শেষ চৈত্রের ঘ্রাণ পর্ব ৮৫
নূরজাহান আক্তার আলো
শারাফাত চৌধুরীকে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে কঞ্চি হাতে পুরনো ভাঙ্গা বাড়ির দিকে হাঁটা ধরল শুদ্ধ। এদিকটা সুনশান। লোকজনও খুব একটা আসে না। আগে নাকি জাঁকজমকপূর্ন বাজার ছিল। একদিন যাতাযাতের সময় কোন রাগী জ্বিনের নজরে পড়ে এ পাড়ার সবচেয়ে সুন্দরী মেয়েটা।জ্বিন
নাকি তাকে বিয়ে করতে চেয়েছিল কিন্তু মেয়ের বাবা-ভাই রাজি না হয়ে পালাতে চেয়েছিল। পরে সেই জ্বিনটা মেয়েটার পরিবারের সব সদস্যকে মেরে ফেলেছিল। তাদের চোখ ছিল না, মাথার চুল ছিল না, গায়ে ছিল বড় বড় নখের আঁচড়। এরপর এক বাচ্চা ছেলেকে কুরবানির করেছিল।
বাচ্চার মাথা ছিল না শুধু দেহখানা পিচঢালা রাস্তায় পড়েছিল। অনেকে বলেছিল বাচ্চাটি নাকি তেঁতুল গাছে ঢিঁল ছুঁড়ে জ্বিন ঘুম নষ্ট করেছিল।
ফলস্বরূপ তাকে কষ্টদায়ক মৃত্যু দেওয়া হয়েছিল। আর রাস্তার পাশঘেঁষে
এই ভাঙা বাড়িটি ছিল এক সুদখোরের। সেই লোক সুদের টাকার জোরে
পাড়ায় রাজ করে বেড়াত। কেউ কিছু বললেই বাড়ি থেকে তুলে আনত।
চাঁদা নিতো। পাতিনেতাদের সাথে হাত মিলিয়ে পতিতালয়ও খুলেছিল, মাদকদ্রব্য সেবনসহ বেচা-কেনার রমরমা ব্যবসা চালাত। এরপর কিছু সমস্যা হয়েছিল যার কারণে পতিতালয় বন্ধ করেও দেওয়া হয়েছিল।
বেশ কিছুক্ষণ পর সেই লোকের অর্ধনগ্ন লাশ তেঁতুল গাছে ঝুলন্ত অবস্থা পাওয়া গিয়েছিল। কে মেরেছিল? কেন মেরেছিল জানা যায় নি তবে তার ভুড়ি ছিল না। চার হাত-পা মুচড়ানো ছিল। কিছু মানুষেরের বিশ্বাস এটাও জ্বিনেরই কাজ। তারপর এ ঘটনা রটিয়ে যাওয়ায় এদিকে তেমন কেউ আসে না। বন জঙ্গল ঘন হওয়াতে ভুতুড়ে লাগে দেখতে। এ কারণে শুদ্ধ আগের ল্যাবটা এ পথে করেছিল যাতে লোকচক্ষুর নজরে না পরে।
এখন সেখানে কাজ করে না যাওয়াও হয় না। সেখানে জীবন্ত লাশ ছিল যার শরীর নিয়ে অনেক রিসার্চ করেছে।ভিন্ন ধরনের মেডিসিন পুশ করে বিপরীত প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অবশ্য যে কাজের জন্য তাকে আনা হয়েছে সেই কাজ সফল হয়েছে। সেই লাশও সরিয়ে ফেলেছে আর সেই লাশটা ছিল তার বাবার পুরনো বন্ধু প্রক্টক রেজাউল আলমের একমাত্র ছিল মাসুদ। যে বড় ভাবিকে রেপ করে সুইসাইড করতে বাধ্য করেছিল।
কোটিপতির ছেলে বিধায় আইন ছিল হাতের মুঠোয়। এরপর বিদেশের মাটিতে কিছু বছর থেকে দেশে ফেরামাত্রই গুম হয়ে যায়। গুমকারীদের
থেকে টাকা দিয়ে কিনে শুদ্ধ তাকে রিসার্চের কাজে লাগায়। কার ছেলে,
কে সে, কার ভাই, সেসব দেখে না, মনেও রাখে না। তার জীবন্ত শরীর দরকার ছিল টাকার বিনিময়ে কিনে নিয়েছে। কাজ শেষ তার চ্যাপ্টারও শেষ। এসব নিয়ে ভাবতে ভাবতে আশেপাশে তাকিয়ে স্বাভাবিক ভঙ্গিতে ভেতরে প্রবেশ করল শুদ্ধ । বাঁধা ছেলেগুলোর দিকে একনজর তাকিয়ে
সুন্দর করে হাসল। তারপর কঞ্চিটা আজমের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল,
_’ সকালের নাস্তা হয়েছে?’
