নীরব উন্মাদনা পর্ব ২৮
সুরাইয়া জিয়াসমিন
আরাফ কি ছেড়ে দেওয়ার মানুষ কখনোই না,,,আরফ নুবার এক হাত ধরে টেনে নিজের সাথে মিশিয়ে নিলো,,নুবার লালচে গলায় মুখ ডুবিয়ে দিলো ,,,
তখনি ঠাস করে একটা শব্দ হলো,,, কিছু একটা পড় ভেঙ্গে গেলো,,,নুবা পড়ে থাকা জিনিস টা হাতে তুলে নিলো,,আয়নার সামনে যেএ নিজের গলায় চেপে চিৎকার করে বললো
_ তুই এরকম টা কি করে ভাবতে পারিস নুবা,,,মরে যা তাও জেদের কাছে নত হয়ে কাউকে নিজের ইজ্জত দিয়ে দিস না,,, সবকিছু নিয়ে যদি তোর হাতটা ধরে থেকে যেতো তবে সব দিয়ে দিলেও কি,, কিন্তু সে তোর সাথে থাকবে না,,সে একটা জঘন্য মানুষ,,,
নুবা নিজে নিজেই এই সব ভাবছিলো,, একবার মনে হলো আরাফ কে সব বিলিয়ে দিতে যদি লোভে পড়ে থেকে যায়,,তখন আবার নুবার মনে হলো এই মানুষ গুলা ১২ ঘাটে মুখ দিতে জানে এক ঘাটের পানি দিয়ে হবে নাকি,,
নিজের জঘন্য ভাবনা চিন্তা ভেবেই নুবা নিজের মাথার চুল চেপে ধরলো ,,ঠাস ঠাস করে নিজের গালে দুটো থাপ্পর মারলোই,,পরপর মাথার চুল খামচে বললো
_ কখনোই না,,,ওই জঘন্য মানুষ টাকে আমি আমার সব মোটেও দিবো না,,,ওই লোকটা কোনো সময় আমার কষ্ট বুঝবে না উল্টা আশকারা সুযোগ দিলে ঝাঁপিয়ে পড়বে,,,ছি ছি,,, আমি এই সব ভাবলাম কি করে,,,
নুবার ভাবনার ভিতরে এতো সময় সব ভাবছিলো,,,তার রাগ হচ্ছিলো প্রচন্ড,,রাগের মাথায় কি করবে বুঝতে পারছিলো না,,অপমানে তার মাথা নুইয়ে গেছিলো,,
এমন সময় দরজায় টোকা পড়লো,,,বাইরে থেকে আমিনা বেগম ঢেকে উঠলেন
_ নুবা রুমে নাকি,,,
নুবা চম্কে উঠলো,, তাড়াতাড়ি দরজার সামনে থেকে উঠে দাঁড়ালো,,,আয়নার সামনে যেএ শাড়ি ঠিক করে চোখের পানি মুছলো,,, পরপরই দুটো জোরে নিঃশ্বাস ফেলে নিজেকে শান্ত করলো,,
নুবা দরজা খুলে দিতে আমিনা আরশি আরহাম রুমে ঢুকলো,,,আরশি এসেছিলো নুবাকে ডাকতে,আমিনা এসেছে আয়ারকে খাওয়াতে,,আর আয়রা যেখানে আরহাম সেখানে,,,
আরশি ভিতরে ডুকে নুবার অবস্থা দেখে অবাক হয়ে বললো
_ একটু আগে না সাজলি,,এই অবস্থা কেন,, শাড়ি উল্টা পাল্টা,,চুল খুলে ফেলেছিস,,ঘেমেও গেছিস,,কি হয়েছে রে,,
নুবা কিছুটা ঘাবড়ে যেএ বললো
_ না না কিছু না,,,,
আমিনা বেগম ফ্লোরের দিকে তাকিয়ে দেখলেন সকল চুরি গুলো নিচে পড়ে আছে,,মাথার ফুলটাও,,,কয় একটা চুরি ভেঙ্গে একাকার,,,
আমিনা বেগম ভুরু কুঁচকে বললো
_ কি হয়েছে রুমের এই অবস্থা কেন,,,
নুবা তাড়াতাড়ি পড়ে থাকা চুরি গুলো সাইড করতে করতে বললো
_ এ,, এগুলো প,,পড়তে যেএ হাত ফসকে পড়ে গেছে,,
আমিনা বেগমের সন্দেহ হলো,,, আরহাম বুকে হাত গুজে নুবার দিকে তাকিয়ে রইলো,, কেমন এলোমেলো লাগছে,,তবে তাও হলুদ শাড়ির মেয়েটাকে বড্ড লাগছে,, আরহাম চোখ সরিয়ে নিলো,,,
আরশি বিরক্তি নিয়ে বললো
_ তোর অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে এই মাত্র তোর উপর দিয়ে ঝড় তুফান গেলো,, আবার প্রথম থেকে রেডি হতে হবে মনে হয়,,,
নুবা চুরি আর ফুল গুলো উঠিয়ে বললো
