Home পৌষপার্বণ পৌষপার্বণ পর্ব ২২

পৌষপার্বণ পর্ব ২২

পৌষপার্বণ পর্ব ২২
Irfa Mahnaj

— এটা আমাদের প্রতি অন্যায় হয়ে গেলো না বাবা?
ভ্রু কুঁচকে তাকালেন আষাঢ় তার বজ্জাত ছেলে বসন্তের দিকে। জিজ্ঞেস করলেন,
— তোর সাথে আবার অন্যায়টা কখন করা হলো শুনি?
— এই যে বাড়ির দুই ছেলেকে দুধের দাঁত পড়ার আগেই বিয়ে করিয়ে দিলে আর তোমার নিজের আপনা ছেলেদের দাঁত পড়ে দাঁত উঠে গেছে এখনো তো দেখলাম না বিয়ে সাদী দেওয়ার কোনো প্রস্তুতি।
তব্দা খেয়ে গেলেন আষাঢ়। বলে কি এই ছেলে!ওর বয়সে থাকতে আষাঢ় হাফ প্যান্ট পড়ে ঘুরতো। মায়ের পিছু পিছু হাট তো যদি মা বাইরে খেলতে যাওয়ার অনুমতি দেয়!
আর এই ছেলে কিনা এই বয়সে বিয়ের কথা বলছে!ভাবা যায়!একে তো সেদিনও আষাঢ় ডাইপার চেঞ্জ করে দিয়েছে।
সেই ছেলে করবে বিয়ে!এভাবে বুক উঁচিয়ে বাবার সামনে বিয়ের কথা বলা তো দূরে থাক বিয়ের কথাটা পর্যন্ত ভাবতো না আষাঢ়।
এ তো দেখি এক কাঠি না না দুই কাঠি উপরে গেছে। বাবাকে নিজের দিকে ভেবলার মতো তাকিয়ে থাকতে দেখে বসন্ত বলল,

— ও বাবা পার্বণ ভাই বাপ হয়ে গেছে এখনো বিয়ে না করলে পরে দেরি হয়ে যাবে।
না আর শক সহ্য করতে পারলো না আষাঢ়। জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে ধপাস। এটা দেখে বসন্ত বি লাইক,
— যাক বাবা কি হলো এটা?
তারপর গান ধরলো,
” বাবা আমার কি বিয়ে হবে না
বাবা আমার কি বিয়ে হবে না “!
সবে মাত্র পিট পিট করে তাকিয়েছিলেন আষাঢ়। ছেলের এহেন গান শুনে তিনি আবার বেহুঁশ।

চায়ের কাপে এক চুমুক দিচ্ছে আর “আহ” করছে পার্বণ। দুধ চা ওর সেই প্রিয়। প্রিয় চায়ের সাথে বেকারীর তাজা বনরুটি।
আহা আহা লা জবাব!সোফায় আরেকটু আরাম করে বসে পার্বণ।শুকনা মানুষ হওয়ায় সিঙ্গেল সোফাতেই এঁটে গেছে পার্বণ।
কেমন বাবুদের মতো করে বসে চা খাচ্ছে!তাও আবার চা খাওয়ার ছেড়োত বেরোত নাই। চামচ দিয়ে চা গিলছে মহাশয়। রুটি ভিজিয়ে বাচ্চাদের মতো খাচ্ছে!
জিনিস গুলো ভালো মতো পর্যবেক্ষণ করে নিজের হাতেই নিজেই একটা চিমটি কাটলো বৈশাখ। তার এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না এই ছেলে বাপ হবে!
সে আবার স্বপ্ন দেখছে না তো? এই ভেবে চিমটি কাটলেও ব্যথা পেতেই বুঝলো যেই লাউ সেই কদু!
গলা খাকারী দিয়ে পার্বণের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইলো বৈশাখ। সফল ও হলো। পার্বণ ওনার দিকে তাকাতেই নজর কাগজের পাতায় রেখেই আরেকটা পেজ উল্টালো বৈশাখ।
বাবার কীর্তি দেখে পার্বণ বলে,

