Home নীরব উন্মাদনা দ্বিতীয় খন্ড নীরব উন্মাদনা দ্বিতীয় খন্ড পর্ব ৬

নীরব উন্মাদনা দ্বিতীয় খন্ড পর্ব ৬

নীরব উন্মাদনা দ্বিতীয় খন্ড পর্ব ৬
সুরাইয়া জিয়াসমিন

নুবা ভুরু কুঁচকে শান্ত হয়ে গেলো,যদি সত্যিই ফেলে দেয়। এদিকে আয়রা যেনো মজা পাচ্ছে।সে মুখ দিয়ে আ উ শব্দ করে হাসতে লাগলো।যা শুনে মনে মনে নুবাও খিলখিল করে হেসে উঠলো তবে প্রকাশ করলো না।
আয়রা বিছানার উপর বসে ড্যাবড্যাব করে নুবা আর আরহামের দিকে তাকিয়ে আছে ‌।নুবা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুলে তেল দিয়ে বেনি করছে আর আরহাম বারবার নুবাকে পিছন থেকে জরিয়ে ধরে তার কুনুইয়ের গুঁতা খাচ্ছে।
নুবা চুলের বেনি শেষ হওয়ার আগেই বললো
_”দেও,আমি করে দি।”
নুবা মুখ বাঁকিয়ে বললো
_”না দরকার নেই।”
_”আরে দেও না।”
_”না।”
আরহামের মুখ কালো হয়ে গেলো।আবারো নুবার পিছন থেকে জরিয়ে ধরতে চাইলো।নুবা ডান হাতের কুনুই দিয়ে ধাক্কা মেরে সুধালো

_”ছুঁবেন না।”
আরহাম কি কথা শুনার মানুষ,সে তেড়ে এসে আরো চেপে ধরলো।নুবা আবারো ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিতে চাইলো।রাগি কন্ঠে বললো
_”বল্লাম না ছুঁবেন না।”
_”আরে তুমি তো ছুঁতে না করছো।আমি তো জরিয়ে ধরেছি।”
নুবা ঝাড়া মেরে আরহামকে সরিয়ে দিয়ে বললো
_”আপনি,,আপনি আমার ধারের কাছে আসবেন না।সরুন তো।”
আরহাম এক প্রকার জোর করেই নুবাকে জরিয়ে ধরলো।নুবা আঁকা বাঁকা হয়ে নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করলো তবে পারলো না। আরহাম বেশ আদুরে গলায় সুধালো
_” sorry sweet honey,আমি বুঝতে পারানি সামান্য বিষয়ে এভাবে তুমি কষ্ট পাবে।I promise আমি কখনোই তোমার সাথে উঁচু গলায় কথা বলবো না। তোমার মেয়ে, তুমি মারো,শাসন করো তোমার সব।আমি কিচ্ছুটি বলবো না।”
নুবা মাথা ঝুঁকিয়ে বললো

_”না না, ছাড়ুন,আমি আপনার কোনো কথা শুনতে চাইছি না।”
আরহাম কিছু বলতে যাবে তখনি আয়রার হঠাৎ চিৎকারের শব্দ ভেসে আসলো।দুইজনি চম্কে পিছন দিকে তাকালো।দেখা গেলো আয়রা বিছানা থেকে পড়ে গেছে।নুবা আর আরহামের কলিজা ধপ করে উঠলো।আসলে আয়রা বসে বসে তার মা বাবাকে দেখছিলো।আর বারবার নিচে নেমে তাদের কাজে বেঘাত ঘটানোর চেষ্টা চালাচ্ছিলো।তবে বারবার ভয়ে পিছিয়ে যাচ্ছিলো সে।এক পর্যায়ে পাকা বুড়ি খাট থেকে নামার জন্য দুই পা ঝুলিয়ে দেয়,আর তখনি ধপাস করে পড়ে যায়।
আরহাম আর নুবা ছুটে আসলো। আরহাম এসেই কান্নারতো আয়রাকে কোলে তুলে নিলো।পরপর মেয়ের গালে,মুখে মাথায় হাত বুলিয়ে চিন্তিত কন্ঠে বললো
_”বেশি লেগেছে আম্মু।”
আয়রা ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো।আগে থেকে ঝুলে থাকায় ততটা লেখনি তবে ভয়ে কাঁদছে।নুবা মেয়ের পিঠে হাত দিয়ে তার শরিরে চোখ বুলিয়ে নিলো যে ব্যথা পেয়েছে কিনা।
আরহাম মেয়েকে দোল দিলো,আদুরে গলায় তাকে শান্ত করতে লাগলো।নুবা চিন্তিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো, মিনিট খানিক যেতেই,আয়রা আরহামের গলা জরিয়ে ধরে তার কাঁধে মাথা রেখে শান্ত হলো।
আয়রাকে আরহামের কোলে এভাবে শান্ত হতে দেখে নুবার মুখে মিষ্টি হাসি ফুটে উঠলো।যাক বাপ মেয়ের একটু একটু ভাব হয়েছে।

