Home হৃৎস্পন্দন হৃৎস্পন্দন পর্ব ৩

হৃৎস্পন্দন পর্ব ৩

হৃৎস্পন্দন পর্ব ৩
সাঞ্জেনা শাজ

নতুন দিনের সূচনা। তালুকদার বাড়িতে সকলে নাস্তার টেবিলে বসা। নাস্তা সেড়ে সকলে সকলের কাজে বের হবে। পারিবারিক ব্যাবসা তালুকদারদের। তাও দেশের মধ্যে টপ টেনের মধ্যে!
দুই তালুকদারকেই ব্যাবসা সামলাতে হিমসিম খেতে হয়। কারণ, শায়ন তালুকদার, অর্থাৎ শুভ্রতার বাবা একজন আর্মি পেশায়। তিনি এসব পারিবারিক ব্যাবসার মধ্যে নেই। তিনি পোস্টের কারণে চট্টগ্রামই থাকেন বেশি। ছুটিতে চলে আসেন বাড়িতে পরিবারের কাছে। তবে মেহরাদ আছে বলে রক্ষে। ছেলেটা প্রায় সব সামলে নেই অফিসের, দু’হাতে।

বাড়ির আত্নীয়স্বজন সকলে নাস্তা সেড়ে নিয়েছে ইতিমধ্যে। তাই তালুকদার বাড়ির সদস্যই টেবিলে বসা। সকলের নাস্তার প্রায় মাঝখানের সময় আসলো শুভ্রতা। একদম তেডি টেডি হয়ে কলেজের জন্য। তার ঘুম থেকে উঠতে লেট হয়ে গিয়েছে। সে খুব ঘুম কাতুরে কি-না!
শুভ্রতা ডাইনিং এ এসে দেখলো দুটো চেয়ার খালি, চট করে বসে পড়ল একটাতে। আরেকটাতে নিশ্চয়ই মেহরাদ ভাই বসবে? ওনি তো এখনো আসেনি! কিন্তু ওনি এখনো আসেনি কেন? ওনিতো খুবিই পানচুয়াল মানুষ, তাহলে? শরীর খারাপ করলো না-কি?
শুভ্রতার মাঝে তৎক্ষনাৎ অস্থিরতা দেখা গেল। মন কেমন করে উঠলো তার। সামনে থাকা নাস্তা কিচ্ছু ছুলোনা। উদগ্রীব হয়ে তাকিয়ে সিড়ির দিকে। __আসছেনা কেন? তার বেচেইন চাহনি দেখে সাফি জোহড়ি চোখে তাকিয়ে। খাওয়া বাদ দিয়ে সে তাকিয়ে আছে শুভ্রতার দিকে। আর শুভ্রতা সিড়ির দিকে।
শুভ্রতার তাকিয়ে থাকার মধ্যেই মেহরাদ নামলো সিড়ি বেয়ে। ফর্মাল ড্রেস-আপ করা। তার মানে একেবারে অফিসের জান্য রেডি হয়ে আসছে। হাতের অফিস ব্যাগটা আর কোটটা ড্রয়িং রুমের টি-টেবিলের উপর রেখে ডাইনিং টেবিলের দিকে এগুচ্ছে।

মেহরাদের বারানো প্রতি কদমের সাথে সাথে শুভ্রতার হার্টবিটও ফাস্ট হতে থাকলো। প্লেটে খাবার নিতে নিতে আড়চোখে বারবার মেহরাদের দিকে তাকালো। সকলে নিজেদের খাবার নিয়ে ব্যাস্ত কেউ তেমন খেয়াল করলোনা। কিন্তু সোহানা আর শান্তা ঠিকিই খেয়াল করলো।
তারা যতবার শুভ্রতার ঐ ভাসা ভাসা চোখ গুলো দেখে ততোবার হৃদয় ভেঙে আসে। মেয়েটার সকল অনুভূতি ঐ চোখ জোড়ায় ভেসে উঠে। না বলেও অনেক কিছু বলে দেয় এই চোখ জোড়া।
মেহরাদ গিয়ে শুভ্রার পাশের খালি টেবিলটায় বসলো। একে একে নিজের পছন্দ সই খাবারও নিয়ে সাজিয়ে নিল। একটা ম্যানলি স্মেল শুভ্রতার নাসারন্দ্রে বারি খেল। খাবার খাওয়ার চেয়েও এই গন্ধে পেট ভড়লো
বেশি শুভ্রতা। তার এতো ভালো লাগে এই স্মেলটা!! বলার বাহিরে!!!
সকলের অগচোড়ে মেহরাদ পাশে তাকালো, শুভ্রতা তার দিকেই তাকিয়ে। হকচকিয়ে গেল শুভ্রতা। বাম ভ্রু খানা উচালো মেহরাদ। চোখের ইশারায় খাবারের দিকে নজর দিতে বললো। শুভ্রতা মাথা নিচু করে নিল।
টেবিলের নীরবতা ভাঙলো আলতাফ তালুকদার,

