রুপুর বিয়ে পর্ব ২৯
Bobita Ray
রুপু ঘরে এসে প্রচণ্ড অবাক হলো। তবে প্রকাশ করল না। বিনয় রুপুর মুখের দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসছে। বিনয় সামান্য একটা কাণ্ড ঘটিয়েই মহাখুশি। বিনয়ের জায়গায় অন্যকেউ থাকলে বিশ্বজয় করলেও এত খুশি হতো না বোধহয়। রুপু স্বাভাবিক কণ্ঠে বলল,
“তুমি কখন এলে?”
“ঘন্টাদুই আগে।”
“এমনি দিন তো রাত নয়টার আগে বাড়ি ফিরো না। আজ হঠাৎ বিকালে চলে এলে যে?”
বিনয় খাটে পায়ের উপরে পা তুলে আরাম করে বসল। ভাব নিয়ে বলল,
“আমার আজ খুব দরকারি একটা কাজ ছিল। তাই বাবাকে বলে চলে এসেছি।”
রুপুও বিনয়ের স্টাইলে বিনয়ের পাশে বসতে বসতে বলল,
“সামান্য একটা খাট সরিয়েই নিজেকে গল্পের মহানায়ক ভাবছ নাকি?”
বিনয় ভ্যাবাচেকা খেয়ে বলল,
“কী বলতে চাইছ তুমি?”
রুপু হতাশ হওয়ার ভান করে বলল,
“সামান্য একটা খাট সরাতে তোমার আড়াই মাসের মতো সময় লাগল?”
বিনয় রাগ রাগ কণ্ঠে বলল,
“তুমি খুব ভালো করেই জানো, আমাদের ঘরটা খুব বেশি বড় না। একটা ঘরে দুটো খাট দেখতেই তো কেমন লাগে। তাই সময় যখন পেলাম। খাটটা সরিয়ে ফেললাম।”
“এই সময়টা কী তোমার মা আজ বাড়িতে ছিল না দেখেই হলো?”
“কী বলতে চাইছ তুমি? আমার সাথে ঝগড়া না করলে কী তোমার ভালো লাগে না?”
“না, লাগে না।”
বিনয় হতাশ হয়ে বলল,
“আচ্ছা বেশ, তুমি যা ভেবে খুশি থাকো।”
রুপু কানের দুল খুলতে খুলতে বেখেয়ালে বলল,
“সারাজীবন আলাদাই যখন থাকতে হবে। শুধু শুধু কয়েকটা দিন একসাথে থেকে লাভ কী!”
বিনয় চমকে উঠে বলল,
“সারাজীবন আলাদা থাকবে মানে?”
রুপু বিষাদমাখা দৃষ্টিতে বিনয়ের দিকে তাকাল। মুখে হাসি ফুটিয়ে বলল,
“আমাদের পথ এক হলেও গন্তব্য যে আলাদা।”
বিনয় রুপুর একহাত আঁকড়ে ধরল। শুকনো মুখে রাগ দেখিয়ে বলল,
“মাথা ঠিক আছে তোমার? এইসব কী বলছ তুমি?”
“আমার মাথা সবসময় ঠিকই থাকে। বরং তোমার মাথা হঠাৎ হঠাৎ বেঠিক হয়ে যায়।”
“এসব হেঁয়ালি মার্কা কথা আমার একদম ভালো লাগে না রুপু৷”
“হেঁয়ালি করছি না। যা সত্যি তাই বলছি।”
“আমার একটা ভুলের জন্য তুমি আমাকে এতবড় শাস্তি দিতে পারো না রুপু।” বিনয়ের কণ্ঠে কী করুণ অসহায়ত্ব ফুটে উঠল।
“এই টক্সিক সম্পর্কটা আমি আর টেনে নিয়ে যেতে পারছি না। আমার বড্ড ক্লান্ত লাগছে। বড্ড একঘেয়েমি লাগছে।”
“তুমি স্বার্থপরের মতো শুধু নিজের দিকটায় ভাবছ রুপু। আমার…আমার কথা একবারও ভাবছ না তুমি। আমাকে ছেড়ে কোথায় যাবে তুমি? বলো আমাকে ছেড়ে কোথায় যাবে?”