_ গ,গড়ম পড়েছে তো,,,তাই বেশি সময় পড়ে থাকতে পারিনি,,,শাড়ি খুলে বসে ছিলাম,,,
নুবার বলদ মার্কা কথায় আরশি খিলখিল করে হেসে ফেললো
_ভাই লেহেঙ্গা পড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি আর তোর সামান্য শাড়ি পড়ে গড়মের জন্য আবার খুলতে হয়েছে,,,
নুবা জোর পূর্বক হেসে বললো
_ তোমার ধৈর্য আছে আপু আমার নেই,,,
আরহাম বাইরে বসে আছে,,,রুমে যাবে সে তবে আমিনা বেগম বলেছে তার সাথে সাথে থাকতে,কত মেহমান এসেছে বড় ছেলের কথা জিগ্যেস করবে,,তখন কি উত্তর দিবে সে,
নুবা আয়ারকে দুধ খাওয়াতে খাওয়াতে আয়রা মুতু করে নুবাকে ভিজিয়ে দিলো,,নুবা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ তোমার নাতনি মুতে দিয়েছে,,বলো কি করতে মন চায়,,ডায়াপার পড়াওনি কেন ahhh,, আমার শাড়ি ছায়া সব গেলো,,
আমিনা বেগম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললেন
_ উনার মেয়ের গড়ম ঠান্ডা লেগে যাবে,,পাছায় গামাচি ফুটে যাবে,,,তাই পড়ায়নি,,,দেখছিস না কি পাতলা একটা জামা পড়িয়ে রাখছে,,,
এদিকে আয়রা মুতু করে খেতে খেতে হাসছে,,এক দিক দিয়ে খাচ্ছে অন্য দিক দিয়ে ছাড়ছে,,,
আরশি টিস্যু দিয়ে কপাল নাক মুখ মুছে বললো
_এখন কি করবি,,,আমি কি লেহেঙ্গা নিয়ে আসবো
_না,,আমি এখন আর কিছু পড়বো না,,একটু শুয়ে থাকবো ভালো লাগছে না
আরশি হতভম্ব হয়ে বললো
_ নাটক করছিস তুই,,, সন্ধা থেকে তোর পিছনে ঘুরছি,,
আমিনা বেগম আরশির দিকে তাকিয়ে বললো
_ যা নিয়ে আয় আমি দেখি ও কিভাবে না পড়ে,,
নুবা ওয়াশরুমে যেতে বললো
_ গোসল করে আসি,,,
_ কি,,না please নুবা দেরি হয়ে যাবে
_ না আপু অনেক গড়ম please,
বলেই নুবা ওয়াশরুমে ডুকে গেলো,,
আরশি হাম তুলে বললো
_ ওকে রেডি করতে করতে রাত পার হবে
আমিনা বেগম ছেলেকে ডেকে বললেন
_ ভিতরে এসে বস,,
আরহাম পকেটে হাত গুঁজে ভিতরে একটা চেয়ারে এসে গা হেলিয়ে দিলো,,পড়নে তার সাদা শার্ট,,আর পেন্ট,,,আমিনা বেগম কতো জোর করলো একটা পাঞ্জাবি পড়তে কিন্তু সে পড়বে না,,,এটাই তার শেষ করা,,
নুবার রাগে আরাফ যেই স্থানে হাত রেখেছিলো ইচ্ছে মতো খামচে খামচে রক্ত বেড় করে ফেলছে,,,নুবার কমড়ে ছোট্ট একটা তিল আছে যা আরাফের বেশ পছন্দ আপাতত সে সেটাই তুলতে চাচ্ছে,,, কারণ এটার আরফ যখন তখন হাত দেয়,,নুবা পারলে তার পুরো শরীরটকেই পুড়িয়ে ফেলতো
নুবা এবার কানে হাত দিলো,, ইচ্ছে হলো টেনে ছিরে ফেলতে,,, অনেক সময় চেষ্টা করার পড়েও রক্তের মাঝে তিলটা চকচক করে উঠলো,,নুবা অধৈর্য হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লো,,,
সে শুনেছে বিচ্ছেদ হওয়ার পর নাকি মেয়েরা প্রিয় মানুষের পছন্দের জিনিস গুলো জীবন থেকে আলাদ করে দেয়,,, কিন্তু ওই লুচ্চার এমন এমন জিনিস পছন্দ যা নুবার দেহ থেকে আলদা কথা অসম্ভব,,,
মানুষ চুল পছন্দ করে,, মানুষের স্বভাব পছন্দ করে,,, নিষ্পাপ চাহনি দেখে প্রেমে পড়ে,, এরকম হলে চুল কেটে স্বভাব পালটে,, নিষ্পাপ চাহনি ছেড়ে দিতো,,
