Home সে খলনায়ক সে খলনায়ক পর্ব ৩২

সে খলনায়ক পর্ব ৩২

সে খলনায়ক পর্ব ৩২
ফারহানা সানিয়াত

মাথার উপর উত্তপ্ত সূর্যের তাপ ,হালকা মৃদু বাতাস, গাছগাছালি থেকে পাখির কিচিরমিচির শব্দ বেলা দুপুর হলেও ঝলমলে পরিবেশ মন ছুঁয়ে যাওয়ার মত। তবে প্রানপ্রিয়ার মন বিষন্ন সে ছাদে ভেজাকাপড় মেলে দিচ্ছে আর ভাবছে কাল ইভানের সাথে তার ব্যবহার। বন্ধুত্বের শুরু থেকে এ পর্যন্ত কখনো দুজন দুজনের সাথে তারা এমন ব্যবহার করেন নি কিন্তু কাল সে করেছে অবশ্যই ইভান এর জন্য ভীষন কষ্ট পেয়েছে।
প্রানপ্রিয়া মেলে দেওয়া ভেজা কাপড় ধরে হা করে শ্বাস ফেলে । তবে সে মানে ইভানকে যা বলেছে ভুল কিছু বলে নি। হ্যাঁ যদি ওই বাজে লোকটার সাথে দেখা না হতো তাহলে হয়তো ঠান্ডা মাথায় ইভানকে অন্যভাবে বোঝানোর চেষ্টা করতো। কিন্তু অপমান যে সহ্য করতে পারে নি তাকে প্রতি টা কথায় অপমান করা হয়েছিল।
প্রানপ্রিয়া কাপড় ছেড়ে আবারো কাপড় মেলা শুরু করে।রাগের মাথায় একটু বেশি ই বলে ফেলেছে ।কিন্তু কি করবে সমাজের মানুষদের কাছে এতটাই মূল্যহীন তারা যে আর নিচু হতে ইচ্ছে হয় না। সে জানে ইভান কখনোই তাকে সবার চোখে সম্মানের সাথে নিজের করতে পারবে না সারা জীবন একসাথে থাকা সে যেমনটা চায় সেটা ছিল অবাস্তব……

প্রানপ্রিয়ার হাত থেমে যায় মৃদু কম্পন তার হাতে,
তাহলে কি এমন টাই হওয়ার ছিল তাদের স্বাভাবিক বন্ধুত্বের সম্পর্কে ? আচ্ছা যদি সেদিন দূরত্ব বজায় রেখে ইভান বন্ধুত্বের সম্পর্ক রাখতে রাজি হতো তাহলে অবশ্যই একেবারে বন্ধুত্ব শেষ হওয়ার কথা উঠত না।
প্রানপ্রিয়া ঠোঁটে কামড়ে ধরে চোখে পানি তার জ্বলজ্বল করছে। সব গুলো ভেজা কাপড় মেলে ছাদের কিনারে গিয়ে দাঁড়ায়,,ঝলমলে রৌদ্র হালকা মৃদু বাতাস তার পুরো শরীরে ছুঁয়ে দিচ্ছে রেলিংয়ে হাত ভর দিয়ে চোখ বুজে নেয় সে বিষন্ন মনেও পরিবেশ টা অনুভব করার চেষ্টা করে ,,
হয়তো মাঝে মাঝে কিছু সম্পর্ক মাঝ পথে শেষ করাই দুজনের জন্য ভালো সেটা ভালোবাসা সম্পর্ক হোক বা বন্ধুত্ব । প্রানপ্রিয়া চোখ খুলে দীর্ঘশ্বাস ফেলে আকাশের দিকে তাকিয়ে,

