Home প্রিয় রাগিনী প্রিয় রাগিনী পর্ব ৫২ (২)

প্রিয় রাগিনী পর্ব ৫২ (২)

প্রিয় রাগিনী পর্ব ৫২ (২)
লামিয়া ইসলাম শাম্মী

রাত প্রায় বারোটা বেজে চল্লিশ মিনিট।
বাড়ির সবাই রাতের খাবার খেয়ে যে যার মতো ঘুমিয়ে আছে যার যার রুমে। ইসলাম ও খান বাড়ির কর্তা কর্তি রা এখনো আসে নি আর আজ আসবে ও না। তাঁরা অবশ্য রওনা হতে চেয়েছিলো কিন্তু রাশেদ এতো রাতে আসতে মানা করেছে তাই তাঁরা কাল সকাল সকাল রওনা হবে। রাবেয়া বেগম,মিরা ও আজ ইসলাম বাড়িতেই থেকে গিয়েছে। খান বাড়ির ছেলেমেয়েরা ও ইসলাম বাড়িতেই আজ থেকে গিয়েছে। লাবিব অবশ্য যাওয়ার জন্য তাড়া দিয়েছিলো কিন্তু আজমেরী বেগম কাউকে যেতে দেয় নি।

ছবির দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে লাবিব। খট খট করে ছবির রুমের দরজা দুবার নক করলো কিন্তু ভিতর থেকে ছবির সারা শব্দ না পেয়ে লাবিব ভ্রু কুঁচকে ফেললো। কিছুক্ষণ পর ফের আবার নক করলো কিন্তু তারপরও ছবির সারা শব্দ না পেয়ে দীর্ঘ শ্বাস ফেলে কিছুক্ষণ দরজার দিকে তাকিয়ে কিছু ভেবে উল্টো পথে হাঁটা ধরলো।
আজ যেহেতু ইসলাম বাড়িতে থাকার সুযোগ পেয়েছে তাহলে আজ রাত ছবির সাথেই ঘুমাবে যে করেই হক। ভাবতে ভাবতে বাড়ির দরজা খুলে বাগানে ছবির বেলকনির নিচে এসে দাঁড়ালো। দাঁত দিয়ে নখ কামড়ে মাথা তুলে তাকালো তিন তালার বেলকনির দিকে। তারপর আশেপাশে তাকিয়ে কিছু খুঁজতে লাগলো। কিভাবে ছবির রুমে যাবে সেই উপায় ই খুঁজছে লাবিব।

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

চোখ ঘুরিয়ে পাশে তাকাতেই আবছা আলোয় একটা মই দেখতে পেলো। তা দেখে লাবিব বাঁকা হেঁসে এগিয়ে যেতেই অন্ধকারে কারোর সাথে ধাক্কা লেগে পড়ে গিয়ে পায়ে ব্যাথা পেলো। ব্যাথায় চোখ মুখ কুঁচকে ঠোঁটে ঠোঁট ধরলো কিছুক্ষণ। তারপর চেপে দাঁতে দাঁত চেপে মৃদু শব্দ করে বললো ” কে রে এতো রাতে এখা…।” আর বলতে পারলো না তাঁর আগেই পিছন থেকে কেউ তাঁর মুখ চেপে ধরলো। হঠাৎ এমন হওয়ায় লাবিব চোখ বড় বড় করে মুখ ছাড়াতে ছটফট করতে লাগলো। লাবিব ছটফট করতে করতে পিছন ফিরতে যাবে তাঁর আগেই হাত – পা, চোখ – মুখ বেধে সব ফেলা হলো। লাবিব এবার ছটফট করা থামিয়ে কি হচ্ছে তা বোঝার চেষ্টা করলো। তখনই কেউ ফিসফিস করে বললো ” সর্দার এইটাকে কী করবো..?”

সর্দার গম্ভীর গলায় বললো ” এটাকে মাথায় করে তুলে নিয়ে আয়। বেডা দেখতে বেশ খাশা আছে। যাওয়ার সময় এটাকে তুলে নিয়ে গিয়ে লাইলির হাতে তুলে দিলে দেখবি ভালো মানের টাকা দিবে।”
লোকটার এমন কথা শুনে লাবিবের বুক ধড়ফড় করে উঠলো। এই লোক কি তাকে বেচে দেওয়ার কথা বলছে নাকি ভেবে পাচ্ছে না লাবিব। তাঁকে বেচে দিলে তাল ছবির কি হবে..? ভেবেই লাবিব ঢোক গিললো। তবে সর্দার বলায় এইটুকু লাবিব বুঝতে পেরেছে যে ইসলাম বাড়ি ডাকাতের কবলে পড়েছে আজ।
সর্দারের কথায় লোকগুলো তাই করলো। দু’টো লোক লাবিব এর হাত – পা ধরে মাথায় তুলে হাঁটতে লাগলো বাড়ির দিকে।

