Home নীরব উন্মাদনা নীরব উন্মাদনা পর্ব ৮৫

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৮৫

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৮৫
সুরাইয়া জিয়াসমিন

আরহাম কোনো কথাই শুনলো না,,নুবাকে নিয়ে সিরি বেয়ে নামতে নামতে বললো
_ তুই যেতে না চাইলে কারো বাপের সাধ্য নেই যে তোকে ওখানে নিয়ে যাবে,,কেনো গেলি তুই,,মেরে ফেলতো তোকে তাও কেনো যাবি তুই,,, আমার জন্য অপেক্ষা করতে পারতি তো তুই,,আমি শুধু আজ তোর কাহিনি দেখলাম,,,কতটা নির্দয় তুই আমাকে ভুলিয়ে দিলি,,আজ তোর পিঠের চামড়া তুলবো,, বলেছিলাম না তুই শুধু আমার,,এই কথা তোর মাথায় রাখা উচিত ছিলো,,,
নুবা হোঁচট খেএ পড়তে পড়তে বেঁচে গেলো,, হাউমাউ করে কান্না করে বলে উঠলো,,,
_ আমি কিছু করিনি,,,,

নুবা হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো,,, চিৎকার করে সুধালো
_ না,,,না,,,
আরহাম নুবার ভীতু দিকে এক পলক তাকিয়ে ঠোঁট হেলিয়ে হেসে বিষাদের কন্ঠে বললো
_ তুই তো আমার নুবু তাহলে কেন এমন করলি,,আর ওই ছেলেটাও কেনো যেতে দিলি,,চোখ দুটো তুলে ফেলতাম ওর,,জানিস কিভাবে তোর দিকে বারবার তাকাচ্ছিলো,, আমার প্রচন্ড খারাপ লেগছে,, ওই পর পরুষের চাহনি একদম কলিজায় যেএ লেগছে আমার,,আর তোর কিছুই হয়নি তাই না,,,
নুবা আঁচল ধরে টেনে অনুনয় করে বললো
_ মরে যাবো তো,,, এমন করবেন না,,,,
আরহাম কেমন অদ্ভুত হাসি দিলো,,, মস্তিষ্ক কাজ করা বন্ধ হলো তার,, চেঁচিয়ে উঠে বললো

_ তুই কেন যাবি ওখানে,,,কেনো,,কেনো ওরা তোকে এভাবে দেখলো,,কেনো???
নুবার ঠোঁট দুটো কেঁপে উঠলো কম্পিত হাতে আরহামের থেকে নিজের আঁচল ছাড়ানোর চেষ্টা করলো তখনি আরহাম তেলতেলে শাড়িতে জব্দ মতো আগুন লাগিয়ে দিলো,,নুবা হতভম্ব হয়ে গেলো,,সে বারবার প্রমাণ পেলো এই মানুষ টা তার জন্য ভুল তবু নুবা নিজের মনটাকে শান্ত করতে পারলো না,,তার থেকে দূরে সরাতে পারলো না,,,
নুবা আঁচলে এভাবে আগুন ছড়িয়ে পড়তে দেখে ছটফট করে উঠলো পরক্ষণেই সে আঁচল টেনে খোলার চেষ্টা করলো তবে ২/৩ টা পিন দিয়ে আটকানো থাকায় খুললো না,,,
নুবা ঝাঁপসা চোখে আরহামের দিকে তকালো,,এক মূহুর্তের জন্য নুবা একদম শান্ত হয়ে গেলো ভাঙ্গা কন্ঠে সুধালো,,

_ আপনি ব্যতিত দহনে পুড়ার থেকে ভালো এই শরীর আগুনে ঝলসে যাক,,,,
আরহাম নুবার শান্ত চোখের দিকে তাকালো,,,যে থেকে অনাবরোত পানি গড়িয়ে পড়ছে,,, আগুন দাউদাউ করে বাড়তে লাগলো,,নুবার বাম পাশ জ্বলতে শুরু করলো,,,তবু ঠাই দাঁড়িয়ে রইলো নুবা,,, কাঁপতে শুরু করলো তার শরীর,,
তবে আগুন তার শরীর স্পর্শ করার আগেই আরহাম এগিয়ে এসে জ্বলতে থাকা শাড়ির আঁচল এক টানে খুলে ফেললো,,আরহাম টের পেলো জেদি নুবা নিজেকে নিজে বাঁচাবে না,,,পরপর দ্বিতীয় টানে নুবা দুইবার ঘুরনি খেলো,,,শাড়ির কুচি গুলো ফের ফের করে খুলে গেলো,,, মাত্র কয়েক সেকেন্ডে নুবার শরীর থেকে শাড়ি আলাদ হয়ে গেলো,,,
নুবার মাথা ঘুরে উঠলো,,,শাড়ি ফ্লোরে ফেলতেই দাউ দাউ করে জ্বলে উঠলো,,,নুবা মাথা ঘুরে পড়ে যেতে নিলেই আরহাম এগিয়ে এসে নুবার উন্মুক্ত কমড় আঁকড়ে ধরলো,,,,
নুবা আরহামের বুকে লুটিয়ে পড়লো,,হুহু করে কেঁদে উঠে বললো
_আপনি কেনো একটু ভালো হলেন না তবে এই সব দেখতে হতো না,,,একটু ভালো হওয়ায় অভিনয়ই না হয় করতেন,,,

