Home হাওয়াই মিঠাই হাওয়াই মিঠাই পর্ব ২৬

হাওয়াই মিঠাই পর্ব ২৬

হাওয়াই মিঠাই পর্ব ২৬
তামান্না ইসলাম শিমলা

ভোরের মৃদু আলো ছড়িয়ে পরেছে চারদিকে, পাখিদের কিচিরমিচির শব্দ। টিপটিপ করে চোখ খুলল তনয়া, নড়েচড়ে উঠতে নিলে বুঝতে পারে সে এখনো তেহরাবের বাহুডোরে আবদ্ধ। মাথা তুলে তেহরাবের ঘুমন্ত মুখের দিকে তাকায় তনয়া, লোকটা মারাত্মক সুদর্শন।
এতটা কাছ থেকে কখনো দেখা হয়নি লোকটাকে, নজরে পরে তেহরাবের নাকের ডগায় থাকা তিলটার উপর, সাথে গালের মাঝ বরাবর একটি তিল।মুচকি হেসে আঙুল ছুয়ে দেয় সেখানে, নিঃসন্দেহে বলা যায় তেহরাব তার থেকে হাজারগুন বেশি সুন্দর।.
হাত সড়িয়ে তাকাল দেয়ালে টানানো ঘড়ির দিকে, আটটা বাজে। এখন তবে উঠে পরা উচিত, নতুন বাড়ি, এত সময় ঘুমালে মানুষ কি বলবে? নড়েচড়ে নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করতেই ভেসে আসে তেহরাবের ভারী নেশালো কন্ঠস্বর।

“নড়ছিস কেন?”
তনয়া তেহরাবের মুখের দিকে তাকায়, লোকটার চোখ বন্ধ।
“আমি গোসল করে নিচে যাব, এত সময় ঘরে থাকলে মানুষ কি ভাববে?”
তেহরাব চোখ খুলে, চোখ ছোট ছোট করে বলে,
“গোসল করবি কেন? গোসল করার মতো আমি তো কিছু করিনি, মনে তো পরছে না। এই দাঁড়া, তুই তো আবার আমার ঘুমের সুযোগ নিয়ে আমার ইজ্জতে হাত দেস নি?”
তনয়ার চোয়াল ঝুলে পরে, লোকটা কত্ত বড় অসভ্য। চোখ মুখ কুঁচকে বলে,
“অসভ্য একটা, ছাড়ুন তো।”
তেহরাব ছাড়ে না, উল্টো তনয়াকে আরো কাছে নিয়ে আসে নিজের। তনয়াকে বালিশে ফেলে নিজে আধশোয়া হয়ে তনয়ার দিকে তাকায়,
“যদি না ছাড়ি? আমার তো এখনো ফুলসজ্জা বাকি, বাসী বাসর তো করায় যায়!”
তনয়ার বুক ধক করে উঠে, সত্যি সত্যি কি তেহরজব এখন… নাহ নাহ! ভয়ে মুখটা চুপসে যায় তনয়ার, শুকনো ঢোক গিলে মিনমিন করে বলে,

“আ আমাকে ছাড়ুন, আ আমি ফ্রেশ হবো!”
তেহরাব বাঁকা হাসল, তনয়ার গালে হাত রেখে স্লাইড করতে করতে বলে,
“জান, রাতটা তোকে দিয়েছি, দিনটা আমাকে দে।”
তনয়া চোখ বুজে, এসব কথা সে নিতে পারবে না। লোকটা ভারী ঠোঁটকাটা, তেহরাব তনয়ার এহেন অবস্থা দেখে ঠোঁট কামড়ে হাসে। তার এলোকেশীর সে আরেকটা নাম দিল, লজ্জাবতী!
তেহরাব তনয়ার গাল আলতো করে চেপে ধরল,
“জান চোখ খুল।”
তনয়া দুদিকে মাথা নাড়ায়, তেহরাব আরেকটু ঝুঁকে পরে। তার তপ্ত নিঃশ্বাস তনয়ার চোখ মুখে এসে পরছে, বাড়িয়ে দিচ্ছে হৃদস্পন্দন।

