Home প্রফেসর জিয়ান কায়সার প্রফেসর জিয়ান কায়সার পর্ব ১

প্রফেসর জিয়ান কায়সার পর্ব ১

প্রফেসর জিয়ান কায়সার পর্ব ১
জান্নাতুল ফেরদ্দোস ময়না

​রিত্তিকা এবার ভার্সিটি প্রথম বর্ষে ভর্তি হয়েছে ফিজিক্স বিভাগে। তার পুরো নাম রিত্তিকা ইসলাম। শুধু সে একাই নয়, তার কলেজের কাছের বন্ধুরাও একই সাথে ভর্তি হয়েছে একই বিভাগে।
​আজ তারা সবাই মিলে ভার্সিটির সেন্ট্রাল লাইব্রেরিতে এসেছে গ্রুপ স্টাডি করতে। রিত্তিকার সাথে আছে তার তিন বন্ধু—আনিকা, নিহারিকা আর আনুশা। লাইব্রেরির এক কোণের টেবিলে মোটা মোটা ফিজিক্স বই সামনে নিয়ে বসেছে বটে, কিন্তু পড়াশোনার চেয়ে ফিসফিসানি আর গল্পই বেশি হচ্ছে। লাইব্রেরিয়ানের কড়া নজর এড়াতে চারজনই প্রায় মুখ চেপে হাসছে।

​এমন সময় নিহারিকা টেবিলের নিচ দিয়ে ইশারায় ‘ট্রুথ অর ডেয়ার’ খেলার প্রস্তাব দেয়। রিত্তিকা বাদে বাকি সবাই সাথে সাথে রাজি হয়ে যায়। নিঝুম লাইব্রেরিতে বসে এমন খেলা একটু ঝুঁকিপূর্ণ, তাই রিত্তিকা প্রথমে না করলেও বন্ধুদের জোরাজুরিতে শেষ পর্যন্ত রাজি হতেই হলো। তা ছাড়া মনে মনে তার নিজেরও একটু অ্যাডভেঞ্চারের ইচ্ছে জাগছিল। ফ্রেন্ড সার্কেলে সে যে সবচেয়ে বেশি দুষ্টু, সেটা তো আর এমনি এমনি নয়!
​বইয়ের আড়ালে পেন ঘুরিয়ে খেলা শুরু হলো। কয়েক রাউন্ড যাওয়ার পর পেন থামলো রিত্তিকার দিকে। রিত্তিকা সাহসের সাথে বেছে নিল ‘ডেয়ার’।
​আনুশা আর আনিকা মুখে হাত চেপে কুটিল হাসলো। তারপর ফিসফিস করে রিত্তিকাকে তাদের শর্ত জানালো—ফোনে যেকোনো একটা অচেনা নাম্বার টাইপ করে হোয়াটস অ্যাপে মেসেজ পাঠাতে হবে:
​”তোমাকে অনেকদিন ধরে একটা কথা বলতে চাচ্ছিলাম কিন্তু বলা হয়ে ওঠেনি, কিন্তু আজ বলছি আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি 😘”

​বন্ধুদের প্ররোচনায় পড়ে রিত্তিকা কিছুক্ষণ চুপ থেকে ডেয়ার পূরণ করতে রাজি হয়ে গেল। নিজের ফোনে চোখ বন্ধ করে একটা অচেনা নাম্বার তুলল সে। বন্ধুদের কৌতূহলী চোখের সামনেই ধকধক করতে থাকা বুকে মেসেজটা ‘সেন্ড’ করে দিল। এর কিছুক্ষণ পর লাইব্রেরি বন্ধের সময় হয়ে যাওয়ায় তারা হাসি-ঠাট্টা করতে করতে যার যার বাড়িতে চলে এলো।

​এদিকে, মেসেজটা গিয়ে সোজা পৌঁছাল তাদেরই ফিজিক্স বিভাগের এক গম্ভীর ও কড়া প্রফেসর জিয়ান কায়সারের কাছে। তিনি তখন লাইব্রেরির ঠিক ওপরের তলায় কনফারেন্স রুমে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাডেমিক মিটিংয়ে ব্যস্ত ছিলেন।
​হঠাৎ তার ফোনের স্ক্রিন জ্বলে উঠল, আওয়াজ হলো—টুং!
মিটিংয়ের পিনপতন নীরবতার মাঝে আওয়াজটি হওয়ায় প্রফেসরের মনোযোগ সামান্য বিঘ্নিত হলো। তিনি ভ্রু কুঁচকে ফোনের দিকে তাকালেন। একটা অচেনা নাম্বার থেকে নোটিফিকেশন এসেছে দেখে ফোনটা আবার উল্টে রাখলেন

​কিন্তু ঠিক তার পরপরই আবার মেসেজের টুংটাং আওয়াজ। এবার প্রফেসর বেশ রেগে গেলেন। মিটিংয়ের মাঝখানে এমন বিরক্তিকর পরিস্থিতি এড়াতে তিনি ফোনটাই পুরোপুরি অফ করে দিলেন।
​মিটিংয়ে ফের মন দেওয়ার চেষ্টা করলো ঠিকই, কিন্তু তাঁর অবচেতন মন ওই অচেনা মেসেজটার দিকেই আটকে রইল। পুরোপুরি মনোযোগ আর ফিরে পেলেন না।
​ঘণ্টাখানেক পর মিটিং শেষ হতেই তিনি নিজের রুমে ফিরে এলেন। চেয়ারে বসে ফোনটা অন করতেই স্ক্রিনে ভেসে উঠল সেই মেসেজ—”আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি 😘”

​মেসেজটা দেখার সাথে সাথে প্রফেসরের গলায় যেন কী একটা আটকে গেল! তিনি খুশখুশ করে কয়েকবার জোরে কাশি দিলো। টেবিলের ওপর রাখা জলের গ্লাসটা এক চুমুকে শেষ করেও তাঁর বিস্ময় কাটল না। গম্ভীর, রাশভারী তিনি খুব। তিনি চরম অবাক হয়ে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইলেন আর মনে মনে ভাবতে লাগলেন—কে হতে পারে এই অচেনা মানুষটি, যে এত বড় দুঃসাহস দেখাল?
তারপর জিয়ান কায়সার দু আঙ্গুলে নিজের কপাল ঘষে কী যেন একটা গভীরভাবে ভাবতে লাগলেন। এরপর ভার্সিটির পার্কিং লট থেকে নিজের গাড়িটা বের করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলো।

​এদিকে রিত্তিকা বাড়ি ফিরে ক্লান্ত হয়ে বিছানায় গা এলিয়ে দিল। বাইরে প্রচণ্ড গরম, গ্রীষ্মের প্রখর রোদ চারদিকে যেন খা খা করছে। এই তপ্ত রোদে পুড়ে বাড়ি ফিরতে গিয়ে রিত্তিকা একেবারে নেতিয়ে পড়েছে, তার পুরো শরীর ঘামে ভিজে একাকার হয়ে গেছে।

প্রফেসর জিয়ান কায়সার পর্ব ২

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here