পৌষপার্বণ পর্ব ১০
Irfa Mahnaj
অধৈর্য্য পার্বণ আরো অধৈর্য্য হয়ে যাচ্ছে। আজকে নিজের সহ্য শক্তির বাঁধ ভেঙেছে তার। অবশ্য ধৈর্য্য তার একটু কমই ছিলো।
নিজ ওষ্ঠের ধারা পৌষের সর্বাঙ্গ ছুঁইয়ে দিচ্ছে সে। সাথে আছে হাতের বেসামাল স্পর্শ।
এক প্রগাঢ় গাঢ় চুমু খায় পৌষের কোমল উদরে এবার পার্বণ। কয়েক মিনিটের মতো পেটের উপরেই ওষ্ঠ ছুঁয়ে রাখে শুধু।
এরপর ছোট চুমু খেতে খেতে গভীর চুমু খায় সেথায়। পার্বণ যতবার ওর সেই পুরুষালী ঠোট ছোয় ততবার পৌষ কেঁপে উঠে।
তার শরীর বেয়ে শীতল স্রোত বয়ে যায়। শিরশির করে সর্বাঙ্গ। কেমন উতলা অনুভব করে নিজের ভিতরে।
তবেই না পেটে মুখ ডুবিয়ে রাখা পার্বণের চুলের গোছা হাত দিয়ে মুষ্টিবদ্ধ করে।
পার্বণ সময় নিয়ে চুমু খাওয়া শেষে থামে। অতপর নাক মুখ ঘষতে লাগে। পৌষ যেনো সামলাতে পারে না এই স্পর্শ।
পার্বণকে ঠেলে দুরে সরাতে গেলে পার্বণ সরে না। উল্টো পিঠের পিছে হাত গলিয়ে কোমর, পিঠ সহ নিজের সাথে ভালো মতো মিশিয়ে নেয়।
পৌষের দূরে ঠেলা যে পার্বণের পছন্দ হয়নি সেটা বুঝিয়ে দিতে বেশ জোরেই নিজের সেই ভ্যাম্পায়ার দাঁত দুটো বসিয়ে পৌষের নরম উদর জখম করতে লাগে।
ফর্সা, কোমল, মেয়েলি সেই অংশটা সাথে সাথে লালচে ছোপ ছোপ দাগের সৃষ্টি করে। সঙ্গে তো আছেই পৌষের ব্যাথাতুর ধ্বনি।
যা ঘন ঘন নিশ্বাসের সাথে মুখ থেকে বের করছে পৌষ। এতেই পার্বণ আরো পেয়ে বসে।
এতক্ষণ পেটের উপর রাজত্ব করে এখন দখল করেছে নারীদেহের সবচেয়ে সংবেদী অঙ্গটা। পৌষের পিঠের কাছে যেই হাতটা ছিলো সেটার সাহায্যে পৌষের ড্রেস খুলে ফেলে পার্বণ।
পৌষ লজ্জায় কুকড়ে যাচ্ছে। কিন্তু বাধা দেওয়ার মতো অবস্থানে সে নেই। ওর হাত, পা বলতে গেলে পুরো শরীরটাই এখন পার্বণের পূরুষ দেহের নিচে চাপা পড়া।
পার্বণ খুব কায়দা করে ওকে দখল করে রেখেছে। কি করবে কি করবে ভাবতে ভাবতেই নড়াচড়া শুরু করে দেয় পৌষ।
ওর সেই কম্পিত দেহ টার দিকে বাজ পাখির দৃষ্টির মতো তাঁকিয়ে থেকে কিছু একটা পর্যবেক্ষণ করে পার্বণ।
তারপর বাকা হেসে বুকের মাঝে মুখ ডুবিয়ে দেয়। এতে পৌষের তিরিংবিড়িং লাফানো আরো বেরে যায়।
বুকে ঠোঁট রেখেই হিসহিসিয়ে বলে উঠে পার্বণ,
— এতো নড়ছিস কেনো? আমি রোমান্স মুডে আছি দেখতে পাচ্ছিস না।
— হ্যাঁ দেখতেই পাচ্ছি তোর মুড। এই মুডের আমি খেতা পুড়ি। তোকে আমি দেখে নিবো পার্বণের বাচ্চা।
হাসলো পার্বণ। এবারেও ওষ্ঠের অবস্থানের পরিবর্তন হয়নি। বরং একটা ছোট্ট কামড় দিলো জায়গাটায়।
বলল,
— দেখ না তুইই তো দেখবি। আমার সব কিছু দেখার অধিকার তো তোরই।
পার্বণের ছোট কামড় আর বড় কামড় যাই হোক পৌষ ব্যথা পাবেই । এবারেও তাই। আর সেটাই শব্দ আকারে তার মুখ দিয়ে বের হয়।
ধীরে ধীরে হাত নিয়ে রাখে পৌষের ই*না*রে*র ফিতায়। এক টানে সবগুলো হুক খুলে ফেলে।
হুক খোলা শেষে ই*না*রটাই খুলে ছুঁড়ে মারে। নড়তে থাকা পৌষও জমে যায়। বড় বড় চোখে পার্বণের দিকে তাকাতেই বান্দা ওকে এমন ডেভিল মার্কা হাসি দিলো!
