Home পদ্মপ্রিয়া পদ্মপ্রিয়া পর্ব ৩৫

পদ্মপ্রিয়া পর্ব ৩৫

পদ্মপ্রিয়া পর্ব ৩৫
ঈশিতা রহমান সানজিদা

ট্যাপ ছাড়া, দ্রুত গতিতে পানি বের হচ্ছে। কি ঠান্ডা পানি, তবে আজমাঈন হিটার অন করে দিয়েছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই গরম পানি বের হবে। আজমাঈন তোয়ালে নিয়ে এসেছে। গরম পানিতে এক টুকরো কাপড় ভিজিয়ে নূরের হাত, পা, শরীর মুছে দিচ্ছে। ওর চেহারা ক্ষতবিক্ষত হয়ে আছে। এতগুলো দিনের পর সে মেয়েটিকে খুঁজে পেয়েছে। প্রতিটা দিন নিজের সাথে যুদ্ধ করতে করতে আজ তার গায়ে অসংখ্য অদৃশ্য ক্ষত। নূরকে দেখানো যাচ্ছে না। আজমাঈন জিজ্ঞেস করলো,’মাথায় পানি দিবে, ভালো লাগবে?’
মাথা নেড়ে সম্মতি দেয় নূর। মাথাটা সামনের দিকে হেলিয়ে দেয়। আজ ওর শান্তি লাগছে। শরীর অসুস্থ তবে মনে শান্তি থাকলে অসুখ সারতে সময় লাগেনা।আর আজমাঈনের যত্ন দেখে এই অসুখ দৌড়ে পালাবে।
আজমাঈন নূরকে কোলে তুলে এনে বিছানায় বসিয়ে দিলো। চুলগুলো আবারো ভালো করে মুছে দিলো। নূর বললো,’আমি কি খুব খারাপ?’

ওষুধের প্যাকেট হাতে নিতেই থেমে গেল আজমাঈন। শান্ত চোখে তাকিয়ে বললো,’হঠাৎ একথা বলছ?’
নূর হাঁটু জড়ো করে বসে। বলে,’নাহলে কেউ কেন আমার এতো বড় ক্ষতি করলো? আমি কি দোষ করেছিলাম?’
আজমাঈন টুল টেনে বসলো। ওষুধ আর পানি নূরের দিকে এগিয়ে দিয়ে বললো,’আল্লাহ যাদের খুব বেশি ভালোবাসেন তাদের পরীক্ষা করেন। ধরে নাও এটা আমাদের পরীক্ষা ছিলো। আমরা পাশ করেছি।’
‘আমার ঘুম পাচ্ছে।’
কথাটা কানে পৌঁছানো মাত্রই তড়িঘড়ি করে উঠে আজমাঈন। নূরকে আলগোছে শুইয়ে দেয়। বালিশে
মাথা দিতেই চোখে ঘুম নেমে এলো নূরের। একেই বুঝি শান্তির ঘুম বলে! আজমাঈন দরজা ভেজিয়ে দিয়ে বাইরে এলো। তাহমিনা খাবার বেড়ে বসে রয়েছেন। বাকিরাও ওর জন্য অপেক্ষা করছে। আজমাঈন নিশ্চুপে চেয়ার টেনে বসলো। তাহমিনা বললেন,’ঘুমিয়েছে?’
মাথা নেড়ে আজমাঈন।

‘জ্বর কমেছে?’
‘আগের চেয়ে একটু কমেছে।’
ছেলের পাতে ভাত তুলে দিলেন তাহমিনা। আজমল শিকদার ফোনে কথা বলা শেষ করে মাত্র এসে বসলেন। বলেন,’হাশেম ফোন করেছিল, আমি বলেছি মেয়েটা অসুস্থ। একটু সুস্থ হোক তারপর জবানবন্দি দিবে।’
‘মনে হয়না নূর কারো প্রতি আঙ্গুল তুলবে! ও সবকিছু গোপন রাখতে চাইছে যতটুকু বুঝতে পারছি।’
বিষ্মিত হলেন আজমল শিকদার,’তোকে কিছু বলেছে?’
‘নাহ!’