“দেখ না একটু, আমার চোখের দিকে তাকা।”
তনয়া বড় করে শ্বাস নিয়ে চোখ খুলে তাকাল, তেহরাব কপালে কপাল ঠেকালো৷ হাস্কি স্বরে বলল,
“সেদিনের পর থেকে তোর এই অধরজোড়া আমাকে আরো বেশি টানে, এত মিষ্টি কেন তুই?”
তনয়া জবাব দেয় না, কি জবাব দেবে? তেহরাব আলতো করে চুমু খায় তনয়ার অধরে, তনয়া আবারো চোখ বন্ধ করে নেয়। ঠোঁট জোড়া তিরতির করে কাঁপছে, যা তেহরাবকে আরো পাগল করে তুলছে। যতই হোক সে একজন ছেলে, আর সামনে থাকা মেয়েটি তার নামে বৈধতার দলিলকৃত সম্পত্তি, তার ভালোবাসা। নিজেকে সামলানো কি এতই সহজ?
তেহরাব অধর ডুবালো তনয়ার অধরে, হাত দুটো চেপে ধরল নিজের মুঠোতে। গাঢ় হতে লাগল অধরের মিলন, মিনিট পাঁচেক পারোলো। এবার তনয়ার কষ্ট হচ্ছে, শ্বাস নিতে পারছে না, হাত দুটো বন্দি তেহরাবের হাতে। ছটফট করতে লাগল তনয়া, এতে যেন তেহরাবের উন্মাদনা কমলো না বরং বাড়লো।
তনয়া না পোরে কামড়ে ধরল তেহরাবের ঠোঁট, সাথে সাথে ঠোঁট ফেটে রক্ত গড়িয়ে পরল। তেহরাব থামল, কপালে কপাল ঠেকিয়ে বড় বড় করে শ্বাস নিচ্ছে সে। তনয়াও নিল, আরেকটু হলে দম বন্ধ হয়ে সে বুঝি মারায় যেতো! তেহরাবের ভারীর গরম নিঃশ্বাস পুড়িয়ে দিচ্ছে তনয়াকে, তার গোটা শরীর কাঁপছে।

“ এত কাঁপছিস কেন? মারছি তোকে? এটুকুই সহ্য করতে পারছিস না, আমাকে কি করে সামলাবি?”
তনয়া আবারো চোখ খিঁচে বন্ধ করে নেয়, তেহরাব তাকে লজ্জায় ফেলছে। কখনো কাজে, কখনো কথায়! তেহরাব হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন ধারা নিজের ঠোঁট থেকে পরা রক্ত বিন্দু মুছে নিল,
“ আজ রাতে তোর ছাড় নেয়, যত যায় হোক না কেন। আমি আর নিজেকে দূরে রাখতে পরব না তোর থেকে, কোথায় পালাতে পারবি না!”
তেহরাবের কথা বলা শেষ হওয়ার সাথে সাথেই ঘরের দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ পরে,ভেসে আসে তেহরাবের নানি রঙমালার কন্ঠস্বর।

“ কিরে ছোকরা ছুকরি আর কত ঘুমাবি লো, লাজ লজ্জা নাই এহনকার যুগের পুলাপাইনের। বের হো শীঘ্রই!”
নানীর কন্ঠ পেয়ে তেহরাবর ভ্রু কুঁচকে বন্ধ দরজার দিকে তাকায়, বিড়বিড় করে বলে,
“এই বুড়ির না চলে যাওয়ার কথা? এ এখানে কি করছে? বিরক্তিকর, আল্লাহ!”
বিরক্তিতে ধপ করে তনয়ার পাশে শুয়ে পরল, তার নানী যেমন খিটখিটে। সব দিক দিয়ে খুঁত ধরা আর কথা শোনানো এনার কাজ, তার উপর রেডিওতো চলতেই থাকে।
“কিলো বেহায়া মাইয়া মানুষ? বাপ মায়ে কিচ্ছু শিখায় নায়? বাইর হো জলদি, নতুন বউ এত ঘুমায়?”
তনয়া চট করে বিছানা থেকে নেমে পরে, ওড়না ঠিক করে। তেহরাব বিরক্তি নিয়ে চেঁচিয়ে উঠে,
“এই চিল্লান ক্যান? সমস্যা কি আপনার ? আমার বউ দিন রাত সারাক্ষণ আমার কাছেই থাকবে, সকাল সকাল খ্যাচ খ্যাচ করতে আসছেন কেন?”

