Home প্রেমসুধা সিজন ২ প্রেমসুধা সিজন ২ পর্ব ৯০ (২)

প্রেমসুধা সিজন ২ পর্ব ৯০ (২)

প্রেমসুধা সিজন ২ পর্ব ৯০ (২)
সাইয়্যারা খান

“শ্রেয়ু? শ্রেয়ু?”
উপর থেকে ডাকছে হেমন্ত। শ্রেয়া রান্নাঘরে এসেছে কিছুক্ষণ আগে। ছেলের জন্য খিচুড়ি করছিলো একটু। বাসার কাজ তাকে ততটা করতে হয় না। এত বড় সংসার শ্রেয়া একাহাতে পারবেও না। শাশুড়ী তার খুবই চমৎকার, সে শ্রেয়াকে পারলে পানিটা পর্যন্ত ঢেলে দিবে। মানুষ এমনই হয়। হিংসা জিনিসটা বড্ড খারাপ। লোভ তার চাইতেও নোংরা বিষয়। যেই জোছনা বেগম পরের মেয়ে শ্রেয়াকে এত আদর, যত্নে রাখেন সেই একই জোছনা বেগম আপন জায়ের মেয়েকে দু’চোখে দেখতে পারতেন না। সেঝ চাচির ঘটনা নাহয় অযৌক্তিক হলেও মানা যায়। তার ছোট বোন আত্নহত্যা করেছিলো প্রলয় হককে ভালোবেসে। সেই শাস্তি তিনি প্রলয় হকের নিষ্পাপ মেয়েকে দিয়েছেন। উপরওয়ালার রহমত শেষ ষড়যন্ত্রটা পৌষের হকে ভালো ছিলো। তৌসিফ তালুকদার নিতান্তই পৌষের জন্য এক রহমত।

হেমন্তের সাথে তার মা-বাবার সম্পর্কের উন্নতি হয় নি। বিগত আড়াই বছরে সে সরাসরি মায়ের সাথে কথাও বলি নি। হেমন্ত মানুষটা খুবই নরম গড়নের। নরম মানুষ গুলো কষ্ট পেলে বোধহয় বেশিই কঠিন হয়ে যায়। পৌষের বিয়ের দিন সে তার মাকে বলেছিলো যেহেতু তাকে তার বাচ্চা থেকে দূর করা হয়েছে সেহেতু সেও তার মাকে তার সন্তান থেকে দূরে রাখবে। হেমন্ত ঐ বাক্যে আজও অটল হয়ে আছে। শ্রেয়া যেন এখনও বুঝে উঠতে অক্ষম কেন পৌষের প্রতি এতটা অবিচার। পরের মেয়ে তো শ্রেয়া নিজেও। হয়তো হেমন্তের প্রতি ভালোবাসা তার মাকে বাধ্য করে শ্রেয়াকে ভালোবাসতে।
খিচুড়ি বাটিতে ঢেলে শ্রেয়া উঁকি দিলো বাইরে। হেমন্ত আবারও ডাকছে। শ্রেয়া নিচ থেকেই উত্তর দিলো,
“আসছি।”
“শ্রেয়ার কাঁদছে। থামছেই না।”
“এই তো। আসছি।”
শ্রেয়া সিঁড়ি বেয়ে উঠবে তখনই দেখলো মুখটা নরম করে দুটো ছানা সিঁড়িতে বসে আছে। তাদের স্কুলে ভর্তি করানো হয়েছে। সকাল সকাল এখানে বসে থাকার তো কথা না৷ শ্রেয়া দু’জনের সামনে এসে দাঁড়াতেই দুই বোন মুখ তুললো। ভাবীর দিকে তাকিয়ে রইলো অপলক। শ্রেয়ার বুকটা ছলকে ওঠে তখনই। ওদের কি হলো হঠাৎ? প্রশ্নটা করেও ফেললো,

