সাঁঝের মায়া পর্ব ৪১
দুর এ দিলশাদ্ দুআা
করিডরে ব্যাস্ত পায়চারি করছে ঈশান। একটা মেসেজ আসার পর থেকে অস্থির হয়ে আছে। একটা কলের অপেক্ষা করছে তখন থেকে। আরও মিনিট খানেক এর মাথায় শব্দ করে সেলফেনটা বেজে উঠতেই সাথে সাথে রিসিভ করলো সে। কঠিন কন্ঠে বললো,
____”বডি কোথায়? “
____”বস,সদরঘাট এ। “
____”একই জায়গায়?”
____”জ্বী।”
____”কোনো ভুল নেই।”
____”না বস। এক বিন্দু ও নয়।”
____”পুলিশ পৌছেছে? “
____”মিনিট পাঁচেক হলো।”
____”তোমরা সরে পরো ওখান থেকে। “
ফোনটা রেখে দু আঙুলে কপাল চেপে ধরলো ঈশান। নিরব করিডরে দাড়িয়ে আছে সে। চন্দ্রা দেওয়ান এর ঘর থেকে ছাড়া পেয়েছে কিছুক্ষণ আগেই। সবাই নিজেদের রুমে চলেও গেছে। এরইমধ্যে দ্বিতীয় কলটা আসতেই কন্ঠ আবার খাদে নামলো ঈশানের।
____” ফাইল গুলোর কপি যেগুলো পাঠালে সব কি পুলিশের কাছেও আছে?”
____”জ্বী বস। দু একটা বাদে সবই আছে পুলিশের কাছেও আছে।৷ দায়িত্বে আছে আপনার বন্ধু। বস, একবার আসতে হয় যে আপনাকে। ইয়াজ এর লোকেশন ঢাকা তেই দেখাচ্ছে। আপনাকে ও যখন থ্রেট দিচ্ছেই। আমার মনে হয় একবার এলে…”
____”আমি আজকেই আসবো। ইউ গায়েজ ক্যারি অন।”
দীর্ঘশ্বাস ফেললো ঈশান। খানিক আগে পাওয়া একটা মেসেজের জের ধরে তাকে ছুটতে হচ্ছে ঢাকা। ভার্চুয়ালি যোগাযোগে ইয়াজের বিষয় টা এগোতে পারবে না সে। আজ বাদে কাল তিতির ভার্সিটির জন্য ফিরবে। সে সবসময় মেয়েটার হাত ধরে থাকতে পারবে না। পরিস্থিতি সবসময় সাথ দেবে না তাদের। তখন মেয়েটার সুরক্ষা কে দেখবে! লোকটা কি চায়। কেনো তাদের পিছনে লেগেছে। কি শত্রুতা তার ঈশানের সাথে। এটা জানতে হলে ওর কথামতো মুখোমুখি হতেই হবে। হাতের ফোন চালু করে খানিক আগে পাঠানো ইয়াজ এর মেসেজ এ ভ্রু কুচকে আবার চোখ বুলালো ঈশান।
____”ঈশান আরশাদ। আমাদের মনে হয় একটাবার সামনাসামনি বসা দরকার। আপনার বউ এর যে নেমপ্লেট টা বানিয়েছি সেটার নামধাম সামনাসামনি ছুঁয়ে চেক করে যাবেন না তাই হয়! ব্লেম করলেন আমি নাকি পিছন থেকে ছুড়ি মারি। এটা আমার আত্মসম্মান এ লেগেছে ভীষন। সামনে আসুন। দেখা হোক,কথা বলি, দু কাপ চা খেয়ে আড্ডা দেবো না হয়। কাল আজিমপুর কবরস্থান এ সকাল ১১ টায় দেখা হচ্ছে কেমন?”
ঈশান মেসেজ টা আরও দু বার পড়লো। মেজাজ মাথায় চড়ে আছে। এদিকটা ফেলে যাওয়া কতটা রিস্কি তা সে খুব ভালো করেই জানে। তিতির, নূরি, নিশি কেউ সেফ না। বড্ড ভয় হয় আজকাল। এরইমধ্যে তাকে যেতে হচ্ছে। যদিও এরইমধ্যে সাজিদ কে জানিয়েছে কয়েকটা দিন তার বাড়ির ওপরও কড়া নজর রাখতে । সে না ফেরা অবধি। তবুও মনের খচখচ কিছুতেই যাচ্ছে না । তবে ইয়াজ এর সাথে মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ ও মিস করতে চায় না সে । পুনরায় লোকটা হাওয়া হয়ে যাওয়ার আগে সামনাসামনি দাড়ানো টা খুব দরকার।
আরও বেশ কিছুটা সময় ঈশান অতিবাহিত করলো এখানেই। বাড়ি টা পুরো নিশ্চুপ । ঘড়ির কাটা এগারোটা ছুঁইছুঁই। বাইরে বৃষ্টি হচ্ছেই। এ বৃষ্টি আগামি সাত দিনেও থামবে কি না বলা যাচ্ছে না । আবহাওয়া অধিদপ্তর অবশ্য আগামি চার দিনের সতর্কতা দিয়ে রেখেছে । আরও কয়েকজন কে কল, মেসেজ করে নিলো ঈশান। নিয়াজ, নাঈম কে লম্বা কিছু মেসেজ করে জানিয়ে রাখলো অফিসের কাছে আজই ঢাকা যেতে হচ্ছে তার । কবে ফিরবে আগেই বলতে পারছে না।
____”স্যার সদরঘাটে যেখানে সুবর্ণার লাশ পাওয়া গিয়েছিলো একই জায়গায় একটা পুরুষ এর লাশ পাওয়া গিয়েছে । মুখ বোঝা যাচ্ছে না । থেতলে দেওয়া হয়েছে ভারি কিছুতে । তবে যতদূর মনে হচ্ছে আমাদের কেসের সাথে কানেক্টেড। কেমন একই ধরনের প্যাটার্ন।”
সাজিদ নিভু নিভু চোখে সবটা শুনে গেলো । শুয়েছিলো বোধহয় আধঘন্টাও হয়নি । এরই মধ্যে হেডকোয়ার্টার থেকে ফোন এসেছে । বিছানায় পা ভাজ করে বিরক্ত মুখে ওপাশের কনস্টেবল এর কথাগুলো গিলছে। অনিমাও উঠে বসেছে পাশেই।
ইশারায় এসির পাওয়ার কমিয়ে দিতে বলে গম্ভীর কন্ঠে বললো,
____”আমাকে কত দিক সামলাতে বলা হচ্ছে ! ওটা এখন আমার আন্ডারে নয় । তোমাদের করিম স্যার কি করছেন?”
____”স্যার উনি ফোন তুলছেন না। ঈদের দিন তো।”
সাজিদ বেশ ক্ষিপ্ত হলো কনস্টেবল এর কথায় । তাকে এখানকার দায়িত্ব নিয়ে ওখানকার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিলো এই করিম নামের এএসপি কে। সে মহাপুরুষ টাইপের মানুষ। কোন হুশে চাকরি করতে এসেছে সেটা ঠিক জানা নেই সাজিদের । এতো অনিহা নিয়ে কাউকে পুলিশের চাকরি করতে এই প্রথম বুঝি দেখলো সে । তেতে ওঠা গলায় বললো,