_’ জি ভাই।’
_’শরীর ঠিকঠাক? ‘
_’জি ভাই।’
_’ গুড! কতটা ঠিকঠাক প্রমাণ দাও দেখি। এটা ধরো, যতক্ষণ উনাদের কোমরে ‘সাগরের ঢেউ’ না উঠছে ততক্ষণ থামবে না, ওকে? সময় কম, স্টার্ট করো।’
শুদ্ধর কথা শুনে আজম বিষ্ময়ে চোখ বড় বড় করে তাকাল। কোমরে ঢেউ তুলবে মানে? তাও কঞ্চি দিয়ে? সে আমতা আমতা করে জানাল হকিস্টিক আছে। শুদ্ধ না বোধক মাথা নাড়াল এটা দিয়েই কাজ সারতে বলল। আজম কঞ্চির দিকে তাকিয়ে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাল ছেলেগুলোর দিকে। এবার বুঝল আসল কাহিনি। সে কোনোমতে হাসি আঁটকে বলল,
_’ভাই, প্যান্ট খুইল্লা নিলে ভালো হইতো না?’
_’কেন,প্যান্ট খুলবে কেন? প্যান্ট থাকলে কী প্রেম জায়গামতো পৌঁছাবে না? পৌঁছাছে কী না দেখি তো।’
একথা বলে নিজেই একটা ছেলের পশ্চাৎদেশ বরাবরই স্বজোরে বারি বসাল। কঞ্চির বারি পড়তেই ছেলেটা ছটফটিয়ে উঠলে শুদ্ধ বলল,
_’এভাবেই দারুণ হচ্ছে। খুললে আবার পরানোর ঝামেলা, স্টার্ট করো।’
_’হুম।’
মারের কথা শুনে ছেলেগুলো ছটফটিয়ে উঠল। কিছু বলতে চাইলে শুদ্ধ ভ্রুক্ষেপ করল না। সে এখন কিচ্ছু শুনবে না আগে বিচার তারপর বাকি কথা। পরবর্তীতে চৌধুরী বাড়ির মেয়েদের নিয়ে কিছু বলার টপিক পরে, সেদিন বলল কেন? কোন সাহসে বলল? এটার হিসাব আগে হোক। আর
বললই যখন এখন ভয় পাচ্ছে কেন? বাঘের মতো বলে বিড়ালের মতো মিউমিউ করা ঠিক হচ্ছে না। এই মিউমিউ করার জন্য আরেকদফা মার জমা হলো। আদেশ পেয়ে আজমও কাজ শুরু করল। কোনোদিকে না তাকিয়ে বেধড়ক মারতে লাগল। ছেলেগুলো কাঁটা মুরগির মতো গো গো শব্দে গোঙাতে লাগল। একচোট মারা হলে শুদ্ধ বলল,
_’রেস্টুরেন্টে গেলে প্রথমে একটা ওয়েলকাম ড্রিংকস দেওয়া হয় স্ট্রেফ সম্মান দেখানোর জন্য। এখন যেটা পেলেন, সেটা তেমনই। যদিও মেইন ডিশটা এখনো বাকি! তাছাড়া মেইন ডিশ জম্পেশ নাহলে ঠিক জমে না, তাই না? আপনারা আমার মেহমান আপনাদের তো আর যা তা ভাবে
আপ্যায়ন করা যায় না।’
আজম হতবাক হয়ে শুদ্ধর মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। কঞ্চির বারি দিয়ে কি সুন্দর করে আপনি সম্বোধনে করে কথা বলছে। আজ শুদ্ধর জায়গায় সায়ন থাকলে বাংলা গালির ফোয়ার ছুটতো, অথচ এ মানুষটা ভাইয়ের বিপরীত। এদিকে শুদ্ধ নিজের কথা শেষ করে কাউকে ফোন করল। অপর পাশের মানুষটা দুইবারের বেলায় কল রিসিভ করতেই সে বলল,
_’ইনজেকশন গুলো পাঠিয়ে দাও। এখানে আটজন আছে। আরে হ্যাঁ, এগুলো পুশ করলে জীবনেও বাবা ডাক শুনতে পারবে না। যারা পথে ঘাটে মেয়েদের বাজে কথা বলে তাদের ঘরে সন্তান জন্মানোই উচিত না। দ্রুত পাঠাও!’
