হৃদয় রাঙানো প্রেম পর্ব ৩২
সিনথিয়া ইসলাম সীমা
“ কিরে চুপ করে আছিস কেন? ”
কৃশানের ধমক খেয়ে চিন্তার জগৎ থেকে বেরিয়ে এলো হুমায়রা। নড়ে চড়ে উঠে উত্তর করল,
“ পরে বলি না? নামাজটা পড়ে আসি আগে? ”
ভ্রু কুঁচকে মেয়েটার দিক তাকাল কৃশান। মানুষটার তীক্ষ্ণ চোখ দেখে হুমায়রা সাফাই গেয়ে বলল,
“ সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে তো, তাই বলছি আর কি! ”
এবেলায় এসে তার হাতটা ছেড়ে দিল কৃশান। গম্ভীর স্বরে বলল,
“ যাহ! ”
হাফ ছেড়ে বাঁচল রমণী। তৎক্ষনাৎ কোনোদিন না তাকিয়ে ব্যস্ত পায়ে রুম ছাড়ল সে।
ক্লান্তিরা আজ ঘিরে ধরেছে কৃশানকে। বন্ধুরা একের পর এক মেসেজ পাঠাচ্ছে বাইরে যাওয়ার জন্য অথচ শরীর যেন কোনোমতেই সায় দিচ্ছে না তার। সারাদিন রোজা রেখে ইফতার শেষে ছেলেটার সুঠাম দেহ খানাও আজ ক্লান্তিতে নেতিয়ে পড়তে চাইছে। বিছানা ছেড়ে উঠতেই চাইছে না। অগত্যা শরীরের উপর জোর খাটাল না সে। চার বন্ধুর সমারোহ নিয়ে গড়া হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপটাতে জানিয়ে দিল- আজকে তার শরীর ভালো লাগছে না তাই যেতে পারবে না।
ওপাশের ব্যাক্তিরা হয়তো বেশ আশ্চর্য হলো মেসেজটি দেখে। সকলে অবাকের ইমোজি সেন্ড করল। রবি রিপ্লাইয়ে বলল,
“ তোর শরীরে আবার কোনদিক দিয়ে পঁচায় ধরল! সকালে তো সবদিক দিয়েই ঠিকঠাক দেখলাম? ”
পরপরই অভি বলল,
“ আরে আড্ডায় আয়, শরীর এমনিতেই ভালো হয়ে যাবে। ”
বন্ধুমহলের এমন বেপরোয়া ভাব দেখে হতাশার শ্বাস ফেলল কৃশান। অবশ্য এদের থেকে সিরিয়াসনেস আশা করাও বেকার! নিজের সিদ্ধান্তেই অটুট রইল সে। জবাবে লিখে পাঠাল,
“ আমি এখন ঘুমাবো, ডিস্টার্ব করলে আগামীকাল একেক টাকে কড়ই গাছের সাথে বেঁধে শায়েস্তা করবো। ”
বলেই অফলাইনে চলে এলো। অতঃপর সত্যিই পাশে মোবাইল রেখে উবোর হয়ে শুয়ে পড়ল।
নামাজ শেষ করে ভয়ে ভয়ে রুমে প্রবেশ করল হুমায়রা। এমন অসময়ে কৃশানকে শুয়ে থাকতে দেখে কিছুটা অবাক হলো। পা টিপে টিপে মানুষটার দিক এগিয়ে গেল। কৃশান ঘুমে মগ্ন। সামনে থেকে যে, কেউ একজন তাকে গভীর দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করে যাচ্ছে সেসবে কোনো ধ্যান নেই তার। খুব সন্তর্পনে ঘুমন্ত পুরুষটির পাশে বসল হুমায়রা। কিয়ৎক্ষণ তার তন্দ্রাচ্ছন্ন মুখ পানে তাকিয়ে থেকে বলে উঠল,
“ পূর্ণতা সুন্দর তবে দীর্ঘ অপেক্ষার ফলস্বরূপ যে পূর্ণতা মিলে তার সুন্দরের কোনো ব্যাখ্যা হয় না! আপনি দিবেন তো আমায় সেই ব্যাখ্যাহীন পূর্ণতা? সৃষ্টিকর্তার দরবারে আপনার সাথে একসাথে হাত তুলার স্বপ্ন পূরণ করবেন তো? ”
সাহরীর সময়,
খাওয়া শেষ করে সবকিছু ওভাবেই বিছানায় ফেলে রেখেছে কৃশান। আজকেও হুমায়রা অনেকক্ষন ডাকাডাকি করার পর ঘুম থেকে উঠেছে সে। তাকে খাবার দিয়ে নিচে শাশুড়িদের সাথে খেতে চলে গেছে হুমায়রা। এখনো আসেনি রুমে। এবেলায় বিরক্ত হয়ে মেয়েটাকে যেই না ডাকতে নিবে তখনি ঘরের দরজায় দেখা মিলল কাঙ্ক্ষিত রমণীর। পরপর শুনা গেল তার ব্যস্ত স্বর,