আজমাঈনের মনটা আগের মতোই খারাপ হয়ে আছে। ছেলের মতিগতি ধরা যাচ্ছে না। তবে ছেলে তার মনে মনে বিরাট ছক কষে বোধহয়। এর শেষ না দেখে ছাড়বে না।
পরেরদিন স্বয়ং রাশেদ সাহেব এসে উপস্থিত। তিনি অসুস্থ শরীর নিয়ে মেয়েকে দেখতে হাজির হয়েছেন। মেয়েকে দেখার জন্য পিতার হৃদয় চৌচির হয়ে গেছে।
আদর স্নেহ দিয়ে তিনিই বড় করেছেন যে। এতোটাই ভালোবাসেন যে অসুস্থতার তোয়াক্কা না করেই চলে এসেছেন। মেয়ের চিন্তায় তিনি আরো বুড়িয়ে গেছেন। শরীরের শক্তি ক্ষয় হয়েছে। শেষ পর্যন্ত লাঠিতে ভর করে হলেও তিনি এসেছেন। বাবা মেয়ের সাক্ষাৎ দেখে সকলের চোখে অশ্রু জড়ো হলো। তবে বাবার এই অবস্থা দেখে সবচেয়ে বেশি ভেঙে পড়লো নূর। বয়স হলেও তার শরীরে যত শক্তি ছিলো। মনোবল ছিল দৃঢ়। অথচ আজ তার শরীর ভঙ্গুর। কেমন খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে আসছে। দেখামাত্রই দৌড়ে উঠে আসে না নূর। সে স্থির চোখে তাকিয়ে রয়। এই রাশেদ সাহেব কে পাঁচ মাস আগের রাশেদ সাহেবের সাথে মেলানো যাচ্ছে না। অসম্ভব অন্যরকম লাগছে।
রাশেদ সাহেব পাশে এসে বসতেই কেঁপে উঠলো নূর। বাবার গালে হাত রেখে বললো,’একি অবস্থা করেছ নিজের?’

রাশেদ সাহেব মেয়েকে জড়িয়ে ধরেন। নূর কেঁদে ওঠে, ফোপায় কিছুক্ষণ। বলে,’আমি কি মরে গেছি? যে আমার শোকে এমন অবস্থা করেছ নিজের?’
রাশেদ সাহেব অনেক আঘাত পেয়েছেন। আঘাতের ভারেই নুইয়ে পড়েছেন। নূর মাথা তুলে বলে,’আর কেউ আসেনি? ভাইয়া কোথায়?’
সকালেই জ্বর খানিকটা কমেছে, অত্যন্ত শান্ত নূর। রেহানা তখনই রুমে এসে ঢুকলেন। এতক্ষণ কেউ ছিলো না। বাবা মেয়েকে একান্তে কথা বলতে দিয়েছে। রেহানা রুমে ঢুকতে ঢুকতে কথাগুলো শুনে ফেলেন। নূরের পাশে বসে বলেন,’এখন শরীর কেমন? জ্বর কমেছে?’
‘হ্যাঁ কমেছে!’
রেহানা নূরের কপালে হাত দিয়ে দেখলেন। বললেন, ‘এখন তো নেই, ওষুধ ঠিকমতো খেয়ে নিও। নাহলে পরে জ্বর আসতে পারে।’ নূর অদ্ভুত চোখে মায়ের দিকে তাকায়। রেহানা বোধহয় বুঝলেন কিছু। হাসার চেষ্টা করে বলেন,’তোমার ভাইয়া অফিসে গেছেন। অনেক অর্ডার জমে আছে তো। সময় পেলে আসবে।’
‘সে আসবে না, আমার মুখোমুখি হওয়ার সাহস তার নেই।’ রেহানা থতমত গায় নূরের শক্ত কথা শুনে। কিছু বলার ভাষা খুঁজে পায়না। নূর ফের বলে,’আমার অনুপস্থিতিতে আমার বিজনেস সে কেন নিবে? কেন সে সব সামলাবে? ফারিন আপুর চেয়ে সে নিজেকে অভিজ্ঞ মনে করে কি?’

