বিষাদ ও বসন্ত পর্ব ৫২
অলকানন্দা ঐন্দ্রি
সময় চলমান। মিথি আর হিমেলের বিবাহিত জীবনের সময়সীমাও আরো দুয়োমাস গড়াল। এই দিন গুলোতে হিমেলের সাথে মিথির স্বামী স্ত্রীর স্বাভাবিক সম্পর্ক গড়ে না উঠলেও একটা সুন্দর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে দারুণ ভাবে। একটা সুন্দর সংসারে বোধহয় বন্ধুত্বটাই জরুরী সবচাইতে বেশি।
আজ শুক্রবার। মিথি বের হয়েছিল অল্প বাজার করতেই। বিকালে আয়মান আর ফিজা আসবে। মিথি অবশ্য হিয়াকে ও বলেছিল আসার জন্য। মূলত আজ ফিজারই জন্মদিন। আয়মান চেয়েছিল ফিজার ছোটখাটো জন্মদিনের অনুষ্ঠান করে ওর বিয়ের প্রোপোজাল দিতে। তাই সারপ্রাইজ দিতে আয়মান হিমেলদের বাসায় আয়োজন করতে চাইল। মিথিও না করল না। বরং খুশিই হলো। সেই কবে থেকে দেখে এসেছে ফিজা আর আয়মান ভাই একে অপরকে ভালোবাসেন। মিথি ভেবে হাসে।
বিকালে ওরা আসবে, এইজন্য ভালোমন্দ রান্নার জন্যই বাজারে এসেছিল মিথি।অতঃপর বাজার ঘুরে ঘুরে ভালো মতো ব্যাগ ভরে বাজার নিয়ে রিক্সার জন্য পা চালাতেই পেছন থেকে শুনতে পেল,
“ কি আশ্চর্য, তুই এত ভারী ব্যাগ নিয়ে পা চালাচ্ছিস কিভাবে? হাঁটতে পারছিস ঠিকঠাক? ”
মিথি মুহুর্তেই ঘাড় বাঁকাল। হিমেল ভাই। হাতে দু দুটো ব্যাগ তারও ঝুলছে। ভ্রু কুঁচকে বলল,
“ এত বাজার কেন করেছেন? ”
হিমেল পা এগিয়ে সামনে এল। বাম হাতের ব্যাগটা ডান হাতে নিয়ে পুনরায় বাম হাতে মিথির হাত থেকে একটা ব্যাগ নিল। বলল,
“ তুই কেন নিয়েছিস এত বাজার? ”
“ বাসায় অতিথি আসবে। বাজারও তেমন করা ছিল না বাসায় তাই। ”
“ আমিও ঐ কারণেই। কিন্তু তুই যে বাজারেই এলি জানতাম না। আসার সময় তোকে খুঁজলাম বাজারের লিস্ট করার জন্য অথচ খালা বলল তুই নেই। ”
মিথি মৃদু হাসল। লম্বা চওড়া হিমেল তখন পা বাড়িয়েছে। মিথি পিছন পিছনপা বাড়াতে বাড়াতে বলল,
“ হু, আমিও বাজারেই এসেছিলাম। ”
অতঃপর দুইজনেই বাজার পেরিয়ে যেতে যেতে বলে গেল কি কি নিল। মাছের বাজারে কি কি উঠল, কি কি মাছ নিল এইসেই। রিক্সায় উঠেও এই নিয়েই কথা চলল কেবল।
তারপর বাসার সামনে এসে রিক্সা ছেড়ে নামতেই মিথি যখন ফের ব্যাগ হাতে তুলতে নিল হিমেল বাঁধ সাধল। মাথার উপর সূর্যের তীব্র উত্তাপ তখন। এই রোদে সারা বাজার ঘুরে এমনিতেই মুখচোখ ঘেমে আছে মেয়েটার। ক্লান্ত মুখশ্রী স্পষ্টই ভেসে উঠেছে।মাথায় ঘোমটা টানা, তবুও কপালের দিকটায় কিছু চুল এলেমেলো হয়ে এসে পড়েছে। হিমেল চাইল খুব মনোযোগ দিয়েই যেন। ক্লান্ত, ঘামে ভেজা এই মুখশ্রীও কি অসম্ভব মায়া-মায়া। হিমেলের ইচ্ছে হয়, তাকিয়েই থাকুক। ছোটশ্বাস ফেলে গলা ঝেড়ে বলল,