____”ঈদ তোমার করিম স্যারের একার? আমার নয়?”
____”আ..আ..আপনারও স্যার। কিন্তু তাকে কোনোভাবেই ফোনে পাচ্ছিলাম না । তাই বাধ্য হয়ে আপনাকে কল করলাম।”
সাজিদ দীর্ঘশ্বাস ফেললো সে বেশ ভালো করে বুঝতে পারছে করিম কে ফোনে না পেয়ে ওখান কার কনস্টেবল দের ভোগান্তি। রেগে লাভ নেই। গলা খানিক নরম করে বললো,
____”কাল থেকে পুরোদমে আমার এখানে তদন্ত শুরু হবে। ফাইলপত্র আমি নিয়ে বসেছি। আমার এখন ওখানে দায়িত্ব নয়। তোমার করিম স্যার কে না পেলে ওপর মহলে জানাও। আমার করনীয় আপাতত কিচ্ছু নেই। আমি উড়ে উড়ে পাঁচ ঘন্টার পথ আধঘন্টায় পৌছুতে পারি না।”
ফোন রেখে দু হাতে মুখ ডললো সাজিদ । একেরপর এক খুন হয়ে যাচ্ছে । আর তারা পুলিশ ডিপার্টমেন্ট ভ্যাবলার মতো দেখে যাচ্ছে । নূন্যতম একটা ক্লু অবধি পাচ্ছে না। বাইরের থেকে এসে বেশ কয়েকটা ফাইল চেক করা হয়েছে এরইমধ্যে । কাল বাকিগুলো দেখবে । পুরোদমে তদন্ত শুরু হচ্ছে কাল।
বাইরের দু চারটা নেড়ি কুকুর এর বিকট চিৎকার কানে আসছে । বৃষ্টির শব্দ ছাপিয়ে কানে এসে লাগছে সেটা। অনিমা হতাশ মুখে স্বামীর দিকে তাকিয়ে আছে । সবার সামনে হৈ হুল্লোড় করলেও কেসটা নিয়ে যে কি পরিমাণ মানসিক চাপে আছে বেচারা তা সে জানে । দেখছে চোখের সমানে মানুষ টাকে । মিডিয়া সয়লাব হয়েই আছে, রোজ রঙচঙ মাখিয়ে নিউজ করেই যাচ্ছে । পুলিশদের চৌদ্দ গুষ্টি উদ্ধার করে দিচ্ছে । তারওপর সাজিদ এর নিজের এলাকায় দু দুটো খুন অথচ এখনো একটা সামন্য ক্লু ও পাওয়া গেলো না । এটায় ক্ষীপ্ত সকলে বেশ রকমের। সাজিদ গভীর চিন্তায় মগ্ন অনিমা কাধে হাত রাখলো। সাজিদ ভ্রু কুচকে তাকালো সেদিকে । ভাবনা তার কোথায় কোথায় দিয়ে ঘোরা ঘুরি করছে । অনিমার দিকে ফিরে গম্ভীর কন্ঠে বললো,
____”যে কয়টা মার্ডার হয়েছে সবগুলো কেমন এক প্যাটার্নে বুঝলে। তবে…
____”তবে?”
____”প্রথম টার প্যাটার্ন একটু আলাদা । আমি যদিও সবগুলো মেয়ের কেস স্টাডি করে শেষ করতে পারিনি এখনো । শেষের টা বাদ আছে । তবে প্রথম টা আর পরের দুটোর প্যাটার্ন একটু হলেও আলাদা। কেমন আলাদা বলি। প্রথম মার্ডার হয় আজ থেকে তিন বছর আগে । ২০২৩ এর জানুয়ারিতে । লাশ পাওয়া যায় সদরঘাটে। জানা যায় ক্রিমিনাল কে পুলিশ প্রায় ধরে ফেলেছিলো । সে সময় আমি ট্রেনিং এ ছিলাম । জয়েনও করিনি। তবে ক্রিমিনাল নিখোঁজ হয় হুট করেই । মানে যাকে সন্দেহ করছিলো পুলিশ । নজরে রাখছিলো, নামধাম না জানলেও ভাবছিলো সেই কালপ্রিট । হুট করে উধাও হয়। উধাও বলতে মনে হয় সে আদতে এক্সিটই করেনা । কোনো ছায়া খুঁজে পায়না পুলিশ ৷ তারপর গোটা একটা বছর সেটা নিয়ে পুলিশ লেগে থেকেছে । তারপর হাল ছেড়েছে । ফাইলে যখন ধুলো পরে গেছ সে সময় সামনে আসে ২য় মার্ডার । তারপর তৃতীয়। আমি জয়েন এর পর বাকিদুটো।
তবে পুলিশ সবগুলো কে একজন ভাবলেও আমার মাথায় আসছে অন্য কিছু। প্রথম কেসে ভিকটিম ওয়াজ আ টুয়েলভ ইয়ারস ওল্ড চাইল্ড । বাকিগুলো কিন্তু তা নয়। বাকিগুলোর বয়স ঠিক ২৪-২৫ এর মধ্যে। এদের গলা টিপে হত্যা হয়েছে রে*প এর পরে। প্রথম জনকে ছুড়ি দিয়ে গলা কেটে । পার্থক্য অনেক । প্রথম জন আর পরের গুলোর মানুষ খুব সম্ভবত একজন নয়।”
অনিমা শুনলো এতক্ষণ সাজিদের সব কথায়। মাথা চুলকালো।
____”না হলে কি করার। “
____ “কিছু করার নেই বলছো ? উহু আছে । দ্বিতীয় লাশের কাছে একটা চিরকুট ছিলো। সেখানে লেখা ছিলো ‘পুনরাবৃত্তি ‘। কিসের পুনরাবৃত্তি জানা নেই যদিও। প্রথম কেসের পুনরাবৃত্তি বোঝানো হয়েছে কি না! তবে ফাইলগুলো ভালো করে চেক করতে হবে। আরও কিছু জানার আছে। “
খানিকক্ষণ দম নিলো সাজিদ। একমনে কিছু একটা ভাবলেে। তারপর অন্যমনষ্ক হয়ে বললো,
____”লাস্ট কেসে বাইকের ছাপ একটা ভাইটাল প্রুফ। একটা শার্টের বোতাম, ভিকটিম এর নখে সামান্য রক্ত। সম্ভবত জোরজবরদস্তির সময় কালপ্রিট টার গায়ে আচর দিয়েছিলো মেয়েটা। এসব খুব ইম্পরট্যান্ট কেসটায়। তবে…”
____”তবে? “
____”কেসটার তদন্ত আমাদের এখান থেকেই শুরু হবে। রয়েল এনফিল্ড আমাদের এখানে একমাত্র ঈশানের। “
____”মানুষ টা বাইরের হতে পারে না।”
____”আলবাত পারে। আমাদের ঈশানের বাইক এটা আমি কল্পনা তেও আনি না। কিন্তু তদন্তের সার্থে ওপর মহলের চাপে সর্বপ্রথম শুরু থেকেই শুরু করতে হবে। ঈশান সে সময় বাইক নিয়ে বেরিয়েছিলো অনিমা। মনে আছে তোমার। এটা একটা সমস্যা। “
অনিমা চুপ করে থাকে । এটা নিয়ে কথা তাদের মধ্যে আগেও হয়েছে । কোনো ভাবে এসব মাথায় আনতে চায়না তারা ৷ কল্পনারও অতীত। তবে তদন্তের সার্থে ফরমালিটি হিসেবে হলেও অনেক কিছুই করতে হবে। হবে অনেককিছু তার মধ্যে অপ্রিয়। একটা বাইকে কোনোভাবেই কিছু ভাবা যায়না। তবে আরও অনেক কিছুই আছে যেগুলো সাজিদ কে ভোগাচ্ছে । ভীষন রকমের ভোগাচ্ছে।