ফোনের ওপর পাশের মানুষটার সঙ্গে আরো কিছু ব্যাপারে কথা সারল। তারপর ফোন পকেটে ঢুকিয়ে বিনয়ী সুরে বলল,
_’আপনাদের স্পেশাল ডিশ রেডি আছে৷ এক্ষুণি এসে যাবে। বিসমিল্লাহ বলে পুশ করে দিলেই কাজ শেষ। আচ্ছা, আপনারা কি ভয় পাচ্ছেন? চোখ-মুখ এত শুকিয়ে গেছে কেন? কেমিক্যাল মেশানো পানি আনাব, একটু খাবেন? ঘামছেন কেন? প্রেসারের সমস্যা আছে নাকি? মরিচের গুঁড়ো গায়ে ডলে দিয়ে বাতাস করি? কোনটা করলে খুশি হবেন, বলুন? আপনারা আমার মেহমান। আপনারা যেটা বলবেন আমি করতে রাজি আছি।’
ছেলেগুলো কাতরাতে কাতরাতে পেছনে সরার চেষ্টা করছে। অনবরত মাথা নাড়াচ্ছে যাতে এমন কিছু না করে। শুদ্ধ ভ্রু কুঁচকে কিছুক্ষণ দেখে আজমকে বলল,
_’আমার মেহমানদারি কী উনারা পছন্দ করছে না? ভাইয়া কিভাবে কী
করে? আমি ছোটো মানুষ তাই হয়তো বুঝতে পারছি না, বুঝিয়ে দাও।’
আজম গলা খাঁকারি দিয়ে কোনোমতে হাসি আটকাল। পেট ফেটে হাসি আসছে তার। শাহরিয়ার ভাই ঠিকই বলতেন এই ছেলে বহুত ডেঞ্জারাস।
যাকে বাঁশ দিবে তাকে জিজ্ঞাসা করে, ব্যথা পেয়েছো? পেও না, আস্তেই দিচ্ছি! আজম এবার হাসি গিলে ছেলেগুলোকে বলল,
_’কিরে পছন্দ হচ্ছে না ভাইয়ের অতিথিয়েতা?’
এবার শুদ্ধ কন্ঠে বিনম্র শ্রদ্ধা ঢেলে দিয়ে করে বলল,
_’ তোমরাই বলো না অন্যকিছু করব? কি করলে খুশি হবে তোমরা, হুম?
মরণ গিলবে? নাকি একচিমটি মৃত্যুর স্বাদ নিবে? আমি তো তোমাদের ভাই তাই না? নিজের পছন্দের কথা ভাইকে বলতে লজ্জা কিসের, বলো, বলো?’