“মেহরাদ আজ দুটো মিটিং আছে রেস্টুরেন্টে, এটেন্ড করছো তো? মিস্টার চৌধুরীর মেয়ে হয়তো মিটিংয়ে থাকতে পারে। ও-ই নাকি এখন শেয়ার হোল্ডারের বিষয়টা দেখবে! ”
“হুম বাবা। আই নো, আই’ল হেন্ডেল। ”
“আচ্ছা, ঠিকাছে। এসিস্ট্যান্ট রোবেলকে নিয়ে যেও সাথে। ”
“নিয়ে যাবো। ” ছোট্ট উত্তরে কথা শেষ করলো কথা মেহরাদ।
আবারও নীরবতা, শুধু চামচের টুং টাং শব্দ। এবার নীরবতা ভাঙ্গলেন মিসেস রিমি খান। গলা খাকাড়ি দিয়ে বাড়ির বড় কর্তা আলতাফ তালুকদারের উদ্দেশ্যে বললেন,,
“বড় ভাই, আজকে তো আমার ভাবি আর রায়হান চলে যাবে হয়তো! ওনারা…ওনারা যাওয়ার আগে শুভ্রতা আর রায়হানের বাগদানের বিষয়টা নিয়ে আলোচনা করতে চেয়েছিল। ”
এক মিনিটের জন্য পুরো ডাইনিং টেবিলে পিনপতন নীরবতা নেমে আসলো। শুভ্রতার খাবার গলায় দলা পাকিয়ে গেল আর মেহরাদের চোয়াল শক্ত! হাতের চামচটা শক্ত করে ধরে রইলো নড়াচড়া বিহীন।
আলতাফ তালুকদার ভেবে চিন্তে রয়ে সয়ে বললেন,

“শায়ন আসুক, তখন না-হয় এ বিষয়ে আলোচনা করা যাবে? ওনারা আসছে বেড়িয়ে যাক! শুভ্রতা মার’ও পরিক্ষা সামনে। এ বিষয়ে আলোচনা না হলেই ভালো এখন আমি মনে করি। ” আকরাম তালুকদারও স্বায় জানালেন ভাইয়ের কথায়। অগত্যা চুপ করে গেলেন রিমা বেগম। মনে মনে কথা সাজানো শুরু করলেন ভাই ভাবিকে কি জবাব দিবে এ বিষয়ে। দুই কর্তা উঠে গেলেন টেবিল ছেড়ে।
জীব দ্বারা গাল ঠেললো মেহরাদ। তীক্ষ্ণ চোয়াল খানা শক্ত হয়ে আছে। হাতে চেপে রাখা চামিচটা শব্দ করে কাচের প্লেটের উপর ফেলে দিল। ঝংকার উঠলো টেবিল জুড়ে। জাহানারা বেগম উদ্বিগ্ন হয়ে এগিয়ে এলেন ছেলের দিকে। শুধালেন,

“কি হয়েছে বাবা? খাবার ভালো লাগছেনা? ”
“কিছুনা, আসছি। ”
“সে-কি খাবারটা শেষ করে যা…” তিনি বলতে বলতে মেহরাদ উঠে চলে গিয়েছে ড্রয়িং রুমের মধ্যে ইতিমধ্যে। যেতে যেতে গলা ফেড়ে শুভ্রতাকে ডেকে উঠলো,
“শুভ্রা…..! আমার ব্যাগটা নিয়ে আয় গাড়িতে। আ’ম ওয়েটিং। ”
কেপে উঠলো শুভ্রতা। গলায় দলাপাকানো খাবার গুলো কোন রকমে পানি গিলে গলাধঃকরণ করলো। তারপর উঠে ডাইনিং টেবিল ছেড়ে ড্রয়িং রুম থেকে মেহরাদের ব্যাগ সহ তার কলেজ ব্যাগটা নিয়ে বেড়িয়ে গেল বাড়ি থেকে।
সোহানা খাচ্ছে আস্তেধীরে। শুভ্রতা চলে গিয়েছে সোহানা এখনো যাচ্ছেনা দেখে ভ্রু কুচকালেন রিমা বেগম। জিজ্ঞেস করলেন,
“তুই যাচ্ছিস না যে?শুভ্রতা চলে গেল! ”