“বোকার মতো কথা বলোনাতো। শুনতে ভালো লাগছে না।”
“আমি তো বোকা। মহাবোকা আমি। নাহলে নিজের বিয়ে করা বউকে কেউ এত নোংরা কথা বলে নাকি। তুমি আমাকে যা শাস্তি দাও না কেন! আমি মাথা পেতে নেব। তবুও ছেড়ে যাওয়ার কথা বলোনা প্লিজ। আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারব না।”
“আমাকে ছেড়েই তো থাকছ। একঘরে থেকেও আমরা দুজন মনের দিক থেকে যোজন যোজন দূরে সরে যাচ্ছি৷”
বিনয় রুপকে আচমকা জাপ্টে ধরল। রুপুর সত্যিই খুব ক্লান্ত লাগছিল। বিনয়ের বুকে মাথা গুঁজে বড় বড় নিঃশ্বাস ফেলল। নিজেকে চট করে সামলে নিয়ে বলল,
“এই কী করছ কী? দরজা কিন্তু খোলা। মায়ের আদরের কঁচিখোকা দিনদুপুরে বউকে জাপ্টে ধরে আদর করছে। এই সর্বনেশে কাণ্ডটা যদি মা দেখে না। নিশ্চিত আজ ফিট খাবে।”
বিনয় হেসে ফেলল। চোখদুটো ছলছল করছে। ভেজা কণ্ঠে বলল,
“সবসময় ইয়ার্কি করো নাতো।”
রুপু কণ্ঠে মেকি বিরক্ত ফুটিয়ে বলল,
“ছাড়ো তো। দম বন্ধ হয়ে আসছে আমার।”
“উঁহু ছাড়ব না।”
“সত্যিই কিন্তু দম বন্ধ হয়ে আসছে।”
বিনয়ের হাতের বাঁধন আরেকটু শক্ত হলো। বিড়বিড় করে বলল,
“আসুকগে।”
অয়ন নিজের জেদ শেষপর্যন্ত ধরে রাখতে পারল না। অয়ন লন্ডন যাবার আগের দিন রাতে ছাদে বসে অথৈকে ফোন দিল। অথৈ ফোন রিসিভ করল না। অয়ন হতাশ হয়ে ফোনটা দোনলায় ছুঁড়ে ফেলল। অল্পের জন্য ফোনটা নিচে পরে গেল না। তখনই তারস্বরে ফোনটা বেজে উঠল। অথৈ কলিং…
অয়নের মুখে হাসি ফুটে উঠল। ফোনটা রিসিভ করে স্বাভাবিক কণ্ঠে বলল,
“কেমন আছো অথৈ?”
“ভালো আছি। এতদিন পরে হঠাৎ কী মনে করে ফোন দিলেন?”
“সত্যি কথা বললে তো বিশ্বাস করবে না। তাই বলতে চাচ্ছি না।”
“তবুও বলুন শুনি।”
“যদি বলি, তোমার সাথে খুব বেশি কথা বলতে ইচ্ছে করছিল। মনে হচ্ছিল, এখন যদি তোমার সাথে না কথা বলি সারাজীবন আফসোস থেকেই যাবে।”
“আফসোস থাকবে কেন?”
“ শেষবারের মতো ভেবে দেখলে হয় না অথৈ?”
“না হয় না।”
“পরে কিন্তু আফসোস করো না।”
“আমার জীবনে কোন আফসোস নেই।”
“চলো বিয়ে করে ফেলি।”
অথৈয়ের বুকের ভেতরে ভূমিকম্প বয়ে গেল। কণ্ঠে কৃত্রিম রাগ ফুটিয়ে বলল,
“আপনার কী মাথা ঠিক আছে?”
