মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ২১
jannatul firdaus mithila
ভোঁতা যন্ত্রনায় জর্জরিত অবশ দেহখানা, চুলের গোড়ায় গোড়ায় জমেছে তীব্র ব্যথা। চোখদুটো একপ্রকার টেনেহিঁচড়েও খোলবার সাধ্যি নেই। চোখের পাতাদুটোয় ভর করেছে রাজ্যের সব ভার। শরীরের কোথাও অবশিষ্ট নেই বিন্দুমাত্র শক্তি! সজাগ মস্তিষ্ক বারবার জানান দিচ্ছে উঠে পড়ার সংকেত। কারোর চিকনচাকন নরম আঙুলগুলো আলতো করে বিলি কাটছে সিল্কি চুলগুলোর ফাঁকে ফাঁকে। চোখবুঁজে নিস্তেজ আকারে পড়ে থাকা মাহি স্পষ্ট অনুভব করছে এহেন নরম স্পর্শ। চুলের ব্যথাগুলো ক্রমশ কমছে তার! স্বস্তি মিলছে অনেকটাই। সময় কতটুকু পেরুলো কে জানে! মাহির চোখদুটো রয়েসয়ে নিজেদের পর্দা সরালো। ঝাপ্সা দৃষ্টিতে খুব একটা স্পষ্টতা নেই। ফলে সপ্তদশীর টানা টানা ভ্রু-দ্বয়ের মাঝে দেখা মিললো দুয়েকটা ভাঁজের। মাহি বুক ফুলিয়ে নিশ্বাস টানলো বেশ। অসারতায় ডুবে থাকা দেহটা বোধহয় সামান্য নড়ল এতে। সে আলগোছে ঘাড় বাকিয়ে তাকালো পাশে। তক্ষুনি ক্লান্ত চোখদুটোতে ধরা পড়ল মিলার মলিন মুখখানা। মাহি থমকায়! একমুহূর্ত ঠায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে ভাঙা ভাঙা কন্ঠে ফ্যাকাশে ঠোঁটদুটো নাড়িয়ে আওড়ায়,
“ মিলা?”
সঙ্গে সঙ্গে বিদেশিনীর হরিণী চোখ বেয়ে টুপ করে ঝরে পড়ল একফোঁটা অশ্রু। তা অবশ্য নজর এড়ায়নি মাহি’র। মেয়েটা কেমন নিষ্প্রাণ চাহনিতে তাকিয়ে রইল কেবল! ততক্ষণে মিলা সামলে নিয়েছে নিজেকে। ডানহাতের উল্টো পিঠে তড়াক করে ভেজা চোখদুটো কোনমতে মুছে নিয়ে, স্মিত হেসে ঘাড় নাড়ায় ওপর নিচ। বাহাতে আঙুলগুলো ফের মাহি’র চুলের ভাঁজে ঢুকিয়ে, মোটা কন্ঠে বলল,
“ হ্যাঁ মুনলাইট! ইট’স মি, মিলা। এখন কেমন লাগছে তোমার?”
মাহি মৌন রইল কিয়তক্ষন। চোখদুটো নিবুনিবু তার, ফ্যাকাশে ঠোঁট দুটো তিরতির করে কাঁপছে। মুখটা শুকিয়ে এইটুকুন হয়ে গেছে! সপ্তদশী কেমন ঠোঁট উল্টালো। অবোধের ন্যায় আওড়াল,
“ খারাপ লাগছে! মাথায় যন্ত্রণা হচ্ছে প্রচুর। কি হয়েছিল আমার সাথে? ঐ রাক্ষসটা কী আবারও মে’রেছে আমায়?”
মিলা অবাক হলো এহেন বাক্যে। মাহির অবোধ মুখাবয়বের পানে তাকিয়ে থেকে ভাবল —
‘মেয়েটার কী তবে কিছুই মনে নেই? মনে নেই মেইডেনের করা বিশ্বাসঘাতকতার কথা?’
মিলা খানিক সময় নিলো। দু’হাতে ধরে ধরে মাহি’কে তুলে বসালো কোনরকম। দূর্বল মাহি হাত-পা ছেড়ে দিয়েছে একপ্রকার, শীরঁদাড়া বোধহয় আর সোজা হবার নয়। মিলা তবুও তাকে বসিয়ে দিলো। রয়েসয়ে সামান্য ঢোক গিলে আমতা আমতা করে শুধালো,
“ তোমার কী কিচ্ছু মনে নেই মুনলাইট?”
মাহি ভ্রু কুঁচকেছে ফের। মিলার মুখাবয়বে এক অদ্ভুত উৎকন্ঠা। চোখদুটোয় ভরে আছে একরাশ প্রশ্ন! মাহি থমকে তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ। গলায় কেমন সন্দেহের ঝাঁঝ ঢেলে আওড়াল,
“ কোন বিষয়ে বলছো মিলা?”
