নেশাক্ত প্রহর পর্ব ১২
রূপন্তী সরকার
ইয়াশফা ফ্যালফ্যাল করে রিদের দিকে তাকিয়ে আছে। রিদ শয়তানি হাসি দিয়ে ইয়াশফার হাত ধরে নিয়ে চলে গেলো। এইদিকে জায়ান ও অবাক হয়ে রিদের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছে।
রিদের সাথে ইয়াশফা বাড়ি ফিরলো। মিহি ইয়াশফাকে ফ্রেশ হতে বলে ওর জন্য খাবার রেডি করলো। ইয়াশফা টেবিলে এসে বসতেই কোথায় থেকে যেনো ঋষভ এসে ওর হাত ধরে টানতে টানতে উপরে নিয়ে গেলো। মিহি অবাক হয়ে ঋষভের পানে চেয়ে আছে। হঠাৎ কি হলো? ইয়াশফা ও বোকা বনে চলে গেলো। ঋষভ ইয়াশফা ঘরে ডুকিয়ে ঠাসস করে একটা থাপ্পড় লাগিয়ে দিলো৷ এরপর রাগি গলায় বললো
“খারাপ মেয়ে”
এটা ইয়াশফার খুব ইগো তে লাগলো। মগের মুল্লুক নাকি? যখন তখন ওকে থাপ্পড় মারবে? ওর গাল কি সরকারি? ইয়াশফা কোনো কথা না বলে ঋষভের হাতে জোড়ে একটা কামড় বসিয়ে দিলো। ঋশ কোনো শব্দ করলো না। ইয়াশফা রেগে ঋষভকে বললো
“কিসের খারাপ মেয়ে? কি করেছি আমি? এরপর আমাকে থাপ্পড় মারলে আপনার হাত কেটে নিবো”
ঋশের আরো রাগ হলো। হুট করেই এই মেয়ের উপর রাগ হচ্ছে। কেনো রাগ হচ্ছে জানা নেই। ঋশ বললো “নিজেকে কি ভাবো? তোমার মতো মেয়ের সাথে ঋষভ রায়ান চৌধুরীর যায় না। থার্ড ক্লাস মেয়ে একটা”
কথাটা বলেই ঋশ ইয়াশফাকে ঘর থেকে বের দিলো। ইয়াশফার সাথে এটা কি হলো কিছুই বুঝলো না। ও তো কিছুই করে নি তাহলে ঋষভ ওকে খারাপ মেয়ে কেনো বললো। ইয়াশফা ঘরের বাহিরে দাড়িয়ে বললো
” দুনিয়ায় নিয়ম হলো ভালো মানুষ মারা খাবে। আমি খারাপ হয়েও কেনো মারা খাচ্ছি বুঝলাম না”
মেয়েটা গালে হাত দিয়ে চলে আসলো। ঋষভের হাতে কামড় দিতে পেরেছে এটা ভেবেই শান্তি লাগছে। এমন সময় অদ্রিত ইয়াশফার সামনে এলো। ইয়াশফা অদ্রিতের দিকে তাকিয়ে আছে। কেনো জানি অদ্রিতকে খুব আপন আপন লাগে। ইয়াশফা একটা মুচকি হাসি দিলো। অদ্রীত ইয়াশফার গাল ধরে বললো
“হেই লাড্ডু কি অবস্থা তোমার?”
ইয়াশফা হেসে বললো
“ভালো ভাইয়া আপনার কি অবস্থা? ”
অদ্রীত কিছু বলতে যাবে তার আগেই চোখ যায় ইয়াশফার হাতের দিকে। ওর হাতে একটা কাটা দাগ। অদ্রিতের এই দাগটা খুব চেনা লাগলো। কোথায় যেনো দেখেছে এই সেইম দাগ। অদ্রিত ইয়াশফাকে বললো
“এইখানে কি হয়েছে লাড্ডু?”
ইয়াশফা দাগের দিকে তাকিয়ে অদ্রীতকে বললো
“আসলে আমি যখন…”
ইয়াশফা কিছু বলতে যাবে তার আগেই ঋষভ এসে ইয়াশফার হাত ধরে ওকে নিচে খাবার টেবিলে বসিয়ে দিয়ে আসলো৷ অদ্রিত বোকার মতো চেয়ে আছে। ইয়াশফা ও ঋষভের এমন হুটহাট আক্রমণে অবাক হচ্ছে। এই লোকের কি মাথায় সমস্যা? ঋষভ অদ্রিতের কাছে এসে বললো
“ওর সাথে কথা বলবি না”
অদ্রীত অবাক হয়ে জানতে চাইলো
“ও মা কেনো? ও আমার লাড্ডু হয়”
ঋষভ রাগি চোখে অদ্রিতের দিকে তাকালো। এর আবার হুট করে কি হলো?
এইদিকে ইয়াশফা ভাত খাচ্ছে। মিহি সবার জন্য মাছ রান্না করেছে। আর তিথি বাকি সব খাবার রান্না করেছে।
ইয়াশফা মাছ বাদে সব খাবার দিয়ে ভাত খাচ্ছে। মিহি ইয়াশফাকে বললো
“মাছ দিয়ে খাও?”
ইয়াশফা কিছু বলার আগেই তিথি এসে বললো
“টুইংকেল ও মাছের কাটা বাছতে পারে না গলায় বেধে যায়”
মিহি চুপ করে আছে। ইয়াশফা মিহির দিকে তাকিয়ে দেখলো মিহি মাথা নিচু করে আছে। ইয়াশফা মিহিকে বললো
“আন্টি একটা কথা বলবো?”
মিহি নিচের দিকে তাকিয়ে বললো “বলো”
ইয়াশফা মিনমিন করে বললো “আমাকে একটু কাটা ছাড়িয়ে দিবে? তাহলে আমি খাবো”
মিহি এক মিনিটও দেড়ি না করে ইয়াশফার পাশে বসে মাছের কাটা ছাড়িয়ে দিলো। ইয়াশফা হাসি মুখে সব শেষ করলো। মিহিকে বললো
“তোমার হাতে একটা চুমু খাই? এতো টেস্টি কিভাবে রান্না করেছো”
মিহির মনটা ভালো হয়ে গেলো। রিদ বাদে এভাবে ওর রান্নার প্রশংসা কেউ করে নি। মিহি বড়ো বড়ো চোখ করে ইয়াশফার দিকে হাত বারিয়ে দিলো। ইয়াশফা অবাক হলো ও ভেবেছিলো ওর শাশুড়ী অনেক রাগি গম্ভীর। ইয়াশফা টুপ করে মিহির হাতে চুমু খেলো। এমন সময় তিথি বললো
নেশাক্ত প্রহর পর্ব ১১
“আমার খাবার কি মজা হয় নি?”
ইয়াশফা হেসে বললো
“হ্যাঁ মামনি অনেক মজা হয়েছে”
তিথি ওর হাত বারিয়ে বললো
“তাহলে আমার হাতেও চুমু খাও?”
ইয়াশফা চুমু খেলো। মিহির কেনো জানি হিংসে হচ্ছে। যদিও ও এমন হিংসুক না তবে এই মেয়েটাকে নিয়ে হচ্ছে।