“শুভ্রতার আজকে একটা এক্সট্রা প্রাইভেট আছে হায়ার মেথের। আমার তো হায়ার মেথ নেই। আমি একটু পরে গেলেও হবে। ” তার আর শুভ্রতার সাবজেক্ট এক হলেও হায়ার মেথ নেইনি সে। বাবা অংক কতো কঠিন! কে নেয় এগুলো!গাধিটা নিয়েছে। সে না নিয়ে ভালো করেছে।
রিমা বেগম আর কিছু বললেন না। কিচেন রুমে চলে গিয়েছেন মুখ গুমড়া করে। তার গুমড়া মুখ দেখে জাহানারা বেগম আর সোহানার মা অর্থাৎ বাড়ির মেঝো গিন্নী সুরাইয়া বেগম একে অপরের দিকে চাওউয়া চায়ি করলেন। তার রিমা বেগমের উদ্দেশ্যে সুরাইয়া বেগম বললেন,
“তোর ভাবি কিছু বলেছে রিমা? হটাৎ আজকে আবার বিয়ের কথা তুললি? ”
হতাশার শ্বাস ফেলে জা’য়েদের দিকে তাকালো রিমা বেগম। আক্ষেপের সুরে বললো,
“জানোতো ভাবি, ভাই রেগে আছে আমার উপর সেই কতো বছর ধরে। যদিও মাঝখানে কিছু হাড়ানোর বদৌলতে কিছুটা ঠিক হয়েছে। সে যায়গায় কেউ যদি বলে আরেকটা নতুন সম্পর্কের মাধ্যমে সম্পর্কটা ঠিক হয়ে যেতে পারে, তুমি বলো আমি সেটা প্রান প্রনে চেষ্টা করবো না? কিন্তু তোমার দেওর আর ভাইয়াদের আমি এটাই বুঝাতে পাড়ছিনা। রায়হান কি খারাপ বলো?”

“রায়হান খারাপ না। তবুও একটা কথা বলি ছোট। সম্পর্ক ঠিক করার জন্য মেয়ের দিকটা দেখবিনা?ও আদও চায় কি-না রায়হানকে জিজ্ঞেস করে দেখেছিস?”
জাহানারা বেগম বলে উঠলেন।
এযাত্রায় মুখ কিছুটা গম্ভীর হলো রিমা বেগমের। গম্ভীর স্বরেই বললো,
“ওর আবার কি পছন্দ অপছন্দ থাকবে ভাবি?আর জানোই তো ওর সাথে আমার তেমন কথা হয়না। ”
“কেন হয়না ছোট?”
“ও চায়না ভাবি। ”
“তুই চেয়েছিস ছোট? ”
“চেয়েছি। ”
“হ্যাঁ, যখন মেয়েটা নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছে তখন। শুন, শায়ন বাড়িতে থাকেনা, তুইই ও ওর মাথায় হাত ভুলিয়ে চারটি কথা বলিসনা। যতই আমরা থাকি, মেয়েটার কি নিজের মা বাবার আদর পেতে মন চায়না? ”
চুপ রইলেন রিমা বেগম। দীর্ঘনিশ্বাস ফেললো দুই জা’য়ে। ছোট জা’কে যতোবার এ বিষয়ে বলে ঠিক ততোবারই চুপ করে যায়! এভাবে সম্পর্ক ঠিক হওয়ার!

একটি কালো রঙা টয়োটা চলছে ঝরের গতিতে সাই সাই করে। রাস্তা কিছুটা নিরিবিলি হওয়ায় জ্যাম নেই তেমন। গাড়ির জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে শুভ্রতা। নীরবে অশ্রু বিসর্জন দিচ্ছে।
এদিকে শুভ্রতার নীরবতা, মুখ ফিরিয়ে রাখা রাগের পারদ বাড়াচ্ছে শুধু মেহরাদের। শক্ত চোয়াল জ্বীব দ্বারা ঠেলছে বারবার। স্ট্যারিয়াং এ রাখা হাতটা আরও শক্ত হলো। স্পিড মিটারের কাটা একশোর উপর পৌছাল। বিপদ সীমার কাছে।