— কি? কিছু বলবে? এমন করছো কেনো?
— তুমি তো জানো তুমি বাবা হতে চলেছো…
বৈশাখের কথা কেড়ে নিয়ে পার্বণ বলে,
— সাপ্লাই তো আমিই করলাম আর আমাকেই বলছো আমি বাবা হচ্ছি তা জানি কিনা?মাঝে মাঝে তুমি এমন সব কথা বলো না বাবা!
কাঁশি উঠে গেলো বৈশাখের। তিনি বললেন,
— অসভ্য ছেলে।
— বুঝলাম না আমার কথা শুনেই কাঁশি উঠে কেনো সবার!
— কারণ তোমার কথাই এমন। বাবার সামনে কি কথা বলতে হয় জানোনা।
— তুমি তো একদিক থেকে আমার শশুর ও লাগো। চাচা শশুর। আমার বউয়ের chach যেহেতু তুমি।
আবারো কাঁশি উঠে গেলো ভদ্রলোকের। এটা ছেলে? তাও ওর ছাও?মানছে ভন্ড ছিলো সে নিজেও। কিন্তু এর মতো আইটেম ছিলো না।

— আহা আস্তে আস্তে নেও চা খাবা?
— কাঁশি উঠলে পানি খেতে হয় চা না।
— দিলে তো খাবে।
এই ছেলের সাথে বৈশাখ পারবে না বোঝা হয়ে গেছে। তার থেকে আসল কথাই বলা যাক।
— বাবা যে হবে বাচ্চাকে খাওয়াবে কি?
— কেনো মায়ের দুধ। আর মাকে তো তোমরা খাওয়াচ্ছোই!
ভাষা হারিয়ে ফেললেন বৈশাখ। কি বলবে সে? তার বলার মতো আদেও কিছু আছে?

কলেজ যাবে আজ পৌষরা। সামনে পরীক্ষা এখন প্রেজেন্ট লাগবে। পৌষের সমস্যা হবে না। কারণ এখনো পৌষের প্রেগন্যান্সি বেশি সময় হয়নি।
তাও পার্বণ টেনশন করছে। ওর কথা তোর যা লাগে আমি দিবো। প্রেজেন্ট এর ব্যাপারও হ্যান্ডেল করে ফেলবে।
কিন্তু পৌষ অনেকদিন হয়ে গেছে সে যায় না তাই যেতে চায়। পার্বণকে বোঝায়ও যে এখন তার কোনো সমস্যা হচ্ছে না।

পরে সমস্যা হলে ও নিজেই যাবে না।অগত্যা শেষে হার মানে পার্বণ। তবে এতো সহজে না। চুমুর বদলে।
পার্বণ সুযোগ পেয়েছে আর সুযোগের স্বদব্যবহার করবে না? তাও আবার হয় নাকি? কখনোই না।
পৌষকে ঠেসে ধরে চুমু খেয়েছে। পৌষ কিছু বলার জন্য মুখ খুললেই টুপ করে ওর ঠোঁট জোড়া আঁকড়ে ধরেছে।
কতক্ষন যে এভাবে চলেছে। শেষে পৌষ হাল ছেড়ে দিলে এখন পার্বণ নিজের কাজ করছে।

পৌষপার্বণ পর্ব ২১

পৌষের গলায় মুখ গুঁজে ওর শরীরের মেয়েলি ঘ্রাণটা নিজের মধ্যে পুড়ে। সাথে চুমু ও খায়।
নিজের তৃপ্তি মতো খায়েশ মিটিয়ে পৌষকে ছাড়ে পার্বণ। তারপর দুজনে রেডি হয়ে বের হয়।
পৌষের কারনেই পার্বণ সাইকেল নেয় না। রিকশায় করে যায়। বাড়ির সবাইও এতে সায় জানায়। বার বার করে বলে দেয় পৌষের খেয়াল রাখতে।
পার্বণ ও সবাইকে আস্বস্ত করে যে নিজের দেহে প্রাণ থাকতে ও নিজের স্ত্রী সন্তানের কোনো ক্ষতি হতে দিবে না।
পৌষের হাতটা শক্ত করে ধরে রিকশা চালাতে বলে। গন্তব্য কলেজ।

পৌষপার্বণ পর্ব ২২ (২)