“ তুই খালি হাতেই যা। আমি আনছি এসব। ”
মিথি চাইল। ভ্রু বাঁকিয়ে বলল,
“ চার চারটা ব্যাগ নিতে পারবেন? অসম্ভব। আমি দুটো নিই, আপনি দুটো নেন। হয়ে যাবে। ”
“ পারব, একহাতে দুটো করে নিলে হবে। পা চালা এবার। ”
এইটুকু বলেই হিমেল আর দাঁড়াল না। পা চালাল। মিথি তখনও ওখানেই দাঁড়ানো। একটা পুরুষের যত্ন দেখে সে আর কতোটা মুগ্ধ হবে? এতোটা যত্নে রাখে কেন তাকে? সে কি ছোট বাচ্চা? ঐটুকু ব্যাগ নিতে পারত না? মিথি মনে মনে এসব ভাবতেই হিমেল দু পা বািড়য়ে ঘাড় বাঁকাল। মাথাটা কাত করে বলল,
“ কি হলো? বাসায় যাবি না নাকি? ”
মিথির ভাবনা ভাঙল। পা বাড়িয়ে হিমেলের সাথে যেতে যেতেই বলল,
“ আপনার কষ্ট হচ্ছে। একটা হলেও দিন আমায়। ”
“ দিব না। ”
“ তাহলে বাসায় যাব না। ”
“ সমস্যা নেই, বসে থাক এখানে। এগুলো রেখে এসে কোলে করে নিয়ে যাব। ”
মিথি চোখ ছোটছোট করল। আচমকা কথাটা শুনে কেমন লজ্জা হলো যেন আবার অস্বস্তিও৷ পা বাড়িয়ে যেতে যেতে বলল,
“ লাগবে না। ”
পিছু পিছু হিমেল হাসল। এই যে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমা মুখটা হুট করেই মিইয়ে গেল এই দৃশ্যটা সুন্দর ছিল। সত্যিই সুন্দর। আজকাল এমন সুন্দর দৃশ্য প্রায়সই হিমেলের চোখে পড়ে। মিথি কি সত্যি সত্যিই লজ্জা পায়?
তিনতলা পর্যন্ত সিঁড়ি পেরিয়ে ব্যাগগুলো আনতে আনতে হিমেল ছোটশ্বাস ফেলল। দরজা পেরিয়ে বাসায় আসার পর ফ্লোরে বাজারের থলে রাখল সর্বপ্রথম। অতঃপর জুতো খুলে পা বাড়িয়ে মিষ্টিকে খুঁজল। মিথি ততক্ষনে ব্যাগগুলো থেকে বাজার বের করতে লেগে গেল। আর হিমেল মিষ্টিকে পাওয়া মাত্রই দুই হাত বাড়িয়ে ডেকেই সর্বপ্রথম চুমু দিল ডান গালে। তারপর পকেট থেকে দুটো চকলেট বের করেই নিজের গালটা মিষ্টির সামনে ধরল। হেসে বলল,
“ হিমকে আদর দাও তো আম্মু। ”
মিষ্টি বুঝে গেল। হেসে তুলতুলে আঙ্গুল গুলো দিয়ে হিমেলের মুখ ধরে ছোট্ট বিড়ালছানার ন্যায় হিমেলের মুখের কাছে মুখ এগোল। অতঃপর হিমেলের গালে চুমু বসিয়ে খিলখিল করে হেসে উঠল। হিমেল হাসে। মিষ্টিকে আর পাওয়া গেল না। চকলেট নিয়ে দৌড় দিয়েছে ইতোমধ্যেই।
মিথি ততোটা সময়ে ব্যাগগুলো থেকে বাজার বের করছিল ফ্লোরে।হিমেল পাশে এল। পা গোল করে ফ্লোরে বসল পাশাপাশিই। মিথির ভ্রু জোড়া কুঁচকানো।সবজিগুলোর ব্যাগ দেখছিল। দেখল হিমেলের আর তার ব্যাগে প্রায় একই একই রকমই সব বাজার চলে এসেছে। এমনটা দেখেই কপাল কুঁচকাল। হিমেলের দিকে চেয়ে শুধাল,
