সায়রে গর্জন পর্ব ১৯
নীতি জাহিদ
চারদিকে শোঁ শোঁ ধূলা উড়ানো বাতাস। বন্ধুদের সাথে বাইক নিয়ে রেস লাগিয়েছে। আশে পাশের সব কিছু তোয়াক্কা করে ছুটে চলেছে। দু পাশে সবুজ আর মাঝে মেইন রাস্তা। দশটা বাইক। স্পিড ১১৫-১২০। লিমন বাইক স্টান্ট করবে এর আগেই ওর সামনের বাইকটা একটা কারের সাথে খুব জোরে ধা/ক্কা লেগেছে। গাড়ি থেকে ড্রাইভার বেরিয়ে সামনের ছেলেটাকে বকা ঝকা করছে। তর্কে কেউ হার মানতে রাজি না। গাড়ির ক্ষতি হয়েছে অনেক সেই সাথে বাইকের সামনের অংশে ক্ষয় ক্ষতির পরিমাণ বেশি। একসাথে সব কজন বাইকার নেমে এলো। ড্রাইভারকে মা*রতে উদ্ধত হলে ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে আরেক জন লোক। লিমন এগিয়ে এসে বললো,
– আপনারা তর্ক না করে আমাদের ক্ষতিপূরণ দিয়ে দিন চলে যাব। আর এটা জানেন না বাইকার রা রাস্তায় চললে একটু রয়ে সয়ে গাড়ি চালাতে হয়।
পেছন থেকে আরো একজন বেরিয়ে এলো। তাকে দেখে লিমন যেই না ধমকে কথা বলবে চেহারার দিকে তাকিয়ে মুখ বন্ধ হয়ে গেলো। লোকটা সামনে আসতেই তোঁতলে বললো,
– পাভেল…ভাই।
– বাইকারদের দেখলে রয়ে সয়ে চলতে হবে তাই না!
– ভাই স্যরি
– পেছনে তোর উপর মহল বসে আছে। যদি নাইমা তোরে দেখে একটা আঁ ছাড় দিবে সবার সামনে। ভাগ এখান থেকে সব কটা।
বাইকার ছেলে গুলো গাড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে কেউ একজন বসে আছে। লিমন এই গাড়ি কখনো দেখেনি তাই চিনতে পারেনি। একটা বাইকার ছেলে চেঁতে বলে,
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
– কে রে উপর মহল,ডাক দে খোমা ডা দেইখ্যা নি। এক্কেবারে ভাইরাল কইরা দিমু।
পাভেলের ফোনে কল আসতেই, পাভেল দাঁত খিচে বলে,
– লিমন এটাকে সামলায় ভাগ এখান থেকে বস বের হলে একটাকেও আস্ত রাখবেনা। ফোন দিচ্ছে বার বার। গাড়িতে ল্যাপটপে কাজ করছে তাই আমাকে পাঠিয়েছে, এজন্য তোর রক্ষা হয়েছে।
– আপনারা আগে চলে যান ভাই, বইলেন প্রবলেম সলভ।
ড্রাইভার একপাশ করে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে যায়। লিমনের বন্ধুরা বার বার প্রশ্ন করে কে ছিলো গাড়িতে।
পকেট কাঁপিয়ে ওয়্যারলেস যন্ত্রটা বেজে উঠলো। পরিচিত নাম্বার দেখে শির দাঁড়া বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে শীতল স্বেদজল। গলা কাঁপছে।
– আসসালামু আলাইকুম বড় ভাইজান।
– ওয়ালাইকুমুস সালাম, রাস্তা দখল না করে
লা/ফা/ঙ্গা গুলোকে নিয়ে দু মিনিটের মধ্যে রাস্তা ফাঁকা করো। সন্ধ্যায় বাসায় আসবে।
টুট টুট করে ফোন কেঁটে গেলো। শীতল ধমকই বলে দিচ্ছে আজই শেষ। সত্যি যদি আঁছাড় দেয়! লিমনের এক বন্ধু এগিয়ে এসে প্রশ্ন করলো,
– কে ছিলো রে?
– বড় ভাইজান। আমি আর এজন্মে বাইক রেস করবোনা। আজকে নির্ঘাত আঁছাড় দিবে।
– বললেই হলো!