যা দেখে পৌষের গা জ্বলে গেলো। বেচারি পৌষের শেষ সব। ও এখন চাইলেও বজ্জাতটাকে কিছুই করতে পারবে না।
পৌষের উপরের অংশ এখন সম্পূর্ণ উন্মুক্ত পার্বণের চোখের সামনে। চোখ দিয়েই ও গিলে খাচ্ছে।
বুকের সেই সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশের দিকে তাঁকিয়ে থেকেই ঢোক গিলে পার্বণ। মুখটা এগিয়ে নেয় পৌষের কানের কাছে।
কেমন ধিম আওয়াজে রয়ে সয়ে বলে,
— সামনের দৃশ্যপট কিন্তু সেই! একদম চোখ ধাঁধানো, কড়া মালরে পৌষ।
তারপর আবারও বলে,
— তুই দেখবি পৌষ?
কেঁদেই দিবে এবার বোধহয় পৌষ। দাঁতের সাথে দাঁত চেপে পার্বণের কথার জবাবে উওর দেয়,
— না তুইই দেখ।
— আই নো তাই তো দেখছি হানি।
কথাটা বলেই একটা বাকা হাসি দেয় পার্বণ। ওষ্ঠের ছোঁয়া দিয়ে এবার সেই বক্ষ ভাঁজ ভিজিয়ে দিতে লাগে পার্বণ।
পৌষের বক্ষের মাঝে সেই খাঁজ কাটা অংশে মুখ ডুবিয়ে রাখে। নাক ঘষে। আবেশের সাথে কিস করতে থাকে।
কিস এক পর্যায়ে গিয়ে কামরের রুপ লাভ করে। ধীরে ধীরে শরীরের বাকি পোশাকও শরীর থেকে আলাদা হয়ে যায়।
দুটো ন*গ্ন মানব মানবীর দেহ একে অন্যের সাথে লেপ্টে থাকে। পুরুষ দেহটির ঘর্মাক্ত শরীরের নিচে নারী দেহটা পিষে যাচ্ছে।
পুরুষটি ব্যস্ত তার শা*রী*রি*ক চাহিদা মিটাতে অন্যদিকে নারিটি কখনো ব্যস্ত পুরুষটির ন*গ্ন পিঠে আচরের নকশা করতে। তো কখনো মুখ দিয়ে মৃদু গোঙানির আওয়াজ করতে।
পার্বণের আচরণ ধীরে ধীরে উগ্র থেকে উগ্র হচ্ছে। আর পৌষ তা সামলাতে হিমসিম খাচ্ছে।
পার্বণের হাত ছুঁইয়ে যাচ্ছে পৌষের সর্বাঙ্গে এমনকি নিষিদ্ধ অঙ্গতেও। পার্বণ খুলছে পৌষের সেই অজানা রহস্যের জট।
বেপরোয়া পার্বণ শুধু বেসামাল ছুইয়েই খেন্ত না সাথে যেখানে ধরছে সেখানেই নিজের অস্তিত্বের দাগ ফেলছে।
ক্ষত করে ছাড়ছে, যা প্রমাণ করে পার্বণের উগ্র আচরণ। অবশেষে আসে সেই মুহূর্ত যখন পার্বণ পৌষের উপর সর্বোচ্চ আধিপত্য বিস্তার করবে।
যখনই পার্বণ চূড়ান্ত পর্যায়ে চলে যায় তখনই পৌষের সহ্য ক্ষমতার বাঁধ সম্পূর্ণ ভেঙ্গে যায়। ও এবার কেঁদেই ফেলে।
স্থির হয়ে থাকতে পারছে না অনবরত কাপাকাপি আর নড়াচড়া করেই যাচ্ছে। পৌষের কারণে বার বার নিজ কাজে ডিস্টার্ব হচ্ছে পার্বণ।