পরি নিজের উঁচু পেটে হাত দিয়ে চুপচাপ বসে আছে।নাবিল ড্রাইভ করছে। পরির ব্যবহারে অতিষ্ঠ নাবিল আজ বাধ্য হয়ে তাকে বাপের বাড়ি নিয়ে যাচ্ছে।পরি উপর দিয়ে নিরাশ থাকলেও তার একটু ভালো লাগছে। কতদিন পর মা বাবার,বোনের সাথে দেখা করবে।
শুয়ে শুয়ে মেয়ের দিকে তাকিয়ে খুব সুন্দর একটা আবদার করলো আরহাম।নুবা শুধু নিরবে তাকিয়ে রইলো।আয়রা দুইজনের মাঝখানে শুয়ে খেলছে,উঠে বসছে আবার কখনো নুবার বুকে মুখ গুজচ্ছে।আবার উঠে এসে আরহামের নাকে,মুখে,চোখে তার ছোট্ট ছোট্ট আঙ্গুল ঢুকিয়ে দিচ্ছে।আয়রার কান্ড দেখে দুইজনেই মিটমিট করে হাসছে।
আরহাম আয়রার ছোট্ট হাত ধরে চুমু খেলো পরপর নুবার গায়ের উপর হাত তুলে দিয়ে তাকে এগিয়ে আসতে বললো।নুবা ভুরু কুঁচকে নিলো,তবে এগিয়ে আসলো না। আরহাম নুবার দিকে উঁকি মেরে আদুরে কন্ঠে বললো

_”একটু শাড়ি পড়বে নুবু , তোমাকে শাড়ি পড়লে বেশ সুন্দর দেখায়।”
নুবা মনে মনে আবদার শুনে খুশি হলেও মুখ কালো করে বললো
_”শাড়ি নেই।”
_”একটা নীল শাড়ি এনে দিবো,পড়বে?”
নুবা হ্যাঁ বলতে যেয়েও না বলে দিলো
_”না”
আরহাম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বলে উঠলো
_”শুনো মেয়ে,এতো রাগ ভালো না।”
নুবা পাত্তা দিলো না, বরং মুখ কালো করে থাকলো। আরহাম কিছুটা এগিয়ে এসে নুবার গালে হাত রেখে শান্ত কন্ঠে সুধালো
_”তবে চলে যাবো আবার,তখন আর তোমাকে কেউ বকবে না। তুমি যদি চাও তবে চলে যাবো আমি। আমার মেয়েকে নিয়ে চলে যাবো। তোমার কোনো ঝামেলা থাকবে না।”
নুবার অভিমান গাড়ো হলো ‌, ভাঙ্গা কন্ঠে বললো

_”আমি একবারো বলেছি এই সব?”
_”বলোনি তবে আমি বুঝে নিয়েছি।তাহলে তাই কথা রইলো চলে যাবো আমরা।তারপর তুমি স্বাধীন হয়ে যাবে,কেউ তোমার,,,,”
বাকি কথা বলার আগেই নুবা অন্য পাশে ঘুরে অভিমানী কন্ঠে সুধালো
_”তবে চলে যান, আপনাদের আমার দরকার নেই।আমি তো খারাপ, খারাপ মানুষের সাথে থাকতে নেই।”
বলতে বলতে নুবার কন্ঠ ভেঙ্গে আসলো,ভারি হয়ে আসলো তার বুক। আরহাম ঠোঁট হেলিয়ে হাসলো।মেয়েকে ডান পাশে খেলান দিয়ে বসিয়ে দিলো। পরপর নুবাকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে আদুরে কন্ঠে বললো
_”সত্যি চলে যাবো?”
_”হ্যাঁ,চলে যান।”
আরহাম ভুরু কুঁচকে বললো,

_” সত্যি তো? কাঁদবে না আমাদের জন্য।আমি গেলে কিন্তু এবার আয়রাকেও নিয়ে যাবো।”
নুবা গজগজ করে বললো
_”হ্যা যান,কে না করেছে। আপনার মেয়ে যদি থাকতে পারে তবে নিয়ে যান। আমার কারো প্রয়োজন নেই।যতোই করি না কেন, সেই দিন শেষে আমিই দোষী হবো।”
আরহাম নুবাকে ছেড়ে দিয়ে উঠতে উঠতে বললো
_”আচ্ছা ঠিক আছে তবে,চলে যাই।আর কক্ষনো ফিরে আসবো না।”
_”হ্যাঁ হ্যাঁ যান।”
আরহাম মিটমিট করে হেসে মেয়েকে কোলে তুলে নিলো।পরপর বিছানা থেকে নামতে নামতে বললো
_”চলো আম্মু,আমরা চলে যাই। তোমার মাম্মা আমাদের ছাড়াও থাকতে পারবে।সে থাকুক,আমরা আর ঝামেলা করবো না।”
বলতেই বলতে মেয়েকে নিয়ে নেমে গেলো সে।নুবা চোখ মুখ খিচে শুয়ে রইলো।তখনি দরজা খোলার খট করে শব্দ হলো।নুবার বুকটা চিনচিন করে উঠলো। কিছু সময় পর নুবা ফাল দিয়ে উঠে বসলো। সত্যি সত্যি চলে গেলো নাকি।নুবা পিছন ফিরে দরজার দিকে তাকালো।দরজা খোলা,নুবা চোখ বড়বড় করে চাইলো আর ভাবলো, সত্যি সত্যি যদি চলে যায় কারণ আরহামের তো মুডের ঠিক নেই।ভালো কথাও গায়ে লেগে যায় তার।
নুবা এগিয়ে এসে‌ বিছানায় হাঁটুর সাহায্যে উঠে ওরনা নিতে নিতে কাঁদো কাঁদো কন্ঠে বললো