নুবা টের পেলো তার মা ঠিকি বলেছে এই আরহাম একদিন তাকে মেরে ফেলবে,,,সে যে কোন পাগলের পাল্লায় পড়েছে সে নিজেই টের পাচ্ছে,,,
আরহাম শক্ত করে আকড়ে ধরলো নুবাকে কাঁধে মুখ গুজে বেশ অস্থির কন্ঠে সুধালো,,
_ তুই আমাকে এমন ভাবে বস না করলেও পারতি,,ওই ছেলে,,,তার পর তৌসিফ এই দুটোকে আমি মেরেই ফেলবো,,, তুই তো আমার তবে ওরা কেন নজর দিবে,,, তুই আমার না,,,
বলেই নুবাকে নিজের থেকে ছাড়িয়ে তার দুই গাল দুই হাত দিয়ে চেপে ধরে পুরো মুখে চুমু খেলো,,
নুবা ফুঁপিয়ে উঠলো,,কি করবে সে এই মানুষটা এই ভালো,,এই মন্দ,,এই দেখো বুকে আগলে নিচ্ছে এই দেখো রাগে আঘাত করছে,, এরকম করলে কি করে হবে,,, এরকম পাগলামি করা মানুষটাকে কিভাবে ছাড়বে নুবা,,কিভাবে,,??
আরহাম নুবার দুই গালে বুড়ো আঙ্গুল স্লাইড করে ছটফট করে বলে উঠলো,,,
_ অন্য কাউকে বিয়ে করবি তুই,,আমি কি তোর,,আমি তোর husband না,,আয়রা তো তোর মেয়ে তাই না,,
নুবা নাক টেনে কাদলো,,,তার খেলায় নেই যে তার বুক পেট উন্মুক্ত,,,না আরহামের,,সে শরীরের দিকে ফিরেও তাকাচ্ছে না,,সে তো নুবার স্বীকারোক্তি নিতে ব্যস্ত,,,পরপর আরহাম প্রায় বাচ্চাদের মতো অস্থির হলো ছটফট করে পাগলের মতো বললো,,,
_আমাকে আর আয়ারকে ছেড়ে দিবি,,বল ছেড়ে দিবি,,কলিজা কাঁপবে না তোর,,,তোর যদি কলিজা না কাঁপে তবে কিন্তু তোর বুকে ছুরি চালাতে আমারো কলিজা কাঁপবে না,,,বলে দিলাম,,,

হারুন মির্জা পরিস্থিতি সামলে নিয়েছেন,,,কোনো মতে তাদের ইনিয়ে বিনিয়ে বুঝ দিয়েছেন,,,আর বলেছেন পরে রাতে কল করে বাকি কথা হবে,,
এদিকে হাজেরা দাঁড়িয়ে থাকলেও তার মন উপরে ছুটছে,,, কারণ সে জানে এই আরহাম এখন তার মেয়ের সাথে,,,,তবু সে ছুটে যেতে পারছে না,, কারণ মেহমানরা এখনো যায়নি,,এভাবে যদি উপরে চলে যায় তবে নির্ঘাত তারা সন্দেহ করবে,,যে হঠাৎ কি হলো,
তাই সবাই তাদের বিদায় করার অপেক্ষায় আছে,,, অনেক কথা বার্তা বলার পর বাকি কথা বাসায় যেএ হবে এই বলে তারা হাসি মুখে বিদায় নিলেন,,,
তারখ যেতেই অস্থির হারুন মির্জা,,আমিনা বেগম হাজেরা,,সবাই উপরে ছুটলেন,,উপরে কি হচ্ছে,,,তারা তখন গেলে সাব্বিরাও পিছন পিছন যেতো হয়তোবা তখন এই বিয়ে কখনোই হতো না,,

সাব্বিরের মা মুখ কালো করে বললেন
_ মেয়ে তো ভালো তবে সুবিধার মনে হলো না,,
সাব্বিরের বাবা মিষ্টি কন্ঠে সুধালেন,,,
_ কি সুবিধার মনে হচ্ছে না,,, হারুন মির্জার মতো মানুষের সাথে সম্পর্ক তৈরি কি কম কিছু নাকি,,
_ যতোই বলো না কেন,,ওই ছেলেটাকে,,,,,
_ আরে বাদ দেও তো,, বড়লোকের ছেড়ে একটু আকটু বিগরে যায়,, তোমার ছেলে ঠিক আছে কিনা ওটা দেখো,,,আর সাব্বির তোমার কি মেয়ে পছন্দ হয়েছে,,
সাব্বির মৃদু কন্ঠে বললো
_ মেয়ে ভালো,,, ব্যবহারে ভদ্রতা আছে,,তবে একটু চুপচাপ,,,তবু আমার বউ হলে খারাপ হবে না,,,বাকিটা তোমাদের মতামতের উপর নির্ভর করে,,,
সাব্বিরের মা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ সাব্বিরের বাবা ওই অভদ্র ছেলেটার হবু বউ কে দেখেছো,,কি সুন্দর,, ওরকম একটা মেয়ে যদি সাব্বিরের জন্য পেতাম,,,,
_ বেশি আশা করতে নেই,,,বুঝলে যা পেয়েছো তাতে সুখী থাকো,,নুবাও মায়াবী,,,ভালোই মেয়েটা,,

