সে খলনায়ক পর্ব ৪৫ (২)
ফারহানা সানিয়াত
আধঘন্টা পর,
ফার্ম হাউসের গেটের সামনে গাড়ি থামতেই প্রাণপ্রিয়া যেভাবে কোনো কথা ছাড়া গাড়িতে উঠেছিল। ঠিক সেভাবে গাড়ি থেকে নেমে সোজা ফার্ম হাউজের সদর দরজার দিকে হাঁটা। চারপাশে ইতিমধ্যে অন্ধকার নেমে পড়ছে আশেপাশে সবুজে ঘেরা ফার্ম হাউসে কৃত্রিম আলোর ছড়াছড়ি। প্রানপ্রিয়া ধীরগতিতে হেঁটে সদর দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে থাকে। তাকে দেখে মনে হচ্ছে সে কারো রোবট, যা তার মধ্যে সেট করে দেওয়া হয়েছে সেটাই করছে। মুখে কোন রকম প্রতিক্রিয়া নেই শুধু মাঝে মাঝে গভীর শ্বাস ফেলছে।
দোতলার উপর উঠে তার চেনা ঘরটাতে প্রবেশ করে বিছানার কাছে গিয়ে দাঁড়ায়। আশেপাশের দেখারও প্রয়োজন ও বোধ করে না। কাঁধ থেকে ব্যাগ নামিয়ে এক এক করে শরীরের জামা কাপড় খুলতে থাকে।
ঘরে কারো আসার উপস্থিতিতে টের পেয়ে দামিয়ান বারান্দা থেকে ভেতর চলে আসে। তবে এসেই প্রাণপ্রিয়াকে সবকিছু খুলতে দেখে হেসে বলে ওঠে।
__ আহ সত্যি তোমার জন্য আমার কষ্ট হয়। না চাইতেও কত কিছু করতে হচ্ছে, ঠিক যেমনটা আমি চাই।
প্রানপ্রিয়া কিছু বলে না। তার শীতের সোয়েটার খোলা শেষ হলে পিছে হাত দিয়ে জামা চেইন খুলে।
দামিয়ান বুকে হাত গুঁজে দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়ায়। তার পরনে শুধু নেভি ব্লু কালার ফরমাল প্যান্ট গায়ে কোনো শার্ট নেই।
দামিয়ান তার একদম কাছে এসে ধীর কন্ঠে বলে,,
__ আজ মুড নেই কিছু করার। তবে ভালো করেছ জামা খুলেছ এমনিও খুলতে হত।
প্রানপ্রিয়ার হাত থেমে যায়।
__ তোমার পাশে দেখো ড্রেস রাখা আছে। দ্রুত পড়ে রেডি হ ও বের হব আমরা।
এবার প্রাণপ্রিয়ার মুখে প্রতিক্রিয়া দেখা মেলে। সে কপালে ভাঁজ ফেলে তার পাশে দেখে, মখমল কাপড়ের কালো কালার একটা ড্রেস রাখা। দামিয়ান তার সামনে থেকে সরে কাবার্ডের দিকে গিয়ে পড়ার জন্য শার্ট চয়েস করতে থাকে।
প্রাণপ্রিয়া ড্রেসটা হাতে নেয়। দামি মনে হচ্ছে বেশ
এক সময় তার শখ হত এমন দামি দামি ড্রেস পরার। কিন্তু এখন,,,, তাচ্ছিল্য হাসে নিজের উপর এরপর বসা অবস্থায় ড্রেসটা পড়ে উঠে দাঁড়ায়। শরীরের একদম সাথে আটশাট হয়ে থাকার মত ড্রেস। অনেকটা অসস্থি লাগছে লং গাউন কেউ এমন শরীরের লেগে থাকার মত পড়ে। প্রাণপ্রিয়া বিরক্ত হয়, যেমন ড্রেস তেমন কিনে দেওয়ার মালিক।একা একা বিড়বিড় করে ড্রেসিং টেবিলের কাছে গিয়ে বসে বেনি করা চুল ব্যান্ডেজ হাতে ধীরে ধীরে খুলতে থাকে।
দামিয়ান সাদা রঙের একটা শার্ট পড়ে বোতাম লাগাতে লাগাতে প্রাণপ্রিয়ার পিছনে এসে দাঁড়ায়।
