও নষ্ট। ”
নিবিড় উঠে দাঁড়ালো। আর বলল”আপনার শত্রু তো আপনার ঘরেই। এসিস্ট্যান্টকে ডাকুন। সে ছাড়া তো আপনার অনুপস্থতিতে এই রুমে কেউ আসে না। এখনই সিসি ক্যামেরা নষ্ট হওয়া কোন কাকতালীয় ঘটনা না। ”
“না না ওও তো ছিলোই না দুইদিন। ছুটিতে ছিলো। আজই এসেছে। ”
“নাও আ’ম শিউর হি ইজ আ ট্রেইটর। ডাকুন একটু বাজিয়ে দেখি।”
এমপি হাক ছাড়লে এসে উপস্থিত হয় সেক্রেটারি আজমল আহমেদ।
নিবিড় ডানে বামে গেলো না সরাসরি জিজ্ঞেস করলো “চেয়ারম্যানের সাথে সেদিনের ডিনারে আপনাকে কি উপহার দিয়েছে মিষ্টার আজমল আহমেদ?”
ডিনারের ব্যাপারটা তো কারো জানার কথা না তবুও বলল”হঠাৎ রাস্তায় দেখা হলো উনি ছাড়লেন না তাই ডিনার করতে হলো। আপনার পিতা খুবই ভালো মানুষ। ”
পিতা কথাটা শুনে হাত মুঠো করে ফেললো নিবিড়। অপরদিকে এমপির চেহারা শক্ত হয়ে উঠলো।
নিবিড় বলে উঠলো”যেই এমন অঘটন ঘটাক,এমনটা না করলেও পারতো।এমপি সাহেবের এইবার নির্বাচনের ইচ্ছে ছিলো না ,যোগ্য কাউকে উনিই পার্টির কাছে রিপ্রেজেন্ট করতেন। সেই হিসেবে আমাদের ইউপি সবার প্রথম কাতারে ছিলো। ”
এমপি এইবার ঘুরে বসলো নিবিড়ের দিকে। সে কখন এমন সিদ্ধান্ত নিলো? কিছু বলবে তার আগেই আজমল বলে উঠলো “এটাই ভালো সিদ্ধান্ত। নির্বাচনের বেশি সময় তো নেই। মামুন স্যারের জনপ্রিয়তাও তুঙ্গে। উনি নির্দ্বিধায় পাশ করে যাবেন। ”
রেজাউল সরকার উঠে ঠাটিয়ে একটা চড় দিলেন। পাশের রুম থেকে উনার পার্সোনাল গার্ডদের ডাক দিলেন আদরখানায় নিয়ে যাওয়ার জন্য।
নিবিড় বলল”স্যার আমি কাল আপনার সাথে দেখা করতাম কিন্তু সময় পাচ্ছিলাম না। এখন মনে হচ্ছে আগে দেখা করে এই কথাটা জানানো দরকার ছিলো সবার আগে। আজমলের স্বীকারোক্তি আপনার ফেঁসে যাওয়া থেকে বাঁচাবে আশা করি। ”
“তোমাদের বাপ ছেলের ক্ল্যাশটা কি নিয়ে সেটাই বুঝি না আমি নিবিড় ?”
“সে আমার বাবা না। আর রাজনীতিতে বাপ বেটা বলে কিছু নেই। এখানে পুরোটাই নীতিহীন রাজ” বলে উঠে গেলো নিবিড়।
জিয়াউল আর আঞ্জুমান ফিরলেন রাত দশটা নাগাদ। বাহির থেকে খাবার এনেছে জিয়ানার জন্য। আঞ্জুমান ফ্রেশ হয়ে এসে জিয়ানাকে ডেকে রান্নাঘরে ঢুকলো। পরক্ষনে মৃদু এক চিৎকার দিলো। ডাকে সাড়া না দিলেও চিৎকারে জিয়ানা বই রেখে সটান হয়ে দাঁড়িয়ে যায়। জিয়াউল আর জিয়ানা এসে দেখে আঞ্জুমান রেগে লাল হয়ে আছে। আর রান্নাঘরে সিডর ,আইলা ,নারগিস সব ঘূর্ণিঝড় বয়ে গেছে। জিয়ানা দরজার পাশ থেকে হুশ হুশ করে বিড়ালটাকে তাড়িয়ে বলল “আম্মু পাশের বাসার বিড়ালটা চরম বেয়াদব আর চোট্টামিতে এক্সপার্ট। কোন দিক দিয়ে ঢুকে তোমার রান্নাঘর লণ্ডভণ্ড করে ফেলছে আল্লাহ জানেন? ”
তখন রান্না শেষে যখন দেখে রান্নাঘরের ধ্বংঘর্ষ অবস্থা। জিয়ানার মাথা চক্কর দিয়ে উঠে। সে এটাকে ঠিক করতে গেলে আরও খারাপ করে ফেলবে। কী করবে উপায় না পেয়ে জানালা খুলে দেয়। আর ডিম ভাজা সেখানে রেখে আই আই বলে বিড়ালটাকে ট্যাপে ফেলে। এখন এটার উপর সব দ্বায় দিয়ে সে কেটে পড়বে।
আঞ্জুমান একটা খুন্তি হাতে নিয়ে বলল”বিড়াল কী ডাল রান্না করতে পারে?”