নুবা আরহামের এক হাত ধরে হাতের তালুতে ঠোঁট ছুঁইয়ে মৃদু কন্ঠে বললো
_ আমি পুরটাই আপনার,,, শুধু আপনার,, শান্ত হোন,,আমি আপনারি তো,,,
আরহাম শক্ত করে নুবাকে বুকের সাথে জরিয়ে ধরে,,,যেই আঁকড়ে ধরায় নেই কোনো কামনা,,নেই আকাঙ্ক্ষা,,আছে শুধু নুবাকে স্বীকৃতি দেওয়ার আশা ,,
নুবা ছটফট করতে থাকা মানুষটাকে শান্ত করার চেষ্টা করলো তখনি ভেশে আসলো এক দল পাল পুরির পায়ের শব্দ,, আরহাম বুঝতে পারলো সবাই আসছে বিরক্তে মুখ কুঁচকে নিলো সে,,পরপর নুবাকে ছেড়ে এগিয়ে যেএ বেডশিট এক টানে তুলে নিলো,,,,
অতঃপর নুবার শরীরে জরিয়ে দিলো তবে খেয়াল করলো নুবার বাম কাঁধ দিয়ে রক্ত ঝড়ছে তখন শাড়ির আঁচল টান মারায় পিন গুলো খুলে মাংস কিছুটা ভেদ করেছিলো তাই এই অবস্থা,,,
আরহাম সযত্নে নুবার ক্ষতে হাত বুলিয়ে বিরবির করে বললো
_ বেশি লেগেছে,,
নুবা মাথা ঝুঁকিয়ে না করলো,,
আরহাম ভদ্র ছেলের মতো নুবার শরীরে চাদর জরিয়ে দিলো,,,, অতঃপর নুবাকে বুকের সাথে জরিয়ে নিলো,,
হারুন মির্জা এসে রুমের দরজা খুলা পেলেন,,সবাই দারজা ধাক্কা ভিতরে প্রবেশ করলো,,,তবে সামনের দৃশ্য দেখে স্তব হয়ে গেলো তারা,,
নীল শাড়িটা এখনো আগুনে একটু একটু জ্বলছে,,নুবা শরীরে বিছানার চাদর পেঁচিয়ে জরসর হয়ে আরহামের বুকে লেপটে আছে,,,আরহাম সযত্নে এক হাত দিয়ে তাকে আঁকড়ে ধরে আছে,,,,
এরকম একটা দৃশ্য দেখে হাজেরার মস্তিষ্ক কিছু সময়ের জন্য থেমে গেলো,,,হাজেরা অবিশ্বাস চোখে তাকিয়ে রইলো,,, হারুন মির্জা হুংকার ছেড়ে বললেন

_ এই জানোয়ারের বাচ্চা,,কি করেছিস ওর সাথে,,
হারুন মির্জা তেরে আসলে নুবা আরো ভয়ে আরহামের বুকে লুটিয়ে পড়লো,,,,চুল গুলো এলোমেলো তার,,তবে নুবাকে এভাবে আরহামকে আঁকড়ে ধরতে দেখে হারুন মির্জা থেমে গেলেন,,,,
আরাফ এই দৃশ্য দেখে বাম পাশের বুকে হাত চেপে ধরলো,,যেনো সে হার্ড এট্যাক করলো,,,,যেই কাজটা সে পারেনি সেই কাজটা তার ভাই করে দিলো,, how possible,,এই নুবাকে কি করে বুঝালো সে,,,সে তো কম পাম পট্টি মারেনি,,,
নুবার এই অবস্থা দেখে ইশিতা আরাফ কে টেনে সরিয়ে নিয়ে আসলো,,যতোই হোক সে পর পুরুষ নুবার অস্থির লাগছে,,বউ এর উপরে কথা বলতে পাররো না বেচারা আরাফ,,,
আরহাম লাল বর্ন চোখে সবার দিকে তাকালো,,,তার মুখ দিয়ে শুধু একটাই শব্দ বেড় হলো,,

_ Nuba is mine and mine alone.আমার মানে আমার,, বুঝলেন,,,
অনেক অধিকার নিয়ে আরহাম কথাটা বললো,,, হারুন মির্জা একবার চোখের পলক ফেলে নুবার দিকে তাকালেন,,,এবার ক্ষিপ্ত হাজেরা এগিয়ে আসলো,,,নুবা টের পেলো তার মা আসছে,,নুবা ভয়ে আর লজ্জায় চোখ মুখ খিচে নিলো এই চেহারায় তার মায়ের দিকে তাকানোর সাহস নেই তার,,,
হাজেরা এসেই মেয়েকে বাহু ধরে টেনে আরহামের কাছ থেকে আলাদা করে বললেন
_ তোকে এই শিক্ষা দিয়েছিলাম আমি,,যে মুখে চুন কালি মাখাবি,,এতো বুঝানোর পড়েও বুঝলি না,,,নাকি আমি মরলে বুঝবি তুমি,,,
নুবা কারো দিকে তাকানোর সাহস পেলো না শুধু ফুঁপিয়ে উঠলো,, বন্ধ চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়লো,হাজেরা মায়ের বাহু ধরে ঝাঁকি চিৎকার করতে লাগলেন,,,,
হারুন মির্জার মাথা ঘুরে উঠলো পরিস্থিতি এতো যে নাজেহাল হবে সে বুঝতে পারেনি,, এদিকে আমিনা বেগম মনে মনে আল্লাহ আল্লাহ করছেন,,,
হারুন মির্জা ছেলের দিকে তাকিয়ে শান্ত গম্ভীর কন্ঠে বললেন