প্রানপ্রিয়ার দৃষ্টি আয়নাতে হলেও এক নজরের জন্য দামিয়ানের দিকে তাকাচ্ছে না । দামিয়ান শার্টের বোতাম লাগানো শেষ করে পকেট থেকে ফোন বের করে কাউকে ফোন দিয়ে সবকিছু ঠিকঠাক আছে কিনা জিজ্ঞেস করে।
ওপাশ থেকে কি বলা হচ্ছে শোনা যাচ্ছে না। দামিয়ান কানে ফোন ধরে আয়নাতে প্রানপ্রিয়াকে সরু চোখে দেখছে আর কথা বলছে।
চুলের বেনি খোলা শেষ হলে প্রানপ্রিয়া ড্রেসিং টেবিলের দিকে চেয়ে আছে। কি করবে বুঝতে পারছে না। কিভাবে রেডি হবে তার কোন ধারণা নেই। সে সব সময় খুব সাধারণভাবে থাকার চেষ্টা করে। তার মধ্যে দামিয়ান তার দিকে চেয়ে আছে বিরক্তি অস্বস্তি সবকিছু জেঁকে ধরেছে।
দামিয়ান ফোনে কথা বলতে বলতে কয়েক কদম এগিয়ে ঘুরে ড্রেসিং টেবিলের সাথে হেলান দিয়ে প্রানপ্রিয়ার গাল চেপে ধরে তার দিকে তাকাতে বাধ্য করে।
প্রানপ্রিয়া চোখ মুখ শক্ত করে নেয়, দুহাত দিয়ে পড়নের জামা শক্ত করে খিচে ধরে।
দামিয়ান ঘাড় হালকা কাত ঠোঁটের কোণে হাসি নিয়ে
কথা বলছে এবং প্রানপ্রিয়া গাল, ঠোঁট, গলা স্পর্শ করছে। এতে প্রানপ্রিয়ার শরীরের শিহরণ বয়ে চোখ বন্ধ হয়ে আসছে না চাইতেও ঘনঘন নিঃশ্বাস ভারী হচ্ছে।
দামিয়ান কান থেকে ফোন সরিয়ে আচমকা প্রাণপ্রিয়ার ঠোঁট তার ঠোট দিয়ে আঁকড়ে ধরে বেশ সময় নিয়ে তাকে গভীর চুম্বন করে। অতঃপর ধীরে ধীরে তার কাছ থেকে সরে যায়। প্রানপ্রিয়া ও ঘনঘন নিঃশ্বাস ফেলের সাথে চোখ খুলে এদিক ওদিক তাকায়। পালিয়ে যেতে ইচ্ছা করছে তার এখান থেকে চোখ দুটো ছল ছল করে উঠলেও নিজেকে নিয়ন্ত্রণ রাখে।
দামিয়ান তার মুখের সামনে এসে থাকা ছোট ছোট চুলগুলো কানের পিছে গুঁজে দিয়ে বলে।
__ আজ আমি কিছু করতে চাইছি না তবুও আমি কন্ট্রোল হারাচ্ছি। তার নেশালো কন্ঠ,
প্রাণপ্রিয়ার মুখ ঘুরিয়ে নেয় তার সহ্য হচ্ছে না, একদম ই সহ্য হচ্ছে না।
দামিয়ান মৃদু হাসে। ঘাড় ঘুড়িয়ে ড্রেসিং টেবিলের উপর রাখা লাল টকটকে লিপস্টিক হাতে নিয়ে আবারো তাকে নিজের দিকে তাকাতে বাধ্য করে এবং দক্ষ হতে তার পাতলা নরম ঠোঁট রাঙিয়ে দিতে দিতে বলে।
__ তোমার কি মনে আছে আমি তোমার কথায় আমার পাখি খাঁচা থেকে ছেড়ে দিয়েছিলাম?
দামিয়ান তার ঠোঁট থেকে চোখ সরিয়ে তার চোখের দিকে তাকায়।
__ এর কারণ কি জানো? দামিয়ান হাসি চওড়া করে তার ঠোঁট রাঙিয়ে তার থেকে সরে হাতে চিরুনি নিয়ে তার চুল যত্নের সাথে চিরুনি করে দেয়।
আমি ভেবে নিয়েছিলাম এবার তোমাকে বন্দি করব তাই তোমার কোথায় ছেড়েছিলাম। আর দেখো তুমি এখন আমার কাছে বন্দী শুধু খাঁচায় ভরা বাকি ।
প্রানপ্রিয়া আয়নার দিকে চেয়ে তার নিষ্ঠুর বানী শুনে কত আনন্দের সাথে সে কথাগুলো বলছে ।
আচ্ছা এমন পুরুষকে কে কি বলা হয়?