মিলা এতক্ষণে নিশ্চিত হলো মেয়েটার হালত সম্বন্ধে। বিগত চারটে দিন ধরে জ্ঞানহীন থাকায় হয়তো সেদিনকার ঘটনাগুলো কিছুই মনে নেই তার। মিলা আর আগ বাড়িয়ে বললো না কিছু। গলার কাছে এসে আঁটকে যাওয়া কথাগুলো পানি ছাড়াই গিলে নিলো বিদেশিনী। মনে মনে ভাবল — ওতোবড় একটা দূর্ঘটনা কাটিয়ে সবেমাত্র জ্ঞান ফিরল মেয়েটার, এরইমধ্যে তার মস্তিষ্কে ওতো চাপ বাড়িয়ে লাভ নেই।
মিলা দক্ষতার সাথে প্রসঙ্গ ঘোরালো। মুখে কপট হাসি ঝুলিয়ে দু’ধারে মাথা নাড়িয়ে বলল,
“ কিছু না। তোমার নিশ্চয়ই মাথা ব্যথা করছে? আই থিংক — এমুহূর্তে তোমার হটবাথ নেওয়া উচিত। দেখবে, মাথাব্যথা একদম গায়েব!”
মিলার কথাগুলো খুব একটা মন্দ লাগেনি মাহি’র। এমনিতেই শরীরটা যা চেপচেপে হয়ে আছে! মনে হচ্ছে ক’দিন ধরে বিনা গোসলে সার্ভাইব করছে বেচারি। মাহি নিজে নিজেই উদ্যোত হলো বিছানা থেকে নামতে। তবে মেয়ের কান্ড দেখো! অসারতায় ডুবে থাকা শরীর নিয়ে কি-না নিজে নিজেই নামতে নিয়েছে বিছানা থেকে। অবশ হয়ে থাকা পাদু’টো কোনমতে মেঝেতে ঠেকাতেই গা-শুদ্ধ ঝাঁকিয়ে ওঠে সপ্তদশীর। মিলা তৎক্ষনাৎ এগিয়ে এসে আঁকড়ে ধরল মাহি’র বাঁহাতের কনুই। কপালে একরাশ চিন্তার ছাপ ফুটিয়ে আওড়াল,
“ ইশশ্! একা একা নামতে গেলে কেনো মুনলাইট? আমিতো পাশেই আছি। প্রয়োজনে ডাকবে আমায়।”
মাহি আলতো হাসলো। উল্টো হাত ঘুরিয়ে মিলার হাতখানা শক্ত করে চেপে ধরে মিষ্টি হেসে বলল,
“ ঠিক আছে! পাশে থেকো।”
মিলা এবারেও হতবাক চোখে তাকিয়ে রইলো! মেয়েটা এতো অবুঝ কেনো? তার মাত্র একটা কথাতেই কেমন গলে গেল দেখো! সপ্তদশীর চোখমুখের দীপ্তিতে বোঝা যাচ্ছে সে বুঝি বেশ বিশ্বাস করে নিয়েছে মিলাকে। তাইতো কেমন হাসিহাসি মুখে চেপে ধরে রেখেছে মিলার হাত। মিলা আহত দৃষ্টি ফেলল মাহি’র হাতের দিকে। আনমনে বলে বসল,
“ তুমি এতো অবুঝ কেনো মুনলাইট?”
মাহি বেশ কথাটা। ত্বরিত ভ্রু গুটিয়ে সন্দিহান গলায় প্রশ্ন ছুঁড়ল,
“ কি বললে?”
তৎক্ষনাৎ সম্বিৎ ফিরল মিলার। মুখ ফস্কে বেরিয়ে যাওয়া কথাটায় অলক্ষ্যে জিভে দাঁত কেটে আমতা আমতা সুরে শুধালো,
“ না না…কিছু না। চলো, তোমায় ওয়াশরুম অব্ধি দিয়ে আসি।”
শরীরের অবস্থা খুব একটা স্থিতিশীল না হওয়ায় তর্কে গেল না মাহি। মুখটা আগের ন্যায় মলিন রেখে, মিলার হাত ধরেই এগোয় সামনের দিকে। কয়েক কদম নিঃশব্দে হাঁটলেও হঠাৎ করেই মাহি’র মুখে বুলি ফুটলো। ঘাড়টা সামান্য এদিক ওদিক নাড়িয়ে নরম কন্ঠে বলল,
“ মেইডেনকে দেখছি না যে! কোথায় উনি?”
থমকায় মিলা! তক্ষুনি থেমে গেল তার পাদু’টো। পাশ থেকে মাহি’রও থামতে হলো তার ওমন হুটহাট থেমে যাওয়াতে। সপ্তদশী আলগোছে ঘাড় বাকিয়ে তাকালো মিলার মুখপানে। মেয়েটা দৃষ্টি লুকচ্ছে। মুখখানা কাচুমাচু করছে রীতিমতো! এবারে মনটায় কেমন উচাটন পরিলক্ষিত হলো মাহি’র। সে তৎক্ষনাৎ সন্দিগ্ধ গলায় জিজ্ঞেস করে ওঠে,
“ কি হলো তোমার? আজ এমন উদ্ভট আচরণ করছো কেনো?”