রাসেল পাশ থেকে বলে,
– বেকুপের দল, লিমনের শাহাদ ভাইজান আঁছাড় না শুধু ঘুষিতে থোঁবড়া বদলায় দিবে। বাসায় চল। আমি যে লিমনের বন্ধু জানে। আব্বুকে যদি ফোন দিয়ে কিছু বলে আমার জায়গা ফুটপাতেও হবে না।
বাকিরা হতাশা নিয়ে বাইক ঘুরিয়ে গন্তব্যের জন্য রওয়ানা দিলো।
চোখের সামনে বার বার ভেসে উঠছে বিকৃত,ঘৃণ্য ছবি,ভিডিও। এই ছবি,ভিডিওর মেমোরি কার্ড উদ্ধার করা গেলেও এখনো নিশ্চিত করে বলতে পারছেনা আরো কোথাও ব্যাকাপ আছে কিনা। নওরীন প্রজেক্টের কাজ করতে মন্ত্রণালয়ে গিয়েছিলো টিমের সাথে। সেখান থেকে জানতে পারে শেফালীর বর্তমান প্রেমিকের খবর। শাহাদের কাছে নিউজ দিতেই হামজা এসে মেমোরি কার্ড দিয়ে গেলো। শাহাদ মিটিংয়ে আছে।এই কার্ড কারো কাছে নিরাপদ নয়,শাহীনের কাছে পাঠালো। রুমে এখন শাহীনের সাথে পাভেল এবং হামজা। ওরা যেতেই নওরীন ফোন দিলো।
– জানো শাহীন,আমি ভাবতেই পারছিনা শেফালী আপা এই কাজ করছে এতদিন ধরে।
– আমার তো ওকে মে*রে ফেলতে ইচ্ছে করছে। ও এতদিন ভাইজানের পেছনে লেগেছে,আমার পেছনে লেগেছে কিছুই বলিনি কিন্তু আমাদের মান সম্মান বিকিয়ে নিজের ক্ষতি করে কি লাভ হলো!
– আবির কোথায়?
– পাঠিয়ে দিবে নোমানের কাছে। নোমানের নেক্সট মান্থে ফ্লাইট নিউজিল্যান্ড। ও স্যাটেল হলে কয়েকমাস পর এসে নিয়ে যাবে। এমনিতেই আবিরের খেয়াল আম্মু আর ভাবীমা রাখে।
– বাচ্চাটাকে অনেক আদর লাগে। কষ্ট হবে না তোমাদের।
– আমি থাকবোনা। ভাইজানের অবস্থা নিয়ে সন্দিহান সবাই।ভাইজান চেয়েছিলো নিজের কাছে রেখে দিতে কিন্তু বলা তো যায়না,যদি কোনো দূর্ঘটনা ঘটে ভাবীমা তো শেহজা, আবির দুজনকে সামলাতে পারবেনা।
বুকটা কেঁপে উঠলো কথাটা বলতেই।নওরীন ও পাশ থেকে নিশ্চুপ। শাহীনের কম্পিত গলায় বুঝা যাচ্ছে কতটা আবেগী হয়ে পড়েছে। নওরীন সময় নিয়ে বললো,
– ভাইজানকে যত দ্রুত সম্ভব অপারেশন করাতে বলো। আমি নিজেকে ওই জায়গায় ভাবতেই ভীত আর ভাবীমায়ের কি অবস্থা?