_”অসভ্য, বেয়াদব লোক কোথাকার। একটু জরিয়ে ধরে চুমু টুমু খেয়ে রাগ ভাঙ্গাবে তা না, চলে গেছে। আজকে দুটোকে সত্যি সত্যি বাড়ি থেকে বেড় করে দিবো। অভিমানো বুঝে না।কি খেয়ে একে বিয়ে করেছিলাম। Unromantic লুচ্চো, বুইড়াপাঠা, বেডা কোথাকার।”
বলা শেষ হতেই নুবা মাথায় ওরনা পেঁচিয়ে নিচে নামতে লাগলো।যেই না এক পা ফ্লোরে ফেলবে তখনি ভুরু কুঁচকে গেলো তার।ফ্লোর এরকম আঁকাবাঁকা কবে থেকে হয়ে গেলো?
নুবা গুনগুন কান্না থামিয়ে নিচের দিকে তাকাতেই মুখটা চুপসে গেলো। আরহাম মাথা উঁচু করে নুবার দিকে তাকালো,নুবা জোরপূর্বক হেঁসে দিলো।দেখা গেলো ,বাপ মেয়ে ফ্লোরে গড়াগড়ি খাচ্ছে। আরহাম মেয়ের মুখে দুই আঙ্গুল দিয়ে চেপে ধরে রেখেছে, এদিকে মুখে আঙ্গুল দেওয়ায়,এই সুযোগে আয়রা ইচ্ছে মতো আরহামের আঙ্গুল কামড়ে দিচ্ছে। ছোট্ট ছোট্ট দাঁত গুলো শুলাচ্ছে তার,তাই তো বাপের আঙ্গুল কামড়ে ধরে চুপচাপ বসে আছে।একটা টু শব্দ পর্যন্ত করছে না।
আরহামের বুকে পাড়া দিয়েছে নুবা,বুঝতে পেরেই সে চমকে উঠলো, তাড়াতাড়ি বিছানায় পা তুলে নিলো। আরহাম মেয়েকে নিয়ে উঠে বসে নুবার দিকে তাকালো।এতো সময় কি বলছিলো সে এটা ভেবেই কেমন লজ্জা লাগলো তার।
আরহাম উঠে দাঁড়াতে দাঁড়াতে বেঙ্গ করে বললো

_”অসভ্য,বেয়াদব,লুচো,বুইড়া পাঠা?”
নুবা তাড়াতাড়ি করে বিছানার অন্য কোনায় চলে গেলো।তার ধান্দা বরাবরের মতো এবারো সে দৌড় দিবে।নুবার ভাবনা বাস্তবায়ন হওয়ার আগেই,মেয়েকে বিছানায় রেখে খপ করে নুবার হাত ধরে ফেললো আরহাম।নুবা কিছুটা লজ্জা পেলো তখনকার কথা ভেবেই।
আরহাম নুবার এক পা টান দিয়ে বিছানায় শুইয়ে দুই হাত উপর দিকে চেপে ধরে নরম কন্ঠে বললো
_”unromantic ,লুচ্চো, বেডা তাই তো?”
নুবা হাঁসফাঁস করে উঠলো।মিনমিন করে বললো
_”আমি কিচ্ছু বলিনি,আমি নির্দোষ!”
বলেই ড্যাবড্যাব করে আরহামের দিকে তাকালো। আরহাম নুবার চাহনি দেখে ঝুঁকে এসে তার দুই চোখে চুমু খেলো।নুবা ঠোঁটে ঠোঁট চেপে আরহামের দিকে তাকালো।পরপর বিরবির করে সুধালো
_”আপনি আমার সাথে চিটিং করেছেন।চলে যাবেন বলে মেয়েকে নিয়ে লুকিয়ে ছিলেন কেনো?হুম। আমি ভেবেছিলাম সত্যি সত্যি চলে গেছেন।”

_”আমাদের না পেলে কান্না করে দিতে বুঝি?”
নুবা মুখ বাঁকিয়ে বললো
_”একদমি না।”
আরহাম নুবার নাকে নাক ঘষে ভারি কন্ঠে বললো
_”এতো নাটকবাজ আপনি যে মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে টুপ করে গিলে ফেলি।এভাবে তাকান যেনো ইচ্ছা করে কলিজার ভিতরে ঢুকিয়ে রাখি।”
নুবা লজ্জা নুইয়ে পড়লো।বিরবির করে বলে উঠলো
_”sorry,বুকে পা লেগে গেছে।আমি খেলায় করিনি আপনি এভাবে ফ্লোরে গড়াগড়ি খাচ্ছেন। অবশ্য দোষটা আপনারি।”
আরহাম নুবার গালে ঠোঁট ঠেকিয়ে বিরবির করে সুধালো

_”আমার বুকে আপনার জন্য বরাবরই জায়গা বরাদ্দ আছে ।সেখানে আপনি মাথা রাখুন, হাত রাখুন কিংবা পা,কোনোটাতেই আমার আপত্তি নেই। কারণ এই বুকটা আপনার আশ্রয় স্থল।তাই বিব্রতবোধ করবেন না। কারণ আপনি আমার স্ত্রী, আর আমার সবকিছুতেই আপনার পূর্ণ অধিকার আছে।”
আরহামের এরকম সুন্দর ব্যাকে নুবা গলে খির হয়ে গেলো।নুবাকে মিটমিট করে হেসে লজ্জা পেতে দেখে আরহাম আরো লজ্জা দিলো তাকে।গাল থেকে ঠোঁট সরিয়ে নিলো সে।একটু ঝুঁকে তার দিকে তাকিয়ে রইলো ‌।দুইজনের চোখে চোখ পড়তেই নুবার হাঁসফাঁস হলো। আরহামকে এভাবে এক লাগাতার তাকিয়ে থাকতে দেখে নুবা অস্থির হলো।চোখ সরিয়ে বললো