“পারে না?” উল্টা জিয়ানা চেহারা অসহায় করে প্রশ্ন করলো।
ব্যস, চোর ধরা। আঞ্জুমান তেড়ে এলে আর জিয়ানা এক ছুটে জিয়াউলের পেছনে।
“অসভ্য মেয়ে।তোকে আমার রান্নাঘরে ঢুকতে কে বলেছে? বাপ বেটিয়ে মিলে আমার রান্নাঘর যেমন ছিলো তেমন করে দিবি। নাহলে আজ তোদের ঘরে জায়গা নেই।”
“কি আশ্চর্য এখানে আমি কোত্থেকে এলাম?” জিয়াউল বলে সরে যেতে নিলে ,জিয়ানা কাধ ধরে আটকিয়ে দিয়ে বলল “আব্বু গো যেয়ো না। এই খুন্তির মাইর তো খাও নাই। আমাকে বাঁচাও। ”
“সব দোষ তোমার জিয়া। জেনিকে কিন্তু আমি সব মোটামুটি শিখেছি কিন্তু তোমার এই কন্যাকে তুমি গড়েছো। আর আজ এই হাল। একটা ডিম ভাজতে পারে না। মেয়েরা জজ ব্যারিস্টার হলেও চুলা গুতোতেই হয়। “বলে ধপধপ পায়ে নিজকক্ষে ফিরে গেলেন আঞ্জুমান।
জিয়াউল অসহায় দৃষ্টিতে মেয়ের দিকে তাকালেন। জিয়ানা চোখ পিটপিট করে বলল”ক্যাপ, ইউ আর দ্যা মেইন কালপ্রিট।রান্নাবান্নাও ট্রেইনিং এর পার্ট। ইউ লেফট দ্যাট ওয়ান।”
হনহন করে রান্নাঘরে ঢুকে গেলেন জিয়াউল। বিড়ালের মত পা ফেলে জিয়ানাও পেছন পেছন গেলো।
“তুমি নাকি কিছু টোকাইদের সাথে মিশছো আজ কাল?ওদের সঙ্গ ছাড়তে হবে।”
“কেনো?”
“আবার প্রশ্ন করছো কেনো? ওদের কোনকিছুই ঠিক নেই। পুচকে পুচকে বাচ্চা সব নেশা করে। গালাগালিতে পিএসডি। “জিয়াউল প্লেট বাটি সিঙ্গে নিতে নিতে বলল।
“এটার দ্বায় তো ওদের না আব্বু।”
“তো কাদের?”