– জানিনা তবে ভাবীমা অসম্ভব মনোবল সম্পন্ন নারী। ভাঙতে দেখছিনা। হয়তো আপনজনের বিয়োগ দেখেই তিনি অভ্যস্ত।
– দেখা করবে? মন ভালো লাগছেনা।
– আজকে না আগামীকাল করবো।পুরো দিন তোমার নামে। আজকে ভাইজান সন্ধ্যা সাতটার মধ্যে সবাইকে বাসায় থাকতে বলেছে।
– ঠিক আছে। দেখা হবে ইনশাআল্লাহ।
ফোন রেখে শাহীন পুনরায় নিজের কাজ করতে থাকলো। বন্ধু রফিকের অফিস জমজম টাওয়ারের তৃতীয় তলায়। প্রায় এখানে এসে নিজের কাজ গুলো সেরে নেয়।
বাড়ির লিভিং রুমে সবাই একত্রিত হয়েছে। ঘড়িতে ছ’টা পঞ্চাশ। রায়হান সাহেব ও সুলতানা কবিরের ডজন খানেক প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছে শাহীন৷ শিফা আজ বাসায় নেই। তাহির সাথে বেড়াতে পাঠিয়েছে। শেহজাকে আগেই ঘুম পাড়িয়ে দেয়ার নির্দেশ। লিভিং রুমে উপস্থিত আছে রায়হান সাহেব,সুলতানা কবির,দিয়া,শেফালী এবং শাহীন। ঘড়ির কাঁটা সাত’টা। নিচে গাড়ির আওয়াজ। দরজা খুলে দিয়েছে শাহীন। বড় বড় পা ফে*লে ক্ষীপ্র গতিতে আসছে। চোখ থেকে সান গ্লাসটা খুলে শার্টের সামনের অংশে প্রথম বাটনে আটকালো। অফিশিয়াল প্রোগ্রাম থাকাতে আজ ব্লেইজার পরিহিত ছিলো। বাড়ির দিকে এগুতে এগুতে গায়ের ব্লেইজার খুলে দিলো রহমত চাচার হাতে। সাদা শার্টের হাতার বোতাম খুলে হাতা গুটিয়ে কনুই পর্যন্ত উঠালো।
দু কদম এগিয়ে রহমত চাচাকে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে ঠাস করে সকলের সামনে বাড়ির দরজা লাগিয়ে দিলো। সানগ্লাস টা টেবিলে রেখে ব্লেইজার ছুঁড়ে মা*রলো সোফায়। প্যান্টের মাঝে ইন করে গুঁজে থাকা শার্টের ইন খুলে এক টানে প্যান্টের বেল্ট খুলে ফেললো। পরিবারের সকলে দাঁড়িয়ে পড়লো। শেফালীকে হেঁচকা টান মেরে সোফা থেকে উঠিয়ে বেধড়ক বেল্ট দিয়ে প্রহার শুরু করলো। প্রতিটা বাড়ি পিঠে, কোমড়ে, ঘাড়ে পড়ছে। শেফালীর চিৎকারে কাঁপছে বাড়ির প্রতিটি ইট। শাহাদের বিধ্বংসী রূপ দেখে পরিবারের প্রত্যেকে ভীতসন্ত্রস্ত। শাহাদ গর্জন তুলে বললো,
– তোকে আমি ছেড়ে দিয়েছিলাম,সময় দিয়েছিলাম,আচরন সংযত করতে বলেছিলাম। কিন্তু তুই কি করলি সব কিছুকে তুঙ্গে তুলে চরিত্র বিকিয়ে আসলি। তুই আমার হাতেই ম*রবি। কেউ শাহাদ ইমরোজের বোনকে বে*শ্যা বলবে সে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে শুনবে। কিছুতেই মেনে নিতে পারবোনা। তোর তো বেঁচে থাকার অধিকার নেই। কোন সাহসে গিয়েছিলি খালেদ পারভেজের শয্যাসঙ্গী হতে। আমাকে ফাঁসাতে ওই জা/নো’য়া র তোকে কত লাখ টাকা দিয়েছে!