সাইকো!!!
রাত গভীর হওয়ার সাথে সাথে বাহিরের ব্যস্ত নগরী আরো কতটা ব্যস্ত হয় তা দেখা যায়। অন্ধকার রাত চারপাশে অন্ধকার দিয়ে ঘিরে রাখলেও ব্যস্ত নগরী ঝলমলে আলো আলোকিত হয়ে থাকে। প্রাণপ্রিয়া আপাতত সেই আলোকিত ব্যস্ত নগরীর নামিদাম এক রেস্টুরেন্ট বসা। এমন পরিবেশে আগে কখনোই আসেনি প্রানপ্রিয়া । হালকা আলোয় চারপাশ অদ্ভুত সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে, সফট মিউজিক আর দেখার মতো চারপাশ ডেকোরেশন । তবে প্রাণপ্রিয়ার মনকে এই সৌন্দর্য কি একটু হলেও স্বস্তির দিচ্ছে? প্রানপ্রিয়া মাথা নত অবস্থায় হা করে শ্বাস ফেলে। তার সামনে সুস্বাদু খাবার রাখা কিন্তু খাওয়ার রুচি নেই আর খাবে ও না। তার বরাবর বসা দামিয়ান ছুরি দিয়ে বিফ স্টেক কাটতে কাটতে প্রাণপ্রিয়াকে এক নজর দেখে অতঃপর ভারী কন্ঠে শুধায়।
___ কম কথা বলার মানুষ পছন্দ কিন্তু একদম সাইলেন্ট হয়ে যাওয়া পছন্দ না। গাড়িতে ওঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত তোমার চুপচাপ আমাকে বিরক্ত করছে।
প্রানপ্রিয়া কপাল কুঁচকে হাত মুষ্টিবদ্ধ করে দাঁত চাপে।
__ কথা বলা চুপ, থাকা এটাও কি আপনি ঠিক করবেন।
__ অবশ্যই,
__ আপনার সাথে কথা বলতে আমার রুচিতে বাজে আপনার বোঝা উচিত।
দামিয়ান হাত থামিয়ে প্রানপ্রিয়ার দিকে শীতল দৃষ্টিতে তাকায়।
__ সাহসের সাথে সাথে বেয়াদবি করতেও একবার ভাবো না আজকাল । এর পরিণাম কি হতে পারে ধারনা আছে তোমার।
প্রানপ্রিয়া ঠোঁট কামড়ে চোখ তুলে তার দিকে তাকায়।
দামিয়ান বাঁকা হাসে।
__ ভেবেচিন্তে বেয়াদবি করবে লিটল বার্ড। নাহলে কখন কি হয়ে যায় বলা যায় না । আর অবশ্যই এর দায় আমি এবার নিব না।
প্রানপ্রিয়া চোখ মুখ শক্ত করে ফেলে। ঘৃণায় তার শরীর রিড়িরিড়ি করে ওঠে।
__ হ্যাঁ এই ব্ল্যাকমেইলটাই করতে পারবে ন। কিন্তু মিস্টার দামিয়ান আবরার উপরওয়ালা আছে আপনি আমার অসহায়ত্ব সুযোগ নিয়ে যা করছেন। মনে রাখবেন উপরওয়ালা ছাড় দেয় কিন্তু ছেড়ে দেয় না।
দামিয়ান কিছুটা শব্দ করে হেসে আবারো স্টেক কাঁটা শুরু করে।
প্রানপ্রিয়া অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে নেয়। সময় ও তার সাথে নির্দয়ের মতো আচরণ করছে। কেনো আশ্রমে ফেরার সময় হয় না। মনে মনে চিৎকার করে বলে,
দামিয়ান স্টেক কাটা শেষ করে প্রানপ্রিয়ার দিকে প্লেট দিয়ে বলে।
__ পরেরটা পরে দেখা যাবে উপরওয়ালা আমার সাথে কি করে । তবে একটা জিনিস খুব অদ্ভুত, আমি যাই বলি সবশেষে তোমার সাহস আর এখনকার বেয়াদবি দুটোতে ইমপ্রেস হতে বাধ্য হই । যেখানে এগুলো আমার অপছন্দের তালিকায় সবার উপর।
প্রানপ্রিয়া মুখ কালো করে ফেলে এসব কথা শুনার সে আগ্রহী না ।