“ওরা জন্মগত এমন না। পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে এমন।” ময়লা বিনের ফেলে বলল জিয়ানা।
“কতদিন থেকে চিনো এদের?এদেরকে এক শ্রেনীর লোক এই অবস্থা থেকে উপরে উঠতে দিবে না আবার নিচেও নামাবে না। শহরের গুরুত্বপূর্ণ ইনফরমেশন প্রাচার হয় এদের মাধ্যমে। বাহিরের কেউ এদের সাথে মিশলে সহজেই কালার হয়। আমি এই মূহুর্তে চাচ্ছি না তুমি লোক সম্মুখে আসো। আরও কিছুদিন সময় লাগবে তোমার রেডি হতে। ”
“আব্বু তুমি কী আমাকে স্মাগলার বানাতে চাও?কিংবা সিরিয়াল কিলার? নাকি কঠিন প্রতিশোধ নিতে তোমার শত্রুর ঘরে বউ করে পাঠাবে। তারপর নির্দেশ দিবে ‘যা জিয়ানা যাহ।এরাই তোর শত্রু এদেরকে জ্বলাইয়ে পুড়িয়ে খাক করে দে।’ এই টাইপ কিছু?” কোমরে হাত দিয়ে প্রশ্ন করলো জিয়ানা।
ফিক করে হেসে দিলেন জিয়াউল হক। তারপর বললেন”জীবন নাটকের চেয়েও নাটকীয়। আমরা আমাদের সামনের কিছুই দেখতে পারি না। আবার পেছনের অনেক কিছু সম্পর্কে জানি না।অতীত আর ভবিষ্যৎ যখন সামনে এসে দাঁড়াবে আমরা সাধারণ মানুষ প্যানিক হয়ে যাই। কিন্তু যারা কুল হেডেড ,অনেক অবজারভেন্ট তাদের কিন্তু ভেতরের ঘাবড়ানো প্রকাশ পায় না। আর শত্রুরা ঠিক এইখানে গিয়েই এলোমেলো হয়ে যায়। কারণ যাকে আঘাত করার জন্য এত আয়োজন সে যদি থাকে নিস্পৃহ ,তাহলে শত্রুর উদ্দেশ্য ফিফটি পার্সেন্ট সেখানেই শেষ হয়ে যায়। ”
“আব্বু আমার চমৎকার এই লাইফে কার নজর লাগবে বলো? আমার জীবনে কোন নাটক সিনেমার জায়গা নেই। তবে একটা সিন অলরেডি হয়ে গেছে। তুমি বলেছো কাউকেই ফিফটি পার্সেন্টের উপর বিশ্বাস না করতে।কিন্তু রাফিন স্যারকে আবার বিশ্বাস করতে ইচ্ছা হয়। রাফিন স্যারকে তোমার মনে আছে?”
জিয়াউল তড়াক করে ঘুরে গেলেন জিয়ানার দিকে “রাফিন ইসলাম?”
জিয়ানা মাথা উপর নিচ করলো।
“রাফিনের পরিচয় জানিস?সে কিন্তু চেয়ারম্যানের পালিত পুত্র।”
“পালিত? তবে তো ভালোই হলো। ”
“আপাতত দূরে থাক এসব থেকে। রাফিনের যে আসল বাবা রুপক মণ্ডল ,যার কথা নীলুফা বলেছিলো। তার ছেলে। পুলিশের মতে সেদিনের হত্যাকাণ্ডে রুপকের লাশও ছিলো। কিন্তু পত্রিকায় লাশের ছবি দেখে কোথাও রুপকের মতো বডি নীলু খোজে পায়নি।চেয়ারম্যান হচ্ছে তোর নীলুফা চাচির ভাই। আমার এই এলাকায় আসার একমাত্র উদ্দেশ্য কিন্তু ওই পরিবার। আমার ভাই আর নীলুর খোঁজ নেয়ার একমাত্র মাধ্যম চেয়ারম্যান নিজে।জিয়ু তোকে আগেই বলেছিলাম না? কিন্তু উনি এই ব্যাপারে কারো সাথেই কোন প্রকার কথা বলেন না। উনার নাকি প্যানিক এট্রাক হয়। ”
“চাচি নিখোঁজ এটা শুনেও উনার ভাই নিশ্চয়ই চুপচাপ বসে ছিলেন না? কারণ পরিবারের সাবাইকে হারিয়ে একমাত্র বোনকে পাওয়ার জন্য উনার তো অনেক দূর যাওয়ার কথা। ”
“হুম আচ্ছা তুই যদি এখন নিজেকে রেডি মনে করিস তাহলে জিয়ু একটা কাজ দিবো তোকে এই প্রথম। তার পার্টির ছেলেপেলেদের ডিটেইলস বের করে দিতে পারবি?”
“হ্যাঁ পারবো ওদের সাথে আমার পরিচয় হয়েছে। সব নরমাল তবে ওদের যে মাথা সুখনীল নিবিড় সে খুব চালু চিজ। চোখমুখ শার্প আর স্থির থাকে অলওয়েজ। আর অবশ্যই ওভার থিংকার।”
“কি নাম বললি?সুখ? তোদের ক্যাম্পাসেই পড়ে?”
