নীরব উন্মাদনা পর্ব ৮৪
সুরাইয়া জিয়াসমিন
নুবা উত্তর দিতে পারলো না,,,কে চাইবে নিজের সন্তান কে এরকম ছেলের হাতে তুলে দিতে,,,যে নেশা করে,, বিবাহিত,, বাচ্চা আছে তার উপর অস্বাভাবিক, ,,
কোনো মাই চাইবে না তার উপর যদি হয় বাপ ছাড়া মায়ের কলিজা,, একটাই মেয়ে,,,,যাকে ছাড়া বেঁচে থাকা কঠিন তাকে কি করে এমন মানুষের হাতে তুলে দিবে,,
হাজেরা একটু থেমে কেমন অস্থির কন্ঠে বললো
_ মনে আছে তোর রাজুর কথা,,,নেশা করে যে বউ কে কুপিয়ে হত্যা করেছিলো,,নিজের বাচ্চাটাকেও ছাড় দেয়নি,,মনে নেই তোর,,,ও মনে থাকবে কি করে তুই তো তখন অনেক ছোটো,,,আমি ওই সব বলতেও চাই না নুবাইরা,,মা হই তোর,,তোর খারাপ ভাববো না,,,ওই ছেলে ভালো নারে মা মেরে ফেলবে তোকে,, তুই নিজেই একটু ভেবে দেখ এমন মানুষের সারে জীবন কি করে কাটাবি,, জীবন টা জ্বলতে জ্বলতে যাবে তোর,,একে তো অর্ধ পাগল তার উপর নেশাখোর,,তোর কি মনে হয় ওরা ঘড় সংসার করার জন্য জন্ম নিয়েছে,,এটা মনে হয় তোর,,,দুটো মিষ্টি কথা বলে জালে ফাসিয়েছে তোকে,,ভালো টালো কিছু বাসে না,,,
নুবার ঠোঁট তিরতির করে কাঁপতে লাগলো এখনি যেনো কান্নায় ভেঙে পড়বে সে,,, আরহাম বুকে ছুরি ধরতে পেরেছে তবে দ্বিতীয় বার যে গেঁথে দিবে না কি ভরসা আছে,,তার উপর মেরে ফেলার হুমকিও দেয়,,,কথা না শুনার শাস্তি যদি মৃত্যু হলো তবে,,ভেবেই নুবার শরীর কাঁটা দিলো,,,রাজুর ব্যপারটা শুনে কিছু ঝাপসা দৃশ্য চোখে ভেসে আসলো শুনেছিলো সে,, এমন কি খবরেও তো এই সব দেখায়,,তার কপালো কি এরকম হবে,,আরহামের হাতেই কি তার মৃত্যু অনিবার্য,,কোন গোলক ধাঁধায় পড়লো সে,,তার মা তো তাকে বলছে না বরং ভয় দেখাচ্ছে,,,নিজেও মেয়েকে নিয়ে ভয় পাচ্ছে,,সাথে মেয়েকেও এই সব বলে ভয় দেখাচ্ছে,,,
নুবা শুকনো ঢোক গিলে দুই কদম পিছিয়ে গেলো,,,ঘাম ছুটছে কপাল দিয়ে,, রক্ত,,কাটা ছিরা,,নেশা,,,এই সব কিছু নুবার দুই চোখের শত্রু,, শেষ পর্যন্ত এমন একটা মানুষের পাল্লায় পড়লো সে,,,যে কিনা এই সব ছাড়া কিছু বুঝে না,,কি হবে তার,,,,তার উপর পরি,,যদি এমনটি হতো পরিকে তার ভালো লাগতো,,তার পিছনে থরি পড়তো,,তবে আরহাম চাইছেটা কি,,,নুবার মাথা ঘুরে উঠলো,,,বুক কাঁপতে লাগলো,,,
হাজেরা কম্পিত কন্ঠে বললো,,
_ তুই বল,,তোর যদি একটা মেয়ে থাকতো তবে তুই কি তোর মেয়েকে ওরকম অমানুষের হাতে তুলে দিতি,,,দিতি তুলে,,,,হুম বল নুবাইরা,,,
নুবা মাথা ঝুঁকিয়ে না করলো,,,
হাজেরা বুক চাপড়ে বললো
_ তাহলে আমার ভুলটা কোথায়,,আমিও তো চাই না,,তোকে মেরে ফেলবে না কোনো ঠিক আছে,,, যদি ভালো বাসতো তবে একটা কথা ছিলো,,, কিন্তু ওই ছেলের চোখে আমি এমন কিছুই দেখি না,,, ভালোবাসা কেমন হয় নুবা,,দুই জন দুই জনকে সম্মান করবে,,মতের মিল থাকবে,,,আগলে রাখবে,,,ভালোবাসা কি এরকম হওয়া উচিত না,,,তোর বাপকে আমি ভালো বেসেছি,,,উনি আমাকে আগলে রেখেছিলেন,,, আচ্ছা তুই আমার কথা বাদ দে আরশিকে দেখ,,,রিহান এতো গুলো মার খাওয়া পর কি তার আরশির উপর বা কোনো রকম প্রতিবাদ করার দরকার ছিলো না তার,,তবে করেনি,,কেন জানিস,,আরশির মুখের দিকে তাকিয়ে যাতে ঝামেলা না বারে,,, তাদের বিয়েটা যাতে ভালো ভাবে হয়,,,আর ওই ছেলে শুধু ঝামেলা পাকাতে না জানে,,,মিটাতে না,,