তেহরাবের ঝাঁঝালো কন্ঠ পেয়ে তেতে উঠে রঙমালা,
“আমার লগে চ্যাত দেহাও ছোকরা? পেত্তম দিনেও বউ বস কইরা ফালাইছে লো।”
তেহরাবের প্রচুর বিরক্ত লাগছে, সাথে রাগও লাগছে। এই মহিলাকে সে দেখতে পারে না, কিছু বলতেই যাবে তবে তার আগেই তনয়া তাকে আটঁকে দেয়।
“আরে এভাবে কথা বলছেন কেন? মুরব্বি মানুষ তো!”
তনয়া গিয়ে দরজা খুলে দেয়,তেহরাবের নানি দাঁড়িয়ে আছে দরজার সামনে। বয়স আশির ঘরে হলেও তার মাঝে সেই দাপটটা রয়েছে, প্রচুর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন মানুষ তিনি। এইজে সকাল সকাল স্নু পাউডার মেখে পরিপাটি হয়ে বাংলা কাপড় পরে দাঁড়িয়ে আছে।
রঙমালা তনয়ার পা থেকে মাথা পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করলেন তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে, অতঃপর নাক ছিটকালেন।

“ ছ্যাঃ ছ্যাঃ, লজ্জা করে নালো মাইয়া? গোসল না কইরা অপবিত্র হইয়া আবার দরজা খুলস?”
তনয়া মাথা নামিয়ে নেয়, কি বলবে এখন সে। এমন একটা অপ্রস্তুত পরিস্থিতিতে যে পরতে হবে এটা তো তার ধারনা ছিল না। সেতো অপবিত্র অবস্থায় নেয়, তাকে কি করে বোঝাবে যে তাদের মাঝে কাল কিছু হয় নি।
তেহরাব বিছানা থেকে নেমে দরজার সামনে আসে, চোখ মুখ কুঁচকে বিরক্তিকর মুখ করে বলে,
“আমার বউ গোসল করল নাকি করল না তা নিয়া আপনার এত মাথা বিষ কেন? আমার বউরে আমি গোসল করামু দেইখা এহোনো গোসল করে নায়, ক্যান আপনান হিংসা হয়?”
রঙমালা মুখ ভেংচায়,
“হিংসা হইব কোন মরনে?”
তেহরাব গম্ভীর মুখে বলে ,

“আপনান তো জামাই নায়, আমার বউয়ের তো আছে। হিংসা হইতেই পারে, যায়হোক আসতে পারেন, আমি আর আমার বউ এখন গোসলে যাব, বিরক্ত করবেন না।”
রঙমালা মুখ ভেঙায়, চোখ মুখ কুঁচকে বলে,
“ডং, লজ্জাশরমের মাথা খাইয়া আবার আমারে কয় আমি নিহি হিংসা করি। হুহ!”
তেহরাব কিছু বলে না, তনয়ার বাহু ধরে নিজের কাছে এনে মুখের সামনে দরজা আটকে দিয়ে বলে,
“আমার বউ আমার কাছেই থাকবে, আপনি যান দেখি। সকাল সকাল মুডটাই নষ্ট করে দিলো বাল!”
“ হুহ যামুই তো, আটটার আগে যেন তোর মাইয়া লোকরে নিচে পাই কইয়া দিলাম!”
বলেই রঙমালা সেখান থেকে চলে গেলের, যেতে যেতে অবশ্য আরো কিছু বিড়বিড় করলেন।
তনয়া থমথমে মুখ করে তেহরাবোর দিকে তাকায়,
“এসব কি ধরনের কথা বার্তা, নানির সাথে এমন কথা কেউ বলে?”
তেহরাব তনয়ার দিকে ঝুঁকে, বাঁকা হেসে বলে,
“ কেন কেন? তোরও বুঝি হিংসা হচ্ছে?