রেহানা বেগম তব্দা মেরে বসে রইলেন। রাশেদ সাহেব বলেন,’তুই একটু শান্ত হ মা! তোর শরীর ভালো না। সাইমন মাস খানেক ধরে অফিসে যাচ্ছে। এতদিন তো ফারিন সামলেছে। ও শুধু দেখাশোনা করছে।’
নূর ঠান্ডা হলো, এখন উত্তেজিত হওয়া চলবে না। সে তার মনে মনে সবকিছু সাজিয়ে রেখেছে। কঠিন স্বরে বললো,’তাকে বলো আমি চলে এসেছি, এখন তাকে সরে যেতে হবে।’
এই স্বরে এক অদ্ভুত শক্তি ছিলো যার পরিপ্রেক্ষিতে আর কথা বলতে পারলেন না রেহানা বেগম। মেয়ের ভেতরে কি চলছে ঠাওর করতে পারলেন না। নূর রাশেদ সাহেব কে বললো,’আজকের পর থেকে তুমি আমার সাথে থাকবে‌।’
রাশেদ সাহেব হেসে বলেন,’এখন তুই অসুস্থ, আগে সুস্থ হ। তাছাড়া বাড়িতে আমার যত্নের অভাব হচ্ছে নাকি?’
‘হলে তোমার এই অবস্থা হতো না।’
‘আচ্ছা আচ্ছা, শান্ত হ। তোর আপু আসছে, বাকিরাও আসছে। আগে সবার সাথে দেখা হোক তারপর য বলার বলিস।’

নূরের চাহনি, কথাবার্তার ধরন সব অন্যরকম। গত পাঁচ মাসে ওর এত পরিবর্তন হবে কেউ বুঝতে পারেনি। সাহারা, রাহা এসে দেখা করে গেছে। ওরা সবাই বিকেলেই চলে গেল। নূরের তখন জ্বর বেড়েছে। তাই তাকে জানানো হলো না। আজমাঈন এতক্ষণ নূরের কাছে ছিলো না। বিকেল পার হতেই সে চলে এসেছে। মূলত পরিবারের সাথে সময় কাটানোর জন্যই ও নূরকে সময় দিয়েছে। ওষুধের প্রভাবে একটু বেশিই ঘুম হচ্ছে নূরের। আজমাঈন এই ফাঁকে মাগরিবের নামাজ পড়ে আসলো। আজমল শিকদার সাথে গেলেও আজমাঈন মসজিদ থেকে আগে আগে চলে এসেছে। আইশা নূরের পাশে বসেছিল। কিছু কথাবার্তা চলছিল ওদের মাঝে। আজমাঈন আসতেই চুপ হয়ে গেল দু’জন। আইশা উঠে দাঁড়িয়ে হালকা ঝুঁকে ফিসফিস করে বললো, ‘ঝাল ঝাল রামেন করে আনি তোমার জন্য, মুখের তিতকুটে ভাবটা কমে যাবে।’

‘আচ্ছা।’
এতোটাই নিচু স্বরে কথা বলছিল যে আজমাঈনের কান অবদি পৌঁছায়নি। সে পাঞ্জাবি চেঞ্জ করে এলো। নূরের মুখোমুখি বসে কপালে হাত রাখলো। নূর বলে উঠলো,’মাত্রই থার্মোমিটারের চেক করেছি। কমে গেছে।’
‘ওষুধ খেয়েও তো কাজে দিচ্ছে না, সেই আবার রাতে উঠবে। নেহায়েৎ তুমি ভয় পাও নাহলে ইঞ্জেকশন দিতে বলতাম।’
ইঞ্জেকশনের কথা শুনলেই গাঁয়ে কাঁটা দেয়। ছোটবেলায় টাইফয়েড জ্বর হওয়ার পর সাতটা নিতে হয়েছিল। তারপর থেকে ভয়টা আরো বেড়েছে নূরের। তবে সেসব ভাবনা বাদ দিয়ে জিজ্ঞেস করে,’আমার সাথে কি কি হয়েছে জানতে ইচ্ছে করে না আপনার?’
আজমাঈন নূরের হাতটা ধরে বলে,’আমি জানতে চাইনা। আমি শুধু তোমাকে চাই।’
আশ্চর্য হয় নূর,’মাত্র এই কদিনে আপনি আমাকে এতো ভালোবাসেন? কেমন খটকা লাগছে!’
বিষ্ময় নিয়ে তাকায় আজমাঈন,’তুমি আমাকে সন্দেহ করছো?’

