মিহি পর্ব ৩৯
রুপন্তী সরকার
রিদ সোজা বাড়িতে চলে আসলো। মিহি শুয়েই ছিলো রিদ এসেই ওকে জড়িয়ে ধরলো। মিহি রিদের মাথায় আলতো করে হাত রেখে বললো
“কি হয়েছে পচাঁলোক?”
“চুমু দাও তো টেনশনে আছি”
“কিসের টেনশন?”
“চুমু দাওওও”
“আগে বলো”
“আগে চুমু দাওওওওও দাওওওও দাওওও দাওও নাাাা”
মিহি রিদের ঠোঁটে টকটা চুমু দিলো। রিদ হেসে বললো
“বাহ ভালোই তো উন্নতি হয়েছে। আগে চুমু চাইলে গালে দিতে। এখন না বলতেই ঠোঁটে?”
মিহি কিছুটা লজ্জা পেয়ে গেলো। ও কি ইচ্ছে করে দিতে চেয়েছে? ভুল করে হয়ে গেছে। রিদ মিহি কে নিজের দিকে ঘুরিয়ে নিয়ে বললো
“তুমি শুরু আমার। মনে থাকবে? কার বলতো?”
মিহি বললো
“তোমার”
“এই তো জানবাচ্ছা সব বুঝে। এখন চুমু দাও।
মিহি চুমু দিলো। রিদ বেরিয়ে গেলো। অফিসে কাজ আছে।
মিহি কে বললো আজকে ওরা ডিনারে যাবে। মিহি যেনো সন্ধ্যার দিকে তৈরি হয়ে থাকে। এই বলেই রিদ চলে গেলো।
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
আজকে একটু কাজের চাপ টা বেশি। রিদ কিছু ফাইল চেক করে ওইগুলো তে সাইন করে দিলো। এর মধ্যেই দরজাই একজন নক করলো। রিদ তাকিয়ে দেখে কল্পনা এসেছে। রিদের মুখে বিরক্তির ছাপ দেখা গেলো। কল্পনা রিদের কাছে এসে বললো
” রিদ একটু কথা ছিলো”
“কি কথা? সেদিন আমার বউয়ের কাছে পিটুনি খেয়ে শিক্ষা হয় নি? আজকে আরো চাই?”
“না রিদ আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি আমাকে ক্ষমা করা যায় না?”
এই বলেই কল্পনা হাউমাউ করে কান্না শুরু করলো। রিদ মহা মুশকিলে পড়ে গেলো। এভাবে কান্না করলে মানুষ কি ভাববে।
“দেখুন এটা কান্না করার জাইগা না আপনি প্লিজ আসতে পারেন।”
“রিদ আমাকে কিছু সময় দিবে? আমার ব্লাড ক্যান্সার ধরা পড়েছে। হয়তো বেশি দিন বাঁচবো না। মরে যাওয়ার আগে নিজের ভুলের ক্ষমা চাইতে আসলাম। আমাকে প্লিজ ক্ষমা করে দাও”
রিদ ওর কথা শুনে কিছুটা নরম হলো।
“বলুন কি বলবেন?”
“রিদ এইখানে বললে বিষয় টা কেমন দেখাই আমরা বরং একটা ক্যাফে তে গিয়ে বসি? কফি খেতে খেতে বলবো চলো।”
“আমার ওতো টাইম নেই এইখানেই বলুন”
“প্লিজ রিদ একটা কথা রাখো।”
রিদ কিছুক্ষণ ভেবে রাজি হয়ে গেলো। ওরা একটা ক্যাফে তে গিয়ে বসলো। কল্পনা রিদ কে কেঁদে কেঁদে ওর মনের কথা গুলো বলে। রিদের কাছে কথাগুলো শুনতে খুব বিরক্ত লাগছে কিন্তু আশপাশে মানুষ বলে কিছু বলতে পারছে না। রিদ কল্পনা কে বললো
“আমি আপনাকে শুরু থেকেই বোনের নজরে দেখি আমার ঘরে বউ আছে। আপনি ভালো দেখে বিয়ে করে সুখে সংসার করুন”
“এভাবে বলো না রিদ আমি তোমাকে ভালোবাসি অনেক ভালোবাসি”
এই বলেই কল্পনা রিদের হাতের উপর মাথা রেখে কান্না শুরু করে। রিদ ওকে ছাড়ানোর চেষ্টা করছে কিন্তু ও কিছুতেই রিদের হাত ছাড়ছে না। এই দৃশ্য মিহি দূর থেকে দেখতে পাই। হাতে থাকা ফুলের তোড়া টা হাত থেকে পড়ে যায়। মিহি অভ্রর সাথে ফুল পট্টি এসেছিলো রিদের পছন্দ মতো ফুল নিতে। ভেবেছিলো ফুলগুলো দিয়ে ঘরটা সুন্দর মতো সাজাবে। কিন্তু ফুল কিনার পর ফুল পট্টির অপজিটে একটা ক্যাফেতে রিদের সাথে একটা মেয়েকে বসে থাকতে দেখে মিহির পৃথিবী ঘুরে উঠলো। চোখ দিয়ে আগুন বের হচ্ছে। অভ্র মিহি কে বললো
“মিহি দেখো ওইটা হয়ত রিদের কোনো ক্লাইন্ট তুমি রাগ করো না”
“না ওইটা কোনো ক্লাইট না। সেদিন ওই মেয়েটা কে আমি মেরেছিলাম। কিন্তু আজকে পঁচালোক ওকে নিয়েই ক্যাফেতে এসেছে বাহ”
অভ্র কিছু টা অবাক হয়ে বললো
“মেরেছিলে মানে? এটাই ওই কল্পনা?
