Home লাভ বাই দ্যা ভিলেন লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ২৬

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ২৬

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ২৬
লিজা মনি

ব্যবসা কেবল মুনাফা অর্জনের মাধ্যম নয়।এ এক বহুমাত্রিক যুদ্ধক্ষেত্র।যেখানে কৌশল, ধৈর্য, সময়জ্ঞান এবং পরিপ্রেক্ষিত-বিবেচনা মিলিয়ে গড়ে ওঠে বিজয়-অভিযান। এখানে প্রতিদ্বন্দ্বী মানে প্রতিপক্ষ নয় বরং নীরব শত্রু। আর চুক্তিপত্র মানে যুদ্ধবিরতির শর্ত—যা এক ফালি কাগজে লেখা হলেও তার পিছনে থাকে শত কৌশলের ছায়া।
প্রত্যেক বিনিয়োগ একেকটি রণনীতির নামান্তর
আর বাজার বিশ্লেষণ হলো ভূ-রাজনীতির সমান্তরাল মানচিত্র। মুনাফার হারের ওঠানামা যেন অর্থনৈতিক আবহাওয়ার ভবিষ্যদ্বাণী, যার গাণিতিক সংজ্ঞা থাকলেও বাস্তব রূপ গভীর অনিশ্চয়তায় ঘেরা।

একটি সফল ব্যবসায়িক কাঠামো কখনোই কেবল পণ্য ও সেবার বিনিময়ে সীমাবদ্ধ নয় বরং এটি এক মনস্তাত্ত্বিক খেলা, যেখানে ব্র্যান্ড ইমেজ, গ্রাহকের বিশ্বাস, কর্মীদের আস্থা এবং প্রতিপক্ষের দুর্বলতা—সব একত্রে নিয়ন্ত্রণ করতে জানতে হয়। ব্যবসায়িক জগতে ‘নরম ভাষা’ অনেক সময় ‘কঠিন সিদ্ধান্তের’ আগাম বার্তা হয়ে দাঁড়ায়।
এখানে চুপ করে থাকা মানেই দুর্বলতা নয়।তা হতে পারে আগাম ঝড়ের পূর্বাভাস। দামি পোশাক আর ঝলমলে কনফারেন্স টেবিলের পেছনে থাকে লাভ-লোকসানের পাণ্ডুলিপি।যাকে শুধুমাত্র আর্থিক নয় কূটনৈতিক দক্ষতায়ও পাঠোদ্ধার করতে হয়।
সর্বোপরি ব্যবসা হলো প্রজ্ঞার শাসন এবং সময়ের সঙ্গে সমঝোতার সংবেদনশীল প্রয়োগ। যেখানে প্রতিটি সিদ্ধান্ত একেকটি সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেয় বা চিরতরে বন্ধ করে দেয় এক সম্ভাব্য সাম্রাজ্যের পথ।
গুপ্তঘরের গহ্বরে মাফিয়া কনক্লেভ। প্রচলিত বিশ্বের সমস্ত সংবেদনশীল তথ্যপ্রবাহের পরিসীমার অতীত। ভূগর্ভস্থ এক শীতল ধাতব প্রকোষ্ঠে যেখানে ইথারনেট কিংবা উপগ্রহ-তরঙ্গ কল্পনাতেও প্রবেশের সাহস পায় না।সেই অতল গোপন আস্তানায় সমবেত হয় হেভিওয়েট অপরাধজগতের শীর্ষসারির গ্যাংস্টাররা।
এই সভা কোনো সাধারণ সমাবেশ নয়। এ এক নৈঃশব্দ্যপূর্ন অথচ তীব্র দৃষ্টিবাণে বিনিময়রত অন্তঃশত্রুদের অস্পষ্ট সাম্যচুক্তির অবধারিত সঙ্কেত।

কক্ষটির চারপাশে টাইটানিয়ামের প্রাচীর। সাউন্ডপ্রুফড সিলিং আর একমাত্র প্রবেশদ্বারে স্থাপনকৃত ট্রাই-লেভেল বায়োমেট্রিক স্ক্যানার এতটাই অনুপ্রবেশ-নিরোধক যে, একটি শ্বাপদপক্ষীকেও নিঃশব্দে ডানা ঝাপটানোর অনুমতি নেই। এখানে ঢোকার আগে রক্তানুগত্যের প্রমাণও পর্যাপ্ত নয়।প্রয়োজন পড়লে অতীত মুছে দেওয়া হয়। পুরো বিশ্ব মিলিয়ে দুইশত গ্যাংস্টার উপস্থিত আছে এখানে। সবাই নিজ স্থানে বসে আছে। গম্ভীর হয়ে শুধু একজনের জন্য অপেক্ষা করছে। কিছু মুহূর্তেই তার আগমন ঘটে।
কক্ষের কেন্দ্রস্থলে স্থাপিত গোলাকৃতি টেবিলের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে এক নিকট-অন্ধকারাচ্ছন্ন বৃত্তে হঠাৎই আবির্ভূত হন — গ্যাংস্টার বস নিক জেভরান।
তাঁর আগমন আলোর অভাবেও দৃশ্যমান।শব্দহীন পদচারণায় ও নিঃশ্বাসহীন পরিবেশে তাঁর উপস্থিতি এমনই প্রভাবশালী যে বাকিরা গলায় পেঁচানো হীরার মালা, কোকেন-মাখা আঙ্গুল কিংবা সোনার ঘড়ি-পরিহিত হলেও আপনা-আপনিই নিঃশব্দ হয়ে যায়।

নিক গ্রিবাদেশ নাড়িয়ে সবার দিকে এক পলক তাকায়। নিকের চাহনি যেন রক্ত-শোষণকারী হাইপারসেন্সর। তাঁর শরীরে কালো সিল্কের স্যুট।হাতে পরা একজোড়া অ্যালয়-প্লেটেড গ্লাভস।চোখে কাস্টমাইজড মিরর-টিন্টেড গগলস একই ভঙ্গিতে গিয়ে নিজের বরাদ্ধকৃত আসনে বসে পড়ে।
নিক কাউচের উপরে রাখা প্রতিটা কাগজপত্র পরখ করে ঠান্ডা কন্ঠে বলে,
“প্রতিটি স্পর্শহীন সমীকরণ, যার কেন্দ্রবিন্দুতে ঘূর্ণায়মান রয়েছে আমাদের অস্তিত্বের মৌলিক চক্রান্তসমূহ, সেগুলির পুনর্বিন্যাস এখন অপরিহার্য। চতুর্থ জোনে অপারেশনাল স্ট্যাটিকতা কোনো বিচ্ছিন্নতা নয়।বরং গৃহীত মৌন বিদ্রোহ। তার প্রতিক্রিয়া হবে আপাত-নির্বাক কিন্তু সুপরিকল্পিত।
ডন লোরেঞ্জো জেনেটিক ড্রাগ সিন্ডিকেটের চিফ এক্সিকিউটর বলেন,
“আমাদের মেথোডোলজিকাল ডিস্ট্রিবিউশন মেকানিজম এখনো ইনট্যাক্ট। কিন্তু ইস্টার্ন কোড-নোডে রেজিস্টার্ড এক্সচেঞ্জ রেট হঠাৎ করেই ইনভার্সলি কম্প্রেসড। ইঙ্গিত।ভিতর থেকেই কোনো সাইফার-বেইজড রিকনফিগারেশন হচ্ছে।”