নূর মৃদু হেসে বলে,’জীবনের আঠেরোটা বছরে পরিবারের অধিকাংশ মানুষের ভালোবাসার পাত্রী হয়ে উঠতে পারিনি সেখানে আপনার সাথে আমার পরিচয় স্বল্প সময়ের। এতোটা আশা করিনি আমি।’
নূরের হাতের পিঠে চুমু খেল আজমাঈন,’খোদা যখন দেয় তখন তা অবিশ্বাস্য মনে হয়। এই যেমন আমাকে তোমার জীবনে পাঠিয়েছে। এখন তোমার অবিশ্বাস্য মনে হবেই। গড গিফট বলে কথা।’
নূর হাসে। আজমাঈনের হাতটা শক্ত করে ধরে বলে, ‘রুমে থাকতে ভালো লাগছে না।’
আজমাঈন বিনা বাক্যে নূরকে সাথে নিয়ে বের হয়। তানাজের ছেলেকে এখনো দেখেনি নূর। সেই রুমেই প্রথমে গেল। তানাজের শ্বাশুড়ি নামাজ শেষে বসে বসে তসবি পড়ছেন। নূরকে দেখে বলে উঠলেন, ‘এসো এসো, জ্বর হলে শুয়ে থাকতে হয় নাকি হ্যাঁ? শুয়ে বসে থাকলে মাথা ধরে। এসো এসো বসো। নাতিকে কোলে নাও দেখি।’
নূর অপ্রস্তুত হয়ে যায়, আজমাঈন ওকে এই রুমে পাঠিয়ে চলে গেছে। মহিলা বেশি ফটাফট কথা বলে। তানাজ ওকে চোখের ইশারায় বোঝায় উনি এমনই। ওনার কথা আমলে নেওয়ার দরকার নেই। অতঃপর বাবুকে নূরের কোলে দিলো। হাসিমুখে বললো,’ওর ভাগ্য দেখো, ওর জন্মদিন আর তোমার ফিরে আসার দিন এক।’

নূর বাবুর দিকে তাকালো। স্নিগ্ধ মুখ খানি, ছোট ছোট হাত পা নড়াচড়া করতেছে। ভীষণ সুন্দর লাগছে। নূর বলে,’মাশআল্লাহ!! বাবু তোমার মতোই হয়েছে।’
সাথে সাথে তানাজের শ্বাশুড়ি বলে উঠলো,’কি বলো তুমি? নাক আর ঠোঁটজোড়া আমার ছেলের মতো হয়েছে। হাসলে একদম আমার ছেলে।’
তানাজ ফিসফিস করে বলে,’উনি ওরকমই, তবে মনটা খুব ভালো। বাবু হওয়ার পর থেকে এক বিন্দু নড়েনি আমার থেকে। প্রথম বংশধর তো, কাছ ছাড়া করতে চাইছেন না। তুমি কিছু মনে করো না।’
আইশা লাফাতে লাফাতে এসেই থেমে যায়। আপুর শ্বাশুড়ি তাকে ব্যাঙ রানী বলে ডাকে। সারাদিন লাফায় এজন্য। তার সামনে চুপ করে গেল সে। ছোট ছোট পায়ে এগিয়ে এসে বললো,’ভাবি চলো, রামেন রেডি।’
একথায় তানাজের শ্বাশুড়ি চেঁচিয়ে উঠলেন,’এইসব অস্বাস্থ্যকর খাবার কে খাবে?’
আইশা আমতা আমতা করে বললো,’ভাবি তেমন কিছু খেতে পারছে না, মুখের ভেতরটা তেতো হয়ে গেছে তো। তাই ঝাল ঝাল রামেন বানিয়েছি।’

তিনি নাক কুঁচকে বলেন,’জ্বর হলে কালোজিরা ভর্তা দিয়ে ভাত খেলে তাড়াতাড়ি সেরে যায়, মুখের স্বাদ ফিরে আসে। এসব খাইয়ে মেয়েটাকে আরো অসুস্থ করে দিবে তুমি।’
উনি আইশার পেছনে একটু বেশি লাগেন বলা যায়। বিষয়টা তানাজের খুব মজা লাগে। একমাত্র এই মহিলাই আইশাকে নাকানিচুবানি খাওয়াতে ওস্তাদ। আইশা বললো,’আমি তো ভর্তা করতে পারি না।’
‘কিহ!! এত বড় মেয়ে ভর্তা করতে পারো না। চলো চলো আমি শিখিয়ে দিচ্ছি। একটু বেশি করে বানাবে, তানাজ ও খাবে।’
আইশাকে জোর করেই টেনে নিয়ে গেলেন তিনি। চুলার পাশে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কালোজিরা ভর্তা বানানো শেখালেন। পাটায় ভর্তা বাটতে গিয়ে আইশার অবস্থা যাই যাই করছে। তবুও ঘাম ঝড়িয়ে সে সফল হলো। অতঃপর তানাজ ও নূরকে জোর করেই ভাত খাওয়ালো। নূরের ভালোই লাগলো খেতে। মুখের তেতো ভাবটা যেন একটু কমে এলো।

