Home পদ্মপ্রিয়া পদ্মপ্রিয়া পর্ব ৩১

পদ্মপ্রিয়া পর্ব ৩১

পদ্মপ্রিয়া পর্ব ৩১
ঈশিতা রহমান সানজিদা

আয়নার প্রতিবিম্বে এক অন্য নারী কে দেখা যাচ্ছে। জীবনের প্রথম সাজ, তাও বউ রূপে। নূর অবাক হয়ে নিজেকে দেখছে, এত সাজ কার জন্য? আজমাঈনের? হ্যাঁ তো, এখন তো সে আজমাঈনের স্ত্রী। এতদিন নিজেকে ঢেকে রাখতে শিখেছে কিন্তু এভাবে নিজেকে কারো সামনে উপস্থাপন করার মানসিকতা ওর ছিলো না। তবে আজ বাঁধা দিলো না, নিজের স্নিগ্ধ মুখ দেখে থ হয়ে গেল। আইশা শক্ত করে খোঁপা বেঁধে দিলো, ইনস্টাগ্রাম থেকে শিখেছে। আস্ত দু’টো গোলাপ লাগিয়ে দিলো। কপালে আঁছড়ে পড়া ছোট ছোট চুলগুলো চোখে লাগছে। নূর বললো,’এই চুলগুলো ক্লিপ দিয়ে আটকে দাও।’

আইশা চোখ কুঁচকে বলে,’আহ ভাবি!! এটা স্টাইল, এভাবেই রাখো। আর শোনো ভাইয়ার সামনে সুন্দর সুন্দর হেয়ারস্টাইল প্রেজেন্ট করবে। ওরকম ওড়না প্যাঁচাবে না। মেহমান সব চলে গেলে আমাদের বাড়িতে কোন পুরুষ মানুষ থাকে না, বুঝেছ?’
আইশা ঠোঁট ফুলিয়ে অর্ডার করছে, ওর কথার ভঙিমায় হেঁসে ফেললো নূর। মাথা নিচু করে বসে রইল। তানাজ হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এলো,’এতক্ষণ লাগে, রাত বাজে সাড়ে এগারোটা? মেকআপ করতে কে বলেছে তোকে? সুন্দরদের অতো মেকআপ করতে নেই।’
আইশা কপট রাগ দেখায়,’তোমার কি তাতে? আরে ভাই মেয়েরা বিয়ের দিনই সাজে এরপর কি আর সাজতে পারবে?’

তানাজ বিছানায় বসে। বলে,’তোর যে কত ধৈর্য, আমি এতক্ষন বসে থাকতে পারি না।’
আইশা নূরকে উদ্দেশ্য করে বললো,’জানো ভাবি, আপুর বিয়ের সময় পার্লার থেকে সাজাতে আসলো। আপু আধঘন্টা বসে থেকে উঠে গেছে। আর সাজবে না, কি আর করার। ওভাবেই শাড়ি পর শ্বশুর বাড়ি চলে গেছে। বেচারা দুলাভাই, একটু বউ সাজে দেখতে চেয়েছিল তাও পারলো না।’
আইশা একা একাই হাসছে, তানাজ রাগি চোখে তাকিয়ে আছে। এরা সবাই কত মজা করে। অথচ নূরের সময় কেটেছে একা একা। তাহমিনা নূরের সামনেই তানাজ কে খাইয়ে দিয়েছে, মেয়েটা অসুস্থ। যত্নের কমতি রাখছেন না এতো ব্যস্ততার মাঝেও। তখন কেমন অসহায় চোখে তাকিয়ে ছিল নূর। ওর জীবনটা এভাবে কাটলে খুব বেশি ক্ষতি হতো কি?

আইশা মাথায় লাল ওড়না টেনে দিলো। অতঃপর খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে লাগল, কিছু বাদ পড়েছে কিনা। লাল রঙের রেশম সুতার তৈরি শাড়ি, হালকা গহনা এবং হাত ভর্তি চুড়ি। ভীষণ সুন্দর লাগছে নূরকে। এই প্রথম চোখে কাজল পড়েছে নূর, এর আগে কখনো প্রয়োজনবোধ করেনি তবে সুরমা পরা হয়েছে অনেকবার। তাহমিনা এলেন দেখতে। তিনি নূরের গালে হাত রেখে বলেন,’মাশআল্লাহ! তোমাকে খুব সুন্দর লাগছে।’
নূর সৌজন্যমূলক হাসে। তিনি মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে দোয়া করেন,’দোয়া করি আজীবন সুখে থাকো।’
‘তোমার ছেলে যেই হারামি, ভাবিকে দুদণ্ড শান্তি দেবে?’
কথাটা আইশা মজার ছলে বললো। তাহমিনা মেয়েকে ধমকে বলেন,’আমার ছেলে মেয়ে সবই সমান। কেউ কারো থেকে কম যায় না।’ অতঃপর তাড়া দিয়ে বলেন,’এবার যা করার তাড়াতাড়ি কর। আমি সবাইকে যার যার রুমে পাঠিয়ে দিয়েছি। এখন মেয়েটাকে একটু শান্তি দে, রাত বাড়ছে।’

