মেজর কারদার পর্ব ৪৭
ফিনারা ঝুমুর
কক্ষের অভ্যন্তরে স্নিগ্ধ সকালের প্রথম রোদ ঘোরাফেরা করছে। হাতে গরম কফির পেয়ালা নিয়ে জানালায় দাঁড়িয়ে সকালের নিভৃত মাধুর্য উপভোগ করছেন ময়ূরী।
“কিছু বলবে?”
নিজের পিঠের পেছনে কারো শাণিত উপস্থিতি টের পেতেই নিঃশব্দে প্রশ্ন ছুড়ে দেন তিনি।তার একদম গা ঘেঁষে এসে থামে সেই গমগমে অস্তিত্ব। শূলের মতো বিঁধে যাওয়া বজ্রনিরেট কণ্ঠে পালটা প্রশ্ন হাঁকায় সে,
“তানভীর ইভানকে হায়ার কে করেছে? আমার ছোট বোনের দিকে অত বাজে হাত এগোচ্ছে কেন?”
পরপর দুটো কঠোর প্রশ্ন শুনে অলস ভঙ্গিতে পাশে চোখ ফেরান ময়ূরী। নিজের ঔরসজাত সন্তান প্রহরের পুরুষালী কায়ার দিকে তাচ্ছিল্যের মুখ বাঁকিয়ে তাকান। প্রহরের পুরো শ্যামলা আদলে যেন হায়দারদের একচ্ছত্র রাজত্বের দাপট ও মেজাজ থমথম করছে।
ময়ূরী ওষ্ঠের কোণে এক চিলতে অর্ধাকৃতির কুটিল হাসি ফোটান। তাতে তাচ্ছিল্য, অবজ্ঞা আর সীমাহীন প্রতিহিংসার তীক্ষ্ণ ছোঁয়া স্পষ্ট। ছেলেকে কটাক্ষ করে শুধান,
“তা হঠাৎ সেই পতিতার গর্ভের সৎ বোনের প্রতি তোর এত উপচে পড়া দরদ উতলে উঠল কেন, প্রহর?”
“সৎ বোন যদিও বা হয়, ওর শরীরে ধেয়ে চলা রক্তটা অন্য কারোর নয়! একই বাবার রক্ত বিরাজমান ওর শিরায় শিরায়।”
ময়ূরীর কৃষ্ণ গহ্বরের মতো গভীর আঁখিদুটো আচমকা তীব্র হিংসায় জ্বলজ্বল করে ওঠে। চোখের সাদা অংশ নিমেষে রক্তবর্ণ ধারণ করে। থরথর করে কাঁপা বাজখাঁই স্বর ছিটিয়ে গর্জে ওঠেন তিনি,
“এক অজাত- histeria, পতিতাতূল্য নারীর গর্ভজাত কালঙ্কিত সন্তানের গায়ের রক্ত? আর সেটাকে তুই বলছিস পবিত্র? ওই রক্তের মধ্যে কোনো পবিত্রতা অবশিষ্ট আছে নাকি?!”
“যাকে নিয়ে এত বড়াই করো, সে কি আদৌ তোমায় কোনোদিন ভালোবেসেছে? যার হিংসায় অন্ধ হয়ে নিষ্পাপ একটা মেয়েকে আত্মহত্যার পথ বাতলালে, তার মনে কি এক কণা জায়গাও কোনোদিন পেয়েছ? ঈর্ষার বশ্যতা মেনে নিয়ে যাকে নিজের হাতে হত্যা করলে, পেরেছ কি তার অস্তিত্ব এই হৃদয় থেকে বিলীন করতে? পা—রো—নি! ইউ আর আ কমপ্লিট লুজার—মিসেস ময়ূরাক্ষী আফসার ময়ূরী!”