রুম অন্ধকার করে ফোনের ফ্ল্যাশ অন করে রুমের মধ্যে কিছু করছিলো লামিয়া, মাহির , তায়েব, তায়েবা। তাঁদের পাশেই বসে আছে ব্ল্যাকি আর জ্যাকি। তখনই
বেলকনি থেকে ইন্দুবালা ডানা ঝাপটে উড়ে গিয়ে বসলো লামিয়া কাঁধে। ইন্দুবালা কে নিজের কাঁধে বসতে দেখেই চারজন একজন আরেকজনের দিকে তাকালো। লামিয়া কিছু ইশারা করতেই তিনজন মাথা নাড়ালো। তারপর চারজন বাঁকা হেঁসে বেলকনিতে চলে গেলো।

চোখ বুজে নিজের রুম থেকে হেঁটে বের হচ্ছেন আবিরা বেগম। এই ভদ্রমহিলার ঘুমের মধ্যে হুটহাট হাঁটা চলার অভ্যাস আছে। রাতের বেলা অন্ধকারে ভুতের মতো এদিক ওদিক দাঁড়িয়ে বা হাঁটা হাঁটি করেন তিনি। রাতের বেলা হঠাৎ কেউ যদি তাকে এভাবে দেখে নির্ঘাত ভয়ে তাঁর জান শুকিয়ে যাবে।
নৃত্য দিনের মতোই আবিরা বেগম আজ ও ঘুমের ঘোরে বেরিয়ে এসেছে নিজের রুম থেকে। চোখ বুজে হাঁটছেন তিনি। হাঁটতে হাঁটতে কিছু বিড়বিড় করছে। হাত দিয়ে সিঁড়ির রেলিং ধরে আস্তে ধীরে চোখ বুজে নিচে নেমে আসছে আবিরা বেগম। এর মধ্যেই বাড়িতে আগমন ঘটলো ডাকাত দলের। ডাকাত দলের দু’জন লোক লাবিব কে ধরে হল রুমের ফ্লোরে বসাতেই লাবিব ধরফর করে উঠলো। এই শীতের মধ্যে ফ্লোরে শরীর লাগতেই লাবিব এর পুরো শরীর ছ্যাৎ করে উঠলো। মুখ বাঁধা থাকায় শব্দ করতে পারলো না লাবিব। কিন্তু মুখ থেকে উমম উমমম শব্দ বেরিয়ে এলো। তা শুনে সর্দার ভ্রু কুঁচকে লাবিব কে বললো ” এই শালা এতো উমম উমম করছিস কেনো..?? তোর উমম উমম বন্ধ কর নয়তো একটা লা*থি মে*রে মাজা বাঁকিয়ে দিবো”

সর্দারের কথা শুনে লাবিব এর ছটফটানি বন্ধ হয়ে গেলো। এদের দিয়ে ঠিক নেই যদি মে*রে দেয় তখন হিতে বিপরীত হবে এখনো বাসর করে নি সে। এসব ভেবেই লাবিব আর ছটফট করলো না।
হঠাৎ কারোর পায়ের শব্দ পেতেই সর্দার এবং তাঁর দলের লোক গুলো সতর্ক হলো। হল রুম পুরো অন্ধকার থাকায় কিছু দেখা যাচ্ছে না তাই কান খাড়া করে শুনতে লাগলো কোথা থেকে পায়ের শব্দ আসছে। পায়ের শব্দ সামনে থেকে আসছে শুনে এবার সর্দার আর তার দলের লোক গুলো এবার কোমর থেকে বড় বড় ছু*ড়ি, চা*পাতি, পি*স্তল বের করে প্রস্তুত হলো সামনের ব্যাক্তির উপর হামলার করার জন্য।
তখনই আচমকা হল রুমের লাইট জ্বলে উঠলো। সর্দার আর তাঁর দলবল ভয়ে দ্রুত যে যেখানে পারলো সে সেখানে লুকিয়ে পড়লো।

লাইট জ্বালিয়ে হাঁটু পর্যন্ত নাইটি পড়ে পানির জগ নিয়ে নিচে নামছে মিরা। সিঁড়ি বেয়ে অর্ধেক আসতেই হাঁটা থামিয়ে দিয়ে ভ্রু কুঁচকে তাকালো হল রুমের সোফার দিকে। সেখানে ফ্লোরে উল্টো ঘুরে হাত – পা বাঁধা অবস্থায় কাউকে পরে থাকতে দেখে মিরা মৃদু স্বরে বললো ” কে..? কে ওখানে..? কে এই শীতের রাতে ফ্লোরে পড়ে আছেন কে ওখানে..?”
বলতে বলতে এবার সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে এগিয়ে যেতে লাগলো সোফার দিকে। অবশ্য মিরা বেশ সাহসী একটা মেয়ে। তাঁর মধ্যে ভয় ডর কোনো কিছুই নেই। মিরা সামনে এগিয়ে যেতেই দেখলো পুরো মুখে কালো কাপড় দিয়ে বাঁধা কাউকে। মিরা কিছু না ভেবে দ্রুত পানির জগ পাশে রেখে কালো কাপড় সরাতেই লাবিব কে দেখে চোখ বড় বড় করে ব্যাস্ত গলায় জিজ্ঞেস করলো ” আপনি এখানে..? এই অবস্থায় কেনো..? কে করেছে আপনার এই অবস্থা..?”