কিন্তু আরাফের পছন্দ নুবার বডি পার্ট,,বডি পার্ট তো বাদি পুরো বডিটাই পছন্দ,,এখন কি করবে নুবা,,চাইলেও পুড়িয়ে ফেলতে পারবে না,,
আরশি নুবার লেহেঙ্গা ঠিক করে দিচ্ছে আমিনা বেগম হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে চুল শুকিয়ে দিচ্ছে,, এদিকে হাজেরাও এসেছে সে এতো এই সব দেখে অবাক,, হঠাৎ করে শাড়ি খুলে আবার লেহেঙ্গা কেন,, অতঃপর তাকে জানানো হলো আয়রা মুতু করে দিয়েছে,,,আয়রা বিছানায় শুয়ে শুয়ে এই সব দেখছে,,,
মাত ৩০ মিনিটের ভিতরে হালকার ভিতরে গর্জিয়াস করে আরশি নুবাকে তৈরি করলো,,,নুবা ছাড়া চুল দেখে বললো
_ চুল গুলো বেঁধে দেও আপু না হলে মরেই যাবো
_ উফ্,, সুন্দর লাগবে না তো
_ আরে বাল দেও তো,,গড়মে আমি মরেই যাবো,,,
নুবা ওরনা ঠিক করে সুন্দর মতো চুল টুল খোপা করে চুড়ি কানের দুল সব পড়ে বেড় হলো,,,
আরহাম লিভিং রুমে বসে ছিলো,,, এমন সময় পিছন থেকে শব্দ শুনে পিছনে ঘুরে দেখলো নুবা আয়রাকে কোলে নিয়ে বাইরের দিকে যাচ্ছে,,পিছনে আরশি হাজেরা আমিনা ,,,,আরশি আর নুবা দুইজনকেই সুন্দর লাগছে,,,
গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান শুরু হয়ে গেছে। চারদিকে হাসি, আনন্দ আর উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো বাড়ি। আত্মীয়-স্বজনেরা একে একে হলুদ মেখে দিচ্ছে, সবাই ব্যস্ত উৎসবের রঙে। অথচ এই আনন্দের ভিড়ের মাঝেই কেউ একজন ধীরে ধীরে মানুষের কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। কোলাহল থেকে নিজেকে আড়াল করে নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে আছে এক কোণে। তার চোখে যেন আনন্দের চেয়ে বেশি জমে আছে অজানা এক বিষণ্নতার ছায়া।
স্পিকারের তীব্র শব্দে পুরো বাড়ি কেঁপে উঠছে।
চারপাশে এত জোরে গান বাজছে যে নিজের কথা নিজেই শুনতে কষ্ট হচ্ছে।রঙিন আলো আর উচ্ছ্বাসে ভরে উঠেছে পরিবেশ।কেউ গানের তালে নাচছে, কেউ আবার হাসি-আড্ডায় মেতে উঠছে।উৎসবের আমেজে যেন মুহূর্তগুলো আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠল।
দূর থেকেও বোঝা যাচ্ছিল, এখানে কোনো বিশেষ আনন্দের অনুষ্ঠান চলছে।
নুবা এই সব থেকে এক কোনায় চেয়ার নিয়ে বসে আছে,,আয়রা আর আরহাম দুই জনেই আমিনার কাছে,,,আয়রার থেকে আরহামকে নিয়ে বেশি খেয়াল রাখতে হচ্ছে আমিনার,,
আরহাম তো এখানে আসবেই না আমিনা কোনো মতে আটকে রেখছে,, এদিকে গানের শব্দে এতো চিল্লাচিল্লিতে আরহামের মাথা ধরে যাচ্ছে,,,
এমন সময় আরশি এসে নুবার সামনে এক গ্লাস ঠান্ডা কোল্ড ড্রিংক ধরে বললো
_ নে তাড়াতাড়ি খা,,প্রানটা শান্তি হয়ে যাবে,,
নুবার তৃষ্ণা লাগায় খেতে লাগলো তখনি আরশি বলে উঠলো
_ কমড়ের তিলটাকে উঠানোর বৃথা চেষ্টা না করলেও পারতি,,,
সাথে সাথে নুবার মুখ থেকে কোল্ড ড্রিংক বাইরে ছিটে পড়লো,,নুবা হতভম্ব হয়ে কিছুটা ভয় পেয়ে বললো
_ কি,,কি বলছো,,,
আরশি এক গাল হেসে বললো