ময়ূরীর ধৈর্যের পারদ ধীরলয়ে ভাঙতে শুরু করল। তীব্র প্রতিহিংসার অনলে মাথা নোয়াচ্ছে তার সত্তা। হাতের আঙুলের খাঁজে চেপে রাখা কফির পেয়ালাটার ওপর প্রচণ্ড বল প্রয়োগ করছেন তিনি। যেন এক নিমেষেই সেটা চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাবে। কঠোর হিংস্রতায় ঘিরে ফেলে নিজের ভেতরের সুপ্ত পশুকে। দাত খিঁচে গর্জাতে থাকেন,
“ও এক বিষাক্ত কালনাগিনী ছিল! গ্রাস করেছিল আমার সাজানো সোনার সংসার! মেরে দিয়েছি তাকে, পরম বেশ করেছি!”
প্রহর নিজের গর্ভধারিণীর দিকে আর সামান্যতম সম্মান নিয়ে তাকাতে পারল না। ওর সুঠাম বুকের ভেতরে এক পরম হিংস্র রমণীর রূপ স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। অতীতে চেনা সেই কোমলমতি মায়ের সাথে বর্তমান ময়ূরীর আকাশ-পাতাল পার্থক্য! এ যেন উত্তর আর দক্ষিণ মেরুর দুই সম্পূর্ণ অচেনা বাসিন্দা।
“ভুল করেছ! দোষ তো কেবল একা সেই মরহুমার ছিল না! তোমার এই সো-কল্ড পেয়ারা স্বামীরও তাতে যথেষ্ট হাত রয়েছে। ইভেন, তার দোষই তো ষোলো আনা! তাকে কেন তবে নিজের হাতে মারলে না?”
“কে বলেছে তোকে যে আমি তাকে মারিনি? প্রতিনিয়ত তিলে তিলে মরছে তো সে! নিজের হৃদয়ের আগুনে ধুঁকে ধুঁকে মরছে। আদরের একমাত্র মেয়ের অকাল মৃত্যুভয় তাকে রোজ বার বার মারছে! প্রতিটা মুহূর্তে তার পাপী আত্মার মরণ ঘটছে প্রহর! কেবল দেহের মৃত্যু ঘটলেই কি মৃত্যু হয়? আত্মার চিরন্তন মৃত্যুই তো আসল মৃত্যু!”
ঘর কেঁপে ওঠে ময়ূরীর হিংস্র অট্টহাসির তোড়ে! সে হাসি শোনায় চরম ভূতুরে ও বিভীষিকাময়। কোনো শিকারকে আগ্রাসীভাবে ভক্ষণের পূর্বে ভক্ষকের মন গহীনের রক্ততৃষ্ণা যেমন চারিদিকের শান্ত পরিবেশকে গ্রাস করে ফেলে, ঠিক তেমনই এক থমথমে ত্রাস সৃষ্টি হলো ঘরের কোণে কোণে।
“মেঘালয়া আরণ্যি’র ক্ষতির কথা স্বপ্নেও ভাববেন না মিসেস.হায়দার। পূর্বে ওর কেউ না থাকলেও, বর্তমানে ওকে রক্ষা করতে রক্ষাকবচের ঘাটতি নেই। রক্তের রাশলীলা শুরু করলে, রক্তগঙ্গা বইয়ে যাবে!”
“কেন? কিসের এত দায় তোর, কেন ওকে বাঁচাবি তুই?”
ময়ূরীর প্রশ্ন শ্রবণেন্দ্রিয় প্রবেশ করলো। কপাট হেসে রহস্যঘেরা হাসি উঁদিত হয়ে তার ওষ্ঠে। ওষ্ঠের হাসি বজায় রেখে জানায়,
“কারণ ও সম্পূর্ণ নিষ্পাপ! কারোর ইচ্ছাকৃতভাবে করা বিষাক্ত পাপকর্মের সাজা ও কোনোদিন পেতে পারে না। পূর্বে ওকে নোমান, অভ্র নয়তো শীর্ষ রক্ষা করলেও, এবার কিন্তু ওর সার্বক্ষণিক ঢাল হিসেবে আমি নিজে দাঁড়াব! ঢাল আমি হই, তরোয়াল না হয় তুমিই হলে। ঢাল আর তরোয়ালের চিরন্তন লড়াইয়ে সেই বিশ্ব সৃষ্টির লগ্ন থেকেই কিন্তু শুভ্রতার জয় হয়ে আসছে!”