_ কি করেছিস ওর সাথে,,,
আরহাম চাঁপা নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ কিচ্ছু না তবে তোমরা যদি আমাকে বাধ্য করো তবে আমি কিছু করতে বাধ্য হবো,,,
কথা শেষ হলো হারুন মির্জা কিছু বলার আগেই আমিনা বেগম তেরে এসে ছেলের গালে থাপ্পড় মেরে বললেন
_ চুপ,,,আর একটা কথা বলবি না তুই,,,
আরহাম চোখের পলক ফেলে মায়ের দিকে তাকালো,,পরপর কেমন হুংকার ছেড়ে বললো
_ নুবা যদি কারো হয় তবে আমার হবে,,নুবা আমার,,আর বিয়েটাও আমার সাথে হবে,,বুঝলে তোমরা,,,
আরহামের কথা শুনে হাজেরা মেয়ের দিকে তাকিয়ে রাগি কন্ঠে বলে উঠলো,,
_ তুই আমার মেয়ে আমার এটা ভাবতেও ঘৃনা লাগছে,,তোকে ছুঁতেও আমার রুচিতে বাধছে,, আমার মেয়ে হয়ে তুই এরকম কাজ কি করে করলি,,
আরহাম রেগে কিছু বলতেই যাবে তার আগেই নুবা চোখ মুখ খিচে চিৎকার করে বললো
_কিচ্ছু করিনি আমি,,ঘৃনা লাগার মতো কিছু করিনি তবে কেন ঘৃন লাগবে,,,কেনো,,,??
হারুন মির্জা নুবার দিকে তাকিয়ে বললেন
_ তুই কি আরহামকে বিয়ে করতে চাস,,
নুবা এবার অনেক সাহস নিয়ে চোখ তুলে হারুন মির্জার দিকে তাকালো,,,মেয়ে কিছু বলার আগেই হাজেরা অস্থির কন্ঠে বললো

_ ও হ্যাঁ বললেও আমি দিবো না এই বিয়ে,,ভাইজান আপনি যদি এমন টাই করতে চান তবে আমার লাশের উপর দিয়ে করবেন,, কারণ আপনি তো জানেন আপনার ছেলে কেমন,,,কি কি করেছে আমার মেয়ের সাথে,,, আপনার মেয়ে হলে কি আপনি এরকম ছেলের হাতে তুলে দিতেন বলেন দিতেন,,,ও খনের জন্য দুটো মিষ্টি কথায় গলে গেছে,,বয়স তো তেমন হয়নি তাই বিশ্বাস করে নিয়েছে,,,আপনি দয়া করে ওর মতামতকে প্রাধান্য দিবেন না,,,
হাজেরার কথায় নুবা ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো,, আরহাম তেতে উঠে বললো
_ আপনি কি আটকাবেন আমাদের বিয়ে,,, দরকার পড়লে আপনার লাশের উপর দিয়ে পার হয়ে আমি ওকে নিজের করবো,,নুবা আমার বুঝলেন
আরামের এরকম ছন্নছাড়া ব্যবহারে সবাই হতভম্ব হয়ে গেলো,,,হাজেরা আরহামের দিকে তাকিয়ে বললেন
_ দেখলেন কতটা অভদ্র ভাইজান,, আপনি এমন অসভ্য কে নিজের মেয়ের জামাই বানাতেঞ বলুন,,নিজের ইনশাফ দিয়ে কথা বলবেন,,, আমার মেয়ে না হয় বুঝে না তবে আপনি তো বুঝেন,,,আপনি তো ভালো করে জানেন আপনার ছেলে কেমন পদের,,বুঝেন না,,, বলুন,,,
হারুন মির্জা এগিয়ে সেএ ছেলের গালে ঠাস ঠাস চড় লাগিয়ে দিলো,, হুংকার ছেড়ে বললো
_ আজ যদি তুই ভালো হতি তবে আমি নিজ দায়িত্বে তোকে নুবার সাথে বিয়ে দিতাম তবে তুই অমানুষ,,,আমি নুবার জীবন নষ্ট হতে দিবো না,,আজ শাড়িতে আগুন দিয়েছিস ভরসা তো নেই কবে ওর গায়ে ধরিয়ে দিস,,,

