প্রেমসন্ধিক্ষন পর্ব ১৪
সাইদা মুন
সকাল থেকে তাহিয়ার শরীরটা ভালো নেই, তাই সবাই তাকে কলেজ যেতে মানা করেছে। তাহিয়া যাবে না শুনে মেহরীনও বসে আছে, সেও যাবে না।
নাস্তা তালহা করতে নিচে এসে দেখে, তাহিয়া তো অনুপস্থিতই, মেহরীনও নিচে নামেনি। খানিকটা কৌতূহল,খানিকটা বিরক্তি নিয়েই খাওয়া সেরে সে সোজা তাদের রুমের দিকে পা বাড়ায়। দরজার সামনে এসে হালকা স্বরে ডেকে ওঠে,
–মেহরীন…
মেহরীন তখন সবে শুয়ে ছিলো, আধো ঘুমে চোখ ভার হয়ে আছে। হঠাৎ তালহার গলায় তার বুকের ভেতর হালকা ঢেউ খেলে যায়। তড়িঘড়ি উঠে বসে, সে কি স্বপ্নে শুনছে। ঘুমজড়ানো চোখদুটো কচলে ভাবে “তালহা কি সত্যিই ডাকল, নাকি মনের ভুল?” ভাবনার ঠিক মাঝেই আবার সেই পরিচিত কণ্ঠ,
–মেহরীন।
এবার ঘোর কেটে যায়। হৃদস্পন্দনটা খানিক বেড়ে যায়। সত্যিই তালহার ডাক, দ্রুত ওড়নাটা মাথায় টেনে নিয়ে দরজা খুলতে এগোয়।
দরজা খুলতেই চোখে পড়ে তালহাকে, টাউজার আর শর্ট হাতা গেঞ্জি পরে দাঁড়িয়ে আছে। সকালের আলো তার গায়ের উপর পড়ে যেন তাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। গেঞ্জির হাতা ছোট হওয়ায় তার বাহুর পেশীগুলো স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, বেহায়া মনটা বারবার সেদিকে যাচ্ছে। চুলের গোছাগুলো কপালের পাশে হালকা ঝুলে আছে, চোখে এক ধরনের নিঃশব্দ জিজ্ঞাসা। ভাবনার মাঝেই তালহা হালকা গলায় জিজ্ঞেস করল,
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
–এখনো রেডি হওনি?
তাকে পর্যবেক্ষণ করতে করতে হঠাৎ এমন প্রশ্নে মেহরীন মাথা তুলে তাকাল,
–কোথায় যাবো?
তালহা পকেটে দুই হাত গুজে চোখ ছোট করে তাকায়। শান্ত ভঙ্গিতে বলল,
–কোথায় আবার কলেজ যাবে।
“কলেজ” এই শব্দটা যেন মেহরীনের মুখের হাসিটাকে এক নিমিষে মুছে দিল। মুহূর্তেই মুখটা থমথমে হয়ে গেল। সে ভেবেছিল, তাহিয়া অসুস্থ বলে সেও আজ বাড়িতে থাকতে পারবে, একটু আরামে ঘুমিয়ে নেবে। সে আমতা-আমতা করে বলল,
–কিন্তু… তাহিয়া তো অসুস্থ।
তালহা ভ্রু কুঁচকে তাকায়, কপালে হালকা ভাঁজ পড়েছে,
–ওয়েট, অসুস্থ তাহিয়া, তুমি নও।
মেহরীনের বুকটা ধক করে ওঠে। এখন কি বলবে? বলে দিহে সেও আজ যাবেনা? তবে তালহার কাল রাতের ঝারি কথা মনে পড়তেই, এ কথা বলার সাহসটা কোথায় যেন গলে যায়। চোখ নামিয়ে, আঙুল মচকানো ভঙ্গিতে তোতলাতে তোতলাতে বলল,
–তাহিয়াকে তো দেখে রাখতে হ…
তালহা একচোট নিঃশ্বাস ফেলল, চোখ নামিয়ে বলল,
–তার জন্য আম্মু আছে, ছোট মা আছে।
–কিন্তু…