মিলা তৎক্ষনাৎ জবাব দিলো না। খানিকক্ষণ ঢোক গিলে স্রেফ জানালো,
“ কিছু না চলো!”
মাহি এবার অনড় নিজ বাক্যে! ত্বরিত মিলার হাত থেকে নিজের কনুই ছাড়িয়ে নিয়ে, শত দূর্বলতা স্বত্বেও কঠিন গলায় আওড়াল,
“ কথা ঘোরাবে না মিলা। আমি বেশ টের পাচ্ছি, তুমি আমার কাছ থেকে কিছু লুকচ্ছো। এখন ভালোয় ভালোয় বলো সবটা!”
মিলা নিশ্চুপ! নজর ঠেকিয়েছে মেঝেতে। তা দেখে মাহি’র কেমন রাগ হলো মনে হচ্ছে! মেয়েটা দাঁত খিঁচে অন্যত্র মুখ ঘুরিয়ে আওড়াল,
“ চলে যাও আমার ঘর ছেড়ে। আর মেইডেনকে পাঠাও! যাও।”
মিলা মুখ বুঁজে শুনলো সবটা। মাহি’র কথাগুলোকে খুব একটা পাত্তা না দিয়ে, হাত বাড়িয়ে তাকে ধরতে গেলেই হাতটা কেমন ছো মেরে সরিয়ে নিলো মাহি। ঝাঁঝ দেখিয়ে ফের বলল,
“ ধরবে না আমায় তুমি! যাও মেইডেনকে ডাকো।”
মিলার বুঝি আর সহ্য হলোনা এহেন কথা। সে কেমন তিরিক্ষি মেজাজে তক্ষুনি বলতে শুরু করল,
“ মেইডেন, মেইডেন, মেইডেন! স্টপ টকিং এবাউট হার মুনলাইট। তোমার মুখে ওর নামটা শোভা পায় না। কেননা আজকে তোমার এহেন করুণ অবস্থার জন্য কেবলমাত্র সে-ই দায়ী।”
হতভম্ব মাহি! মিলার কথাগুলো বোধগম্য হয়নি তার। সে কেমন অবোধ চোখে তাকিয়ে আছে মিলার পানে। মিলার বড়ো মায়া হলো মাহি’র এহেন মুখখানা দেখে। সে খানিক রয়েসয়ে নজর ঝুঁকালো। অতঃপর ফের বলতে লাগলো,
“ গত চারদিন ধরে তুমি সেন্সলেস ছিলে মুনলাইট। তোমাকে অতিমাত্রায় সিডেটিভ ড্রা*গ*স দেয়া হয়েছিল। আর সেটা অন্য কেউ নয় বরং মেইডেন ইরা-ই দিয়েছিল তোমায়। তিনি শুধু এটুকু করেই থামেননি মুনলাইট, তিনি তোমাকে…. ”
বাকিটুকু বলতে গিয়ে হুট করেই গলা ব্যথা হয়ে গেল মিলার। চোখদুটো হয়ে উঠল ছলছল। এদিকে মাহি কেমন থমকে গিয়েছে। মুখখানায় তার লেপ্টে গিয়েছে ব্যথাতুর ছাপ! মস্তিষ্কে কড়া নাড়ছে হাজারো প্রশ্ন। সে এবার নিজ থেকেই চাপা স্বরে জিজ্ঞেস করে ওঠে,
“ আমাকে?”
মিলা বেশ সময় নিয়ে ঢোক গিলল বারকয়েক। নজর লুকিয়ে আবারও শুধালো,
“ তোমাকে… তোমাকে দিয়ে এসেছিলো সি-সিডের ঘরে। তারপর কী হয়েছে তা আমি জানিনা। তবে এটুকু শুনেছি, মনস্তার তোমায় আর…. সিডকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখেছে। আমি…”
বলতে বলতেই মিলা হঠাৎ টের পেলো পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মাহি কেমন ধপ করে বসে পড়েছে মেঝেতে। মিলা হকচকায়! তড়িঘড়ি করে নিজেও হাঁটু গেঁড়ে বসল মেঝেতে। দু’হাতে মাহি’র বাহুদ্বয় সামান্য ঝাঁকিয়ে ওঠে বলল,
“ এই মুনলাইট! আর ইউ ওকে?”
কথাটা আদৌও সপ্তদশীর কানে গেল কি-না কে জানে! মেয়েটা কেমন থমকে তাকিয়ে আছে শূন্যে। চোখদুটো পলকহীন, কার্নিশ বেয়ে নিরবে ঝরছে বাঁধহীন অশ্রু। সর্বাঙ্গে বয়ে যাচ্ছে স্পষ্টতর ঝংকার। মুখটা হা করে রাখা তার, বোধহয় নিশ্বাস টানতে ফের কষ্ট হচ্ছে বেচারির। মিলার বুক কেঁপে উঠল মাহি’র এরূপ অবস্থা দেখে। সে কেমন বিচলিত হয়ে মাহি’কে জড়িয়ে ধরতে গেলেই আচমকা হাত উঁচিয়ে বাঁধ সাধলো মাহি। থমকানো কন্ঠে ঘনঘন নিশ্বাস ফেলে বলল,
“ লিভ মি আলোন!”