ভিনসেন্তে রুশে আর্মস লজিস্টিকস হেড বলে,
“অস্ত্রসম্ভারের তৃতীয় ব্যাচ যে নন-কনফিগারড স্যাটেলাইট লিঙ্ক দিয়ে পাঠানো হয়েছিল।তার ট্র্যাকিং ডেটা হায়ারার্কিক্যাল এনক্রিপশন বাইপাস করে কেউ এক্সট্র্যাক্ট করেছে। প্রতিটি চিহ্নিত বস্তুর উপর কাস্টডি পুনর্বহাল করা না গেলে ডিলেটেড ট্রাস্ট কোড ইমপ্লিমেন্ট করতে হবে।”
মারিও “কোয়ান্টাম” ফ্যারেলি (ফিনান্স ইনফিলট্রেশন ও ব্ল্যাক-ব্যাঙ্কিং বিশেষজ্ঞ) বলেন,
“ট্রান্সন্যাশনাল ফাইনান্স ফানেলিংয়ের স্ট্রাকচারাল রিডান্ডেন্সি বাড়ছে। আমাদের ‘ছায়া-মুদ্রানীতি’ যদি আরেকবার এক্সটার্নাল অডিটিংয়ের মুখোমুখি হয় তবে ক্রিপ্টো-ডায়নামিক ডামি ট্রাস্ট ব্যবহার না করে একটা বিকল্প সিস্টেমিক স্ক্র্যাম্বল চালু করতে হবে।”
সেরাফিনা ব্ল্যাক মনস্তাত্ত্বিক হিট-স্ট্র্যাটেজিস্ট বলেন,
“শত্রুরা অস্ত্র ব্যবহার করে।আমরা স্মৃতি মুছে ফেলি। আগামী চুক্তিগুলোতে ট্রমা-ইনসেপ্টেড কন্ট্রাক্ট বাধ্যতামূলক করা হোক। যারা আমাদের জন্য কাজ করে তাদের মস্তিষ্কে গেঁথে দেওয়া হবে ‘প্রোগ্রামড আনুগত্য। আজকের সভায় গৃহীত প্রত্যেকটি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পূর্বে, প্রত্যেক ক্লাসিফায়েড নোডে ‘মিউটেড অথরিটি ট্রান্সফার’ কার্যকর করা হবে। মনে রাখো।আমরা অস্ত্র বহন করি না। অস্ত্র ধারণ করে আমাদের নামে।”
ডন কায়াত ইতালি মাফিয়া গম্ভীর কণ্ঠে বলে,

“আমরা আজ এখানে এসেছি অস্ত্র ব্যবসার ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে। ইউক্রেন যুদ্ধ, আফ্রিকান সংঘর্ষ আর মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা।সব মিলিয়ে বাজার এখন উন্মুক্ত। কিন্তু… এখনো আমরা নিজেরা একে অপরের গলায় ছুরি ধরছি।”
মাকসিম ইভানোভ রাশিয়ান মাফিয়া শীতল স্বরে হেসে বলে,
“আমরা ছুরি দিই যাতে তারা নিজেরাই গলা কাটে। হাহ! তবে হ্যাঁ অস্ত্র এখন আর শুধু রাইফেল না… এখন বাজার চাই ড্রোন, সাইলেন্ট স্নাইপার, হাইব্রিড সাইবার-বুলেট। আর এদের পেছনে খরচ কম। কিন্তু ভয় বেশি।”
মিঃ ওয়েই ঝাং চায়না ট্রাইঅ্যাড মাফিয়া চোখ সরু করে তাকিয়ে বলে,
“আপনারা শুধু ধ্বংস দেখেন। আমরা দেখি নিয়ন্ত্রণ। এখন সময় এসেছে। Smart Arms Protocol চালুর। প্রতিটি অস্ত্র থাকবে QR verified, GPS tagged. কে চালাচ্ছে, কোথায় চালাচ্ছে, কতবার সব থাকবে logged. Control is the new currency.”

কাজুহিরো টাকেদা জাপান ইয়াকুজা শব্দে শীতল গম্ভীরতা নিয়ে বললো..
“আমরা কখনো প্রযুক্তির বিরুদ্ধে না। কিন্তু সম্মানের ঘাটতি হলে অস্ত্রও নিরর্থক। বাজারকে আগে শৃঙ্খলা শিখাতে হবে। নাহলে এগুলো শুধু ভবিষ্যতের শবগাথা লিখবে।”
এল সিনিয়র ব্লাঙ্কো মেক্সিকান কার্টেল ঘাড় কাত করে।লাল পানামা টুপিতে আঙুল ঘোরায়। এরপর বলে,
“তোমরা প্রযুক্তি নিয়ে ব্যস্ত। আমরা মাঠে রক্ত ঢালছি। বডিগুলো আমাদের ড্রোনের চাইতে বেশি ভয় তৈরি করে। তবে হ্যাঁ, আমরা ড্রোন নিচ্ছি। কিন্তু Remote-Controlled Killers আমাদের মাঠে কী দেবে। বলো তো?”
সালেম আরসালান তুর্কি মাফিয়া চোখে আগুন আর ঠোঁটে বিষ নিয়ে হুংকার ছাড়ে। এরপর নিকের দিকে তাকাতেই নিক ঠান্ডা গলায় বলে,
” পরের বার এমন হুংকার আসলে জ্যাঁন্ত পুতে ফেলব সালেম।
সালেম রাগে কিড়মিড়িয়ে উঠে,
” গত ছ’মাসে আপনার ছায়া ছড়িয়ে গেছে দক্ষিণ এশিয়া থেকে মধ্যপ্রাচ্য অবধি। আমাদের রুট দিয়ে যাচ্ছেন অস্ত্র, কিন্তু দাম পরিশোধ হচ্ছে… নীরবতায়। আপনার টার্গেট কী?”
নিক ভ্রুঁ নাড়ায়। আরিশ পেছনের অন্ধকার থেকে বেরিয়ে এসে গম্ভীরতা টেনে চেয়ারে বসে। ঠোঁট কামড়ে জিজ্ঞাসা করে,