জবাব দেওয়ার জন্য একটা ছেলে ছটফট করলে আজম তার মুখ খুলে দিলো। বেচারা কেঁদে কেটে চোখ-মুখ লাল করে ফেলেছে। গায়ে মারের দাগগুলো ফুটে উঠেছে। কোথাও কোথাও থেকে ফোঁটা ফোঁটা রক্ত বের হচ্ছে। সে কিছু বলার প্রস্তুতি নিতেই শুদ্ধ বলল,
_’আচ্ছা ভাই সেদিন পানির পাইপ ভেঙে রাস্তা বন্ধ করেছিল কারা? তুমি চেনো তাদের? আর ভাইয়ার অ্যাম্বুলেন্স কিছুদূর যেতেই দুটো ককটেল ছুঁড়েছিল কে? এ্যাই, খবরদার, মিথ্যাে বলবে না নয়তো যেভাবে পাইপ ভাঙা হয়েছিল, সেভাবে আমি তোমাদের হাত-পা ভাঙব।’
ছেলেটা এবার জোরে জোরে শ্বাস নিয়ে জানাল তারাই করেছে। রবির আদেশে এসব করেছিল তারা। তবে ওদের সঙ্গে কনকের দলের লোকও ছিল। শুধু তাই নয় কনককে নির্বাচন করানোর জন্য দেশে আনা হয়েছে।
নির্বাচন করতে সব খরচ বহন করেছে সিদ্দিক। সিদ্দিকের টাকা আসত ইগরের কাজ থেকে। এখন ইগর নেই টাকা আসাও বন্ধ। আর তার করা আদেশে কনক গিয়েছিল সায়নকে প্রাণে মারতে। কারণ সায়নের প্রতি সিদ্দিকের পুরনোর রাগ ছিল। এখন কনক নেই তার ছেলেপুলো আছে। তাদেরকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে মুখ বন্ধ করে নিজের দলে টেনেছে রবি। কনক নেই আর সায়নও আধমরা নির্বাচন করার মতো কেউ নেই। কিন্তু নির্বাচন তো হবেই। এই সুযোগে সিদ্দিক চাচ্ছে আরেকবার দলে ঢুকে যাওয়ার জন্য। জায়গা মতো টাকা ঢালছে যেন কাজ হয়। আপনার বউয়ের যেন ফাঁসি হয় তাই মিছিলও করছে তারা। বিচারককেও টাকা খাইয়ে স্পেশালভাবে ট্রিট নিতে দেয় নি। ২৪ ঘন্টা আপনার উপর নজর রেখে কখন কী করে সব খেয়াল রাখে। আমি যতদূর জানি পরের টার্গেট এবার আপনি..কারণ সিদ্দিক জেনে গেছে ওকে দলচ্যুত করার পেছনে আপনি আছে। ছেলেটার কথাগুলো মন দিয়ে শুনল শুদ্ধ। তারপর হাত দিয়ে ধূলো ঝেড়ে ছেলেটার পাশে বসল। ছেলেটার চুলগুলো ঠিকঠাক করে দিয়ে স্বাভাবিক স্বরে বলল,
_’ সিদ্দিক এখন কোথায়?’
_’জেলাতেই আছে ভাই।’
_’সিদ্দিকের সঙ্গে আলাদা কোনো ডিল করেছে রবি?’
_’জি। তারা বোধহয় আপনাকে ভয় পাচ্ছে তাই সরিয়ে দিতে চাচ্ছে।’
_’আমাকে ভয় পাচ্ছে, কেন? আমার মতো ভদ্রছেলে এই তল্লাটে আর একটাও আছে?’
_’না ভাই।’
_’ তা এবার বলুত তো আমি কি আপনাদের তুলে এনেছি?’
_’না ভাই।’
_’মেরেছি?’
_’না ভাই।’
-‘সিওর তো?’
-‘জি ভাই।’
-‘গত দুই সপ্তাহের মধ্যে আমার সঙ্গে আপনাদের দেখা হয়েছে?’