মিলা তৎক্ষনাৎ বুঝলোনা কথাটা। অবোধের সুরে মাথা কাত করে সন্দিহান গলায় জিজ্ঞেস করল,
“ হুহ্?”
কথাটা শেষ হতে সেকেন্ড খানেক লেগেছে বোধহয়, এরইমধ্যে মাহি কেমন সর্বশক্তি দিয়ে চেঁচিয়ে ওঠে বলল,
“ আই সেইড লিভ মি আলোন!”
ভড়কায় মিলা! তৎক্ষনাৎ হতবাক হয়ে উঠে দাঁড়ায় বসা ছেড়ে। কিয়তক্ষন মাহির পানে দৃষ্টি ফেলে, পরক্ষণে গুটি গুটি পায়ে চলে যায় ঘর ছেড়ে। এদিকে মাহি কেমন হাসফাস করছে। দু’হাতে নিজের শরীরটা খামছে ধরছে বারংবার। ঘনঘন নিশ্বাস ফেলে কাঁদতে চাইছে মেয়েটা! তবে আশ্চর্য! গলা দিয়ে আওয়াজ বেরুচ্ছে না কেনো তার? মাহি আর বসে থাকার মুরোদে নেই। তক্ষুনি উদ্ভ্রান্তের ন্যায় দু’হাতে ভর দিয়ে হাঁটু ঠেকিয়ে এগুচ্ছে সামনে। কিয়তক্ষন বাদেই দূর্বল মানবী চলে আসে ওয়াশরুমের কাছে। ওয়াশরুমের দরজা ধরে ধরে কোনমতে উঠে দাঁড়ায় সে। গায়ের জোরে ভেতরে ঢুকে দরজা না লাগিয়েই চলে গেল শাওয়ার স্ট্যান্ডের নিচে। তড়িঘড়ি করে স্ট্যান্ডের সুইচ চাপার সাথে সাথে সপ্তদশীর গায়ের ওপর ঝপঝপিয়ে নামলো পানির বহর। বাইরে স্নোফল হচ্ছে, ভেতরের আবহাওয়াও ভীষণ ঠান্ডা। তারওপর সপ্তদশী ভুলক্রমে চেপে বসেছে ঠান্ডা পানির সুইচ! বরফগলা ঠান্ডা পানি শরীর ছুঁয়ে যেতেই গাকাঁটা দিয়ে উঠছে মাহি’র। বেচারি পানির নিচে দাঁড়িয়ে থেকে কাঁপছে থরথর করে। পাদু’টো টলছে তার, সে-ই সাথে ঠোঁট দু’টোও কাঁপছে তিরতির করে। মাহি কিয়তক্ষন একই ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে রইলো। কাঁপা কাঁপা চোখদুটো আলতো করে তাকালো সম্মুখের আয়নায়। যেথায় স্পষ্ট প্রতিবিম্বিত হচ্ছে সপ্তদশীর মুখখানা। চেহারার সে-কি করুণ অবস্থা হয়েছে! ঠোঁটের কোণ ফেঁটে গিয়ে কালচে দাগ বসেছে। গালদুটোয় এখনো আঙুলের ছাপ স্পষ্ট। কপালে বাঁধা মোটা ব্যান্ডেজ। কানদুটোয় ঝা ঝা করে উঠছে একটা কথাই!
“ তোমাকে সিডের ঘরে পাঠানো হয়েছিল। মনস্তার তোমাকে আর সিডকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখেছে।”
ত্বরিত চিৎকার দিয়ে নিজের মাথা চেপে ধরে মাহি। কাঁদতে কাঁদতে বেচারি বসে পড়ে মেঝেতে। উদ্ভ্রান্তের ন্যায় নিজের গালে একের পর এক চড় বসিয়ে হেঁচকি তুলে বলতে থাকে,
“ কেনো বিশ্বাস করলাম উনাকে? কেনো আমি এতো সহজে মানুষকে বিশ্বাস করে ফেলি? কেনো করি?”