“টার্গেট? আমরা বাজারের নিয়ন্ত্রণ চাই না। আমরা বাজারটা রিডিজাইন করছি। তোমরা বিক্রি করো অস্ত্র। আমরা বিক্রি করি অনুমতি। তোমরা ভয় দেখাও রক্ত দিয়ে আমরা ভয় বানাই ডেটা দিয়ে।”
টেবিলে রাখা লাল ফোল্ডারের মাঝে হঠাৎই ভেসে ওঠে ডেটা স্ক্রিন। সব মাফিয়াদের অস্ত্র ডিপো। সরবরাহ রুট আর দুর্বলতা লিস্টেড। সবার চেহারা সাদা হয়ে যায়। ভয়ে সামান্য ঢোক গিলে।
মাকসিম ইভানোভ চোখ সরু করে বলে,
“তুমি কি হুমকি দিচ্ছো?”
আরিশ বাঁকা হেসে বলে,
“না।আমরা কেবল জানিয়ে দিচ্ছি। আগামী পাঁচ বছরে যাদের হাতে ডেটা + অস্ত্র + লোকাল পলিটিক্স থাকবে।শাসন করবে তারাই। আমরা এসেছি আলোচনায়।যুদ্ধ চাইলে তা-ও পাবে।”
কাজুহিরো চোখ বন্ধ করে মাথা ঝাঁকিয়ে বলে,

“সে নিজের পথ তৈরি করছে… এবং আমরা তা দেখছি।”
এই সমাবেশ দীর্ঘ সাত ঘন্টা চলে। পরিসমাপ্তিতে সবাই রাশিয়ান ভদকা, ওয়াইন নিয়ে উল্লাস পালন করে। কেউ কেউ নারীদের সাথে নিষিদ্ধ অশালীন কাজে মেতে উঠে। নিক মেয়েগুলোর দিকে এক পলক তাকিয়ে মুখ বিকৃত করে ফেলে। কিছু বিশ্রি গালি প্রয়োগ করে থু – থু ফেলে। নিক সামনে এগিয়ে যাবে আচমা একটা মেয়ে এসে তার গায়ে ঢলে পড়ে। সাথে সাথে নিক ঘৃনায় চেঁচিয়ে উঠে,
‘ হাউ ডেয়ার ইউ টাচ্‌ মি, ইউ ফিল্‌থি হোয়ার! শালী নষ্টা।
নিকের এমন ঘর কাঁপানো গর্জনে মেয়েটি কেঁপে উঠে। পার্টির মধ্যে সব বুড়োদের মধ্যে এমন হ্যান্ডসাম ছেলে দেখে নিজেকে আটকাতে পারে নি। তাই তো এমনভাবে এসে জড়িয়ে ধরেছিলো। কিন্তু এমন ভয়ানক গর্জনের সম্মুখীন হবে ভাবে নি। মেয়েটি থেমে যায়। পুনরায় নিকের কাছে এসে দাঁড়ায়। তার গলার কাছে শাহাদাত আঙ্গুল দিয়ে স্পর্শ করে নিচে নামতে নামতে বলে,

” এইভাবে রিজেক্ট করতে পারেন না। আমি এখনও কুমারী। চাইলে ট্রাই করতে পারেন। এখানে উপস্থিত সব থেকে সুন্দরী রমনী আমি।
নিকের চোখ লাল হয়ে উঠে। ধূসর মনিগুলোর পাশ দিয়ে যেন রক্ত জমাট বেঁধে গিয়েছে। সামান্য ঠোঁট কামড়ে বলে,
” সামলাতে পারবে? নাকি এক মিনিটেই শ্বাস রোধ হয়ে মরে যাস? আমি কিন্তু থেমে যাব না। তর মৃত লাশের উপর দিয়েই সব করব।
মেয়েটা শব্দ করে হেসে উঠে,
” ফা**ক মি বেইবি। ট্রাই করে দেখে নাও। অফার করছি। এখানে সব থেকে সুন্দরী রমনী আমি।
নিক এক পলক তাকায় মেয়েটার হাতের দিকে। যেটা বর্তমানে তার কালো ব্লেজারটা খুলার চেষ্টা চালাচ্ছে। নিক এদিক – সেদিক তাকিয়ে আচমকা মেয়েটার হাতে সরু ছুঁরি বসিয়ে দেয়। মেয়েটাকে চিৎকার করার ও সুযোগ দেয় না। মুখ চেপে ধরে একটা অন্ধকার রুমে নিয়ে যায়। মেঝেতে ধ্বাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে দাঁত পিষে বলে,
” শালী নষ্টার বাচ্চা নষ্টা। সাহস কিভাবে হলো গ্যাংস্টার বস নিক জেভরানের শরীরে স্পর্শ করার। তর থেকে হাজার গুন সুন্দরী রমনী আমার ঘরে আছে।
মেয়েটা ব্যাথায় কাতরাচ্ছে। নিকের দিকে কান্না ভেজা চোখে তাকায়। নিক মেয়েটার দিকে না তাকিয়ে অন্য দিকে ফিরে বলে,