কিন্তু যেই পৌষের সেই করুণ মুখটার দিকে তাকালো যে তাকে মাথা নাড়িয়ে না করে যাচ্ছে ওমনি কি যেনো একটা হয় পার্বণের।
গলার স্বর কিছুটা কোমল করলেও অস্থির নিঃশ্বাস এর কারণে কথা ফিসফিস শুনায়।
— জাস্ট টু মিনিট জান, একটু স্থির থাক।
— ন… না
কাপা কাপা গলায় শুধু এটুকুই বলতে পারে পৌষ। পৌষের কপালের সাথে নিজের কপাল ঠেকায় পার্বণ।
পৌষের ঠোটে ভাঙ্গা ভাঙ্গা চুমু দিতে দিতে পার্বণ বলে,
— নড়বি না, তাহলে ব্যথা পাবি বেশি। প্রথম বার তো। আমি নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো জেন্টাল হওয়ার। দেখা যাক।
তারপর কি যেনো পড়েই পার্বণ নিজের কাজে মত্ত হয়ে পড়ে। আর পাল্লা দিয়ে বাড়ে পৌষের চিৎকার। ওর দুচোখের পাতা বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ে।
গড়িয়ে পড়া জল জিহ্বা দিয়ে শুষে নেয় পার্বণ। ওর চোখের পাতায় কিস করে। সাথে ওর সারা মুখে।
এরপর পার্বণ পৌষকে নিয়ে পাড়ি জমায় সুখের এক দুনিয়ায়। যেই দুনিয়ার শুধু #পৌষপার্বণ।
ওদিকে পৌষপার্বণ তো সুখের সাগরে ভাসছে ওদের ঘরের প্রতি কোনায় কোনায় ভারি নিঃশ্বাস ফেলার আওয়াজ আর সুখময় গোঙানি।
আর এদিকে পৌষের চিন্তায় পায়চারি করছে ভাদ্র। ওকে এভাবে ঘরের এ মাথা থেকে ও মাথায় হাটতে দেখে বেজায় বিরক্ত হয় চৈত্র।
হাই তুলে ভাদ্রকে বলে,
— আর কতক্ষণ?
কপাল কুঁচকে যায় ভাদ্রের। হাটা থামিয়ে স্ত্রীরির পানে তাকায় ও। জিজ্ঞেস করে,
— কি আর কতক্ষণ?
— বলছি এই পায়চারি কতক্ষণ?
— কেনো আমার পায়চারি আবার তোকে কি করলো?
— আমার ঘুমে ডিস্টার্ব করছে।
— তো তুই ঘুমা না। বারণ করেছে কে!
— এভাবে ঘরের মধ্যে পেচার মতো হাঁটলে আমি ঘুমাবো কিভাবে?
— ধূর আমি আছি আমার টেনশনে আর তুই আছিস তোর ঘুম নিয়ে।
— কি এতো টেনশন মহাশয়ের শুনি তো একটু।
— পৌষ সেন্সলেস তোর বেয়াদব ভাই আমাকে আমার বোনের কাছে যেতেই দিলো না। কি করছে কে জানে? ঠিক করে বোনটার আমার খেয়াল করছে কিনা তাও জানিনা।
পৌষপার্বণ পর্ব ৯
— আরে ওতো টেনশন নিস না। ভাই আছে না। ও ঠিক সামলে নিবে। এখন ঘুমাতে আয়।
— তোর ভাই আছে দেখেই তো আমার চিন্তা।
তারপর সেভাবেই চৈত্রের কথা মতো লাইট নিভিয়ে ঘুমাতে যায় ভাদ্র।

Next part??