“কি হয়েছে সোনা? এখানে বসে আছো যে?”
“ইসকুলে দাব না।”
“সে কি কথা? ছোট চাচি বকবে তো।”
নাক টানলো দু’বোন। ভাবীকে আর বললো না কেন মনটা খারাপ। শ্রেয়ার খুব মায়া হলো। হাতে বাটি থাকায় ওদের ধরতে পারলো না৷ মুখেই বললো,
“দেখি, এসো। ভাবীর সাথে চলো। তোমাদের হেমু ভাই উপরে তো।”
ইনি, মিনি উঠে দাঁড়ালো। শ্রেয়ার পিছু পিছু ছুটলো হেমন্তের কাছে।
হেমন্ত রুমেই ছিলো। শ্রেয়া নিচে নামার পরপরই শ্রেয়ান একদম মেখেঝুকে ফেলেছে নিজেকে। হেমন্ত তাড়াতাড়ি ছেলেকে ধরে পরিষ্কার করেছে। নতুন প্যান্ট পরিয়ে বাবুসাহেব বানিয়ে রেখেছে। লাভ হয় নি তাতে। গলা তুলে সে কি কান্না জনাবের। হেমন্ত বুঝেছিলো ক্ষুধা লেগেছে। শ্রেয়াকে দেখেই হেমন্ত ক্ষুদ্র শ্বাস ত্যাগ করলো। শ্রেয়ান মাকে দেখে খুশি হলো খুব। হাত বাড়িয়ে বাবার কোল থেকে ডেকে উঠলো,

“মা! মা!”
“হ্যাঁ, বাবা৷ এই তো।”
ঠোঁট দুটো উঁচু করে দুই হাতে পেট দেখালো। শ্রেয়া হেসে ফেললো তাতে। খিচুড়ি নেড়ে নেড়ে সাইডে রেখে কোলে তুললো ছেলেকে। গালে চুমু খেয়ে বললো,
“একটু ঠান্ডা হোক।”
দরজায় দাঁড়ানো দুই বোনকে দেখে হেমন্ত ডাকলো,
“স্কুলে যাস নি?”
উত্তর আসে না। মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে দু’জন৷ হেমন্ত উঠে গেলো ওদের কাছে। দু’জনের হাত ধরে টানতেই তারা এলো। খুব বাধ্যগত কিনা। ওদের নিজের কাছে বসিয়ে এলোমেলো চুল গুলোয় হাত বুলালো হেমন্ত। ওমনিই খই ফুটলো মুখে।
“হেমু ভাই।”
“হ্যাঁ, ভাই শুনছি তো।”
“মা মেরেছে।”

হেমন্তের কপাল কুঁচকে গেলো। ছোট চাচি সকাল সকাল দুটোকে মা’রলো কেন আবার? জিজ্ঞেস করতেই দুই বোন ঠোঁট ফুলিয়ে কেঁদে ফেললো। এই জিনিসটা হেমন্ত সহ্য করতে পারে না। দুই বোনকে টেনে নিজের আরো কাছে নিলো। তার দুই বাহুতে ইনি, মিনি৷ কাঁদতে কাঁদতে জানালো ভাইকে কেন মা মেরেছে সকাল সকাল।
“বিছানা নসতো করে ফেলেছি। মা কয়েছে সব ধুয়ে দিতে। আমি তো মুতু করি নি হেমু ভাই। স্বপ্নে দেখি বাবা বাথরুমে নিয়ে গেলো। অ্যাঁ অ্যাঁ অ্যাঁ….”
বর্ণনা এতটুকুই অতঃপর পৌষের হাতে পালিত তার অতি আদুরে দুই বোনের কান্নাই শোনা গেলো। আগেও তারা বিছানা ভেজাতো। আপার বুকের উপর শুয়ে আপাকেই ভিজিয়ে দিতো। তাদের আপা তো কোনদিন বকতো না৷ সকাল সকাল তাদের ধুয়েমুছে দিতো। কাপড় ধুয়ে দিতো। মা মাঝেমধ্যে বকে, মাঝেমধ্যে মাইরও দেয়। আজ পৌষের আদরের দুই বোনকে ছোট চাচি বেশিই মাইর দিয়েছে।