স্যার খবর পেয়েছি। ডক্টর ইসরাফিল খানের ছেলের সাথে মিস প্রানপ্রিয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। আশেপাশের মানুষ তাদের একসাথে চলাফেরার জন্য মনবানানো কথা ছড়িয়ে। তবে ডক্টর ইসরাফিল খানের ছেলে মিস প্রানপ্রিয়াকে ভালোবাসেন এটা শুধু তার দিক থেকে মিস প্রান,,‌
বাকি কথা বলার আগে দামিয়ান হাত উচু করে থামিয়ে দেয়,
__ কুকুর ছানাদের প্রেমের করুন পরিণতি দেখে বিনোদন নিব ভেবেছিলাম এখন একতরফা, ভালোবাসা! ফিচেল হাসে সে ।
নিলয় দৃষ্টি নত করে।
হাত ঘড়ি খুলে টেবিলের উপরে রেখে বিছানায় কাছে গিয়ে দাঁড়ায় দামিয়ান।
আমার কার জন্য দুঃখ প্রকাশ করা উচিত নিলয়?
দামিয়ানের প্রশ্ন নিলয় দৃষ্টি তুলে তাকায় তাকে প্রশ্নের উত্তর অবশ্যই দিতে হবে তাই বলে ওঠে,
__ স্যার ডক্টর ইসরাফিল খানের ছেলে,
দামিয়ান শার্টের হাতার বোতাম খুলতে খুলতে জিজ্ঞেস করে,
__ কেনো? তার শীতল কন্ঠ,
নিলয় কিছুটা নড়েচড়ে দাঁড়ায়, কারন তার অনুভূতি প্রকাশ করার পরও কোনো লাভ হয়নি মিস প্রাণপ্রিয়া তাকে বন্ধুর চোখে দেখেন।
দামিয়ান হাত থামিয়ে নিলয়ের দিকে তাকায়,
নিলয় পুনরায় দৃষ্টি নত করে,

__ ভুল উত্তর কি ইচ্ছে করে দিলে?
নিলয় হাঁসফাঁস করে জিভ দিয়ে ঠোট ভেজায়,
__ না স্যার আমি যতটুকু বুঝেছি উত্তর হিসেবে তা বলেছি,
দামিয়ান ঠোঁট বাঁকিয়ে হেসে জানালা দিয়ে বাহিরের দিকে তাকায়,
দুঃখ প্রকাশ তার জন্য করা উচিত যে অজান্তে নিজেকে তার জন্য রেখে দিলো। তার একটা সুযোগ ছিল ডক্টর ছেলে অনুভূতি বুঝে নিজেকে আমার থেকে বাঁচানো কারন সে জানে না ধীরে ধীরে তার জীবনে কি হতে চলছে।
অবশ্য নিজেকে বাঁচিয়েও লাভ হতো না তাকে তার জন্যই থাকতে হতো। তাকে যে ফল ভোগ করতে হবে ক্ষণে ক্ষণে দামিয়ান আবরার কে কাবু করার জন্য, তার নেশায় ডুবানোর জন্য। হাসি চাওড়া করে দামিয়ান
এটা সঠিক উত্তর তাই না ?
নিলয় ঢোক গিলে দৃষ্টি নত রেখেই হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়ায়, জী,,জ স্যার।
দামিয়ান কিঞ্চিৎ শব্দ করে হেসে শার্টের হাতার বাকি গুলো খুলতে খুলতে বলে,,

__ মালিকের ভুল হলেও সেটা কে সঠিক হিসেবে নেওয়া বিশ্বস্থের প্রমাণ তোমার উপর আমি খুশি।
__ কি নিয়ে কথা হচ্ছে? আকম্মিক সারার কন্ঠ।
দামিয়ান ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায় তার মুখের থেকে হাসি সরে গেছে।
সারা হাসি মুখে ঘরে প্রবেশ করে দামিয়ানের কাছে গিয়ে দাঁড়ায়। নিলয় যাওয়ার অনুমতি নিয়ে নিঃশব্দ চলে যায়।
দামিয়ান ফের তার শার্টের বোতাম খোলা শুরু করে এবার তার বুকের দিকে তবে সারা তাকে থামিয়ে নিজে একটা একটা করে খোলা শুরু করে। দামিয়ানের দৃষ্টি সুরু হয়। সারার ঠোঁটের কোণে হাসি তার স্পর্শ অঙ্গভঙ্গি উত্তেজনামূলক।
__ what are you doing?
__ just nothing, সারার নেশা ভরা কন্ঠ দৃষ্টি উন্মুক্ত লোমহীন বুকে।
__ আমি অনুমতি দেয়নি।
সারা মৃদু শব্দ করে হাসে,
__ তুমি এমনটা চাও,
__ কিন্তু তোমার থেকে না, দামিয়ানের স্বাভাবিক কন্ঠ ।
সারার হাত থামে যায় কপাল কুঁচকে দামিয়ানের দিকে তাকায়,
__ মানে!!!