বাইরে ঝমঝম শব্দ পাওয়া যাছে বৃষ্টির । সম্ভবত আবার ঝড়টর হচ্ছে । বন্ধ দরজার ভিতর থেকেও সে শব্দ কানে ভেসে আসছে । গ্রামের মানুষ এর ভীষন ভোগান্তি হবে এ বছর । পাকা ধান জমিতে । যে হারে বৃষ্টি হচ্ছে সব ভেসে না যায় । জমির পর জমি পাকা ধান, আজ বাদে কাল সেগুলো কাটা শুরু হবে। অথচ বৃষ্টির তীব্রতা কিছুতেই কমার নামগন্ধ নেই।
তিতির বারান্দায় দাড়িয়ে বৃষ্টি দেখছে। এতো রাতেও অদূরে জমিগুলো তে আলো দেখা যাচ্ছে। কে জানে কোন জমির হতভাগা মালিক এসেছে পরিস্থিতি দেখতে। প্রকৃতি তাদের চোখের ঘুম কেড়ে নিয়েছে বহু আগেই।
ঘরের আলো জ্বালেনি তিতির। বেশ রাত হয়েছে। চন্দ্রা দেওয়ান এর রুমে সবাই গল্প গুজব করে রুমে এসেছে সে বেশ খানিক্ষন। ঈশান এখনো রুমে আসেনি। এখনো কি দিদার ঘরেই? হতেও পারে।
ঈশানের অপেক্ষা করছে সে দুরুদুরু বুকে। লোকটা রেগেছে তারওপর। অযথা রাগ যেটাকে বলে। রোমান্স মাথায় চাপলে স্থান,কাল,পরিস্থিতি কিচ্ছু বুঝতে চায়না। তা হয়? সে তো একটা মেয়ে।
তাছাড়া একবারও উচ্চারণ করেছিলো সে, যে আজকে ফেরাবে ঈশানকে ! পুরো কথা শেনার আগেই রেগেটেগে একাকার। বাতাসের ঝাপটা বাড়তেই ঘরে এসে পরলো তিতির। আজকে যে পরিমাণ বৃষ্টি তে ভিজেছে। শরীর এমনিতেই জ্বর জ্বর করছে। ওষুধ নিয়েছে, তারপরও কম মনে হচ্ছে না। দরজার শব্দে তিতির তাকালো সেদিকে। ঈশান এসে দরজা আটাকলো। অন্ধকার ঘরে তিতির ঘুমিয়েছে ভেবে বাতি জ্বাললো না। আলমারির দিকে এগোতেই বেড সাইট টেবিলের হলুদ আলো জ্বলে উঠলো। সে শব্দে পিছন ফিরলো ঈশান। তিতির শোয়নি। বিছানার ওপাশে দাড়িয়ে। ল্যাম্প এর হলুদ আলোয় ফর্শা মুখটা সোনার মতো চকচক করছে। কেমন আহ্লাদী দৃষ্টিতে তাকিয়ে তার দিকে। ছোট্ট বিড়ালছানা গুলো যেমন গোল গোল চোখ করে তাকিয়ে থাকে। ঠিক তেমন আদুরে লাগছে মেয়েটাকে। ঈশান গম্ভীর কন্ঠে বললো,
____”ঘুমাসনি কেনো এখনো?”
তিতির ঈশানের পাশে এসে দাড়ালো। পায়ের তলা শিরশির করছে, হাটু কেঁপে কেঁপে উঠছে। ধুকপুক শব্দ এড়িয়ে এসে থামলো। ঈশান আলমারি খুলে জামাকাপড় খোজাখুজি করছে । তিতির নরম কন্ঠে বললো,
____ “কি খুজছেন বলুন। বের করে দিচ্ছি।”
____”কিছুনা শুয়ে পর তুই।”
ঈশানের এমন কন্ঠস্বর তিতিরের ভীষন অপ্রিয়। কেমন একটা রাগী রাগী ভাব । প্রথমের মতো। তিতির ঈশানের পাশ থেকে এক কদম সরলো না ঈশান হাতের কাজ এগোতে পারছে না অযথা এটা ওটা হাতড়াচ্ছে। তিতিরের শ্যাম্পুর ঘ্রান নাকে এসে বারি দিচ্ছে। এমন আবহাওয়া, অন্ধকার ঘর, আহ্লাদী কন্ঠ অনেক কিছুই ডিমান্ড করে। কিন্তু সেসব এর সময় না এখন। ঈশান মাথা থেকে উল্টোপাল্টা ঝেড়ে আবার কাপড় খোজায় মন দিতেই তিতিরের স্পর্শ পেলো নিজের শরীরের। একদম ঘেষে দাড়িয়েছে। এতোটাই ঘেষে দাড়ালো যে ঈশান দু কদম পিছিয়ে যেতে বাধ্য হলো । ঈশান ভ্রু কুচকে তাকাতেই তিতির দু হাতে ঈশানের কলার চেপে নিজের দিকে ঝুকিয়ে আনলো।
____”কি হচ্ছে তা কি তিতির!”
তিতির ঠোঁট উল্টালো। মানুষ টা এখনো রেগে আছে তার ওপর। অবুঝের মতো করে। রন্ধ্রে রন্ধ্রে রাগ আর একরোখামি। তিতির না ছেড়ে বাহু ধরে আরও হেচকা টান দিলো।
____”কি হলে ভালো হয়?”
ঈশান ভ্রু কুচকে আছে। মেয়েটা চাচ্ছে টা কি! এমন সময় এমন কন্ঠে কথা বলার খুব দরকার। এই গলায় স্বরে মস্তিস্ক ফাকা হয়ে আসে তার। রাশভারি গলায় বললো,
____”নাথিং। সর।কাজ আছে।”
____”এতো রাগ কোথায় পেয়েছেন? বাচ্চাদের মতো করেন।”
তিতিরের নিজের ছোট্ট হাতটায় বারবার টেনে নিজের দিকে ঘোরাতে চাচ্ছে ঈশানকে। ঈশান খানিক বিরক্ত কন্ঠেই ধমকে উঠলো,
____ “তিতির।”
____”চেঁচাবেন না একদম। এতো বেশি বোঝেন কেনো? আমি একবারও বলেছিলাম আমার আরও দিনের পর দিন সময় চাই ? মূহুর্ত বোঝেন না ? কয়েক মিনিট বোঝেন না? খালি হম্বিতম্বি । বিয়ে করে মানুষ বউয়ের কথা শোনে। একটা কথাও শোনেন আপনি আমার? ”
হঠাৎ তিতিরের এমন অধিকারবোধ এর কারণ বুঝতে একটু সময়ই লাগলো ঈশানের । মাথার ভিতর দুশ্চিন্তা নিয়ে বউয়ের আদুরে কথা বোধগম্য দেরিতে হওয়াই স্বাভাবিক।
____”কি করতে হবে এখন? ”
____”আদর।”
হার্ট একটা বিট মিস করলো এবারে। ঈশান খেয়াল করলো তার গলা কেমন আচমকা শুকিয়ে উঠলো । তিতিরের এমন কন্ঠস্বরের সাথে সে পরিচিত নয়। একদমই নয়। মেয়েটা আচমকা কেমন করে কথা বলছে কেনো ! তার বুকের ভিতর কি যেনো হচ্ছে । শুকনো ঢোক গিলে তিতিরের হাত ছাড়াতে চাইলো । তিতির ছাড়লো না। উল্টো আলমারির দরজা চাপিয়ে নিজে গিয়ে দারালো সেটার সামনে।
চোখে চোখ রাখলো ঈশানের । এই দৃষ্টি ঈশানের বুকের বাঁ পাশটা ছিদ্র করে ফেলে । মেয়েটা কি সেটা বোঝে না?