“দেখুন তো একটু?”
তৌসিফ ঘামছে খুব৷ জগিংটা তার মিস দেওয়া মানা৷ দৌড়ে এসে বসেছে মাত্রই। মুখের সামনে চামচ ধরেছে পৌষ। এক হাত কোমড়ে। তৌসিফ উপরের ঠোঁট কামড়ে তাকিয়ে আছে পৌষের স্ফীত হওয়া উদরে। তৌসিফের একদম গোনা আছে। আজ কাটায় কাটায় ছয়মাস। পেটটা খুব বড় দেখায় আজ-কাল। সাধারণ থেকে অতিমাত্রায় বড়। চোখে লাগার মতো বড়। তৌসিফকে এভাবে পেটের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে পৌষ ওর চোয়াল চেপে ধরলো। গোল হওয়া মুখের ভেতর চামচ দিয়ে ঝোল দিয়ে জিজ্ঞেস করলো,
“লবন ঠিক আছে না?”
তৌসিফ হকচকিয়ে একটু কাশলো। বললো,
“ঠিক আছে।”

পৌষ ধীরে ধীরে আবার রান্না ঘরে চলে গেলো। তৌসিফ তাকিয়ে রইলো ওর পানে। আজ পৌষের পরীক্ষা শেষ হবে। ওর অনার্স শেষ হলে তৌসিফ নিজেই যেন বাঁচে। মেয়েটাকে বাইরে বের হতে দিতেও আত্মা কাঁপে। শরীরে যেন কিছুই নেই তার। প্রথম দিকে স্বাস্থ্যের একটু উন্নতি হলেও এখন যেন অবনতির পথে। পেটটা বড্ড বেমানান লাগে আজ-কাল। তৌসিফের চিন্তা শুধু বাড়তেই আছে। ডক্টরকে দিনে কয়বার ফোন লাগায় তা যেন গুনেও দেখে না। দেখলে অন্তত চক্ষুলজ্জায় কল কমাতো। এই যে রান্না করছে, এটাও অনুমতি সাপেক্ষেই। পৌষের খুব পছন্দ রান্নাবান্না করা। একা কি তৌসিফ খেতে পছন্দ করে? তুহিন আসে তো। এসেই ইদানীং প্রচুর জ্বালাচ্ছে সে। তৌসিফ থেকে দুই কাঠি উপরে চলে। এই তো এলো বলে সে। গতরাতেই শুনেছে আজ নেহারী হবে। চুলার আচ আরেকটু কমিয়ে দিলো পৌষ। বেরিয়ে আসতে আসতে বুয়াকে বললো,

“খালা রুটি সেঁকে নিতে পারবেন?”
“পারব তো মামি। চায়ের পানি বসিয়ে দেই?”
“দিন তাহলে। বলক উঠতে থাকুক। চাপাতা দিয়েন না। আমি দিব।”
“ঠিক আছে মামি।”
বুয়া চা রান্না করলেই পানি ফুটতে ফুটতে চা পাতা দিয়ে দেন। চায়ের স্বাদ নষ্ট হয় তাতে। পৌষ পেটের নিচে হাত চেপে ধীরে ধীরে বেরিয়ে এলো। এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখলো তৌসিফ নেই। শরীরটা নড়াতে ঝামেলা হচ্ছে আজ-কাল। পেটের ভারটা বাড়ছে দিন কে দিন। তৌসিফকে খুঁজতেই পৌষ রুমে এলো। বাথরুম থেকে ঝপাঝপ শব্দ আসছে। গোসল করছে নিশ্চিত। দরজায় ঠকঠক করে পৌষ ডাকলো,
“শুনছেন?”
উত্তর না দিয়ে খট করে দরজা খুললো তৌসিফ। পৌষ খানিকটা চমকালেও হাসলো। বললো,
“আরে খুলতে বলি নি তো। গোসল কতদূর দেখতে এলাম।”
“বমি করবে?”