খান বাড়ির বসার ঘরে ডক্টর ইসরাফিল আর কল্পনার মুখমুখি বসে আছে ইভান। কিছুক্ষণ যাবৎ ধরে তিনজনের মাঝে নীরবতা বিরাজমান।
তবে কল্পনা নীরবতা ভাঙেন।
__ আমরা বলা শুরু করব নাকি তুমি ?
মমের কন্ঠে ইভান চোখ তুলে তাকায়, পাশে ইসরাফিল পায়ের উপর পা তুলে গম্ভীর মুখে বসা দৃষ্টি ছেলের দিকে,
ইভান জোরে নিশ্বাস নিয়ে মাথা নত করে,
__ তোমরা বলো এরপর বলছি,
প্রানপ্রিয়াকে নিয়ে আজ সরাসরি কথা বলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সে। আর এদিকে কল্পনা ইসরাফিল ও তার সাথে কথা বলবেন । কল্পনা আড়চোখে এক নজর স্বামীকে দেখে হালকা ঠোঁটে হাসি টানেন,
__ তোমার জন্য সুখবর, খুব শীঘ্রই দেশ পাড়ি দিয়ে রাশিয়াতে যাচ্ছ তুমি। সবকিছুর ব্যবস্থা কাল থেকে শুরু হবে সেখানে পড়াশোনা জব সবকিছু তোমার জন্য রেডি।
ইভান বিস্মিত দৃষ্টিতে তার মমেরে দিকে দৃষ্টি ফেলে,

__ what!!
কল্পনা ঠোঁটের হাসি প্রসারিত করেন,,
__ হ্যাঁ আশা করি তুমি এই সুযোগ হাতছাড়া করবে না। মিস্টার আবরার আর দামিয়ান পারিবারিকভাবে কাছের মনে করে তোমাকে এই সুযোগ দিয়েছে। আর আমরাও চাই তুমি,,,
__ কি চাও তোমরা ?ইভানের রুক্ষ কণ্ঠ
কল্পনা থেমে যায়।
আমাকে একবারো জিজ্ঞেস করেছ আমি যেতে চাই কিনা। তোমরা তো সবকিছুতে আমাকে জিজ্ঞেস করো তাহলে আমাকে না জানিয়ে কেনো আমার ব্যাপারে এত বড় সিদ্ধান্ত নিলে।
__ কারন বাধ্য করেছো তুমি, কল্পনার শান্ত কন্ঠ ।
ইভান কপাল গুটায়,
__ বাধ্য করেছি মানে!
__ হুম বাধ্য করেছো নাহলে এত দ্রুত র কিছু ছিল না।
__ কি বলতে চাইছো তুমি ?
কল্পনার দৃষ্টি এবার তীক্ষ্ণ হয়,,

__ কেনো জানো না কি বলতে চেয়েছি নাকি ভেবেছিলে আমরা সব সময় চুপ থাকব।
ইভান তার মমের এরূপকথায় খানিকক্ষণ তাকিয়ে থাকে অতঃপর বড় একটা নিশ্বাস ফেলে,,
__ ক্লিয়ার করে বলো মম,
__ কি ক্লিয়ার করে বলব রাস্তার মেয়ের সাথে তোমার প্রেমের সম্পর্ক সেটা।
__ মম!
__ মম বলবে না তুমি আমাদের মান-সম্মান ধুলোয় মিশিয়ে দিচ্ছ। কিছু বলছিলাম না বলে কি ভেবে নিয়েছিলে আমরা সব সময় চুপ থাকব।
ইভান বসা থেকে উঠে দাঁড়ায়,, এর মানে তোমরা কি প্রিয়া থেকে দূরে সরানোর জন্য আমাকে রাশিয়া পাঠাচ্ছো?
__ ওই মেয়ে এতটাও ইম্পর্টেন্ট কেউ না।
__ তাহলে ঠিক আছে আমি যেতে চাই না রাশিয়াতে তাদেরকে না বলে দেও।
ইভান চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়ায়।

