Home ফিরে এসো অনুরাগে ফিরে এসো অনুরাগে পর্ব ১০

ফিরে এসো অনুরাগে পর্ব ১০

ফিরে এসো অনুরাগে পর্ব ১০
নওরিন কবির তিশা

আলোকোজ্জ্বল প্রভাত। দ্যুলোকে বিদ্যমান সূর্য্যমনির উদীয়মান রশ্মি বৃষ্টিস্নাত ভেজাব ধরিত্রীকে উত্তপ্ত করার প্রচেষ্টায় মগ্ন। প্রভাতের সূচনা হয়েছে এক মিষ্টি খুনসুটি দিয়ে।তৃষা ডাইনিং টেবিলের টুইংকেলকে খাওয়াতে ব্যস্ত। এক প্রকার তৈরি হয়েই বসে আছে সে। টুইংকেলকে খাওয়ানো সম্পন্ন হলেই রওনা দিবে কলেজের উদ্দেশ্যে।
প্রতি লোকমা মুখে দিতেই টুইংকেল জুড়ে দিচ্ছে গল্পের পসরা। কখনো বলছে বানি আমাকে এখানে নিয়ে যাবে তো কখনো বলছে বানি আমাকে এটা কিনে দিবে? টুইংকালের আবদারের ঝুলি যেন শেষ হওয়ার নামই নিচ্ছে না।শেষ চামচটা তার মুখে পুরা দিয়েই তৃষা স্নিগ্ধ হেসে টুইংকেল এর তুলতুলের চোয়ালে হাত বুলিয়ে চুমু দিয়ে বলল,,

—‘ওক্কে সুইটহার্ট।সব হবে।আগে বানি কলেজ থেকে আসি তারপর…
টুইংকেল একগাল হেঁসে বলল,,—‘আচ্ছা বানি।
তৃষা এবার পাশ থেকে নিজের নখ খাতাটা হাতে তুলে বেরোবার প্রস্তুতি নিতেই করিডোর থেকে ভেসে আসলো আর্যর গভীর কণ্ঠস্বর,,
—‘আজ কলেজে যাওয়ার দরকার নেই। টুইংকেল আর আপনি দুজনেই তৈরি হয়ে নিন, আমরা একটু পর বেরোচ্ছি।
তৃষা অবাক হয়ে তাকালো। কৌতুহল দমাতে না পেরে প্রশ্ন করে বসলো,,—‘বেরোচ্ছি মানে কোথায় যাচ্ছি?
আর্য পূর্বের ন্যায় পকেটে হাত খুঁজে গম্ভীর পদচারনায় এসে দাঁড়ালো তৃষার সম্মুখে। কাল রাতে হামিদা বেগমের কাছে এক ঝুড়ি বকা শুনেছে সে। কারণ ছিল একটাই তৃষা কে নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার তো দূর তৃষাকে এখনো একটা জামা কাপড়ও কিনে দেয়নি সে। তবে ছোট চাচির বকা নয় বরং এক অজানা অনুশোচনা থেকেই আজকে কেনাকাটা করতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আর্য।
তবে ‌আর্যর জবাব দেওয়ার আগেই পাশে থাকা টুইংকেল সোফায় এক ঝাপ দিয়ে চিৎকার করে উঠল। খুশিতে ডগমগ হয়ে সে তৃষার হাত জড়িয়ে ধরে বলল,

—‘বানি বানি! আমরা আবার ঘুরতে যাব! তুমি, আমি আর পাপা… আমরা তিনজন মিলে অনেক মজা করব। তুমি যাবে না আমাদের সাথে?
টুইংকেল-এর ওই উজ্জ্বল চোখের দিকে তাকিয়ে তৃষার মনের সব দ্বিধা যেন কর্পূরের মতো উড়ে গেল। সে একবার আর্যর দিকে তাকাল, যে এখনো পকেটে হাত দিয়ে পাথরের মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে আছে। তৃষা মৃদু হেসে টুইংকেলকে কাছে টেনে বলল,
—‘পাপা যখন বলছে, তখন তো যেতেই হয়। ঠিক আছে, আমরা যাচ্ছি।
টুইংকেল খুশিতে তালি বাজিয়ে সারা ঘর দৌড়াতে শুরু করল। আর্য শুধু সংক্ষেপে বলল,,
—‘দশ মিনিটের মধ্যে তৈরি হয়ে নিচে আসুন। আমি গাড়িতে অপেক্ষা করছি।