সুলতানা কবির মেয়ের উপর প্রহার দেখে যতটা ঘাবড়েছিলো ছেলের কথা শুনে বাকরুদ্ধ। রায়হান সাহেবের চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়ছে অশ্রু। সোফার হাতল ধরে বসে তিনটে শব্দ উচ্চারণ করলেন,
– আমি ব্যর্থ বাবা।
শেফালী শাহাদের পা জড়িয়ে হাঁউ মাঁউ করছে,
– ভাইজান আর করবোনা এবারের মত মাফ করে দেন।
জড়িয়ে ধরা পা দিয়ে একটা লা*থি দিয়ে দু হাত দূরে ফে/লে দিলো। শেফালীর চিৎকারে বাড়ি যেন ম*রা বাড়ি হয়ে উঠলো। শাহাদ ফ্লোরে বসে শেফালীর দু চোয়াল শক্ত করে ধরে বললো,
– কান্না বন্ধ কর,নতুবা এখনই এখানে গেঁ/ড়ে দিব। একটা আওয়াজ যেন মুখ দিয়ে না বের হয়। বন্ধ কর ব*দ/মাশ। আরেকজনের চরিত্রে দোষ লাগাস। তোর মত সেলিব্রিটি প*তিতার কাছে তো আমার ঘরে বাকি চার নারী নিরাপদ নয়। আমার নারীর গায়ে তুই বে*শ্যার তকমা লাগাস, আমার আরো দুইটা কলিজার টুকরা আছে এই বাড়িতে,শিফা-শেহজা ওদের আশপাশে তোর মত সার্টিফাইড প্রস্টিটিউটের কোনো জায়গা নেই। এই শাহীন, ঘর বন্ধি কর ওরে।দুই বেলার বেশি খাবার দিবি না। ওর রুমের চাবি আমার কাছে থাকবে। আফিয়া খালা আসলে সে যেন খাবার দেয়। খবরদার এই বাড়ির কেউ যদি এই অপবিত্রার মুখদর্শনে যায় তবে সেই ব্যক্তির সাথে শাহাদের আর যোগাযোগ থাকবেনা। আমার বোন হয়ে আমার চরিত্রে দাগ লাগাস। তুই তো মা,বোন,স্ত্রী নামের কলঙ্ক। এই কলঙ্ক নিয়ে মরেও শান্তি পাবি! কি জবাব দিবি আল্লাহকে!!
কথা বলতে বলতে ও শাহাদ অনবরত বেল্ট দিয়ে মারছে। ফরসা শরীরটাতে রক্ত,কালশিটে পড়ে যাচ্ছে। বেল্ট ছিড়ে গিয়েছে শাহাদের। দিয়া দেখতে পেলো শাহাদ হাঁপিয়ে উঠেছে। শরীর ঘামে ভিজে উঠেছে। সামনের উন্মুক্ত বোতামে দেখা যাচ্ছে বুক,গলা বেয়ে তর তর করে ঘাম ঝরছে। শাহাদের শরীরের জন্য এত চাপ মারাত্মক ক্ষতিকর। শাহীন দুবার ধরতে এসে মা*র খেয়েছে। দিয়া বুঝতে পেরেছে শাহীনের মত ধরে লাভ হবে না।লোকটা ক্ষ্যাপা সিংহের মত ব্যবহার করছে। সরাসরি সামনে দিয়ে এসে দিয়া ঝাপটে ধরে।দিয়াকে হাত দিয়ে সরাতে গেলেই দিয়ার গায়েও বাড়ি লাগে। কেঁপে উঠে দিয়া। হুঁশ পেয়ে শাহাদ এক হাতে বুকে আগলে নেয় দিয়াকে। মেয়েটা ঢোক গিলে চোখ মুখ খিচে সহ্য করে নেয় সবটুকু ব্যাথা। একটা আঘাতে দিয়ার শরীর, অন্তরাত্মা কেঁপে উঠেছে। শেফালী হজম করছে কি করে! হাতের বেল্টা ফেলে দিয়ে শাহাদ এক পাশে দিয়াকে, অন্যপাশে শাহীনকে বুকে আগলে নেয়। শাহীনের দু চোখে আজ অশ্রু। দিয়ার চোখের পানিতে শাহাদের শার্ট ভিজে যাচ্ছে। শাহাদ পাথরের মত অনড়। শেফালীর দিকে তাকিয়ে আছে। চুপচাপ গুটি মেরে ফ্লোরে শুয়ে আছে। রায়হান সাহেবের দিকে তাকিয়ে দেখে মাথা নিচু করে বসে আছে। নিরবে চোখের পানি ফেলছে। সুলতানা কবিরের দুহাতে মুখ ঢাকা। সহধর্মিণী স্ত্রী এবং ভাইকে শক্ত করে চেপে ধরলো বুকের সাথে। ওষ্ঠ চেপে নিজেকে সংযত করতে চাইলো,ব্যর্থ হলো।নিশব্দ অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে নেত্রে বেয়ে। ধরনীর সমস্ত মন খারাপ আজ রায়হান সাহেবের বাড়িতে।শাহাদ হালকা কম্পিত গলায় দুজনকে বললো,
– স্যরি তোমাদের মা*রতে চাইনি।
প্রথমে ভাইয়ের মাথায় চুমু খেয়ে বললো,
– বেশি লেগেছে?