“ খাওয়া শেষ আপনার? ”
“ নাহ তোর জন্য না খেয়ে বসে আছি! ”
একটু থেমে বলল,
“ এতক্ষণে আসার সময় হয়েছে তোর? ”
মানুষটার ত্যাড়া উত্তরে চোখ ছোট ছোট করল হুমায়রা। বলল,
“ ওদিকটা গুছিয়ে আসতে একটু দেরি হয়ে গেছে। ”
কথার মাঝেই এগিয়ে এসে বিছানায় পড়ে থাকা প্লেট গুলো নিয়ে নিল। পরপর আবারও রুম ছাড়ল।
সবগুলো এঁটো থালা বাসন নিয়ে মাত্র রান্নাঘরে পা রেখেছিল হুমায়রা। ওমনিই বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন হলো। অন্ধকারে তলিয়ে গেলো আলোক
-উজ্জ্বলতায় ভরপুর ভবন খানা। অকস্মাৎ ঘটনায় কিছুটা হকচকাল মেয়েটা। তখনি পিছন থেকে হালকা আলোর উৎস নিয়ে রান্নাঘরে প্রবেশ করল কেউ।
“ গো এহেড, কৃশান মির্জা ইজ বিহাইন্ড! ”
মানুষটার আশ্বস্ত কণ্ঠ কর্ণপাত হতেই নিশ্চিন্ত হলো হুমায়রা। পরপর মুচকি হেসে কাজে লেগে পড়ল। এর মাঝেই ভেসে আসলো কৃশানের গম্ভীর স্বর,
“ কথাটা আর বললি না তুই? ”
“ আমি তখন বলার জন্য রুমে গিয়েছিলাম কিন্তু আপনি ঘুমিয়ে ছিলেন। ”
তৎক্ষনাৎ সাফাই গেয়ে বলে উঠল হুমায়রা। পৃষ্ঠে কৃশান বলল,
“ তো এখন বল। ”
“ এখন..? ”
“ হুম। ”
“ পরে বললে হয় না? ”
মেজাজ খারাপ হলো ছেলেটার। রাগ দেখিয়ে বলল,
“ বলা লাগবে না তোর কচুর কথা! ”
হুমায়রাও তাই করল। কিছু বলল না সে। চুপচাপ কাজ করতে থাকল। যেন কিছুই হয়নি। ভ্রু কুঁচকে পুরোটা সময় তার দিক তাকিয়ে রইল কৃশান। তবে সেও দ্বিতীয় বার কিছু জিজ্ঞেস করল না।
পরদিন সকালে,
বড় একটা মাঠে বন্ধুদের সাথে আড্ডায় বসে আছে কৃশান। যে যার মতো কথা বলে যাচ্ছে। কৃশান ফাঁকে ফাঁকে কিছু বলে পুরোটা সময়ই চুপ থেকে কাটাচ্ছে। কথার মাঝেই হঠাৎ নিজের হাতের সিগারেটে একটা টান মেরে সেটা কৃশানের মুখের সামনে বাড়িয়ে দিল অভি। সাথে সাথেই শুনতে পেল কৃশানের অপ্রত্যাশিত নিষেধ বার্তা,
“ খাবো না আমি। দূরে সরা। ”
ভ্রু কুঁচকে গেল ছেলেগুলোর। সাইফুল সন্দিহান চোখে চেয়ে বলল,
“ কিরে মামা, ঘটনা কি? তুই রোজাদার দের মতো কোনোকিছু মুখে নিচ্ছিস না কেন দুদিন ধরে? ”
“ ইচ্ছে নেই তাই। ”
নির্লিপ্ত কণ্ঠে জবাব দিল কৃশান। পৃষ্ঠে রবি বলল,
“ সিগারেটে খাওয়ার ক্ষেত্রে কৃশান মির্জার ইচ্ছে নেই? এটাও বিশ্বাস করতে হবে আমাদের! আসল ঘটনা খুলে বলো বন্ধু। তোমার ঐ ‘শুনছেন’ নারীর জন্য সিগারেট ছেড়ে দিয়েছিস নাকি? ”
কথাটা বলতে দেরি অথচ ছেলেটাকে সপাটে লাথি বসাতে দেরি হলো না কৃশানের। শুধু লাথি মেরেই শান্ত হলো না, দুহাতে কলার চেপে ধরে শক্ত কণ্ঠে বলল,
“ একবার বলেছি না এই শব্দটা মুখে নিবি না! ”
হঠাৎ আক্রমনে ভরকে গেল বাকিরা। রবি বেচারার অবস্থা তো নাজেহাল। সে যে কেন বারবার বাঘের গোহায় হাত ঢুকাতে যায়!