“আমার মাথা একদম ঠিক আছে।”
“না ঠিক নেই আপনার মাথা। মাথা ঠিক থাকলে রাতদুপুরে পাগলের প্রলেপ বকতেন না।”
“এই পাগলের প্রলেপ শোনার জন্যই তো তুমি ফোন করলে। ভাগ্যিস ফোন করলে।”
অথৈ কিছু বলল না। অয়ন বলল,
“লাষ্ট একবার ভেবে দেখো।”
“ভাবাভাবির কিছুই নেই। জীবনেও পরিবারের অমতে গিয়ে বিয়ে করব না আমি। আর আপনাকে তো আরও না।”
“আমি আগামীকাল চলে যাচ্ছি।”
অথৈ চমকে উঠে বলল,
“কোথায় যাচ্ছেন আপনি?”
“যেখান থেকে এসেছিলাম।”
অথৈয়ের চোখ দিয়ে টপটপ করে নোনাজল গড়িয়ে পড়ল। তবে মুখে কিছু বলল না।
“হ্যালো হ্যালো অথৈ? কথা বলছ না কেন?”
অথৈ মুখে ওড়না গুঁজে কান্না চাপল। বিড়বিড় করে বলল,
“কথা বলছি তো।”
“ভালো থেকো।”
“শুনুন?”
“বলো?”
“না। কিছু না।”
“বলো অথৈ?”
“বললাম তো কিছু না।”
“আজ আমাকে রিজেক্ট করলে। একদিন আফসোস করোনা আবার। সময় পরিবর্তনশীল হলেও ঋতু কিন্তু ঘুরে-ফিরে ছয়টায় হয়।”
“কোন আফসোস নেই।”
“আচ্ছা রাখি এখন। তুমি ভালো থেকো অথৈ। জেনো রেখো, তোমার জন্য আমার মনের দরজা সবসময় খোলা।”
অয়ন অথৈকে আরকিছু বলার সুযোগ না দিয়ে ফোন রেখে দিল। অথৈ ফোনটা বুকের সাথে চেপে ধরে মুখে ওড়না গুঁজে হাউমাউ করে কেঁদে দিল। অয়ন অথৈয়ের কে? কেউ না। ওই মানুষটার চলে যাবার কথাশুনে অথৈয়ের এত কষ্ট লাগছে কেন? কেন বুকের ভেতরে জ্বলেপুড়ে ছারখার হয়ে যাচ্ছে। কেন এতবেশি কষ্ট হচ্ছে। তবে কী অথৈও মানুষটাকে ভালোবেসে ফেলল?
বীথি রানী সকাল থেকে গুনগুন করে কাঁদছে। ছেলেটা আজ চলে যাবে। নানান রকম চিন্তায় অস্থিরতায় রাতে একফোঁটা ঘুম হয়নি। বীথি রানীর এই ছেলেটা জেদি একরোখা। অয়ন যখন আজ যেতে চেয়েছে। যেভাবেই হোক আজ যাবেই। শত বলেকয়েও অয়নকে আটকানো যাবে না। সকাল থেকে অয়নের পছন্দের খাবার নিজে হাতে রান্না করেছে বীথি রানী।
খেতে বসে অয়ন বলল,
“সর্বানাশ এত খাবার কে খাবে মা?”