_”এভাবে তাকিয়ে আছেন কেনো?কেমন কেমন লাগছে,নজর লেগে যাবে তো?”
_”লেগে যাক,আমি চাই নজর লেগে যাক।যাতে আমি ব্যতিত কেউ এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে না পারে।এই সব শুধুই আমার জন্য বরাদ্দ। আমার নুবু, আমার অধিকার, আমার স্ত্রী।”
নুবা আরহামের বুকে মুখ লুকিয়ে নিলো। আরহাম এই সুযোগে নুবার উপর নিজের ভর ছেড়ে দিলো।নুবা দুই হাত দিয়ে আরহামকে আলতো করে জরিয়ে ধরে বুকে চুমু খেলো তখনি আয়রার হাসির শব্দ ভেসে আসলো।কাজে বেঘাত ঘটতেই দুইজনি পাশ ফিরে আয়রার দিকে তাকালো।নজরে পড়লো আয়ার ড্যাবড্যাব করে তাদের দিকে তাকিয়ে দাঁত বেড় করে হাসছে আর হাত তালি দিচ্ছে।
আরহাম মেয়ের জন্য বাধ্য হয়ে সরে আসলো।নুবা উঠে বসলো। আরহাম আয়রাকে কোলে তুলে চুমু খেলো।আয়রা খিলখিল করে হেসে উঠলো।নুবা মুচকি মুচকি হাসতে লাগলো। হাসতে হাসতে হঠাৎ করেই তার একটা কথা মনে পড়তেই বলে উঠলো

_”আচ্ছা আপনি যখন হসপিটালে ছিলেন তখন আপনার মোবাইল কোথায় ছিলো,না মানে কল দিলে রিং হচ্ছিলো,তবে কেউ ধরছিলো না?”
নুবার প্রশ্নে আরহাম আয়রাকে বুকে জরিয়ে বললো
_”জ্ঞান ফেরার পর জানতে পারি মোবাইলের নাট বল্টু ডিলা হয়ে গেছে।কল আসছিলো তবে কিছুই দেখা যাচ্ছিলো না। অতঃপর নাকি আপনা আপনি বন্ধ হয়ে গেছে। এটাকে ঠিক করতে আমার এক গাদা টাকা গেলো।”
নুবা ভাবুক হয়ে বললো
_”তবে নতুন ফোন কিনলেই তো পারতেন,এটা তো কয়দিন পর আবারো নষ্ট হবে।”
_”হ্যাঁ,তবে ওটার ভিতরে important জিনিস আছে।অন্য মোবাইলে সবকিছু কালেক্ট করে নিয়ে এটা বাঁধ দিয়ে দিবো।”
নুবা মাথা নিচু করে বিরবির করে বললো

_”হ্যাঁ আছে তো, সুন্দর সুন্দর ছবি, এগুলো কি হারিয়ে ফেলা যায়?”
_”কিছু বললে?”
_”না না,কি আর বলবো। ভাবছিলাম আপনি যেই মোবাইল টা দিয়েছেন এটা চালাবো,ওটাতো ফেলে রেখেছি।”
আরহাম কথাটা শুনে একটু খুশি হলো,তবে সারাক্ষন বউয়ের খুঁটিনাটি খেয়াল রাখতে পারবে সে। আরহাম কে হাসতে দেখে নুবা ভুরু কুঁচকে বললো
_”হাসছেন কেনো?”
_”nothing.”

নাবিল পায়ের উপর পা তুলে সোফায় বসে হেলামি কন্ঠে সুধালো
_”হুনতাম হশুর বাড়ি আইলে নাহি জামাই আদর দেওয়া হয়,কই আইলাম তো কত্তখন।এক কাফ চা”ও জুটলো না কপালে।”
নাবিলের কথায় জায়মা বেগম আর পরশ হাওলাদার দাঁতে দাঁত চেপে রইলেন।প্রিউ নাবিলকে দেখে ভয়ে তার মায়ের পিছনে লুকালো।পরি চোখের পানি ফেলে চুপচাপ ডাইনিং টেবিলে তার মায়ের পাশে বসে আছে।
নাবিলের কথায় পরশ হাওলাদার দাঁতে দাঁত চিপে বললেন
_”জামাই হলে, জামাই আপ্যায়ন করা যায়,তবে ধর্ষকে আমরা জামাই আপ্যায়ন করি না।”
নাবিল হাসলো,মেয়ের সাথে সাথে বাপের জবানো বেড়ে গেছে।নাবিল হেলামি করে বললো
_”মিষ্টির পেকেট আনি নাই দেইকা কে হশুরে রাগ করছেননি?”
পরশ হাওলাদার কোনো মতে রাগ নিয়ন্ত্রণ করে বললেন

_”তোমার হাতের মিষ্টি খাওয়ায় চেয়ে বিষ খাওয়া ভালো।”
নাবিল এবার গাড়ো রাগ নিয়ে উঠে দাঁড়ালো। পরপর তাদের দিকে এগিয়ে আসতে আসতে বললো
_”তোগে ভালোর লাইগা তোর মাইডারে নিয়া আইছিলাম তবে তোরা ভালা কামের যোগ্য না।আইতে না আইতে মরনের পাখনা গজায় গেছে।”
পরশ হাওলাদার দাঁতে দাঁত চিপে রইলেন,নাবিল এগিয়ে এসে ডাইনিং টেবিলে এক হাত রেখে পরশ হাওলাদারের মুখোমুখি হয়ে বললেন
_”তোর তো ভাগ্য ভালা তোর মাইয়ারে আমি বিয়া করছি,না হইছে এইটারে কই রাখতি। আমার প্রশংসা করার বদলে আরো খোঁচা মারা কথা কস?”
পরশ হাওলাদার নাবিলের চোখের দিকে তাকিয়ে বললো