“ রুই আর চিংড়ি মাছ আমিও নিলাম, আপনিও নিলেন। সিম আর টমেটো আমিও নিয়েছি আবার আপনিও নিয়েছেন। সব একই একই হয়ে গেল হিমেল ভাই। ”
হিমেল ভ্রু কুঁচকে বলল,
“ তো আমায় বলে যাসনি কেন বাজারে যাচ্ছিস? তাহলে দুইজন একই জিনিস কিনতাম না। ”
“ আপনিই বা আমায় বলেননি কেন একবার? কল ও তো দিতে পারতেন।”
“ দিয়েছিলাম। তুই ফোন ও বাসাতেই রেখে গিয়েছিলি। ”
মিথি ছোটশ্বাস ফেলল। কিছু পঁচা টমেটো সামনে তুলে ধরে বলল,
” তিন তিনটে টমেটো পঁচা পড়ল। ”
হিমেল ভাবল মিথি যেগুলা নবয়েছে ওগুলাই পঁচা। বেশ হেসে বলল,
“ দেখ তোর গুলো পঁচা পড়বে বলেই আমি আগে আগে কিনে এনেছি মিথি। এইজন্যই বলে, উপরওয়ালা যা করেন ভালোর জন্যই করেন ”
“ এগুলা আপনার ব্যাগ থেকেই বের হলো হিমেল ভাই। সবজি কিনতে একটু দেখেশুনে কিনবেন না? বাজার কি দোকানদার যেভাবে দেয় ওভাবেই নিয়ে চলে আসেন হিমেল ভাই? আমি আগেও দেখেছি আপনি ভালো ভাবে বাজার করতে পারেন না। ”
কথা সত্য। হিমেল বাজার করতে গেলে নিজে অতো বেছে বেছে আনতে পারে না। তবে তাই বলে মিথির কথা মেনেও নিল না। বলল,
“ আমি ভালো দেখেই নিয়েছিলাম। ”
” হ্যাঁ, ভূতে এসে বদলে দিয়ে গেল হিমেল ভাই। ”
হিমেল কেমন করে চাইল। মিথির দিকে তাকিয়ে বলল,
“ হিমেল ভালো জিনিস চিনতে ভুল করে না।কত টাকা খরচ করে এনেছি জানিস? ”
“ কত? ”
“ কেজি পঞ্চান্ন। ”
মিথি এবারে হেসে উঠল হুট করেই। এই টমেটো সে আরো কম দামে নিয়েছে। অথচ তার গুলো ভালোই পড়েছে। অথচ হিমেল ভাই! হাসতে হাসতেই বলল,
“ পঞ্চান্ন দিয়ে এনে এত পঁচা দিয়ে দিল আপনাকে? আমি পঞ্চাশ করে আনলাম হিমেল ভাই। আপনি তো বড়সড় আকারে ঠকে গেলেন। ”
আকস্মিক মিথির হাসিটা চমৎকার বোধ হলো যেন। এতক্ষন যেভাবে তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছে হয়েছিল এখন এই হাসিটায় আরো তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছে হলো যেন। হিমেল তাকিয়েই থাকল সরাসরি দৃষ্টি ফেল। ওভাবেই বলল,
“ খুব ভালো। ”
মিথি তখনও বাজার বের করে ঝুড়িতে রাখছিল। তারপর হঠাৎ হিমেলের দিকে তাকিয়েই দেখল মুখটা হাতে ভর দিয়ে রাখা এবং দৃষ্টি তার দিকেই।যখন চোখাচোখি হলো এবং বুঝতে পারল হিমেল তার দিকেই চেয়ে ছিল মিথি কেমন যেন অনুভূত হলো।এভাবে তাকিয়ে থাকলেই মিথি কেন জানি সরাসরি নজর রাখতে পারে না আজকাল। শিরশির একটা অনুভূতিতে চোখ নুইয়ে আসে। আজও তাই হলো। মিথি বেশিক্ষন চোখ রাখতে পারল না। দ্রুত নজর সরিয়ে অন্য দিকে চাইল। অপ্রস্তুত ভাবে মাছের থলে দেখতে দেখতে বলল,