“ ক্ষমা দোস্ত, ক্ষমা, আমি ভুলে গিয়েছিলাম ছাড় আমায়! আমার ভবিষ্যত বউটাকে বিধবা করিস না! ”
নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে কাঁদো কাঁদো মুখে বলল রবি। অভি ও সাইফুল এগিয়ে এসে বহু কষ্টে কৃশানের থেকে রবিকে ছাড়িয়ে নিল। অবশ্য কৃশান চেয়েছে বলেই ছাড়াতে পেরেছে। নয়তো কৃশান মির্জার হাত থেকে রেহাই পাওয়া দুষ্কর!
“ কিরে কৃশান, আজকাল কথায় কথায় এভাবে হাইপার হয়ে যাস কেন তুই! আর ঐ শব্দটায় এমন কি আছে যার জন্য এটা মুখে নেওয়া যাবে না! ”
বেশ জোর গলায়ই বলল সাইফুল। উত্তরে ভেসে আসলো কৃশানের ভরাট স্বর,
“ ঐ একটা ডাকে এমন কিছু আছে যা কৃশান মির্জার দুনিয়াকে থমকে দেয়ার ক্ষমতা রাখে! ”
স্তব্ধ হলো তিনটি মানব। মাইর খেয়ে নেতিয়ে থাকার নাটক করা রবিও তড়িৎ উঠে বসলো। কণ্ঠ শৃঙ্গে তুলে বলল,
“ এর মানে তুই পাক্কা প্রেমে পড়ছিস মামা? কার প্রেমে পড়লি বল না! ”
“ জানিনা! ”
নাক মুখ সিঁটকাল তিন বন্ধু। মনে মনে কৃশানের চৌদ্দ গুষ্টি উদ্ধার করল। তবে মুখ দিয়ে কিছু বলার সাহস পেল না। কিছুক্ষন চুপ থেকে অভি প্রসঙ্গ পাল্টে বলল,
“ আচ্ছা ওসব বাদ এখন সিগারেট খা! ”
বলেই সিগারেট টা একেবারে কৃশানের মুখে ঢুকিয়ে দিতে নিল। তৎক্ষনাৎ ছিটকে দূরে সরে গেল কৃশান। মুখ ফসকে বলে উঠল,
“ লাফাঙ্গা আমি রোজা! ”
বড় সড় একটা বজ্রপাত পড়ল যেন কৃশানের বন্ধুমহলের উপর। বাক্য খানা শ্রবণগোচর হতেই চারশ আশি ভোল্টেজের ঝটকা খেল তারা। রবি যেভাবে সোজা হয়ে বসেছিল ঠিক সেভাবেই আবার চিৎ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। অভির হাত থেকে সিগারেট পড়ে গেল। সাইফুলের যেন পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গেল। কিছুক্ষনের জন্য রোবট হয়ে রইল ছেলেগুলো। ওভাবেই কাটল অনেকটা সময়। সহসা রবি এক লাফে উঠে বসলো। সাইফুলের উদ্দেশ্যে বলল,
“ মামা আমারে পথ দেখা আমি মনে হয় ভুল চেম্বারে চলে এসেছি। ”
বন্ধুদের এমন রিয়েক্ট এ বিরক্ত হলো কৃশান। এজন্যই এদের কিছু বলতে চায়নি। বিরক্তিতে বসা থেকে উঠে ডিরেক্ট হাঁটা ধরল ছেলেটা। পেছন থেকে শুনতে পেল বন্ধুদের বেকার আর্তনাদ,
“ মামা তুই কিভাবে পারলি আমাদের না জানিয়ে এত বড় কাজটা করতে! আমাদেরকে রেখে কিভাবে ভালো হয়ে গেলি তুই! ”
পিছন ফিরে তাকাল না কৃশান। নিজের মতো এগোতে থাকল।
