প্রিয় মোনালিসা পর্ব ৩
নীতি জাহিদ
স্ব- কিউবিকলে আসার পর থেকে ঘোরে আছে রিমি। ধ্যান জ্ঞান সব ভুলে বসেছে। এর মাঝে কয়েকবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিশেষ একাউন্ট চেক করা শেষ। সবকিছুতে গোপনীয়তা মেনে চলা। কেবল সামনে ছবিটাই ভাসছে।
সাদাফ ডেকে সবাইকে ক্যান্টিনের দিকে নিয়ে এসেছে।
তিহান রিমির মাথায় হালকা মে*রে বললো,
– একটা মেয়ে ঠিক কতটা চুকচুকে স্বভাবের হয় তোকে না দেখলে বুঝতেই পারতামনা।
চৈতি ও সাঁয় দিলো তিহানের কথায়। রিমির হাতে হাত রেখে বুঝাতে যাবে এর আগেই ঝামটা মে*রে হাতটা সরিয়ে বললো,
– বিরক্ত করবিনা। হি ইজ ড্যাম হ ট ইয়ার।
চৈতি তেঁতে উঠলো,
– তোর চোখ ও খারাপ, স্বভাবের সাথে। পাক্কা ব্যবসায়ী একটা। উনার মনে কোনো দয়া মায়া নেই। কিভাবে বললো প্রতিটি কথা, মনে হয় যেন শুধুই একটা দায়ভার। এর বেশি কিছু নয়। ভেতরে একটা হিংস্র প্রাণ আছে।
তিহান পাশে এসে বললো,
– এই ব্যাটা কি যেন বললো, যাচাই-বাছাই করবে? রাইট! আরেহ আমার তো ভয় এই লোক নিজের বউয়ের যত্ন করে তো? মানুষের বউয়ের যত্নের কথা বলে। কিন্তু কথা সেটা নয়, তামান্নাকে যে অভিনন্দন জানালো এই ব্যাপারটা বুঝলাম না। তামু, তুই চিনিস স্যারকে আগে থেকে?
তামান্না দম ফেলে বলে,
– আমি কি করে চিনবো? এই লোক ভয়ংকর তিহান।আজ প্রথম দেখলাম। প্রতিটি কথা কতটা শান্ত স্বরে বললো দেখলি? আমার বিয়ের কথা চলছে, গতকাল ছেলে পক্ষ দেখে গেলো, প্রোগ্রাম ডেট ফিক্সড হয়নি। তোদের আজই জানাতাম। সারপ্রাইজ ছিলো। এখন পর্যন্ত কেউ জানেনা কিন্তু স্যার কি হিসেবে অভিনন্দন জানালো তাই তো বুঝলাম না।
সাদাফ তিহানের কাঁধে হাত রেখে তামান্নাকে উদ্দেশ্য করে বললো,
– হি ইজ এন ইনক্রেডিবল টেলেন্টেড পারসোন এন্ড জিনিয়াস এজ ওয়েল বুঝলি। ফ্যান্টাসটিক সউল। নয়ন স্যার রিয়েক্ট করে, বকা দেয় ঠিক আছে তবে আজ উনার প্রতিক্রিয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিলো। ইমরান স্যার সম্পর্কে যতটুকু শুনেছি খুব ডিসিপ্লিনড একজন মানুষ। রাগারাগি করবে না, বকা ঝকা করবে না। কথা বলার ধরন এমন যে কাজ অটোমেটিক হয়ে যাবে, যেতে বাধ্য। হয়তো নয়ন স্যারকে অফিসের ব্যাপারগুলো নিয়ে এমন কিছু বলেছে যার কারণে উনি আজ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রেগে গেলো। তামান্নার ব্যাপারটা সাধারণ সেন্সে কেউ বুঝবেই না কিন্তু বস এক ঝটকায় বুঝে ফেললো। কিভাবে জানিস?
সকলে মাথা নেড়ে বললো,
– উঁহু। কিভাবে?