আইশা ঝটপট সব গুছিয়ে নেয়, লাগেজ টেনে নিয়ে গিয়ে আজমাঈনের রুমে রেখে এলো। আশেপাশে খেয়াল করে দেখলো কেউ আছে কিনা। সবাই যার যার রুমে আছে। এই ফাঁকে নূরকে বাসর ঘরে বসিয়ে রেখে এলো। রুমটা চমৎকার করে সাজানো হয়েছে। এতো গোলাপের পাপড়ি আগে কখনো দেখেনি নূর। সারা বিছানা জুড়ে পাপড়ি গুলো ছড়িয়ে আছে, মেঝেতেও একই অবস্থা। গ্লাস হোল্ডারের সুগন্ধি ক্যান্ডেল গুলো জ্বলছে, নূর ভালো করে রুমটা দেখলো। তারই ডেকোরেশন করা, তখন ভাবেনি যে এই রুমটা ওর হবে। নিয়তি কোথা থেকে কোথায় নিয়ে আসে আল্লাহ ভালো জানেন। ড্রেসিং টেবিলের উপর ফোনটা দেখতে পেলো। খুশিতে চোখদুটো চকচক করে উঠলো। দ্রুত বাবার নাম্বারে ডায়াল করলো। পরপর কয়েকবার কল করার পরেও রিসিভ হলো না। চিন্তিত হয়ে রাহাকে ফোন করলো। রিসিভ করতেই সালাম দিয়ে জিজ্ঞেস করলো,’আব্বু কোথায় আপু? কখন থেকে ফোন করছি!’
রাহা আশ্বস্ত করে নূরকে। বলে,’সব ঠিক আছে, আবার প্রেসার ফল করেছে। ওষুধ দিয়েছি এখন ঘুমাচ্ছে, ফোনটা আমি সাইলেন্ট করে দিয়ে এসেছি।’

‘খুব সিরিয়াস কিছু আপু? তুমি এখন গিয়ে দেখো না।’
রাহা হেসে উঠলো,’এতো চিন্তা করতে হবে না। সব ঠিকঠাক, বেশি ভাবিস না। তাছাড়া আগামীকাল তো সবাই যাচ্ছি তোদের বাড়িতে তখন দেখিস। এখন রাখি।’
আর কিছু বলতে না দিয়েই ফোন কাটলো রাহা। নূর কান থেকে ফোন নামিয়ে ওভাবেই বসে রইল। এতো তাড়াহুড়ো করে ফোন রাখার কি হলো? আরেকটু কথা বললেই পারতো। ফোনটা ড্রেসিং টেবিলের উপর রাখতেই আয়নায় চোখ পড়লো। দুহাত ভাঁজ করে দাঁড়িয়ে আছে আজমাঈন, পরনে সাদা পাঞ্জাবি। আঁটসাঁট হয়ে গাঁয়ে লেগে আছে। চোখজুড়ে ছেয়ে আছে একরাশ মুগ্ধতা। ছেলেটা কখন এসেছে খেয়াল করেনি নূর। হঠাৎ দেখতেই চমকে উঠে দাঁড়ালো। কিছু বলতে চেয়েও পারলো না। আজমাঈনের চাহনিতে যেন ভষ্ম হয়ে যাচ্ছে। তাকিয়ে থাকা দায়। নিরবতা ছাপিয়ে আজমাঈন এগিয়ে এলো। অত্যন্ত মোহাচ্ছন্ন কন্ঠস্বর তুলে বললো,’তোমাকে খুব সুন্দর লাগছে।’

