Home মিহি মিহি পর্ব ২৫+২৬

মিহি পর্ব ২৫+২৬

মিহি পর্ব ২৫+২৬
রুপন্তী সরকার

এইদিকে মিহি ছোট বেলার থেকেও অনেক বেশি সুন্দর হয়েছে। এখন সে সব কিছুতেই এক্সপার্ট। বাইক রাইডিং, বক্সিং, ক্যারাটে, ফাইটিং, মার্শাল আর্ট,সিঙ্গিং, ড্যান্সিং, সব পারে সে এক কথায় অলরাউন্ডার। আর ওকে অলরাউন্ডার হিসেবে গড়ে তুলেছে রিদ, হাতে ধরে সব শিখিয়েছে। কোর্স করিয়েছে। অবশ্য সে নিজেও করেছে। রিদ যেভাবে মিহি কে চেয়েছিলো মিহি ঠিক সেভাবেই নিজেকে উপস্থাপন করছে। এখন ওকে কারো উপর নির্ভরশীল হয়ে চলতে হয় না। সে নিজের একাই একশ। পড়াশোনার দিক থেকেও এগিয়ে আছে।রিদ কয়েক বছরে অনেক টাকা জমিয়েছে আর সেটা দিয়ে মিহিকে একটা R15 কিনে দিয়েছে এবং নিজে হাতে মিহিকে বাইক চালানো শিখিয়েছে। রিদ নিজেও বাইক রাইটিং করতে অনেক ভালোবাসে। আপাতত একটা বাইক যেটা মিহি বেশির ভাগ ব্যবহার করে।

আমজাদ সাহেব বসে ছিলেন এই সময় উনার মেয়ে কল্পনা আসলো।
“আব্বু একটা কথা ছিলো। অনেকদিন ধরে বলতে চাইছি তবে সাহস পাচ্ছিলাম না। তাই আজকে বলতে আসলাম”
আমজাদ সাহেব বললো
“বলো?”
” আমার রিদ কে খুব ভালো লাগে আব্বু আমি ওকে বিয়ে করতে চাই”
” এটা তো খুশির খবর মা। ওকে আমারও খুব পছন্দ। সব দিক দিয়েই ছেলেটা ভালো। দেখতে শুনতেও মাশাল্লাহ। আচার-আচরণের দিক থেকেও ভালো। তার চেয়েও বড় কথা ছেলেটা ভীষণ সৎ।”

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

“হ্যাঁ তুমি ওর সাথে কথা বলো”
“শোনো ওতো আপাতত তেমন কোনো কাজ করে না। আমার থেকে অবশ্য ভালো বেতন পায়। তবে আমি চাই না আমার মেয়ে জামাই শশুরের টাকায় চলুক। আমি ওকে কিছু টাকা দিবো। যেটা দিয়ে ও নিজের বিজনেস স্টার্ট করবে। তাছাড়া ও একটা শিক্ষিত ছেলে।”
-“আচ্ছা আব্বু !তুমি যা ভালো মনে করো তাই করো প্লিজ তাড়াতাড়ি।”
-“আচ্ছা মা!আমি দেখছি।” বলে আমজাদ সাহেব রিদের সাথে কথা,বলতে চলে যায়।নিজের অফিসে, কিছু কাজ আছে তার জন্য।

আমজাদ সাহেব বেরুতেই দেখা মিলে রিদের,সে গাড়িতে হেলান দিয়ে কোথায় যেনো তাকিয়ে আছে একটানা।আমজাদ সাহেব রিদের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে এগিয়ে যায়। কাছাকাছি যেতেও রিদের কোনো হুস নেই তাই তিনি রিদের পিঠে হাত রাখতেই রিদ চমকে উঠে। রিদ পাশফিরে তাকাতেই দেখতে পায় আমজাদ সাহেবকে।তাড়াতাড়ি ঠিক হয়ে দাঁড়ায়।