তালহার গলা এবার খানিকটা উচুঁ সুরে বলল,
–কোনো কিন্তু না। ফাঁকিবাজি আমার একদম পছন্দ না। দশ মিনিটের মধ্যে রেডি হয়ে নিচে নামবে।
তার চোখের দৃষ্টি যেন কথা নয়, হুকুম দিচ্ছে। যা অমান্য করার সাহস করলেই ঝারি খাবে। মেহরীন নিঃশব্দে অনিচ্ছাকৃতভাবেই মাথা নাড়ল। তালহা চলে যায় নিজের রুমের দিকে। তার সোজাসাপটা হুকুমে মেহরীন তার পিছে নাকমুখ কুচকে ভেংচি মারে। ভিতরে কিছুটা রাগ উথ্থিত হয়, একটা দিন সে না গেলে কি এমন হবে।
তবে পরমুহূর্তেই মাথায় খেয়াল আসে, আজ তো সে তালহার সাথে একা যাবে। দুজনে একা থাকবে গাড়িতে। ভাবনাতেই মন যেন নেচে ওঠে, ঠোঁটে অপ্রকাশিত হাসি ফুটে ওঠে। সব রাগ যেনো পানি হয়ে গেছে। না না এই চান্স মিস করা যাবেনা। দ্রুত নিজেকে রেডি করতে বসে।
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে তাহিয়ার ডার্ক রেড লিপস্টিক হাতে, মেহরীন দ্বিধায় পড়ে যায়। ভাবছে, দিবে কি দিবেনা? সাজলে যদি তালহা কিছু মনে করে, যদি বুঝে ফেলে তাকে দেখাতেই সেজেছে? আবার মনে আসে, যদি সাজে, তাকে দেখতে ভালো লাগে, তাহলে তো তালহা তাকাবে। এই উনিশ-বিশ চিন্তায় ভেসে, শেষে হালকা করে লিপস্টিক ঠোঁটে লাগাল। চোখে কাজল, মুখে হালকা পাউডার, এভাবেই তার সাজগোজ শেষ হলো।
সবশেষে আয়নায় নিজেকে ভালোভাবে দেখতেই মেহরীন অবাক হয়। সাজলেই কি মানুষ পরিবর্তিত হয়? এই সাদামাটা ফ্যাকাসে মুখটা হঠাৎ উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। লজ্জাও পাচ্ছে, কেউ দেখে ফেললে? জিজ্ঞেস যদি করে কেনো সেজেছো? বেশি সাজলো নাকি? তালহা কি ভাববে? খারাপ দেখাচ্ছে কি? এইসব নানান প্রশ্ন চিন্তা মাথায় ঘুরতে ঘুরতে সে ব্যাগ কাঁধে নিয়ে নিচে নামল।
নিচে নামতেই দেখল, তালহা সোফায় বসে ফোনে ব্যস্ত। তা দেখে ধীর গলায় ডাকল,
–আমার শেষ চলুন…
মেহরীনের গলায় মাথা তুলে তাকায় তালহা। মাথা তুলতেই চুপসে যায় সে। কয়েক পলক মেহরীনের দিকে তাকিয়ে রইল। মেহরীনও তাকিয়ে আছে, চোখে কৌতূহল আর সামান্য আশাবাদ। তালহার চোখে চোখ রেখে চেষ্টা করছে কিছু খুজার। যেন বোঝার চেষ্টা করছে, তার চোখে সে কেমন দেখাচ্ছে। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই তালহা চোখ সরিয়ে বাইরের দিকে যেতে লাগে।
মেহরীন ফ্যালফ্যাল চোখে তাকিয়ে সেদিকে, মনে মনে হতাশার ঢেউ অনুভব করল। প্রশ্ন ঘুরে বেড়াচ্ছে মাথায়,
–যাহ বাবা, মুখের উপর এভাবে চলে গেলো কেনো? আমাকে কি সুন্দর লাগছে না? লাগলে তো তাকাতো অবশ্যই। মুখ ধুয়ে আসবো নাকি। কিন্তু লেটও হয়ে যাবে।