নুবা নাক টেনে ফুঁপিয়ে উঠলো,,,মায়ের কথা গুলো এতো বিষাক্ত লাগছে কেন তার কাছে,,
হাজেরা কাতর কন্ঠে বললো
_ তোর কি মনে হচ্ছে আমি তোকে কান ভাঙানি দিচ্ছি বা তোকে ওর প্রতি ঘৃনা করতে উস্কিয়ে দিচ্ছি,, হ্যাঁ,,, এমন মনে হচ্ছে,,,একদমি এরকম না,,যা তুই নিজের চোখে দেখেও দেখছিস না তা তুলে ধরছি যে ভবিষ্যতে তোর সাথে কি কি হতে পারে,,,ওই ছেলে না আমাকে সম্মান করে না অন্য কাউকে,,, তুই কি চাস তোর স্বামী এরকম অভ্রদ হোক,,,সবার তো ইচ্ছা থাকে তার স্বামী কেমন হবে তোর কি ইচ্ছা হয় না যেই মানুষ টাকে তুই বেছে নিবি সে ভালো হোক,,সবাই তাকে দেখলেই খুশি হোক,,,
নুবা মাথা ঝুঁকিয়ে হ্যাঁ বললো,সে চায় তার স্বামীকে সবাই সম্মান করুক,,সে সবার সাথে ভালো ব্যবহার করুক তবে আরহামের ভিতরে ভালো গুন একটাও নেই,,হাজেরা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_তুই দুই দুই বার একি ভুল করেছিস নুবা তবে আমি তোকে তৃতীয় নাম্বার পথ খুলে দিয়েছি আশা রাখছি এবার ভুল করবি না,,,যা ছিলো সব ভুলে যা,,আর ভাব তোর মা ভুল বলছে নাকি ঠিক,,নিজেই ভাব তুই,,,আর কিছু বলতে চাই না আমি
বলেই হাজেরা রুম থেকে বেড় হয়ে গেলো,,নুবা ধপ করে বিছানায় বসে পড়লো,,,তার মার বলা কথা গুলো ভুল না,,তবে তার মন খচখচ করছে কারণ তার মা কেনো বললো ২ টা ভুল,,,তার তো একটা ভুল বলাল দরকার ছিলো,,তার মা কি করে জানলো সে দুই দুই বার এই নির্লজ্জের মতো কাজ করেছে তবে কি তার মা সব জানে,,,,
ছেলে পক্ষ চলে এসেছে,, হারুন মির্জা এসে তাদের সাথে ভাব বিনিময় করছেন,,তবে বুকের ভিতরে বড় একটা পাথর চেপে ধরে আছেন তিনি,,এক জনকে বিদায় করতে না করতে আর এক জনের পালা,,,বাড়িটা নিশ্চিয় ফাঁকা হয়ে যাবে তার,,,
সাব্বির (দেখতে আসা ছেলে) মাথা নিচু করে বসে আছে,,,অমিনা বেগম এগিয়ে এসে বিকালের হালকা নাস্তা রাখলেন,, হারুন মির্জা সবার দিকে এক কল তাকিয়ে বললেন
_ আসলে অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে বড় মেয়েটার বিয়ে হলো কাল মাত্র,,তাই বাড়িটা এতো অগুছালো,,আপনারা কিছু মনে করবেন না,,,
সাব্বিরের বাবা বলে উঠলেন
_ সমস্যা নেই,,আপনারা গোছালো তা বোঝা যাচ্ছে একটু এলোমেলো থাকতে পারে,,
_ কিছু তো নিচ্ছেন না,,,নেন আপনাদের জন্যই তো,,
_ এতো কিছু না করলেই পারতেন,,আমরা মনে হয় ভুল সময়ে এসেছি,,আপনি দুই দিন পর আসতে বললেও সমস্যা ছিলো না,,
হারুন মির্জা হেসে বললেন
_ আরে না না সমস্যা নেই,,
আরাফের মুখ কালো হয়ে আছে,,নুবার বিয়ে দিয়ে দিবে,,তার মানে তার অকাজের স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে,,তবে এক দিক দিয়ে খুশি হলো সে আরহামের সাথে বিয়ে হবে না তার,,আর না এই বাড়ির বউ হতে পারবে,,,
হারুন মির্জা সবার সাথে তাদের পরিচয় করিয়ে দিলেন,,