আরহাম কথা শুনে হাসতে লাগলো,,,নুবা কিছু বলতে যাবে তার আগেই হাজেরা মেয়েকে থামিয়ে দিলো,,,
আরহাম সবার দিকে একবার তাকিয়ে নুবার দিকে তাকিয়ে বললো
_ নুবা তুই আমাকে চাস তো,,,
নুবা নিঃশ্বাসের গতি বাড়লো,,, কান্না করতে করতে দম আঁটকে আসছে তার,,আরহাম আবারো প্রশ্ন করলো
_ কিরে তুই আমাকে চাস না,,,
নুবা মাথা ঝুকালো,,সাথে সাথে হাজেরা মেয়ের গালে থাপ্পড় বসিয়ে বললেন
_ এই থাপ্পর টা যদি আগেই মারতাম তবে আজ এই দিন দেখতে হতো না,, মানুষ করতে পারলাম না,,এতো বুঝানোর পড়েও বুঝলি না,,,যেই ছেলে তোর সামনে তোর মাকে অপমান করে অসম্মান করে তার সাথে যাবি তুই,,তার সাতে,,বুক কাঁপবে না তোর,,,এতো দিন কষ্ট করে নিজে না খেএ তোকে খাওয়ালাম আর আজ সেই ফল দিলি তুই,,এতোটা জঘন্য,,,।
নুবা ঠোঁটে ঠোঁট চেপে কেঁদে উঠলো কোথায় যাবে সে,,,নুবা হিচকি তুলতে লাগলো পরপর হঠাৎ করেই অতিরিক্ত টেনশনে ওখানেই লুটিয়ে পড়লো,, পরিস্থিতি আরো গম্ভীর হয়ে উঠলো,,
নুবা নিস্তেজ হয়ে পড়ে আছে এতো টেনশন সে নিতে পারছে না,,একদমি পারছে না,, কান্ত সে একটু শান্তি চায়,,,

_ না না,,আরহাম থেমে যাবে না,,নুবা একবার হ্যাঁ বললে ও কখন নুবাকে নিয়ে চলে যাবে এটা তুমিও ধরতে পারবে না হাজেরা আমার ছেলে আমি তো চিনি,,
হাজেরা ফুঁপিয়ে উঠলো,, অনুনয় করে বললো
_ ভাইজান আপনি তো আজ দেখলেন কিভাবে শাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে,,, আল্লাহ না করুক কোনো দিনও এই শাড়ির ভাঁজে যদি আমার নিষ্পাপ মেয়েটা থাকে,,ও তো অবুঝ,,আমি কি করে ওকে এই অন্ধকারে ঠেলে দিবো,,
হারুন মির্জা চোখ বন্ধ করলেন,,পরপর কিছু একটা ভেবে বললেন
_আমিও চাই না আরহামের সাথে নুবার কোনো সম্পর্ক হোক,,তবে আরহাম এতো সহজে ছেড়ে দিবে না,,তুমি যদি সত্যিই চাও নুবা ভালো থাকুক তবে আমার কথা মনযোগ দিয়ে শুনো,,,
পরপর হারুন মির্জা কিছু পরামর্শ করলেন,,হাজেরা কাতর কন্ঠে শুরু হু হা বললেন,,হাজেরার প্রখর বিশ্বাস,,অন্য জায়গায় বিয়ের পর নুবার মন ঘুরে যাবে,, তেমন কিছুই হবে না,,,তবে তো সে জানে না আরহাম কি চিজ,,,
হারুন মির্জা সবটা বুঝিয়ে দিয়ে বললেন
_ আমি উনাদের কল দিচ্ছি,,, অবশ্য না করবে না,,,
হাজেরা মাথা ঝুকালো,,,

সন্ধা পার হয়ে রাত হলো,,,তখন রাত ১১ টা ক্ষিপ্ত আরহাম যখন ভাবতে ব্যস্ত সে নুবাকে নিয়ে এখান থেকে কি করে বেড় হবে তখনি আমিনা বেগম এসে ছেলেকে ডাকলেন,,
আরহাম লিভিং রুমে এগিয়ে এসে দেখলো কান্ত নুবা মায়ের কাঁধে হেলান দিয়ে বসে আছে তাকেও ডাকা হয়েছে,,,
বাড়ির সবাই লিভিং রুমে উপস্থিত,,, আরহাম এসে নুবার সামনাসামনি বসলো,,, ইচ্ছা করলো ক্লান্ত নুবাকে টেনে বুকে নিতে তবে সে পাড়লো না,,
হারুন মির্জা এক পলক নুবার দিকে তাকালেন,, আসলেই মেয়েটা নিষ্পাপ,,ভালো মন্দ বুঝে না,, মেয়েদের মন তো এমনি মমের মতো হয়,, একটু নরম করে কথা বললেই তারা গলে খির,,,
হারুন মির্জা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে আরহামের দিকে তাকালেন,,উনি যা করছেন সবটাই নুবরা ভালোল জন্য,,নিজের সন্তান কে নিজের থেকে কে আর বেশি চিনে,,আর সে এটাও জানে আরহাম রাগে পড়ে নুবার ক্ষতি করতে ২ বার ভাববে না,,নিজেথ হাতে মেয়েটাকে মারবে না সে,,,
হারুন মির্জা চাঁপা নিঃশ্বাস ফেলে বললেন