ঈশানের মস্তিষ্ক শূন্য হয়ে আসছে রীতিমতো। ঘরের বেড সাইট টেবিলের ওপর হলুর টিমটিমে আলোয় ঘরটা আরও অন্যরকম লাগছে । অজানা এক নেশায় টানছে কে যেনো। তিতির বারংবার ঠোঁট কামড়ে ধরছে নিজের । দু হাত ঈশানের পেটের কাছে শার্ট খামছে ধরা। কি করবে সেটা সম্ভবত ভাবছে । দুটো মানুষই নিশ্চুপ হয়ে দাড়িয়ে। চোখে চোখ রেখে বাকিসব ভুলে বসে আছে । ঈশানের মনে হলো এখন সময়টা থমকে গেলে মন্দ হতো না। এই চোখে চোখ রেখে মৃত্যুও চলবে ।খুব চলবে । তিতির আচমকা এক কাজ করে বসলো । দু পায়ে ভর দিয়ে উচু হলো খানিকটা। নিজ থেকে স্পর্শ করলো ঈশানের ঠোটে জোড়া। ঈশান হতভম্ব হলো । দুনিয়ার বাকিসব আবছা হয়ে গেলো তার চোখের সামনে । বড় বড় চোখে তাকিয়েই রইলো। মাঝেমধ্যে এমন চমকে দিলে চমকাবে না সে ! এই প্রথম সে চাওয়ার আগে তিতির কখনো এহেন কাজ করেছে! তিতির সেদিন এর মতো ছোট্ট চুমু একে সরে গেলো না আজকে। বরং নিজমনে গভীর আদর আকলো।
ঈশান এই প্রথম রেসপন্স করতে ভুলে গেলো। পাথর বনে গিয়েছে সে। তিতির গভীর ভাবে চুমু একে লজ্জামাখা গলায় বললো,
____”আপনি আমার ওপর রাগ করেছেন। আমি আপনাকে দূরে সরাতে চাইনি আজ রাতে। বিশ্বাস করুন। “
তিতির এবারে মুখ নামিয়ে ফেললো। লজ্জামাখা কন্ঠে ধীরেধীরে বললো,
____ আ..আ..আমি তৈরি।”
ঈশানের শ্বাস কেমন আটকে আসছে। তিতির কিসের কথা বলছে বুঝতে তার এক সেকেন্ড ও সময় লাগলো না । ঈশান অনিমেষ তাকিয়ে তিতিরের দিকে । মেয়েটা মেঝের দিকে তাকিয়ে। হাত এখনো তার শার্ট খামচে রাখা। ওভাবেই পলকহীন তাকিয়ে নরম গলায় বললো,
____”আমার ঢাকা ফিরতে হবে।”
তিতির চমকে তাকালো। ব্যাস্ত কন্ঠে শুধালো,
____”কবে?”
____”আজ, এখন।”
তিতির চট করে ঘড়ির দিকে তাকালো। আবছা অন্ধকারে দেখা গেলো ঘড়ির কাটার টিকটিক।
____”রাত প্রায় বারোটা বাজে! এখন যাবেন মানে! কবে ফিরবেন!”
তিতির বেশ অবাক হয়েছে। তার অবশ্য বেশ ধারনা হচ্ছে ঈশান আবার সেদিন এর মতো রেগে গিয়ে এমনটা করতে চাচ্ছে । তিতির অস্থির স্বরে বললো,
____”আমি সত্যি তখন ইচ্ছে করে আপনাকে সরিয়ে দিতে চাইনি । ম..মানে জাস্ট কয়েকটাা মিনিট একটু সময় লাগতো । আর কিচ্ছু না । আপনি রাগ করছেন কেনো? আমাকে এক্সপ্লেইন এর সুযোগ না দিয়ে ভুল বুঝে আবার চলে যাচ্ছেন।”
ঈশান দু হাতের আজলায় নিলো তিতিরের বাচ্চা বাচ্চা মুখটা । মেয়েটা এক নিমিষে অস্থির হয়ে গেছে একেবারে। তার রাগ ভাঙাতে উতলা ! ভাবা যায়। মেয়েটাকে যতটা জেদি মনে হয় ততটা মোটেই নয়। এক মুঠো মাটির দলা আদতে । ওপরে কঠিন হওয়ার ভাব করতে পারলেও ভিতর থেকে একদম নরম। সেটা শুধু এরকম মূহুর্ত গুলোতে প্রকাশ পায় । তিতির গোল গোল চোখ করে তার দিকে তাকিয়ে । ছলছল করছে চোখজোড়া । ঈশান মৃদু হেসে নরম স্বরে বললো,
____”আই হ্যাভ টু গো। রাগ করে নয়। সত্যিই কাজ আছে।”
____”তাই বলে আজ? এই বৃষ্টির রাতে!”
ঈশান মাথা ঝাকিয়ে কপালে আলতো চুমু আকলো তিতিরের। আধখোলা জানালা দিয়ে হু হু করে বাতাস এসে ছুঁয়ে যাচ্ছে দুজনকে। তিতিরের চুলগুলো গুছিয়ে পিছনে দিতো দিতে বললো,
____”বি আ গুড গার্ল ওকে? আমি ফিরে না আসা পর্যন্ত বাড়ি থেকে বের হবি না। কারোর সাথে দেখা করবি না। আর আমি তো জলদি ফিরে আসবই।”
তিতির জানালার দিকে তাকালো । বাইরে তুমুল বৃষ্টি। গাছপালার এলেমেলো অবস্থা চোখে পরার মতো । তার বুক টা হু হু করছে । অশান্তি লাগছে । এটা সময় বের হওয়ার ? এতোটা দূরে এই ঝড়ের মধ্যে ড্রাইভ করে যাওয়া সম্ভব ! তিতির ঈশানের দিকে তাকিয়ে ভীষন আদুরে কন্ঠে আবদার করলো,
____ “আমার মন সায় দিচ্ছে না। কাল সকালে গেলে হয়না? এই অন্ধকার ঝড়বৃষ্টির রাতে…”
ঈশান সামান্য হাসলো । তিতিরের চোখে সে হাসি দৃশ্যমান হলোও । মেয়েটার হাত ধরে টেনে এনে বসালো বিছানায়। পাশে বসে এক হাত নিলো নিজের হাতের মুঠোয় । ছোট্ট হাতদুটোতে মাথা ঝুকিয়ে চুমু খেলো।