_ এতো সুন্দর করে হাচরেছিস কেন এতো সুন্দর কমড়টার কি অবস্থা করেছিস
নুবা বুঝতে পারলো না কি বললে আরশি আবারো বলে উঠলো
_ বল,,, শুধু শুধু এমন করেছিস কেন
_ ক,,কই,,,কেন করতে যাবো
_ মিথ্যা কম বল তোকে লেহেঙ্গা পড়ানোর সময়ই আমি খেলায় করেছি,,তবে কিছু বলেনি আম্মু আর চাচি সামনে দেখে,,
নুবা শুকনো ঢোক গিললো,,, পরপরই বলে উঠলো
_ আচ্ছা হাচরেছি ঠিক আছে কিন্তু তিলটা উঠানোর চেষ্টা করছি এটা কি করে বুঝলে
আরশি নুবার মাথায় থাপ্পর মেরে বললো
_ মেয়ে মানুষ আমি,, আন্দাজ করতে পারবো না নাকি,,আর যেভাবে একি জায়গায় আঘাত করেছিস তাই আন্দাজ করেছিলাম,,এখন তো দেখছি সত্যিই চেষ্টা করেছিস,,এখন বল কেনো এমন করতে হলো
নুবা কি বলবে খুঁজে পেলো না তাই বিরবির করে বললো
_ এলার্জির সমস্যা জানোই তো আজ গরু খেয়েছি না,,এতো চুলকাচ্ছিলো বিশ্বাস করো,,তা ছাড়া তুমি তো জানোই এই সব ব্যথা টেথা আমি সহ্য করতে পারি না,,,
নুবা আশে পাশে তাকিয়ে থাকি মেয়েদের দেখছে,,সবাই কত সুন্দর করে সেজেছে,, কাউকে কারো থেকে কম লাগছে না,,নুবার একটা স্বভার তার থেকে সুন্দর মেয়ে দেখলে তার হিংসা হওয়ার বদলে চেয়ে থেকে প্রশংসা করতে ইচ্ছে করে,,
নুবার পাশের চেয়ারে একটা আন্টি বশে বসে আছে,, আন্টি টা অনেক সময় ধরে নুবার দিকে চেয়ে আছে,,এতে নুবার অস্থির লাগছে তবে কিছু বলতে পারছে না নুবার ভাবনার ভিতরে আন্টি টা বলে উঠলো
_নাম কি তোমার
নুবা জোরপূর্বক হেঁসে বললো
_ আমার,,
_ হ্যাঁ,,
_ নুবাইরা রহমান,,
_ ও সুন্দর,, লেহেঙ্গা টা তো অনেক সুন্দর আর দামি মনে হচ্ছে কোথা থেকে নিয়েছো,,
_ আমার,,, আমার আপু দিয়েছে,,
_ও তা আরাফের কি হও,,
নুবার ঠোঁটে ঠোঁট চেপে আসলো,,কি বলবে সে,,, পরপরই বিরবির করে বললো
_ বোন,,,বোন,,,
_ ও,, কেমন বোন,, চাচাতো মামাতো খালাতো নাকি আপন,
নুবার দাঁতে দাঁত চেপে আসলো এতো কিসের প্রশ্ন,,তবু নুবা জোরপূর্বক হেঁসে উত্তর দিলো,,
_ চাচির নানির খালার,,,মায়ের মামির ছোটো বোনের বড় মেয়ে আমি, অনেক অনেক দূর সম্পর্কের বোন,,
মহিলাটা ভুরু কুঁচকে তাকিয়ে রইলো,,,নুবা উঠতে যাবে এমন সময় আরহাম একটা নরমাল চেয়াল নিয়ে এসে নুবার পাশে বসলো,,, এখানে দামি চেয়ারের সাথে নরমালটাও রাখা হয়েছে,,,
নুবা আরহামকে পাশে বসতে দেখে আবারো বসে পড়লো,,,এখন বেড় হতে এগলে আরহামকে সরতে বলতে হবে,,নুবা ওখানেই বসে রইলো,,,
এদিকে আরহামের কোলে আয়রা মাথা উল্টে নুবার দিকে তাকিয়ে মুখে আঙ্গুল ঢুকিয়ে হাসছে,,নুবা আয়রার মাথায় হাত বুলিয়ে বিরবির করে কথা বলতে লাগলো,,
গড়ম লাগছে না বললেই চলে কারণ আশে পাশে অনেক ফ্যান ফিট করা হয়েছে,,, এদিকে আয়রা নুবার কোলে আসার জন্য যেনো উল্টে পড়ে যাচ্ছে,,,বেশি মেকআপ না করায় নুবাকে চিনতে অসুবিধা হচ্ছে না তার,,
নুবা আয়রার ছটফটানি দেখে কোলে নিলো,,গালে দুটো চুমু খেএ বললো
_ এতো দুষ্টু কেন হ্যাঁ,, শুধু কোলে আসার ধান্দা,,,
আয়রা হেসে নুবার বুকে হাত মুখ চালালো নুবা বিরবির করে বললো