দুপুরের নীরবতা তখন ঘিরে ধরেছে মির্জা বাড়ির প্রতিটি কোণকে। শোরগোলে পরিপূর্ণ থাকা ড্রয়িং রুম তখন এক অদ্ভুত নিঃস্তব্ধতার রূপ ধারণ করেছে। মনে হচ্ছে যেন বাড়িতে মানুষের কোনো আনাগোনা নেই।
মানবশূন্য ড্রয়িং রুম পেরিয়ে নিজ কক্ষে প্রবেশ করল কৃশান। সেখানেও একই নীরবতা বিরাজ করছে। কক্ষটিকে সম্পূর্ণ শান্ত রুপ দিয়ে বিছানার এক পাশে গুটিশুটি মেরে ঘুমিয়ে আছে হুমায়রা। নিদ্রারাজ্যে মগ্ন সেই ঘুমন্ত পরীর দিক এক পলক তাকিয়ে সরাসরি ওয়াশরুমে ঢুকে গেল কৃশান।
বেশ সময় করেই শাওয়ার নিলো। ওয়াশরুম থেকে বেরিয়েও হুমায়রাকে একই অবস্থায় দেখতে পেল। হাত দিয়ে চুল গুলো ঝেড়ে করিডোরের দিক এগোলো কৃশান। ফিরে এলো মিঠুকে নিয়ে। বিছানায় বসে মিঠুকে নিজের কোলে বসিয়ে রাখল। এর মাঝেই সহসা কৃশানের কোল থেকে নেমে হুমায়রার দিক দৌড় দিল মিঠু। ওমনিই এক ঝটকায় তাকে দূরে সরিয়ে আনল কৃশান। মুখের সামনে এনে ক্ষীণ স্বরে শাসিয়ে বলল,
“ আরেকবার এ অপরাধ করার সাহস দেখালে তোর কান দুটো কেটে দিব! ”
প্রাণীটি কিছু বুঝল না। সে অবুঝ চিত্তে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে রইল মাহাজনের পানে। তা দেখে কৃশান প্রাণীটিকে ঘুরিয়ে হুমায়রার দিকে করল। নিজেও ঘুমন্ত রমণীর পানে তাকিয়ে বড্ডো ক্ষীণ স্বরে বলল,
“ এই যে ঘুমন্ত মায়াবিনীকে দেখতে পাচ্ছিস? এটা তোর মাহাজনের হৃদ গহীনে লোকানো- হৃদ কোটরের মায়াবিনী! সুতরাং এই মায়াবিনীর কোনো কাজে বেঘাত ঘটালে তোকে কঠিন শাস্তি পেতে হবে। বুঝেছিস? ”
কৃশান মির্জার এমন প্রেমময় বাক্য শুনার পর প্রাণীটি যদি কথা বলতে পারত তাহলে হয়তো নিশ্চিত বলে উঠত,
“ বউকে বউ বলে মানে না! আবার ঘুমিয়ে থাকলে কি প্রেম- ব্যাটা আস্ত খচ্চর! ”
তবে তা আর হয়ে উঠল না। বরং কৃশান মির্জাই নিজের সেই পথ চিরতরে বন্ধ করে বলে উঠল,
“ শুন মিঠু, ভাবছি মনের সাথে আর জোরজবরদস্তি করবো না। মন যা চায় তাই মেনে নিবো। মন যদি এই মায়াবিনীকে ভালোবাসতে চায় তবে আর বাঁধা দিবো না। এবার নাহয় ভালোবেসেই ফেলবো। কি বলিস? ”
নিস্তব্ধ ঘরটিতে শুধু একটা মাত্র কন্ঠই শুনা গেল। অবুঝ প্রাণীটির সাথে কৃশান মির্জার এই স্বিকারোক্তির সাক্ষী হয়ে রইল বন্ধ কক্ষের চারটি দেয়াল।