__ তো কি চাও ওই মেয়েকে বিয়ে করে ঘরে নিয়ে আসতে,
ইভান থেমে অবাক চোখে তার মমের দিকে তাকায়,
তোমার কি মনে হয় আমি জানিনা তুমি কি নিয়ে কথা বলতে চেয়েছিলে।
পাশ থেকে ইসরাফিল বলেন,
__ আমি তোমার থেকে এসব আশা করি নি ইভান আজকাল আমার মাথা নত করে হাঁটতে হয়।
ইভান হাত মুষ্টিবদ্ধ করে,,
__ আমিও ভাবতে পারিনি আমার মা বাবা সমাজের বাকি সবার মতো,
কল্পনা তেতে উঠে,,
__ বেয়াদব ছেলে ওই রাস্তার মেয়ের সাথে চলাফেরার জন্য ম্যানার্স ভুলে গেছো কার সাথে কিভাবে কথা বলতে হয়।
__ মম তুমি বারবার কেনো প্রিয়াকে টানছো,
__ কারন সে এসেছে,
__ আমি ভালোবাসি তাকে তুমি এভাবে বলতে পারো না।
কল্পনা রেগে বসা থেকে উঠে সজোরে চর মেরে বসে ইভানের গালে।
__ আর কখনো যদি মুখ দিয়ে ওই মেয়ের জন্য ভালোবাসার কথা উঠে আমাকে মম বলা বাদ দিয়ে দেবে।
ইভান চোয়াল শক্ত করে বলে,
__ আমি বিয়ে করবো তাকে তোমরা কেউ মানো আর না মানো।
__ তাহলে কি আমার থেকে ওই মেয়ে তোমার কাছে বেশি ইম্পরট্যান্ট এটা বলতে চাইছো,
ভাঙ্গা কন্ঠে কল্পনার। মম বলতে নিষেধ করার পরও ছেলের একগুঁয়ে কথা তার বুকের ভেতর কষ্ট দিচ্ছে।

__ আমি শুধু তাকে চাই।
বলেই ইভান গটগট পায়ে হেঁটে চলে যেতে নেয় কিন্তু হঠাৎ পেছন থেকে কল্পনার ছটফট কন্ঠ শুনে থেমে দাঁড়ায়।
ইসরাফিল ছেলেকে অস্থির কন্ঠে ডাকা শুরু করেন।
ইভান প্রতিক্রিয়া ছাড়া পিছে ঘুরতেই দেখে
কল্পনা বুকে হাত দিয়ে ফ্লোরে বসে পড়েছেন। ইসরাফিল তাকে ধরে আছেন।
মুহূর্তে ইভানের মস্তিষ্ক শূন্য কল্পনার পুরো শরীর নীল হয়ে যাচ্ছে নিশ্বাস নিতে পারছে না।
__ ইভান দ্রুত গাড়ি বের কর দ্রুত।