-‘না ভাই।’
-‘ আমি খুব খারাপ তাই না? খুব ব্যথা দিলাম? আমার কাছে একটা মেডিসিন আছে শরীরে পুশ করলে শরীর থেকে মাংস খুলে পড়ে, দেই আপনাদের? এতে আপনাদেরই উপকার হবে। না থাকবে মাংস আর না হবে ব্যথা।’
-‘না ভাই লাগবে না। আমরা ব্যথা, কষ্ট কোনোটাই পাই নি। এগুলো ভালোবাসা হিসেবে নিলাম।’
-‘এখান থেকে যাওয়ার পর কাউকে কিছু বলবেন?’
-‘না ভাই। কাকেই বা বলব বলেন? আমি তো আপনাকে চিনিই না।’
-‘গুড! ভেরি গুড।’
_’কিন্তু এমন পাষানের মতো কে মেরেছে আপনাদের? এভাবে কেউ কাউকে মারে?’
ছেলেটা ভ্যাবলার মতো তাকিয়ে রইল। এবার কি বলবে? শুদ্ধ হেসে বলল,
_’আপনাদের রবি মেরেছে। কেন মেরেছে কারণ আপনি তার কথা মতো আমাকে মারতে রাজি হোন নি, ওকে? এবার বলুন দেখি আপনাদেরকে কে মেরেছে?’
_’রবি।’
_’কেন মেরেছে?’
_’তার কথামতো আপনাকে মারি নি তাই।’
_’বাহ্, বাহ্, এক পড়াতেই পিএইচডি কমপ্লিট ।’
ছেলেটার প্রতিটা কথায় যথেষ্ট সন্তুষ্ট হয়ে উঠে দাঁড়াল শুদ্ধ। হসপিটালে যেতে হবে তাই সময় নষ্ট করল না। ছেলেগুলোর নাম-ঠিকানা নোট করে কিছু টাকা গুঁজে দিয়ে পেছন ফিরে তাকাল না স্বাভাবিকভাবেই বেরিয়ে গেল। কিন্তু বাড়ির যাওয়ার আগে কাজল নামের এক ছেলের সঙ্গে তার দেখা হলো। ছেলেটি একটি খাম এগিয়ে দিলে শুদ্ধ খুলল। ছবিতে দেখা যাচ্ছে,শারাফাত চৌধুরী গোপনে কারো সাথে দেখা করতে গিয়েছিলেন।
সেই কেউ টা হচ্ছে ইয়াসির খান। তবে কেন দেখা করতে গিয়েছিলেন তা স্পষ্ট হলো পরের ছবিগুলো দেখে। সে নিশ্চুপ হয়ে ছবিগুলো দেখে হাঁটা ধরল বাড়ির দিকে। মাটির দিকে তাকিয়ে ধীর গতিতে হাঁটতে হাঁটতে মুখ তুলে তাকাল আকাশপানে। কোনো অভিযোগ জানাল না, আফসোসও করল না, শুধু আল্লাহকে জানাল তার ধৈর্যটা যেন বাড়িয়ে দেন। সে যেন সব সামলে বিজয়ীর হাসি হাসতে পারে। বুকের ভেতরটা কেমন করছে।
সে হাঁটা থামিয়ে চুপ করে একটা গাছের নিচে বসল। ছবিগুলো দেখল,
ছবিতে স্পষ্ট শারাফাত চৌধুরী কেন্দের প্রবেশন অফিসারের সঙ্গে কথা বলছেন। আর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে কারো সাথে দেখা করতে হলে সংশ্লিষ্ট আদালত বা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হয়। কেন, কোন সম্পর্কের ভিত্তিতে দেখা করতে চাচ্ছেন সেটাও লিখে আবেদন করতে হয়। সঠিক তথ্য অনুযায়ী আদালত অনুমতি দিলে আদেশের কপি নিয়ে কেন্দ্রে যেতে হয়। এরপর সুপারিনটেনডেন্ট সত্যতা যাচাই করে দেখার সুযোগ দেন। অনেক ক্ষেত্রে জেলার প্রবেশন অফিসারও এই প্রক্রিয়ায় সহায়তা করেন। তিনি শিশুর পরিবার এবং কেন্দ্রের মধ্যে সমন্বয়কারী হিসেবে কাজটি করেন। তার মাধ্যমে আবেদন করলে প্রক্রিয়াটি সহজও হয়। শারাফাত চৌধুরী সম্ভবত প্রবেশনকে ধরে টাকা খাইয়ে ইয়াসিরকে ঢুকাতে চাচ্ছেন। কেন চাচ্ছেন আলাদা করে আর বলার প্রয়োজন হবে না। যার রক্ত তার দেহে বইছে সেই বাবাই তার সঙ্গে বেইমানির খেলায় মেতেছে। সে পুনরায় উঠে বাসায় ঢুকে সোজা গেল বাবা-মায়ের রুমে।