_ এটা আমার সহধর্মিণী,,,(আমিনার দিকে ইশারা করে)পরপর আরাফের দিকে ইশারা করে বললো,,আমার ছোটো ছেলে,,,বড় ছেলে বাড়িতে নেই,,মেয়ের তো বিয়ে হয়েছে গেছে একটু আগেই বল্লাম,,,আর এটা আমার ছোটো ছেলের বউ ইশিতা,,,আর এটা আমার বড় ছেলের হবু বউ,,,
পরির দিকে ইশারা করে বললেন তিনি,, হারুন মির্জা পরিচয় করিয়ে দিলেন কারণ হচ্ছে এরা বারবার পরির দিকে তাকাচ্ছিলো,, হয়তোবা পছন্দ হয়েছে তাই,, কিন্তু বলতে পারছিলো না ভদ্রতার ক্ষাতিতে তাই পরিচিত করিয়ে দিলো,,
পরি বড় ছেলের হবু বউ শুনে তাদের আশায় পানি পড়লো,,,
ছেলের মা মৃদু কন্ঠে বললো
_ এবার মেয়েকে আনলে হতো আরকি,, অনেক সময় তো হলো,,
হারুন মির্জা হেসে বললেন
_ হ্যাঁ হ্যাঁ কেনো নয়,,,আমিনা,,নুবাকে নিয়ে আসো তো,,,
আমিনা বেগমের বুকটা খচ করে উঠলো,,,ছেলেও এখনো বাড়ি ফিরেনি,,কি করবে সে,,,সে শুধু রাহ দেখছে কখন আরহাম আসবে,,,
নুবার পা চলছে তো চলছে না,,আমিনা আর হাজেরা নুবাকে টেনেও এগিয়ে নিয়ে পাড়ছে না,, নেতিয়ে পড়ছে সে,,হাজেরা মেয়ের মাথায় শাড়ির আঁচল টেনে দিয়ে ছলছল চোখে বললেন
_ নুবাইরা,,,
মায়ের কান্ত কন্ঠে নুবা কেঁপে উঠলো,,,তিরতরি করে কাঁপতে থাকা শরীর আরো কেঁপে উঠলো,,আমিনা বেগম ফিসফিস করে বললেন
_ নুবা,,চল,,,
নুবা অসহায় দৃষ্টিতে আমিনা বেগমের দিকে তাকালো,,আজ এমন কিছু হবে তার ধারনায় ছিলো না,,,আমিনা বেগম চোখের ইশারায় নুবাকে শান্ত করলেন,,,
নুবা ধীরে ধীরে কদম ফেলে মাথা নিচু করে এগিয়ে গেলো,,,,
নুবাকে এনে সবার সামনে বসানো হলো,,,নুবার শরীর কাঁপছে,,এর আগে কখনো সে এরকম পরিস্থিতিতে পরেনি এই প্রথম তাও এরকম একটা অবস্থায়,,,
হাজেরাকে মেয়ের পাশে বসতে বললো হারুন মির্জা,,পরপর নুবার দিকে তাকিয়ে বললো
_ আমার ভাইয়ের মেয়ে,,ধরতে গেলে আমার ছোটো মেয়ে ও ,,,রুপে গুনে আলহামদুলিল্লাহ,,,তবু আপনাদের কোনো প্রশ্ন থাকলে করতে পারেন,,,
নুবা দুই হাত দিয়ে শাড়ি চেপে ধরে মাথা নিচু করে আছে,,তার মাথাটা কেমন ঘুরছে,,, সাব্বিরের মা বাবা আর বোন আর দাদি এসেছে,,,৫ জনি,,,
সবার ভিতরে সাব্বিরের মা বলে উঠলো
_ চেহারাটা একটু দেখি মা,, আজকাল এভাবে লজ্জা পায় নাকি মেয়ে মানুষ,,,
নুবা চোখ বন্ধ করে নিলো,,,তার ইচ্ছা হচ্ছে এখন সে মাথা ঘুরে পরে গেলে ভালো হবে কিন্তু হচ্ছে না,,, ইচ্ছা করছে ইচ্ছা করে মাথা ঘুরে পড়ে যেতে তবে তার অভিনয় খুবি কাঁচা,,ধরা পড়ে যাবে সে,,,
নুবা মাথা মাথা উঁচু করতে চাইলো না,,হাজেরা কিছু বলার আগেই হারুন মির্জা বলে উঠলেন,,,
_ নুবা,,মা মাথাটা উচু করো,,,
নুবা কাঁপতে লাগলো,,এতো নার্ভাস লাগছে কেন তার,,,নুবা নিজেও জানে না,,আরহামের ভয়ে নাকি এটা প্রথমবার দেখে,,,নুবা হিসাব মিলাতে পারলো না,,হাজেরা দাঁতে দাঁত চেপে আলতো করে নুবার থুতনি ধরে সুধালেন
_ নুবা,,,
নুবা চোখের পানি লুকিয়ে সবার দিকে তাকালো,,,কি সুন্দর তাই না,, মেয়েদের এরকম কেনো প্রদর্শন করা হয়,,একটা গরু বেচার মতো খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে তাদের কেন দেখা হয়,,,কেনো,,, একটা খুঁত থাকলে কেন কথা শুনতে হয়,, ছেলেদের তো এভাবে দেখা হয় না না খুঁত ধরা হয়,,তবে আমাদের বেলায় এতো অবিচার কেন,,,