– লুক তামু, আই উইল মেইক ইট ক্লিয়ার। একমাত্র তোর মাথায় এই প্রশ্ন প্রথম এসেছে এবং তা ইনস্টেন্ট এসেছে, কারণ তোর নিজের পরিস্থিতি তোকে প্রশ্ন করতে বাধ্য করেছে। সামনে তোর বিয়ে, তুই প্রেগন্যান্ট আজ নাহোক দুদিন পর তো হবি। এই প্রশ্ন কিন্তু চৈতি বা রিমি করেনি অথবা জোবায়দা ম্যাডাম ও করেনি। ওদের মাথাতেই আসেনি। তুই ই করলি। কারণ পরিস্থিতির শিকার তুই,ওরা নয়। তো ফাইনালি বুঝাই গেলো খুশির খবরই হবে। তাই অগ্রিম অভিনন্দনই জানিয়েছে।
রিমি হা হয়ে বললো,
– ওয়াও, সাদাফ। ইউ আর জিনিয়াস। কি করে বুঝলি তুই?
– উনার মতোই ব্রেইন খাটালাম। বাট হি ইজ রিয়েলি ঠু মাচ ক্লেভার এন্ড ইন্টিল্যাকচুয়াল পারসোনালিটি। বসের কথা বলার স্টাইল টা দেখেছিস, ‘ডট মাই পয়েন্ট ‘।
রিনি সাদাফকে থামিয়ে বললো,
– ওয়েট ওয়েট। এই ‘ডট মাই পয়েন্ট’ অর্থ কি? ডিকশিনারির শব্দ তো নয়।
– মনে হয়না আবার থাকতেও পারে। আমরা বলি- নোট মাই পয়েন্ট, ফর ইউর কাইন্ড ইনফরমেশন অথবা মেক ইট ক্লিয়ার আর উনি বললো ‘ডট মাই পয়েন্ট’। ডট মানে উনি গুরুত্ব দিতে বলেছেন, উনার স্পেসিফিক সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দিয়ে যেন আমরা নিজের মগজে ঢুকিয়ে নিই। বুঝতে পেরেছিস? কথার মা*র প্যাঁচ অনেক ডিপ,জটিল।
রিমি আহ্লাদী ভঙ্গিতে বললো,
– ড্যাম ইয়ার। ঠু মাচ স্মার্ট। আ’ম ক্রাশড অন হিম।
সকলে মিলে ক্যান্টিনে আড্ডা দিতে ব্যস্ত ছিলো। এরই মাঝে রহমত ভাই এসে সাদাফকে বললো,
– স্যার চা কি ফ্লাস্কে রাইখা যামু? আমি আবার অফিসের কামে বাইরে যামু।
রিমি বিরক্তিকর ভঙ্গি নিয়ে বললো,
– উফ রহমত ভাই, দিলে তো ইমাজিনেশনের বারোটা বাজিয়ে।
সবাই ক্যান্টিন থেকে বের হয়ে গেলো। পরিবেশ ভালোনা। বেশিক্ষণ ক্যান্টিনে বসে আড্ডা দেয়াটাও
বি প জ্জ ন ক আজকের জন্য। রহমত ভাইয়ের কাজই হলো সবাইকে চা বানিয়ে খাওয়ানো৷ অফিসের কাজে বের হলে সাদাফের ফ্লাস্কে বানিরে রাখে, এরপর সবাই একটু করে খায়। যার যার কিউবিকলে যেতে যেতে সাদাফ রিমিকে উদ্দেশ্য করে বললো,
– তোর ক্রাশই তোরে বাঁশ দিবে। একটু আস্তে হ্যাঁ। এত সহজ না। কিন্তু হ্যাঁ আমি বসের ফ্যান হয়ে গেলাম।