_ একদমি না,,,একটু আগে খেয়েছেন,,এখানে দেওয়া যাবে না আয়রা,,,
পাশের মহিলা এক পলক নুবার দিকে তাকিয়ে বললো
_ বিবাহিত নাকি,,, তোমার বাচ্চাটা তো অনেক cute,,
নুবা হতভম্ব হয়ে গেলো আন্টির দিকে ফিরে বললো
_ না না,,আপনি যেমন ভাবছেন তেমন না,,ও আমার মেয়ে না,,,
_ তাহলে,,,দেখে তো মনে হচ্ছে ফিড করতে চাইছে আর তুমি না করছো,,,
নুবা কি বলবে বুঝে উঠতে পারলো না,,,শুকনো ঢোক গিলে বললো
_ না মানে,, আমারি,, কিন্তু আমার না,,,আপনি বুঝতে পারছে,,বলতে চাইছি,,,
_ কি আমার,, আমার না,, আজকাল মেয়েরা বিবাহিত boyfriend থাকলেও নিজেকে single দাবি করে,,,কি দিন কাল চলে আসছে,,
নুবা মাথা চুলকালো,,, ফোঁস করে নিঃশ্বাস ফেলে আয়ারকে আরহামের কোলে ধরিয়ে দিয়ে কেটে পড়ার ধান্দা খুঁজলো,, কিন্তু আগে পিছে বেড় হওয়ার জাগা না থাকা শর্তেও বেড় হতে চাওয়ার আরহামের চেহারে বেঁধে নুবা প্রায় পরে যাবে যাবে ভাব,,,তার আগেই আরহাম নুবাকে বাঁচানোর জন্য এক হাতে উল্টো হয়ে মুখ থুবরে পড়া থেকে বাঁচিয়ে নিলো,,,
নুবা চোখ মুখ খিচে অনুভব করলো আরহামের পেশিবহুল হাত তার ঠিক পেট বরাবর পড়েছে,,নুবার শরীর শিরশির করে উঠলো,,, তাড়াতাড়ি সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে আরাহামের হাত ঝাড়া মেরে সরিয়ে বললো
_ ধরলেন কেন,,আর সরলেন না কেন,,, দেখছেন এখানে জাগা নেই চেয়ারটা নিয়ে এখানেই বসার ছিলো,,,
আরহাম বিরক্তি নিয়ে বললো
_ আয়রাকে দিতে এসেছিলাম,,,এখন ওকে নিয়ে রুমে যেএ বসে থাকবে,,এতো চিল্লাচিল্লিতে ওর সমস্যা হবে,,,
নুবা হতভম্ব হয়ে বললো
_ কি,,,আমি কেন,, আপনার মেয়েকে আপনি নিয়ে বসে থাকুন,,,
পাশের মহিলাটা নুবাকে হাত টেনে বসালো,,নুবা বিরবির করে বললো
_ আরে কি করছেন আন্টি,,,
পাশের মহিলা বলে উঠলো
_ ও এবার বুঝেছি husband এর সাথে ঝগড়া হয়েছে তাই না,,,
নুবাকে বিরক্ত হতে দেখে আরহামের কেন জানি শান্তি লাগলো তাই আগ বাড়িয়ে বললো
_ এমন কিছুই,,
(বলেই আয়রাকে নুবার কোলে ধরিয়ে বললো)
_ শুনো মেয়ে আমার মেয়ের ক্ষুধা লাগছে যেএ ফিড করিয়ে দিবে,,আমি গেলাম,,,
বলেই আরহাম চুপচাপ উঠে গেলো,,,নুবার বিচলিত মুখ দেখে নিজ অজান্তেই আরাহামের মজা লাগলো,,হাসি পেলো,,,
নুবা উঠে যেতে চাইলে সেই মহিলা তাকে টেনে বসিয়ে বললো
_ আরে এভাবে ঝগড়া করতে নেই,,,কত cute একটা মেয়ে তুমি যদি এভাবে রাগ করে husband মেয়েকে ফেলে রাখো হবে নাকি,, এরকম হয়ই,,,রাগ করতে নেই,,
নুবা কাঁদো কাঁদো কন্ঠে বললো
_ আরে আন্টি,,না উনি আমার husband ,, না এটা আমার মেয়ে,, আপনাকে যে কি করে বুঝাই
_ দেখেছো মুখে রাগ প্রকাশ পাচ্ছে,,,ঝগড়া লাগবেই তাই বলে স্বামী সন্তানকে অস্বীকার করবে নাকি বলদ মেয়ে,,
নুবা কপালে হাত দিয়ে বসে রইলো আর আন্টি তাকে নে সুন্দর সুন্দর জ্ঞান দিলো যা ভবিষ্যতে বিয়ে করলে নুবার কাজে আসবে,,
মেহেরিমা হোপ পেতে আছে কিন্তু আফসোস সে কোনো ভাবেই নুবাকে বা আরহামকে শায়েস্তা করার সুযোগ পাচ্ছে না,,,