_”তুমি বিয়ে না করলে আমার মেয়েটা জীবনের বাঁচা বেঁচে যেতো। এখন তোমার মতো অমানুষের বাচ্চা জন্ম দিতে হচ্ছে আমার মেয়ের।এর থেকে মেরেই ফেলতে!”
নাবিল এবার বাচ্চা নিয়ে কথা বলায় বেশ রেগে গেলো।পরপর হঠাৎ করেই পরশ হাওলাদারের গলা চেপে ধরলো। প্রিউ ভয়ে কেঁদে উঠলো।পরি কান্ত শরীর নিয়ে উঠে দাঁড়ালো।নাবিল দাঁতে দাঁত পিষে বললো
_”আমার বাচ্চা লইয়া একটা কথা কইবি না মাদারচো**** ।তাইলে এইখানেই পুইতা রাইখা দিমু।”
পরি ধীরো পায়ে এগিয়ে যেয়ে নাবিলের বুকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিতে দিতে বললো
_”খবরদার আমার পরিবারের দিকে হাত বাড়ানোর চেষ্টা করবেন না,না হলে আপনার সন্তানের ক্ষতি করবো আমি।”
নাবিল তেতে উঠে পরশ হাওলাদারকে ছেড়ে দিলো।রাগি দৃষ্টিতে পরির দিকে তাকালো।পরি ভেজা কন্ঠে বললো
_”আপনাকে শুধু এখানে ছেড়ে দিতে বলেছিলাম,এখন যান, আমাকে শান্তিতে দুই দন্ড এখানে থাকতে দিন। Please,”
নাবিল মাথা ঝুঁকিয়ে বিষাক্ত কন্ঠে বললো

_”হো আমি চইলা যাই আর তোর সাই গুষ্টি মিল্লা আমার অনাগত সন্তানডারে মারুক।”
পরি বিরক্ত হলো,সে চাইছে নাবিলকে এখান থেকে বেড় করতে।সে শুধু শান্তি চাইছে।পরি ক্লান্ত কন্ঠে বলে উঠলো
_”মারার হলে অনেক আগেই মেরে ফেলতাম,আপনি কচুও টের পেতেন না।”
নাবিল দাঁতে দাঁত চেপে পরির দিকে তাকালো তবে বাচ্চার জন্য তাকে কিছু বললো না।না হলে গায়ে হাত তুলতো সে। আপাতত সে এতটুকু জানে পরি অসুস্থ হলে তার অনাগত বাচ্চাও অসুস্থ হয়ে পড়বে। তাও নাবিল দাঁতে দাঁত পিষে বললো
_”আর তুই মারলে আমি ছাইরা দিতাম।আর আর একটা কথা হুইনা রাখ।তোরে নিয়াই এহান থেইক্কা যামু।না হইলে দেহা গেলো পালায় গেলি তহন?”
পরি বুঝতে পারলো নাবিল যাবে না।তাও সে এখানে থাকতে চায়।তাই সব মেনে নিয়ে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো

_”আচ্ছা ঠিক আছে আপনার যেতে হবে না।তবু ঝামেলা করবেন না,আমি একটু শান্তির জন্য এখানে এসেছি। অশান্তি করবেন না। আপনি রুমে যেয়ে বসুন please”
পরি শুধু ঠান্ডা মাথায় সবকিছু সামাল দিতে চাইছে। কারণ সে অভ্যস্ত হয়ে গেছে তার ব্যবহারে।পরি নিজের মা বাবার দিকে তাকিয়ে চোখের ইশারায় তাদের চুপ থাকতে বললো। পাগল কে যতো চেতানো হবে সে ততই চেতবে।
নাবিল তাও ঘ্যাড়ত্যারামো করে গেলো না।পরি দেখলো রাত হয়েছে অনেক তাই নিজের মা বাবার দিকে তাকিয়ে চোখের পানি মুছে স্বাভাবিক কন্ঠে বললো
_”তোমরা রুমে যাও,কাল কথা হবে।আমরা খেয়ে এসেছি। তোমরা বরং যেয়ে শুয়ে পড়ো।”
জায়মা বেগম তার অশান্ত মেয়ের দিকে তাকালো।কতটা মানিয়ে নিয়েছে নিজেকে, হয়তোবা শুরু একটু শান্তির জন্য এখানে এসেছে তাই সে আর কথা বাড়াতে দিলো না তার স্বামীকে,পরশ হাওলাদার আর প্রিউকে নিয়ে রুমে চলে গেলো।পরি অসহায় দৃষ্টিতে নাবিলের দিকে তাকিয়ে বললো
_”আল্লাহর দোহাই লাগে। আমার চোখের সামনে আমার বাবা,মাকে এভাবে অপমান করবেন না।গায়ে হাত তুলবেন না।”
পরি নতো হলো কারণ তার কিছুই করার নেই তাই সে নাবিলের কাছে নতো হয়ে গেলো,নাবিলক কথা বাড়ালো না,পরির হাত ধরে রুমের দিকে এগিয়ে গেলো।

সকাল সকাল আরহাম ল্যাপটপ হাতে বসে আছে।গতা ৭/৮ মাসের সিসিটিভি ফুটেজ চেক করছে সে।আমিনা বেগম বলেছিলো তার মৃত্যুর খবরে নাকি বাড়িতে তান্ডব চলেছিলো তাই ভেবেই সে চেক করতে বসেছে।
সে শুধু দেখতে চাইছে তার মৃত্যুতে আসলছি সবাই কেঁদেছিলো নাকি সব মিথ্যা, বিশেষ করে তার মিনি হাতি টা কি করেছিলো।
ঘন্টা খানিক যেতেই আরহাম নিঃশ্বাস ভারি হয়ে আসলো। সবকিছু চোখের সামনে ভেসে উঠলো তার।তার মা,বোন,বউ,বাপ,ভাই, সবাইকে এরকম উতলা দেখে কেমন অস্থির লাগলো তার। সত্যিই কি তারা এভাবে আহাজারি করেছে নাকি সব মিথ্যা।