ময়ূরীর উন্মাদপ্রায় পাগলামিকে পেছনে ফেলে, প্রহর যেভাবে ঘরে প্রবেশ করেছিল, ঠিক সেভাবেই সুদৃঢ় পদক্ষেপে রুম ত্যাগ করে বেরিয়ে যায়।
আক্রোশে ক্ষিপ্ত হয়ে হাতের কফির পেয়ালাটা সজোরে ছুড়ে মারেন ড্রেসিং টেবিলের আয়নাটার ওপর! মূহুর্তে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে মাটিতে ঝরে পড়ে আয়নার কাঁচের হাজারো ভাঙা টুকরো। রক্তবর্ণ চোখে ময়ূরী ছেলের প্রস্থান পানে চেয়ে থেকে বিষাক্ত নিঃশ্বাস ফেলে বিড়বিড় করেন,
“তবে মনে রাখিস প্রহর… ইতিহাসে এবারই প্রথম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে–মায়ের নিজ হস্তে তার ঔরসজাত সন্তানের নির্মম মৃত্যু!”
প্রবল কৌতূহল জেগে উঠল মেঘের মনে। আকুল হয়ে ঘন ঘন চোখের পাতা ফেলে একদম কিঞ্জার দিকে ঝুঁকে আসল সে। অতি আগ্রহে শুধায়,
“ওনার বউ কি তবে ওনাকে বিন্দুমাত্র ভালোবাসত না?”
কিঞ্জা দুই দিকে ধীরলয়ে মাথা নাড়িয়ে স্পষ্ট ‘না’ সূচক সঙ্কেত দেয়। চায়ে শেষ চুমুক দিয়ে অতীতচারী কণ্ঠে বলতে শুরু করে,
“প্রহর ভাইয়ার সেই প্রাক্তন স্ত্রী ছিলেন ফুফিমনি—মানে ওনার মায়ের ঘনিষ্ট বান্ধবীর কন্যা। নাম ছিল কাশফিয়া ইতু। মূলত ফুফিমনির অদম্য ইচ্ছেতেই প্রহর ভাইয়া আর্মি ক্যাপ্টেন থাকা অবস্থায় খুব ছোটখাটো আয়োজনে আকদ সম্পন্ন হয় ইতু আর ওনার। পরিবারের বাইরে সেই খবর কেউ ঘুণাক্ষরেও জানত না। আকদ শেষ হওয়ার পরপরই আমার ভাইয়া আর প্রহর ভাইয়া নিজেদের কর্মস্থল, অর্থাৎ ক্যান্টনমেন্টে ফিরে যায়। তার কয়েক মাস পরেই ওনাদের নাইজেরিয়া মিশনে ডেকোডেড হওয়ার কথা ছিল। মিশনে রওনা হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহ পূর্বে দু-জনে যখন ছুটিতে বাড়ি ফিরল।তখনই জানতে পারে প্রহর ভাইয়ার স্ত্রী ইতু ওনারই সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু ইসমাইলের সাথে সটান পালিয়েছে! সাথে কারদার বাড়ির প্রচুর সোনা, গয়না আর নগদ টাকা-পয়সা লুটে নিয়ে গেছে।”
“কী বলছ কী তুমি!”
মেঘের যেন চোখে সরষে ফুল দেখার জোগাড়! চরম বিস্ময়ে বাদামি চোখ দুটো এক লহমায় বড় বড় হয়ে গেল ওর।
“তবে উনি এখনও ওনার স্ত্রীকে ভালোবাসে?”