” তর উপর তো কুকুর ও পস্রাব করবে না। লজ্জায় মাথা নুইয়ে ফেলবে। ভাবলি কিভাবে তকে নিয়ে আমি আনন্দ – উল্লাসে মেতে উঠব। আমাকে সামলানোর জন্য আমার বউ আছে। তর মত ব্যাশ্যার প্রয়োজন নেই।
নিক চেয়ার থেকে উঠে দাড়ায়। হাত দিয়ে দুইবার তালি বাজাতেই দুইজন বিশালদেহী ব্যাক্তি এসে হাজির হয়। কুচকুচে কালো তাদের শরীর। বিশালদেহী তাদের শরীর। পড়নে বস্ত্র হিসেবে একটা হাটুর উপর পর্যন্ত শর্ট প্যান্ট। অর্ধ নগ্ন শরীরের দুইটা বিশালদেহী ব্যক্তিকে দেখে মেয়েটি উঠে দাঁড়ায়। ভয় নিয়ে বলে,
” এরা কারা? এদের এনেছেন কেনো?
নিক বাঁকা হেসে বলে,
” তোমাকে মধু খাওয়াতে বেইবি।
মেয়েটা আচমকা চেঁচিয়ে উঠে,
” হুয়াট? আমি এদের কাছে যাব? দেখতেই শরীর গুলিয়ে আসছে। কেমন বিশ্রি।
নিক মেঝেতে থুঁ থুঁ ফেলে বলে,
” তর থেকে ভালো। যাস্ট তদের মত কিছু মেয়েদের কারনে পুরো নারী জাতকে গালি শুনতে হয়। কেউ সম্মান ধরে রাখার জন্য মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে।
আবার কেউ নিজেকে সবার সামনে বিলিয়ে দেয়। নে এইবার দুইজনের ঠেলা সামলা।
মেয়েটা নিকের পেয়ে এসে ঝাঁপিয়ে পড়ে,

” প্লিজ ক্ষমা করে দিন।
মেয়েটার স্পর্শে যেন এখন রাগ আকাশ সমান।পা দিয়ে ধ্বাক্কা মেরে সরিয়ে দেয়। মেয়েটা গিয়ে অনেকটা দুরে ছিটকে পড়ে। নিক চোয়াল শক্ত করে বলে,
” তর মত এমন এক দুইটা মেয়ে মরলে কিছু হবে না। আবার বেঁচেও যেতে পারিস। আমার কাছে ক্ষমা নামক কোনো শব্দ নেই। যেমন চেয়েছিস তেমন দিয়েছি। যাস্ট মানুষটা বদল হয়েছে।
নিক ঠোঁট কামড়ে লোক দুইটাকে ইশারা দিয়ে বেরিয়ে যায়। নিক বেরিয়ে যেতেই মেয়েটা সেদিকে দৌঁড় দেয়। কিন্তু সাথে সাথে একজন ধরে ফেলে। মেয়েটা ছুটার জন্য ছটফট করতে থাকে। একটা লোক পৈশাচিক হেসে বলে,
” এইভাবে ছটফট করে না বেইবি। বসের আদেশ তো আমাদের পালন করতেই হবে।
লোক দুইটা কামমার দৃষ্টি নিয়ে মেয়েটার দিকে এগিয়ে যায়।
নিক রুম থেকে বেরিয়ে আসে। ঘৃনায় শরীর ঘিন ঘিন করছে। সামনে আরিশকে দেখতে পেয়ে কপাল কুচকায়। আরিশ নিকের কাছে এগিয়ে এসে বলে,

” চারদিকে এইসব বিরক্তি লাগছে। চল মেনশনে ফিরে যায়।
নিক আরিশকে সরিয়ে বলে,
” সামনে থেকে সর বাল। শরীরে নোংরা লেগে আছে।
খুব দ্রুত শাওয়ার নিতে হবে।
আরিশ নিকের পুরো শরীরে তাকিয়ে বলে,
” শরীর তো একদম ঠিক আছে। নোংরা কোথায় পেয়েছিস?
নিক চোখ পাকিয়ে তাকায়। আরিশ শব্দ করে হেসে বলে,
” মেয়েটাকে কি করেছিস?
নিক বিরক্তি নিয়ে বলে,
” দুইটার হাতে তুলে দিয়ে এসেছি।
আরিশ ঠাট্টা করে বলে,
” মেয়েরা স্পর্শ করলে তর শরীর এমন ছ্যাৎ করে উঠে কেনো? কোনোভাবে কি তর অঙ্গ জ্বালা করে।
নিক বাঁকা হেসে বলে,

” পুরো পৃথিবীর মধ্যে শুধু একটা নারী আমাকে কন্ট্রোলল্যাস করার ক্ষমতা রাখে। ওর সান্নিধ্যে গেলে শুধু অঙ্গ নয় আরও অনেক কিছুই জ্বালা করে।
আরিশ চোখ বড় বড় করে ফেলে। সামান্য কেঁশে বলে,
” অডিও বুক ভুলেও প্রয়োগ করিস না।
— করে ফেলেছি।
নিক এগিয়ে যায় ওয়াশরুমের দিকে। আরিশ পিছনে পিছনে গিয়ে বলে,
” আমাকে একটু শিখাবি দোস্ত।
নিক ভ্রুঁ কুচকে বলে,
” তর সাথে নাজলীর বিয়ে কোনো এক কারনে হয়েছে। অডিও বুক প্রয়োগ করার জন্য দেয় নি। শালা নজর ঠিক কর।
আরিশ নাক ছিটকায়,

” এই বারুদ বোমার সাথে কে যাবে। মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে গলা টিপে মেরে ফেলি। বাল তর সেই কাজ সমাপ্ত কর। আর সহ্য করতে পারছি না। মেরে ফেললে আবার এসে আমাকে ধরবি। দুনিয়াতে মেয়ের অভব পড়ে নি এই ব্যাডা মার্কা মেয়ের কাছে আমি যাব।
নিক চোখ চোখ ছোট ছোট করে বলে,
” ব্যাডা মার্কা! তুই কিভাবে জানলি? ও মেয়ে নাকি ছেলে?
আরিশ থতমত খেয়ে বলে,
” সেসব ইঙ্গিত দেয় নি। মেয়েরা সবসময় কোমল হয়। কিন্তু এই মেয়ে একটা তীব্র ভাইরাস। নাজেহাল করে ছাড়ছে আমকে। মেয়েদের কোনো গুণ নেই। সে জন্য বলেছি।
নিক গম্ভীর নিশ্বাস ছাড়ে। ওয়াশরুমের ভিতরে ডুকে আরিশের দিকে তাকায়। আরিশ কথা বলতে বলতে নিজেও ওয়াশরুমের ভিতরে ডুকে পড়ছে। নিক সহজ কন্ঠে বলে,
” আমার সাথে শাওয়ার নেওয়ার ইচ্ছে করছে নাকি তর? তাহলে আয় প্যান্ট – শার্ট খুলে ভালোভাবে শাওয়ার করিয়ে দিচ্ছি।
আরিশ নিজের অবস্থান লক্ষ্য করে। নাক ছিটকে চেঁচিয়ে উঠে দুই পা পিছিয়ে যায়। নিক ঠোঁট কামড়ে হেসে দরজা লাগিয়ে দেয়। আরিশ বির বির করে উঠে,
” শালা লুচ্চা! একদিন জং ধরবে দেখে নিস।