____”আমাদের দু’জনের প্রতি দুজনের এই টান কবে থেকে তৈরি হলো বলতো?”
তিতির ছলছল চোখ নামিয়ে নিলো । দৃষ্টি ঈশানের হাতের মুঠোয় তার হাতের দিকে । এই উত্তর সে নিজেকে করেছে। এতো এলোমেলো ভাবে যাত্রা শুরু হয়েছিলো তাদের। বিয়ের আগে হোক বা পরের দিনগুলো ।মোটেই আর দশটা স্বাভাবিক দম্পতির মতো নয় তাদের জার্নি টা । হুট করে একপ্রকার জোর করে বিয়ে ,মানঅভিমান, হাজার একটা ভুলবোঝাবুঝি তে জর্জরিত একটা না হওয়া সংসার। সেটা কেমন মায়ায় পরিনত হলো। কয়েকদিনের ব্যবধানে সবটা অন্য রকম হয়ে গেলো। বিনা কারনেই মানুষ টা চোখের আড়াল হলে অশান্তি লাগে।
মিনমিনে কন্ঠে আওরালো,
____”আপনি দিবেন উত্তরটা। এই অনূভুতি আমার অনেক দিনের। আপনার নতুন। “
ঈশান অনিমেষ চেয়ে ভাবলো সত্যিই কি তাই। অনূভুতি তার ক্ষেত্রে কি নতুন ! না বোধহয়। আগে টের না পেলেও আজকাল গভীর ভাবে অনুভব করো সে। সম্ভবত প্রথম দেখাতেই আটকে গিয়েছিলো সে। ওই চোখের মায়ায়।গভীর ভাবে আটকে গেছে । সেই যে প্রথম দিন মাঝরাতে স্টেশনে ল্যাম্পপোস্টের আলোয় একটা পুতুলের মুখ দেখেছিলো সে, প্রকৃতির বুকে এক পশলা বৃষ্টির মতো দেখা দিয়েছিলো মেয়েটা । আচমকা থমকে গিয়েছিলো বুকের বাঁ পাশের অংশটা ৷ তখন সেই অনূভুতির কোনো নাম না দিতে পারলেও আজকাল পারে সেটা। ঈশান তিতিরের হাত টা নিজের হৃদযন্ত্রের ওপর চেপে ধরলো। সেখানে উথাল-পাতাল শব্দ তিতির স্পষ্ট টের পেলো।
____”কিছু একটা হয় এখানে। টের পাচ্ছিস? “
____”হু।”
____”এটা নতুন নয় একদমই। কবে থেকে হয় বলবো কোনো একদিন। কেমন?”
____”আজ রাতে যাবেন না । হ্যা? আবহাওয়া একদম ভালো নয়। জেনেশুনে এই অন্ধকার রাতে কেউ বের হয়?”
হাতের চাপ আরেকটা দৃঢ় করলো ঈশানে । অস্থির তারও লাগছে । মেয়েটাকে রেখে যেতে একদম মন সায় দিচ্ছে না। আজকের দিনে তো আরও নয়।
____”অন্ধকারে আমার অবাধ বিচরন তিতির। আমি আধারের মানুষ। সেখানে তোর মুখ আমার জন্য এক ছটাক আলো। আর সেই মুখটা চোখের সামনে ভাসিয়ে দুনিয়ার অতল অবধি ঘুরে আসতে পারবো। আর আমি রাগ করিনি। রাত টা আমাদের হতো। ভাগ্যে ছিলো না আজ। আমি ফিরে আসি। তারপর তোকে নিজের করবো। সব স্পেশাল হবে। অপেক্ষা করবি কেমন?”
লাজুক মুখ ওপর নিচ নাড়লো তিতির। ঈশান তিতিরকে টেনে নিজের কাছে নিয়ে আসলো একদম। ঘাড়ে হাত গলিয়ে দিয়ে কপালে কপাল ঠেকিয়ে বললো,
____”আজ রাত টা আমাদের হতো তিতির। এই রাতের অপেক্ষায় মরে যাই আমি প্রতিনিয়ত। তোকে নিজের করে না পাওয়া অবধি আমি এক সেকেন্ড এর জন্য নিজের মন শান্ত করতে পারবো না। তোকে আমার না করে তো মরেও শান্তি পাবো না আমি।”
তিতির জবাব দেয় না । দুজনের শ্বাসপ্রশ্বাস ছুঁয়ে যাচ্ছে একে অপরকে । বাইরের বৃষ্টি থেমে এসেছে অনেকটা। ঘন ঘন শ্বাস নেওয়ার শব্দে দু দুটো মানব হৃদয় উথালপাতাল করছে । ঈশান তিতিরের কন্ঠদেশে মুখ ডুবালো । জোরে জোরে শ্বাস টানলো। কাধের ওপর চুমু খেয়ে হাস্কিস্বরে বললো,
____”এই স্মেল টা ভীষন মিস করবো এ কদিন।
অ্যাম টোটালি অবসেসড উইথ ইয়্যর বডি স্মেল। “
তিতিরের পায়ের তলা শিরশির করে ঈশানের ঠান্ডা অধরের ছোয়ায় । ঈশান নাক ঘসে তার কাধ,উন্মুক্ত গলায়। তিতির ঈশানের শার্ট আকড়ে ধরে থাকে । চোখ বুজে আসে আবেশে । শরীরের লোম দাড়িয়ে যাচ্ছে গরম শ্বাসপ্রশ্বাস এর ছোঁয়া পেতেই । তিতির কেনোমতে বললো,
____” জলদি ফিরে আসবেন কিন্তু। “
____”ইচ্ছে তো হচ্ছে তোর বুকের ভাজে মুখ ডুবিয়ে
তোকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে নিজের সাথে মিশিয়ে রাখতে।”
তিতির ফিসফিসিয়ে বললো,
____” বারণ করেছি?”
____”বারণ কর প্লিজ । যাওয়া টা দরকার । তুই একবারমুখ ফুটে মানা করে ,নিজের কাছে ডাকলে আমি দিন দুনিয়া ভুলে বসবো। আজকের জন্য সেটা মোটেও ভালো হবে না।”
____” কিন্তু আপনাকে দূরে যেতে দিতে আমি চাইছিই না। এটাই সত্যি। “
ঈশান তিতিরের এতো আদুরে কথা গুলো সত্যিই সহ্য করতে পারছে না । মেয়েটা আজ নিজে কাছে আসার অনুমতি দিচ্ছে , অথচ আজকেই এরকম একটা ইনসিডেন্ট, না গেলেই নয়। এমন দুর্দিন আর কতদিন চলবে তার বিবাহিত জীবনে কে যানে! ঈশান মুখ তুলে একদম তিতিরের ঠোঁট জোড়ার কাছে এগিয়ে এলো। হাস্কিস্বরে বললো,