শাহীন মাথা তুলে দু পাশে মাথা নেড়ে বুঝায় লাগেনি। দিয়া এখনো মুখ লুকিয়ে শাহাদের বুকে। দিয়ার কপালে চুমু দিয়ে বলে,
– ভেতরে যাও, আমি আসছি।
দিয়া আরেকবার শেফালীর দিকে তাকালো। শেফালীকে ধরতে গেলেই তেঁতে উঠলো। সুলতানা কবির দিয়াকে আগলে ধরে রুমে পাঠালো।কেমন যেন বিমর্ষ হয়ে পড়েছেন মা রূপী নারী। দিয়া নিজের রুমে চলে আসলো সময় অপচয় না করে প্রচন্ড ভয় পেয়েছে শাহাদের এই রূপ দেখে। এই মানুষটা কতটা যন্ত্রণা সহ্য করেছিলো সেদিন,যেদিন তার চরিত্রে দাগ লাগলো। বোনের একেকটা কাজ পরিবারের মান সম্মান ধূলোয় মিশিয়েছে।
শাহাদ পুনরায় হুংকার ছেড়ে বললো,
– আজ থেকে সব ইলেকট্রনিক ডিভাইস, এসি,টেলিভিশন, ইন্টারনেট সংযোগ সহ যা যা আছে সব বন্ধ। থাকা,দুবেলা খাবার আর পানি পাবে। বাইরে যাওয়া বন্ধ। মেমোরি কার্ড তো আছে আমার কাছে। নিজের বোনের রঙ্গলীলা দেখেছি। বাইরের মানুষ ফোন দিয়ে যখন বলে আপনার বোনের পারফরম্যান্স দূর্দান্ত। শুনতে যে কি ভালো লেগেছে, মন চেয়েছে সেই মুহুর্তে মাটি ফাঁক হয়ে যাক আমি ঢুকে পড়ি। বিয়ে দিয়েছিলাম না, স্বামী রেখে বাইরে ছুঁক ছুঁক করতে গিয়েছিলিস কেনো! টাকা লাগলে বলতি, ও স্যরি তোর তো টাকা লাগবেনা, লাগবে বিলাসীতা আর কুঠি বাড়ি।হয়েছে কয়েকটা প/তি/তার সর্দারনি।আরেকটারে বানাচ্ছে এসিস্ট্যান্ট। তোর এসিস্ট্যান্ট এর নাম মনি তাই না।ওটাকে শেখাচ্ছিস How to do well performance? নেতার বউ হবি তাই না! এসবই শুনলাম আজ। তাই খালেদ পারভেজকে আমার সম্পর্কে সব তথ্য পাচার করেছিস। বিজনেস করবি তাই না! করাচ্ছি তোর বিজনেস আমি। বিজনেসের জন্য তোর কোন না*গরকে বিশ লাখ দিয়েছিস!
শেফালী ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে আছে ভাইয়ের দিকে। এত খবর কি করে জানে। পুনরায় হুংকার ছাড়লো শাহাদ,
– উত্তর দে বে*য়াদ*প।
কম্পিত গলায় জানালো,
– খা লেদ পারভেজ কে…
শাহাদ আরো জোরে লাথি মা*রলো বোনের কোমড়ে। ব্যাথায় চিৎকার দিয়ে উঠলো।
শাহাদ দাঁত কটমট করে বললো,
– একদম পি*ষে ফেলবো। শেষ সুযোগ দিলাম ভালো হয়ে যা। শাহীন…
– জ্বি ভাইজান।
– বুঝতে পারছিস তো কি করতে হবে!