“পড়ে কী আদু ভাই। বয়স তো কমপক্ষে সাতাশ আটাশ হবে। এখনো ঝুলে আছে। ”
“আচ্ছা পার্সোনালি আমি সুখের সাথে কথা বলবো।কারণ নীলুফা বারবার বলতো তার একমাত্র ভাতিজা সুখ বেঁচে আছে। আর একটা এলার্ম হচ্ছে ,ওবারথিংকার যারা তারা কিন্তু প্রচন্ড অবজারভেন্ট হয়। চট করে তাদের সামনে কেউ মিথ্যা বলতে পারে না। সত্য মিথ্যা তারা সহজেই ধরে ফেলে। ”
সাভার থানার কিছু কিছু ইউনিয়ন এখনো একেবারে গ্রাম। জিয়ানা প্রথমে এসে বেশ অবাকই হয়েছে। ঢাকার নিকটে একটা থানায় এখনো এত চমৎকার পল্লী রুপটা আছে সত্যি অবিশ্বাস্য। ধামরাই এই এলাকায় সকাল সকাল সাইকেল নিয়ে হাজির। জেনি সেই সকাল থেকে টানা ফোন দিয়ে তার মাথা আউলা ঝাওলা করে দিয়েছে। ভোরে খেজুরের রস পাড়া হয় এখানে সেটা খাওয়াবে। সাইকেল নিয়ে কিছুটা দূরে থামলো। অদূরে একটা গাছের আড়ালে জেনি আর সজীবকে দেখা যাচ্ছে। এতক্ষণে পরিস্কার হলো ব্যাপারটা। নিজের সেইফটির জন্য এত তলব।
“তিন শাওনে পান
এক আষাঢে ধান”
জিয়ানাকে ব্যবহার করা দাঁড়াও বের করছি। ” বলে নিজের ফোন বের করে চিপায় তাদের কার্যকলাপ ভিডিও করলো।
“আচ্ছা জেনি আমার বয়সের দিকে তোমার মায়া হয় না?” দুঃখী দুঃখী মুখ করে বলল সজীব।
“কী মায়া হবে? বয়সের সাথে মায়ার কি সম্পর্ক? ”
“আমার বন্ধুবান্ধব সব বিয়ে করে হানিমুন করা শেষ। এখন শুধু আউট কাম আসা বাকি। আর তুমি আমাকে ঘুরাচ্ছো শুধু? ”
“মায়ের হোটেলে খেয়ে বন্ধুর হোটেলে কামলা খাটলে কে তোমাকে বিয়ে করবে সজীব?”
“চাকরির চেষ্টা করছিই তো জেনি। নাহলে কি করবো?”
“সারাদিন ক্লাবে আড্ডা দেয়া এই তোমার চেষ্টা? আজকাল নাকি ড্রিংক্সও করছো?কবে না জানি বন্ধুর মতো মেয়ে নিয়ে রুমে ঢুকে যাবা। ”
“লা হাওলা ওয়ালা কুয়াতা ইল্লাবিল্লা। এত অবিশ্বাস? এটা সত্যি বন্ধুদের আড্ডায় জোরাজোরিতে দুইবার খেয়েছি। কিন্তু খেয়ে প্রচন্ড অসুস্থ বোধ করি। তাই নিবিড় বলেছে আমাকে আর এসব আড্ডায় রাখবে না। আর আমার বন্ধুকে নিয়ে কথা হবে না। সে ভার্জিন একটা পোলা। নারীদের এযাবৎ কখনো ছুঁয়েও দেখেনি।”
“তোমার বন্ধু যদি ভার্জিন হয় তাহলে জনি সিন্সও পূতপবিত্র পুরুষ। ”
সজীব জেনির মুখের দিকে ঝুঁকে অতি আশ্চর্য হয়ে প্রশ্ন করলো “জেনি তুমি জনি চান্দুকে কিভাবে চিনলা? ও মাই গড তুমি কি ওইসব দেখো? এই এই চলো চলো আজই বিয়ে করবো। ”
“কি আশ্চর্য জনিকে কে না চেনে সোসাল সাইটে অসংখ্য মেমে তাকে নিয়ে হয়। সে একজন নীল জগতের মানুষ এটা এডাল্ট কাউকে বুঝানোর জন্য কিছু দেখা লাগবে কেন?”
সজীব জেনির হাত ধরে বলল”না না না আমার বউ অন্য বেটাকে দেখবে কেনো স্বয়ং আমি থাকতে। চাকরি বাকরির গুল্লি মারি আজই বিয়ে। ”
তখনই জিয়ানা সাইকেল দিয়ে তাদের রাস্তা আটকে দাঁড়িয়ে বলল” কী ব্রো চিপাই চাপাই রোমান্স করে হয়নি? এখন টানাটানি শুরু করেছেন?”