বলতে বলতে লাবিব এর মুখ খুলে দিলো। মুখ খোলা পেতেই লাবিব মিরা কে কিছু বলতে যাবে তাঁর আগেই মিরার মুখ কেউ চেপে ধরতেই মিরা ছটফট করে উঠলো। মিরা কে ডাকাত দলের লোক মুখ ধরেছে দেখে লাবিব এবার হাক ছেঁড়ে চেঁচিয়ে উঠলো ” শুভ্র, রাশেদ, আবির ভাই, বাঁচাও। বাড়িতে ডা*কাত পড়ছে। ডা*কাত ডা*কাত।”
লাবিবের চেঁচানো শুনে সর্দার লাবিব এর মুখে লা*থি বসিয়ে দিয়ে দলের লোকদের শাসিয়ে বললো ” দ্রুত এটার মুখ বন্ধ কর নয়তো তোদের মুখ বন্ধ করে দিব।”

সর্দারের কথা শুনে দলের লোকগুলো লাবিব এর মুখ আবারো বেঁধে দিলো। সর্দার আশেপাশে তাকিয়ে যেই না পিছনে ফিরতে যাবে তার আগেই একটা শক্ত পোক্ত চর এসে পড়লো তাঁর গালে। সর্দার রক্তিম চোখে তাকালো সামনে। সামনে তাকাতেই চোখ মুখ কুঁচকে গেলো তাঁর। ডা*কাত দলের লোক গুলো হা করে তাকিয়ে আছে সামনের দিকে। লাবিব আর মিরা একজন আরেকজনের দিকে চাওয়া চাওয়ি করে সামনে তাকালো।
সামনেই চোখ বুজে কোমড়ে হাত রেখে দাঁড়িয়ে আছে আবিরা বেগম। সর্দার কড়া গলায় কিছু বলতে যাবে তাঁর আগে আরো এক গালে চটাস করে এক চর দিলো আবিরা বেগম। সর্দার আহাম্মক এর মতো দু গালে হাত রেখে আবিরা বেগম এর দিকে তাকালো। আবিরা বেগম চোখ বুজে কপাল কুঁচকে বললো ” তুই ওই ছেরির দিকে তাহাইছো ক্যা তুষারের বাপ..? আমারে কী এহন কম সুন্দর লাগে নি..?”

সর্দার আবিরা বেগম কে কী বলবে ভেবে পাচ্ছেনা। তার দলের লোকেরা হা করে তাকিয়ে আছে তাঁর দিকে। আবিরা বেগম এবার চোখ বুজেই ঠোঁট ভেটকি কেঁদে উঠলো ” আমি তোমারে কতো ভালোবাসলাম আর তুমি কি না ওই ছেরির দিকে তাকাইলা এইডা কি ঠিক করলা তুষারের বাপ..?” বলেই সর্দারের গলা জড়িয়ে ধরলো।
লাবিব আর মিরা বড় বড় চোখ করে তাকালো আবিরা বেগম এর দিকে। এই মহিলা করছে টা কি।
সর্দার আবিরা বেগম এর কান্ডে এবার রেগে গেলো। এক ঝাটকায় আবিরা বেগম কে নিজের থেকে ছাড়িয়ে এক শক্ত পোক্ত হাতে থাপ্পড় বসিয়ে দিতেই আবিরা বেগম এর মাথা ভনভন করে ঘুরতে লাগলো। থাপ্পড় খেয়ে তার ঘুম পালিয়ে গিয়েছে। আবিরা বেগম পিটপিট করে তাকাতেই মুখে কালো মাক্স পরা লোক কে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেই ভ্রু কুঁচকে ফেললো। পাশ ফিরে আট – নয়জন মানুষ দেখে আবিরা বেগম ভ্রু জোড়া আরো কুঁচকে বললো ” ওই মিয়া আপনারা কেঠা..?”

সর্দার হাতের চা*পাতি আবিরা বেগম এর দিকে তাক করে বললো
” আমি তোর জ্যাঠা। সবাই ধর এই বুড়ি কে। আজকে ওরে জ*বা করুম।”
আবিরা বেগম সর্দারের হাতে চা*পাতি আর কথা শুনে ভয়ে বড় বড় চোখ করে পরনের কাপড় হাঁটু পর্যন্ত উঠিয়ে কান্না জড়িত কন্ঠে চেঁচিয়ে উঠলো ” আলআলালালালালালা ওওওও বুবুউউউউউউউউ তোমগোওওও বাড়ি ডাকাত পড়ছে গোওওওও। কেএএএ কোই আছো বাঁচাও আমারে। আমি মরবার চাই না এতো তাড়াতাড়ি । ” বলতে বলতে দৌড়াতে লাগলেন। তাঁর পিছনে সর্দারের লোকেরা।