দরজা নক করলে সিতারা প্রবেশের অনুমতি দিলে শুদ্ধ প্রবেশ করল। ওয়াশরুমের দরজা বন্ধ করে বুঝল বাবা ফ্রেশ হতে গেছে। বাইরে থেকে ফিরে এ রুমে আসতে দেখে সিতারা ছেলের ঘামে ভেজা মুখটা মুছিয়ে পানির গ্লাস এগিয়ে দিলেন। শুদ্ধ নিয়ে কিছুটা পানি পান করলে সিতারা বললেন,
_’শীতলের সঙ্গে দেখা হয়েছে? কেমন আছে আমার মেয়েটা?’
_’দেখা করার অনুমতি পাই নি।’
_’কেন?’
_’তোমার স্বামী উনার ধার করা ছেলেকে নিয়ে দেখা করতে যাবে তাই আমার আগেই অনুমতি নিয়ে এসেছে।’
একথা শুনে সিতারা বাকহারা হয়ে ছেলের দিকে তাকিয়ে রইলেন।শুদ্ধর
পুরো কথা বুঝতে সময় লাগল উনার। যখন বুঝলেন কিছু বলার আগেই শারাফাত চৌধুরী বেরিয়ে এলেন।এ সময় ছেলেকে দেখে থমকে গেলেও স্মার্টলি নিজেকে সামলেও নিলেন। ঠোঁটে হাসি এঁটে ছেলের মুখোমুখি
দাঁড়িয়ে বললেন,
_’ কিছু হয়েছে?’
_’ না, কি হবে?’
_’ তাহলে রেগে আছো কেন?’
_’ বুদ্ধিমানরা যার তার উপর রাগে না।’
_’ শুদ্ধ, মাথা ঠান্ডা করো, আমার কথাটা আগে শোনো।’
_’ এখন অবধি আমার মাথা যথেষ্ট ঠান্ডা আছে। ঠান্ডা মাথাতেই আমার আড়ালে যা যা হচ্ছে জেনেও না জানার ভাণ করে যাচ্ছি। তবে একবার যখন ধরব তখন কিন্তু সম্পর্কের দোহায় দিলেও মানব না।’
_’আম…আমার!’
_’ অন্যরা যখন বেইমানির খেলায় মেতে ওঠে তখন নিজেকে বুঝ দেওয়া যায়। কিন্তু আপনজনরাই যখন শত্রু হয়ে দাঁড়ায় তখন লড়াইটা অন্যের সাথে থাকে না; তখন লড়াইটা হয় নিজের অস্তিত্বের সাথে। আমি জানি না শীতলের ভাগ্যে কী আছে কিংবা ভাগ্য ওকে কোথায় দাঁড় করাবে। তবে আপনি যা করছেন ভেবে-চিন্তে করবেন কারণ আপনার কর্মের উপর নির্ভর করছে আমি আপনার সামনে আর থাকব কি না! এরপরও আপনাকে বাবা বলে ডাকব কি না! রইল ইয়াসিরের কথা, সে আপনার প্রাণপ্রিয় ছেলে। বুঝতে পারছি, আপনি ওর দায়িত্ব এড়াতে পারছেন না। ফাইন! আমাদের জন্য অনেক করেছেন এবার ওর প্রাপ্য সম্মান বুঝিয়ে দিন। ওকে চৌধুরী নিবাসে তুলুন। তবে তার আগে ‘শুদ্ধর অধ্যায়টা’ মন থেকে মুছে ফেলুন। জানেনই তো তেল আর জল সহাবস্থান অসম্ভব।’
শারাফাত চৌধুরী আর একটা শব্দও উচ্চারণ করতে পারলেন না। শুধু ছেলের দিকে মলিন মুখে তাকিয়ে রইলেন। সিতারা চৌধুরী দু পা পেছনে সরে গেলেন। চোখ উপচে পানি অঝরে অশ্রু গড়াতে লাগল উনার। উনি
যেন শুনতে পাচ্ছেন সম্পর্ক ভাঙ্গনের সুর। শুদ্ধ আর দাঁড়াল না খামের ছবিগুলো বাবার হাতে ধরিয়ে দিয়ে স্থান ত্যাগ করল।
-‘ স্বর্ণ ঠিক আছে? বমি করেছে আর? মামির কি অবস্থা, কিছু খেয়েছে?’