– জ্বি ভাইজান।
শেফালীকে ওর রুমে ধরে রেখে আসলো শাহীন। লিভিং রুমে ফিরে আসতেই শাহাদ বললো,
– নওরিনকে ফোন দিয়ে বল, আগামীকাল আমাদের সাথে লাঞ্চ করতে। ওর যেহেতু অভিভাবক নেই সেক্ষেত্রে মেয়ে পক্ষের অভিভাবক আমি হব। আগে সবার সাথে পরিচয় করানো উচিত।
কৃতজ্ঞতায় শাহীনের মুখে হাসি ফুটলো। সুলতানা কবির শাহাদের কাছে আসতেই মাকে বুকে জড়িয়ে নিয়ে বললো,
– আম্মু গো, মাফ করে দিবেন। আমি চাইনি আপনার সন্তানকে আ/ঘাত করতে। শেফালী এতটাই…
সুলতানা কবির ছেলের মুখে হাত দিয়ে বললো,
– বাবু তুই মাকে মাফ করে দেয়। আমি ওকে সঠিকভাবে শিক্ষা দিতে পারিনি। নাহলে তুই পুতুলের মতো আগলে রাখা বোনের গায়ে হাত তুলতি না আমি জানি। যে শেফালীর পায়ে ছোট বেলার গোলাপের কাঁ/টা ফুটেছিলো বলে পুরো গোলাপ গাছ উপঁড়ে ফে*লেছিস,সেই ভাই আজ আধমরা করলি।ওমন ভাইয়ের মূল্য বুঝলোনা মেয়েটা।বেশ করেছিস। বুকটা জ্বলছে ওর জন্য। তবে ও শাস্তিযোগ্য। বুঝতে দেয় কত বড় অপরাধ করেছে।
তাহি আর শিফা ঘুরে ঘুরে অনেক শপিং করেছে আজ। শপিং শেষে রেস্টুরেন্টে বসতেই পাশের টেবিলে দেখতে পেলো আবির এবং লিমনকে। শিফা ছুটে এলো। লিমন এমন সারপ্রাইজ পেয়ে খুশি হয়ে গেলো।এ যেন মেঘ না চাইতে জল। তাহি বাধ্য হয়ে ওদের পাশে বসলো। লিমন তাহিকে দেখে এক রাশ হাসি দিয়ে বড় করে সুউচ্চ শব্দে সালাম দিলো। আবির,লিমন বাটারস্কচ খাচ্ছে। শাহীন ঘন্টা খানেক আগে ফোন দিয়ে বলেছিলো আবিরকে নিয়ে আসতে। বাসায় মিটিং হবে শাহাদের নির্দেশ ছোটরা যেনো না থাকে। তাহি চুপচাপ ওর অর্ডার দেয়া কোল্ড কফি খাচ্ছে। শিফাকে উদ্দেশ্য করে তাহিকে শুনিয়ে লিমন বললো,
– কেমন লাগে দেখতো শিফা, এখন আমার বাটারস্কচ খেতে মন চাইছেনা। কোল্ড কফি খেতে ইচ্ছে করছে।
– তো খাও৷
– এত গুলো তো খাবোনা। কত্ত বড় কাপে দেয় দেখছিস।
শিফা নিজের টা বাড়িয়ে দিলো লিমনের দিকে।বললো,
– অর্ধেক ঢেলে নিয়ে খাও৷ বেশি খেও না।
– আরেহ না না আমি তো একজন।তোর টাতে বেশি। ডাক্তার তাহি অর্ধেক খেয়েছে। তোরা দুজন মিলে তোর টা খা। আমি উনার টা নিচ্ছি।
কথা শেষ করেই লিমন অনুমতির অপেক্ষা না করে তাহির কাপটা নিয়ে ঠুস করে চুমুক দিয়ে দিলো৷ তাহি চমকে গিয়ে চক্ষু বহিরাগত হওয়ার অবস্থা। শিফা নাক কুচকে বলে,
– এই, আপু মুখে দিয়েছে ওটা খাচ্ছো কেন? এভাবে খায় কেউ,কারোটা কেড়ে নিয়ে?
– তোরটা খাইনা, তোরটা পারলে উনার ও পারবো। দুজনই আমার আপনজন।
– ও হ্যাঁ সেই হিসেবে আপু তো তোমার বড় বোন।আচ্ছা খাও।
লিমন নাক মুখ কুঁচকে বলে,
– বড় বোন কিরে!