তবে আইশার জন্য কষ্ট হচ্ছে খুব। বেচারির উপর দিয়ে কি ঝড়টাই না গেল।
রাতটা ভালোয় ভালোয় কাটলেও সকালে সবকিছু ওলট পালট হয়ে গেল নূরের। রেহানা ফোন করলেন দশটার দিকে। রিসিভ করতেই ওনার কান্নার শব্দ ভেসে এলো। নূর কে তিনি কিছু বলতে না দিয়েই বলেন,’নূর, তুমি আজমাঈন কে থামাও। এতো বড় ক্ষতি করতে দিও না ওকে।’
কান্নার দমকে আর কিছু বলতে পারছেন না তিনি। নূর জিজ্ঞেস করতেই যাবে তার আগেই আজমাঈন এসে হাজির হয়। নূরের ফোনটা এক প্রকার কেড়ে নিয়ে কানে ধরে। গমগম স্বরে বলে,’আপনি আর কখনো নূরকে ফোন করবেন না। আজকের পর থেকে আঙ্কেল ব্যতীত ওই বাড়ির কারো সাথে সে সম্পর্ক রাখবে না, আমি রাখতে দিব না।’

ফোন কাটে আজমাঈন, নূরের ফোনটা পকেটে পুরে নেয়। নূর খাট থেকে দ্রুত নামে। আজমাঈনের বাহু চেপে ধরে বলে,’কি করেছেন আপনি? আম্মু ওভাবে কাঁদছে কেন?’
আজমাঈন নূরের গালে হাত রাখে। শান্ত হয়ে বলে, ‘ক্ষমা মহৎ গুণ! কিন্তু তাই বলে অন্যায় কে প্রশ্রয় দেওয়া ঠিক নয়। আমি তাই করছি যা আমার করা উচিত। ওদের শাস্তি পাওয়া দরকার তাই দিচ্ছি।’
নূর অবাক হয়ে বলে,’আপনি সবকিছু জানলেন কিভাবে?’
‘আমার সন্দেহ ছিলো, কিন্তু পর্যাপ্ত প্রমাণ ছিলো না নূর। আমি তার পায়ে পর্যন্ত পড়েছিলাম শুধু তোমাকে ফিরে পাওয়ার জন্য। তখনও সে স্বীকার করেনি, তোমাকে আমার কাছে ফিরিয়ে দেয়নি। সুতরাং এই অন্যায়ের সাথে আপোষ করব না। কিছুতেই না।’

পদ্মপ্রিয়া পর্ব ৩৪

একটু থেমে আজমাঈন বললো,’আজ আমি তোমাকে আদেশ করছি, এরপর তুমি তোমার মা, ভাবির সাথে কোন প্রকার যোগাযোগ রাখবে না। যদি রাখতেই হয় তাহলে আমাকে ছাড়তে হবে।’
আজমাঈন কে এতোটা কঠোর হতে দেখেনি নূর। ওর সামনে ছেলেটা তুলোর মতো নরম ছিলো। আজ এই কঠোরতার কারণ কি? আজমাঈন বের হয়ে গেছে। সাথে করে নূরের ফোনটাও নিয়ে গেছে। নূর হাঁটতে হাঁটতে আজমল শিকদারের কাছে গিয়ে উপস্থিত। আজমল শিকদার ব্যস্ত হয়ে বলেন,’তুমি এখানে কেন এসেছ মা? শরীর দূর্বল তোমার, রেস্ট করো।’
‘আপনার ফোনটা দিবেন আঙ্কেল? আব্বুকে কল করব।’

পদ্মপ্রিয়া পর্ব ৩৬

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here