দামিয়ান দিকে চেয়ে ঠোঁট কামড়ে মৃদু হাসে। যাইহোক, খাও তোমার খাওয়া প্রয়োজন খেলে শরীরে এনার্জি
পাবে। এরপর আমি তোমাকে খেতে পারব।
প্রানপ্রিয়ার চোখ বড় বড় করে তার দিকে তাকায় ।তার গাল মুহুর্তে লাল হয়ে লজ্জার শরীর জ্বলে উঠে।
দামিয়ান তার দিকে চেয়ে সফট ড্রিংসের গ্লাসে চুমুক দিয়ে ফের বলে।
প্রানপ্রিয়া তার দিক থেকে চোখ নামিয়ে নেয় কোনভাবে যদি এখানে সে এখন মিশে যেতে পারতো। বা পালিয়ে যেতে পারতো,,,
ঘন্টাখানেক রেস্টুরেন্টের সময় পার করে ফিরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে গাড়িতে উঠে বসে তারা। ড্রাইভিং সিটে নিলয়। তারপর আধঘন্টা রাস্তায় দুজনের মধ্যে কোনরকম কথা হয়না। পেছনে সিটে দুজন দু প্রান্তে বসে থাকে। আলোয় ঝলমলে ব্যস্ত নগরী থেকে ভেতরের দিকে চলে আসে গাড়ি। আশেপাশে অন্ধকার রাস্তায় অনেকটা দূরে দূরে সোডিয়াম লাইট জ্বালানো। নিলয় আবরার ম্যানশনে যাওয়ার রাস্তায় এবং আশ্রমের থেকে অনেকটা দূরে গাড়ি থামায়। গাড়ি থেমে যেতে ই প্রাণপ্রিয়া স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে দ্রুত গাড়ি থেকে নামার জন্য দরজা খুলতে নিবে আচমকা দামিয়ান তাকে টান দিয়ে তার কোলে ওপর বসায় ।
প্রানপ্রিয়া চমকে ভীত কণ্ঠে বলে।
__ কি,,ক করছেন ছাড়ুন আমাকে।
দামিয়ান কোমরে জড়িয়ে আরো শক্ত করে চেপে ধরে তাকে নিজের সাথে অতঃপর নিলয়কে লাইট অফ করে গাড়ি থেকে বের হয়ে যাওয়ার আদেশ দেয়। প্রানপ্রিয়া শরীর মুহূর্তে কেঁপে উঠে। নিলয় লাইট অফ করে চুপচাপ গাড়ি থেকে বের হয়ে দূরে চলে যায়।
গাড়ির ভেতর এবার অন্ধকারাচ্ছন্ন। বাহিরের অন্ধকার আর অন্ধকার করে রেখেছে। অনেকটা দূরে সোডিয়াম লাইট, এই পর্যন্ত আলো আশা মুশকিল।
প্রানপ্রিয়া তার কোলে বসা হাত দুটো গলা জড়িয়ে রেখেছে। অন্ধকার প্রাণপ্রিয়ার চোখ দুটো ছলছল করে ওঠে আবারো তাকে যন্ত্রণা সহ্য করতে হবে।
কিছুটা সময় এভাবে ই পার হয়। অতঃপর দামিয়ান তাকে ছেড়ে দেয়। প্রানপ্রিয়া দ্রুত কোল থেকে নেমে জামা ঠিক করতে করতে দূরে সরে যায়।
দামিয়ান হেসে ওঠে,,
__ আমি দু দিনের জন্য রাশিয়া যাচ্ছি। আমি চাইনা কোনো ভাবে তুমি আমাকে ভুলে থাকো। দুদিন শরীরের ক্ষতগুলো আমাকে মনে করিয়ে দিবে অনুভব করবে ।
তুমি বলেছিলে কিভাবে তুমি আমাকে অনুভব করো।
প্রাণপ্রিয়া ক্রোধ মিশ্রিত কন্ঠে কিছু গালি দিয়ে বসলো।
দামিয়ান এবার শব্দ হেসে উঠে,,