গাড়িটা পার্কিং এড়িয়াতে এসে থামে। প্রতিটা গার্ড মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু সবাই অসম্ভবভাবে ভয়ে কাঁপছে। নিক গাড়ি থেকে নেমে সবার দিকে এক নজর তাকায়। এরপর গম্ভীরতা টেনে মেনশনের দিকে এগিয়ে যায়। আরিশ আর অধিরাজ গাড়ি থেকে চাবি খুলে তারাও মেনশনের দিকে এগিয়ে আসে। মেইন করিডর পেরিয়ে আরিশ ডিভানের উপর গিয়ে বসে পড়ে। ক্লান্ত শরীরটা ডিভানে পিঠ ঠেকিয়ে এলিয়ে দেয়। নিক এক মিনিট সময় ব্যয় না করে উপরের দিকে অগ্রসর হয়। আরিশ কিছুটা ঠাট্টা করে বলে,
” রুমে চিল আসে নি, যে তর বউকে তুলে নিয়ে যাবে। পাগলের মত না ছুটে ধীর সুস্থে যা।
নিক বিরক্তির নিশ্বাস ফেলে। নিককে এমন বেপোরোভাবে উপরে উঠতে দেখে সামান্য হাসে। এরপর পুনরায় উচ্চস্বরে নিককে শুনিয়ে বলে,

” মাত্র এক রাত বউ ছাড়া ছিলি ব্রো। এমন বেপোরোয়া হয়ে যাবি ভাবি নি। মেডিসিন কিছুটা কম প্রয়োগ করিস। নাহলে সহ্য করতে না পেরে পালাবে।
আরিশ লাইন শেষ না করতেই নিক রুমের ভিতরে প্রবেশ করে। রুমের দরজা খুলা দেখে কপাল কুচকে ফেলে।রুমে ঢোকার মুহূর্তেই গ্যাংস্টার বসের চোখ তীক্ষ্ণ শকুনের মতো ঘুরে যায় চারপাশে। নিকষ অন্ধকারের ভেতরে।যেখানে প্রতিটি কোণ তার নজরবন্দি ছিল। কিন্তু রুম সম্পূর্ন খালি। সেখানে আজ এক অপার শূন্যতা। কারোর উপস্থিতির ছায়াটুকুও নেই। বিছানার চাদরে নেই তার সুবাস। আয়নার সামনে পড়ে নেই তার চুলের ক্লিপ। একদম হঠাৎ করেই সমস্ত অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গেছে বাতাসে। এই হঠাৎ-হীনতার নিঃশব্দ চিৎকার বসের হৃৎপিণ্ড বিদীর্ণ করে দিচ্ছে গ্যাংস্টার বসের। চোখ মুহূর্তেই লাল হয়ে ওঠে।ঠোঁটের কোণে জমে ওঠে রক্তিম বিষ। প্রথমে ধীরে ধীরে এগিয়ে আসে। চোখ দুইটা থেকে যেন আগুন বের হচ্ছে। অতঃপর হঠাৎ প্রবল গর্জনে সে ছুঁড়ে ফেলে ডেস্কের পাশে রাখা রিভলভার কেস। একে একে গুলি চালায় দেয়ালে ঝোলানো আয়নাটির দিকে। আয়নার প্রতিফলিত প্রতিচ্ছবির সঙ্গে সঙ্গে ভেঙে চুরমার হয় তার অহংকার।।তার দাবি আর তার মালিকানা। গুলির শব্দে কেঁপে ওঠে কক্ষের বাতাস। সাউন্ড প্রুফ রুমে বয়ে চলা তান্ডব বাহিরের দুনিয়া থেকে আলাদা।
নিক চুল খামছে ধরে বিছানার এক কোণে বসে পড়ে। টেবিলের ওপর রাখা সিগার কেস, ক্রিস্টালের গ্লাস, হুইস্কির বোতল সবকিছু আছড়ে ফেলে দেয়। গ্লাসের টুকরোর মতো তার ভেতরের সহ্যক্ষমতা ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। মেঝের ওপর দিয়ে নিক নিজেই পা মাড়িয়ে হেঁটে যায়। জুতা ভেদ করে রক্তাক্ত হতে থাকে পায়ের তলা।তবু মুখে একটুও বিকার নেই।

রাগে চোয়াল শক্ত করে বেলকনির দিকে এগিয়ে যায়। কারোর কোনো অস্তিত্ব নেই। নিক কিছুক্ষন দাঁড়িয়ে লম্বা একটা শ্বাস টানে। ওয়াশরুম চেক করে ডিভানে গিয়ে বসে। চোখ দুইটা ধীরে ধীরে লাল হয়ে হিংস্র হতে শুরু করে। লাল- কালার।মধ্যে বসে থাকা সোনালী চুল, গভীর সমুদ্রের নীল চোখ, দামী ঝলঝল করা মুক্তাটা নেই। তাই তো তার কাছে রুমটা বেশ অন্ধকার লাগছে। কপালের ডান অংশ বৃদ্ধা আঙ্গুল ঘেষে বেপোরোয়াভাবে দাঁড়িয়ে যায়। ফর্সা মুখটা রক্তিম হয়ে উঠেছে। কাউচের উপরে রাখা ল্যাপটপটা শক্ত আঙ্গুলে টিপতে থাকে। অনাকাঙ্খিত জিনিসগুলো চোখে পড়তেই সাথে সাথে চোখ বন্ধ করে ফেলে। রাগে ল্যাপটপটা মেঝেতে সর্বশক্তি প্রয়োগ করে ছিটকে ফেলে দেয়। রাগে পাগলের মত এদিক – সেদিক তাকায়। ছন্নছাড়া হয়ে চুল খামছে ধরে বিরবির করে উঠে,