ছলছল চোখে তাকিয়ে কেবল না বোধক মাথা নাড়াল ঐশ্বর্য। যার অর্থ পারে নি সে। এদিকে ঘনঘন এত বমি করায় ব্যাপারটা অনেকের নজরে পড়েছে। কাঁদতে কাঁদতে সেন্স হারানোর পর ডাক্তার ব্লাড টেস্ট করতে দিয়েছিলেন। রিপোর্ট জানা গেছে সে প্রেগনেন্ট। কথায় বলে খুশির খবর সবসময়ই হাসি নিয়ে আসে, আসলে তা কিন্তু নয়। এই যেমন এ খবরটা যখন সবার জানল তখন সবাই কাঁদল। কেউ কাঁদল নীরবে কেউ বা বুক ফাটা আর্তনাদে। শাহাদত চৌধুরী জানতেও পারলেন না এতবড় খুশির খবরটা। শুধু উনি? সায়ন? ওই পাগলটাও তো কিছুই জানে না। সায়নের শারীরিক অবস্থা যেমন অবনতি হচ্ছে তেমনি স্বর্ণও হাল ছেড়ে দিচ্ছে। মুখের দিকে তাকালে এত মায়া লাগে। অথচ মেয়েটাকে কখনোই ভেঙে পড়তে দেখে নি সে। রুবাবের কাছে শুনেছে তিন বোনের মধ্যে সবচেয়ে দৃঢ় মনোবল স্বর্ণের। যে কোনো পরিস্থিতিতে বুদ্ধি খাঁটিয়ে বাগে আনতে পারে সে। কিন্তু বর্তমানে যা হচ্ছে ওর নিজেকে সামলানো মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। আদরের বোনটার এমন অবস্থা, বাবাটাও নেই, স্বামী প্রতিনিয়ত মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে, চোখের সামনে মমতাময়ী মায়ের এ অবস্থায় সহ্য করতে পারে না। সিমিনকে কাঁদতে দেখলে অসহায় চোখে তাকিয়ে থাকে। কিছুক্ষণ আগে বমি করতে চাচ্ছিল কিন্তু হচ্ছিল না। পেটের মধ্যে সমানে গোলাচ্ছিল অথচ পেটে কিছুই নেই। তার হাতটা শক্ত করে ধরে কেমন হাঁপাতে হাঁপাতে বলেছিল,
-‘ কেমন বেক্কল পুরুষকে বিয়ে করেছি দেখছ? আমি বমি করতে করতে কাহিল হয়ে যাচ্ছি আর ও হসপিটালের বেডে শুয়ে সুখের ঘুম ঘুমাচ্ছে।
আমাকে টেনশনে রেখে কী সুখ পায় আল্লাহ জানে। আমার বাবা ঠিকই বলত যে, ওর মতো লাফাঙ্গা কোনো কাজেরই না। ওরে দিয়ে কিচ্ছু হবে না৷ বাবা থাকলে অভিযোগ করে বকা খাওয়ানো যেতো। অবশ্য বেহায়া পুরুষটার লজ্জা থাকলে তো? সে উল্টে বাবাকে বলতে, ‘শ্বশুর জি তুমি নানাভাই হচ্ছে তোমারও উচিত নিয়মমাফিক বমি করা। নানা হবা, কষ্ট করবা না? আমি কষ্ট করে কালঘাম ছুটিয়ে বেবিকে পৃথিবীতে এনেছি তাই আমার বমি টমি মাফ।’
কথাগুলো বলে স্বর্ণ মৃদু হেসেছিল। অথচ চোখ উপচে জল গড়িয়ে গাল ভিজিয়ে দিচ্ছিল। রোজকার মতো আজও একে একে সবার খোঁজনিয়ে কল কাটল রুবাব। মাথার চুল শক্ত করে টেনে ধরে কিছুক্ষণ থম মেরে বসে রইল। তার ভাই-বোনরা কেউ ভালো নেই, কেউ না৷ সে বাড়ি যাবে।
