রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৬
মহাসিন
একটা লোক দুহাতে শাপলার গ*লা টি*পে ধরেছে।
শাপলা ছ*টফট করছে, যেন এখনই প্রাণটা বে*রিয়ে যাবে। চোখ দুটো উ*লটে আসছে, দম ব*ন্ধ হয়ে আসছে, বুকের ভেতরটা ফে”টে যাচ্ছে।
“না—আ—আ!” (শাপলা)
ভয়ংকর দুঃস্বপ্ন দেখে শাপলা আর্তচিৎকার করে উঠে বসল। সারা শরীর ঘামে ভিজে গেছে, বুক ধড়ফড় করছে। পাশের রুম থেকে শব্দ শুনে
সিয়াম দৌড়ে এলো।
_______ “শাপলা! কী হয়েছে?”
শাপলা তাকে দেখেই ঝাঁপিয়ে পড়ে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। তার শরীর এখনো থরথর করে কাঁপছে। সিয়াম হতভম্ব হয়ে শাপলার পিঠে হাত রেখে শুধাল,
_______”কী রে? এভাবে চিৎকার করলি কেন? কী হয়েছে তোর?”
শাপলা সিয়ামের বুকে মুখ গুঁজে ভয়ে ভয়ে ফিসফিস করে বলল,
_________”একটা ভয়ানক স্বপ্ন দেখেছি ভাইয়া। কেউ একজন আমার গ*লা টি*পে মে*রে ফেলতে চাইছিল। আমার খুব ভয় লাগছে।”
সিয়াম শাপলার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল,
________”ধুর পাগলি, কোনো ভয় নেই। তোর সিয়াম ভাইয়া তো আছে। আমি থাকতে তোর কিছু হবে না।”
সিয়াম রুমের লাইট ওয়ান করে দিল। দেওয়াল ঘড়িতে ঢং ঢং করে রাত দুটো বাজে। টেবিল থেকে এক গ্লাস পানি এনে শাপলার দিকে বাড়িয়ে দিল,
______ “এই নে, পানিটা খা। ভালো লাগবে।”
শাপলা এক নিঃশ্বাসে ঢকঢক করে পুরো গ্লাসের পানি শেষ করল।
“এবার একটু ভালো লাগছে কি?” সিয়াম জিজ্ঞেস করল।
“হ্যাঁ, একটু ভালো লাগছে।” শাপলা ফোঁপাতে ফোঁপাতে বলল।
সিয়াম শাপলার পাশে বসে তাকাল তার দিকে। “শুনলাম পার্কে নাকি ডাস্টবিনে মানুষের কা*টা হা*ত দেখেছিস?”
শাপলা মাথা নাড়ল। চোখ দুটো আবার আতঙ্কে বড় হয়ে গেল। “হ্যাঁ ভাইয়া। অনেক ভয়ানক ছিল। দেখেই তো আমার জান বে*রিয়ে যাচ্ছিল।”
“এইজন্যই এমন খারাপ স্বপ্ন দেখছিস।” সিয়াম একটু থেমে বলল, “আচ্ছা, তুই এখন ঘুমিয়ে পড়। আমি আমার রুমে যাই।”
সিয়াম উঠতে যেতেই শাপলা খপ করে তার হাত চেপে ধরল। “না ভাইয়া, আপনি যাবেন না প্লিজ। আমার ভয় লাগছে। একা থাকতে পারব না।”
সিয়াম মুচকি হেসে ঝুঁকে এলো শাপলার কানের কাছে। ফিসফিস করে বলল, “তুই কী চাস? আমি এখন তোর সাথে এক বিছানায় ঘু*মাই?”
শাপলা থমকে গেল। কাঁপা গলায় বলল, “আমি কখন বললাম আমার সাথে এক বিছানায় ঘুমা*তে?”
সিয়াম আরও একটু ঝুঁকে আবার ফিসফিস করল, “তার মানে তুই চাস আমি তোর গা*য়ের উপর ঘুমাই?”
শাপলা লজ্জায় লাল হয়ে গেল। “ধ্যাত! কী সব বলছেন! আপনি মেঝেতে ঘুমাবেন।”
“আচ্ছা ঠিক আছে, আমি মেঝেতেই ঘুমাব।” সিয়াম ভ্রু নাচিয়ে বলল, “কিন্তু সারারাত তোকে পাহারা দিলে আমার লাভটা কী হবে শুনি?”