নুবা চোখ তুলে সবার দিকে তাকালো,, সাব্বির অনেক সময় ধরেই আগ্রহ দেখাচ্ছিলো নুবাকে দেখার,,নীল শাড়িতে নুবাকে সুন্দর লাগছে,,হাত পায়ে একটা সৌন্দর্য বহন করছে,,মুখটা দেখার জন্য ছটফট করছিলো সে,,, অথচ সে কিন্তু ছবিতে নুবাকে দেখেছে তাও সামনাসামনি দেখার জন্য তর সইছিলো না তার,,,
নুবা সবার দিকে তাকাতেই ছেলের বাবা একটু হেসে বললেন
_ মেয়ে তো ছবির থেকেও বেশি সুন্দর,,,,
নুবার ঠোঁট দুটো কাঁপতে লাগলো,,এই আরহাম কি ডিরেক্ট তার তার বিয়ের দাওয়াত খেতে আসবে,,,,
পরপর ছেলের মা অনেক গুলো প্রশ্ন করলো,,
_ নাম কি তোমার,,,
নুবার মুখ দিয়ে কথা বেড় হতে চাইলো না,,,তাও কেমন কম্পিত কন্ঠে কিছু বলতেই যাবে তখনি আয়রার কান্নায় শব্দ ভেসে আসলো,,,নুবা কারো পাত্তা না দিয়ে পিছন ফিরে দেখলো আরহাম মেয়েকে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে,,,আরহামকে দেখে নুবার কম্পিত ঠোঁটে কোনো হাসি ফুটে উঠলো,,,
এদিকে আরহাম লিভিং রুমের অবস্থা দেখে হতভম্ব,,তার উপর নুবাকে এভাবে সং সাজিয়ে বসিয়ে রেখছে দেখে তার কপালের রগ ফুলে গেলো,,সব কাজ শেষ করে মাত্র বাড়ি ফিরেছে এস তবে লিভিং রুমে এসে এই অবস্থা দেখে তার রক্ত টগবগ করছে,,,
ছেলেকে দেখে আমিনা বেগম শান্তি পেলো,,,হাজেরা মেয়ের দিকে গড়ম চোখে তাকিয়ে বললো
_ নুবা,,,,
নুবা বুকে পাথর রেখে চোখ সরিয়ে নিলো,,, আমিনা বেগম ছেলের কাছে এগিয়ে যেএ ফিসফিস করে বললেন
_ এসেছিস তবে,,,নুবাকে দেখতে এসেছে,,,তোর বাপ আর শাশুড়ি কাজ এই সব,,,না আমাকে কিছু বলেছে না নুবাকে,,,
আরহাম দাঁতে দাঁত পিষে বললো
_আসলো আর তুমি ওকে সমানে বসিয়ে দিলে,,, জানোয়ার সেজেগুজে অন্যের সামনে,,,,,ওকে তো,,
আরহাম রেগে হাঁসফাঁস করতে করতে তেরে যেতে ন্যায় ,,আমিনা বেগম ছেলের হাত ধরে দূরে সরিয়ে ফিসফিস করে বলে,,,
_ কোনো ঝামেলা করবি না,, এরা যাক তার পর যা হওয়ায় হবে,, তুই ঝামেলা করলে তোর বাপের মান সম্মান সব ধুলোই মিশে যাবে,, একটু ধৈর্য ধর ওরা যাক,,
আরহাম মায়ের কথায় শান্ত হলো তবে রক্ত টকবক করতে লাগলো তার,,,যার জন্য করলে চুরি যেই বলে চোর এমন একটা কথা আছে না,,যার জন্য ভর দুপুরে মেয়েকে নিয়ে সব ব্যস্ততা করে রেখে আসলো আর সেই মেয়ে এখনো তারি দেওয়া শাড়ি পড়ে অন্য ছেলের সামনে প্রদর্শন করছে,,,
সবাই আরহামের থেকে চোখ সরিয়ে নিলো,,, আরহাম মায়ের কথা শেষ হতেই আয়ারকে নিয়ে এগিয়ে গেলো,,,হাজেরা,,আমিনা বেগম,,, হারুন মির্জা,,আরাফ,পরি সবার কলিজা মুখে চলে আসলো,,এই আরহাম এখন কি করবে ভেবে,,
নুবা শুধু মাথা নিচু করে দাঁতে দাঁত চেপে নিজেকে থাপ্পর খাওয়ার জন্য প্রস্তুত করলো,,,, তবে আরহাম এগিয়ে এসে কান্না রত আয়ারাকে নুবার কোলে ধরিয়ে দিলো,,নুবা পিলে চম্কে উঠলো,,, আরহাম মেকে দিয়ে ঝুঁকে দাঁতে দাঁত চেপে ফিসফিস করে বললো
_ এখানে বসেছিস না,,আজ দেখবি তোর কি অবস্থা করি,