” ভেবেছিলাম আর আঘাত করব না। আমার হিংস্র ভালোবাসা তোমাকে দেখাব না। আমার আসল রুপ আর প্রয়োগ করব না। কষ্ট হলেও ভালোটা দেখিয়ে আগলে রাখব। সুযোগ কেড়ে নিলে। ঘুমন্ত সিংহকে আবার ও জাগ্রত করলে। পরপুরুষের সামান্য স্পর্শ লাগলেও সে শরীর আমি এসিডে পুড়াব। ইউভ সীন দ্য কাম সাইড অব নিক জেভরান, বাট ইউ হ্যাভ’নট সীন হিজ স্যাভেজ সাইড, ব্লাড রোজ। তোমাকে আঘাত করতে ইচ্ছে করছে। সমুদ্রের তলদেশে থাকলেও আমি বের করে আনব। মরে গেলে মৃত লাশ নিয়ে আসব। লাশের উপর প্রতিটা শাস্তি প্রয়োগ করব। কিন্তু তোমার কোনো মুক্তি নেই।
নিক চাবিটা নিয়ে হাত মুষ্টি বুদ্ধ করে ফেলে। বুকে ব্যাথা অনুভব করতেই ডান হাত দিয়ে চেপে ধরে। রাগে শরীর কাঁপছে। বাহিরের প্রতিটা সিসি ক্যামেরা দেখা উচিত । এত এত বডিগার্ডের মধ্য দিয়ে সামান্য শত্রু পর্যন্ত ডুকতে পারে না। সেখানে এই মেয়ে পালিয়ে গেলো কিভাবে?
নিক অধৈর্য হয়ে নিচে নামে। আরিশ মোবাইলে গুরুত্বপূর্ন কাজ করছিলো। নিককে এমন ভাবে নিচে নামতে দেখে কপাল কুচলে ফেলে। আরিশ ঠাট্টা করে বলে,

” এত দ্রুত খেয়ে ফেললি। মানে মেডিসিন দিয়ে দিয়েছিস ব্রো?
নিক আচমকা প্রগাঢ় ক্ষুব্দতায় আরিশের কলার চেপে ধরে হুংকার ছাড়ে,
” কোথায় গিয়েছে ও? কেনো গিয়েছে? ও জানত না বাহিরের জগত তার জন্য নিরাপদ নয়। আমি আঘাত করলেও তো আগলে রেখেছি। তাহলে কেনো গিয়েছে বল।
নিকের লাল হয়ে যাওয়া চোখ দেখে আরিশ কপাল ভাঁজ করে ফেল। এই ছেলে হুট করে এমন রেগে আছে কেনো? কে কোথায় চলে গিয়েছে? আরিশ সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে বলে,
” কে চলে গিয়েছে?
নিক বড় বড় নিশ্বাস নিতে নিতে বলে,

” ও। সামান্য সময়ের ভিতরে কোথায় খুঁজবো? আমার আগে যদি ইগর, কায়াত অন্যান্য মাফিয়াদের হাতে পড়ে যায়। কি হবে বলতো? যদি আমি পেয়ে যায় তাহলে জ্যাঁন্ত কবর দিলে কি খুব বেশি অন্যায় হবে? অথবা বেল্ট দিয়ে আবার ও রক্তাক্ত করব। ওই মেয়ের রক্ত দিয়ে হাত রক্তাক্ত করার ইচ্ছে হচ্ছে।
আরিশ নিকের অস্বাভাবিক আচরনে ঢোক গিলে বলে,
” এনি রুমে নেই? কিন্তু বাড়ির বাহিরে পা রেখেছে কিভাবে?
নিক আরিশকে ধ্বাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়। রিভলভারটা হাতে শক্ত করে তুলে নেয়। বহিরাঙ্গনে গিয়ে প্রতিটা গার্ডের দিকে তাকায়। গার্ডরা মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। ভয়ে, আতঙ্কে জমে গিয়েছে। প্রতিটা সিসি ক্যামেরা চালু করা হয়েছে। চিত্রা মাসি মুখে কাপড় গুঁজে রেখেছে। ভয়ে পায়ের নিচ দিয়ে শিরশির করে উঠছে। নিক মনিটরে গভীর দৃষ্টি নিক্ষেপ করে। এনির প্রতিটা পদক্ষেপ ঝলঝল করছে। চিত্রার সাথে কথা বলতে দেখে কপাল কুচকে ফেলে। ভয়ানক দৃষ্টি ফেলে গর্জে উঠে,

” ওর সাথে আপনার কি কথা ছিলো?
চিত্রা শুকনো ঢোক গিলে। ভয়ের কারনে গলা দিয়ে আওয়াজ বের হচ্ছে না। শরীর ঘেমে যাচ্ছে। কোনোমতে।অস্ফূর্ত আওয়াজে বলে,
” আ… আমি ম্যাডামের কাছে গিয়েছিলাম। প্রয়োজনীয় কিছু লাগতে পারে সেটা ভেবে। উনি আমাকে পেয়ে বেশ খুশি হন। উনার জীবনের কিছু গল্প বলেছে। আর কিছু নয় স্যার।
নিক অদ্ভুতভাবে তাকালো চিত্রার দিকে। চিত্রা নিকের এমন অদ্ভুত চাহনি দেখে বরফের মত জমে যায়। কি ভয়ানক শকুনের মত তার দৃষ্টি। রান্না ঘরের অংশ চোখে পড়তেই চোয়াল শক্ত করে ফেলে। দুইজন স্টাফ এনির দিকে মোহিত হয়ে তাকিয়ে আছে। নিক হাতে থাকা রিভলভারটা তুলে নেয়। এরপর পুরো স্টাফদের দিকে এক পলক নজর রাখে। পুনরায় নিজের দৃষ্টি সামনে নিয়ে আসে। দুই মিনিটের মধ্যে শুনা যায় দশটা গুলির শব্দ। সবাই ভয়ে – জমে যায়। প্রতিটা গার্ড আর স্টাফ মেঝেতে তাকায়। দুইজন স্টাফ মাটিতে গড়িয় পড়ে। তাদের চোখ গিয়ে গড়িয়ে পড়ছে লাল তরল রক্ত। সেই লাল রক্ত ছিটকে পড়ে অনেকের শরীরে। ভয়ে কাঁপছে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা প্রতিটা লোকজন। আরিশ গম্ভীর নিশ্বাস ফেলে। মারার কারন বুঝতে বাকি নেই। নিক দেড় হাজার গার্ডদের দিকে ইশারা দিয়ে বলে,