মস্তিষ্ক ফাঁকা লাগছে মাহি’র। শরীরটা জ্বলে যাচ্ছে অদেখা আগুনে। সে তড়িঘড়ি করে নিজের গা ঘষতে লাগল। হাতের লম্বা লম্বা নখ দিয়ে গায়ের চামড়ায় আঁচড় দিয়ে যাচ্ছে অনবরত! যে-ই মেয়ে কখনো সুস্থ অবস্থায় কোনো পুরুষের দিকে চোখ তুলে তাকায়নি, শেষে কি-না তাকেই সিডেটিভ ড্রা *গ*স দিয়ে অন্য একটা পরপুরুষের ঘরে পাঠানো হয়েছিল? কথাটা মনে পরতেই গা গুলিয়ে ওঠে মাহি’র। নিজের শরীরটাকে ইচ্ছেমতো জখম করছে পাগল মেয়ে। দু’হাতে চুলগুলো খামচে ধরে ঠোঁট কামড়াতেই হঠাৎ মস্তিষ্কে টনক নাড়লো আরেক কথা। সে ঠিক আছে তো? তার সাথে উল্টাপাল্টা কিছু হয়নি তো? তড়াক ঢোক গিললো মাহি। একজন সুস্থ স্বাভাবিক মেয়ে থোড়াই উদাসীন হয় তার শরীর নিয়ে! মাহি তৎক্ষনাৎ নিজের দিকে দৃষ্টি ফেলল। নিজের দেহে আদৌও কোনো আমূল পরিবর্তন এলো কি-না তা দেখতে তৎপর হলো পরক্ষণে।
দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যা নামবার যোগাড়! এ নিয়ে ২০জন মেইড এসে খাবারের জন্য অনুনয় করে গিয়েছে মাহি’কে, মেয়েটা যেন একমুঠ হলেও অন্তত খায়। ডাক্তারদের পেসক্রিপশন অনুযায়ী সে এখনো বেশ দূর্বল। ঠিকমতো খাওয়া দাওয়া করে ঔষধ না খেলে, সে যে আবারও অসুস্থ হয়ে পড়বে। এহেন চিন্তা থেকেই মেইডরা বেশ ক’বার মেয়েটাকে বুঝিয়ে -সুঝিয়ে গিয়েছেন। কিন্তু উঁহুম! আজ মাহি কারো কথা শোনা তো দূর! কারোর দিকে ফিরে অব্ধি তাকায়নি। সারাক্ষণ জানালার সামনের কাউচের ওপর হেলান দিয়ে বসে থেকে তাকিয়ে আছে বাইরে। মিলা দূর থেকে দেখছে সব! তার ধারণা মতে, সপ্তদশী বোধহয় নিজের সাথে ঘটে যাওয়া খারাপ ঘটনা গুলোর জন্য ডিপ্রেসড। মিলা কয়েকবার গিয়েছে মাহি’র কাছে। সাধ্যমত অনুরোধ করেছে খাবার খাওয়ার জন্য। তবে কাজে দেয়নি তা। ঘরের দরজার কাছে বিষন্ন মুখে দাঁড়িয়ে থাকা মিলা এবার দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলল। মুখটাতে অন্ধকার লেপ্টে নিয়ে অগোছালো ভাবে দেহ বাকিয়ে করিডোরের দিকে এগোতেই হুট করে ধাক্কা খেলো কারো শক্তপোক্ত বুকের সঙ্গে। ঘটনার আকস্মিকতায় তক্ষুনি পেছন দিকে ছিটকে পড়লো মিলা। তাল সামলাতে না পেরে পাদু’টো ভেঙে পড়ে গেল মেঝেতে। সঙ্গে সঙ্গে বেচারি একহাতে চেপে ধরল কোমর। ঠোঁট গলিয়ে অস্ফুটে ব্যথাতুর শব্দ তুলে, চোখ কুঁচকে সামনে তাকাতেই দেখে — পাহাড়ের ন্যায় সটানভাবে দাঁড়িয়ে আছে এডউইন। মুখটা কেমন বিরক্তিতে কুঁচকে রাখা তার। মিলা খানিক ঢোক গিললো! তড়িঘড়ি করে নিজের নজর ঝোঁকাতেই শুনতে পেলো — এডউইনের দাঁত কিড়মিড় কন্ঠ!
“ চোখে দেখো না গ্লুপায়া (স্টুপিড)? হাটাঁর সময় চোখদুটোকে হাতে নিয়ে ঘুরো না-কি?”
মিলা ঠোঁট কামড়ে বসে আছে। চিবুক নামিয়েছে গলার কাছে! একহাতে কোমর ডলতে ডলতেই দেখল — সম্মুখ থেকে একখানা শক্তপোক্ত হাত বাড়িয়ে দিয়েছে তার পানে। মিলা ভয়ার্ত ঢোক গিলে দু’ধারে মাথা নাড়ায়। তক্ষুনি এডউইন দিয়ে বসল রামধমক!
“ নাটক করবে না বেয়াদব! এক্ষুণি ওঠো বলছি।”
এহেন ধমকে মিলার মতো ছোটখাটো মানুষটা কী আর ঘাড়ত্যাড়ামি করতে পারে? সে সঙ্গে সঙ্গে হাত উঁচিয়ে চেপে ধরে এডউইনের বাড়িয়ে রাখা হাত। এডউইন টান বসালো জোরেসোরে! মুহুর্তেই বসা ছেড়ে উঠে দাঁড়ায় মিলা। প্রাণটা বোধহয় এক্ষুণি হাতে চলে এসেছিল তার। এরইমধ্যে এডউইন ঝটকা দিয়ে ছাড়িয়ে আনলো নিজের হাত। গম্ভীর কন্ঠে খানিক গলা খাঁকারি দিয়ে জিজ্ঞেস করল,
“ মুনবার্ড কি করছে?”
মিলা হতভম্ব চোখে তাকায় এডউইনের মুখপানে। মোটেও সময় না নিয়ে হতবাক কন্ঠে শুধায়,
“ মুনবার্ড কে?”