আরহাম আর দেখলো না ল্যাপটপ বন্ধ করে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো,আর দেখতে চাইছে না সে, কিছু জিনিস গোপনেই থাকা ভালো। কারণ এরকম মর্মান্তিক পরিবেশ সে কখনোই দেখিনি। বিশেষ করে তার মৃত্যুর পরের দিনে নুবার পুরো বাড়ি ছুটে আহাজারি টা, ইস্ বুকে এসে লেগেছে।
আরহাম ভালো মতো দেখেনি, বরং টেনে টেনে কিছু কিছু অংশ দেখছে। আস্তে ধীরে দেখার না আছে সময় না সাহস।সবার আর্তনাদ তার বুকে এসে বিঁধছে।এই সব দেখে এমন একটা মূহুর্তে সে মুড অফ করে রাখতে চায় না।
আরহাম ভেবেই উঠে দাঁড়ালো, পরপর ঘুমন্ত মা মেয়ের দিকে এগিয়ে যেয়ে মুচকি হাসলো। আরহাম কিছু সময় নুবার দিকে তাকিয়ে থেকে ঝুঁকে এসে তাকে চুমু খেলো।নুবা নড়েচড়ে উঠলো। পরপর ঘুমঘুম চোখে আরহামকে দুই হাত দিয়ে জরিয়ে ধরে ধীরো কন্ঠে বললো

_”আজ এতো তাড়াতাড়ি উঠেছেন কেনো হুম, আপনার জন্য আমার ঘুম হচ্ছে না।”
আরহাম নুবার ফুলো মুখের দিকে তাকিয়ে রইলো।এটা তার সেই বউ যে তাকে মেনে নিতে চাইনি,বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার ধিক্কার জানিয়েছিলো।আর কয়মাস আগে তার মিথ্যা মৃত্যুকে সত্য ভেবে পাগলাটে হয়ে গিয়েছিলো।তার নুবা যে কিনা বর্তমানে তার স্বামী ব্যতিত কিছুই বুঝে না।দুই মিনিট চোখের সামনে না দেখলে ছুটৈ যায় তার কাছে। সবসময় তাকে নিয়ে চিন্তিত থাকে।ভেবেই আরহাম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে নুবাকে জরিয়ে ধরে বিরবির করে বললো
_”আমার জীবনের পূর্ণতা তুমি, নুবা। তুমি আমার ক্ষণিকের অনুভূতি অথবা আসক্তি নও, তুমি আমার অস্তিত্বের সঙ্গে মিশে থাকা এক অনন্ত সত্য,একটি সুন্দর অধ্যায়। আমি চাই আমাদের গল্পের কোনো শেষ না থাকুক। যদি শেষ বলেই কিছু থাকে, তবে সেটা যেন একসঙ্গে আসে,একই নিঃশ্বাসে, একই ভাগ্যে। আমার প্রতিটি প্রার্থনা, প্রতিটি স্বপ্ন আর প্রতিটি আগামীতে শুধু তোমারই নাম লেখা। যতদিন নিঃশ্বাস থাকবে, ততদিন তোমার পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় হয়ে থাকবো আমি।”
সকাল সকাল আরহামের মুখে মিষ্টি কথা শুনে নুবা টিপটিপ করে তাকালো। মুচকি হেসে বিরবির করে বললো
_”আজ সকাল সকাল কথা দিয়েই মিষ্টি মুখ করিয়ে দিচ্ছেন, ব্যপার কি?”
আরহাম নুবার শুকনো ঠোঁটে চুমু খেলো পরপর তার পাশে শুয়ে তাকে বুকে আগলে নিয়ে বললো

_”কক্ষনো ছেড়ে যাবে না,তবে আমি মরেই যাবো।
_”আর যদি আয়রা চলে ,,,
আরহাম নুবাকে চুপ করিয়া দিলো,ভারি কন্ঠে সুধালো
_”তুমি, আমার মেয়ে, আমার মা,এই তিনজন নারী আমার জীবনে আসা সব থেকে বড় আমানত। যাদের আমি শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত আগলে রাখতে চাই।”
নুবা আরহামের বুক থেকে মাথা তুলে মিনমিন করে বললো
_”আর আপনার প্রথম বউ?”
আরহাম বিরক্ত হলো, বিরক্ত মাখা কন্ঠে বলে উঠলো
_”সকাল সকাল শুভ সময়টাকে অশুভ করছো কেনো আজব। ও আমার জীবনে শুধু শারীরিক সুখের মাধ্যম ছিলো।কখনো মানুষিক শান্তি পাইনি ওর থেকে।”
নুবার কেমন যেনো লাগলো,আদুরে কন্ঠে বললো

_”আর আমি? আমি কি আপনার কাছে?”
আরহাম মুচকি হাসলো,নুবার মুখের দিকে তাকিয়ে গাল ছুঁয়ে বললো
_”আপনি কি আমার জন্য তা আপনি নিজেও জানেন না,আপনি আমার মেয়ের মা, আমার স্ত্রী, আমার মায়ের লক্ষী বউ,এক কথায় আপনাকে না ছুঁয়ে,দেখেই সারাটা জীবন কাটিয়ে দিতে পারবো।”
নুবা আরহামের কথায় সন্তুষ্ট হয়ে হেসে বললো
_”তাহলে কাটিয়ে দেন।”
আরহাম ভুরু কুঁচকে বললো
_”কেনো,এখন তো ওমন কোনো পরিস্থিতি নেই।আমি তো কথার কথা বল্লাম।তবে সবসময় মনে রাখবেন আপনি আমার কাছে especial কেও , আমার বিশেষ কেউ।যা কেউ কখনো হয়ে উঠতে পারেনি। আপনার দাঁড়া আমি জীবনে অনেক কিছু শিখেছি ,আপনি আমার জীবনে one an only part যে কিনা আমাকে ভালোবেসেছে।”
নুবা আরহামের শার্টের বোতাম খুটে আদুরে সুরে বললো