পরপর ঠোঁট হেলিয়ে হেসে একটু জোরেই বললো,,কন্ঠে বললো
_ মেয়েকে একটু ফিড করিয়ে দেও তো , দুপুর থেকে কিছু খায়নি,, তোমার জন্য ছটফট করছিলো,,,
বলেই আরহাম সরে গেলো,,সবাই হতভম্ব হয়ে গেলো নুবা খাওয়াবে মানে,,,সবার মুখে অবাক ভাব,,, অতঃপর আরহাম যেএ সাব্বিরের পাশের সোফায় বসে দাঁতে দাঁত চেপে হেঁসে বললো
_ মেয়ে দেখতে এসেছো,,তবে হাত পা নিয়ে ফিরে যেতে পারবে তো,,,
আরহামের কথায় সবাই হকচকিয়ে গেলো,,হাজেরা দাঁতে দাঁত চেপে আরহামের দিকে তাকালো,, হারুন মির্জা ক্ষিপ্ত হয়ে ছেলের পানে তাকালো,,সাব্বির থতমত খেএ বললো
_ মা,,মানে,,,
আরহাম শব্দ করে অদ্ভুত ভাবে হেসে বললো,,,
_ না মানে মেয়ে এতো সুন্দর,, মন,,,প্রান,,হাত পা এখানেই রেখে চলে যেতে ইচ্ছা করবে,,এমনো হতে পারে এক হাত কলিজাটা এখানেই রেখে গেলে,,তাই না,,,, এতো নাদুসনুদুস মেয়ে আর এই বাড়ি ছাড়া কোথায় পাবে,,,
লাস্ট লাইন টুকু দাঁতে দাঁত চেপে নুবার দিকে তাকিয়ে বললো,,, সাব্বির ভাবলো মশকরা করছে তাই একটু লজ্জা পেলো,,,
হারুন মির্জা পরিস্থিতি সামলাতে আয়ারকে নিজের কোলে নিয়ে আমিনা বেগমের কাছে দিতে দিতে বললো,,,
_ ও আমার বড় ছেলে আরহাম,,, actually অনেক মশকরা করে,,নুবা ওর ছোটো বোন তো তাই আরকি একটু আকটু,,,
বলেই জোরপূর্বক হাসলেন হারুন মির্জা,,ছেলের মা ভুরু কুঁচকে বললো
_ কিন্তু ভাই,,এই বাচ্চা,,,আর ওকে ফিড*,,,,,,
হারুন মির্জা সাব্বিরের মাকে থামিয়ে দিয়ে বললো
_আরে আপানরা ভুল বুঝছেন,,,নুবা ফ্রি থাকে সবসময় ওর খেলায় রাখে তো,,তাই ফিডার দিয়ে ফিড করানোর কথা বলছে,,,ফুপি হয় বুঝেন তো বাচ্চার প্রতি আলাদ টান,,,
_ আর বাচ্চার মা কোথায়,,
_ ওর আম্মু মারা গেছে,,তাই তো ছেলেকে আবার বিয়ে দিচ্ছি,, আচ্ছা এই সব কথা রাখুন তো,,,
হারুন মির্জা বিপাকে পড়লো কখনোই এই সব পরিস্থিতিতে পড়েনি সে তাহলে কি করে সামাল দিবে,, নিজেকে বোকা মনে হলো তার,,,
আরহাম নুবার দিকে তাকিয়ে সোজা হয়ে বসে বললো
_ সে কি dad আপনি কি উনাদের বলেননি নুবা যে আয়রার দু,,,,,,
হারুন মির্জা ছেলেকে ধমকে উঠে বললেন
_ just shut up আরহাম,,বাইরে থেকে এসেছো যাও ফ্রেশ হয়ে আসো,,,
আরহাম ঠোঁট হেলিয়ে হেসে নুবার দিকে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বললো
_ আমার তো এখানে থাকা খুবি প্রয়জন dad,,, আমার কলিজাকে যে টেনে ছিরা হচ্ছে এই জায়গায়,,, আমার থেকে কেড়ে নেওয়ার পায়েতারা করা হচ্ছে,,,
সবাই অদ্ভুত দৃষ্টিতে আরহামের দিকে তাকালো,, হারুন মির্জা আবারো পরিস্থিতি সামলাতে বললেন
_বোন তো,,বোনরা তো ভাইয়ের কলিজাই হয় তাই না,,আপনারা continue করেন,,আর আরহাম তুমি যাও তো বাবা ফ্রেশ হয়ে আসো,,,না হলে চুপচাপ এখানে বসো,,,
আরহাম ভ্রদ বাচ্চার মতো সোজা হয়ে বসে বললো
_ আচ্ছা বসলাম,,,,
পরপর কথা বার্তা continue হলো,,,কয় একটা প্রশ্ন করার পর সাব্বিরের বাবা জিগ্গেস করলেন
_ কিসে পড়ো মা,,
আরহাম কথায় আড়ি কেটে বললো
_ আপনারা মেয়ে দেখতে এসেছেন তবে জেনে আসেননি মেয়ে কিসে পড়ে,,,