“ আপনাকে বলেছিলাম মাছ কাঁটিয়ে না আনলেও হবে। কাঁটিয়ে নিয়ে এলেন কেন? এখানেও টাকা বেশি খরচ গেল। ”
“ অতো বড় বড় মাছ তুই কাঁটতে পারতি? কাঁটিয়ে আনাই ভালো। আর তোর মতো কিপ্টেমি করে তো বউকে ভালো রাখা যাবে না। ”
বউ শব্দটা মিথিকেই উদ্দেশ্য করে বলা। এই সম্বোধনটা পেয়েও মিথির মুখ নুইয়ে এল কেমন। একবার ফিরে চাইল হিমেলের দিকে। তখনও মুখে হাত দিয়ে ভর রাখা হিমেল ভাইয়ের। পরনের সাদা শার্টটা ঘামে লেপ্টে আছে শরীরে। ঘন চুলগুলোর দুয়েকটাও ঘামে ভিজে কপালে লেপ্টে আছে। মুখটা ভেজা। খোঁচা খোঁচা দাঁড়িগুলোও কিছুটা ভেজা দেখাল যেন। যে রোদ পড়েছে৷ ঘামে চুপসে যাওয়াটা অস্বাভাবিক না। মিথি ছোটশ্বাস ফেলে উঠে যেতে যেতে বলল,
“ আচ্ছা,যান। ফ্রেশ হয়ে নিন। শরবত করে আনছি। আর শুনুন, ফ্রেশ হয়ে মিষ্টিকে রাখলে খালাকে বলিয়েন একটু আসার জন্য। ”
হিমেল ওভাবেই বসে ছিল। শুধু বলল,
“ আচ্ছা। ”
মিথি মোটামুটি সব বাজার গুঁছিয়ে শরবত বানাল। গ্লাসে শরবত ঢেলে নিয়েই পা বাড়াল প্রথমে হিমেলের ঘরের দিকে। ভেবেছিল এতোটা সময়ে ফ্রেশ হয়ে নিবে। অথচ সে যখন ঘরে গেল তখন সবেই হিমেল ওয়াশরুম থেকে বেরিয়েছে। পরনে একটা টাউজাে থাকলেও বুকটা খালি। গলায় একটা তোয়ালে ঝুলে আছে। মিথি এমন দৃশ্যের জন্য প্রস্তুত না বলেই অপ্রস্তুত হলো যেন। তবুও লজ্জা পেয়েছে এমন কোন অনুভূতি বাহ্যিকভাবে না দেখিয়ে নিজেকে স্বাভাবিক দেখিয়েই পা বাড়াল। তারপর টেবিলের উপরই গ্লাস রাখতে রাখতেই বলল,
“ আপনার শরবত। ”
হিমেল ততোটা সময়ে টিশার্ট জড়িয়েছে শরীরে। তোয়ালে দিয়ে চুল মুঁছতে মুঁছতে বলল,
” টেবিলের উপর আমার ফোনটা। কে যেন অনেক বার কল করছিল , ওয়াশরুম থেকে শুনছি। ”
মিথিও শুনেছে অবশ্য রান্নাঘর থেকে। কিন্তু হিমেল ভাই এর ফোন, আর এই ঘরেই আছে ভেবে কিছু বলে নি। হাত বাড়িয়ে ফোনটা নিতে নিতেই আবারও কল এল। স্ক্রিনে স্পষ্টই দেখা গেল সাবিহার নাম। মিথি চাইল। ফোন এগিয়ে দিতে দিতেই বলল,
“আপনার ফোন? সাবিহা আপু কল করল হিমেল ভাই। ”
“ হু? ”
“ সাবিহা আপু। ”
হিমেল ফোন নিল। মিথি ততক্ষনে পা এগোতে এগোতে বলল,
“ কথা বলুন, যাচ্ছি আমি। ”
হিমেল ভ্রু কুচঁকায়। সঙ্গে সঙ্গেই মিথির বাম হাতটা টেনে ধরল। মুখচোখ শক্ত রেখে বলে,
“ দাঁড়া, সাবিহা কল করলেই তোর স্পেস দেওয়ার এই বিষয়টায় আমার রাগ লাগে মিথি। ওর সাথে আমার এমন কোন সম্পর্ক নেই যে স্পেস নিয়ে কথা বলতে হবে। ওকে?”