____” তিতির, ক্যান আই কিস ইউ রাইট নাও? “
____” হু??
_____” ফ্রেঞ্চ কিস…”
তিতির লজ্জায় আড়ষ্ট হলো । তবে মানা করলো না । সম্মতি বোঝাতে চোখ বন্ধ করে ফেললো। ঈশান আর সময় নষ্ট করলো না । তিতিরকে এক ধাক্কায় বিছানায় ফেলে ওপরে আধশোয়া হয়ে নিজের ঠান্ডা অধর ডুবিয়ে দিলো তিতিরের ওষ্ঠের ভাজে। তিতিরের দু হাত তুলে দিলো নিজের কাধে । একটানে বুকের ওপর থেকে ওড়না টা সরিয়ে ফেলে জামা ভেদ করে হাত গলিয়ে দিলো তিতিরের নগ্ন পেটে । তিতিরের দু হাত শক্ত করে ধরেছে ঈশানকে। ঈশানের অবধ্য হাতের অসভ্য ছোঁয়ায় শরীর অবশ হয়ে আসছে । নগ্ন উদর ছাড়িয়ে হাতটা আরেকটু ওপরে উঠতেই শরীর ছেড়ে দিলো তিতিরের । ঈশানের ভারি শরীরের নিচে , তার শক্তপোক্ত হাতে ছোঁয়ায় পিষ্ট হচ্ছে তার তনু দেহ । ঈশানের সাথে তালে তাল মিলিয়ে দিশেহারা হচ্ছে তিতিরও । ঈশান ঠোঁট ছেড়ে বুকের ভাজে মুখ ডাবলো এবারে। তিতিরের হাত দুটো ঈশানের সিল্কি চুলগুলো খামছে ধরেছে। ঈশানের আদরে মৃদু শিৎকার বেরিয়ে আসছে মুখ থেকে। ঘন নিশ্বাস বারি খাচ্ছে চার দেয়ালে। বাইরের ঝিরিঝিরি বৃষ্টির সাথে তাল মিলিয়ে ঘন নিঃশ্বাস এর শব্দ।
তিতির দু হাতে ঈশানকে খামচে ধরে কোনোমতে বললো,
____”ঈশান ভ..ভাইই…”
ঈশান হাঁপাতে হাঁপাতে মুখ টা তুললো। ঈশানের ঠোঁটে ঠোঁট রাখলো আবার।
____”সময় নেই তিতির। যেতে হবে। না হলে আজ তোকে ছাড়তাম না। ট্রাস্ট মি।”
তিতিরের জবাবের আশা ঈশান করলো না। আবার চেপে ধরলো। গভীরে থেকে গভীর ভাবে নিজের দিকে টেনে নিচ্ছে তিতিরের অধর। শুষে নিচ্ছে তার প্রিয় অমৃতশুধা। তিতিরের শ্বাস ফুরিয়ে আসছে। এদিকে বরাবরই ঈশানের সাথে পেরে ওঠে না সে। লোকটা সহজে থামার মানুষ নয়। আজ একদম বাধা দিতেও ইচ্ছে হচ্ছে না তিতিরের। বরং মানুষ টার কাছে নিজেকে সপে দিতে মরিয়া সে নিজেও।
চোখ বুজে শুধু অনূভব করে গেলো স্বামী নামক বৈধ পুরুষের আদর। যত্ন সহকারে ঈশান তিতিরের নিচের ঠোঁট টেনে নিচ্ছে নিজের ভিতরে। গভীর আশ্লেষে সেটা শুষে নিতে ব্যাস্ত। মৃদু কামড় বসাছে ঘনঘন,সেই ব্যাথায় আবার ভেজা চুমুতে ভরিয়ে পুষিয়ে দিচ্ছে।
তবে দীর্ঘশক্ষন সেই মূহুর্ত স্থায়ী হলো না। শব্দ করে ঈশানের ফোন বেজে উঠতেই বিশেষ মূহুর্তে বাধা পরলো। ঈশান পকেট থেকে ফোন বের করে সাইলেন্স করে তিতিরের কপালে কপাল ঠেকালো । চোখ বুজে দুজনেই হাপাচ্ছে । তিতিরের মুখটা টকটকে লাল হয়ে হয়ে গেছে। বিশেষ করে ঠোঁটজোড়া । ঈশান টুকরো টুকরো ভেজা চুমু আকলো পুরো মুখে । কপাল,দু চোখে, চিবুক,কন্ঠদেশে চুমু একেঁ হাত ছোয়ালো তিতিরের গালে। জোরে জোরে শ্বাস নিয়ে নিজেকে ধাতস্থ করে বললো,
____”তিতির?”
____”হুমম।”
____”যেদিন ফিরবো সেদিন তৈরি থাকবি।
আধা বাসরে জীবন পারি দিতে পারবনা আমি আর। খুব কষ্ট হয়। বিশ্বাস কর। শরীরে কেউ আগুন ধরিয়ে দেয়। আমি খুব দ্রুত ফিরবো। বি প্রিপেয়ার্ড ওকে?”
তিতির লজ্জায় জবাব দিতেই পারে না। দু হাতে ঈশানকে টেনে নিজের সাথে মেশায়। ঈশান চুপচাপ মাতা রাখে তিতিরের বুকে। তিতিরের বুকেও তার বুকের মতো ঝড়।
দুজনের হৃদস্পন্দন এর শব্দ মিলেমিশে একাকার। ঈশান গাঢ় করে মুখ গুজলো তিতিরের বুকে।
_____”আই থিং অ্যাম টোটালি ফল উইথ ইউ তিতির। এক মূহুর্ত তোকে ছাড়া থাকার কথা ভাবতে পারি না।”
তিতির এর কান্না পেয়ে ভীষন। ঈশানের মাথা হাত বুলিয়ে বললো,
_____”খোদার কাছে চাইলে কাউকে ফেরায় না। আমাদেরও ফেরাবে না। শেষ অবধি একসাথে থাকবো আমরা। কেমন? এই সম্পর্ক আমৃত্যু চিরস্থায়ী হোক, মৃত্যুর পরও আমি পূর্ন দাবিতে আপনাকে চেয়ে নেবো খোদার কাছে। ”
ঈশান নাক ঘষলো তিতিরের বুকে। হাতের বাধন দৃঢ় করলো। নিজের ভীষন সুন্দর পুরুষালি ভারি কন্ঠে গেয়ে উঠলো,
“চাহে মে রাহু যাহা, মে চাহু তু না রাহে
তেরে মেরে পেয়ার কা উমার সালামাত রাহে….
তিতির এর চোখের কার্নিশ থেকে কয়েকফোটা নোনাজল গড়িয়ে পরলো। নাক টানলো। মাথা উচিয়ে ঈশানের মাথায় শক্ত চুমু একে নিজেও গেয়ে উঠলো,
“চাহে ইয়ে জামিন, ইয়ে আসমান রাহে না রাহে;
তেরে মেরে পেয়ার কা উমার সালামাত রাতে”
হোটেল রুমের বারান্দায় বেতের চেয়ারে বসে আছে রুষা। কিসের জন্য হুট করে সে এখানে চলে এলো তার উত্তর নেই তার নিজের কাছেও। ঈশান কে দেখে না কতগুলো দিন। আর না তো কন্ঠস্বর শুনতে পায়। সেদিনের পর থেকে ঈশানকে আর এক বারের জন্যও ফোনে পায়নি রুষা। আর না তো কোনোভাবে যোগাযোগ করতে পেরেছে । শুধু ঈশান কেনো ! অনিমা, রিতু, সাজিদ, নিয়াজ, নাঈম কাউকেই পায়নি সে । সবাই ভুল বুঝছে তাকে ! অবশ্য ভুল বোঝা টাই যুক্তিযোগ্য । সেটাই সঠিক। ফোনের শব্দে ধ্যান ভাঙ্গলো তার ৷ চোখের পানি মুছে সেটা কানে তুলতেই শুনতে পেলো একটা অচেনা কন্ঠ। তবে সেটা বেশিক্ষণ অচেনা রইলো না।অপর পাশের মানুষ টা দ্রুত পরিচয় দিয়ে ফেললো নিজের। সালাম দিয়ে বিনয়ের সাথে নিজের পরিচয় দিলো।
ফোনে এই মূহুর্তে তাহমিদ কায়েস। বাঁকা হাসলো রুষা। তাহমিদ জলদি এটা জানিয়ে দিলো নাম্বার টা সে বাড়িওয়ালার থেকে জোগাড় করেছে, বেশ কসরত করে। রুষা নিজের বিনয়ের সাথে বললো,