_ এই বিষয় নিয়ে আমি অনেক ভেবেছি,,, যেহেতু নুবা আর আরহাম দুই জনেই এই বিষয়ে সহমত প্রকাশ করেছে তাই আমি নিজ দায়িত্বে নুবা আর আরহামের বিয়েটা দিবো,,
কথাটা শুনে নুবা চম্কে উঠলো,,সবাই অবাক হলেও খুশি হলো,,,এখানে পরি ব্যতিত সবাই আছে কারণ হারুন মির্জা ইচ্ছা করেই পরিকে ডাকেননি,, তবে আরো ঝামেলা হতো,, কিন্তু পরি যে বহুকাল আগে থেকেই সব জানে এটা তো আর হারুন মির্জা জানেন না,,,
আরফ বিরক্ত হলো,,রাগি চোখে নুবরা দিকে তাকালো তবে আমিনা বেগম স্বামী এই সিদ্ধান্তে প্রচন্ড খুশি হলো,,,তবে চালাক আরহাম কোনো ষড়যন্ত্রের ঘ্রান পেলো,, ঠোঁট হেলিয়ে হারুন মির্জার দিকে তাকিয়ে রইলো,,
হারুন মির্জা ছেলের চাহনি দেখে নিজেও মনে মনে হেসলেন,,, একদম স্বাভাবিক কন্ঠে বললেন
_ হাজেরার এই বিষয়ে মতামত না থাকলেও আমি ওকে বুঝিয়েছি,,,নুবাকে নিজ দায়িত্বে আরহামের সাথে বেঁধে দিতে চাচ্ছি,,,
হাজেরা সুর মিলিয়ে বললো
_ যেহেতু আমার মেয়ে চায় তবে এখানে আর কোনো কথা আমার থাকে না,,,আমি শুধু শুধু তাদের ভিতরে বাঁধা হতে চাই না,,
মায়ের কথা শুনে নুবা খুশিতে তার মাকে জরিয়ে ধরে কেঁদে উঠলো,,,পরপর আরো কথা হলো,,চালাক হারুন মির্জা ছেলেকে কথার ভাঁজে ফাঁসিয়ে নিলেন,,, কারণ সে তো জানে আরহামের জেদ কেমন,,,তার সাথে চালাকি না করলে হবে না,,,
আরহামের মুখে মুচকি হাঁসি ফুটে উঠলো,,যাক কোনো ঝামেলা ছাড়া সবাই মেনে নিলো না হলে আরহামের আবার মাথা খাটাতে হতো কি করবে,,,
হারুন মির্জা চাঁপা নিঃশ্বাস ফেলে বললো

_ তবে একটা শর্ত আছে,,,
আরহাম হারুন মির্জার দিকে তাকিয়ে বললো
_ কিসের শর্ত,,,
_ যেহেতু তুমি বিয়ে করছো তাই এখন তো আর নুবাকে আমার দায়িত্বে দিতে পারো না তোমার বউ কে তোমারি সামলাতে হবে,,আমি চাই তোমাকে অফিসে যেই পদে নিয়োগ করা হয়েছে সেই কর্তব্য তুমি ভালো মতো পালন করো,, কারণ সব মেয়েরাই চায় তার একজন দায়িত্ববান স্বামী থাকুক নাকি বাড়িতে বসে খাক,,যতোই টাকা থাকুক না কেন,,,
আরহাম নুবার দিকে তাকালো,,নুবার মুখে মিষ্টি হাসি দেখে মাথা পেতে শর্ত মেনে নিলো,,
হারুন মির্জা ছেলের হ্যাঁ শুনে ঠোঁট হেলিয়ে হেসে বললেন,,
_ আর একটা কথা বিয়ের আগ পর্যন্ত তুমি নুবার আশে পাশে আসবে না কারণ তুমি তার জন্য পরপুরুষ তাই না,,তার উপর যেহেতু পরিকে আমার এনেছি তাই তার আগে একটা ব্যবস্থা করা হবে তার পর তোমাদের বিয়ে হবে,,,আশা রাখছি আমার কথা ফেলে দিবে না,,,
আরহাম হারুন মির্জার মিষ্টি কথার নিচে দুষ্টু শয়তানি না বুঝতে পেরে মাথা ঝুকালো,,সে ধৈর্য ধরতে পারবে,, সমস্যা নেই,,,তবে নুবাদের যে রেজিস্ট্রি marriage হয়েছে এটা আর বলা হলো না,, কারণ যেহেতু ঝামেলা শেষ হচ্ছে এই কথা উঠিয়ে আর এক ঝামেলা যদি পেকে যায় তাই আমিনা বেগম আর আরহাম চুপ রইলো,,,বিষয়টা গোপন করে গেলো,,,বিয়ের পড়েই নুবাকে বলবে আরহাম,,,
হারুন মির্জা এক গাল হেসে বললেন