রিহান আরশিকে মানাতে না পেরে তার ঠোঁট আঁকড়ে ধরলো,,আরশি ছটফট করে উঠলো,,, ধাক্কা দিয়ে রিহানকে নিজের থেকে সরিয়ে দিলো,,
রিহান বিরক্তি নিয়ে বললো
_ সমস্যা কি,,কতো দিন পর দেখা হয়েছে আদর করার বদলে ধাক্কা ধাক্কি ,রাগারাগি শুরু করছো,,
আরশি রাগে ফেটে উঠে বললো
_ লজ্জা হয় না এই কথা বলতে,,,
_ না হয় না,,এখন একটু জরিয়ে ধরতে দে বোইন,,কলিজা জলে যাচ্ছে,,,
আরশি রেগে কান্না করে উঠে বললো
_৫/৬ মাস হলো একবারো খবর নিয়েছেন,, শুধু নিজের কাজ আর কাজ,,
রিহান আরশির দুই গাল আগলে ধরে বললো
_ জাহাজে থাকি সময় পাই না,,জানোই তো কত বড় দায়িত্ব আমার উপর,,,
আরশি তেতে উঠে বললো
_ এই চাকরি আমার ভালো লাগে না কতবার বলবো আপনাকে,,
_ কিন্তু আমার তো ভালো লাগে,,,
আরশি অনেকটা রেগে যেএ রিহানের কলার চেপে ধরে বললো
_তুই এই চাকরি ছাড়বি না হলে আমাকে ছাড়বি,,,
রিহান হতভম্ব হয়ে বললো
_ কি,,এই সব কেমন কথা আরশি,,,
_ আমি কিছু জানি না আমার কসম এই চাকরি ছাড়বি তুই,,না হলে আমি তোর সাথে আর থাকবো না,,, তুই খালুর ব্যবসায় হাত দিবি ,,আমি এভাবে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে পারবো না,, অসহ্য লাগে আমার,,,
বলেই রিহানের ডান হাত নিয়ে নিজের মাথার উপর রাখলো,,রিহান হাত সরিয়ে নিতে চাইলো আরশি সরাতে দিলো না,,,
রিহান দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে প্রিয়শির কান্না দেখে বললো
_ আচ্ছা,,,ছেড়ে দিলাম এই বালের চাকরি,,,ছেড়ে দিলাম শান্তি হয়েছে,,, আব্বুর ব্যবসায় হাত দিবো হয়েছে তাও কান্না অফ কর,,,
আরশি রিহনের কথায় সন্তুষ্ট হলো ,,জাপটে তাকে জরিয়ে ধরে বললো
_ একটা ফোন কলের জন্য তৃষ্ণার্ত পাখির ন্যায় মোবাইল নিয়ে বসে থাকতাম,,একটিবার কি আমার কথা মনে পড়তো না,,কল দিতে পারতেন না,,
_ এবার থেকে আর হবে,,, তুমি বললেন এখনি এই চাকরি থেকে রিজাইন দিবো,,
_ ভয় হয়নি ,,রেখে রেখে চলে যান,,খবর রাখেন না যদি বাবা অন্য জায়গায় বিয়ে দিয়ে দেয়,,তখন,,
রিহান ঠোঁট হেলিয়ে হেসে বললো,,
_ সেই জন্যই তো কাজ সেরে রেখেছি,,দূরে থাকলেও ভয় হয় না জানি আমার বউ আমারি থাকবে,,আর এসে আপনাকে কত খুঁজলাম কোথায় ছিলেন,,,
আরশি অভিমান করে বললো
_ খুঁজেছিলেন নাকি সব মেয়েদের সাথে আড্ডা দিচ্ছেন পরে আমি যখন ইয়াশকে দিয়ে খবর পাঠিয়েছি তখন খুঁজেছেন,,,
রিহান আরশির কান টেনে ধরে বললো
_ ও তো এই ফাজলামি আপনার,, আমার কলিজার পানি শুকিয়ে গেছিলো,,,
_ আচ্ছা অনেক হয়েছে এবার সরুন,,কেউ দেখে ফেলবে,
রিহান সরলো না,,আরশিকে নিজের সাথে জরিয়ে ধরে বললো
_ ছাড়তে ইচ্ছে করছে না,,কতদিন পর দেখা ,কিছুই কি পাবো না
_ না না,,,একদমি না,,কেউ দেখে ফেলললে সর্বনাশ হবে,,ভাইয়া এবার আপনাকে ৩ নাম্বার কোপ মারবে,,
রিহান বুকের বাম পাশে হাত রেখে বললো
_ ইস্ মনে করিয়ে দিলেন,, কিন্তু আফসোস আমি এখন আর কিছু শুনবো না,,চলেন,,