সাব্বিরের বাবা এমন প্রশ্নে অপ্রস্তুত হয়ে গেলেন,,, হারুন মির্জা ছেলের দিকে রাগি দৃষ্টিতে তাকিয়ে সুধালেন
_ আরহাম,,,,
আরহাম দাঁত দিয়ে জিভ কেটে কানে ধরার একটিং করলো,,, হারুন মির্জা চোখের পলক ফেলে আবার কথা বার্তা চলমান করলেন,,
পরপর সাব্বিরের দাদি জিগ্গেস করলেন
_ রান্না জানো নাকি মেয়ে,,,
নুবা কিছু বলার আগেই আরহাম বলে উঠলো
_ রান্নার র টাও জানে না ও,,,
নুবা আর চোখে আরহামের দিকে তাকিয়ে রইলো,,,
হাজেরা সাথে সাথে কথায় ফরং কেটে বললেন
_ আমার মেয়ে সব রান্না জানে,,
আরহাম হতভম্ব হয়ে বললো
_ তাই নাকি,, কিন্তু আজ পর্যন্ত রান্না ঘড়ে যেতে দেখলাম না ওকে,,ও ho যায় তবে রান্না করার জন্য না তাই না নুবু,,,
বলেই নুবরা দিকে তাকালো,,,সবাই বিরক্ত হলো,,নুবার ভয়+ লজ্জায় গাল লাল হয়ে গেলো,,এই লোকটা যে কি বলতে চাইছে তা সে বুঝতে পারছে,,
হারুন মির্জা কপাল চাপড়ালেন,,কি করবেন সে,, আল্লাহই জানে,,,
হাজেরা দাঁতে দাঁত চেপে আরহামের দিকে তাকিয়ে বললো
_ বাবা তুমি যদি চুপ থাকো তবেই আমি খুশি হবো,,
আরহাম মাথা ঝুঁকিয়ে বললো
_ আচ্ছা ঠিক আছে,,,
পরপর নুবার দিকে তাকিয়ে দাদি জিগ্যেস করলো,,
_ নাচ গান কিছু পারো নাকি,,,
আরহাম একটু হেসে নুবরা দিকে তাকিয়ে বললো
_ হ্যাঁ দাদি,,,ও নাচার থেকে নাচাতে পারে ভালো,,,
হাজেরা বেগম হারুন মির্জার দিকে তাকিয়ে বললেন
_ ভাই জান আপনার ছেলে,,,,
আর কিছু বললো না হাজেরা,, হারুন মির্জা চোখের ইশারায় হাজেরাকে শান্ত থাকতে বললো,,,, হারুন মির্জা ছেলের দিকে তাকিয়ে ভদ্র কন্ঠে বললেন
_তুমি ওই দিকে যেএ বসো আরহাম,,যাও,,,
আরহামকে হারুন মির্জা ঠেলে গুঁতিয়ে উঠেইয়ে অন্য পাশে রাখা সোফায় নিয়ে যেএ বসালেন,,যেটা এখান থেকে অনেকটাই দূর,,, আরহাম ওখানে যেএ টি টেবিলে পায়ের উপর পা তুলে বসলো,,,এতো সময় নুবার কোনো উত্তর দিতে হয়নি আরহামি উত্তর দিয়েছে তবে এবার দিতে হলো তাকে,,,
নুবাকে প্রশ্ন করা হলো,,,নুবা মাথা উঁচু করে আরহামের দিকে তাকিয়ে আস্তে আস্তে প্রশ্নের উত্তর দিলো,,, আরহাম খবিশের মতো ওখানে বসে নুবাকে বিরক্ত করতে লাগলো,,,,কখনো middle finger দিয়ে নাকের কোনা ঘষছে,,কখনো বা ঠোঁট সরু করে চুমু দিচ্ছে,,,এই লোকটা যে এতো পাজি নুবার জানা ছিলো না,,,
নুবা চোখ সরিয়ে নিলো,,পরপর মাথায় থাকা আঁচল আরো টেনে নিলো,, অতঃপর নুবার চুল দেখা হলো,,হাত পা,,পারলে তারা সব কিছু দেখা ফেলে এমন অবস্থা,,,নুবাকে হেঁটেও দেখাতে বললো,,,
নুবা আশ্চর্য হলো এই সময়ে এগুলো হয়,,আসলে ছেলের দাদিই এই সব বলছিলো,, যেহেতু সে আগের ধাঁচের মানুষ,,,
আরহাম নুবাকে হাঁটতে দেখে ওখান থেকে চেঁচিয়ে বললো
_ ছেলেকেও একটু হেঁটে দেখাতে বলেন যদি লংরা খুরো হয়,,,তবে তো আমার নুবুর কপালটা পুড়বে,,,
আরহামের কথায় ,,ভিতরে ভিতরে কাঁদতে থাকা নুবা মনে মনে হেসে উঠলো,,, হারুন মির্জা দাঁতে দাঁত চেপে বললো
_ চুপ থাকবে তুমি,,,,
আরহাম ঠোঁট হেলিয়ে নুবার দিকে তাকালো,,,হিসাব করতে লাগলো আজ কয়টা মার নুবার পিঠে পড়বে,,