জেনি চোখ রাঙিয়ে শাসানোর চেষ্টা করলো জিয়ানা ওইসবের পাত্তা না দিয়ে জিজ্ঞেস করলো “খেজুরের রস নাকি প্রেমিকা কোন উদ্দেশ্যে এই সক্কাল সক্কাল আমার সাধের ঘুম ভাঙানো হলো মশাই? তারপর হাতের ফোন বের করে সামনে দেখিয়ে বলল”আপি তোমাদের গোপন ভিডিও। ”
ভ্রু নাঁচিয়ে শয়তানি একটা হাসি দিলো।
সজীব এগিয়ে এসে ফোনটা নিতে চাইলে জিয়ানা সেটা সরিয়ে ফেললো। “বইন রে তোমার বোনের হাত ধরা ছাড়া এই চারবছরে একটা উড়ন্ত চুমুও খাইনি কসম। এমন ভিডিও কেউ দেখলে ভাববে বাচ্চাকাচ্চার প্ল্যান করে ফেলছি আমরা। লক্ষ্মী আপু ডিলিট করো তাড়াতাড়ি। ”
“এই তোমরা এইসব ঢংভং সাইডে রাখো চলো খেজুরের টাটকা রস খাবো। “বলে জেনি আগে আগে হাটা শুরু করলো।
“আমি খাবো না আপি। খেজুরের রসে নিপা ভাইরাস আছে। বাদুরের মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়ায়।তোমরা লাইলি মজনু খেয়ে মরো। আমার এখনো একটা ঠিকঠাক প্রেমই হলো না। হোয়ার ইজ মাই মজনু?”
জেনি আবার পিছিয়ে এসে ধুম করে একটা কিল বসিয়ে বলল”কাল না বললি স্যার তোকে ইনডিরেকলি প্রপোজ করেছে? এখন আবার মজনু খুজছিস কেন?”
“সেকেন্ড হ্যান্ড জিনিস আমার পছন্দ না আপি।বেটা প্রেমটেম করে বয়স্ক হয়ে গেছে। আর কোন গতি নাই তাই আমার কাছে এসেছে। ” বলে ফিক করে হেসে দিলো।
“অদ্ভুত আঁধারে এক এসেছে এ-পৃথিবীতে
যারা অন্ধ সবচেয়ে বেশি আজ চোখে দেখে তারা’
যাদের হৃদয়ে কোন প্রেম নেই ,প্রীতি নেই ,করুণার
আলোড়ন নেই
পৃথিবী অচল আজ তাদের সুপরামর্শ ছাড়া।
যাদের গভীর আস্থা আছে আজো মানুষের প্রতি
এখনো যাদের কাছে স্বাভাবিক বলে মনে হয়
মহৎ সত্য বা রীতি,কিংবা শিল্প অথবা সাধনা
শকুন ও শেয়ালে খাদ্য আজ তাদের হৃদয়। ”
(জীবনানন্দ দাশ)
নিবিড়ের একমাত্র টান আসে কবিতায়। কবিতাকে সে নিজ প্রেমিকার চোখে দেখে। জীবনানন্দ দাশ তার প্রিয় কবি। নিবিড়ের মনে হয় এই ভদ্রলোক তার জন্যই কবিতা গুলো লিখে গেছেন।
বদী এসে কিছু বলায় ,কান থেকে ইয়ার পট খুলে তার দিকে তাকালো।
“ভাই আজব এই মাইয়ার পাল্লায় পড়ছি। সে এখন আমার আর মক্কুর নাম নিয়ে পড়ছে। কেন বে তুই মাইয়া,মাইয়ার মতো থাক। না হয় নিজ রাস্তায় চল। আমাদের মান সম্মান নিয়ে তোর এত নাড়াচাড়া করা লাগবে কেন?”