ঢুকরে কেদে উঠলো শুভ্রতা। দু’হাতে মুখ ঢেকে ফেললো। সে জানে মেহরাদ ভাই খুব রেগে আছে। খুউউউব। গাড়িটাও নিয়ে যাচ্ছে অন্য কোথায়। কিছুই বলতে পাড়ছেনা সে। কি আছে তাদের ভবিষ্যতে!
ঝড়ের বেগে চলা গাড়িটা হটাৎই ব্রেক কশলো মেহরাদ। সমস্ত শক্তি দিয়ে হুইলে আঘাত করলো বার দু’য়েক। মুখ ঢেকে রাখা শুভ্রতার বাহু চেপে নিজের দিকে ফিরালো। আরেক হাতে হাত দুটো মুখের সামনে থেকে সড়াল।
ফর্সা মুখশ্রী লাল হয়ে আছে শুভ্রতার। নাকের পানি চোখের পানি একাকার! চোখ জোড়া শক্ত ভাবে বন্ধ করে ফেললো মেহরাদ। নিজেকে কন্ট্রোল করার চেষ্টা। মেয়েটারই বা কি দোষ? কিন্তু তার মস্তিষ্ক এখন সব যুক্তি তর্ক মানতে নারাজ। ভিতরে আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত হচ্ছে। দাবানলে পুড়ছে হৃৎপিণ্ড। শুভ্রতার মুখশ্রী চেপে মুখ উচালো মেহরাদ। হিসহিসিয়ে বললো,
“,এদিকে তাকা! তাকা এদিকে!”
তাকালোনা শুভ্রতা। চোখ বন্ধ করে অশ্রু বিসর্জন দিচ্ছে। সাথে নাক টানা ফ্রি প্রতি সেকেন্ডে সেকেন্ডে। এবার হাতের চাপ বৃদ্ধি করলো মেহরাদ। রাগের তোপ বাড়ছে বই কমছেনা।
“,তাকাতে বলছি এদিকে, তাকা!না-হয় এ গাড়ি এক্ষুনি খাদে গিয়ে পড়বে। দু’জন একসাথে ম’রে যাবো তাহলে আর বিয়ে নিয়ে কোন ঝামেলা হবেনা। তোর আমার কষ্ট হবেনা। কি বলিস??”
চোখ খুলে তাকালো শুভ্রতা তৎক্ষনাৎ। চোখ ভর্তি জল। থুতনি কাপছে, ঠোঁট ভেঙে আসছে। কিছু বলতে চাইছে কিন্তু পাড়ছেনা।

শুভ্রার তিরতির করে কাপতে থাকা ঠোঁট গুলো নিজের ওষ্ঠ দ্বারা চেপে ধরলো মেহরাদ। আস্তে আস্তে শান্ত হয়ে আসছে মেয়েটা। কিশোরী বয়সী আবেগ, ভালোবাসা গুলো ভয়ংকর বিধ্বংসী হয়। এসময় সব কিছু সামলানো, আটকে রাখা দায়।
মিনিট পাঁচেক পর ছেড়ে দিল মেহরাদ। শুভ্রতা শান্ত হয়েছে অনেকটা। কপালে কপাল ঠেকিয়ে নিশ্বাস ফেলছে দুজনে। নীরবে চোখ জোড়া বন্ধ করে রেখেছে।
“আপনায় খুব ভালোবাসি মেহরাদ ভাই। ” শান্ত নীস্তেজ কন্ঠে বলে উঠলো শুভ্রতা। সব কিছুর উর্ধ্বে যা তাই বলে দিল। কোন যুক্তি তর্ক না আর।
ব্যাস। শুভ্রতাকে এক ঝটকায় কোলে এনে বসিয়ে দিল মেহরাদ। পা দুটি তার কোমরের দু পাশে ছড়িয়ে বসালো। আচমকা এরকম কান্ডে হকচকিয়ে মেহরাদের গলা জড়িয়ে ধরলো শুভ্রতা। লজ্জায় আড়ষ্ট হয়ে এলো নাজুক ছোট্ট দেহখানা মেয়েটার ।
শুভ্রতার পিঠময় একহাত বুলাতে বুলাতে বললো,,

“আমিও খুব ভালোবাসি আমার জান পাখিটাকে। উমমম!খুব ভালোবাসি। তোর অন্য কোথাও বিয়ের কথা আমার দুঃস্বপ্নেও আসেনা শুভ্রা। হৃৎস্পন্দন থমকে যায়। তুই জানিস, আমার হৃৎস্পন্দন, এই এটা সবটা জুড়ে তুই।” হাতের ইশারায় পাজড় দেখালো মেহরাদ।
শুভ্রতাকে আরও কাছে টেনে নিয়ে ওর মাথা বুকে চেপে বললো,,
“,দেখ, এই হৃদয় শুধু তোর জন্য স্পন্দিত হয়। আমার হৃৎস্পন্দন তুই জান । আমার সব তুই! ” বলেই নাক গসলো হিয়ার ঘারে। আরও বললো,,
“আমি বাড়িতে কথা বলবো এ বিষয়ে। ” আৎকে উঠলো শুভ্রতা। মেহরাদের বুক থেকে মাথা উঠিয়ে বললো,,
“অসম্ভব!এখন না, এখন না। পরে। আমি পরিক্ষা দিয়ে নেই। মা যদি না মানে? মা’কে কে সামলাবে?বাবা আসুক আগে। প্লিজ কিচ্ছু বলবেন না। ”