কপাল কুঁচকে তাকালো তৌসিফ। পৌষ মাথা নাড়লো৷ করবে না ও। তৌসিফ ওর হাত ধরে ভেতরে আনলো। গলা ভিজে উঠেছে ঘামে। নিজের ভেজা হাত দিয়ে গলাটা ছুঁয়ে দিতেই ঠান্ডা ঠান্ডা অনুভূতি হলো পৌষের। খুব নরম হাতে মুছে দিলো ঘাড় গলা। পৌষের শান্তি লাগলো একটু। তৌসিফের ভেজা উন্মুক্ত বুকে হাত রেখে বললো,
“মনটা খারাপ আপনার?”
“তুমি বুঝো না?”
“বুঝব না কেন? এই যে, সুন্দর চোখ দুটিতে চিন্তায় ভাজ পড়েছে।”
তৌসিফ আলতো হাতে পৌষকে নিজের কাছে টানলো। টু শব্দ করলো না পৌষ। খুব শান্ত ভাবে তৌসিফের সাথে লেপ্টে গেলো। তৌসিফের বুকে গাল ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে রইলো। মাথায় হাত বুলাচ্ছে তৌসিফ। পৌষ ওর ভেজা পিঠে হাত বুলাতে বুলাতে বললো,
“আর মানুষ মা হয় না? এত চিন্তা কেন করা হচ্ছে? পা’গল হয়ে যাবেন তো।”
“পেটটা এত বড় দেখাচ্ছে পৌষরাত। আজ আলট্রা হবে।”
“বড় হচ্ছে কারণ আপনার কুটু পাখি খুব খাওয়া দাওয়া করছে।”
“তাই যেন হয়।”
“আপনি অতিরিক্ত ভাবেন তুসু ভাই।”

মুখে চ্যাহ্ শব্দ করলো তৌসিফ। পৌষের মাথায় চলন্ত হাতটা থামলো। মুখটা তুলে ঠোঁট ছোঁয়ালো কপালে। থুতনি ধরে বললো,
“আরেকবার ডাকলে খুব খারাপ হবে।”
“কচু হবে।”
পৌষ ওকে ছেড়ে বেরিয়ে যেতে যেতে বললো,
“ধুর ছাই! ভিজে গেলাম।”
“হানি, আস্তে।”
“দুই কদমে পড়ে যাব না।”
“তবুও সাবধানে।”
পৌষ পরণে থাকা পোশাক খুলে নতুন ফ্রক পরলো। ইদানীং পৌষের নতুন রোগ হয়েছে। রোগের নাম তৌসিফ রোগ। এই যে, হুটহাট খিটখিটে লাগে। আশেপাশে ময়লা ময়লা লাগে। দিনে কয়েকবার পোশাক বদলানো লাগে। আগে এমন হতো না। এখন যেন সমস্যা খুব বাড়ছে। পৌষ হাতে থাকা পোশাকটা বিনে রাখতে রাখতে পেটে হাত দিয়ে বললো,
“কুটুস! নিশ্চিত তুমি এমন করো। বাপের মতো হয়েছো? এত বারবার পোশাক কেন বদলাবো আমি? আমি কি তোমার বাবার মতো পিসপিসা? মোটেও না। এমন খুঁতখুঁত তো আমার কোন কালেও ছিলো না। তুমি এমন করো তাই না? মা কিন্তু রেগে যাচ্ছি।”

“মা রেগে গেলে কুটুসের বাবা রাগ ভাঙিয়ে দিবে।”
পৌষ পিছু ঘুরলো। তৌসিফকে দেখে রেগে গেলো হঠাৎ,
“এখন মুখে *গোবর মাখতে হলো কেন? ঠান্ডা হবে না রুটি? খালাকে বানাতে বলে এলাম।”
তৌসিফ একটু কষ্ট পেলো। তার বউ তার দামী কোলাজেন মাক্সকে *গোবর বলেছে। কোলাজেন না লাগালে তৌসিফের মুখে তো ফাইন লাইন চলে আসবে তখন কি হবে? গলা খ্যাঁকানি দিলো তৌসিফ। বললো,
“বেশিক্ষণ লাগবে না হানি৷”
“অসহ্য!”
বেরিয়ে যেতেই নিয়েছিলো পৌষ ওমনই পেছন থেকে তৌসিফ আঁকড়ে ধরলো। পেটের তলায় হাত দিয়ে বললো,
“আস্তেধীরে চলা যায় না? আমার চিন্তা হয় তো।”
“আর কত আস্তেধীরে চলব?”
“জমিনটা আমার বুক হলে যতটা আস্তেধীরে চলতে ঠিক ততটা আস্তেধীরে।”
পৌষ উষ্ণ শ্বাস ছাড়লো। তৌসিফের হাতের উপর নিজের হাত রেখে বললো,
“কবে আসবে এই কুটু পাখি?”
“আর কিছু মাস।”