-“আরে হয়েছে হয়েছে,এতো ঠিক হতে হবে না। তুমিও তো আমার পরিবারেরই একজন।”বলে গাড়ির দিকে এগিয়ে যায়। সাথে সাথে রিদ ও এগিয়ে গিয়ে ড্রাইভারের সিটে গিয়ে বসে।
রিদ গাড়ি স্টার্ট করতেই আমজাদ সাহেব রিদকে বলেন,
-“আচ্ছা রিদ আমি তোমাকে যদি ভালো কিছু অফার করি তুমি কি রাজি হবে?”
রিদ আমজাদ সাহেবের কথায় কিছুটা বিচলিত হয়ে যায়। সে ভেবে পায়না কি হতে পারে,
-“জ্বী আঙ্কেল, বলেন। তারপর ভেবে দেখব”

আমজাদ সাহেব রিদের অস্থিরতা বুঝে যায়,তিনি মুচকি হেসে বলেন,
-“আসলে আমি ভেবেছি, তুমি তো শিক্ষিত চাকরি খোজলে তাও পেয়ে যাবে তাহলে ড্রাইভারি করার কি দরকার।আমি যদি তোমাকে টাকা দেই তুমি ব্যবসা দাঁড় করাতে পারবে?”
রিদ কিছু টা অবাক হলো কারণ আমজাদ সাহেব ওকে এতোটা বিশ্বাস করছে? উনি তো ওর বিষয়ে তেমন জানেও না। যদিও রিদ অনেক দিন ধরেই কাজ করে। রিদ গলা খাকারী দিয়ে বললো

” আমি একটু ভেবে আপনাকে জানাই?”
” বাবা এইখানে ভাবার কি আছে? তুমি নিজের মনে করে নাও। পরে যখন তোমার বিজনেস ভালো পর্যায়ে আসবে তখন তুমি আমাকে টাকাগুলো ফেরত দিয়ে দিও।”
রিদ রাজি হয়ে গেলো। কারণ ও একটা পড়াশোনা জানা শিক্ষিত ছেলে। যদিও রিদ এর আগে জবের জন্য এপ্লাই করছিলো তবে কোনটাতেই সিলেক্ট হতে পারেনি। এখন এতো ভালো একটা সুযোগ হাত ছাড়া করলে বোকামি হয়ে যাবে।
রিদ আবারো উনাকে বললো

” সব বুঝলাম বাট আমি কি বিজনেস দিবো সেটাই তো বুঝতেছি না”
“আরে ইয়াং ম্যান তুমি না টেক্সটাইল নিয়ে পড়াশোনা করেছ?”
” জ্বী আঙ্কেল”
“তাহলে এত চিন্তা কিসের? তোমার টেক্সটাইল দিয়েই শুরু করো, আর হ্যাঁ কবে থেকে শুরু করতে চাও আমাকে জানিও”

রিদ রাতে বাড়ি আসলো। মিহি ঘর বাড়ি পরিপাটি করে গুছিয়ে রেখেছে। রিদের জন্য রান্না করে রেখেছে। রিদ মিহির খুব কাছে আসলো।
“ভালোবাসি”
মিহি বললো
“নাটক। সারাদিন খোঁজ নাই এখন রাতে এসেছে ভালোবাসা দেখাতে”
রিদ মিহিকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে বললো

” ট্রাস্ট মি প্রিন্সেস প্রতি ঘন্টা প্রতি সেকেন্ড প্রতিটা মিনিট আমি তোমাকে মিস করি। তাও আমার পচাঁ বউ কথা শুনায়”
মিহি নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে বললো
“তাহলে যেই ভালো তার কাছেই যান আমার সাথে কিসের পিরিত”
” তো কার সাথে পিরিত করবো? ১৩ বছর থেকে তো সেই পচাঁ বউকেই পেলে পুষে বড় করলাম। এখন এই বুড়ো বয়সে অন্য মেয়ের কাছে কেমন করে যাবো? তাছাড়া ভালো মেয়ের খুব অভাব।”
” ও তার মানে যাওয়ার ইচ্ছে আছে? খুব ভালো। বেডা মানুষ এইরকমই লজ্জা লাগা উচিত তোমার।”
রিদ হেসে বললো