মেঘের প্রশ্ন কিঞ্জাকে হাসায়। বড়ই বেদনা ফুঁটে ওর আদলে। স্বামীর প্রাক্তনকে স্বামী এখনও ভালোবাসে কিনা, এটা বড়ই হতাশাকর! কিঞ্জা নিজের কঠোরতা ভাঙ্গে না। নিরেট স্বরে প্রত্যুত্তর করে,
“ভালো না বাসলে এতো বছর অবিবাহিত থাকে? কোনো নারীকে সে বিশ্বাস করে না। “নারী মানে ছলনাময়ী!” এরূপ বিশ্বাস মনে পোষণ করে।”
ওদের আলাপচারিতার মধ্যভাগে বৈঠকখানায় প্রবেশ ঘটে শীর্ষর। বোন আর বউয়ের সখ্যতা ওর মনে প্রশান্তির দোলা দেয়। অক্ষপটে ভাসে মেঘের বিস্মিত আদলের ডুমুডুমু ছোঁয়া।ওরা কেউই শীর্ষকে খেয়াল করে নি। মেঘ পুন:রায় কিঞ্জাকে প্রশ্নের বাণে জর্জরিত করার প্রয়াস চালায়।
“তুমি ওনাকে ভালোবাসো নায়ায়ায়া..”
কথার একদম মাঝপথেই কাউকে সামান্যতম আভাস না দিয়ে হঠাৎ ঘরে ঢুকে এক চটকায় মেঘকে তুলোর মতো পাঁজাকোলা করে কোলে তুলে নেয় শীর্ষ! ঘটনার আকস্মিকতায় কিঞ্জা একদম তবদা খেয়ে হা করে চেয়ে রইল।
“আরে ছাড়ুন বলছি!”
শীর্ষর চওড়া কাঁধে যেন কড়কড়ে কৈ মাছের মতো ছটফট করতে লাগল মেঘ। লজ্জায় ওর নাক-কান কাটা পড়ার উপক্রম!
“কিঞ্জা আপু সামনেই দাঁড়িয়ে রয়েছে! প্লিজ আমায় এভাবে ছেড়ে দিন!”
মেঘের ছটফটানি রোধের প্রক্রিয়া শীর্ষর জানা। কিঞ্চিৎ ঝুঁকে ওষ্ঠ চালায় মেঘের কর্ণের নরম লতির পানে। ওষ্ঠের মৃদু পরশ মাখিয়ে হাস্কি টোন টেনে বলতে থাকে,
“একদম না! এখন সোজা বাসর করব! চলললো”
মধ্যাহ্নের শেষ লগ্ন। হায়দার বাড়ির নির্জন ছাদে দাঁড়িয়ে সুবিন্যস্ত বাগানবিলাসের দোল খাওয়া দেখছে কিঞ্জা। গায়ে জড়ানো হালকা আসমানি রঙের লং ফ্রক, পিঠজুড়ে আলগা হয়ে নেমে এসেছে একঢাল কৃষ্ণ কালো চুল।
বাহুতের সঙ্গে সন্ধির স্থাপন করে দোদুল্যমান বৃক্ষের শাখা-পল্লব। গাছের ডাল হতে ভেসে আসছে সুরেলা কন্ঠের নাম না জানা পাখির ডাক। একটি দূরের আম গাছে দেখা মিলেছে হলদিয়া পাখির ছায়ার। অনেকে ওকে বউ পাখি কিংবা শুভসংবাদের বার্তা মনে করেন। নিপুণ মনে সকল কিছু মনের মাধুরিতে স্থান দিচ্ছে সে।
“কী করছ এখানে?”
হঠাৎ অত্যন্ত পরিচিত ও প্রিয় পুরুষের সুগভীর কণ্ঠস্বর কানে আসতেই ধীরলয়ে পেছনে ফিরে তাকায় কিঞ্জা। গায়ে ধূসর রঙের সুতি পাঞ্জাবি চাপিয়ে ছাদের কাঠের দরজায় হেলান দিয়ে দণ্ডায়মান সে।
“পুষ্পবিলাস উপভোগ করছি!”