এদের দলটা চমৎকার। একেকজন একেক শহরের। এই অফিসে প্রত্যেকে আজ তিন বছর। একসাথে ভাইভা হয়েছে। সেই থেকে এরা একসাথে থাকে। তামান্না খুব ঘরোয়া, চৈতি ভাবুক স্বভাবের সবকিছুতেই কিন্তু খুঁজে, রিমি উচ্চাবিলাসী, তিহান ভবঘুরে আর সাদাফ ক্যারিয়ার ওরিয়েন্টেড। এদের সরাসরি সুযোগ হয়েছিলো মিনহাজ স্যারের আন্ডারে কাজ করার। তিনবছর পর পর মিনহাজ নিজের পছন্দের একটা টিম নিয়ে সরাসরি মার্কেটিং এর কাজ করে নমিনেশন এর জন্য। আর এই সুযোগ সবাই পায় না। ওরা সেই সুযোগ পেয়ে কাজ অনেকটা আত্মস্থ করে নিয়েছে। এছাড়া কোম্পানিতে সকলের পছন্দের এই দলটা। গল্প আড্ডায় মাতিয়ে রাখে সকলকে।
টেবিলের উপর ছড়ানো ছিটানো ফাইল। প্রতিটি ফাইলের একটাই খুঁত, অফিসের কিছু মানুষের দোষ গুলোকে মার্জনা করা। এখন সেই ভাল মানসী সুযোগটা কাজে লাগিয়ে ওইসব ধুরন্ধর ব্যক্তি শ্রমিকদের উসকে দিয়েছে। শীতল মস্তিষ্কে প্রায় চুয়ান্নজনকে বিনা নোটিশে বরখাস্ত করা হলো দূর্নীতির দায়ে। নয়ন এবং মিনহাজ বেশ কিছু এগ্রিমেন্ট সাইন করছে পড়ে পড়ে। যা আগে অসমাপ্ত ছিলো। এক কাপ কফিতে চুমুক দিয়ে উঠে দাঁড়ায় ইমরান। মিনহাজকে উদ্দেশ্য করে বললো,
– আমার দেরী হচ্ছে। এবার চলো।
হাতের ফাইলটা রেখে মিনহাজ চুপচাপ উঠে যায়। নয়ন গুছিয়ে একপাশে রাখে। আড়চোখে নয়ন ইমরানকে দেখে খানিকটা হাসলো। একই টেকনিক এপ্লাই করছে। বহু বছর আগেও এভাবে মানুষের মন জয় করে নিয়েছিলো। চোখ পড়লো অফিসের কোণায় রাখা ট্রলির উপর। তাহলে আগে থেকেই চেঞ্জ করার উদ্দেশ্য ছিলো! ইষৎ হাসলো নিজে নিজে সকলের অগোচরে।
কেনো যেন ইমরানের মিনহাজকে স্বাভাবিক মনে হলোনা। মিনহাজের দিকে লক্ষ্য করে বললো,
– ক্লান্ত?
ক্লান্ত চোখে তাকিয়ে দু পাশে মাথা নেড়ে বললো,
– উঁহু, ঠিক আছি। চল।
– কি হয়েছে?
মিনহাজ পুনরায় বসে পড়লো চেয়ারে, দীর্ঘ শ্বাস ফেলে বললো,
– মেয়েটা পরশু থেকে অসুস্থ। ওকে এমন দেখতে কষ্ট লাগছে আমার।
– তাহলে তুমি বাসায় যাও আমরা সামলে নেব।
– আরেহ ব্যাপার না। আম্মা, মায়া সামলে নেবে।
নয়ন মিনহাজের কাঁধে হাত রেখে বলে,
– মোনা সাহসী মেয়ে। এত ভেবো নাতো বাসায় যেয়ে দেখবে ধেই ধেই করে লাফাচ্ছে।
বেহায়া, নির্লজ্জ চোখ দুটোকে শত বারনের সত্ত্বে ও আটকাতে পারলোনা রিমি।
– ওহ মাই গুডনেস, কি দেখলাম। সকালে না দেখেছি স্কাই ব্লু শার্ট। এটা বদলালো কখন? জানতেই পারলাম না।
চৈতি খুবই বিরক্ত হলো রিমির উক্তিতে। নাক মুখ কুচকে বললো,
– বড্ড ভুল করেছে তোকে না জানিয়ে। আচ্ছা আমি ডেকে বলছি, স্যার অনেক বড় ভুল করেছেন, কাপড় বদলানোর আগে রিমিকে না জানিয়ে।
– তুই জেলাস তাই না।
– ছিঃ বস হয় আমাদের। এই তোর বয়স কত?