শেষ চৈত্রের ঘ্রাণ পর্ব ৮৪
আর দূরে থাকতে পারছে না। সহ্য করতে পারছে না ভাই-বোনদের কষ্ট।
কষ্ট লাঘব করতে না পারলেও পাশে তো থাকতে পারে? দুটো কথা বলে বুঝ তো দিতে পারবে? সে আর কিছু ভাবল না ছুটির আর্জি জানানোর সঙ্গে সঙ্গে নাকচ করা হলো। মাঝসমুদ্রে থাকায় তাকে বোঝানোও হলো
কিন্তু শুনলই না। গো ধরে থাকল তাকে ছুটি দিতে হবে নয়তো সে চাকরি করবে না। এদিকে শিপে পরবর্তী পোর্ট না আসা পর্যন্ত নামাও সম্ভব হয় না। ব্যক্তিগত কারণে হেলিকপ্টার সার্ভিস পাওয়াও প্রায় অসম্ভব। পরে তার মানসিক অবস্থার কথা চিন্তা করে কর্তৃপক্ষ বিশেষ বিবেচনায় ইমার্জেন্সি লিভ দিয়ে নিকটবর্তী বন্দরে নামিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করল। পরে রুবাব সেই পোর্ট নেমে ভেঙে ভেঙ্গে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা হলো।

Nice
86 part
এপিসোড ৮৬ এর অপেক্ষায় রইলাম আপু
Apu plz part gula akta tara tari diow 😗
Next part please
🙂 saddho thaikle case koirttm e bedir nam a 100 din hor eggah porbo de
Erprer part ta fast dien .
Please
Eto late kre den apu pora 10-12 din. Ektu fast dien 🙂
Eto late koira porbo dile valo lage na……next part taratari dio pleaseee
Nest part taratari deo Apu plz ato late a kno deo onno lekhikara to khub taratari dey tahole tmi ato derite deo kno?next part ta big and fast deo
Next
Next plz
Apu next part ta den na quick plz plz plz..
Eto deri korar mane ta ki. Taratari dile ki hoi.
Please Apu next part taratari dean?avaba porlato golpo volai jabo 😭🥲 please Apu!🙏taratari next part den
Apu pore prat aktu taratari den plz
Eto late kno koren.. Happy ending diben kintuu🙂🙏
এত দেরী দেরী করে যদি পরের পর্ব দেওয়া হয় আগের পর্বতে কি করলাম ভুলেই যাব ইন্টারেস্ট নষ্ট হয়ে যায় এই জন্য রানিং গল্প পড়তে ইচ্ছা করে না শেষ হলে তারপরে পড়লে ভালো হতো এখন থেকে আর এটা পড়বো না শেষ হবে দশ দিন ১২ দিন পর পর নেক্সট বাদ দেয় এভাবে পড়তে ইচ্ছা করে না।
লেখিকা আপু আপনি কী মানুষ? মানুষ হয়ে মানুষের ইমোশন নিয়ে খেলেন এটা ঠিক না🥺🥺🥺 এতদিন হয়ে গেল পরের পাঠ দিচ্ছেন না😔😔
Ato late kore porbo kn daw bujlm na koto opekhkha kori