আরশি চোখ বড় বড় করে বললো
_ না না,,আমি অনেক কষ্ট করে রেডি হয়েছি
_ আবারো রেডি করিয়ে দিবো
_না please,,
_ স্বামীর হোক নষ্ট করবেন,
আরশি মুখ বাঁকিয়ে বললো,,
_ কেমন স্বামীরে বাবা,,এই জন্য বিয়ের কথা কেউ জানে না
_ কে বলছে জানে না,, আপনার আর আমার পরিবার ব্যতিত বিয়েতে সাক্ষী কয়জন রেখেছিলাম ভুলে গেছেন,,,সময় হলে সবাইকেই বলবো,,
বলেই রিহান আরশিকে কোলে তুলে নিলো,,আরশি রিহানের গলা শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বললো
_ ভয় হচ্ছে কেউ দেখে ফেললে
_ কেউ দেখবে না,, আপনার জন্য একটা ফ্লাট কিনেছি,,আলাদা ভাবে থাকলে ওখানেই থাকবো,,,
_ খালা খালুর সাথেই থাকোব আলাদা কেন
_ যদি আপনার সমস্যা হয় তাই,,
কথা বলতে বলতে তারা ছাদ থেকে আরশির রুম পর্যন্ত চলে আসলো,,,বাড়িতে কেউ নেই সবাই বাগানে আর এতো জোরে গান বাজছে বাড়িতে জোর ঢুকলেও কেউ টের পাবে না,,,
আমিনা বেগম হাজেরাকে ঠেলে বললো
_ কি হলো যাচ্ছো না কেন,,
হাজেরা মাথা নিচু করে বললো
_ আমি হলুদ দিবো কেমন জানি আপা,,
_ আশ্চর্য,,আরফ কি তোমার ছেলে না,,ও বুঝতে পারছি চলো আমিও যাই,,
_ না থাকনা আপা এখানেই বসে ভালো আছি
_ হাজেরা,,, তুমি দেখি আমাদের পড় ভাবো,,
_না মানে,,
_ তুমি চলো তো,,,
যেতে যেতে আমিনা বেগম ৫ হাজার খানিক টাকা হাজের হাতে নিয়ে দিলেন প্লেটে দেওয়ার জন্য,,উনি বুঝতে পারছিলেন হাজেরা এই জন্যই যেতে চাইছে না,,
আমিনা বেগম যেএ আবরো ছেলের পাশে বসলেন বাম পাশে হাজেরা,,এতো বড় বড় মানুষের ভিতরে নিতান্তই ৫ হাজার একটু কম তবে আমিনার হাতে কেস টাকা বেশি না থাকায় এতটুকুই পেরেছে,,
পুরো একটা দল এসেছে,, ভিডিও করার জন্য ক্যামেরা ম্যান লাইট ক্যামেরা সব সেট করে আরাফের স্টেজের সামনে দাঁড়িয়ে আছে,,
রিহান ছোটো চোখ করে আরশির দিকে তাকিয়ে বললো
_ আমি যা ভাবছি আপনিও কি তা ভাবছেন,,
আরশি লজ্জায় লাল হয়ে বললো
_ না,,তা ভাবছি না,,
রিহান পাঞ্জাবির সামনের দুটো বোতাম উন্মুক্ত করতে করতে বললো
_ হুম,, লজ্জায় লাল হচ্ছেন যে,, মনে হচ্ছে প্রথব বাসর,,
আরশি রিহানের উন্মুক্ত বুক আঁকড়ে ধরে বললো
_ আমাকে লজ্জায় ফেলে মজা পান
_ অনেক বেশি,,,
রিহান আরশির লেহেঙ্গায় হাত রাখতেই আরশি কম্পিত কন্ঠে বললো
_ ভয় লাগছে কেউ চলে আসবে,,
_ আসুক,,,অবৈধ ভাবে তো কিছু করছি না,,, 🫠 ২০ জন সাক্ষী রেখে বিয়ে করেছি,,,মনে নেই ছোটো খাটো অনুষ্ঠানো হয়েছিলো শুধু আপনার আর আমার পরিবার জানে না,,,
রিহান রুমের এসির পাওয়ার বাড়িয়ে দিলো,, পরপরই নিজ বৈধ প্রিয়সীর উপর নিজের হোক অধিকার ফলাতে ব্যস্ত হলো ,
দীর্ঘদিনের জমে থাকা অনুভূতিগুলো যেন নীরবে ভাষা খুঁজে পেল সেই মুহূর্তে। আরশি লাজুক চোখে তার দিকে তাকাতেই রিহানের ঠোঁটে ফুটে উঠল এক প্রশান্ত হাসি।
রিহান আলতো করে আরশির হাতটা নিজের হাতে মুঠো করে নিল। একে অপরের চোখে হারিয়ে গিয়ে যেন সময়ের হিসাব ভুলে গেল তারা। চারপাশের পৃথিবী ধীরে ধীরে নিঃশব্দ হয়ে এলো, রয়ে গেল শুধু তাদের হৃদস্পন্দনের মিষ্টি সুর। রিহানের বুকে মাথা রেখে আরশি চোখ বন্ধ করতেই এক অদ্ভুত প্রশান্তি ছড়িয়ে পড়ল দুজনের মাঝে।