এইদিকে আবিরা বেগম এর চিৎকার শুনে সবাই লাফিয়ে উঠলো ঘুম থেকে। তাড়াহুড়ো করে সবাই যে যার মতো দৌড়ে হল রুমে আসতেই সর্দার আর তাঁর দলবলেরা সবার মাথায় পি*স্তল তাক করলো। ডা*কাতদের দেখে সবাই অবাক হলো। দু হাত উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকলো সবাই। সর্দার সবাই কে হাঁটু গেড়ে বসতে বললে সবাই হাঁটু গেড়ে বসতেই সবাই কে বেঁধে ফেললো এক সাথে। সবাই অবিশ্বাস্য চোখে তাকিয়ে আছে ডা*কাত গুলোর দিকে। তাঁরা ভাবতে পারছে না তাদের বাড়িতে ডা*কাত পরছে। হামিদা আশেপাশে তাকিয়ে বেশ চিন্তিত হলো এখানে আজমেরী, লামিয়া, মাহির, তায়েব, তায়েবা,তোয়া, শুভ্র বাদে সবাই আছে। কিন্তু তাঁরা নেই কোথায় গেলো তাঁরা এই ভেবেই চিন্তিত হচ্ছে হামিদা।

আশেপাশে তাকিয়ে সর্দার তাঁর দলের সবাইকে বললো ” ভালো ভাবে দেখেছিস এই বাড়িতে এই কয়জনই মানুষ…? নাকি আরো আছে..?”
দলের এক লোক বললো ” সর্দার এই কয়জনই মনে হয়।”
সর্দার আশেপাশে চোখ বুলিয়ে বললো ” ঠিক আছে এবার এ বাড়িতে যা যা আছে সব নিয়ে আয়।”
সর্দারের কথায় দলের লোক গুলো মাথা নাড়িয়ে এক পা এগোতে যাবে তার আগেই উপর থেকে কেউ বিরক্ত কন্ঠে বলে উঠলো ” এই এই এই কে এতো রাতে আমার সিলিপিং নষ্ট করলো কে..? ” বলতে বলতে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতে লাগলো আজমেরী বেগম। মুখে তাঁর ফেস মাস্ক। সবাই হা করে তাকিয়ে আছে আজমেরী বেগম এর দিকে। বাড়িতে ডাকাত পড়েছে, এখানে এতো কিছু হয়ে যাচ্ছে কিন্তু এই মহিলা আছে তাঁর ঘুম কে ভেঙেছে সেটা নিয়ে।
আজমেরী বেগম সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে কোমড়ে হাত দিয়ে বললো

” হেই ইসটুপিট, রোসকেল ম্যান গুলি আমার সিলিপিং ক্যান ভাঙছোস..? তোগো বাপে আমার ঘুম দিয়া গেছিলো চোখে হ্যাঁ..?”
সবাই আজমেরী বেগম এর কথায় হা করে তাকিয়ে আছে তাঁর দিকে। এই মহিলা কাদের কী বলছে। সর্দার ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে আজমেরী বেগম এর দিকে। আজমেরী বেগম তা দেখে বিরক্ত চোখে পাশে তাকিয়ে বাঁধা অবস্থায় সবাই কে দেখে সর্দারের দিকে তাকিয়ে বললো ” ডা*কাতি করার সময় পাস না। এই রাইতের বেলাই তোগো ডাকাতি করতে আহন লাগতো..? তোরা জানোস না রাইত জাগলে আমার ইসকিনের গ্লু নষ্ট হইয়া যাইবো।”
আজমেরী বেগম এর কথা শুনে সর্দার এবার বিরক্ত হলো। এগিয়ে গিয়ে আজমেরী বেগম কে ধাক্কা দিয়ে ফ্লোরে ফেলে দিতেই আজমেরী বেগম চেঁচিয়ে উঠলো

” ইউউউ ইসটুপিট বাসকেট আমারে ওমন কইরা হালাইলি ক্যা..?”
সর্দার এবার জোরে ধমকে উঠলো
” চুপপ বুড়ি আসার পর থেকে তোদের এক একজনের কাহিনী দেখে বিরক্ত হচ্ছি। তোরা আমার মাথা নষ্ট করে দিচ্ছিস । এই তোরা দাঁড়িয়ে আছিস কেনো এই বুড়ির মুখে কাপড় দে। ”
সর্দারের আদেশে তাঁর লোকেরা আজমেরী বেগম কে বেঁধে ফেললো। আজমেরী বেগম মুখ লটকে বসে থাকলো সেখানে।

তখনই নিচে নেমে এলো তোয়া। চোখ ডলতে ডলতে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতেই ডা*কাত দের দেখে আঁতকে চেঁচিয়ে উঠলো ” ওমাই গুড ডাকু আংকেল। হ্যান্ডসাম বয় পিলিজ সেভ মি।”
সর্দার এবার আরো বিরক্ত হলো। রেগে এগিয়ে তোয়ার কাছে যেতেই তোয়া দৌড়ে গিয়ে সরে দাঁড়িয়ে বললো ” ডাকু আংকেল ডাকু আংকেল পিলিজ আমাকে ছেড়ে দিন। এই বাড়িতে অনেক গয়না টাকা পয়সা আছে আমি সব দেখিয়ে দিবো আমাকে মারবেন না পিলিজ।”