অনেক টা কষ্ট করে হারুন মির্জা পরিস্থিতি সামাল দিলেন,,,পরপর বলা হলো ছেলে আর মেয়েকে এক সাথে আলাপ করতে দিতে,,,সবাই সম্মতি জানালো,,,
হারুন মির্জা ইশিতাকে উদ্দেশ্য করে বললেন
_ ইশিতা,,ওদের নিয়ে ছাদে যাও,,,দিয়ে আসো ওদের,,,
ইশিতা মৃদু কন্ঠে বললো
_ আচ্ছা বাবা,,,
নুবা এক পলক আরহামের দিকে তাকালো,,,আরহাম ক্ষিপ্ত চোখ দিয়ে নুবাকে কিছু বুঝালো,,,নুবা অনুভব করলো আজ তার কপালে শনি আছে,,,
সাব্বির উঠে দাঁড়ালো,,হাজেরা মেয়েকে ঠেলে দাঁড় করিয়ে ফিসফিস করে বললো
_ কোনো ঝামেলা করবি না নুবা,,তোর মায়ের কসম,,,
নুবা চম্কে উঠে মায়ের দিকে তাকালো ,,
হারুন মির্জা ছেলের বুকে ধাক্কা দিয়ে বললো
_ কোথাও যাবে না তুমি,,,
আরহাম হতভম্ব হয়ে বললো
_ ফ্রেশ হতে যাচ্ছি dad,,যেতে পারবো না নাকি,,
_ আগে নুবারা আসুক,,
আরহাম ঠোঁট হেলিয়ে হাসলো এক পলক সাব্বিরের পরিবারের দিকে তাকিয়ে বললো
_ সবাই তাকিয়ে আছে,, আমার যেতে দেও,,না হলে just ২ সেকেন্ড লাগবে এই বিয়ে ভাংতে,,
হারুন মির্জা দাঁতে দাঁত চেপে বললেন
_ আরহাম,,,
আরহাম হারুন মির্জাকে পাশ কাটিয়ে চলে গেলেন,,, হারুন মির্জা ছেলের পিছন পিছন যেতে পারলেন না কারণ সামনেই সবাই বসা কি ভাববে তাদের বসিয়ে রেখে চলে গেলে অপমান হবে,,
এদিকে হাজেরা হাঁসফাঁস করছে,,,এই ছেলে আবার কি কান্ড করে আল্লাহই জানে,,,
নুবা আর সাব্বিরকে ছাদে দিয়ে ইশিতা চলে আসলো,,ওখানে থেকে কি করবে সে,, সবার একটা ব্যক্তিগত ব্যপার আছে,,
নুবা আর সাব্বির দুই জনেই চুপ,,নুবা মৃদু কাঁপছে,,তা দেখে সাব্বির শান্ত কন্ঠে বললো
_ এতো নার্ভাস হবেন না,,,
নুবা দুই হাত কচলে মনে মনে বললো
_ আরে শালা তুই কি বুঝবি আমার জ্বালা ডেং ডেং করে মেয়ে তো দেখতে চলে আসছিস,,,
উত্তর না পেয়ে সাব্বির একটু কেশে বললো
_ কিছু জিগ্গেস করলে করতে পারেন,,
নুবা মাথা ঝুঁকিয়ে না করলো যে তার কিছু জিগ্গেস করার নেই,,,
সাব্বির ইতস্তত বোধ করে বললো
_ আপনি তো একবার আমাকে দেখলেনো না,,তবে কি আমাকে পছন্দ হয়নি,,,
নুবার উত্তর দেওয়ার আগেই আরহাম হাতে বড় একখানা ছুরি নিয়ে তাদের দিকে এগিয়ে আসলো আর দাঁতে দাঁত চেপে বললো
_ পছন্দ হয়েছে তো,,না হলে কি এভাবে সং সেজে দাঁড়িয়ে থাকতো,,,
নুবা আরহামের শব্দ শুনে পাশ ফিরে তার দিকে তাকালো,,পরপর শুধু নুবার নজরেই আরহামের হাতের অস্ত্র চোখে পড়লো কারন সাব্বির আরহামের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে,,,
আরহামের কথা শুনে সাব্বির মৃদু হেসে বললো
_ আপনি এখানে যে কিছু বলবেন,,
আরহাম এগিয়ে এসে বললো
_ actually কারো চোখ দুটো তুলতে এসেছিলাম,,,, তবে এসে আমিই অবাক,,যার জন্য করলাম চুরি সেই বলে চোর,,,চুরনি আবার কি সুন্দর করে আলাপ করছে,,
সাব্বির আহমেদ জোরপূর্বক হেঁসে বললো
_ আপনি অনেক ফানি,,,
আরহাম দাঁতে দাঁত চাপলো,,, সাব্বির আর নুবার মাঝখানে এসে দাঁড়ালো,,,নুবা কিছু টের পেলো,,সাথে সাথে আরহামের অস্ত্র ধরা হাত দুই হাত দিয়ে চেপে ধরে ফিসফিস করে বললো,,,