” কিসের লজ্জা? আমি কি অন্য মেয়ের কাছে গেছি?
মিহি আর কিছু না বলে রিদের খাবার বাড়তে বাড়তে বললো
” আজকে ক্যারাটে ক্লাসে একটা ছেলে এসেছে। ছেলেটা বেশ হ্যান্ডসাম। আজকে ওর সাথে ক্যারাটে প্র্যাকটিস করেছি। এত তাড়াতাড়ি যেতে হবে ও আমার জন্য অপেক্ষা করবে বলেছে।
এতোটুকু কথায় যথেষ্ট ছিলো রিদের জন্য। খাবারের প্লেট ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে মিহির থুতনি চেপে ধরলো
” ছেলেদের সাথে এতো কিসের কথা তোর? ওতো ক্যারাটে প্র্যাকটিস মারাতে হবে না। আমার সাথে প্র্যাকটিস কর। কালকে থেকে ক্লাসে যাওয়ার কোন দরকার নেই। নেক্সট টাইম যদি শুনি তুই ছেলেদের সাথে কথা বলেছিস তাহলে তোর খবর আছে।”

মিহি ও রিদের নাক বরাবর হালকা একটা পান্স মারলো
” এতো মেয়েদের কাছে যাওয়ার শখ কেন তোমার? নিজে যখন বলো তখন ষোল আনা? আর আমার বেলায় চার আনা?”
” মেরে বিল্লি মুঝেহি ম্যাঁও? এতো দিন ধরে বক্সিং শিখছো হাতে জোর নেই কেন? এই টুকু ঘুষিতে ইদুরও মরবে না। আমার সব টাকা নষ্ট। ছি ছি।
মিহি রিদের কাছে গিয়ে বললো
” তুমি বলেই আস্তে পাঞ্চ মেরেছি। নইলে মিহি রায়ান চৌধুরীর হাতে একটা ঘুসি খেলে টানা ২ বছর প্যারালাইস হয়ে থাকতে হবে”

রিদ মনে মনে খুশি হয় । কারণ মিহি ভুল বলে নি তার প্রমান মিহির হাতে হালকা পাঞ্চ ও বেশ জোরে লেগেছে। রিদ মুলত মিহিকে জেলাস করতে চেয়েছিলো। কিন্তু কেস পুরো উল্টো হয়ে গেলো
মিহি আবার রিদ কে খাবার বেড়ে দিলো
রিদ মিহিকে জড়িয়ে ধরে বললো
” খাইয়ে দাও”
মিহি রিদকে খাইয়ে দিলো। রিদ খেতে খেতে বললো
” আজকে অভ্র আসে নি?”
” না অভর কাজ আছে।”
“ওও আচ্ছা,”

এক বছর পর,
আজ রিদের সবচেয়ে বড় টেন্ডার পাওয়ার কথা।আজকে টেন্ডারের জন্য তিনটা কোম্পানি একসাথে।এর মধ্যে রিদের কোম্পানি বাকিদের থেকে এগিয়ে।আর এই টেন্ডার পেলে দেশে তো টপ ওয়ানে আছেই রিদের কোম্পানি তখন দেশের বাহিরেও যাবে।এর জন্য রিদ অনেক খুশি,আর মিহি ও, আজকে নামাজ পড়ে স্পেশালি রিদের জন্য নামাজ পরেছে দোয়া করেছে সে,তার স্বামীর জন্য আল্লাহ তায়া’লার কাছে।

রিদ সন্ধ্যাবেলায় তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে মিহির কপালে চুমু দিয়ে বেরিয়ে যায় তার মিটিং এর উদ্দেশ্যে। গাড়িতে উঠে বসে স্টিয়ারিং হাতে চেপে বসে, আর গাড়িটি এগিয়ে যেতে থাকে। রিদ ড্রাইভ করতে করতে ভাবনায় ডুবে যায়।
ঠিক একবছর আগে তার অবস্থা কি ছিলো আর এখন কি অবস্থা হলো।সেদিন যদি আমজাদ সাহেব এমন প্রস্তাব রিদের কাছে না রাখতেন,তাহলে হয়তো রিদ আজকে এই পর্যায়ে আসতেই পারতো না বা আসলেও অনেক টা সময় লেগে যেতো। এখন রিদের নিজের চার পাঁচটার বেশি লাক্সারি ম্যানশন রয়েছে। আল্লাহর রহমতে টাকার কোন অভাব নেই। সে আমজাদ সাহেবের কাছে খুবই কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে।