_”আপনি আমাকে ভালোবাসেন?”
_”এই প্রশ্ন করবেন না, কারণ এর উত্তর আমার কাছে নেই তবে আপনি ব্যতিত কেউ আমার এতো মনের গভীরে আসতে পারেনি।এর থেকে বেশি কিছু আর প্রকাশ করতে চাইছি না। বেশি প্রকাশ করলে আবার লোভির মতো আরো কাছে আসতে চাইবেন।”
নুবা খিলখিল করে হেসে উঠলো।আরহামকে জরিয়ে ধরে বললো
_”হ্যাঁ আমি খুব লোভী। আপনার মেয়ের মতো ছুঁচো।”
আরহাম নুবাকে বুকে জরিয়ে মাথায় চুমু খেলো,এই পাগলটাকে কোথায় রাখবে সে,এই ননির পুতুল যে তাকে দিন দিন ঘায়েল করে ছাড়ছে।

পরি মৃদু কন্ঠে বললো
_”এই সব রেধেছো মা,আন্য কিছু ছিলো না। এগুলো আমার ভালো লাগলেও উনি খায় না,গরু ছাড়া মুখে ভাত উঠে না উনার।”
জায়মা বেগম অশান্ত কন্ঠে বললেন
_”তার জন্য আলাদা কিছু করতে পারবো না।সে বিশেষ কেউ না। তুই মোটেও আমার সামনে তরফদারি করবি না ওই জানোয়ারটার, তুই মেনে নিলেও আমাদের দাঁড়া সম্ভব না।”
পরি চুপ রইলো,সে কি স্বাদে সব মেনেছে।বাধ্য হয়েছে সে।পরি কিছু বললো না,খেলে খাক না খেলে নাই।এখান থেকে গেলেই পরি যেনো বাঁচে।
তাঁদের কথার ভিতরেই নাবিল এসে চেয়ার টেনে বসলো।প্রিউ বোনের পাশে বসে ছিলো তবে নাবিলকে দেখেই ছুটৈ যেয়ে মায়ের পিছনে লুকালো।নাবিল ডাইনিং টেবিলে আঙ্গুল দিয়ে শব্দ করে বললো

_”কি রাধছোস রে বুড়ি?”
পরি চোখের পলক ফেললো,জায়মা বেগম শব্দ করে খাবার বাড়া রেখে চলে গেলেন,পরি কেমন করে নিঃশ্বাস ফেলে নাবিলের দিকে তাকিয়ে বললো
_”কেনো এমন করছেন?”
নাবিল পরির দিকে তাকিয়ে বললো
_”কি করলাম?”
পরি দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_”দেখুন যা করেছেন তা তো আর সুধরাবার মতো নয়,দয়া করে একটু ভাষা সংযত করুন।”
নাবিল পরির কথায় পাত্তা দিলো না বরং তার চেলা পেলাকে খবর দিলো তার শাশুড়ি তাঁর জন্য ভালো কিছু রাধেনি তাই যাতে রেস্টুরেন্টে থেকে ভালো কিছু নিয়ে আসে।
পরি নাবিলের দিকে অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো

_”আপনার কি ইচ্ছে হয় না সবাই আপনাকে দেখে সম্মান করুক। ইচ্ছা হয় না যেই মেয়েটাকে আপনি বিয়ে করেছেন সে যাতে আপনাকে ভালোবাসুক।তার পরিবার আপনাকে মাথায় তুলে রাখুক। আপনার সন্তান আপনাকে ভালোবাসুক।আপনি ভাবতে পারছেন যে আপনি কতটা অমানুষ যে আমার ছোটো বোনটা আপনাকে দেখে ভয়ে পিছিয়ে যাচ্ছে।আপনি___
নাবিল হাতের ইশারায় পরিকে থামিয়ে দিয়ে বললো
_”আ”লো চুপ কর মাগি।হুদাই আমারে জ্ঞান দিতাছোস, আমার এগুলার ইচ্ছে হয় না।”
পরি একটু হেসে সুধালো
_”একদিন ঠিকি হবে,তবে সেদিন আপনি হাজার আহাজারি করেও কিছুই পাবেন না।”
_”অভিশাপ দিতাছোস?”
_”না, শুধু বল্লাম, কারন আপনাকে অভিশাপ দিয়ে নিজের মুখ অপবিত্র কেনো করবো? ”

একটা নীল শাড়ি,যেটা নুবার চোখে দুনিয়ার সব থেকে দামি জিনিস মনে হচ্ছে।দুপুরের গোসল করার ঠিক আগ মুহূর্তে আরহাম এনে ধরিয়ে দিলো তাকে আর বিরবির করে সুধালো।
_”আশা রাখছি গোসল সেরে এটা পড়বে।আমি অপেক্ষা করবো। ”
নুবা নিষ্পাপ ভাবে আরহামের দিকে তাকালো। আরহাম মুচকি হেসে নুবার নক ছুঁয়ে দিলো , অতঃপর ভারি নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_”বাটারফ্লাই স্টাইলে পড়বে,আমি নিচে যাচ্ছি।এসে যাতে দেখি তৈরি হয়ে আছো।”
বলেই নিজের ভেজা চুলে হাত বুলিয়ে ধীরো পায়ে চলে গেলো সে।নুবা চেয়ে রইলো, একটু লজ্জাও লাগলো বটে।পরপর নুবা পেকেট থেকে জর্জেটের একটা নীল শাড়ি,সাথে প্রয়োজনীয় সবকিছু পেলো,নুবা মিটমিট করে হাসলো।