_ please ,,,
সাব্বির আরহামের কান্ডে বিব্রত হয়ে বললো
_ আমাদের তো আলাদা ভাবে কথা বলতে দেওয়া হয়েছিলো তো আপনি,,,,,
আরহাম কথা শেষ হওয়ার আগেই বলে উঠলো
_ o ho আলাপের ভিতরে বেঘাত ঘটালাম,,তাই তো,,,
এদিকে পিছন দিয়ে নুবা বলিষ্ঠ আরহামের পিঠের সাথে লেগে গেলো,,,দুই হাত দিয়ে তার শার্ট খামচে ধরে বারবার অনুনয় করতে লাগলো,,,
সাব্বির বিষয়টা খেয়াল করলো না কারন আরহামের বলিষ্ঠ দেহের পিছনে থাকা নুবার মাথা ব্যতিত কিছুই দেখা যাচ্ছে না,,তার উপর শাড়ির আঁচল দিয়ে নুবা ছুরিটা ডেকে রেখছে,,,
নুবা পিছন থেকে সাব্বির কে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলো,,,,
_ আমি আর কিছু বলতে চাই না,,,বাকি কথা চাচা বলবেন,,আপনি যেতে পারেন,,,
সাব্বির একটু একটু ইতস্তত হলো,,এই মাত্র আসলো কথাও হলো না আর এখনি যেতে বলছে,,, সাব্বির তাও ভদ্রতা বজায় রেখে আস্তে করে চলে গেলো,,,
সাব্বির যেতেই নুবা পিছন থেকে আরহামকে আঁকড়ে ধরে ফুঁপিয়ে উঠলো,,, আরহাম ঝাড়া মেরে নুবাকে সরিয়ে দিলো,,পরপর পিছনে ঘুরে নুবার চুলের মুঠি ধরলো,,নুবার মনে হলো কেউ তার বুক চিরে কলিজাটা বেড় করে নিলো,,,,
আরহাম এক পলক নুবার মাথা থেকে পা পর্যন্ত দেখে নিলো,,, শরীর জ্বলে উঠলো তার,,তার দেওয়া শাড়ি পড়ে তারি সামনে অন্য ছেলেদের সাথে রঙ্গ করেছে,, নিজেকে সাজিয়েছে অন্য ছেলের জন্য,,,এতো সাজগোজ তার জন্য নয়,,অন্য কারো জন্য,,ভেবেই আরহামের রক্ত টকবক করে উঠে,,,
নুবার চোখের কার্নিশ বেড় পানি গড়িয়ে পড়লো,, ঠোঁট দুটো কেঁপে উঠলো,,, আরহাম হুংকার ছেড়ে বললো
_ এই সব আমার জন্য নয় নুবারে,,সব অন্য পরপুরুষের জন্য,,,
নুবা কম্পিত ঠোঁটে সুধালো
_ আপনি কোথায় ছিলেন,,,
আরহাম প্রশ্নের উত্তর না পেয়ে নুবার চুলের মুঠি আরো শক্ত করে ধরলো,,,নুবার গলায় ছুরি ঠেকিয়ে হুংকার ছেড়ে বললো,,,,
_ এই চুল,,এই শরীর এই হাত,,,সব খুঁটে খুঁটে দেখেছে ওরা,,বল তোকে কি করবো,,,কি শাস্তি দিবো তোকে,,,
নুবা চোখ মুখ খিচে বন্ধ করে আরহামের দিকে এগিয়ে আসার চেষ্টা করলো,,,ভয়ে বুক কাঁপছে তার,,,তার মায়ের বলা কথা গুলো মনে পড়ছে নুবার,,আজ কি তালহে আরহাম তাকে জমের ঘড় থেকে ঘুরিয়ে আনবে,,,
নুবা কম্পিত কন্ঠে সুধালো
_ মরে যাবো তো আয়রার পাপা,,, ছাড়ুন,,
আরহাম আরো জোরে চেপে ধরলো,,তবে ছুরি উল্টো যেই পাশে ধার নেই,,,নুবা তা খেলায় করলো না ভয়ে কেঁদে উঠলো,,, আহাজারি করে বললো
_ আমি,,কি ইচ্ছা করে গেছি আপনি কেন বাড়ি ছিলেন না,,
আরহাম নুবার হাত চেপে ধরে গর্জে উঠে বললো
নীরব উন্মাদনা পর্ব ৮৩
_ তুই কি করে পারলি আমার সামনে ব্যতিত অন্য কারো সামনে নিজেকে উপস্থাপন করতে,,, গতকালো তুই একি কাজ করেছিস তোকে ছাড় দিয়েছি আমি,, কিন্তু তুই বারবার এক কাজ করিস,,,
,,নুবা হু হু করে কেঁদে উঠে বললো
_ আমি যেতে চাইছিন আরহাম,,,আমি যেতে চাইনি,,
আরহাম কোনো কথাই শুনলো না,,নুবাকে নিয়ে সিরি বেয়ে নামতে নামতে বললো
_ তুই যেতে না চাইলে কারো বাপের সাধ্য _