ভাবতে ভাবতেই মনটা খারাপ হয়ে যায় মেহরীনের। ভারী নিঃশ্বাস ফেলে সেও বেরিয়ে আসে বাইরে। তালহা গাড়ি বের করেছে, সে চুপচাপ গিয়ে সামনের সিটে বসে পড়ল, মনটা এখনও কিছুটা ভার। ঠিক তখনই পেছন থেকে ভেসে আসে আরেকটা পরিচিত গলা, তাহসান।
সে এগিয়ে এসে সামনের দরজা খুলে ঢুকতে যাবে, কিন্তু সঙ্গে সঙ্গেই থমকে যায়। মেহরীনের দিকে চোখ পড়তেই তার মুখে একরকম বিস্ময়ের ছাপ ভেসে উঠে। চোখে অবাকতার সাথে মুগ্ধতাও যেনো ধরা দিয়েছে। মেয়েটা আজ যেন অন্য কেউ। চোখে হালকা কাজল, ঠোঁটে গাঢ় লাল আভা, মুখে একটা অচেনা কোমলতা, একেবারে অন্যরকম সুন্দর লাগছে তাকে।
তাহসান বেশ কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে মুগ্ধ নয়নে, হয়তো নিজের অজান্তেই চোখ ফেরাতে পারছে না। এদিকে তালহা আর মেহরীন দুজনেই একসাথে তাকিয়ে তার দিকে। তালহা তার সেই দৃষ্টিটা লক্ষ্য করতেই কণ্ঠটা খানিক গম্ভীর হয়ে ওঠে,
–তুই এখানে?
তাহসানের ধ্যানভাঙে, একবার তালহার দিকে তাকায়। নিজেকে স্বাভাবিক করে মেহরীনের চোখে চোখ রেখে হালকা হাসি ছুঁড়ে দিয়ে বলল,
–তোমাকে আজ ভীষণ সুন্দর লাগছে মেহরীন।
উক্ত কথায় মেহরীন কিছুটা ইতস্তত বোধ করল। মুহূর্তের জন্য নিজের ঠোঁটে জোর করে একটুখানি হাসি টেনে এনে বলল,
–ধন্যবাদ ভাইয়া…
বলেই একবার চোখ ঘুরিয়ে তাকাল তালহার দিকে। কিন্তু তার মুখে কোনো ভাবের প্রকাশ নেই, না বিস্ময়, না প্রশংসা, না কোনো প্রতিক্রিয়া। একেবারে নির্বিকার। সেই চেনা গম্ভীর মুখটা যেন আগের মতোই অনড়।
মেহরীনের বুকটা আরও ভার হয়ে ওঠে। মনে মনে আফসোসের সুর ভেসে উঠল,
–যার কাছ থেকে শুনতে চেয়েছিলাম, সে ঠিকমতো তাকালোই না… আর বাকিদের কাছে সুন্দর লাগা..হাহ কপাল।
এরমধ্যে তাহসান বলল,
–তুমি পেছনের সিটে যাও…
তা শুনে মেহরীন ফুস করে শ্বাস ছেড়ে, মাথা ঝাঁকিয়ে নামতে যায়। ঠিক তখনই পেছন থেকে হঠাৎ হাতে টান অনুভব হওয়ায় থেমে যায়। চমকে উঠে দ্রুত পেছন ফিরে তাকায়, তালহা তার হাত ধরে আছে। মুহূর্তে মেহরীনের চোখ বিস্ফোরিত হয়, নিঃশ্বাস যেন আটকে আসছে। অবাক হয়ে বেশ কয়েক পলক তাকিয়ে থাকে তালহার মুখের দিকে। শরীর কেমন শিউরে উঠছে। তালহার সেই দৃঢ় স্পর্শে যেন শরীর জুড়ে ঠান্ডা এক অন্যরকম স্রোত বয়ে যাচ্ছে। তার তালুর উষ্ণতা বুক কাঁপিয়ে তুলছে।
তালহা তার হাত না ছেড়ে, চোখ সরাসরি তাহসানের দিকে রাখে,
–কেন ও সামনে বসে পড়েছে, তুই পেছনে বস। আবার উঠে গিয়ে পেছনে কেন বসতে হবে তাকে?