কথা গুলো বলেই কল রিসিভ করল হিমেল। ওপাশ থেকে সাবিহার গলা শুনেই বলল,
“ সাবিহা, কেমন আছো? ”
ফের ওপাশ থেকে সাবিহা কি বলল শোনা গেল না। হিমেল ফের বলল,
“ আমি? কালকে? ”
ফের পরমুহুর্তেই আবার বলল,
“ কালকে তো আমি ফ্রি নেই সাবিহা। জব আছে।তবুও আমি ম্যানেজ করে আসার চেষ্টা করব হুহ? ”
অতঃপর কথা বলার পর ফোন রেখেই মিথির দিকে চাইল হিমেল। মেয়েটার মুখ তখনও ঘামে ভেজা। মলিন দেখাচ্ছে। হিমেল ছোটশ্বাস ফেলে বলল,
“ তোর কি মনে হয় মিথি? আমার কি সাবিহার সাথে কিছু আছে এমন মনে হয় তোর কোনভাবে?”
মিথি সঙ্গে সঙ্গেই উত্তর করল,
“ না তো, কেন? ”
“ তো ওর কল আসলে আমাকে স্পেস দেওয়ার বিষয়টা কি প্রমাণ করে? একজনকে বিয়ে করে অপরজনের সাথে ফোনে প্রেমালাপ করব আমি? এমন মনে হয়েছে?”
এমন মনে হয়নি মিথির, আবার বোধহয় হয়েছেও। মিথি ছোটশ্বাস ফেলে জানাল,
“ না। ”
“ শোন মিথি, তোকে আমি খুব ভালো বুঝি। কোথাও না কোথাও তুই এমন কিছুই ভেবেছিস। এবং একটু হলেও কষ্ট পেয়েছিস তাই না?”
“ না। ”
হিমেল ভ্রু উঁচায়। জিজ্ঞেস করে,
“ এই যে সাবিহা কল করে। আমি কথা বলি। তোর একটুও খারাপ লাগে না? ”
হয়তো লাগে। মিথি হয়তো মনে মনে একটু হলেও ভেবেছিল হিমেল ভাই এর হয়তো সাবিহা আপুর প্রতি কিছুটা হলেও দুর্বলতা জমেছে বা এমন কিছু। তাই তৃতীয় ব্যাক্তি হিসেবে সে তাদের কথোপকোথন শুনতে চাইত না। স্পেস দিত কল করলেই। মিথি উত্তরে বলল,
“ না। ”
“ মিথ্যে বলবি না মিথি। ”
“ খারাপ কেন লাগবে? ”
” সেটা তে তুই জানিস মিথি। ”
“ না, আমার খারাপ লাগে না। ”
হিমেল ছোটশ্বাস ফেলে। ও মিথিকে বুঝতে এতোটাও ব্যর্থ হয়নি নিশ্চয়ই যে মিথিকে বুঝবে না। কৈফিয়ত হিসেবে ব্যাখ্যা করল,
বিষাদ ও বসন্ত পর্ব ৫১
“ না লাগুক, তবুও তোর শুনে রাখা জরুরী যে আমার আর সাবিহার মধ্যে কিছু নেই মিথি। সাবিহা চেয়েছিল বন্ধুত্বটা ঠিক থাক, মাঝের সব ভুলে যেতে। আমিও ভুলে গেলাম। একপাক্ষিক অনুভূতি আমিও পুষেছি, আমি জানি এর যন্ত্রনা। অনুভূতি আসাটা ওর অপরাধ ও নয়। তবে তুই মাথায় রাখবি যে, যে হিমেল একজনের জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করেছে, দূর থেকে ভালোবেসেছে, কষ্ট পেয়েছে, যন্ত্রনা পুষেছে নিরবে সে হিমেল ঐ একজনকে ভাগ্যক্রমে পেয়ে যাওয়ার পর আর কোন নারীর দিকে ভুলেও হাত বাড়াবে না। এইটুকু নিশ্চিত থাকিস। হুহ?”
কত্ত সময় নিয়ে শান্ত কন্ঠে ব্যাখ্যা করল হিমেল। যেন তার দায়িত্ব এটা। অথচ মিথি জিজ্ঞেসও করেনি তাকে একটাবার এই সম্পর্কে। কিছু বুঝতেও দেয়নি। মিথি ছোটশ্বাস ফেলে। একটা পুরুষের কাছে তার গুরুত্ব সে মুহুর্তে মুহুর্তেই টের পায়। তার সবকিছুতেই টের পায়। আর এই টের পাওয়ার মধ্যখানেই মিথির মাঝেমাঝে মনে হয়, এই হিমেল নামক মানুষটা সত্যিই তার জীবনের প্রথম পুরুষ হিসেবে আসলে বোধহয় আরো সুন্দর হতো সবটা।