ঘুমের মাঝেই সহসা কিছুটা নড়ে চড়ে উঠল হুমায়রা। তার ঘুম ভাঙ্গার আগাম বার্তা বুঝতেই নিজেকে সংযত করে সোজা হয়ে বসল কৃশান। ঘুম ঘুম চোখ জোড়া পিটপিট করে চোখ খুলে তাকাল হুমায়রা। তার একেবারে সন্নিকটেই বসে ছিল মিঠু। সদ্য ঘুম ভাঙা চোখগুলো মিঠুর লাল বর্ণ চোখে পড়তেই ভরকে গেল মেয়েটা। তৎক্ষনাৎ কোনোকিছু না ভেবে পিছিয়ে গেল। একেবারে সাইডে শুয়ায় ওমনিই বিছানা থেকে পড়তে নিল। তবে এর আগেই মিঠুকে সরিয়ে এক জোড়া বলিষ্ঠ হাত এসে আগলে নিল তার ছোট্ট দেহ খানা। ভয়ে চোখ মুখ খিঁচে সেই হাতের মালিকের গলা পেঁচিয়ে ধরল হুমায়রা। পরপরই শুনতে পেল তার ধমকের স্বর,
“ এভাবে কোণায় এসে শুয়েছিস কেন? পড়ে হাত পা ভেঙ্গে আমার কোলে চড়ার ধান্দা করছিস নাকি! ”
তড়িৎ চোখ জোড়া মেলে মানুষটার পানে চাইল হুমায়রা। বলল,
“ আমার কি দোষ? মাঝখানে ঘুমালে তো আপনিই ধমকাতেন! ”
ক্ষণিকের জন্য চুপ মেরে গেল কৃশান। সময় নিয়ে উত্তর করল,
“ এখন থেকে তোর যেখানে ইচ্ছে সেখানেই ঘুমাস। এমনিতেও আর দূরত্ব রাখা সম্ভব হয়ে উঠবে না যা দেখছি! ”
শেষের কথাটা বিড়বিড় করে আপনমনে বলল। যার দরুণ হুমায়রার কর্নপাত হলো না। সে প্রথম কথার পৃষ্ঠেই নিশ্চিত হতে বলল,
“ পাক্কা? ”
ভ্রু কুঁচকে চাইল কৃশান। পরপর হুমায়রাকে বিছানার একদম মাঝখানে শুইয়ে দিয়ে বলল,
“ পাক্কা! ”
মানুষটার কান্ড দেখে তব্দা খেল হুমায়রা। অবাক দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করতে লাগল তার বখাটে পুরুষটিকে। তখনি শুনতে পেল সেই চিরপরিচিত ত্যাড়া স্বর,
“ তবে এখন কিন্তু রমাদান মাস, তিন মাইল নাহয় বাদই দিলাম তিন ইঞ্চি হলেও দূরত্ব রাখার চেষ্টা করিস! ”
তিন মাইল টু তিন ইঞ্চি! চোখ বড় বড় হয়ে গেল মেয়েটার। সেসবে পাত্তা না দিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেল কৃশান। মানুষটার যাওযার পানে চেয়ে হঠাৎ ই ফিক করে হেসে দিল হুমায়রা। পরপর সৃষ্টিকর্তার উদ্দেশ্যে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলল,
“ শুকরিয়া আমার প্রিয় রব! ”
হৃদয় রাঙানো প্রেম পর্ব ৩১
আজকেও ইফতারের পর একই হাল হলো কৃশানের। অলসতা কাটিয়ে এবারও বাইরে যাওয়া হয়ে উঠল না। আর নাতো খাওয়া হলো তার নিত্যদিনের অভ্যাসে পরিণত হওয়া সেই হারাম অখাদ্য গুলো। এভাবেই এক ইবাদত পালন করে অন্যান্য পাপ থেকেও অজান্তেই দূরে সরে আসতে লাগল বখাটে কৃশান।

Please porer porbo ta taratari deo 🥲
porar porbo taratari dio plz…..