তাহসানের দৃষ্টি চলে যায় মেহরীনের হাতে, যেটা এখন তালহার হাতে বন্দি। মুহুর্তেই চোখমুখ কঠিন হয়ে উঠল। দাঁত চেপে তাকিয়ে আছে, চোখে আগুন, চোয়াল শক্ত। ভেতরে ভেতরে রাগে ফুসে উঠছে, কিন্তু মুখে কোনো কথা বেরোচ্ছে না। কি বা বের হবে কিছু বলতেও পারছে না, অধিকার নেই যে। হালকা জুড়েই দরজাটা লাগিয়ে গটগট পায়ে পেছনের সিটে গিয়ে বসে। তালহা তখনও হাত ছাড়েনি। তা দেখে গলা খাকারি দিয়ে উঠল তাহসান,
–গাড়ি স্টার্ট দে, ক্লাসের টাইম হয়ে যাবে।
তালহা হাত ছেড়ে গাড়ি স্টার্ট দেয়। বর্তমানে গাড়ির মধ্যে অদ্ভুত এক নীরবতা, কেবল ইঞ্জিনের গর্জন আর হালকা বাতাসের শব্দ। মুহূর্তটা থমথমে। একপাশে তালহার শান্তভঙ্গি, অন্যপাশে তাহসানের রাগ, তাদের বিপরীতে মেহরীনের হৃদয়ের দ্রুত স্পন্দন। তার কাছে বিষয়টা অন্য প্রবাহেই প্রবাহিত হচ্ছে। প্রায় পনেরো মিনিটের মাথায় তারা কলেজের সামনে পৌঁছে যায়।
এই সময়ের মধ্যে, সামনের লুকিং গ্লাসে যে কতবার মেহরীনের মুখের দিকে তাকিয়েছে তাহসান, তার হিসাব নিজেও জানেনা। আর এসব তালহার তীক্ষ্ণ নজর এড়ায়নি। একেকবার মিররে তাকানোর সঙ্গে সঙ্গে তার চোয়াল শক্ত হয়ে উঠছিল।
গাড়ি থামতেই তাহসান নেমে পড়ে। মেহরীনের জন্য দরজা খুলতে গিয়েও থেমে যায়, কারণ তালহার গলা ভেসে আসে,
–তুই আগে যা, ও পড়ে আসবে। একসাথে দেখলে কানাঘুষা হবে।
তাহসান থেমে যায়, বিরক্তিতে ঠোঁট চেপে ধরে। ইচ্ছে না থাকা সত্ত্বেও গটগট করে হেঁটে চলে যায়। মেহরীনও তখন দরজা খুলে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ তালহার অনুভূতিহীন কণ্ঠের প্রশ্নে থেমে যায়,
–সেজেছো কেনো?
প্রশ্নটা এত হঠাৎ এসেছে যে মেহরীন কিছুক্ষণ নির্বাক হয়ে থাকে। সঙ্গে সঙ্গেই মনে বারি খায় তালহা কি তবে লক্ষ্য করেছে সে সেজেছে। আস্তে করে মাথা ঘুরিয়ে তাকায় মিনমিনিয়ে বলল,
–এ…এমনি।
তালহা তার মুখের দিকে একবার তাকায়, চোখের গভীরে একরাশ রাগ আর চাপা বিরক্তি। পকেট থেকে টিস্যু বের করে তার দিকে এগিয়ে এলো। তালহাকে এমনভাবে আসতে দেখে মেহরীন কেঁপে ওঠে, একটু পিছিয়ে যেতে নেয়। কিশোরী মনে এইটুকুতেই পরের মুহূর্তে কি হবে তা নিয়ে নানান রঙিন ভাবনা ভেবে নেয়।
তাকে পিছাতে দেখে, এক হাতে তালহা তার মাথার পেছনটা ধরে নিজের দিকে এগিয়ে আনে। এতে যেন মেহরীনের হৃদস্পন্দন আরও শতগুণ বেড়ে যায়। কি করতে চাচ্ছে বুঝে উঠার আগেই অন্য হাতের টিস্যু দিয়ে মেহরীনের ঠোঁট মুছতে শুরু করে। মেহরীন অবাক হয়ে যায়, চোখে একরাশ বিস্ময়ভরা প্রশ্ন। তালহা তার লিপস্টিক মুছে ফেলছে কেনো। তাকে কি বাজে দেখাচ্ছে তাই?