তোয়ার কথা শুনে আজমেরী বেগম হাত – পা নাচিয়ে ছটফটিয়ে উম উম করতে লাগলো। তোয়ার ভাগ্য ভালো যে আজমেরী বেগমের হাত – পা বাঁধা নয়তো তোয়ার বলার কথার কারণে আজমেরী বেগম আজ তোয়া কে মাথায় তুলে এক আছাড় দিতো। আজমেরী বেগম ছটফটানি দেখে সর্দার ভ্রু কুঁচকে তাঁর দিকে তাকিয়ে আবার তোয়ার দিকে তাকালো। পা থেকে মাথা পর্যন্ত পরখ করে বিশ্রী হেঁসে তোয়া কে স্পর্শ করার জন্য হাত বাড়িয়ে দিতে দিতে বললো

” এটাকে বিক্রি করলে ভালো মানের দাম পাবো।” বলেই তোয়ার দিকে এগিয়ে গেলো। সর্দার কে দেখে তোয়া কান্না করতে করতে পিছিয়ে যেতে যেতে কান্না জড়িত কন্ঠে মন প্রাণ দিয়ে শুভ্র আর লামিয়া কে ডাকতে লাগলো।
” হ্যান্ডসাম বয় কোথায় তুমি বাঁচাও আমাকে। বিগ বস, মাহির, তায়েব ভাইয়া,তায়েবা আপু কোথায় তোমরা..?? এই ডাকু আংকেল আমাকে বিক্রি করে দিবে বাঁচাও আমাকে।” বলেই কান্না করতে লাগলো।
ওইদিকে আবিরা বেগম নাতনির এমন কান্না দেখে নিজেও কেঁদে উঠলো। জাহিদ,আবির, সাফওয়ান,লাবিব, রাশেদ, আরিফ ছটফট করতে লাগলো ছোটার জন্য। সাফওয়ান ছটফট করতে করতে অনুরোধ কন্ঠে বললো ” আপনার যা নেওয়ার নিয়ে নিন, মা*রার দরকার হলে আমাদের মারুন কিন্তু ওকে ছেড়ে দিন। ওওও বাচ্চা ছোট্ট মেয়ে কিছু বুঝে না। ছেঁড়ে দিন ওকে।”

সর্দার হেঁসে বললো ” আমার সব ই লাগবে। এই মেয়ে গুলো কেও লাগবে। তাঁর আগে এই টা কে দেখি তারপর।”
বলেই এগিয়ে গেলো তোয়ার দিকে। তোয়া ভয়ে জড়সড় হয়ে ফ্লোরে বসে কান্না করতে লাগলো।
” লামিয়া পরিস্থিতি যেমন ভেবেছিলাম তেমন তো নয়। এ তো দেখছি আরো খারাপ হচ্ছে। ” বলেই লামিয়ার দিকে তাকালো মাহির।
লামিয়া শক্ত চোখে তাকিয়ে আছে সামনে সর্দার আর তোয়ার দিকে। তারপর মাহিরের দিকে তাকিয়ে বললো

” শুভ্র ভাই কোথায়..?”
” জানি না তো।”
লামিয়া আর কিছু না বলে পাশ থেকে দা হাতে তুলে নিয়ে রুম থেকে বের হতে যাবে তার আগেই একটা গুলির শব্দ শোনা গেলো। সবাই আতংকে সামনের দিকে তাকাতেই দেখলো শুভ্র দাঁড়িয়ে আছে সর্দারের সামনে।
” ওকে ছেঁড়ে দে নয়তো জানে মেরে দিবো।” বেশ চোখ মুখ শক্ত করে বললো শুভ্র।
সর্দার হেঁসে বললো ” তাই নাকি..? মেরে দেখা তো।”
বলেই হাত বাড়িয়ে তোয়া কে সামনে টেনে এনে তোয়ার গলায় ছু*রি ধরলো। তা দেখে সবাই ভয় পেলো।
শুভ্র পিস্তল সর্দারের দিকে তাক করে বললো ” দেখ ছেঁড়ে দে ওকে।”

” ওর গান নামা নয়তো আমি…!” বলেই তোয়ার গলায় ছু*রি চেপে ধরলো।
তোয়া এবার কান্না করতে করতে চেঁচিয়ে উঠলো ” হ্যান্ডসাম বয় গুলি চালিও না। আমি এখন মরতে চাই না। আমি বড় হতে চাই তারপর তোমাকে বিয়ে করতে চাই। তোমার সাথে সংসার করতে চাই পিলিজ গুলি চালিও না। ডাকু আংকেল পিলিজ ছেঁড়ে দাও আমাকে আমি হ্যান্ডসাম বয় এর বাবুর আম্মু হতে চাই।”
তোয়ার কথা শুনে সবাই বিস্ফোরিত চোখে তাকালো। এই পরিস্থিতিতে এই মেয়ে কী বলে। ওইদিকে লামিয়া ফুসফুস করছে। রেগে মেগে ধৈই ধৈই করতে করতে যেই রুম থেকে বের হতে যাবে তার আগেই তায়েব, তায়েবা, মাহির মিলে আটকালো। লামিয়া দাঁতে দাঁত চেপে বললো