_তো এবার উঠা যাক,,সবাই সন্তুষ্ট,,,আর হ্যাঁ আরহাম কাল থেকে অফিসে জয়েন করবে,,,আশা রাখছি তোমার কথা আমি শুনেছি আমার কথাও তুমি শুনবে,,
আরহাম শুধু মাথা ঝুকালো,,নুবা উঁকি মেরে আরহামের দিকে তাকালো,,,, আরহাম নুবাকে wink(চোখটিপ মারা)করে চলে গেলো,,,
নুবা মুচকি মুচকি হাসলো,,এতো সহজে সহ ঝামেলা শেষ হলো ভাবতেই পারছে না তারা,,আর না বুঝতে পারলো তাদের ষড়যন্ত্র,,,
সবাই চলে গেলো,,,নুবাও রুমে গেলো,,আমিনা বেগম খুশিতে ছেলের পিছন পিছন গেলো,,,রয়ে গেলো হাজেরা হারুন মির্জা,,,
হারুন মির্জা উঠতে উঠতে বললো
_ এই ব্যপারে আমিনাকেও বলো না,,,ছেলের ভক্ত সে সহ্য করতে পারবে না,,
হাজেরা মাথা ঝুঁকিয়ে বললো
_ ফোন করেছিলেন,,
_ হ্যাঁ,, কাল আবসে,,,আর অফিসে থাকলে নুবার থেকে দূরে থাকবে,,,এটাই ভালো হবে,,
হাজেরা ছলছল চোখে বললেন
_ আমি আপনার কাছে সারা জীবন কৃতজ্ঞ থাকবো,,,
হারুন মির্জা ব্যাথা দায়ক হাসি দিলেন,,যতোই হোক তার ছেলে তো তাই ছেলের শেষ পরিনতি ভেবে তার বুক পুড়ছে,,

নুবা তার মাকে জরিয়ে ধরে বিরবির করে বললো
_ সত্যি মা,,, তুমি এতো ভালো কেন,,
হাজেরা একটু হাসলো,,মনে মনে বললো
_ যা করছি তোর ভালোর জন্য,,,আমি চাই না ওরকম পাগলের হাতে আমার লিজার টুকরো মেয়েটা পড়ুক,,,
নতুন সকালের প্রথম আলো ধীরে ধীরে জানালার ফাঁক গলে ঘরজুড়ে ছড়িয়ে পড়ল,,,,গত রাতের সব ক্লান্তি যেন সূর্যের কোমল আলোয় একটু একটু করে মিলিয়ে যেতে লাগল,,,,দুটি মানুষের চোখে ফুটে উঠল একরাশ নতুন আশা আর অজানা স্বপ্নের ঝিলিক,,,,আজ থেকে শুরু হতে যাচ্ছে তাদের জীবনের এক নতুন অধ্যায়,,,,অতীতের সব কষ্ট পেছনে ফেলে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার নীরব প্রতিজ্ঞা যেন দুজনের হৃদয়ে একসাথে জন্ম নিল,,,,সামনের পথ কতটা সহজ বা কঠিন হবে কেউ জানে না,,,,তবুও একে অপরের পাশে থাকার বিশ্বাসই তাদের মুখে এনে দিল শান্ত এক হাসি,,,,
নতুন সকাল যেন নীরবে জানিয়ে দিল,,,, প্রতিটি নতুন সূর্যোদয়ের সঙ্গে নতুন আশাও জন্ম নেয়,,
আরশি টিপটিপ করে তাকালো রিহানের দিকে,,যে কিনা এখনো ঘুমে মগ্ন,,আরশি মুচকি হাসলো,,ভেজা চুল দিয়ে রিহানের নাকে মুখে দিলো এক ঝাড়া,,বেচারা রিহান হঠাৎ এমন হওয়ায় ধরপড়িয়ে উঠলো,,,
এদিকে রিহানকে এরকম ভয় পেতে দেখে আরশি খিলখিল করে হেসে উঠলো,,রিহান আরশির দুষ্টুমি বুঝতে পেরে নাক মুখ কুঁচকে বললো

_ তবে রে,, দাঁড়া,,,
বলেই ফাল দিয়ে উঠলো,,,আরশি দুই কদম পিছিয়ে যেএ রিহান কে ভেঙ্গিয়ে বললো
_ পারলে ধরে দেখান,,,
বলেই আরশি দিলো এক দৌড়,,,রিহান হকচকিয়ে উঠলো চেঁচিয়ে উঠে সুধালো
_ এভাবে দৌড়া দিস না আরশি,,পড়ে যাবি তো,,,
আরশি দরজা খুলতে খুলতে পিছন ফিরে তাকিয়ে বললো
_আমি নিচে যাচ্ছি,,,আপনি শাওয়ার নিয়ে আসুন,
_ আস্তে বলদ,,,এই সময় এভাবে লাফালাফি করতে হয়,,
তবে আরশি কিছু শুনলো না দৌড়ে চলে গেলো,,,রিহান ছটফট করে উঠলো,,,এই মেয়ে এভাবে দৌড়াতে দৌড়াতে পড়ে না যায়