– আটাশ।
– ওই ব্যাটা মিনিমাম চল্লিশ হবে।
– চুপ থাক। কিসের চল্লিশ। একদম ত্রিশ লাগছে। সো হট।
চোখ থাকতে অন্ধ হলে এই অবস্থা! এদের কথার মাঝেই তিনজন বেরিয়ে গেলো অফিস থেকে। ততক্ষণে তামান্না,তিহান এবং সাদাফ পাশে এসে দাঁড়ায়। তিহান চমকে গিয়ে বোকার মত মুখ করে বলে,
– শা*** একটা জিনিস। আমি তোর সাথে এক মত সাদাফ।
সাদাফ মুচকি মুচকি হাসছে। তামান্না শুধায়,
– কেনো কেনো?
তিহান উত্তরে বললো,
– পাঞ্জাবি মানুষের ইমোশন আর সাদা হলে তো কথাই নেই। শ্রমিকরা সাধারণ পাবলিক। এখন বসকে যদি সাদা পাঞ্জাবিতে দেখে, মনের মধ্যে অটোমেটিকেলি ইমোশন তৈরি হবে। ওখানেই উনি ছক্কা হাঁকবে।
– ওরেহ সাংঘাতিক, পুরাই চাল্লু…
চৈতির কথা শেষ করতে না দিয়ে মুখ চেপে ধরলো রিমি। ধমকে বললো,
– খবরদার আমার ইমুকে নিয়ে এসব বলবিনা। সাদা পাঞ্জাবিতে কি জোস লাগছিলো।
মুখের উপর থেকে রিমির হাত জোর করে সরিয়ে চৈতি বললো,
– সর রাবিশ, সারাক্ষন মেক আপ আর স্যানিটাইজার। হাতের মধ্যে ঝাঁঝালো স্যাভলনের গন্ধ পুরা। ইয়াক। আবার ঢং করে বলে ইমু? আমার তো দেখে এক নাম্বার ফ্লাটার লেগেছে…
সাদাফ ধমক দিলো চৈতিকে।
– চৈতি আস্তে। কেয়ারফুল। মজা যা করবি আমাদের মাঝে। জোরে বলছিস কেনো?
আশপাশটা দেখে চৈতি ঢোক গিললো। জিহবায় কামড় দিয়ে আস্তে বললো, স্যরি।
ভেঙচি দিয়ে রিমি নিজের কিউবিকলে চলে গেলো। অফিসের স্মারকগ্রন্থ কখনো চেক করা হয়নি। আজ ড্রয়ার থেকে প্রচারণা কপি টি বের করলো। প্রথম দিকের কয়েক পাতা পার হতেই পেয়ে গেলো সুদর্শন বসের বায়োগ্রাফি। সম্পূর্ণ বায়ো একদমে চট করে পড়ে নিলো। বায়ো পড়ার পর মনে হলো এই লোকের প্রেমে পড়া বাধ্যতামূলক। রিমি মেসেজ করলো ওদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গ্রুপে।
– আমি তো আরো বিমোহিত সাদাফ। স্যারের পুরো বায়ো জেনেছি।
তামান্নার জবাব এলো,
– কিভাবে? কি জেনেছিস?