একবছর আগে রিদ আমজাদ সাহেবের কাছ থেকে প্রথমে টাকা নিয়ে একটা ছোটখাটো গার্মেন্টস দেয় তারপর সেখান থেকে তার গার্মেন্টসের কাপড় গুলো আমজাদ সাহেব তার বন্ধুর সাথে কথা বলে এগুলোকে বিদেশে রপ্তানি শুরু করে।তখন থেকেই রিদ আস্তে আস্তে তার গার্মেন্টস টা বড় করতে থাকে। আর এক এক করে শাখা দেয় একেক বিভাগে আর জেলায় জেলায়। সে ধীরে ধীরে হয়ে উঠে শীর্ষ ব্যবসায়ি।

ভাবনার মাঝেই সে একটা বিশাল অট্টালিকার সামনে এসে গাড়ি থামায়।আর গাড়িটা পার্কিং করতেই দেখা মিলে তার ম্যানেজার আকাশের সাথে। দু’জন কথা বলতে বলতে সেই বিশাল অট্টালিকার ভিতরে প্রবেশ করে।
রিদ আর তার এসিস্ট্যান্ট আকাশ কনফারেন্স রুমে প্রবেশ করতেই প্রথমে দেখা মিলে আমজাদ সাহেবের সাথে।রিদ আমজাদ সাহেবের সাথে হ্যান্ডসেক করে বুকে জড়িয়ে নেয়।আর বলতে থাকে,
-“আঙ্কেল আপনি না থাকলে আমি এতোদূর আসতেও পারতাম না। আমি আপনার কাছে অনেক অনেক কৃতজ্ঞ।
আমজাদ সাহেব হেসে জবাব দিলেন,

-“ঠিক আছে এতো ফর্মালিটি করতে হবে না বাবা। কিন্তু এর বদলে তোমার থেকে কিছু চাওয়ার আছে।”
রিদ ব্যাকুল হয়ে জানতে চায়,
-“জ্বী আঙ্কেল একবার বলুন। আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করবো করার।”
-“আগে টেন্ডারটা তোমার হাতে আসুক,তারপর না হয় বলবো।
তাদের কথার মধ্যেই হাজির হোন আরাফ রায়ান চৌধুরী । রিদ আমজাদ সাহেবের দিকে একবার তাকিয়ে আবার সামনে তাকায়।রিদ সামনের মানুষটাকে দেখে ঠোঁটের কোণে বিদ্রুপ মাখা হাসি টানে।
আরাফ রায়ান চৌধুরী অনেক খুশি হয় রিদকে দেখে। উনি সব সময় আড়াল থেকে রিদের খোঁজ নিয়েছে। উনি যখন জানতে পারে রিদ এতো দূর এসেছে তখন তিনি খুশিতে কেঁদে দেই। উনার নিজের দোষে রিদ বিগত ১৩ বছর উনার সাথে কথা বলে নি। কিন্তু আড়াল থেকে ঠিকই দুজন দুজনের খোঁজ খবর রেখেছে। আরাফ রায়ান চৌধুরী অনেক চেষ্টা করেছে রিদ কে হেল্প করার কিন্তু রিদ কখনো সুযোগ দেই নি। তবে তিনি ভীষণ খুশি। রিদ উনার সাহায্য ছাড়াই নিজেকে প্রমান করে দেখছে।
আরাফ রায়ান চৌধুরী রিদের উদ্দেশ্য বললো

” কংগ্রাচুলেশন বাবা। তুমি আরো অনেক দূর এগিয়ে যাও।”
রিদ মনে মনে খুব খুশি হয়। আরাফের উদ্দেশ্য বললো
” থ্যাঙ্ক ইউ”
কিছুক্ষণের মধ্যেই মিটিং শুরু হয়ে গেল। সব আপাতত ঠিকঠাক মতোই চলছে। আরো তিন ঘন্টা মিটিং চলার পরে ডিল ফাইনাল করা হবে।