” ছাড় তোরা আমাকে এই মেয়ের সংসার করা বাহির করছি কত্তো বড় সাহস ওর। আবার বলে কি না আমার জামাইয়ের বাবুর আম্মু হবে। ছাড় আমারে তোরা ওর আম্মু হওয়ার শখ মিটাচ্ছি। ”
তায়েবা লামিয়া কে জাপটে ধরে বললো ” আরে ওও ছোট্ট মানুষ লামিয়া বোঝার চেষ্টা কর। ”
লামিয়া দাঁতে দাঁত চেপে বললো
” ওই শুভ্রর পাশে আমি একটা মশাকে ও সহ্য করবো না আর এই এইটুকু মেয়ে কি না ওর বাচ্চার মা হওয়ার কথা বলে ফেলছে। এই ছাড় আমাকে তোরা। ”

তায়েব, তায়েবা, মাহির লামিয়ার কথায় হাসবে নাকি কাঁদবে তাই বুঝতে পারছে না। এই মেয়ের জ্বেলাসি তো সকল জ্বেলাসি কে হার মানি ছাড়বে।
শুভ্র উপায় না পেয়ে পি*স্তল ফ্লোরে ফেলে দিলো। তা দেখে সর্দার তার লোক গুলো কে ইশারা করতেই শুভ্র কে বেঁধে ফেললো। সর্দার তোয়া কে ধাক্কা দিয়ে আজমেরী বেগম এর দিকে ফেলে দিয়ে শুভ্রর দিকে এগিয়ে গেলো। শুভ্র চোখ মুখ শক্ত করে তাকিয়ে আছে সর্দারের দিকে।
সর্দার তা দেখে হেঁসে বলল ” ভীষণ তেজ তোর তাই না..? এই শীতের মধ্যে চল তোর তেজ বের করি।” বলেই পাশে তাকিয়ে তাঁর লোক গুলো কে বললো ” এই ছেলের শার্ট টেনে খুলে ফেলে দে। এই শীতের মধ্যে ওর সব তেজ দেখবি শীতে বের হয়ে গিয়েছে।”

সর্দারের লোক গুলো সর্দারের কথা মতো তাই করলো।
ওইদিকে লামিয়া এবার ভীষণ ভাবে ক্ষেপে গেলো। এই শীতের মধ্যে শার্ট খোলার মানে কী..? আর শুভ্র শার্ট খুলবো তাও মিরা আর মিলির সামনে..? এরা তো শুভ্র কে গিলে খাবে চোখ দিয়ে। না না না এটা করতে দেওয়া যাবে না। শুভ্র তার, তার মানে লামিয়ার । শুভ্র কে খালি গাঁয়ে বা পুরোপুরি উলঙ্গ দেখার অধিকার শুধু লামিয়ার আর কারোর নয়। শুভ্র শুধু তার সম্পদ, আর তার সম্পদে যে হাত বা চোখ তুলে তাকাবে সে হাত বা চোখ রাখবে না লামিয়া। ভাবতে ভাবতে সামনে তাকাতেই শুকনো ঢোক গিললো। আর সবচেয়ে বড় কথা শুভ্র কে শার্টলেস দেখলে লামিয়ার মাথা ঘুরে যায়। শুভ্র কে শার্টলেস দেখার পর লামিয়া কীভাবে যে নিজেকে সামলে রাখে তা কেবল লামিয়া ই জানে।
ওদিকে টেনা হেঁচড়ে খোলা হচ্ছে শুভ্রর শার্ট। শুভ্র এতে বেশ বিরক্ত হচ্ছে।

বেশ কিছুক্ষণ শার্ট টানাটানি করে ছিঁড়ে ফেলে দিলো লোকগুলো।
লামিয়া এবার ভীষণ রেগে গেলো। হাতে থাকা দা নিয়ে রুম থেকে বের হতেই আবারো মাহির, তায়েব, তায়েবা আটকে দিলো। এবার লামিয়ার রাগ আরো বেড়ে গেলো। ওইদিকে তার সম্পদে হাত দিয়ে চোখ দিয়ে ধর্ষণ করছে আর এইদিকে এই মীর জাফর গুলো তাকে আটকে রাখছে দেখে লামিয়ার ভীষণ রাগ লাগছে।
তায়েব লামিয়ার পা ধরে বললো

” বোইন আমার যাইছ না। আমাগো প্ল্যান নষ্ট করিস না। নয়তো এদের ধরতে পারবো না। এতো দিনের প্ল্যান বিফলে চলে যাবে।”
লামিয়া নিজেকে ছাড়াতে ছাড়াতে রেগে বললো ” তোর প্ল্যান চুলোয় যাক। ছাড়া আমারে আজকে সব গুলার চোখ উঠিয়ে আমি গুলি খেলবো। আর দেখ দেখ ওই মিরা আর মিলি কে দেখ আমার জিনিসের উপর চোখ দিয়েছে। আমি ছাড়িবো না এদের।”
পাশ থেকে মাহির বললো ” ছাড়িস না তুই সারাজীবন ধইরা রাখিস কিন্তু এখন কিছু করিস না বোইন আমার। ”