তৃষা না আসায় একা একা কলেজ ক্যাম্পাসে বসে বোর হচ্ছিল মেহেসানা। আফরা ইতিকা পাশের ক্যান্টিন থেকে বুট ভাজা কিনে এনে ধপাস করে তার পাশে বসলো। এক মুঠো বুট মেহেসানার হাতে দিয়ে বলল,,
—‘ তৃষা আসলো না কেন রে?
মেহেসানা আনমনে বলল,,—‘কি জানি? হয়তো…
বাকি কথা শেষ না করেই লাগাম টানল সে। কলেজের কেউ এখনো তার বিবাহের ব্যাপারটা জানে না। তাই এদের সামনে বলা ঠিক বলে মনে হলো না মেহেসানার। ইতিকা তার কথার শেষাংশ শোনার জন্য উদগ্রীব কণ্ঠে ফের বলল,,
—‘কিরে?
মেহেসানা তৎক্ষণাৎ ঘাস থেকে উঠতে উঠতে বলল,,—‘আরে লাইব্রেরীতে বই জমা দেওয়ার লাস্ট ডেট আজকে। দ্রুত চল। হ্যরি আপ।
সকলকে একপ্রকার তাড়া দিয়েই সেখান থেকে উঠিয়ে নিয়ে গেল মেহসানা। ইতিকা-আফরা দুজনেই একে অন্যের সঙ্গে দৃষ্টি বিনিময় করল। অতঃপর মেহেসানার ভেসে আসা কন্ঠটার দিকে তাকিয়ে দ্রুত রওনা দিল দোতলার লাইব্রেরী রুমের উদ্দেশ্যে।

গাড়ির দ্রুতগতি শ্লথ হয়ে আসলো ঢাকার আভিজাত্য বেষ্টিত এক্স শপিং কমপ্লেক্সের সম্মুখে এসে। কাঁচের বিশাল রাজকীয় প্রবেশদ্বার দিয়ে ভেতরের আলোকসজ্জা বাইরেও নিজের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে। আর্য গাড়ি থেকে নেমে ধীরস্থিরভাবে দরজা খুলে দাঁড়াল। তৃষা টুইংকেলের হাত ধরে গাড়ি থেকে নামতেই এক ঝলক স্নিগ্ধ বাতাসের উষ্ণ পরশ ওদের ছুঁয়ে গেল।

ওরা তিনজন মিলে এগিয়ে গেল সম্মুখ পানে।কমপ্লেক্সের সম্মুখে এসে দাঁড়াতেই বিশাল কাঁচের দরজাটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে গেল, ভেতর থেকে ভেসে আসা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হিমেল হাওয়া আর দামী পারফিউমের মিশ্র ঘ্রাণ তৃষাকে মুহূর্তেই এক স্নিগ্ধ জগতের জানান দিল। ওপরের বিশালাকার ঝাড়বাতিগুলো থেকে চুঁইয়ে পড়া সোনালি আলোয় পুরো চত্বরটা উজ্জ্বল হয়ে আছে। মেঝের শ্বেত পাথরে প্রতিফলিত হচ্ছে সেই স্বর্নাভ রশ্মি।
আর্যর হাঁটার ধরণ বরাবরই রাশভারী। আজও তার ব্যতিক্রম নয়। তবে আজ পরিবর্তন আছে বোধ হয় যৎসামান্য। পাশাপাশি হাঁটছে তিনজন। আর্য আর তৃষার কুর্নিষ্ঠা আঙ্গুল নিজের তুলতুলের স্পর্শে ধরে আছে ছোট্ট টুইংকেল। আর তৃষা আর্য পরম মমতাই আঁকড়ে আছে মেয়ের আদুরে হাত খানা।

টুইংকেল উত্তেজনায় একবার এদিকে তাকাচ্ছে, একবার ওদিকে। হঠাৎ সে তার ছোট্ট হঠাৎ হাত ছাড়িয়ে তৃষার ওড়নার আঁচল টেনে ধরল। তৃষা নিচু হয়ে আসতেই টুইংকেল ফিসফিস করে বলল,,
— ‘বানি, দেখো! ওখানটায় কতগুলো ডল দাঁড়িয়ে আছে আমাদের মতো জামা পরে!
তৃষা হেসে ফেলল। আর্য একটু থেমে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখল তাদের। তার গম্ভীর মুখে সামান্য সময়ের জন্য একটা কোমল রেখা ফুটে উঠল। সে ধীর গলায় বলল,