এডউইন চিড়বিড়িয়ে উঠল কেমন! নাকমুখ কুঁচকে জানালো,
“ মেয়েটার কথা বলছি!”
মিলা ভ্রু উঁচাল। ঠোঁটদুটো গোল করে শব্দ তুলল খানিক। হাসি হাসি কন্ঠে জবাব দিলো,
“ ঘরেই আছে। কিন্তু… ”
“ কিন্তু?”
এডউইন ভ্রু গুটিয়েছে তৎক্ষনাৎ। কন্ঠে সন্দেহাতীত ভাব ঢেলে পরপর প্রশ্ন ছুড়ঁল কেমন। মিলার মুখাবয়বে পরিবর্তন নেমেছে এবার। মাথাটা হালকা নুইয়ে জানায়,
“ খাবার খাচ্ছে না মেয়েটা! শুধু কাঁদছে আর কাঁদছে। আমি সহ বাদবাকি মেইডরাও অনুরোধ করেছে খাবার খেতে কিন্তু তবুও খাচ্ছে না মেয়েটা! এমন করতে থাকলে তো সে আবারও অসুস্থ হবে।”
এডউইন গম্ভীর মুখে শুনলো সবটা। খানিক সময় নিয়ে পকেটে হাত গুঁজে পা বাড়ালো উল্টো পথে। পেছন থেকে মিলা চেয়ে রইল কেবল। আনমনে বিড়বিড়িয়ে বলল,
“ এতোদিন হলো প্যালেসে থাকছি অথচ আজ অব্ধি আমার নামটাও ঠিকঠাক মতো উচ্চারিত হয়নি লোকটার মুখে। আর এদিকে মাত্র ক’দিন হলো মুনলাইট এসেছে প্যালেসে আর ওমনি ওকে ডাকনাম দিয়ে ফেলেছে? আর আমাকে? ওহ হ্যাঁ, আমাকেও তো দিয়েছে — গ্লু পায়া(স্টুপিড) নাম! হুহ্!”
“ মনস্তার কোথায়?”
হাতে অস্ত্র নিয়ে দায়িত্বরত গার্ডস সটানভাবে দাঁড়িয়ে আছে দরজার কাছে। এডউইনের হুটহাট প্রশ্নে তারা মুখে উত্তর দিলো না অবশ্য। স্রেফ তর্জনী উঁচিয়ে তাক করল ছাঁদের দিকে। এডউইন ত্রস্ত পা বাড়ায় সেথায়। সম্পূর্ণ কাঁচের তৈরী গ্লাস হাউজটি! যার ছাঁদে রয়েছে পাতলা রেলিঙ বিশিষ্ট সুইমিংপুল। বাইরে যে পরিমাণে স্নোফল হচ্ছে, এতক্ষণে বোধহয় সুইমিংপুলের পানি জমে বরফ ঢাকা দিয়েছে।
ধুপধাপ জোরালো কদমে বিশালাকার রুফটপের দুয়ারের দ্বারে এসে দাঁড়ায় এডউইন। বাইরে ঝরের বেগে তুষারপাত হচ্ছে! সুইমিংপুলের পানি জমে বরফ বেঁধেছে বেশ। এডউইন ভ্রু গুটিয়ে কিছুক্ষণ এদিক ওদিক তাকিয়ে খুঁজল মনস্তারকে। তবে কোথাও দেখা নেই মহাশয়ের। সে এবার গম্ভীর মুখে উল্টোপথে পা বাড়াতেই হঠাৎ থেমে গেল কেন যেন। বিচক্ষণ মস্তিষ্কে তার হুট করে দানা বাধঁল সংশয়। সে তক্ষুনি পা বাড়ালো রুফটপে। কিছুটা সামনে এগুলে সুইমিংপুল, পাশে ঘন বরফে আচ্ছাদিত মেঝে! এডউইন এটুকু এগুতেই হাত-পা কেমন ঘষে যাচ্ছে বারবার। সুইমিংপুলের একদম কাছে এসে খতিয়ে খতিয়ে দেখে বুঝল — বরফের নিচে ডুবে আছে কেউ! শুধু ডুবে থাকা নয়, সে-তো রীতিমতো এহেন বরফ পানিতে সাঁতরাচ্ছে। এডউইনের কাঁশি উঠে গেল এহেন কান্ডে। বেচারা তড়িঘড়ি করে নিজের গায়ের ওভারকোটটা আরেকটু চেপে ধরল গায়ের সঙ্গে। ওদিকে এডউইনের কাঁশির শব্দে বরফের পাতলা আস্তরণ ভেঙে মাথা বের করল মনস্তার। ভ্রু গুটিয়ে কঠিন মুখাবয়বে তাকালো এডউইনের পানে! এডউইন দাঁড়িয়ে থাকতে পারছেনা ঠান্ডায়। বেচারার পাদু’টো কাঁপছে রীতিমতো। মনস্তার সেদিকে তেমন একটা পাত্তা দিলোনা। বরফের পাতলা আস্তরণ ভেঙে দু’হাত ছড়িয়ে চিৎ হয়ে সাতার কাটতে লাগলো আবারও। এদিকে তার ওমন উদ্ভট কান্ডে মাথা খারাপ হয়ে যাচ্ছে এডউইনের। এ লোকের গায়ে কী গন্ডারের চামড়া না-কি? এর ঠান্ডা লাগে না? অবশ্য এ-তো আর নতুন নয় তার জন্য। তবুও এডউইন বরাবরের ন্যায় আজও অবাক হলো। কিয়তক্ষন চুপ করে দাঁড়িয়ে থেকে গলা খাঁকারি দিয়ে কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বললো,
“ মনস্তার! আই হেভ সামথিং টু ইনফর্ম ইউ।”
মনস্তার শুনলো। উল্টো হয়ে সাঁতার কাটতে কাটতে আদেশ ছুড়ঁল,
“ ঝেড়ে কাঁশ!”