দুপুর দেরটা নাগাত,দুপুরের খাওয়া দাওয়া খবর নেই দুই মানব মানবীর । একজন নিজেকে সাজাতে ব্যস্ত,আর একজন অপেক্ষা করতে ব্যস্ত।
নুবা আয়নার দিকে তাকিয়ে শেষ টাচআপ দিয়ে মুচকি হাসলো,তবে নিজের দিকে নিজে তাকিয়ে বেশ লজ্জা পেলো। কারণ একটাই শাড়ির ফাঁক দিয়ে শরীর উঁকি মারছে।
নুবা‌ নিজেকে দেখে নিজেই লজ্জায় পড়ে গেলো।পরপর নিজের কাজ শেষ করে ধীরো পায়ে দরজার দিকে এগিয়ে গেলো।তবে দরজা খোলার আগেই আপনা আপনি দরজা খুলে গেলো।দরজা ঠেলে ভিতরে প্রবেশ করলো আরহাম,কোলে তার ঘুমন্ত আয়রা।নুবার পা ওখানেই থমকে গেলো সাথে আরহামের নিঃশ্বাস।
সামনে নুবাকে দেখে তার ভিতরটা ধুকপুক করে উঠলো।নুবা দুই হাত কচলে মাথা নিচু করে নিলো। আরহাম নুবার পা থেকে মাথা পর্যন্ত তাকালো।নুবার বাম, ডান কমড় শাড়ির ফাঁক দিয়ে উঁকি মারছে। পরপর আরহাম নুবার বাম কামড়ে দিকে তাকিয়ে স্তব হয়ে গেলো ।বাম কমড়ে সেই তিলটা চকচক করছে যেটা বহু দিন আগে দেখেছিলো সে। আরহাম শুকনো ঢোক গিলে নুবার হালকা মুটিয়ে যাওয়া পেটের দিকে তাকালো।0 ফিগার না হওয়ায় কিছুটা লজ্জা পেলো নুবা।পেটের মেদ যাতে না দেখা যায় তাই নিঃশ্বাস আটকে,চোখ মুখ খিচে নিলো।
নুবার কান্ড দেখে আরহাম ভুরু উঁচিয়ে হেসে ফেললো।আরহামের হাসির শব্দে নুবা আরো লজ্জা পেয়ে গেলো।এই লোকটা তার মোটাপা নিয়ে হাসছে না তো। অবশ্য সে ওতোও মোটা না, একদম পারফেক্ট আছে।না চিকোন না মোটা তাও কি লোকটা হাসছে।

আরহাম উদর থেকে নজর সরিয়ে আস্তে আস্তে হাত গুলো দেখে নিলো,চুরি পড়েছে,বেশ লাগছে তো, অতঃপর বুক পার করে গলার দিকে তাকালো।যেনো নিঃশ্বাস আটকে রাখার ফলে অদ্ভুত লাগছে।তার উপর নিরিক করে তাকিয়ে থাকলে বোঝা যাচ্ছে মেয়েটা ফাঁকা ঢোঁক গিলছে। আরহাম আস্তে আস্তে নুবার ফুলের পাপড়ির ন্যায় ঠোঁটের দিকে তাকালো, পরপর সাজিয়ে রাখা ঠোঁট আর গালের দিকে।নুবার কানে ঝুলছে কানের দুল,নাকের স্বর্ণের ছোট্ট নাকফুলটা চকচক করছে।চুলে বাঁধা গাজরার থেকে ঘ্রান এসে আরহামের নাকে বারি খাচ্ছে, ইস্ ছুঁই ছুঁই অবস্থা।
সময় নিয়ে তার মিনি হাতিকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখলো সে।নুবার পায়ের তলা ঝিমঝিম করে উঠলো।শরীর শিরশির করতে লাগলো যেনো অদ্ভুত অনুভূতিতে সে ঘিরে আছে।

নুবার চোখ বুঝে আরহামের পিঠের সাথে লেগে আছে। অনুভূতির বেড়া জালে সে ঘিরে গেছে।ভিতরে ভিতরে লজ্জায় মুড়িয়ে যাচ্ছে।যেনো পেটের ভিতরে প্রজাপতি উড়ছে।
আরহাম ভারি নিঃশ্বাস ফেললো,আরহামের ঠোঁট দুটো নুবার কাঁধ আর গলা ছুঁয়ে যাচ্ছে।বউয়ের তারনায় নিজেকে কেমন অসহায় মনে হচ্ছে। ইচ্ছা করছে মেয়েটাকে টুপ করে গিলে ফেলতে।
আরহামের দুই হাত নুবার এক কাঁধ আর উদর ছুঁয়ে গেলো।৫ আঙ্গুল উধরে চেপে ধরে অস্থির কন্ঠে সুধালো
_”এতোটা অস্থির করছেন কেনো আমাকে। আন্দাজ করতে পারছেন,শেষ পরিনতি কেমন হতে পারে?”
নুবা দুই হাত কচলে চোখ মুখ খিচে বিরবির করে বললো

নীরব উন্মাদনা দ্বিতীয় খন্ড পর্ব ৫

_”কে,, কেমন লাগছে আমাকে?”
আরহাম নুবার বাহু ধরে নিজের দিকে ঘুরিয়ে ঝুঁকে তার গলায় মুখ গুজে দিলো। ছটফট করতে থাকলো সে, বিচলিত কন্ঠে সুধালো,
_”এতোটাই অস্থির যে এখনি গেঁথে দিতে ইচ্ছে করছে।i can’t control myself sweet honey.চেখে দেখতে ইচ্ছে করছে?I can do it.”

নীরব উন্মাদনা দ্বিতীয় খন্ড পর্ব ৭