রিমি টাইপ করলো,
– কিভাবে পরে বলব। আগে শুন, স্যার পড়াশোনা করেছে বুয়েট থেকে। বেশ ভালো বক্তা এবং সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব। বিজনেস ফিল্ডে এক্সপিরিয়েন্স অনেক। আমাদের কোম্পানির আইটি ফার্মের প্রতিটি প্রোডাক্ট ডিজাইন উনি নিজে করেন। চৈতিকে বল আমাকে যেন আর না ক্ষেপায়। স্যারের এইজ মাত্র থার্টি এইট এন্ড ইটস নরমাল। সবচেয়ে বড় মেসেজ হলো উনি অনেক হাম্বল,সোবার।
মেসেজ সেন্ড হওয়ার পর পরই চৈতি মেসেজ দিলো,
– হ্যাঁ অনেক হাম্বল। তাই তো প্রথম দিনই অফিসে এসে কথা নেই বার্তা নেই ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত জানালো। মোটেও নয়ন স্যারদের মতো নন উনি। শাসন করা তারই সাজে স্নেহ করেন যে। সিদ্ধান্ত উনি জানানো আমার পছন্দ হলো না। মিনহাজ স্যার এতদিন ডিসিশন মেকার ছিলেন, আজ হঠাৎ উনি এসে ধুপ করে বললেই হলো। নিজেই অফিস ম্যানার জানে না বাকিদের শেখাতে এসেছে।
সাদাফ সকলকে থামিয়ে বললো,
– টপিক চেঞ্জ। চৈতি আমরা তোর ধারনা পরিবর্তন করতে পারবোনা। আমাদের মধ্যেই বিবাদ হবে এই সামান্য জিনিস নিয়ে। আর রিমি তুই তোর পছন্দ নিয়ে থাক,চৈতি তার অপছন্দ নিয়ে থাকুক তাহলেই সমস্যা হবেনা। নতুবা দুদিক থেকে এমন অহেতুক কারণে ঝামেলা হয়ে আমাদের সম্পর্কে ভাঙন ধরাটা আমার অপছন্দের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। প্লিজ স্টপ হিয়ার।
– ওকে,ওকে,ওকে।
হঠাৎ দু মিনিট পর তিহান অনলাইনে এসে একটা মেসেজ দিলো,
– সবাইকে বলছি। অন্যভাবে নিস না। বস যেমনই হোক থাকতে হবে উনার আন্ডারে। মানিয়ে চলাটা হবে বুদ্ধিমানের কাজ। এই অফিসটা আমাদের অনেক পছন্দের। এটা তো সত্যি এত সুযোগ আমরা কোথাও পাবোনা। রিমি এত খুশিতে গদগদ হওয়ার কারণ দেখছিনা আর চৈতি তোর সাথেও বস খারাপ ব্যবহার করেনি। সুতরাং আমরা মানিয়ে নিই প্লিজ। আর সবাইকে বলছি যেহেতু উনি অভিজ্ঞ, দক্ষ এবং গুরুজন আমাদের শ্রদ্ধাসম্পন্ন দৃষ্টিতে দেখা উচিত।কারো ক্রাশ, আবার কেউ ডিসরেস্পেক্ট দিয়ে কথা বলবি এসব বড্ড অশোভনীয় রে। উনার আসাটা খুব জরুরি ছিলো, সিদ্ধান্ত নেয়াটাও খুব স্বাভাবিক, ফ্যাক্টরির যা অবস্থা হয়তো সামলাতে যেয়ে নয়ন স্যার এবং মিনহাজ স্যার হিমশিম খাচ্ছে। আমরা হলে এভাবে বিষয়টি হ্যান্ডেল করতে কিছুতেই পারতাম না। চৈতি এবং রিমি রাগ করিস না দোস্ত বাদ দে তোদের মেয়েলী ঝামেলা।
মেসেজ সীন হয়েছে। এবার তিহানের কাছে ব্যাপার টা খারাপ লেগে উঠলো। বেশি বলে ফেললো নাতো! বসকে নিয়ে এই অহেতুক আলোচনা ভালো লাগছিলোনা। নিজেদের বন্ডিং যেমন খারাপ হচ্ছিলো ঠিক তেমনি মন্তব্য গুলো অস্বাভাবিক লাগছিলো। মানুষটাকে চেনার এবং বুঝার জন্য সময় নেয়া প্রয়োজন।
সাদাফ মেসেজে একটি ভালোবাসাময় প্রতিক্রিয়া দিলো। এরপর সব বন্ধুরা দিলো। একে একে উত্তর স্বরূপ মেসেজ এলো,
প্রিয় মোনালিসা পর্ব ২
– ওকে আসলেই আমরা ব্যাপারটা নিয়ে বাড়াবাড়ি করছি। একটু সময় নিয়ে স্যারকে দেখি।
তামান্নার মেসেজের পর রিপ্লাই আসলো বাকি দুজনের,
– ওকে।