এডউইন বোকার মতো গলা ঝাড়ল তবে কাঁশি আর উঠল না। খানিকক্ষণ ভ্যাবলাকান্তর ন্যায় দাঁড়িয়ে থেকে অস্থির গলায় জানালো,
“ আপনি উঠে এলে সুবিধা হতো বলতে।”
মনস্টার বুঝি ভারী বিরক্ত হলো এরূপ বাক্যে। সে সাঁতার থামিয়ে শক্ত মুখে তাকালো এডউইনের পানে। বেচারা এডউইন আগে থেকেই মাথা নুইয়ে রেখেছে। মন্সটার বুক ফুলিয়ে নিশ্বাস ফেলে কটমট করতে করতে বেরিয়ে এলো সুইমিং পুল থেকে। গায়ে স্রেফ কালো রঙা একখানা ঢিলেঢালা পাতলা ট্রাউজার। গায়ের ফর্সা উদোম চামড়া কেমন লাল হয়ে গেছে তার। মুখটা হয়েছে গোলাপি! পেটের ছয়টি পেশির গঠন স্পষ্ট বেশ। পেশিবহুল ইস্পাত-দৃঢ় হাতদুটোর ফোলা ফোলা ভাঁজ কেমন স্পষ্টতর! যুবক একহাতে নিজের ওলফ কাট বাদামী চুলগুলো উল্টোদিকে ব্রাশ করতে করতে চলে এলো বরফ ঢাকা মেঝেতে। অতঃপর কোনদিক না তাকিয়ে হুট করেই গা এলিয়ে দিলো ওমন বরফের কোলে। এডউইন জ্ঞান হারাবে বোধহয়! মাথাটা দুদিকে নাড়িয়ে বেচারা এগিয়ে আসে একটুখানি। গা এলিয়ে শুয়ে থাকা মনস্তারের পানে দৃষ্টি কায়েম না করে তাকালো অন্যত্র। ফটাফট কন্ঠে বলতে লাগল,
“ মনস্তার! মেয়েটা জ্ঞান ফেরার পর থেকে না খেয়ে আছে। সে-ই কখন থেকে একাধারে কেঁদে যাচ্ছে! বলছিলাম কী আপনি যদি…. ”
কথাটা মুখ থেকে সম্পূর্ণ বেরোয়নি এখনো। তার আগেই শোনা গেল মনস্টারের খ্যাক খ্যাক কন্ঠ!
“ এ্যাই চাল চাল! হাওয়া আনে দে। এমনিতেই নিজের হ্যান্ডসাম বডির গরমে অতিষ্ঠ হয়ে আছি, তারওপর যখন-তখন ঐ বান্দীর মেয়ের নাকে কান্দন। যত্তসব! খেলে খাক, না খেলে ম’রে যাক। হু দা হেল কেয়ারস এবাউট দ্যাট?”
এডউইন আঙুল উঁচিয়ে কপাল চুলকালো। বিড়বিড়িয়ে আওড়াল,
“ আই থিংক দ্যাট হেল ইজ ইউ মনস্টার, হু কেয়ারস এবাউট হার।”
“ ডিড ইউ সে সামথিং?”
ত্বরিত দু’ধারে মাথা নাড়ায় এডউইন। একদম চোরের মতো মুখ মুছে কপট গম্ভীর মুখে বলে ওঠে,
“ নো মনস্তার! নাথিং।”
রাত দেড়টার কাছাকাছি! একহাতে সিগার, আরেকহাতে হুইস্কির বোতল চেপে হেঁটে আসছে মনস্টার। গায়ে কালো রঙা ওভারকোট। ভেতরটা উদোম! তিনি হাঁটার মাঝেই দুয়েকবার চুমুক বসাচ্ছে বোতলের মুখে। পায়ের গতি তার এগুচ্ছে মাহির কক্ষের দিকে। কক্ষের বাইরে দাঁড়িয়ে আছে গার্ডস! মনস্তারের কদমের শব্দ পেতেই ঘাড় ঝুঁকিয়েছে তারা। মনস্তার বলা নেই কওয়া নেই হুট করে ঢুকলো মাহির। ঘাড় বাকিয়ে বিছানার এদিক-ওদিক তাকিয়ে খুঁজল মেয়েটা। খানিকক্ষণ বাদে পেয়েও গেল তাকে। মাহি এখনো বসে আছে জানালার কাছে। জানালার কাচঁ উঠানো, শো শো করে ঢুকছে বাতাস। কক্ষের ফায়ার প্লেসের জ্বলন্ত আগুনটা নিভে গেছে অনেক আগে। মাহি চুপচাপ বসে আছে কেমন! গায়ে পাতলা শাল জড়ানো। মুখটা ঘুরিয়ে রাখা বাইরে। মন্সটার এক চুমুক টান বসালো হুইস্কির বোতলে। পরক্ষণে আঙুল উঁচিয়ে সিগারে লম্বা টান বসিয়ে ক্রুর কন্ঠে বলল,
“ এভাবে বসে বসে না খেয়ে থাকার চেয়ে, একেবারে জানালা থেকে লাফ দিয়ে নিচে পড়ে যা। এতে তুইও শান্তি, আমিও শান্তি!”