” আগামী এক ঘন্টার ভিতরে এই মেয়েকে আমি অক্ষত চাই। পুরো দক্ষিন আফ্রিকার রাস্তা আটকে ফেলো। একটা মাছিও যাতে যাতায়াত করতে না পারে। সমুদ্রের তলদেশ, সাত তবক জমিনের নিচে, যেখানে থাকুক না কেনো। এই মেয়ে খুঁজে বের করো। যদি বের করতে না পারো তাহলে প্রতিটা তীরের আঘাত সহ্য করার মনোভাব পোষন করে ফেল।
নিক কথাটা বলে আর দাঁড়ায় না। এলোমেলো অধৈর্য পা ফেলে গাড়ির দিকে এগিয়ে যায়। আরিশ নিকের অবস্থা দেখার জন্য তাকাতেই আৎকে উঠে। নাক দিয়ে রক্ত পড়ছে। আরিশ দৌঁড়ে নিকের কাছে যায়। হাত শক্ত করে চেপে ধরে বলে,
” নিক তর নাক দিয়ে ব্লাড বের হচ্ছে। অতিরিক্ত ব্লিডিং হলে খারাপ কিছু ঘটে যাবে। শান্ত হ ভাই। এনিকে আমরা পেয়ে যাব। প্লিজ শান্ত হ।
নিক ড্রাইভিং সিটে বসে থেমে. থেমে হুংকার ছেড়ে বলে,
” আমি এই মেয়ের শরীরের রক্ত দেখতে চাই। আর এইটা খুব শিঘ্রই।
নিক টিস্যু দিয়ে নাকের রক্ত মুছে। গাড়ি স্ট্রাট দিবে তার আগেই আরিশ ঝড়ের গতিতে নিকের হাত চেপে ধরে। নিক রাগে চোয়াল শক্ত করে বলে,
” আমার সময় নষ্ট করছিস কিন্ত? হাত ছাড় নাহলে আহত হবি।
আরিশ জেদি গলায় বলে,
” আমাকে মেরে যদি তর মস্তিষ্ক ঠান্ডা হয় তাহলে মারতে পারিস। কিন্তু এই মুহূর্তে তকে যেতে দিব না। তীব্র দহনে উন্মাদ হয়ে উঠেছিস। রাগ ঝাড়তে চাইলে ঝাড়। এউভাবে চেপে রাখলে অঘটন ঘটে যাবে। গ্যাংস্টার বস তো ঠান্ডা মাথার খুনী। এই রুপ ঠিক মেনে নিতে পারছি না।

” ওকে এনে দে। আমি একদম ঠিক হয়ে যাব।
— শান্ত হ। নিয়ে আসব। তুই শান্ত না হলে ব্লিডিং বন্ধ হবে না।
নিক পুনরায় দাঁত পিষে বলে,
“ফাক অফ আরিশ। হাত ছাড়তে বলেছি বিচ।
— না.. ছাড়ব না। এই অবস্থায় গেলে তুই এক্সিডেন্ট করে বসবি।
নিক অধৈর্য হয়ে বাম হাত দিয়ে আরিশের নাকে ঘুষি দিয়ে উঠে। নিকের এমন তীব্র আঘাতে আরিশ এক পাশে হেলে পড়ে। নাক আর ঠোঁট কেটে যায়। আরিশ নিজেকে সামলে পুনরায় নিকের হাত ধরে,
” স্টপ নিক। বর্তমানে তুই শক্তিহীন হয়ে আছিস। সামনে ইগর অথবা কায়াতকে পেলে সম্মুখীন হতে পারবি না। তর হাতে এখনও তাজা সেলাই। তর নাক দিয়ে ব্লিডিং হচ্ছে।বুকের চাপ অতিরিক্ত বৃদ্ধি পেলে বাজে কিছু ঘটে যাবে। দ্রুত চিকিৎসা কেন্দ্রে চল।
নিক নিস্তেজ চোখে তাকায় আরিশের দিকে। দুই নাক দিয়ে রক্ত চুইয়ে চুইয়ে পড়ছে। তাতে কোনো ভাবান্তর নেই। অদ্ভুতভাবে হেসে বলে,

” যাকে আগলে রাখার জন্য পুরো সম্রাজ্যের সাথে যুদ্ধে নেমেছি।অথচ সেই আমার কলিজায় ছুঁরি বসিয়ে পালালো। ওকে এনে দে আরিশ। নাহহ ওকে এনে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কারন আজ রাতটা ওর জন্য ভয়ানক রাত হবে। এতদিন আমার নিয়ন্ত্রন দেখেছে আজ থেকে নিক জেভরানের ধ্বংসলীলা দেখবে।
আরিশ ভয় পায় সামান্য। সে নিকের প্রতিটা পদক্ষেপের সাথে পরিচিত। এনির কি অবস্থা হবে ভাবতেই আৎকে উঠে। নিকের হাতের উপর হাত রেখে বলে,
” শান্ত হ ভাই। পেয়ে যাবি তুই তর এনিকে। কেউ কিছু করতে পারবে না। শান্ত হ তুই। আর উত্তেজিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। এমনিতেই প্রচুর ব্লিডিং হচ্ছে।
নিক আরিশের হাত ঝাটকা মেরে সরিয়ে দিয়ে বলে,
” পুরো শরীর খন্ড- বিখন্ড হয়ে যাক। নিশ্বাস বন্ধ হয়ে যাক। কিন্তু এই মুহূর্তে সামান্য দাড়ানোর সময় নেই। আগে খুঁজে বের করব এরপর নিজের হাতে প্রতিটা হিসেব মিলাব। হোক শারিরীকভাবে অথবা মানসিকভাবে। আমার কাছে আসা দেখেছে, ভালোবেসে নিয়ন্ত্রনে রাখা স্পর্শ দেখেছে কিন্ত অনিয়ন্ত্রিত নিক জেভরানকে দেখে নি। প্রতিটা হিসেব মিলাব তোমার থেকে ব্লাড রোজ। বিশ্বাসঘাতকতার কারনে নিজের জন্মদাত্রীকে জবাই করতেও হাত কাঁপে নি। টুকরো – টুকরো করেছিলাম তার শরীর। তুমি কে? কে তুমি?