____”তা কি দরকার সেটা শুনি! এমনি এমনি নিশ্চয় একটা মেয়েকে মাঝরাতে কল করবেন না!”
তাহমিদ হালকা হাসলো। সেটা কর্ণগোচর হলো রুষার।
____”তিতির কে নিয়ে কিছু কথা ছিলো।”
রুষা শব্দ করে হেসে ফেললো। হাস্কি গলায় বললো,
____”জানতাম তো। বলে ফেলুন।”
____”আসলে আমি একজন শিক্ষক। ওদের এলাকার কলেজে জয়েন করছেি একমাস হলো। সবই জানেন আপনি। কিভাবে জানেন সেটা জানা নেই । মেয়েটাকে আমার ভীষন পছন্দ হয়েছে প্রথম দেখাতেই।”
রুষা অন্য বেতের চেয়ারে পা তুলে হেলান দিয়ে বসলো। দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো,
____”হ্যা প্রথম দেখায় প্রেমে পরার মতোই মেয়ে।”
____”তবে বুঝতেই পারছেন। ও আমার ছাত্রীতুল্য। আমি একজন শিক্ষক হয়ে ওকে সামনাসামনি বলা যায়না। আমার ইমেজের সাথে বিষয়টা ঠিক যায়না। “
____”কি আশ্চর্য! বিয়ে করবেন না তাই বলে! সব মেয়েকেই যদি এ নজরে দেখে যান বিয়ে করবেন কাকে?”
____”তবুও..।”
____”আমি তিতির দের এলাকায় এসেছি জানেন?”
তাহমিদ চমকেই উঠলো। উত্তেজিত কন্ঠে বললো,
____”বলেন কি! সকালেও তো দেখলাম আপনি এখানে। তখনই রওনা দিচ্ছিলেন বুঝি?”
____”জ্বী। আপনি কবে আসছেন?”
____”ছুটি তো আরও পাঁচদিন। “
____”আপনি কাল চলে আসুন। শুভ কাজ ঝুলিয়ে রেখে লাভ আছে ? তাও তিতির এর মতো মেয়ে ! কবে দেখবেন কোন রাজপুত্রুর এসে নিয়ে যায়।”
____”মানে?”
____”আসুন। বাকিটা আমি দেখে নেবো। মন থেকে পছন্দ করেন তো মেয়েটাকে। মানে বিয়ে থা করতে চান তো নাকি! “
____”জ্বী চাই। “
____”তাহলে কাল চলে আসুন। “
ফোন রেখে অট্টহাসিতে ফেটে পরলো রুষা। মানুষ এর মন নিয়ে খেলতে আজকাল তার বেশ ভালো লাগছে। তিতিরকে আজকাল ওর পায়ে হাত দিয়ে সালাম করতে মন চায় ওইটুকুন একটা মেয়েকে। তাগড়া তাগড়া পুরুষগুলোকে পিছনে লাগিয়ে দিয়েছে। ভাবা যায়!
____”জাদু টাদু জানো নাকি মেয়ে ! সবার ভালোবাসার মানুষ কেড়ে নিতে ওস্তাদ তুমি। বোন,বন্ধু সবার মনের মানুষ দের নিজের পিছনে ঘোরাচ্ছো। আমার জীবন টা তছনছ তো করলেই। বিয়ে করেও শান্তি দিচ্ছো না! বিয়ে করে সংসার সাজাচ্ছো অথচ বাইরে আশিকদের অবিবাহিত পরিচয় দিচ্ছো নিজের। স্বামী স্ত্রী ভালো খেল দেখাচ্ছো। “
দরজার সামনে অনেকক্ষণ দাড়িয়ে রাহাত। এতো রাতে রুষার দরজায় নক করবে কি না সেটা বুঝে উঠতে পারছে না। মেয়েটা ঘুমায় নি। ভিতর থেকে খানিক পরপরই অট্টহাসির শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। সাতপাঁচ ভেবে নিজের রুমের দিকে হাঁটা ধরতেই ভিতর থেকো গগন বিদারি কান্নার আওয়াজ ভেসে এলো। অজানা কারণে শরীর শিওড়ে উঠলো সে কান্নার শব্দে! মেয়েটা কাঁদছে কি?
রাহাত দোটানায় পরেও দু বার মৃদু টোকা দিলো দরজায়। কান্নার আওয়াজ থামলো। মিনিটের মাথায় দরজাও খুললো। সরে দাড়ালো । রাহাত বুঝলো তাকে ভিতরে আসতে অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। রাহাত দুদিকে মাথা নাড়লো।
____”ভিতরে যাবো না। আর ইউ অলরাইট?”
____”যদি বলি নাহ। তাহলে কি করবেন? ঈশান কে এনে দেবেন?”
রাহাত জবাব দেয় না । রুষা হাতের উল্টো পিঠে চোখজোড়া মুছে কঠিন কন্ঠে বলে,
____”ভিতরে আসুন। কথা আছে আপনার সাথে। “
রাহাত কি করবে বুঝে উঠতে পারছে না। তবে ভিতরে ঢুকলো । রুষা দরজা আটকে বিছানায় বসলো। রাহাত সোফায় ৷ ঘরের আলো জ্বেলে দিলো রুষা। রাহাতের দিকে উদ্দেশ্য করে বললো,
____”আপনার মতো পুরুষ প্রেমে ব্যার্থ হয় মানা গেলো না।”
রাহাত মলিন হাসলো । ভ্রু জোড়া তুলে বললো,
____”একই কথা তোমার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য কিন্তু। “
কঠিন হলো রুষার মুখের ভাব। হাতে শক্ত করে খামচে ধরলো বিছানার চাদর। কঠিন গলায় বললো,
____”একদম নাটক করবেন না। ভালোবাসলে জেনেশুনে উধাও হলেন কি করে!”
রাহাত যেনো একটু অবাকই হলো। কপালে কয়েকটা ভাজ পরলো সাথে সাথে।
____”সবাইকে নিজের মতো ভাবা বোকামি কিন্তু! আমার ভালোবাসা এক দু দিন এর নয়। এতো ঠুনকোও নয়। দু দিনে নাই হয়ে যাবে সেটা,হাল ছেড়ে দেবো আমি। সবকিছুর সময় আছে,সুযোগ এর সন্ধানে থাকতে হয়।”
ব্যাঙ্গাত্মক হাসি হাসলো রুষা। খোলা চুলগুলো খোপা করতে করতে বললো,
____”শখের নারি অন্যের বিছানায় রাতভর গোঙ্গায় আদরে আদরে। তারপরও আপনার সঠিক সময় আসেনি রাহাত সাহেব? নাকি ঈশান আরশাদ এর বাচ্চা সহ তিতিরকে নিজের করে নিতে চান?”
____”মুখ সামলে রুষা।”
____”ভুল কি বললাম? ঈশান পুরুষ মানুষ। তিতির তো নারী। শখের নারীকে অন্য পুরুষ রোজ রাতে স্পর্শ করে,কিভাবে সহ্য করেন হুম? তারপরও সেই মেয়েকে পেতে মরিয়া?”