“আপনার আবার কী লাভ চাই?” শাপলা ভ্রু কুঁচকাল।
সিয়াম দুষ্টু হাসি দিয়ে শাপলার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করল, “তোর সাথে রো*মান্স করতে চাই ! তোকে দেখলেই আমি হ*ট হয়ে যাই! তখন তোর সাথে রো*মান্স করতে ইচ্ছে করে! মন চায় তখন তোকে ইচ্ছে মতো আ*দর করি! তুই যদি রাজি থাকাসি তাহলে আজকে রাতে দুজনে বা*সর করবো!”
সিয়ামের মুখে এমন কথা শুনে শাপলার গাল, কান গরম হয়ে গেল। ঠোঁট দুটো কেঁপে উঠল। হার্টবিট বেড়ে গেল দ্বিগুণ। সারা শরীরে শিরশির করে উঠল।
শাপলা সিয়ামের দিকে তাকিয়ে বলল, “আচ্ছা ভাইয়া, বা*সর করে কীভাবে?”
সিয়াম বিরক্ত হয়ে বলল, “নেকামি করা বন্ধ কর তো।”
শাপলা অবাক হয়ে গেল। “আমি আবার কী নেকামি করলাম?”
“এই যে বা*সর কীভাবে করে তা জেনেও না জানার ভান ধরছিস।” সিয়ামের গলায় চাপা রাগ।
“আজব লোক তো আপনি!” শাপলা পাল্টা জবাব দিল। “আমি কি কখনো কারো সাথে বা*সর করেছি নাকি যে জানব কীভাবে করে?” একটু থেমে চোখ সরু করে তাকাল, “আচ্ছা ভাইয়া, আপনি কি কখনো বা*সর করেছেন?”
“না।” সিয়ামের সংক্ষিপ্ত উত্তর।
“তাহলে আমার সাথে কীভাবে করবেন? আপনি তো জানেনই না কীভাবে বা*সর করতে হয়।” শাপলার ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি।
সিয়াম বলল, “আমি বা*সর করিনি। কিন্তু আমি জানি কীভাবে করতে হয়। এসব ছেলেদের আলাদা করে শিখতে হয় না।”
শাপলা চিবুক তুলে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিল, “আচ্ছা ভাইয়া, আপনি আমার সাথে বা*সর করার সময় কী কী করবেন শুনি?”
সিয়াম ঝুঁকে এলো শাপলার কানের কাছে। তার গরম নিঃশ্বাস শাপলার গালে লাগল। ফিসফিস করে বলল, “তোর ঠোঁ*ট দুটো খে*য়ে,,,,,,!
আরও কিছু বলতে যাবে, তখনই শাপলা হাত তুলে থামিয়ে দিল তাকে। গাল দুটো লাল হয়ে উঠেছে। “থাক, আর বলতে হবে না।”
সিয়াম সোজা হয়ে দাঁড়াল। চোখে দুষ্টু ঝিলিক। “তোকে রুমে পাহারা দিব। তবে আমার লাভ চাই। ফ্রিতে কিছু হয় না।”
শাপলা মুচকি হেসে বলল, “আপনি না আমাকে ভালোবাসেন? আমাকে বউ বানাবেন বলেছিলেন? ভবিষ্যৎ বউকে পাহারা দেবেন, তাতেও লাভ খুঁজছেন? আমি তো ভাবছিলাম আপনার সাথে প্রেম করব। এখন দেখছি সেই আশাও বাদ। সবকিছুতেই লাভ খুঁজলে হয় নাকি?”
সিয়াম চোখ বড় করে তাকাল। “তার মানে তুই আমাকে ভালোবাসিস?”
“আরে না!” শাপলা তাড়াতাড়ি বলল। “এখনো ভাবছি। তবে এই এক মাসের মধ্যে এমন কিছু করবেন না, যাতে আমি আর রাজি না হই।” একটা বাঁকা হাসি দিয়ে যোগ করল, “এখন আপনি বলেন, আমাকে পাহারা দিয়ে কী লাভ নেবেন?”