তাহি তখন হেসে খোঁচা দিয়ে বলে উঠলো,
– খাও ছোট ভাইয়া পুরোটাই খাও। তুমি চাইলে আরেকটা অর্ডার দিতে পারি। বড় আপুকে তো সবসময় পাবে না। এখনই খাও না হয়৷
লিমন গজ গজ করতে করতে এক নিশ্বাসে পুরোটা খেয়ে আবিরের হাত ধরে উঠে বললো,
– এই দিন দিন নয় আরো দিন আছে, এই দিনেরে নিয়ে যাবো সেই দিনের কাছে।মনে রাইখেন।
– কিহ!
লিমন তাহির কানের একদম সন্নিকটে এসে ফিসফিস করে বললো,
– হ্যাঁ, সেদিন আপনি নিজের পাতলা গোলাপি অধরের দুমুক দেয়া এক কাপ মিষ্টি চা আমাকে অতি যত্নে আদরে মুড়িয়ে খাওয়াবেন। প্রমিজ। নাহলে আমার নাম ও লিমন নয়।
তাহি বিস্মিত হয়ে তাকিয়ে আছে। কি বলে গেলো এই ছেলে।ভারী বে*য়াদব, ব/জ্জাত।
হাতের অয়েন্টমেন্টটা নিয়ে দিয়ার পাশে দাঁড়ালো। মা*রার সময়টাতে বেল্ট লেগেছিলো দিয়ার কোমড়ে আর ঘাঁড়ে। ঘাঁড়ের চুল সরিয়ে অয়েন্টমেন্ট লাগাতেই কেঁপে উঠলো দিয়া। ছ্যাঁত ছ্যাঁত করে জ’লছে
আ/ঘাতপ্রাপ্ত স্থান। আঁচল সরিয়ে কোমড়ে লাগিয়ে দিলো। বড্ড ভয় পেয়েছে এই মেয়েটা। শাহাদ দিয়ার কোমড় পেঁচিয়ে বুকের সাথে মিশিয়ে নিলো।ঘাড়ে ক্ষতস্থানে আলতো করে ঠোঁট ছুঁইয়ে দিলো। হাঁটু গেড়ে বসে একই কাজ কোমড়েও করলো। বারান্দার গ্রিল চেপে ধরলো দিয়া। শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা। পূর্ব অবস্থানে এসে দিয়াকে পেঁচিয়ে নিজের সাথে জড়িয়ে ধরে বললো,
– স্যরি সোনা। আমি ঠিক ছিলাম না।
– সমস্যা নেই ইচ্ছে করে তো আ/ঘাত করেন নি।
– ফারাহ আকাশটাকে দেখো।তারা গুলো জ্বলজ্বল করছে। হয়তো অন্য কোনো সন্ধ্যারাতে এভাবে বারান্দায় দাঁড়িয়ে তুমি শাহাদকে খুঁজবে দূর আকাশে।তখন আমাদের দূরত্ব হবে হাজার বছরের।যদি উত্তম কাজ করি তবে দেখা হবে জান্নাতে।
বুকটা ধুকধুক করে কাঁপছে। শাহাদের কথার স্পষ্ট ইঙ্গিত। দিয়া মুহুর্ত অপচয় না করে শাহাদের বুকে আঁছড়ে পড়ে আর্তনাদ করে উঠে,
সায়রে গর্জন পর্ব ১৮
– আর বলবেন না এমন কথা,আমি থাকবো কি করে এই গম্ভীরমুখো,কাটখোট্টা, রসকষহীন,ক্ষীপ্ত মেজাজী মানুষটার বক্ষ ছাড়া। আমি পারবোনা শেহজার বাবা।কিছুতেই না।
শক্ত করে বুকে চেপে ধরে অর্ধাঙ্গিনীকে। গড়িয়ে পড়ে দু ফোঁটা অশ্রু৷ কখনো কি ভেবেছিলো যাকে বিয়ে করার জন্য পাগলামী করে কত সংখ্যক মেয়ের সাথে বিয়ে ভেঙেছে আজ তার সাথেই হয়তো সৃষ্টিকর্তার ইশারায় থাকা হবে না। একেই বলে অদৃষ্টের পরিহাস।