“মান সম্মান পড়ে। আমার সামনে অহেতুক কথা বললে তোর কল্লাটা নিয়ে আমি ফুটবল খেলবো।গো টু দ্যা পয়েন্ট। ”
“আমাদের নামের ঠিক নাই।তাই সে একটা ছাগল নিয়ে আসছে। আজ আমার আর মক্কুর আকিকা করবে। ”
নিরব দাঁড়িয়ে পড়লো। এ জীবনে কত উদ্ভট মানুষকে দেখেছে কিন্তু এমন হাফ মেন্টাল মেয়ে এই প্রথম। আজ তেড়িবেড়ি করলে কানের নিচে বাজাবে। মেয়ে বলে কোন ছাড় দিবে না।
কানের নিচে দিতে গিয়ে নিজেই থমকে গেলো নিবিড়। একটা রোগা ছাগলকে কাঠালের পাতা খাওয়াচ্ছে ফর্সা ,গোলগাল মুখের চাপা নাকের একটা মেয়ে। মুক্তার মতো ঝকঝকে দাঁত বের করে হেসে উঠছে যখন ছাগলটা পাতা নেয়ার জন্য হাত চেটে দিচ্ছে। কে এই মেয়ে এত পরিচিত কেনো তার চেহারা।এত মায়াই বা কেনো এই চোখে? রিমোট কন্ট্রোল রোবটের মত নিবিড় গিয়ে জিয়ানার সামনে ঘাসে হাটু মুড়িয়ে বসলো। জিয়ানা একবার চোখ তুলে দেখে আবার ছাগলের দিকে মনোযোগ দিলো। ব্যস, নিবিড়ের মনে পড়ে গেছে কার চোখ এটা।
“নীলুফা ইয়াসমিন তোমার কি হয়?”
হঠাৎ প্রশ্নে জিয়ানা কিছুক্ষন ভ্রু ভাজ করে থেকে উত্তর দিলো “চাচি। কেনো?উনাকে কিভাবে চিনেন?”
“উনি আমার ফুপ্পী। ”
“ওও উনি তো নিখোঁজ। বহুবছর থেকে।আরেহ বাহ। আমরা তো আত্মীয় হই। ” বলে জিয়ানা চমৎকার একটা হাসি দেয়।
নিবিড়ের মনে হলো কড়া মাদকতায় ঘিরে ধরলো তার চারপাশ। ঘোর কাটলো জিয়ানার ফোন কলে। জিয়ানা ফোন ধরে শুধু হো আর হা করলো। তারপর উঠে ছাগলের দড়িটা নিবিড়ের হাতে দিয়ে বলল”আপনার চ্যালা দুইটা আমার উপকার করেছে। তাই আমিও তাদের উপকার করে শোধবোধ করে দিলাম। এই একটা ছাগল কেনার সামর্থ্য আছে তাই একটাই কিনেছি। আপনার দুই ছাগলের জন্য দুইটা দরকার। নাহলে আকিকা হবে না। আপাতত বদির নামটা বদনান।কারণ ইতিহাসে বাকের ভাই ডুবেছিলো উনারই বিশ্বস্ত ডানহাত বদির জন্য। সত্যি বলতে হুমায়ুন স্যার সত্যি বলেছেন ‘কোথাও কেউ নেই মিষ্টার সুখনীল নিবিড়’।”
“আজ মাস্ক আর চশমা নেই কেন?”
“কেউ একজন বলেছে আমি মাস্ক ছাড়া আসলে নাকি সাংঘাতিক ঘটনা ঘটে যাবে। আমার আবার সাংঘাতিক জিনিস পছন্দ।তাই কি ঘটে সেটা দেখতেই রোল রেগুলেশনকে গুল্লি মেরেছি।”
“আয়নার সামনে দাঁড়ালেই তো সাংঘাতিক জিনিস দেখতে পারবে।”
“আমাকে সাংঘাতিক বলছেন? আমি সাংঘাতিক? ”
“তা নইতো কি? আমার আশেপাশে কোন মেয়ে আসে না ,তাকাই না পর্যন্ত। অথচ তোমাকে দেখে মনে হয় ওরা ওভার রিয়েক্ট করেছে এতকাল।”
“যেসকল পুরুষের চোখ গলার চার আঙুল নিচে কখনোই নামে না।তাদের সাথে আনইজির কি আছে?হাটতে হাটতে বলল জিয়ানা।
কিছুক্ষন থমকে থাকলো নিবিড়।মেয়েটা কি চোখের ভাষা পড়তে পারে নাকি। নিজের ভাবনাকে সাইডে রেখে প্রশ্ন করলো
নীতিহীন রাজ পর্ব ৫
“কোথায় যাও?
“সুন্দরবন”
“সাইকেলে?”
“হুম”
“আরও গেছো আগে?”
“প্রায়ই তো যাই। ”
ভ্রু কুচকে ফেললো নিবিড়।
“ভাইয়া প্রায় পার্সেল পাঠায় আমি গিয়ে নিয়ে আসি। “বলে সাইকেলের কাছে গিয়ে তাতে উঠে চলে গেলো।
কুচকানো ভ্রু সোজা হলো নিবিড়ের। কী অদ্ভুত এই মেয়ে সুন্দরবন কুরিয়ারের কথা এমন ভাবে বলল মনে হয় সুন্দরবনে ট্যুরে যাচ্ছে।