রাত এখানে রাত কেবল সময় নয়।এটি এক জোড়া বিষাক্ত হাত যা তার গলায় আলতো করে মুঠো পাকায়। পাতার নিচে লুকানো অদ্ভুত শব্দগুলো যেন আলাপে পরিণত হয়েছে।প্রতিটি শব্দ একেকটি খুনের চুক্তি।সেগুলো তার কানের খতায় ঢুকে মৃত্তিকার একেকটি কণা হালকা করে তোলে। এনি দৌড়ায়। কিন্তু তার দৌড় অলীক।হাতের কাঁধে রক্তের ঠোঁট যেমন মিশে আছে তেমনি তার স্মৃতির ভাঁজও ক্রমশ কুচকিয়া যাচ্ছে।
পেছন থেকে শব্দ আসে অদ্ভুতভাবে। এনি ভিয়ে মুখ খিঁচে ফেলে প্রথমে কেবল পাতার আড়াল ভেদ করে আসা এক খিঁচুনি পরিশেষে বিশৃঙ্খল পুরুষ স্বরের এক ল্যাজুমি কণ্ঠ। এগুলো মানবের নয় এগুলো তার ভয়ের প্রতিচ্ছবি। যেগুলো তাকে নামমাত্র শ্বাসও নিতে দেয় না। মনে বচ্ছে নিক এই বুঝি এসে পড়েছে। তাকে টেনে – হিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছে আবারও নরকে বন্ধী করার জন্য।

চোখে অন্ধকারের ছায়ারা খেলা করে মাসুম একটি দুধের রশ্মি মাঝে মাঝে পাতার ফাঁকে পড়ে তার গায়ে। সেই রশ্মি যেন তাকে নিশ্চয়তা দেয় না বরং প্রতিটি রশ্মি গা ছুঁয়ে কাটে একটা নতুন জিজ্ঞাসা। কে তাকে এতটা অনুজ্জ্বল করে ছেড়েছে? নাকি সে স্বেচ্ছায় নিজেকে এই অন্ধকারে চালিত করেছে? প্রশ্নগুলো ভেতরে একটা কুমোর ছোঁয়া জায়গা কিন্তু প্রশ্ন জাগানোই বিপজ্জনক কারণ প্রশ্ন আর্তনাদে রূপ নিলে খোঁজাপড়া সহজ হয়ে যায়। এনি পায়ে হাত দিয়ে বসে পড়ে। চারদিকে ঘন অন্ধকার। কেউ একজন বলেছিলো এখানে আসবে। কিন্তু এখনও সে আসছে না কেনো? তৃষ্ণায় গলা ফেটে যাচ্ছে। পা থেক রক্ত ঝড়ছে অনবরত। এনি একটা স্বাভাবিক জায়গা খুঁজে। ভয়ে তার কলিজা পর্যন্ত কাঁপছে। ক্লান্তি নিয়ে এনি উঠে দাঁড়ায়। জঙ্গল ঘুমায়নি।
গভীর আঁধার রুদ্ধ করে রেখেছে বাতাসের নিশ্বাস।

পাতার ভাঁজে যেন লুকিয়ে আছে শত শত চুপচাপ চিৎকার। সেই নিস্তব্ধতার বুক চিরে ছুটে চলেছে সে। এক খালি পায়ের, রক্তাক্ত গোড়ালির, থরথর কাঁপা শরীর। এনির চোখে কোনো দিশা নেই। তবে একপ্রকার পশুবর্তী টিকে থাকার তৃষ্ণা তাকে ছুটিয়ে নিয়ে যাচ্ছে কাঁটাঝোপ আর শ্বাসরুদ্ধ কর্দমাক্ত মাটির উপর দিয়ে।
পেছনে কোথাও অজানা গাঢ় গর্জনের মতো
ভেসে আসে কর্কশ পুরুষস্বর অস্ত্রধারীদের হিংস্র নিঃশ্বাস। বুকের মধ্যখানে অতীতের কুয়াশায় ঢেকে থাকা ভয় কেবল নয় রক্তের সাথে মিশে গেছে অসমাপ্ত আর্তনাদ।একটি বন্ধ দরজার স্মৃতি। একটি জানালায় শেষ দেখা চাঁদ। এনির পায়ের নিচে প্রতিটি পদক্ষেপে চিরে যায় শুকনো ডাল, চেরা মাটি, জঙ্গলের না-জানা নিঃশ্বাস। আর প্রতিটি ক্ষণে তার দেহ এক অদৃশ্য দড়ির টানে ভেঙে পড়তে চায় তবুও সে ছুটে চলে।এখন থেমে যাওয়া মানে ধরা পড়া নয় বরং মরে যাওয়া। ঘামে চুপচুপে চুলগুলো
তার কপালের ওপরে বিষাক্ত সাপের মতো লেপ্টে আছে। শরীরের সমস্ত অঙ্গ যেন প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে।তবু মস্তিষ্ক এক নির্বিকার রোবটিক মেঘ শুধু একটা শব্দ পুনরাবৃত্তি করে,

“পালাও।”
তীব্র ক্লান্তি এখন তার হাড়ের ভেতরে বিষ ঢালছে। শ্বাস ছিঁড়ে যাচ্ছে প্রতিটি গাছের ডালির ফাঁকে। কখনো থেমে যেতে ইচ্ছে করছে। কখনো নিজের কান্নায় ডুবে মরতে চায়।কিন্তু এনির চোখে এখনো জ্বলছে শেষ স্বাধীনতার এক বিন্দু স্পর্ধা।
এনির ভেতরে আর কিছু বাকি নেই।
সব শক্তি ফুরিয়ে গেছে। পাগলের মতো, প্রাণীদের মতো, নীরব চিৎকারের মতো সেই জঙ্গলের ভেতরে হেটে বেড়াচ্ছে। এক সময় নিস্তেজ শরীরটা নিয়ে গাছের সাথে এলিয়ে দেয়।চারপাশে হিংস্র পশুদের ডাক। বর্তমানে পশুদের আহার হতে সে শতবার রাজি। কিন্তু নিকের সেই বন্ধ রুমে যেতে সামান্য রাজি নয় সে। মরে যাবে এরপর ও যাবে না। লোকটা তাকে ছুঁয়েছে। তার সব থেকে বড় সম্পদ সতিত্ব কেড়ে নিয়েছে। রাত এখন কয়টা বাজে এনির জানা নেই। সাপের ফনার শব্দ শুনে শুকনো ঢোক গিলে।

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ২৫

পুরো শরীর ছিঁড়ে গিয়েছে। মাথাটা আর রাখতে পারছে না। চোখ দুইটা বন্ধ হয়ে আসছে ধীরে ধীরে। কারোর পায়ের শব্দ কানে আসতেই আৎকে উঠে। কে আসছে এগিয়ে? নিক নাকি নাবিদ? এনি দুটানায় পড়ে যায়। পালাবে নাকি একই জায়গায় বসে থাকবে। ধীরে ধীরে শব্দ তীব্র হয়ে উঠে। ছায়া অবয়বটি এনির সম্মুখে এসে দাঁড়ায়। কালো হুডিতে আবৃত তার শরীর। এনি চোখ গুলো দেখার চেষ্টা করে। শ্বাস টানতেও কষ্ট অনুভব হচ্ছে তার। শুধু নিভু নিভু চোখে অস্ফুর্ত আওয়াজে বলে,
” ক.. কে তুমি?

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ২৭