সিয়াম বলল, “তুই কিন্তু আমার সাথে চালাকি করছিস। তবে চিন্তা করিস না। সুযোগ আমিও একদিন পাব। সেদিন তুই আর কিছুই করতে পারবি না।”
“আচ্ছা, দেখা যাবে।” (শাপলা বলল)
সিয়াম হঠাৎ বাচ্চাদের মতো আবদার করে বলল, “ওই পি*চ্চি বউ, তোমার ভবিষ্যৎ হাসবেন্ডের ঠোঁ*টে একটা চু*মু দাও না।”
শাপলা চোখ গরম করে তাকাল।
“একটা কি*স দিলে কী হয়, হ্যাঁ? এমন করিস কেন?” সিয়াম ঠোঁ*ট উলটাল। “আচ্ছা বাদ দে। ভবিষ্যৎ হাসবেন্ড হিসেবে না হয় নাই দিলি। আমি তো তোর ভাই লাগি। ভাই হিসেবে আমার ঠোঁ*টে একটা কি*স কর।”
“পারব না।” শাপলা মুখ ঘুরিয়ে নিল।
“তুই মনে রাখিস, এমন একদিন আসবে তুই আমাকে কাছে পাওয়ার জন্য পা*গল হয়ে যাবি। সেদিন আমি শুধু মজা দেখব।” এই বলে সিয়াম ঝুঁকে শাপলার গালে আলতো করে একটা চু*মু এঁকে দিল।
শাপলা চমকে উঠল। বিদ্যুৎ খেলে গেল সারা শরীরে।
সিয়াম আর কিছু না বলে মেঝেতে চাদর বিছিয়ে শুয়ে পড়ল। শাপলা বিছানা থেকে নেমে নিঃশব্দে দরজাটা বন্ধ করে ছিটকিনি লাগিয়ে দিল, যাতে কেউ জানতে না পারে সিয়াম তার রুমে।
তারপর লাইট নিভিয়ে দিয়ে চুপচাপ বিছানায় এসে শুয়ে পড়ল। অন্ধকার ঘরে দুজনের নিঃশ্বাসের শব্দ ছাড়া আর কিছু শোনা যাচ্ছে না। বাইরে রাত গভীর হচ্ছে।
সকাল হয়ে গেছে। ঘড়ির কাঁটায় ঠিক ছ’টা বাজে।
হঠাৎ সিয়ামের ঘুম ভেঙে গেল। মেঝেতে পাতা চাদর থেকে ধড়মড় করে উঠে বসল। কয়েক মুহূর্ত থম মেরে থেকে চোখ কচলাল। তারপর নিঃশব্দে বিছানার কাছে গিয়ে দাঁড়াল।
শাপলা ঘুমোচ্ছে। একদম নিথর, ম*রার মতো পড়ে আছে। এলোমেলো চুল ছড়িয়ে আছে বালিশে, মুখে ক্লান্তির ছাপ। সিয়াম কিছুক্ষণ একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল তার দিকে। চোখে কী ছিল—মায়া, না অন্য কিছু, কে জানে!