“কে খাবে মানে। তুই খাবি। বেশি না খেতে পারলে একটু একটু করে খা।”
“মা তুমি খুব ভালো করেই জানো আমি লং জার্নিতে খেতে পারি না। তুমি বরং এককাজ করো দাদাকে ডেকে খাওয়াও।”
বীথি রানী আফসোস করে বলল,
“তুই কেন অন্যরকম হলি অয়ন? বিনয়ের মতো কেন হলি না।”
অয়ন হেসে ফেলল। বলল,
“একছেলে তো তোমার মনের মতো হয়েছে। আপাতত দাদাকে নিয়েই খুশি থাকো মা। এই পৃথিবীতে সব মানুষের সব আশা পূরণ হয় না মা।”
“আমিও তোর সাথে এয়ারপোর্টে যাব।”
“নো নো মা। শেষে সবার সামনে আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্নাকাটি করে বিশ্রী কাণ্ড করবে তুমি। আমার খুব লজ্জা লাগবে মা।”
বীথি রানী কাপড়ের আঁচলে চোখ মুছে বলল,
“তোর কী একটুও মন খারাপ হচ্ছে না?”
“না মা। আমার এত অল্পতে মন খারাপ হয় না। আমার মাঝে মাঝে কী মনে হয় জানো মা?”
“কী মনে হয়?”
“আমার যদি ভালোমন্দ কিছু হয়েও যায়।”
বীথি রানীর বুকের ভেতরে ধড়ফড় করে উঠল। অস্ফুট স্বরে বলল,
“ছিঃ ছিঃ এ আবার কোন ধরনের কথা।”
“আমাকে পুরো কথাটা আগে শেষ করতে দাও।”
“এসব অলক্ষুণে কথা আমি শুনব না।”
“তুমি না শুনলেও আজ আমি বলব মা। আমার কখনো যদি ভালোমন্দ কিছু হয়েও যায়। আমার বিকল্প হিসাবে দাদা তোমার কাছে থাকবে। এবং একসময় তুমি আমার শোক ঠিকই কাটিয়ে উঠে স্বাভাবিক জীবনযাপন করবে। কিন্তু দাদার যদি..!”
বীথি রানী কানে হাত চেপে ধরে আতঙ্কিত কণ্ঠে চিৎকার করে বলল,
“অয়ন চুপ কর।”
“শোনো না মা। দাদার যদি ভালোমন্দ কিছু হয়ে যায়। আমার মনে হয় না তুমি কখনো দাদার শোক কাটিয়ে উঠতে পারবে। তুমি পাগল হয়ে যাবে মা। এই পৃথিবীর সব মায়েরাই তাদের সন্তানকে ভালোবাসে। এটাই নিয়ম। কিন্তু তুমি নিয়মের বাইরে গিয়ে দাদাকে উন্মাদের মতো ভালোবাসো। এই ভালোবাসাটাই যে বড্ড ভয়ংকর মা। তুমি প্লিজ দাদাকে অতিরিক্ত ভালোবাসতে গিয়ে আমার সহজ সরল বোকা-সোকা দাদাটার জীবন এত জটিল করে দিও না মা। ওকে আর পাঁচটা স্বাভাবিক মানুষের মতো সুখ-শান্তিতে সংসার করতে দাও। নিজের অতিরিক্ত ভালোবাসা জেদকে প্রধান্য দিতে গিয়ে সর্বস্ব হারিয়ে পরে কিন্তু আফসোস করো না মা।”
বীথি রানী রেগে গেল। নিজের রাগ কোনভাবেই কন্ট্রোল করতে পারল না। অথচ কন্ট্রোল করা উচিত ছিল। অয়নটা আর মাত্র কয়েকঘন্টা আছে। ওর সাথে খারাপ ব্যবহার করা মোটেও উচিত না। তারপরও চোখ-মুখ শক্ত করে বলে ফেলল,
“এই ব্যাপারে তোর সাথে একটাও কথা বলতে চাই না আমি।”
অয়ন হেসে ফেলল। বলল,
“দেখলে তো মা। আবারও প্রমাণিত। তুমি আমার থেকে দাদাকেই বেশি ভালোবাসো। ছোটবেলায় দাদার প্রতি তোমার অতিরিক্ত ভালোবাসা দেখে আমার প্রচণ্ড হিংসে হতো। আমার ভালোবাসায় দাদা সবসময় ভাগ বসাতো দেখে কত যে কেঁদেছি। কত রাত যে নির্ঘুম থেকে ভেবেছি কী করলে আমাকে তুমি দাদার মতো করে ভালোবাসবে। কত যে ভালো ছেলে হয়ে থাকার চেষ্টা করেছি। দিনরাত এক করে উম্মাদের মতো পড়েছি। যদি ভালো রেজাল্ট করলে আমাকে দাদার থেকে একটুখানি বেশি ভালোবাসো সেই আশায়। কিছুতেই কিছু হলো না। ভালোবাসার প্রতিযোগিতায় আমি সবসময় পেছনেই পড়ে রইলাম। একটা সময় পর্যন্ত আপেক্ষ ছিল আফসোস ছিল। এখন অবশ্য নেই। তবে ভয় হয় মা। তোমার এই অতিরিক্ত ভালোবাসাই না দাদার জীবনে একসময় কাল হয়ে দাঁড়ায়।”
“বউদি কী করছ?”