নাকের পাটা ফুলে ফেঁপে উঠলো মেহরাদের। শক্ত কন্ঠে বললো,
“আমি এদিকে এর আশায় ওর আশায় বসে থাকি আর তোর মা আমার বউ’য়ের বিয়ে ঠিক করে বসে থাক! হু?”
শুভ্রতা মুখ খুলে কিছু বলতে চাইবে তার আগেই ধমকে চুপ করিয়ে দিল মেহরাদ। চোখ কটমট করে জিজ্ঞেস করলো,
“চুপপপ! তোর কথা শুনবো আমি! একটু আগে না গঙ্গা যমুনা ভাসালি কেদেকেটে? এখন আবার মানা করছিস কেন? হুয়াই??? ”
সরু চোখে তাকালো এবার শুভ্রতা। তাকে অপমান করা হচ্ছে? সে চোখ ছোট ছোট করে বললো
“আমার কথা শুনবেন না? কার কথা শুনবেন তাহলে? দেখেন না বিয়ের পর সকল ছেলেরা বউয়ের কথা শুনে? এটা শুনা ছেলেদের অনিবার্য দায়িত্ব! কর্তব্য! ”
মেহরাদ এক ভ্রু উচিয়ে তাকালো শুভ্রতার দিকে। পাকা পাকা কথা বলছে তাকে? আচ্ছা! সে-ও বাকা হেসে বললো,,

“হ্যাঁ শুনেতো।আবার বিয়ের পর তো ছেলেরা বউয়ের সাথে কতো রোমান্স করে, আদর করে, দিনে রাতে দু চারবার ফরজ গোসল সেরে ফেলে। আমার তো একটাও করা হলো না রে শুভ্রা! আমার এগুলো করা উচিৎ ছিল। আরও আগেই করা উচিৎ ছিল ঠিকনা বল? তাহলে বউয়ের কথা শুনতে পারতাম বোধহয়! ”
লজ্জায় আড়ষ্ট হলো শুভ্রতা। লোকটা কি ধরিবাজ! বলি একটা বলে আরেকটা! এভাবে লজ্জায় ফেলতে পারলো! সে অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে নিল। মেহরাদ মুখ টেনে আবার সামনে আনলো। শুভ্রতা হাত দ্বারা হাত সড়িয়ে দিতে চাইলে শুভ্রতার দু’হাত পিছনে আটকে দিল এক হাতে মেহরাদ। শুভ্রতার কলমিলতার ন্যায় নেতিয়ে যাওয়া লজ্জামাখা মুখ খানার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জের চুরান্তে গেল। মুখ এগিয়ে নিয়ে গিয়ে বললো

হৃৎস্পন্দন পর্ব ২

“করবো আদর? তাহলে কথা শুনলেও শুনতে পারি! চেয়ে দেখ পার্ফেক্ট পজিশনে আছিস?”
শুভ্রতার লজ্জা এবার আকাশ ছুলো। নিজেদের দিকে খেয়াল করে দেখলো। পুরো শরীরে ঝংকার দিয়ে উঠলো যেন। একে তো কান্না করেছে আগে এখন আবার এরকম লজ্জায় মেয়েটা পুরোই লাল টমেটো হয়ে গিয়েছে। মেহরাদ আবারও কিছু বলতে নিবে মেহরাদের ঠোঁট জোড়া চেপে ধরলো শুভ্রতা নিজের ঠোঁট দ্বারা। আর উপায় নেই। হাত আটকানো পিছনে। এই লোক তাকে লজ্জা দিয়েই মেরে ফেলবে নয়তো।
আশ্লেষে ঠোঁট জোড়ায় মত্তো হলো মেহরাদ। শত কান্না কাটি, রাগ ভুলে একত্রিত হলো প্রেমিক যুগল। কলেজের কথা ভুললো, ভুললো রেস্টুরেন্টে ঠিক করা মিটিংয়ের কথাও। দুই প্রমিক যুগল মত্ত নিজেদের মধ্যে।

হৃৎস্পন্দন পর্ব ৪