প্রশ্নাত্মক চোখে তার দিকে তাকিয়ে আছে মেহরীন। তালহার চোয়াল শক্ত, কপালের রগ ফুলে আছে, চোখে স্পষ্ট রাগের ছায়া। কিন্তু রেগে আছে কেনো বুঝে উঠছে না। ঠোঁটের কোণে কোনো শব্দ নেই, কিন্তু টিস্যুর ঘষায় যেন সব রাগ ঝারছে। মেহরীন চোখ নামিয়ে নেয়। তার ঠোঁটে থাকা লিপস্টিকের সঙ্গে যেনো মুছে যাচ্ছে সকালবেলার হাসি, উচ্ছ্বাস, আর ছোট্ট আত্মবিশ্বাসের ঝিলিকটুকুও। কিছুক্ষণের মধ্যেই উড়াউড়ি মনটা যেনো ঝড় থেমে যাওয়া সমুদ্রের মতো নিস্তব্ধ হয়ে পড়ে।
তালহা তার ঠোঁট মুছে দিয়ে পেছনে সরে আসে। নিজের টাই টেনে ঢিলা করে দীর্ঘশ্বাস ফেলে, কাঠ-কাঠ গলায় বলে ওঠে,
–সাজলে তোমায় বিচ্ছিরি লাগে। আর যেনো মুখে এসব রঙ-টঙ না দেখি।
কথাগুলো যেনো মেহরীনের বুকের ভেতর তীরের মতো বিঁধে যায়। অবিশ্বাসে তার চোখ বড় হয়ে যায়, তালহা তাকে এভাবে বলছে? যে মানুষটাকে নিয়ে মনের অজান্তে টান অনুভব করে, যাকে দেখাতেই সে সাজলো, সে-ই এমন তুচ্ছভাবে কথা বলছে। অপমানে মাথা নুইয়ে নেয়। চোখের কোণে জল টলমল করছে। আশাভরা ছোট্ট মনটা যেনো কেউ কাঁচের মতো ভেঙে ছুড়ে ফেলেছে মাটিতে।
তালহা মেহরীনের দিকে একবারও না তাকিয়ে চোখ বন্ধ করে গভীর নিশ্বাস নেয়।
–যাও, ক্লাস স্টার্ট হয়ে যাবে।
শোনামাত্রই মেহরীন কিছু না বলে গাড়ি থেকে নেমে হনহনিয়ে চলে যায়। পেছনে ফিরে তাকায় না, হয়তো অভিমানে, হয়তো অপমানে। তার হাঁটার শব্দ ধীরে ধীরে মিলিয়ে যায়, রেখে যায় নিস্তব্ধতার এক ভারী প্রতিধ্বনি। তালহা কিছুক্ষণ স্থির বসে থাকে। তার কিছুক্ষন পর নিজের চুল শক্ত হাতে টেনে ধরে, চোখ বন্ধ করে ফিসফিসিয়ে ওঠে,
প্রেমসন্ধিক্ষন পর্ব ১৩
–উফফ ইয়ার তালহা! কি করেছিস তুই? হোয়াটস দিজ! সুন্দরভাবেও বলা যেত।
তার কণ্ঠে অনুতাপের ঝড়। যেনো নিজের বলা কথা বুঝতে পেরে আফসোস করছে। রাগে স্টিয়ারিংটায় ঘুষি মেরে বসে,
–তালহা কন্ট্রোল ইউর সেল্ফ…..