তাহলে আয় তোর সাথে বলি, পরে কিন্তু ছিঃ ছিঃ করতে পারবি না!”
তনয়া তেহরাবের বুকে হালকা ধাক্কা ব্যাগ থেকে একটি থ্রিপিস নিয়ে চলে যায় ওয়াশরুম, তেহরাব বিছানায় ধপ করে শুয়ে সিলিং এর দিকে তাকিয়ে বলে,
“ আমার এলোকেশী, শুধুই আমার, আমার, আমার, আমার!!”

মাথায় ঘোমটা দিয়ে নিচে নামে তনয়া, সোফায় আড়াম করে বসে আছে রাত্রি ঝর রঙমালা। দুজনে কীসব নিয়ে কথা বলছে, তনয়াকে নিচে আসতে দেখে রাত্রি কথা থামিয়ে মুখ ঘুরিয়ে বসে থাকে।
রঙমালা মুখে পান ভরে তনয়ার দিকে তাকিয়ে তাকে তার সামনে আসতে বলে, তনয়া আসে।
“কি আলের এক মাইয়া, কি দেইখা যে ওগো পছন্দ হইলো?! কোন দিক দিয়া তেহরাবের লগে যায়, কই রাজপুত্রুর আর কই… যাইক মাইয়া রান্ধা জানস তো?”
তনয়া মাথা নিচু করে কথাগুলো শুনলো, মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বলল। রাত্রি ফোন টিপতে টিপতে বলে,
“দাদি আমি ঘরে যাচ্ছি!”
রাত্রি উঠতে নিলে রঙমালা তার হাত ধরে ফেলে,
“ কই যাস, চুপ কইরা বস। আর এই মাইয়া, যা আমগো লিগা চা বিস্কুট নিয়া আস!”
তনয়া কিছু না বলে রান্নাঘরের দিকে পা বাড়ায়, এমন সময় পেছন থেকে ডাক পরে তার,
“ দাঁড়া, কই যাস?”
তেহরাবেন কন্ঠ পেয়ে সবাই তার দিকে তাকায়, তেহরাব সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তনয়ার দিকে। তনয়া আমতা আমতা করে বলে,

“ চা বানাতে, নানি খাবে বলল!”
তেহরাব তাকাল সোফায় পা তুলে বসে থাকা রঙমালা ও রাত্রির দিকে। তেহরাব নামতে নামতে রঙমালাকে উদ্দেশ্য করে বলে,
“বাড়িতে তো বুয়া আছে, তনয়া রান্না ঘরে যাবে না। তনয়া এখানে আয়!”
শেষ কথাটা তনয়ার দিকে তাকিয়ে বলে তেহরাব, রঙমালা মুখ বেজার করে বলে,
“রান্নাঘরে গেলে হাতে ফোসকা পরবো নিহি? বাড়ির বউ রান্নাবান্না কেমন করে দেখতে হইবো না?”
তেহরাব গম্ভীর মুখ করে রঙমালার দিকে তাকিয়ে বলে,
“ সেটা তোমাদের দেখাতে যাবে কেন? মেহমান হিসেবে এসেছো, চুপচাপ থেকে ঘুরে ফিরে বিদায় নাও।”
তেহরাবের কথা গুলোতে অপমানিত বোধ হলো রঙমালার, অবশ্য এটা নতুন নয়। তেহরাব সব সময় তার সাথে এমন ব্যবহারই করেছে,

