Home নীলের হুরপাখি নীলের হুরপাখি পর্ব ২৫

নীলের হুরপাখি পর্ব ২৫

নীলের হুরপাখি পর্ব ২৫
কারিমা ইসলাম কেয়া

রাত 12 টা বেজে গেছে নীল এখনো বাড়ি ফিরে নি। হুর অপেক্ষা করতে করতে ড্রয়িং রুমেই ঘুমিয়ে পড়েছে।
নীল বাড়ি ফিরলো রাত 2 টোর দিকে। সোফার উপর ঘুমন্ত হুরকে কোলে তুলে একভাবে এগিয়ে গেল নিজের রুমের দিকে। হুরকে বিছানার উপর শুইয়ে একটা লম্বা সাওয়ার নিতে গেল।

হুর ঘুম থেকে উঠে নিজেকে রুমে দেখে বুজতে পারলো নীল রাতে ফিরেছে। নীলকে পাশে না পেয়ে বেলকনির দিকে ছুটলো।
নীল হালকা লালচে কমলা ঠোঁটের ভাজে সিগেরেট টানছে আর কিছুক্ষণ পর পর মুখ থেকে ধোঁয়া উড়াচ্ছে। বেলকনিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে সিগেরেটের টুকরো গুলো।

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

নীল ঃ কী চাই?
হুর অবাক কণ্ঠে বললো, তুমি সিগেরেট খাও।
নীল ঃ কাল রাতে লাল রঙের জামাতে তকে ভীষণ বাজে লাগছিল।
হুর ঃ কেনো লাল রংয়ের জামাতে কী সমস্যা।
নীল ঃ শুধু লাল জামা না তর পড়া সকল জামা তেই আমার সমস্যা। কিন্তু কাল তর পড়া লাল জামাতে আমার একটু বেশিই সমস্যা ফিল হচ্ছিল।
হুরের কিছু খেয়ালে আসতেই নিজের দিকে তাকালো।
হুর ঃ কিন্তু আমি তো হলুদ রংয়ের জামা পড়েছি। ওয়েট ওয়েট আমি তো লাল রং য়ের জামায় পড়েছিলাম। তাহলে,,, তুমি আমার জা,জামা চেঞ্জ করেছো?
নীল এবার পিছনে হুরের দিকে তাকালো যে অবিশ্বাস্য চাহনিতে তাকিয়ে আছে তারই দিকে। নীলের ক্লান্ত চাহনিতে হাসিঁ ফুটে উঠলো।

নীল ঃ হুম করেছি আমি চেঞ্জ।
হুর ঃ কিহ তারমানে,,,,তুমি,,,আমার,,
নীল ঃ হুম।
হুর রাগ আর লজ্জা মিশ্রিত কণ্ঠে বললো,,,
হুর ঃ তোমার লজ্জা লাগলো না এভাবে ঘুমন্ত একটা মেয়ের সুযোগ নিতে।
নীল ঃ না লাগেনি। সুযোগ নিয়েছি। আরও কিছু জানতে চাস।
ঠিক আছে বলছি। তর নাভির বা পাশে একটা কালো তিল আছে। যেটা তর ছোটবেলায় ছিল না।
হুর লজ্জা আর শিকদাড়াঁ বেয়ে চলা এক অজানা শিহরণে বাকরুদ্ধ হয়ে সেখানেই দাঁড়িয়ে রইলো।

আজ তুবা হসপিটাল থেকে বাড়ি ফিরবে।
হুর বেলকনিতে নীলের লাগানো ফুলের গাছ গুলোতে যত্ন নিচ্ছে নিজ খেয়ালে। পিছন থেকে ডেকে উঠলো রুহানি।
রুহানি ঃ আম্মা।
হুর ঃ হুম বড়মা।
রুহানি ঃ তোহ কী সিদ্ধান্ত নিলেন।
হুর ঃ না বড়মা আমি নীল ভাইকে ছাড়তে পারবো না।
রুহানি ঃ নীলকে পাওয়া তর কাছে নীলের জীবনের থেকে বেশি মনে হচ্ছে।
হুর ঃ না বড়মা। আমি উনাকে বুঝাবো উনি আমার জীবনে আসার অনেক আগেই আমি অন্য কারও হয়ে গেছি।
রুহানি হাসঁলেন “এত সহজ”
রুহানি ঃ হুর তুই ভুলে যাচ্ছিস, তর বাপ চাচারা কারি কারি টাকা খেয়ে বসে আছে মাফিসা রানবির রনবের থেকে। শুধু তাই নয়, সকল সুবিধা নিয়ে টপ বিজনেসম্যান হয়ে বসে আছে।
হুর তুই যদি নীলের জীবন থেকে সড়ে না যাস তাহলে আমার ছেলের জীবনটা শেষ করে দিবে ওই মাফিয়া।