“কই রে! পৌষ, কুটনি ফুপাতো বোন আমার। বিড়ালের মতো কোথায় ঘুমালে? আজ না নেহারি হবে? ঘ্রাণ পাচ্ছি অথচ বেড়ে দিচ্ছে না কেউ?”
হাঁক-ডাক শুরু হয়েছে। পৌষ তৌসিফের থেকে নিজেকে ছাড়ালো। পিছু ঘুরে হঠাৎ করে টান দিয়ে তৌসিফের শিট মাস্কটা খুলে দিয়ে পালিয়ে গেলো। তৌসিফ হতভম্ব হলো। সামান্য চেঁচালো,
“পাঁচ মিনিটও হয় নি পৌষরাত। খুলে দিলে? আবার লাগাতে হবে।”
তুহিন ডিম, দুধ নিয়ে এসেছে। খাঁটি বাদে পৌষকে কিছু খেতে দিচ্ছে না ও। টেবিল ভর্তি এগুলো দেখে পৌষ হতাশ হলো। বললো,

“আমি কি রাক্ষস? এত কে খাবে?”
“রোজ ছয়টা ডিম খাবে।”
“খেয়ে অক্কা পাই নাকি?”
“অ্যাঁই, তুমি বাকি আদিত্যকে দাওয়াত দিয়েছো?”
পৌষ বসলো। হঠাৎ মাথাটা চক্কর দিয়েছে। তুহিনের দিকে তাকিয়ে বললো,
“দাওয়াতের কি হলো? সকালে একসাথে খেতে বলেছি।”
“আমাকে তো বলো না?”
“হিংসে হচ্ছে নাকি?”
“আমার ভাইয়ের ফ্ল্যাট। হিংসে হবে কেন?”
“সেটাই তো। আদি কোথায়?”
“আসছে বোধহয়।”

ওদের কথার মাঝে আদিত্য আর অদিতি এসেছে। আজ পৌষের পরীক্ষা। একা ছাড়া তো দূর৷ আদিত্য সহ তৌসিফ, তুহিন সাথে যাবে। ওখান থেকে হেমন্ত আসে। মাঝেমধ্যে চৈত্র আর জৈষ্ঠ্য যায়। পৌষের মাঝেমধ্যে লজ্জা লাগে। এরা সবাই পা’গল হয়ে গিয়েছে।
“পুষি, খেতে দাও তাড়াতাড়ি। খুব ক্ষুধা লেগেছে।”
“ঘ্রাণ আসছে কত সুন্দর মেঝ চাচি৷ আমার তো ক্ষুধা বেড়ে গিয়েছে।”
“এই তো…”
উঠতে গিয়ে আবারও বসে পড়লো পৌষ। শ্বাস টানলো একটু। তৌসিফ এসে ধরেছে। বাকিরা কথাবার্তা বলছিলো বিধায় খেয়াল করে নি। তৌসিফ চোখ পাকালো৷ নাকের পাটা ফুলে উঠেছে তার। পৌষ হাসতে চাইলো। বললো,

“আরে…”
“চুপ!”
“শুনুন…”
“একদম চুপ পৌষরাত!”
তৌসিফ রেগে গিয়েছে। আস্তে করে পৌষকে ধরে চেয়ারে বসালো ও। জোরে ডেকে বুয়াকে বললো,
“বুয়া নাস্তা দাও।”
একে একে নাস্তা এনে রাখা হলো টেবিলে। পৌষের জন্য নিজ তদারকিতে ডিম সেদ্ধ আনালো তুহিন। পৌষ বারবার না করলো। আজ ডিম খেতে একদমই মন টানছে না৷ তৌসিফ আদিত্যের দিকে তাকিয়ে বললো,

প্রেমসুধা সিজন ২ পর্ব ৯০

“পরীক্ষা একটায় তো, এগারোটায় বের হব।”
“ঠিক আছে চাচ্চু।”
টুকটাক কথার মাঝে খাওয়া শেষ হয়েছে। অদিতি স্কুলের উদ্দেশ্য আর আদিত্য বেরিয়েছে নিজের গোছগাছ করতে। তারও পরীক্ষা। তুহিন তৈরী হতে নিজের ফ্ল্যাটে গিয়েছে। সেও যাচ্ছে পৌষের সাথে। ওখান থেকে যাবে হসপিটালে। আলট্রা হবে আজ পৌষের।

প্রেমসুধা সিজন ২ পর্ব ৯১