— ‘চলুন আগে আপনাদের সেকশনটা দেখে নিই। টুইংকেল মাম্মাম? আমরা আগে বানির কেনাকাটা করি?
টুইংকেল খুশিতে লাফিয়ে উঠে বলল, — ‘হ্যাঁ পাপা! কিন্তু আমরা বানির জন্য আমরা লাল টকটকে জামা কিনব!
আর্য এবার মেয়েকে কোলে তুলে নিল, তার তুলতুলে চোয়ালে চুমু একে বলল,,—‘ওকে মাম্মাম।
ওরা লিফটে চড়ে তিনতলায় গেলো, যেখানে শাড়ি আর লেহেঙ্গার এক অপূর্ব সমারোহ। চারদিকের কাঁচের আলমারিতে থরে থরে সাজানো রেশমি, জামদানি আর বেনারসি শাড়ির দল। আলোকসজ্জায় সেগুলো যেন একেকটা জীবন্ত নক্ষত্র। সেলসম্যানরা তটস্থ হয়ে এগিয়ে এল আর্যকে দেখে। আর্য ইশারায় তৃষাকে দেখিয়ে দিয়ে বলল,,
— ‘উনাকে লেটেস্ট কালেকশনগুলো দেখান।

তৃষা একটু ইতস্তত করছিল। এত দামী দামী শাড়ির ভিড়ে সে যেন নিজেকে একটু গুটিয়ে নিচ্ছিল। ঠিক তখনই আর্য তার একদম কাছে এসে দাঁড়াল। খুব নিচু স্বরে, যাতে অন্য কেউ শুনতে না পায়, তেমন স্বরে বলল,,
— ‘নিজের জন্য পছন্দ করতে সংকোচ হচ্ছে? তাহলে আমিই কি বেছে দেব?
তৃষা দ্রুত মাথা তুলে তাকাল। আর্যর চোখের মনিতে আজ এক অদ্ভুত অস্থিরতা। সে পাশ থেকে একটা নেভি ব্লু রঙের সিল্কের শাড়ি তুলে নিয়ে তৃষার পাশে ধরল। আয়নায় নিজেদের প্রতিবিম্ব দেখে তৃষা স্তব্ধ হয়ে গেল। আর্যর তীক্ষ্ণ চোখ দুটো যেন তৃষার মনের ভেতরে পড়ে থাকা কোনো গোপন কাব্যের পাণ্ডুলিপি পড়ছে।
টুইংকেল পাশ থেকে চিৎকার করে উঠল,

— ‘ওয়াও পাপা! বানিকে একদম ব্লু ফেইরির মতো লাগছে!
তৃষার গাল দুটো মুহূর্তেই আবির রাঙা হয়ে উঠল। সে অস্ফুটে বলল, — ‘এটা অনেক দামী মনে হচ্ছে…!
আর্য শাড়িটা সেলসম্যানের হাতে দিয়ে ছোট করে বলল,,
— ‘দামের চেয়েও বড় কথা, নীল রঙটা আপনাকে মানায় ভালো। এটা প্যাক করুন।
প্রায় জোড়া দশেক শাড়ি কিনলো আর্য। তবে তৃষা একটু অবাক হল। সচরাচর শাড়ি পরেনা সে। থ্রি-পিস,সালোয়ার কামিজই তার নিত্যকার বসন। সে অবাক হয়ে আর চোখে কিছু বলার আগেই আর্য পার্শ্ববর্তী আরেকটা সেকশনে নিয়ে গেল তাকে।

সেখানে পা রাখতেই চোখের সামনে ভেসে উঠল দেশি-বিদেশি কারুকাজ করা সালোয়ার কামিজ আর থ্রি-পিসের এক বিশাল সম্ভার। সিল্ক, জর্জেট আর সুতির ওপর সুনিপুণ হাতের কাজ করা প্রতিটি পোশাকই যেন একেকটা আভিজাত্যের প্রতীক। তৃষাকে থমকে দাঁড়াতে দেখে আর্য শান্ত গলায় বলল,,
— ‘অ্যাকচুয়ালি আই নো ইউ্য আর নট কমফোর্টেবল ইন শাড়ি। বাট প্রায়শই বিভিন্ন আত্মীয় আসে আমাদের এখানে অথবা বিভিন্ন অকেশনে যাওয়া পড়ে। যেহেতু আমি দেশে থাকতে পারিনা সো ওগুলো এক্সট্রা হিসেবে নিয়ে রাখলাম। এখন আপনি দেখুন ইউজুয়ালি পড়ার জন্য কোনগুলো আপনার পছন্দ হয়।
তৃষা অপ্রস্তুত হাসলো। আর্যর থেকে এমন উত্তর কল্পনাতীত তার। সে আলতো করে একটি প্যাস্টেল শেডের কামিজের ওপর হাত রাখতেই টুইংকেল পাশ থেকে চঞ্চল হয়ে উঠল,,
— ‘বানি! এই যে দেখো, এটা একদম তোমার গায়ের রঙের মতো! এটা নাও না!
টুইংকেলের পছন্দ করা কামিজটি ছিল সাদা জমিনের ওপর হালকা গোলাপি সুতোর কাজ করা। আর্যর চোখের ইশারা পেয়ে সেলসম্যান দ্রুত এগিয়ে এসে একে একে আরও কিছু চমৎকার ডিজাইন বের করল। আর্য নিজে হাতে বেছে বেছে গাঢ় মেরুন, জলপাই সবুজ আর বাসন্তী রঙের আরও দশ-বারোটি দামী থ্রি-পিস সরিয়ে রাখল।
তৃষা চোখ কপালে তুলে বলল, — ‘এতগুলো?আরে! আমি কি কোনো দোকান দিচ্ছি নাকি? দুটো নিলেই তো এনাফ।