কতক বিশাল বিশাল পা ফেলে কিঞ্জার পিঠপিছনে ঠাঁই নেয় সে। মৃদুতার সঙ্গে জানতে চাওয়ার ইচ্ছে’তে জিজ্ঞাসা করে,
“আমায় ঠিক কতদিন ধরে ভালোবাসো?””
আকস্মিক এহেন অপ্রত্যাশীত প্রশ্নে এক লহমায় তীব্রভাবে চমকে ওঠে কিঞ্জা! স্থির চোখে পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা প্রহরের মুখোমুখি হয় সে। বুক ধুকপুকানির গতি সামলাতে না পেরে নিজের নরম আঙুল দিয়ে প্রহরের পরনের পাঞ্জাবির বোতাম আলতো হাতে ঘাটতে শুরু করে। প্রহর সম্পূর্ণ অনুভূতিহীন, থমথমে চোখে ওর সমস্ত চঞ্চল কার্যকলাপ সুসূক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করতে থাকে। ফের কিঞ্জাকে বেশামাল করার লক্ষ্যে প্রশ্ন জানায়,
“বললে না তো!”
কিঞ্জা চতুরতার সাথে পায়ের পাতার ওপর ভর দিয়ে দুই পা কিছুটা উঁচিয়ে সোজা প্রহরের নাক বরাবর নিজের আদল নিয়ে যায়। অত্যন্ত হালকা এক কুসুম পরশে প্রহরের সেই সিগারেটের ধোঁয়ায় পোড়া রুক্ষ অধরে নিজের ওষ্ঠের গাঢ় পরশ মাখিয়ে দেয়!
মুহূর্তের মধ্যে পুরোপুরি স্থির হয়ে যায় প্রহরের সুঠাম দেহ! তীব্র ধাক্কায় সে চমকায়, স্থানকালেই থমকে যায় সম্পূর্ণ। মনে হয় যেন ওর ভেতরের সমস্ত রক্ত চলাচল এক নিমেষে থমকে দাঁড়িয়েছে!কিঞ্জা পরম আবেশে চোখ দুটো বুজে, অত্যন্ত আবেগপ্রবণ ও নিবিড় কণ্ঠে অস্ফুটে জানায়,
“যবে থেকে জীবনে ‘প্রেম’ শব্দটার আসল মানে শিখতে পেরেছি, ঠিক তবে থেকেই তোমার তরে আমি নিজের মন হারিয়েছি! বড্ড ভালোবাসি আমার এই জখমপ্রাপ্ত, ভঙ্গুর এমপি-টাকে!”
প্রহরের আদলে সন্তুষ্টির ছায়া মেলে না। কালো কুচকুচে ভ্রু জোড়া উঁচু হয়। সন্দেহ’র দানা বুনতে চলেছে। জহুরী চোখে কিঞ্জার অভিব্যক্তি পর্যবেক্ষণ করে, পুন:রায় জিজ্ঞাসা করে,
“আমি বিবাহিত জেনেও ভালোবেসেছো?”
মেজর কারদার পর্ব ৪৬
প্রহরের চোখের কালো মণিতে নিজের বাদামি মণির সংযোগ রাখে। মন কাঁড়ানো হাসি টানে ওষ্ঠের মাঝে। ওষ্ঠের হাসি পৌঁছায় চোখের রন্ধ্রে রন্ধ্রে। সেভাবে প্রহরের মনকে উতলা করতে প্রত্যুত্তর করে জানান দেয়,
“ভার্সিটি পড়ুয়া প্রহর ইবনাতের প্রেমে মজেছি, কোনো বিবাহিত প্রহরের প্রেমে নয়। হিয়া’র মাঝে ঠাঁই দিয়েছি রোদে পোড়া তামাটে বর্ণ ধারণ করা লেফটেন্যান্ট প্রহর ইবনাতকে, কারোর অযাচিত স্বামীকে নয়!”