” এখন ই করবো। আজকে সব গুলার চোখ উঠিয়ে নিবো আমি।” বলেই নিজেকে ছাড়াতে লাগলো।
“সর্দার এই পোলার জামা খুইল্লা ফেলছি।” বলেই লোকটা সর্দারের দিকে তাকালো। শুভ্র বিরক্ত হয়ে চোখ মুখ কুঁচকে আছে। ইচ্ছে করছে এই সর্দার আর তাঁর লোক গুলোকে আচ্ছা মতো পেটাতে। কিন্তু হাত পা বাঁধা তাই এখন চাইলেও সে পেটাতে পারবে না। তাই মুখ বুজে সহ্য করছে সব। বাড়ির সবার মাথায় পি*স্তল ঠেকানো। সর্দার শুভ্র দিকে তাকিয়ে শুকনো ঢোক গিললো। এতো সুন্দর বডি দেখে সর্দার এগিয়ে গেলো শুভ্রর দিকে।
তারপর শুভ্র দিকে এগিয়ে গিয়ে শুভ্রর সুঠাম দেহে হাত বুলিয়ে কিছু বিড়বিড় করলো।
হঠাৎ ধাম করে কিছু পড়ার শব্দ পেতেই সবাই ঘাড় ঘুরিয়ে সিঁড়ির দিকে তাকাতেই দেখলো লামিয়া চিত হয়ে পড়ে আছে। হাতের রাম দা ছিটকে দূরে সরে আছে। তায়েব, তায়েবা, মাহির লামিয়ার অবস্থা দেখে বিরক্ত হয়ে সর্দারের দিকে তাকিয়ে আবার লামিয়ার দিকে তাকালো।

তায়েব এবার বিরক্ত হয়ে চেঁচিয়ে উঠলো ” হারামজাদি দূর্বল ছেরি। জামাইর বডি দেইখা বেহুঁশ হওয়ার আর সময় পাইলি না। আর তুই ডা*কাতের সর্দার তোরেও বলি হারি হারামজাদা তুমি ওই পোলার জামা খুলার আর সময় পাইলা না..? আর জামা খুইলা কি হাতাহাতি করতাছোস মাইয়া গো মতো..?”
তায়েব এর কথা শুনে আবির বেগম বললো ” সব ই বুঝলাম কিন্তু ওই ওমন চিত হইয়া গেছে ক্যা..?”
মাহির বিরক্ত হয়ে বললো ” তো চিত হইবো না তো কী হইবো…? ওইই সর্দারের চরিত্রে সমস্যা আছে তাঁর উপর শুভ্র ভাইরে শার্টলেস দেইখা লামু ফিট খাইছে ‌।”

এদিকে শুভ্র লামিয়ার কে ফ্লোরে দেখে অস্থির হয়ে উঠলো। তাই বেশ চিন্তিত গলায় বললো ” ভ্রমর ভ্রমর তুই ঠিক আছিস..?”
শুভ্রর কথা শুনতে দেরি লামিয়ার লাফিয়ে উঠতে দেরি হলো না। তা দেখে মাহির, তায়েব, তায়েবা ভ্রু কুঁচকে তাকালো।
লামিয়া জামা ঝাড়া দিয়ে চোখ মুখ শক্ত করে তাকালো শুভ্রর দিকে। শুভ্রর দিকে এভাবে তাকিয়ে আছে কেনো তা বুঝতে পারছে না কেউ।
ওইদিকে সর্দার লামিয়া কে দেখে বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে আছে। লামিয়া ধুপধাপ পায়ে এগিয়ে যেতে থাকলো শুভ্রর দিকে।

যাওয়ার সময় সর্দার কে ধাক্কা দিতেও ভুল করলো না। সর্দার কোনো কথা ছাড়াই সরে গেলো সামনে থেকে। লামিয়া এগিয়ে এসে শুভ্রর সামনে দাঁড়িয়ে চোখ ঘুরিয়ে তাকালো মিরার দিকে। মিরা চোখ দিয়ে গিলে খাচ্ছে শুভ্র কে। মিরার থেকে দৃষ্টি সরিয়ে এবার দৃষ্টি ফেললো মিলির দিকে মিলি হা করে তাকিয়ে আছে শুভ্রর দিকে। তা দেখে লামিয়ার রাগ দ্বিগুণ বেড়ে গেলো। হাত বাড়িয়ে শুভ্রর হাতের বাঁধন খুলে লামিয়া রেগে ধুপধাপ পা ফেলে চলে গেলো রান্নাঘরে। সবাই হা করে তাকিয়ে আছে লামিয়ার দিকে। সর্দারের শরীরে ঘাম ছুটে গিয়েছে এতোক্ষণে। এই শীতের মধ্যেও তার শরীরে ঘাম বেঁয়ে পড়ছে। লামিয়া রান্নাঘর থেকে কেরাসিন আর লাইটার নিয়ে এসে হল রুমের সামনে দাঁড়িয়ে সর্দারের দিকে তাকিয়ে শক্ত গলায় মিলি আর মিরা কে দেখিয়ে বললো