এইদিকে…
মিহি পেট প্রচন্ড ব্যথা করতে থাকে। এই এক ঝামেলা প্রতিবার পিরিয়ড হলে অসহ্য ব্যথা। ছোট বেলা থেকেই মিহির পিরিয়ড হলে হালকা পেট ব্যাথা হয়। তখন রিদ মিহির পেটে গরম জলের সেঁক দিয়ে দিতো। সেক দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই পেটব্যথা অনেকটা কমে যেতো। তবে আজকে এতো তীব্র ব্যথা হওয়ার কারণ কি। মিহির জীবনেও এতো তীব্র ব্যথা কখনো হয়নি। মিহির মনে হচ্ছে যেতো এখনি মারা যাবে। বাসায় রিদ ও নেই কখন আসবে কে যানে। মিহিকে দেখাশোনার জন্য বাসায় রিদ কিছু মহিলা স্টাফ রেখেছে। তবে ওরাও ছুটিতে আছে। পুরো বাড়িতে মিহি একাই। উঠে দাঁড়ানোর মত শক্তি পাচ্ছে না। পেটের ব্যাথায় হাউমাউ করে কান্না করতে থাকে। বার বার রিদের নাম নিয়ে কান্না করছে। মিহি একবার ভাবলো অভ্রকে কল দিবে। কিন্তু অভ্রকে কি করে বলবে ওর সমস্যার কথা। মিহি না পেরে রুমের একটা কর্নারে গিয়ে গুটিসুটি হয়ে বসে। মনে হচ্ছে কেউ পেটের মাংস ছিঁ*ড়ে নিচ্ছে।

এইদিকে মিটিং প্রায় শেষ এখন কন্টাক্টে সাইন করা হবে। রিদ সাইন করতে যাবে এমন সময় ওর কল আসে। ফোনের স্ক্রিনে তাকিয়ে দেখে প্রিন্সেস নামটা জ্বলজ্বল করছে। রিদ একটু অবাক হয় কারণ মিহি সাধারণত ওকে কল করে না। রিদ কাঁপা কাঁপা হাতে ফোন রিসিভ করে বলে
“হ্যালো প্রিন্সেস?”
মিহি নিরব কন্ঠে বললো
“পচা লোক”
রিদ বলে
“হ্যাঁ প্রিন্সেস?”
মিহি আবারও নিরব কন্ঠে বললো
” তোমার কি আসতে লেট হবে?”
রিদ বললো
“আসছি”

এই বলেই রিদ কনট্রাক্ট সাইন না করেই রুম থেকে বেরিয়ে যায়। ওর মনে হচ্ছে মিহির কিছু একটা হয়েছে কারণ মিহি এতো নিরব কন্ঠে কথা বলার মত মেয়ে না। তাছাড়া মিহি যানে রিদ জরুরি কাজে এসেছে। তাই রিদ বাসায় কখন যাবে এটা শোনার জন্য নিশ্চয়ই ওকে কল করবে না। রিদের বুক কাপঁছে। কেনো জানি খুব অস্বস্তি হচ্ছে। রিদ গাড়িতে উঠে জোরে জোরে ড্রাইভ করতে থাকে।
মিটিং এর সবাই অবাক হয়ে যায়। কি এমন ইম্পর্টেন্ট কাজ ওর? এত বড় ডিল ফাইনাল না করেই ও চলে গেলো? আজকের দিনে এর থেকে বড়ো জরুরী কাজ হতেই পারেনা।
আরাফ রায়ান চৌধুরী ক্লাইন্টকে বললো

“আমি ওর হয়ে সাইন করে দেই?”
লোকটা বলে
” আপনি সাইন করলে কিভাবে হবে? একজনের টা আরেক জন সাইন করার কোনো নিয়ম নেই। তাছাড়া আপনার কন্ট্রাক্ট বাতিল হয়ে যাবে”
আরাফ বললেন
” ও আমার ছেলে। ওর হয়ে আমি সাইন করে দিচ্ছি। আমার কন্ট্রাক্ট বাতিল করে দেন কোন সমস্যা নেই”
এই বলেই উনি সাইন করে দেই। লোকটা বলে
” আপনার ছেলের কি এমন জরুরী কাজ হতে পারে আজকের দিনে? ওর কোন হুশ নেই এত বড় কন্ট্রাক্ট সাইন না করে ও চলে গেলো? ও জানে না এই ডিল টার জন্য আমরা বিগত এক বছর ধরে অপেক্ষা করছি। একটা মানুষ কতটা ই রেস্পন্সিবল হতে পারে।”
আরাফ রায়ান চৌধুরী