রিহান আরশির কপালে আলতো করে ঠোঁট ছুঁইয়ে দিল, যেন নিজের সমস্ত ভালোবাসা সেই স্পর্শে ঢেলে দিতে চাইলো সে, আরশি নীরবে তার বুকে মুখ লুকিয়ে রইল, নিরাপত্তা আর আপনত্বের এক অদ্ভুত অনুভূতিতে। বাইরে রাত ধীরে ধীরে গভীর হচ্ছিল, আর তাদের কথাগুলো হারিয়ে যাচ্ছিল নীরবতার মাঝে। কোনো তাড়াহুড়ো ছিল না, ছিল শুধু একে অপরকে অনুভব করার শান্ত আকাঙ্ক্ষা। রিহানের বাহুবন্ধনে আরশির চোখ দুটো আস্তে আস্তে বুজে এলো। সেই মুহূর্তে মনে হচ্ছিল, পৃথিবীর সমস্ত কোলাহল থেকে দূরে তাদের ছোট্ট পৃথিবীটাই যেন সবচেয়ে সুন্দর। ভালোবাসার উষ্ণতা আর বিশ্বাসের বন্ধনে ক্ষুন্ন সময় টুকু ধীরে ধীরে স্মরণীয় হয়ে উঠল।
ঘরের ভেতর ছড়িয়ে পড়ল ভালোবাসার উষ্ণ আবেশ। একে অপরের সান্নিধ্যে হারিয়ে গিয়ে তারা ভুলে গেল চারপাশের সব ব্যস্ততা।আরশি সকল লজ্জা ভুলে নিজের সবকিছু আবারো রিহানের নামে উৎসর্গ করতে ব্যস্ত হলো,,ঘরের নরম আলোয় তাদের ছায়াগুলোও যেন এক হয়ে গেল।
আমিনা বেগম নুবাকে আয়ারকে নিয়ে বসে থাকতে দেখে চিন্তিত কন্ঠে বললো
_ আরহাম কোথায়,,,
_ কে জানে,, তোমার ছেলে ওকে ধরিয়ে দিয়ে চলে গেলো,,
_ কি,,, হলুদ ছুইয়েছিস,,
_ না,,,
_ আচ্ছা উঠ,,আগে আরহাম কোথায় গেলো দেখি,,,আর আরশি কোথায় গেলো আল্লাহ জানে কাজের সময় একটাকেও হাতের কাছে পাই না,,
নুবা উঠে দাঁড়িয়ে বললো
_ আম্মুকে দেখছো,,
_ হ্যাঁ,,,বললো শরীর ভালো লাগছে না রুমে মনে হয়,,
_ ও ,,,
_ এখন আবার তুইও যেএ বসে থাকিস না,,, আমার সাথে চল,,
আমিনা বেগমের পিছন পিছন আয়ারাকে নিয়ে নুবা হাঁটছে,,,আমিনা বেগম বাড়ির চিপা চাপা খুঁজছে,,,
নুবা চাচির খোঁজার জায়গা দেখে বললো
_ এই সব জায়গায় থাকবে তোমার ছেলে,,
_ আয় তুই,,,কোন খানে না কোন খানে বসে অকাজ করে ফেলে,, বাচ্চাদের থেকে ওকে নিয়ে বেশি টেনশন,,,
আমিনা বেগম খুঁজতে খুঁজতে ছেলেকে পেয়েও গেলো,,,বাড়ির এক কোনায় দেওয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে সিগারেট ফুকছে,,, সবকিছু থেকে দূরে,,,নিরবে,,,
আমিনা বেগম এগিয়ে এসেই ছেলের হাত থেকে টেনে সিগারট ফেলে বললো
_ এখানে কি করছিস,,তোকে না বল্লাম চুপচাপ ওখানে বসে থাকতে,,
আরহাম এক রাশ বিরক্তি নিয়ে বললো
_ ওই খানে বসে আমার মাথা ধরে গেছে,,, headache হচ্ছে,,, তুমি ভালো মতোই জানো আমার চিল্লাচিল্লি পছন্দ না,,
নীরব উন্মাদনা পর্ব ২৭
_ আচ্ছা রুমে চলে যাস,,,আরফকে হলুদ ছুঁইয়ে যা,,
_ I can’t do this.Please,,,যাও,,,
_ মানে কি ভাইকে হলুদ ছুয়াবি না,,
_ এই রিচুয়াল আমার একদমি পছন্দ না,,,
আমিনা বেগম ছেলের হাত ধরে বললেন
_ ২ মিনিট লাগবে বাবা চল,,,, একটু হলুদ ছুঁইয়ে দিবি ব্যাস,,,
আরহাম যাবে না তাও আমিনা বেগম জোর করে নিয়ে গেলো,,
হলুদের থালা আরাফের মুখে মেরে_