নুবার মুখে মিষ্টি হাসি,,,সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠতে উঠতেই আয়রা চলে এসেছে,,এখন সে একদম চুপচাপ খাচ্ছে,,,আর নুবা বিরবির করে তার সাথে কথা বলছে,,,হাজেরা বাঁহি ঘড় গুছাচ্ছে,,,
তখন প্রায় ৯ টা নাগাত আরহাম রেডি,,,হয়ে খাওয়া দাওয়া সেরে নুবার রুমে আসলো,,,আরহামের উপস্থিত টের পেয়ে নুবা মিটি মিটি হাসলো,, এদিকে হাজেরা রুমে থাকলেও আজ আরহাম কাউকে পরোয়া না করে রুমে প্রবেশ করলো,,,
এদিকে এসে মেয়েকে এক পলক দেখে নুবার দিকে তাকালো,,, এদিকে নুবা কেমন ঠোঁট চেপে মিচকে শয়তানের মতো হাসছে,,, কারণ হচ্ছে তাকে পাওয়ার জন্য এই ঘাড়ত্যারা আরহাম অফিসে যেতেও রাজি হয়ে গেছে,,ভেবেই তার হাসি পাচ্ছে,,
নুবাকে এভাবে হাসতে দেখে আরহাম ভুরু নাচিয়ে জিগ্গেস করলো
_ ব্যপার কি,,এতো আনন্দ উপচে উপচে পড়ছে,,
নুবা মাথা ঝুঁকিয়ে সুধালো

_ কিছু না,,
আরহাম একটু হাসলো,,,এসেছিলো সে নুবাকে একটু আদর করে পরে অফিসে যাবে কিন্তু সামনে হাজেরা সরু দৃষ্টি দেখে সে তেমন কিছু করলো না,,, শুধু নুবার মাথায় হাত বুলিয়ে সুধালো
_ আয়রার খেয়াল রেখো,,
নুবা মাথা ঝুঁকিয়ে বললো
_ আচ্ছা,,,
আরহাম এক পলক হাজেরার দিকে তাকিয়ে ঠোঁট হেলিয়ে হেসে চলে গেলো,, আরহাম যেতেই হাজেরা চেপে রাখা নিঃশ্বাস ফেললো,,,
নুবার আনন্দ যেনো কিছু মূহুর্তেই চুপসে যাবে এমন,,,যেই আনন্দে সে মুখ ফুটে হাসছে সেই আনন্দ আর মাত্র কিছু সময়ের মেহমান,,,

_ অন্ততপক্ষে রাত ১০ টার আগে যাতে অফিস থেকে বেড় না হতে পারে,, পুরাতন যত ফাইল আছে সব নিয়ে যেএ তাকে দেখাবে,,, নতুন প্রজেক্টের প্রেজেন্টেশন আবারো দিবে,,,কোনো না কোনো কাজে ওকে আটকে দিবে,,,,
ওপাশ থেকে কর্মচারী বলে উঠলো
_ ওকে sir,,,
হারুন মির্জা হাতে ঘড়ি পড়তে পড়তে বললেন
_ আরফ কে বলে দিবে যাতে নতুন প্রজেক্ট এর সব,, প্রতিটা information এ ঝামেলা করে,,তার পর ওর সামনে রাখে,,, এগুলো সব ওকে solve করতে দিবে,,, প্রতিদিন আঁটকে রাখবে ওকে,,আমি আজ আসবো না,,পুরো কাজ যাতে সঠিক ভাবে হয়,,
_ yes sir,,,
আরো কিছু কথা বলে হারুন মির্জা কল কেটে দিলেন,,,পরপর সাব্বিরের কল করলেন,,,ভাব বিনিময় করে সুধালেন

_ আপনারা কি বেড় হয়েছেন
অপাশ থেকে সাব্বিরের বাবা বলে উঠলো
_ হ্যাঁ,,আমরা বেড় হচ্ছি,,
হারুন মির্জা কিছু important কথা বলে কল কেটে দিলো,,,পরপর তৈরি হয়ে নিচে নামলো,,,হাজেরা তখন চিন্তিত হয়ে হারুন মির্জারি অপেক্ষা করছিলেন,,উনি নামতেই হাজেরা উঠে দাঁড়ালেন,,, হারুন মির্জা চোখের ইশারায় কিছু একটা বললেন
হাজেরা যেনো শান্তি পেলো,,,
তখন প্রায় ১২ টা নাগাত,,,বাড়িতে কেউ কেউ আনন্দিত কেউ আবার চিন্তায় মগ্ন,,,নুবা সকাল সকাল গোসল সেরে নিলো,, কারণ হাজেরা বলেছে আয়রার ঠান্ডা লেগে যাবে দেরিতে গোসল করলে,,,
সকাল থেকে আয়রা নুবার কাছেই,,নুবা মেরুন কালারের একটা থ্রিপিস পড়েছে,,হাজেরাই বেড় করে দিয়েছে,, যেহেতু নুবার মনে কোনো পাপ নেই তাই সে এই ব্যপারটাকে তেমন ভাবে নেয়নি,,,,

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৮৪

আমিনা বেগম হতভম্ব,,নিজের স্বামীর দিকে তাকিয়ে অবিশ্বাস কন্ঠে বললো
_ এই সব কি আরশির আব্বু,,,
হারুন মির্জা স্ত্রীর দিকে গড়ম চোখে তাকিয়ে বললেন
_ তোমার কি মনে হয়,, তোমার ওই অমানুষ ছেলের সাথে আমি নুবার মতো নিষ্পাপ ফ,,,

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৮৬

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here