“খালা, খালা!”
তেহরাবের আওয়াজ পেয়ে বুয়া ছুটে আসে, একটু আগেই কাজে এসেছে সে।
“ জি আব্বাজান বলো!”
“খালা চা বানিয়ে এই দুজনকে দাও তো।”
গম্ভীর মুখে কথাটা বলতেই বুয়া চলে যায় রান্নাঘরে, রঙমালা খেপে উঠে।
“ বউ তো না যেন শখের খেলনা, রান্নাঘরে গেলে পাপ হইব!”
তেহরাব শান্ত দৃষ্টিতে রঙমালার দিকে তাকায়,
“আই রিপিট, মেহমান, মেহমানের মতো থাকবেন। অন্যথা আমি ভুলে যাব আপনি আমার নানা ভাইয়ের দ্বিতীয় স্ত্রী!”
তেহরাব তনয়ার হাত ধরে উপরের দিকে পা বাড়ায়,
“কি এক মাইয়া তার লিগা আবার কত দরদ, এর থিকা আমার রাত্রি হাজার গুনে সুন্দর।”
তেহরাব পেছন ফিরল না, তনয়াকে টানতে টানতে নিয়ে যেতে যেতে বলে,
“আপনার রাত্রির থেকে হাজার গুন সুন্দর সুন্দর মেয়ে বাজারে বিক্রি হয়, রূপের বড়াই আমার কাছে করতে আসবেন না!”

তেহরাব তনয়াকে নিয়ে চলে আসে নুজের ঘরে,দরজা আটকে তনয়ার সামনে গিয়ে দাঁড়ায়, রাগে চোখ লাল হয়ে আসছে তেহরাবের।
“আমি ওয়াশরুমে যাওয়ার আগে বলেছিলাম না আমি বের না হওয়া পর্যন্ত তুই নিচে যাবি না, তারপরেও কোন সাহসে তুই নিচে গেলি?”
তনয়া ভয়ার্ত দৃষ্টিতে তেহরাবের দিকে তাকায়, সে বুঝতে পারছে না তেহরাবের রেগে যাওয়ার কারন।
আমতা আমতা করে বলে,
“ আ আমি তো শুধু..
“চুপ, একটক কথাও বলবি না। এই বুড়িকে আমি আজকেই বিদায় করব।”
তেহরাবের ধমক খেয়ে চুপ করে যায় তনয়া, চোখ ছলছল করছে তার। তেহরাব শুধু শুধু তাকে বকছে, সে কি এমন করল? আর নানির উপরেই বা কেন এতে রেগে আছে সে?

তনয়ার টলটল চোখ দেখে তেহরাব মাথা ঠান্ডা করে, তনয়ার কাছে গিয়ে আলতো করে জড়িয়ে ধরে।
“এরা ভালো মানুষ না তনয়া, এদের মুখে কিছু আটকায় না, যা ইচ্ছা বলে। আমি চাই না তুই কোনো কষ্ট পাস, তাই তো বলেছিলাম আমি না আসা পর্যন্ত নিচে না যেতে। কিন্তু তুই শুনলি না, নিশ্চয় কিছু বলেছে তোকে তাইনা?”
তনয়া ঠোঁট কামড়ে কান্না আটকে দু’দিকে মাথা নাড়ে, তেহরাবকে ওসব বললে লোকটা আরো রেগে যাবে।
তেহরাব তনয়াকে ছাড়িয়ে বিছানায় বসায়, তনয়া জিজ্ঞেস করে,

হাওয়াই মিঠাই পর্ব ২৫

“আচ্ছা তখন যে আপনি বললেন উনি আপনার নানুর দ্বিতীয় স্ত্রী, মানে বুঝলাম না। উনি আপনার আপন নানি নয়?”
তেহরাব পকেট থেকে ফোন বের করে কাউকে কল করতে করতে বলে,
“ সব বলব, আগে এই দুই বালকে বিদায় করে নেয়। এরা থাকা মানে আমার বউয়ের কষ্ট!”

হাওয়াই মিঠাই পর্ব ২৭