অতিত 4 বছর আগে
হঠাৎ করেই সরকার গ্রুপ এণ্ড ইন্ডাস্ট্রির সাথে কাজ করা বন্ধ করে দেয় সব কোম্পানি। লসের উপর লস হতেই থাকে। কোটি কোটি টাকার প্রজেক্ট গুলো হাতছাড়া হতে থাকে।
তখন সব কিছু ফিরে পাওয়ার একটা পথ তৈরি হলো রানবির রনব।
রনব ঃ সবকিছু ফিরে পাবেন বিনিময়ে আমার আপনাদের মেয়ে হুরকে চাই।
হায়দার সরকার আর নাহিদ সরকারের ঘটনা বুজতে দেরি হলো না। কেনো তাদের সাথে কোনো কোম্পানি কাজ করছে না। এর কারণ একটাই সহজ ভাবে যদি হুরকে চাইত, কোনো মেয়ের বাবাই তার মেয়েকে এমন একজন কুখ্যাত মাফিয়ার সাথে বিয়ে দিবে না।
কিন্তু হুর তহ বিবাহিত, গোপনে হুরের আরও 5 বছর আগেই নীলের সাথে বিয়ে হয়ে গেছে। কিন্তু এই ব্যাপারটা যদি রানবির রনব জানে তাহলে এখান থেকে বাড়ি পর্যন্তই তারা যেতে পারবে না এটাঁ বুজতে তাদের দেরি লাগে না।
তাই তারা রাজি হয়ে যায়।

বর্তমান
রুহানি ঃ হুর আম্মা তুই ডিভোর্স নিয়ে নি নীলের থেকে, না তদের তহ রেজিষ্ট্রি হয় নি শুধু মুখেই কবুল বলে বিয়ে করেছিলি তরা। তুই চলে যাহ আমার ছেলের জীবন থেকে।
হুরের চোঁখ বেয়ে টপটপ করে পানি ঝড়ছে কিন্তু আজ রুহানি তার চোঁখের পানি মুছে দিল না।
রুহানি চলে গেল।
হুর ঃ বেইমানী করতে মানা করেছিলে নীল ভাই কিন্তু তুমার চেয়ে বড় কোনো কিছুই হতে পারে না।

পকেট মারার অপরাধে এখন ও লামীম নীলাসা কে দিয়েই তার সব কাজ করাই।
নীলাসা ঃ লামীম ভাই, এই নাও তুমার সব জামা কাপড় ছাদের থেকে নামিয়ে আনছি।
লামীম ঃ ওখানে রাখ।
নীলাসা ঃ আচ্ছা আমি যায়।
লামীম ঃ কোথায় যাচ্ছেন মাননীয় চুন্নিবতি, আপনার কাজ এখনো শেষ হয়নি।
নীলাসা ঃ এখন আবার কী করতে হবে।
লামীম ঃ আমার কিছু ছোট প্যান্ট ধুতে হবে।
নীলাসা একবার লামীমের প্যান্টের দিকে তাকালো, তারপর নিজের দুই চোঁখ ঢেকে নিল।
নীলাসা ঃ ছিহ ছিহ আস্তাকফিরুল্লাহ লামীম ভাই আমার সামনে খুলবেন না। আমি কিছু দেখতে চাই না।
লামীম ঃ মানে,,,
নীলাসা ঃ লাল ঝোঁক।
লামীম ঃ পণ্ডিতের বাচ্ছা, খালি পণ্ডিতি। দ্বারা আজ তর সব পণ্ডিতি আমি বের করছি।
লামীম ঝাড়ু হাতে নিয়ে নীলাসাকে তাড়া করলো
নীলাসা ঃ ও মাগো বাচাঁও গো। লামীম ভাই মেরি সাব লুট লিয়া গোওওওও।

তুবা হসপিটাল থেকে বাসায় ফিরেছে। এখন পুরোপুরি না হলেও মোটামোটি সুস্থ।
লামহা তুবার কিছু লাগবে নাকী দেখার জন্য গিয়েছিল। ফিরার সময় হুরের রুমে ডুকে কিন্তু হুর কেথাও নেই। হুরকে নিচেও দেখে নি। তাই হুরকে খুজতে থাকে।
এক পর্যায়ে হুরকে সাড়া বাড়ি খুজেও পায় না। তার মনে ভয় জমে সে এবার কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে।
রুহানি বেশ খুশি হয়, তার প্ল্যান সাকসেস।

নীলের হুরপাখি পর্ব ২৪

নীল অফিসে কাজ করছে। হঠাৎ তার ফোনটা বেজে উঠে। স্ত্রিনে চোঁখ রাখতেই দেখে ছোট কাকি রুজির ফোন।
রুজি ঃ নীল হুরকে কোথাও খুজে পাওয়া যাচ্ছে না। হুর বাড়ি থেকে চলে গেছে। একটা চিঠি লিখে গেছে, ওকে খুঁজে বের করার বৃথা চেষ্টা যেনো আমরা না করি। ও ওর প্রেমিকের সাথেই গিয়েছে।
নীল মুঠোফোনটা ছুড়ে মারলো। অফিস রুমের সব কিছু ভেঙ্গে চুরমার করতে লাগলো।
নীল ঃ বলেছিলাম পাখি বেইমানী না করতে, নিজের করুণ পরিণতি নিজেই ডেকে আনলি।এবার তৈরি হ নীলাদ্র সরকারের ভিন্ন রুপের সাথে পরিচিত হতে।

নীলের হুরপাখি পর্ব ২৬