ছোট্ট একটি বাক্য, অথচ শরীর দুলে উঠলো নূরের। ভীষণ রকম ভালো লাগা কাজ করলো ওর মধ্যে। তবে মুখচোরা স্বভাবের মেয়েটা কিছুই বলতে পারলো না। মাথা নিচু করেই দাঁড়িয়ে রইল। আজমাঈন কাছে এলো না, দূর থেকেই বললো,’চেঞ্জ করবে?’
এত কষ্ট করে সাজলো, থাকুক না আর কিছুক্ষণ। হ্যাঁ বা না বলার ক্ষমতা বুঝি ফুরিয়ে গেছে। আজমাঈন মৃদু হাসলো। খানিকটা এগিয়ে এসে বললো,’আমি চেঞ্জ করে আসছি। তুমি ততক্ষণ অপেক্ষা করো, এসে তোমাকে হেল্প করছি।’
আজমাঈনের চেঞ্জ করতে বেশিক্ষণ লাগলো না। পুরুষ মানুষের চেঞ্জ করতে কি আর অতো সময় লাগে? ঝটপট পাতলা সাদা রঙের টিশার্ট আর ট্রাউজার পরে আসলো। নূর তখনও ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে। আজমাঈন এগিয়ে এসে বসার টুলটা এগিয়ে দিলো। নূর বসার পর সে নিজেও অপর টুল টেনে ওর পেছনে বসে। ঘাড় কাত করে আয়নায় চোখ রেখে বলে,’আমি হেল্প করলে অস্বস্তি হবে?’
এবার নূর মাথা নাড়ায়। আজমাঈন বলে,’তুমি মেয়ে মুখ ফুটে কিছু বলো না, অগত্যা আমাকেই সব বুঝে নিতে হয়। এইযে এত ভারি শাড়ি আর সাজগোজে তোমার অসুবিধা হচ্ছে, বলেছ কি?’

‘আমার অসুবিধা হচ্ছে না।’
‘এভাবে ঘুমাতে পারবে? পারবে না। কাজেই আগেভাগেই চেঞ্জ করে ফেলো। অতো আনুষ্ঠানিকতা পালনের দরকার নেই। তোমায় বউ সাজে দেখার ইচ্ছা ছিলো দেখে নিয়েছি।’
আজমাঈন আলতো হাতে ঘোমটার ক্লিপ গুলো খুলে দেয়। তারপর খোপায় হাত দেয়, নূরের সময়টা যেন হঠাৎ করেই থমকে গেল। ওর জীবনে এতটা সুখ আসবে কখনো ভাবেনি। এতোটা গুছিয়ে দেবে ওকে কেউ! এতো অবিশ্বাস্য। খোঁপা খোলার সময় মানুষটার আঙুলের ছোঁয়া লাগছে ঘাড়ে। খুব কম সময়ের ছোঁয়া চোখ বন্ধ করে অনুভব করছে নূর। চুলগুলো যখন পুরোপুরি পিঠ ছড়িয়ে গেলো। আজমাঈন ওর বসার টুল ধরে টেনে আরো কাছে আনলো। হুট করে টান পরতেই নড়ে উঠলো নূর। পড়ে যাওয়ার ভয়ে আজমাঈনের ঘাড় শক্ত করে ধরলো। সহসাই আজমাঈন বলে উঠলো,’আমি থাকতে পড়বে না। তোমার সুরক্ষা আজ থেকে আমার হাতে।’

‘তোমার হাত দেখি।’ একটু থেমে বলে আজমাঈন। নূর নিজের ডান হাতটা উঁচিয়ে ধরলো। আজমাঈন বললো,’আঙ্গুলের মাঝে ফাঁকা কেন জানো?’
‘কেন?’
আজমাঈন আস্তে করে ওর আঙুলের মাঝে নিজের আঙুল গলিয়ে দিয়ে বললো,’যাতে জীবনসঙ্গীনি তার জায়গা করে নিতে পারে।’
নূর অপলক চেয়ে রইল ওর হাতের দিকে। এই ছেলের কথায় মুগ্ধ না হয়ে উপায় নেই। কথার খেই হারিয়ে ফেলে ও। তবে আজ সাহস করে বলেই ফেললো,’আপনি এভাবে কখনোই কথা বলবেন না।’
‘কেন?’
কি বলবে জবাব মিললো না। বললো,’জানি না।’
আজমাঈন ভ্রু নাচিয়ে বললো,’হুমম, আমি জানি।’
‘কি জানেন?’