” এই দুটো কে এখন ই এখানে এই মাঝে হাজির কর।”
সর্দার কোনো কথা ছাড়াই দ্রুত মিলি আর মিরা কে হল রুমের মাঝে এনে হাঁটু গেড়ে বসাতেই লামিয়া কেরাসিন এর বোতল ঢেলে দিলো মিরা আর মিলির গাঁয়ে।
এইদিকে সবাই আশ্চর্য হয়ে তাকিয়ে আছে লামিয়ার দিকে। আর সবচেয়ে বেশি আশ্চর্য হয়েছে সর্দার কে লামিয়া হুকুম করছে আর সর্দার লামিয়া কে ভয় পাচ্ছে। মাহির, তায়েব, তায়েবা সোফায় বেশ আড়াম করেই লামিয়ার কান্ড দেখছে।
রাগে লামিয়া জ্ঞান হারিয়ে ফেলছে আজ। শ্যামবর্ণের চেহারা লাল বর্ণ ধারণ করেছে। হালকা বাদামী চোখের মনি গুলো লালা টুকটুকে হয়ে আছে। রাগে তাঁর পুরো শরীর কাঁপছে। লামিয়া কাঁপা কাঁপা হাতে লাইটার জ্বালাতে লাগলো।

ওইদিকে মিরা আর মিলি ভয়ে চোখ বড় বড় করে আছে। মুখ বেঁধে রাখার কারণে কথা বলতে পারছে না। ফ্লোরে বসে ছটফট করতে আছে। কাঁপা কাঁপা হাতে বেশ কষ্টে আগুন জ্বালালো। শুভ্র অবিশ্বাস্য চোখে তাকিয়ে আছে লামিয়ার দিকে। লামিয়া মিলি আর মিরার দিকে তাকিয়ে হুংকার দিয়ে বললো
” তোদের কে আজ আমি ছাড়বো না।” বলেই লাইটার মিরা আর মিলির দিকে ছুঁড়তে শুভ্র দৌড়ে এসে লামিয়ার হাত ধরলো। লামিয়া ঝলসানো দৃষ্টিতে শুভ্রর দিকে তাকাতেই শুভ্র লামিয়া কে কাঁধে তুলে নিয়ে তায়েব, তায়েবা, মাহির এর দিকে তাকিয়ে বললো ” সবাই কে মুক্ত কর আর এদের কে দেখে রাখ আমি এটাকে শান্ত করে তারপর এইদিক টা দেখছি।”
বলেই লামিয়া কে নিয়ে হাঁটা ধরলো।
মিরা, মিলি একজন আরেকজনের দিকে তাকিয়ে শুভ্রর যাওয়ার দিকে অগ্নি দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো।

শুভ্র লামিয়া কে কাঁধে তুলে সোজা রুমে এসে দরজা আটকে দিতেই লামিয়া চেঁচিয়ে উঠলো ” ওদের সাহস কী করে হয় আপনার দিকে তাকানোর..?”
শুভ্র শীতল দৃষ্টিতে লামিয়ার দিকে তাকিয়ে আছে। লামিয়া সেদিকে পাত্তা না দিয়ে চেঁচিয়ে যাচ্ছে। এক পর্যায় চেঁচাতে চেঁচাতে লামিয়া ক্লান্ত হাঁটু গেড়ে ফ্লোরে বসতেই শুভ্র লামিয়া কে তাঁর বুকে আগলে নিলো। লামিয়া শুভ্রর বুকে মুখ গুঁজে জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিয়ে ভাঙা গলায় বললো ” আপনার দিকে অন্য মেয়েরা চোখ তুলে তাকালে আমার বুকে যন্ত্রণা শুরু হয় শুভ্র ভাই। মনে হয় এই যে ওরা আপনাকে নিয়ে যাবে আমার থেকে। আমার ভীষণ ভয় হয় শুভ্র ভাই। আপনার আশেপাশের অনেক সুন্দরী মেয়ে থাকে ওই সুন্দরীদের ভিরে আমার মতো অসুন্দর মেয়েকে যদি ভুলে যান তখন?? আমি তো আপনাকে আর হারাতে চাই না শুভ্র ভাই।” বলেই শুভ্রর বুক থেকে মাথা উঁচু করে তাকালো শুভ্রর দিকে।

প্রিয় রাগিনী পর্ব ৫২

শুভ্র শীতল দৃষ্টিতে লামিয়ার দিকে তাকিয়ে আছে। তাঁর মাথায় কিছু ঢুকছে না। সে ভেবে পাচ্ছে না কিছু মনে হচ্ছে কোনো স্বপ্ন দেখছে সে। নিজেকে সামলে নিয়ে
শুভ্র লামিয়ার দিকে তাকিয়ে কিছু বলতে যাবে তার আগেই লামিয়া শুভ্র কে চমকে দিয়ে শুভ্রর অধর আঁকড়ে ধরলো। শুভ্র এবার যেনো অবাক হতেও ভুলে গেলো।

প্রিয় রাগিনী পর্ব ৫৩