__ তোমার কি মনে হয় না গালি দেওয়ার শাস্তি হিসেবে যদি ধরি ২ ঘণ্টার আগে ছাড়বো না। তার কন্ঠে রুক্ষতা,
প্রানপ্রিয়া দ্রুত গাড়ি থেকে নেমে পড়ে। এলোমেলো পায়ে হাটা ধরে অন্ধকারে দ্রুত হাঁটার চেষ্টা করছে বেশ বোঝা যাচ্ছে। দামিয়ান তার যাওয়ার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে । কি যেন হচ্ছে আজকাল তার যা হওয়ার ছিল না, যা কখনো ভাবে ও নি।
প্রাণপ্রিয়া হাঁটতে হাঁটতে সোডিয়াম লাইট এর দিকে চলে গেছে তাকে এবার দেখা যাচ্ছে। দামিয়ান গভীর শ্বাস ফেলে। চলে যাওয়া মেয়েটি তাকে প্রথম থেকে এই পর্যন্ত একেক ভাবনার সাথে একেক অনুভূতির সাক্ষাৎ করাচ্ছে। তাকে পেয়ে আরো পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা তীব্রতা পরিণত হচ্ছে। ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসে দামিয়ান সুন্দর অসাধারণ মেয়েটি অপ্রয়োজনীয় থেকে কোন পর্যায়ে এসেছে তার জীবনে । তবে হ্যাঁ এখনো তাকে খুশির রাখার থেকে সে কাঁদাতে বেশি পছন্দ করে। অবশ্যই সবার চাওয়া পছন্দ এক হয় না। তার প্রতি যে অনুভূতি সে অনুভব করছে সেটা ভালোবাসা ও হতে পারে কিন্তু তার ভালোবাসার নরম অনুভূতি পছন্দ না। কখনো সে বাকিদের মতো তার সাথে হবে না হতে পারবে ও না। তার ব্যক্তিত্বের সাথে যায় না।
দামিয়ান প্রাণপ্রিয়া যাওয়ার দিক থেকে চোখ সরিয়ে ফেলে।
মেয়েটি তাকে ঘৃণা করে, তার থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য ছটফট করে । তার কাছে ভিক্ষা চায় তার স্পর্শ না পাওয়ার জন্য আর এটাই তার পছন্দ। তাকে সে সারা জীবন এভাবে বাধ্য করে নিজের সাথে রাখবে। মৃত্যু ছাড়া তার কাছ থেকে সে মুক্তি পাবে না। আর অবশ্যই ভালোবাসা এমন হওয়া উচিত।
নিলয় গাড়িতে উঠে বসে।
__ স্যার গাড়ি স্টার্ট করব?
দামিয়ান ভাবনার মাঝে বাঁকা হেসে গভীর নিশ্বাস ফেলে,
__ আগে এটা বলো, সব কাগজপত্র কালেক্ট করতে পেরেছ কিনা।
নিলয় মাথা নাড়ায়,
__ জি স্যার আমি কালেক্ট করে জমা ও দিয়ে দিয়েছি।
সে খলনায়ক পর্ব ৪৫
ম্যানশনের পিছনের দিকের করিডোর দিয়ে ধীর গতিতে হেঁটে চলছে সারা। পড়নে সাদা রঙের গোল জামা সাথে চাদর জড়িয়ে রেখেছে।, পিঠ পর্যন্ত খোলা চুলগুলো এলোমেলো, মুখে মলিনতা ভাব। তাকে দেখে মনে হচ্ছে খাওয়া-দাওয়া ঘুম সব কিছুই ছেড়ে দিয়েছে। তবে এটা কি আসলে ই।
সারা গভীর দীর্ঘশ্বাস ফেলে। হাঁটতে হাঁটতে হুমায়ুন আবরারের অফিস রুমে কাছে গিয়ে দরজায় হাত রাখে আর বিড়বিড় করে বলে,
__ কি হবে এবার প্রানপ্রিয়ার । মলিন মুখে এক মুহূর্তের জন্য বাঁকা হাসি দেখা মিলে,