আজমাঈন নূরের কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলে,’তুমি আমাকে ভালোবাসো, অসম্ভব রকম প্রেমে পড়েছ আমার।’
তব্দা খেয়ে আজমাঈনের দিকে তাকিয়ে আছে নূর। আজমাঈন বললো,’স্বীকার করো, মিথ্যা বলবে না। জানো না, মিথ্যা বলা মহাপাপ।’
নূর মাথা নোয়ায়। বলে,’সময় আসুক তখন বলব।’
আজমাঈন ওর হাতটা শক্ত করে বললো,’কবে আসবে সেই সময়? আমাকে আর কতদিন অপেক্ষা করতে হবে?’
নূর একটু ভেবে বললো,’ত্রিশ ঘন্টা!’
আজমাঈন এক প্রকার লাফিয়ে উঠলো,’সত্যি!!’
অসন্তুষ্ট চোখে তাকায় নূর। তবে কি থেকে কি বলে ফেললো! এখন কি হবে? আজমাঈন তো এরপর আর ওকে ছাড়বে না। নিজের কথার জালে নিজেই জড়িয়ে গেছে। ওর এমন ভাবনা দেখে আজমাঈন বলে,’যত ভাবার ভেবে নাও। কিন্তু কথা দিয়েছ মনে রেখো।’ দুহাতে নূরকে আগলে ধরে,’তোমার জন্য দুটো গিফট এনেছি। তবে শর্ত আছে।’

নূরের ভ্রু কুঁচকে এলো,’শর্ত!’
‘হ্যাঁ শর্ত, আমি গিফট দিব। তোমাকেও গিফট দিতে হবে। প্রথম গিফট টা হুবুহু আমার মতো দিতে হবে। আর দ্বিতীয়টা তোমার পছন্দ মতো। তবে আগামী ত্রিশ ঘন্টার মধ্যেই দিতে হবে। রাজি?’
‘আগে গিফট দেখি তারপর বলব।’
‘জি না, আগে রাজি হতে হবে। এবং রাজি হতেই হবে।’
‘আচ্ছা!’ না ভেবেই আচ্ছা বলাটা নূরের মস্ত বড় ভুল হয়ে গেল। আজমাঈন ওর গালে হাত রেখে কপালে গভীর চুমু খেলো। কয়েক মূহুর্তের জন্য থমকে গেল নূর। চোখের অশ্রুতে বুক ভাসালো, সাথে আজমাঈনের টিশার্ট খামচে ধরে রইল। আজমাঈন ছাড়লো না, নূরকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বসে রইল।

বউভাতের অনুষ্ঠানে তেমন অতিথি নেই। আজমল শিকদারের কাছের আত্মীয় স্বজন এবং পাড়াপড়শিরা। কিছুক্ষণ আগেই রাশেদ সাহেব তার অতিথিদের নিয়ে এসেছে। আজ ফয়েজ এসেছে মেয়ে বাড়ির লোক হিসেবে। বিয়ের দিন থেকে বউভাত পর্যন্ত ও মেয়ে বাড়ির আত্মীয় হিসেবে গণ্য হয়েছে। বন্ধু পরে, আগে বউয়ের আবদার। আজমাঈন ওকে দেখে কিছু রাগে গজগজ করলো। ধরে দুটো চড় থাপ্পড় দিলো। ফয়েজ বললো,’সম্পর্কে বড় হই তোর সম্মান কর।’
আজমাঈন হঠাৎ মনে পড়ে যাওয়ার ভঙিমায় বললো, ‘ওওহ, সরি আঙ্কেল। আসসালামুয়ালাইকুম, ভালো আছেন?’
ফয়েজ মুরব্বিদের মতো করে বললো,’হয়েছে হয়েছে, যা যা আমার জন্য ঠান্ডা শরবত নিয়ে আয়।’
আইশা জুসের গ্লাস নিয়ে দৌড়ে এলো,’আঙ্কেল আঙ্কেল, এইযে আপনার জুস। ইশশ বয়স্ক মানুষ। কত দূর জার্নি করে এসছেন, ভাইয়া তুমি আঙ্কেল কে রুমে নিয়ে যাও রেস্ট করুক।’
রেগে গেল ফয়েজ। আইশার মাথায় চাটি মেরে বললো, ‘ফাজিল মেয়ে, দাঁড়া তোর বিয়ের ব্যবস্থা শিঘ্রই করছি।’