ঘাড় ঘোরায়নি মাহি। ঠায় বসে রইল নিজের মতো। মেয়েটা কী জানেনা? এতে মেজাজ চটে মুগ্ধের? না-কি জেনেও ইচ্ছে করে করছে এমনটা? মুগ্ধ দাঁতে দাঁত চেপে এগিয়ে আসে অনেকটা। হুইস্কি শুদ্ধ বোতলটা এক ঝটকায় মেঝেতে ছুঁড়ে ফেলতেই বোতলটা কেমন চুর্ণ বিচূর্ণ হয়ে ছড়িয়ে গেল একদিকে! মাহি এবার আঁতকে উঠল খানিক। রয়েসয়ে ঘাড় বাকিয়ে ছলছল চোখে তাকায় মুগ্ধের পানে। মুগ্ধ নজর তীক্ষ্ণ করল তা দেখে। মাহির অক্ষিপটে উপস্থিত অশ্রু দেখে ক্রুর হাসলো যুবক। ব্যঙ্গাত্মক স্বরে বলল,
“ নষ্টা মেয়েদের এই এক হাতিয়ার! আর কিছু পারুক বা না পারুক, কুমিরের কান্না দেখিয়ে যে কাউকে হাত করতে ঠিকই পারে।”
এহেন বাক্যে গা জ্বলে উঠে মাহির। নিজের শারীরিক যন্ত্রণার কথা ভুলে গিয়ে মেয়েটা দাঁড়াতে উদ্যোত হলো। তবে বালাইষাট! পাদু’টো আজ বড্ড দূর্বল তার। চট করে হাঁটু ভেঙে বসিয়ে দিলো তাকে। মুগ্ধের মুখাবয়বে পরিবর্তন ঘটেছে আবারও। সে হালকা ঝুঁকে এসে আঙুল উঁচিয়ে মাহির থুতনিটা স্পর্শ করতে গেলেই, তার হাতটা ছিটকে সরিয়ে দিলো মাহি। মুগ্ধ তৎক্ষনাৎ কটমটিয়ে ওঠে। দাঁত কিড়মিড় করে তাকায় মাহির নত মুখপানে। এদিকে দু-হাটুঁ মেঝেতে ঠেকানো। দূর্বল মাহি হালকা ঝুঁকে বসে আছে কেমন! মুখ দিয়ে কাশির সাথে সাথে বেরুচ্ছে লহুর ছিটেফোঁটা। ছোট্ট বদনখানি কাঁপছে তার। দু’ঠোটেঁর দুরত্ব বেশ ফাঁকা। বড় বড় নিশ্বাস টানতেও ভীষণ বেগ পেতে হচ্ছে মানবীর। সম্মুখেই সটান হয়ে দাঁড়িয়ে আছে মনস্টার। সপ্তদশী একপলকও তাকালো না তার পানে। দু-চোখ ভরে অঝোরে অশ্রু বিসর্জন দিয়ে কাঁদো কাঁদো কন্ঠে আওড়াচ্ছে,
মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ২০
“ আল্লাহর দোহাই লাগে, আপনার ঐ অপবিত্র হাতদুটো দিয়ে আমায় ছোঁবেন না। আমি আর পারছিনা আপনার এহেন অত্যাচার সহ্য করতে। আমি সত্যি এখন ক্লান্ত। একদম ক্লান্ত। বিশ্বাস করুন! আমার যদি আর একটু সাহস থাকতো, আমি সে-ই কবেই ম’রে যেতাম। কিন্তু আফসোস আমার! আমি এখানেও ভীতু। শুনুন!”
একমুহুর্ত থামল সপ্তদশী। মাথাটা ঠায় নুইয়ে রেখে, নাক টেনে ফের আওড়াল,
“ আমি কোনোদিন কারো কাছে কিছু চাইনি। বরাবরই মুখচোরা স্বভাবের মানুষ আমি। তবে আজ আপনার কাছে একটা কিছু চাইছি! দয়া করে আমায় একেবারে মে’রে ফেলুন। অনুরোধ করছি — এবার একেবারে শেষ করে ফেলুন আমায়।”

Golpo ta porte valoi lagtese , 2,3 ta part eksate disen apu
❤️❤️❤️