—‘নাথিং অ্যাকচুয়ালি…!
কথা শেষ করলো না আর্য। কথা ঘুরিয়ে বলল,,–‘ওকে, তাহলে এখানকার অল ডান। চলুন আমি একটু বেবি সেকশনে যাব।
তৃষা বুঝলো টুইংকেলের কেনাকাটার উদ্দেশ্যে আর্যর বলা কথা। কিন্তু নিজের কথার জবাব না পেয়ে ভ্রুদ্বয় কিঞ্চিৎ কুঞ্চিত হলো তার।

বেবি সেকশনে পা রাখতেই এক অদ্ভুত রঙিন পৃথিবী চোখের সামনে উন্মোচিত হলো। দেয়ালজুড়ে আঁকা কার্টুন চরিত্র, সিলিং থেকে ঝুলে থাকা বাহারি বেলুন আর নরম আলোর চঞ্চল নৃত্য সব মিলিয়ে জায়গাটা যেন কোনো রূপকথার দেশ। আর্যর কোল থেকে নেমে টুইংকেল প্রজাপতির মতো উড়ে গিয়ে দাঁড়াল সারিবদ্ধ ছোট ছোট ফ্রকের সামনে।
সেকশনের দায়িত্বে থাকা মধ্যবয়স্কা এক ভদ্রমহিলা হাসিমুখে এগিয়ে এলেন। মার্জিত পোশাকে তার চেহারায় পেশাদারিত্ব ফুটে আছে। আর্য আর তৃষাকে একসঙ্গে দেখে তিনি এক মুহূর্তের জন্য থমকালেন, তারপর প্রসন্ন হাসিতে আপ্যায়ন করে বললেন,
— ‘ওয়েলকাম স্যার! আপনাদের লিটল প্রিন্সেসের জন্য বোধহয় কিছু খুঁজছেন?
আর্য মাথা নেড়ে সায় দিতেই মহিলাটি টুইংকেলের দিকে এগিয়ে গেলেন। টুইংকেল তখন একটি হালকা আকাশী রঙের লেসি ফ্রক হাতে নিয়ে তৃষাকে দেখানোর জন্য অস্থির হয়ে উঠেছে। মহিলাটি টুইংকেলের মাথায় হাত বুলিয়ে পরম মমতায় আর্য আর তৃষার দিকে তাকালে। তার চোখেমুখে এক ধরণের মুগ্ধতা। তিনি ধীর গলায় বললেন,,

— ‘মাশাআল্লাহ! আপনাদের তিনজনকে একসাথে দেখে চোখ জুড়িয়ে গেল। সচরাচর এমন পারফেক্ট ফ্যামিলি ইমেজ খুব একটা চোখে পড়ে না। মনে হচ্ছে কোনো ম্যাগাজিনের কভার থেকে উঠে এসেছেন আপনারা।
তৃষা হঠাৎ এমন মন্তব্যে হকচকিয়ে গেল। গাল দুটো নিজের অজান্তে আরক্তিম হয়ে উঠল তার। সে কিছু একটা বলতে চাইল, কিন্তু মহিলাটি তার আগেই হাসতে হাসতে যোগ করলেন,,
—‚দেখুন না, বাচ্চাটার চোখ দুটো ঠিক তার বাবার মতো তীক্ষ্ণ, আর হাসলে ওর চিবুকটা একদম তার মার মতো মিষ্টি দেখাচ্ছে। আপনাদের কম্বিনেশনটা সত্যিই খুব ব্লেন্ডেড!
তৃষা অপ্রস্তুত হয়ে দৃষ্টি ঘুরছে এদিক ওদিক।আর্য বরাবরের মতো নির্বিকার। তার গম্ভীর মুখে কোনো ভাবান্তর নেই, শুধু চোয়ালটা সামান্য শক্ত হলো।টুইংকেল তখন তৃষার হাত ধরে টানছে,,