স্কুলের গেট দিয়ে বের হতে ই নিয়ম করে প্রতিদিন যে নাছোড়বান্দা ছেলেটি দেখা যেত আজ দুদিন ধরে প্রাণপ্রিয়া তাকে দেখেনা। প্রাণপ্রিয়া হোটেলের দিকে দৃষ্টি রেখে হা করে শ্বাস ফেলে এরপর ধীরগতিতে আশ্রমের পথে হাঁটা শুরু করে।
বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়া বেশ কঠিন মেনে নিতে না চাইলেও প্রতিটা মানুষকে মেনে নিতে হয় এটাই তো জীবন । সে মানে, নিজের অবস্থান বুঝে ,আঙ্কেলের কথামতো দিন দিন বড় হচ্ছে সে তাই তো দুজনের ভালো কিসে বুঝেছে এখন অবশ্যই ইভান ও বুঝে গেছে,
মৃদু মলিন হাসে প্রাণপ্রিয়া তবে ভেতরে কষ্ট হচ্ছে কারণ সব বাস্তবতার মধ্যে সে তার বন্ধুকে হারিয়েছে ।
আচ্ছা তার জীবন থেকে যদি আস্তে আস্তে সব এভাবে হারিয়ে যায় তাহলে! প্রানপ্রিয়া ঠোঁট কামড়ে রাস্তার মাঝে দাঁড়িয়ে যায় নীরব রাস্তা দুপাশে গাছ দিয়ে ঘেরা। তার চোখ ছল ছল করছে কেনো যেনো ভয় হচ্ছে সব হারিয়ে যাবে। কেনো ভয় হচ্ছে? কেনো?
নিজে নিজেকে মনে মনে পাগলের মত প্রশ্ন করতে থাকে তবে হঠাৎ,

__ হেই তোমার কি মরা সব জেগেছে?
আকস্মিক কারো ধমকে চমকে উঠে প্রাণপ্রিয়া তার একদম সামনে কালো রঙের গাড়ি,
__ হেই এদিকে তাকাও কে তুমি? গাড়ি থেকে আহানাফ বের হয়ে প্রাণপ্রিয়া দিকে এগিয়ে আসতে আসতে জিজ্ঞেস করে।
প্রানপ্রিয়া দ্রুত দৃষ্টি এদিক ওদিক করে হাত দিয়ে চোখের পানি মুছে নেয়।
আহনাফ প্রাণপ্রিয়ার একদম কাছে দাঁড়িয়ে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে দেখে,
__ গাড়িতে থাকা অবস্থায় চিনতে ভুল হলেও সামনে থেকে ভুল হয় না মেয়েটি তাদের আশ্রমের।
__ কতবার হর্ন দিয়েছি রাস্তার মাঝে দাঁড়িয়ে আছো সুইসাইড করার ইচ্ছা নাকি।
প্রানপ্রিয়া ঢোক গেলেই জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজায়।
__ দুদঃখিত আমি অন্যমনস্ক ছিলাম।
আহানাফ কপালে ভাজ ফেলে কোমড়ে হাত দিয়ে বলে,
__ সিরিয়াসলি! অন্যমনস্ক ছিলে! এখন যদি এক্সিডেন্ট হয়ে যেত আর রাস্তার মধ্য দিয়ে কে হাঁটে অবশ্যই তুমি ইচ্ছে করে এক্সিডেন্ট হতে চাইছিল ।
প্রাণপ্রিয়া দ্রুত মাথা নাড়ায়, না এমন কিছু না।

__ তাহলে কি?
প্রাণপ্রিয়া নাক টানে, আমি সত্যি বুঝতে পারিনি
আমি অনেক দুঃখিত বলে সে দৌড়ে চলে যায়।
আহানাফ বিরক্তির শ্বাস ফেলে ঘুরে প্রাণপ্রিয়ার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে গাড়ির কাছে গিয়ে বলে,
__ আমার দেখা সবচেয়ে অদ্ভুত এই মেয়ে।
সে গাড়িতে উঠে বসে,,
ড্রাইভিং সিটে বসা দামিয়ান ঠোটে বাঁকা হাসে প্রাণপ্রিয়া তাকে খেয়াল করেনি,

__ ডক্টরের ছেলে ‌চলে যাওয়ার দুঃখ। তার ব্যঙ্গাত্তক কন্ঠ।
আহানাফ তার ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে কিছুটা হেসে বলে,,
__ তুমিও এদের খবর রাখো নাকি।দামিয়ান গাড়ি স্টার্ট দেয়,
__ রাখতেই হবে। সবকিছুর কারণ তো আমি। তার শীতল কন্ঠ।
আহানাফ হাসির মাঝে কপাল কুচকে ফেলে তবে আবারও কিছুটা শব্দ করে হেসে বলে ওঠে।
__ ওহ হ্যাঁ কারণ তো তুমি হবেই বেচারাদের আবেগপূর্ণ প্রেমের মাঝে একজনকে সরিয়ে দেওয়ার পথ তৈরি করলে যে তুমি।