তারপর খুব সন্তর্পণে ঝুঁকে শাপলার কপালে আলতো করে একটা চু*মু এঁকে দিল। এতটাই হালকা, যেন প্রজাপতি পাখা ছুঁয়ে গেল। এক মুহূর্তও দাঁড়াল না আর। নিঃশব্দে রুমের দরজা খুলে নিজের ঘরে চলে গেল সিয়াম।
সময় গড়িয়ে চলল।
একে একে সবাই অফিসে বেরিয়ে গেছে। গোটা বাড়ি এখন ফাঁকা, শুনশান। ড্রয়িংরুমে নিরব পায়চারি করছে। বারবার ঘড়ি দেখছে, মুখে স্পষ্ট বিরক্তি। শেষে ধৈর্য হারিয়ে চেঁচিয়ে উঠল,
__________ “ওই শাপলা! তাড়াতাড়ি আয়। দেরি হয়ে যাচ্ছে তো! তোকে স্কুলে নামিয়ে দিয়ে আমার অফিসে যেতে হবে।”
প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই শাপলা দৌড়ে এলো, কাঁধে স্কুলব্যাগ। হাঁপাতে হাঁপাতে বলল,
___________”হয়ে গেছে ভাইয়া, চলেন।”
দুজনেই বেরিয়ে গেল।
সকাল গড়িয়ে দুপুর হলো।
নীলাঞ্জনা মেয়ে আলোকে স্কুল থেকে নিয়ে বাড়ি ফিরল। ক্লান্ত শরীরটা আর টানতে পারছে না। ড্রয়িংরুমে ঢুকেই ধপ করে সোফায় বসে পড়ল।
আলোর দিকে তাকিয়ে ক্লান্ত গলায় বলল,
______________ “মা, তুমি রুমে যাও। আমার রান্না বসাতে হবে।”
আলো কোনো কথা না বলে নিঃশব্দে নিজের ঘরে চলে গেল।
নীলাঞ্জনা ব্যাগ থেকে ফোন বের করে সিয়ামকে কল দিল। প্রথমবার রিং হয়ে কেটে গেল। কেউ ধরল না। বিরক্তিতে কপাল কুঁচকে গেল তার।
দ্বিতীয়বার কল দিতেই ওপাশ থেকে সিয়ামের গলা ভেসে এলো,
_________ “হ্যালো ভাবী, বলেন।”
নীলাঞ্জনার গলায় উদ্বেগ,
__________”শোনো, চারপাশের পরিস্থিতি ভালো না। খবরে যা দেখছি… তুমি একটু কষ্ট করে গিয়ে শাপলাকে স্কুল থেকে নিয়ে আসো।”
ওপাশে সিয়াম কী বলল শোনা গেল না। নীলাঞ্জনা আর কথা বাড়াল না, কলটা কেটে দিল।
একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে উঠে দাঁড়াল। তারপর ধীর পায়ে রান্নাঘরের দিকে চলে গেল। চুলার আ*গুন জ্বালানোর আগে জানালা দিয়ে বাইরে তাকাল একবার। চৈত্রের দুপুরের খরতাপে পুড়ছে শহর। তার মনের ভেতরটাও কি কম পুড়ছে?
স্কুল ছুটি হয়েছে সেই কখন।
গেটের সামনে দাঁড়িয়ে শাপলা, দিপা, কলি আর রাজু—চারজনে গল্পে মশগুল।হাসি-ঠাট্টায় সময় গড়িয়ে যাচ্ছে টেরই পাচ্ছে না কেউ।
হঠাৎ দিপা ঘড়ি দেখে বলে উঠল, “এই, অনেকক্ষণ তো হলো। এবার বাড়ি যেতে হবে রে। মা বকবে।”
শাপলা হেসে বলল, “ঠিক আছে, যা। কালকে কিন্তু তাড়াতাড়ি আসবি স্কুলে। আরও আড্ডা দেব।”
দিপা আর কলি হাত নেড়ে বিদায় নিয়ে চলে গেল। গেটের সামনে এখন শুধু শাপলা আর রাজু।
রাজুর বাসা একদম পাশেই, হেঁটে দু-তিন মিনিট লাগে বড়জোর। তাড়া নেই বলে ওরা দুজন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে গল্প জুড়ে দিল। কোনো একটা কথায় শাপলা খিলখিল করে হেসে উঠল, রাজুও হাসিতে যোগ দিল। দুজনের চোখে-মুখে নির্ভেজাল বন্ধুত্বের ঝিলিক।
রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৫
ঠিক তখনই রাস্তার মোড়ে সিয়াম আহমেদের কালো গাড়িটা এসে থামল।
গাড়ির কাচ নামিয়ে সিয়াম তাকাল গেটের দিকে। শাপলাকে রাজুর সাথে গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে হেসে হেসে কথা বলতে দেখেই তার ভেতরটা দপ করে জ্বলে উঠল। রাগে চোয়াল শক্ত হয়ে গেল, কপালের রগ দপদপ করতে লাগল।
এই দৃশ্যটা তার একদম সহ্য হচ্ছে না। গাটা জ্বলে যাচ্ছে, যেন কেউ বুকের ভেতর আ*গুন ধরিয়ে দিয়েছে।