— ‘বানি, দেখো না! আন্টি ঠিক বলেছে না? আমাকে তোমার মতোই কিউট লাগবে এই ড্রেসটাতে?
তৃষা বিব্রত হয়ে টুইংকেলের চুলে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলল,,
— ‘হ্যাঁ সুইটহার্ট, খুব সুন্দর লাগছে। তুমি যা পছন্দ করবে তাই নেওয়া হবে।
ভদ্রমহিলা এবার আর্যর দিকে তাকিয়ে বললেন,,
—‘স্যার, আপনার ওয়াইফের টেস্ট খুব চমৎকার। উনি যেটা পছন্দ করছেন, সেটা আমাদের শোরুমের সবথেকে এলিগেন্ট পিস।
আর্যর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি তৃষার উপর পড়েছে কিনা বলা দায়। সে বিল পে করে। টুইংকেল কে সঙ্গে নিয়েই এগিয়ে চলল সম্মুখ পানে। আর তার পিছে পা মিলালো অপ্রস্তুত তৃষা।

শপিং কমপ্লেক্সের দোতলায় কাঁচের দেয়ালঘেরা এক অভিজাত ক্যাফে। ভেতরটা শান্ত, মৃদু জ্যাজ মিউজিকের সুর ভাসছে বাতাসে। বাইরে তখন দুপুরের রোদে শহরটা তপ্ত হলেও, এই ক্যাফেতে বসন্তের এক স্নিগ্ধতা বিরাজ করছে। আর্য নিঃশব্দে পা ফেলে জানালার ধারের একটি টেবিল বেছে নিল। সেখান থেকে বাইরের ব্যস্ত রাজপথটা বড্ড চমৎকার দেখাচ্ছে।
তৃষা আর টুইংকেল মুখোমুখি বসল। টেবিলে রাখা কাঁচের ফুলদানিতে সতেজ রজনীগন্ধার গুচ্ছ থেকে এক মদির ঘ্রাণ আসছে। আর্য ওয়েটারকে ইশারায় ডেকে মেনু কার্ডটা তৃষার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল,,

— ‘অর্ডার দিন।
তৃষা অপ্রস্তুত ভঙ্গিমায় বলল,,—‘আমি কেন?
—‘ফর ফার্স্ট টাইম, আপনি এসেছেন। সো অর্ডার আপনিই কনফার্ম করবেন।
পাশ থেকে টুইংকেল মিষ্টি স্বরে বলল,,—‘ইয়েস বানি। তুমিই অর্ডার করো।
তৃষা মৃদু হেসে মেনু কার্ডে চোখ বুলাতে বুলাতে অপ্রস্তুত বোধ করছিল। সবকিছুর নামই কেমন অচেনা। টুইংকেল সোফায় পা দুলিয়ে হাসিমুখে বলল,,

ফিরে এসো অনুরাগে পর্ব ৯

— ‘পাপা, আমি কিন্তু স্ট্রবেরি শেক খাব! আর সাথে চিজ পিৎজা!
আর্য হাসলো। অতঃপর সে তৃষার দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় বলল,,
— ‘অপরিচিত খাবারের নাম দেখে ঘাবড়ে যাওয়ার কিছু নেই। আমি বরং সাজেস্ট করি? এখানকার স্পেশাল গ্রিলড চিকেন স্যান্ডউইচ আর কোল্ড কফি আপনার ভালো লাগবে।
তৃষা শুধু মাথা নাড়ল।কিছুক্ষণের মধ্যেই টেবিলে খাবার সাজিয়ে দেওয়া হলো। কফির কাপ থেকে ধোঁয়া উঠছে, আর তার সাথে মিশেছে পিৎজার সুবাস। টুইংকেল নিজের খাবার নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। তৃষা কফির কাপে চুমুক দিতেই দেখল আর্যর স্থির দৃষ্টি জানলার ওপাশে নিবদ্ধ। তৃষা এক ঝলক সেদিকে তাকিয়ে পরবর্তীতে মনোনিবেশ করল খাবারে।

ফিরে এসো অনুরাগে পর্ব ১১

1 COMMENT

Comments are closed.