” হয়তো ওর প্রিন্সেসের কিছু একটা হয়েছে ওই জন্যই ও এইভাবে চলে গেলো”
লোকটা বলে
” হোয়াট? ইয়ার্কি হচ্ছে আমার সাথে? একটা মেয়ে কল দিয়েছে বলে ও কন্ট্রাক্ট সাইন না করেই চলে যাবে?”
আরাফ রায়ান চৌধুরী হালকা হেসে বলে
“এই ডিল তো কিছুই না। ওর বউয়ের জন্য ও যেকোনো কিছু করতে পারে। শুধুমাত্র ওর বউকে মেনে নেই নি বলে বিগত ১৩ বছর ও আমার থেকে দূরে থেকেছে আমার সাথে একটা কথাও বলে নি। তাহলে ভাবেন ও কতোটা ভালোবাসে ওই মেয়েটাকে। বাদ দেন পৃথিবী এদিক ওদিক হয়ে যাক ওর সেদিকে কোন মাথা ব্যথা নেই। ওর প্রিন্সেস ঠিক মানে সব ঠিক।”
লোকটা অবাক হয়ে বললো

” নিঃসন্দেহে মেয়েটা ভাগ্যবতী। আমি বলব প্রতিটা পুরুষ মানুষেরই এমন হওয়া উচিত। কন্ট্রাক্ট তো আসবে আর যাবে।”
এসব দেখে আমজাদ সাহেবের মাথায় কিছুই ডুকছে না। রিদ বিবাহিত? উনি কাওকে কিছু বললো না। রিদের সাথে পরে কথা বলবে।
এইদিকে রিদ তাড়াহুড়ো করে বাড়ির ভেতরে ঢুকে। রুমে ঢুকেই দেখতে পাই। মিহি কাচুমাচু হয়ে রুমের এক কর্নারে বসে ব্যাথায় ছটফট করতে থাকে। রিদ দৌড়ে মিহির কাছে যায়।
বুকের ভেতর আগলিয়ে নেই মিহি কে। পুরো মুখে চুমু দিয়ে বলে

“কি হয়েছে পাখি?”
মিহি কিছু না বলে কান্না করতে থাকে। রিদ মিহি কে কোলে নেই। কোলে নিয়েই দেখতে পাই হাতের মধ্যে রক্তের ছাপ। রিদ বুঝতে পারে মিহির কি হয়েছে। মিহি কে বিছানার বসিয়ে দিয়ে বলে
“খুব পেট ব্যাথা করছে তাইনা?”
মিহি কিছু বলে না।
রিদ মিহি কে কোলে নিয়ে বাচ্চাদের মতো ঘুম পাড়াতে থাকে। যদিও মিহি এখন বড় হয়ে গেছে। তবে রিদ মিহি কে এখনো বেবি ট্রিট করে।

মিহি পর্ব ২৩+২৪

কোলে নিয়ে হেটে হেটে ঘুম পাড়াতে থাকে। কিছুক্ষণের মধ্যেই মিহি ঘুমিয়ে পড়ে। এরপর মিহিকে বিছানায় শুইয়ে দেয়। তারপর গায়ের কোট টা খুলে কিচেনে চলে যায় জল গরম করতে। বেচারি পোশাকও চেঞ্জ করার সময় পাইনি। জল গরম করে একটা হট ব্যাগে করে নিয়ে আসে।
মিহির পাশে ঘুমিয়ে ওর পেটে হালকা করে গরম জলের সেঁক দিতে থাকে। এভাবেই সারারাত ধরে পেটে গরম জলের সেঁক দিয়ে দেয়।
সকাল বেলা…..

মিহি পর্ব ২৭