ছেলেকে এভাবে ইমোশনাল ভাবে ব্ল্যাকমেইল করা বন্ধ করো কল্পনা। দুদিন ধরে ছেলে তোমার অসুস্থতার জন্য না খেয়ে আছে আর এদিকে তুমি বসে জুস খাচ্ছো।
বিছানায় আধশোয়া হয়ে বসা কল্পনা জুসের গ্লাস পাশের টেবিলে রাখেন।
ইসরাফিল হতাশার দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে আছে।
সেদিন বুক ব্যথা ওঠার অভিনয় করে হসপিটালে এডমিট হয়েছিল ইসরাফিল ডক্টর তার নিজের হাসপাতাল তাই তার অভিনয় ধরার মতো ছিল না।
__ নিজের ছেলের ভালো চাও তো আমার সাথে অভিনয় করো এভাবেই তাকে ওই মেয়ের মোহ থেকে বের করা যাবে।
ইসরাফিল মাথা নাড়িয়ে চোখের চশমা হাত দিয়ে ঠিক করেন।
__ ভালো চাই বলেই তোমার সঙ্গ দিচ্ছি কিন্তু এখন ছেলের মুখ দেখে আমার ভালো লাগছে না। সে‌ অপরাধবোধ করছে তোমার এই অবস্থার জন্য নিজেকে দাই মনে করছে ।তাই এসব থামাও,
স্বামীর কথায় কল্পনা মুহূর্তে রেগে ওঠেন,,
__ বাজে কথা কম বলো এত কাহিনী থামার জন্য করিনি।
দুজনের কথোপকথনের মাঝে দরজায় দুবার নক করে ঘরে প্রবেশ করে ইভান , দুদিনে তার চোখ মুখ শুকিয়ে গেছে মায়ের প্রতি ভালোবাসা সব কিছুর আগে সে ভুল করেছে অবশ্যই মাকে ইম্পরট্যান্ট দিয়ে তার বুঝিয়ে বলা উচিত ছিল।

__ কিছু বলবে? ইসরাফিল ছেলেকে জিজ্ঞেস করেন।
ইভানের দৃষ্টি তার মায়ের দিকে, কল্পনা বুকে হাত গুঁজে অন্যদিকে ঘুরে তাকায়।
__ মম! তার মলিন কন্ঠ,
আই এম রিয়েলি সরি
__ তুমি কি এবার আমাকে মারতে চাইছো,
কল্পনা ছলছল চোখে ইভানের দিকে ঘুরে তাকায়,,
ইভানের উচ্চকণ্ঠ
__ মম!
তাহলে দয়া করে আমার চোখের সামনে থেকে যাও।
__ প্লিজ মম এভাবে বলো না।
কেনো বলব না ডক্টর তো বলেছে আমার হার্টের সমস্যা আছে তোমার জন্য ‌ হার্ট অ্যাটাক করা কি স্বাভাবিক নয়।
ইসরাফিল স্ত্রীর দিকে ক্ষুব্ধ দৃষ্টিতে তাকায়, কল্পনা মুখ ঘুরিয়ে নেয়।
ইভান বড় বড় নিঃশ্বাস ফেলে হাত মুষ্টিবদ্ধ করে কখনো কি সে ভেবেছে এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে যেখানে একদিকে তার মম অন্যদিকে তার ভালোবাসা।
ইভান ঢোক গিলে কিছুক্ষণ তার মমের দিকে তাকিয়ে থাকে তার চোখ লাল হয়ে গেছে,

সে খলনায়ক পর্ব ৩১

__ দাঁড়িয়ে আছো কেনো, যাও, সামনে এসো না যা খুশি করো। শুধু একটা কথা মনে রাখবে আমি মরার পর ,,
বাকি কথা বলার আগে ইভান বলে ওঠে,
__ তুমি যা চাও তাই হবে।

সে খলনায়ক পর্ব ৩৩