রুপু ঘর গোছাচ্ছিল। অয়নকে দেখে হেসে ফেলল। বলল,
“ঘরে এসো প্লিজ।”
অয়ন ঘরে এসে খাটে পা দুলিয়ে বসল। রুপু কাপড় ভাঁজ করতে করতে বলল,
“ব্যাগ গোছানো হয়েছে তোমার?”
“হুঁ।”
“মন খারাপ?”
“না।”
“তাহলে একটু হাসো?”
অয়ন শব্দ করে হেসে ফেলল। রুপুও হেসে ফেলল। বলল,
“খুব মিস করব তোমাকে।”
“আমিও।”
অয়ন ইতস্তত করে বলল,
“বউদি একটা কথা বলার ছিল।”
“বলো।”
“আর একবার ভেবে দেখলে হতো না?”
রুপু চমকে উঠে বলল,
“কী ভাববো?”
“দয়া করে আমার কাছে লুকোচুরি করো না বউদি। আমি সবটা জানি।”
“তুমি খুব স্মার্ট ছেলে অয়ন।”
“তুমিও বউদি। তোমাকে আমি জোর করব না। তবে আমার অনুরোধ বলতে পারো। একবড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আরেকবার ভালো করে ভেবে দ্যাখো। আমার দাদাটা বড্ড বোকা বউদি। এইযুগে নিজের ভালো পাগলেও বুঝে। ও যে কেন অন্ধের ঠুলি পরে থাকে। আমি সত্যিই বুঝি না।”
“আমি সত্যিই বড্ড হাঁপিয়ে উঠেছি অয়ন। আমার আর এই টক্সিক সম্পর্ক বয়ে বেড়াতে ভালো লাগছে না।”
“আমি তোমার কষ্টটা উপলব্ধি করি বউদি। কিন্তু এটাও তো মিথ্যা না। আমার দাদা তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছে। বড্ড ভালোবেসে ফেলেছে বউদি। তুমি কোনভাবে ওর জীবন থেকে চলে গেলে, ও মানতেই পারবে না। ওর রঙিন পৃথিবীটা মুহূর্তেই এলোমেলো হয়ে যাবে।”
রুপুর বিয়ে পর্ব ২৮
রুপু অয়নকে বলতে পারল না। আমি তোমার দাদাকে আজও একফোঁটা ভালোবাসতে পারিনি অয়ন। ওর প্রতি খুব বেশি হলেও আমার মায়া আছে, করুণা আছে। কিন্তু বিন্দুমাত্র ভালোবাসা নেই। ভালোবাসা না থাকলেও একে-অপরের সাথে সুখে শান্তিতে দিব্যি সংসার করা যেত। যদি মানুষটা সঠিক হতো। আমাদের যে বড্ড মিসম্যাচ হয়ে গেছে অয়ন। বড্ড মিসম্যাচ…