শব্দ করে হেসে ফেললো রাহাত। ভ্রু জোড়া উচিয়ে বললো,
____”তিতিরকে স্পর্শ কিন্তু তোমার ঈশানই করে। কষ্ট হয়না?”
রুষা উঠে দাড়ালো। গটগট করে দরজা খুলে দিলো।
____”অনেক রাত হয়েছে। আপনার আমার ঈশান তিতির কে নিয়ে আলোচনার সময় এটা নয় সম্ভবত। আগে টের পাইনি এখন পাচ্ছি।। “
রাহাত উঠে এলো। দরজার বাইরে গিয়ে ঘাড় বাকিয়ে বাঁকা গলায় বললো,
____”তবে আশা করি শীগ্রই আলোচনার সময় হবে।তাইনা?”
রাহেলা দেওয়ান বড্ড রাগারাগি করেছেন ছেলের ওপর। ঈশান বেরিয়েছে মিনিট দশেক হলেো। যাওয়ার আগে তিতির আর রাহেলা কে ছাড়া আর কাউকে বলে যায়নি। এতো রাতে কাউকে ইচ্ছে করেই ডাকেনি । সবাই শুয়েছেই খানিক আগে । পৌছে জানিয়ে দেবে সকলকে।
তিতির শাশুড়ি কে বিদায় দিয়ে মলিন মুখে আসলো তাদের রুমে । বিছানায় গা এলিয়ে দিলো । বাইরে ঝিরঝির বৃষ্টি। টানা বৃষ্টি চলবেই । একটু কম আর বেশি । এর মধ্যে এতোটা পথ ড্রাইভ করে যাবে, ভাবা যায়। কি এমন দরকার। যে এখনই যেতে হলো। চোখের ঘুমের রেশ মাত্র নেই তিতিরের।
একদিকে ঈশান চলে যাওয়ায় আজ অস্বাভাবিক কষ্ট হচ্ছে তার । তার ওপর তখনকার ফোন কল টা। ওটা নিয়ে ঈশান এর সাথে একটু কথা বলারও সময় হলো না। তখন অবশ্য মনেও ছিলো না । তবে এখন বেশ মনে হচ্ছে ঈশান কে তখন কথা টা না বলে বড্ড ভুল করেছে। মানুষ টা ভালো উদ্দেশ্যে তাকে মোটেই কল করেনি,আর না তো লোকটার একটা কথাও স্বাভাবিক ছিলো। এই কথাটুকু বোঝার বুদ্ধি আছে তিতিরের।
এত আগের ঘটনা কত কষ্টে ভুলেছিলো সে,একমাত্র সেই জানে । দিনের পর দিন চোখ বন্ধ করতে পারেনি। ঘুমাতে পারেনি। হোস্টেল থেকে তখন তার বড় চাচ্চু নিয়ে গিয়েছিলো নিজের কাছে। তাদের যত্নে ওই সময়টা সুস্থ হয়েছিলো সে । চোখ বুজতেই চোখের সামনে ভেসে উঠলো সেই সময়ের দৃশ্য গুলো। ধড়ফড়িয়ে উঠলো বুক। এতদিন ও তো জানতো সেটা স্রেফ একটা অ্যাক্সিডেন্ট,আর কিচ্ছু না। আজ হঠাৎ এত গুলো দিন পরে কেউ কেনো তাকে সেসব বলে ভয় দেখাতে চাচ্ছে। আসলেই নিছক অ্যাক্সিডেন্ট ছিলো না সেটা!
গাড়ি মেইন রোড ধরে চলছে। যত দ্রুত সম্ভব পৌছুতে হবে ঢাকায় । বৃষ্টির জন্য গাড়ি জোরে টানতেও পারছে না। বারবার ইয়াজ নামের লোকটার কথাগুলো কানে বাজছে। আজিমপুর কবরস্থান! যতবার কথা হয়েছে লোকটা ততবার এই জায়গা টার উল্লেখ করে। এটার কি স্পেসিফিক কারন আছে? নিশ্চয় আছে। ঈশান অনেক কিছু মনে করার চেষ্টা করে। স্মৃতির পাতা হাতড়ায় ইয়াজ নামের কাউকে মনে করার চেষ্টা করে। মনে পরে না। কি শত্রুতা আছে তার ঈশান এর সাথে! প্রথমে নূরি কে টার্গেট করেছে। নূরির সাথে দীর্ঘ তিন বছরের সম্পর্ক। তীলে তীলে সাজানো পরিকল্পনা লোকটার। নূরিকে নিজের প্রতি অবসেসড করে ঘরের সব খবরাখবর নিয়েছে। শুধু বোধহয় খবর এর জন্য নয়, নূরিকে হাতে রাখাও একটা কারণ। যাতে তার সাথে যখন লাগতে আসবে নূরিকে সামনে ঢাল হিসেবে দাড় করাতে পারে।
তবে তাই যদি হয় লোকটা আবার তিতির কে এসবে টানছে কেনো! বিয়ের আগে থেকে তিতির কে জড়িয়ে ফেলেছে এসবের মধ্যে। এটা নিশ্চিত দিনের পর দিন তিতিরের ওপরও কড়া নজর ছিলো লোকটার। তিতির এর স্কুল,কলেজ,ভার্সিটি জীবনের পুঙ্খানুপুঙ্খ সব দিনের হিসেব আছে লোকটার কথা। এ বাড়ির কথা,তিতি,তিতির এর চাচাদের কথা সবটা জানাশোনা লোকটার। সময় নিয়ে সাজিয়েছে সবটা।
একদিকে ঈদ,অন্য দিকে গভীর রাত, তার ওপর ঝড় বৃষ্টি। গোটা রাস্তা প্রায় ফাঁকাই বলা চলে। হুটহাট দু একটা মালবাহি ট্রান বা বাস পাশ কাটিয়ে যাচ্ছে।
বারবার তিতিরের মুখটা ভাসছে, মেয়েটা আজকে কি আদুরে ভাবেই না কাছে ডাকছিলো তাকে। হাসি পেলো ঈশানের। কখনো কি ভেবেছিলো ঈশান আরশাদ নিজের ফুপাতো বোনকে বিয়ে করতে। যে কি না ছোটবেলা থেকে একই বাড়িতে ছোটাছুটি করেছে। মাঝের এতোগুলো বছরের দেখা সাক্ষাৎ না হওয়াটা সম্ভবত আকর্ষণ এর মূল কারণ। স্টেশনে ওতগুলো দিন পর যখন দেখেছিলো ভীষন জোরে হার্ট ব্লক খেয়েছিলো তার। সেসব কথা এ জীবনে প্রকাশ করা হবে না। হাসি পাবে তার। নিয়াজ রা জানলে তো খেপিয়ে মেরেই ফেলবে।
ওই মেয়েটার মুখের দিকে তাকালে আজকাল ভয় হয়। সামান্য বিষয়েই ভয় হয়। খোদার কাছে খুব করে চায় সম্পর্কটার আমৃত্যু পূর্নতা।
সাঁঝের মায়া পর্ব ৪০
ঈশান মুচকি হেসে গাড়ির মিউজিক প্লেয়ার বাজিয়ে দিলো।নামিয়ে দিলো গাড়ির কাচ। বাইরের বৃষ্টির ঝাপটায় ভিজিয়ে দেয় তাকে। জীবন শেষ অবধি তাদের নিয়ে আদতে কোন পরিকল্পনায় চলবে তা থোরাই জানে তারা। জানেনা। খোদার পরিকল্পনা কখনো খুব সুখের কখনো নিষ্ঠুর। ভালোর জন্য দূরে চলে যেতে হয় অনেক সময়। তেমন দিনও কি আসবে! কে জানে! কপালে লেপটে যাওয়া চুলগুলো একহাতে পিছনে ঠেলে দিতে দিতে গলা মেলালো মিউজিক প্লেয়ার এর সাথে,
“চাহে মে রাহু যাহা, মে চাহু তু না রাহে
তেরে মেরে পেয়ার কা উমার সালামাত রাহে….