‘করো করো, আমি তো এক পায়ে খাঁড়া।’
‘কি বেয়াদব মেয়ে, যেমন ভাই তেমন বোন।’
‘তেমন আঙ্কেল ও।’
তাড়া করতেই দৌড়ে পালায় আইশা। আজমাঈন হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খেলো।
রাশেদ সাহেব মেয়েকে জড়িয়ে ধরে বসে আছে। মেয়ে তার অভিমান করে আছে। গতকাল ফোন না ধরার কারণে। রাগ ভাঙাতে সময় লাগলো। অনুভব অপর পাশে বসে আছে। সে পা দোলাতে দোলাতে বললো,’তোমার রুমটা খুব সুন্দর ফুপি। ঠিক তোমার রুমের মতো।’
নূর মাথা তোলে। কাল রাত থেকে এই রুমে সে, অথচ খেয়াল করেনি। রুমের পর্দা থেকে শুরু করে বেড এবং আসবাবপত্র সবকিছুই নূরের রুমের মতো। অনুভব বলে,’পারফেক্ট যাকে বলে। দাদুভাই তুমি ঠিক লোককে বেছে নিয়েছ।’

রাশেদ সাহেব বলেন,’তোমার জন্যেও ঠিক মেয়ে নিয়ে আসব।’
অনুভব দাঁত বের করে হাসে। লজ্জা পাওয়ার অভিনয় করে। আজ নূরকে নিয়েই বাড়িতে ফিরলেন রাশেদ সাহেব। মেয়ের কান্নাকাটিতে রেখে আস্তে পারলেন না। তাছাড়া আজমাঈন নিজেও নূরের মন খারাপ দেখে থাকলো না। দু’দিন থেকে নাহয় চলে আসবে। এতে যদি নূরের মন ভালো হয়।
তবে আসার পর নূরকে প্রতি মুহূর্তে মনে করিয়ে দিচ্ছে ওর গিফটের কথা। আর মেয়েটা লজ্জায় লাল হয়ে যাচ্ছে। আজমাঈন অবশ্য এতে খুব মজা পাচ্ছে।
আজমাঈনের এই অপেক্ষায় আজ রাত কাটালো। তবে নূরের ভালোমতো ঘুম হলো না।
এতদিন সাহারা, অনুভবকে গিফট দিয়েছে কিন্তু আজমাঈন কে সে কি গিফট দিবে ভেবে পাচ্ছে না। ভাবলো আজমাঈনের মতো করে এক খানা চিঠি লিখবে। যদিও ওর মতো ভালো হবে না। তবুও চেষ্টা করতে ক্ষতি কি।
সকাল হলো এক সুন্দর অনুভূতি নিয়ে। নূর দেখলো সে আজমাঈনের বাহুডোরে আবদ্ধ হয়ে আছে। ওর ঘনঘন নিশ্বাস কপালে আঁছড়ে পড়ছে। সাবধানে উঠে বসলো নূর। বেড থেকে নামতে নিলে ওড়নায় টান পড়লো। পেছন ফিরে দেখলো আজমাঈন ধরে আছে। সে ঘুম জড়ানো কন্ঠে বলে,’আমার গিফট? ত্রিশ ঘন্টা পার হতে আর কত সময় বাকি আছে?’

পদ্মপ্রিয়া পর্ব ৩০

নূর মাথা নেড়ে উঠতে উঠতে বলে,’প্রার্থনা করুন, শিঘ্রই হয়ে যাবে!’
মুখ ঘুরিয়ে মুচকি হাসলো নূর। উঠে চলে গেল তৎক্ষণাৎ। আজমাঈন বালিশ নিয়ে উপুড় হয়ে শুয়ে পড়লো। সে একটা কথা শোনার জন্য অধীর আগ্রহে করছে। সময় যেন কিছুতেই কাটছে না।
নূর বিকেলে নিজের গাড়ি নিয়ে বেড়িয়েছে। আজমাঈন কে বলেই বের হয়েছে। ও যেতে চেয়েছিল কিন্তু নূর না করে দিয়েছে। গিফট যেহেতু চেয়েছে, নূরকে দিতেই হবে। যাকে গিফট দিবে তাকে দেখানো যাবে না।
তবে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নেমে এসেছে তবুও নূর ফিরলো না। আজমাঈন ভাবলো হয়তো জ্যামে পড়েছে, কিন্তু মাগরিবের নামাজ পড়ে আসার পর যখন দেখলো নূর ফেরেনি তখন একটু নড়েচড়ে উঠলো আজমাঈন। সে ত্রস্ত হাতে ফোন করলো নূরকে। বেশ কয়েকবার রিং হলো কিন্তু রিসিভ হলো না।

পদ্মপ্রিয়া পর্ব ৩২

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here