” হুম। মনে হচ্ছে গিয়ে গলার উপর পা তুলে দিই। কিন্তু আজকে আর কিছু বলবো না। যেই মানুষ টা আমার রাগের মুল্য দেই নি তাকে আর কিছু বলার নেই”
এই বলেই মিহি ছুটে গেলো। অভ্র দৌড়ে রিদের কাছে গিয়ে বললো
“ভাই তোকে আর এই মহিলাকে টুইংকেল একসাথে দেখে ফেলেছে। এখন রেগে মেগে অস্থির”
রিদের হাত পা কাঁপতে শুরু করলো। কল্পনা রিদের হাত ধরতেই রিদ টেনে একটা থাপ্পড় মেরে দিলো।
“খবরদার ঢলা ঢলি মারাবেন না। বাল আপনার জন্য বউ ভুল বুঝলো এখন বাসায় গেলে কি করবে?”
রিদ ছুটে বেড়িয়ে গেলো। অভ্র কল্পনা কে মুখ ভাসিয়ে বললো
“উম শখ কতো। বুইড়া ধামরীর বয়সে খুকি সাজতে আমার বন্ধুর হাত ধরে কান্না মারাচ্ছে। ফালতু বুইড়া বেডি”
এই বলেই অভ্র রিদের পেছন পেছন চলে গেলো। এইদিকে কল্পনা বলে উঠলো
“হোয়াট? আমি বুড়ো? ফালতু ছেলে তোর বিয়ে হবে দেখিস। অকালে মরবি শালা”
অভ্র পেছন থেকে চিল্লিয়ে বললো
“চেম টু ইউ।”
কল্পনা রাগে দুঃখে চলে গেলো…
এইদিকে রিদ মিহির পেছন পেছন এসে বললো
“প্রিন্সেস প্লিজ ভুল বুজো না বিশ্বাস করো আমি যেতে চাই নি ওর নাকি ব্লাড ক্যানসার ধরা পড়েছে ও আমাকে কিছু বলতে চাই তাই গিয়েছিলাম।”
মিহি তেড়ে এসে রিদের গলা ধরলো
“ওর জন্য এতো দরদ তোমার? তো যাও না ওর কছেই যাও”
“পা ধরি পাখি রাগ করো না। আর কখনো এমন করবো না।”
“ধ্বংস করে দেবো সব”
এই বলেই মিহি তেড়ে গিয়ে কাঁচের একটা গ্লাস ফেলে দিলো। এরপর একটা ফুলদানি ফেলে দিলো। একটা কাঁচের টেবিল ছুড়ে মারলো রিদের পায়ের কাছে। মিহির এইরকম রাগি মূর্তি দেখে রিদের গলা শুখিয়ে গেলো। মিহি তান্ডব শুরু করে দিয়েছে। একেরপর এক জিনিস ভাঙছে। রিদ না পেরে নাটক করে মাটিতে পড়ে গেলো। এতোদিন বউ ওর ভয়ে নাটক করে মটকা মেরে পড়ে থাকতো এখন ও বউয়ের ভয়ে নাটক করছে। ভাবলেই হাসি পাই। রিদ কে পড়ে যেতে দেখে মিহি ছুটে হেসে রিদের মাথা ওর কোলে রাখে।
মিহি পর্ব ৩৮ (২)
“কি হয়েছে তোমার। পঁচালোক চোখ খুলো না”
মিহি কান্না করতে করতে কথা গুলো বললো। মিহওর কান্না দেখে রিদ একটা চোখ খুলে দিলো। এরপর টুপ করে ওর গালে নাকে চুমু খেয়ে নিলো।
“শান্ত হও বউ। এতো রাগ করতে নেই”
“তোমার কি ব্যাথা লেগেছে?”
“না জান ব্যাথা লাগে নি”
