হৃৎস্পন্দন পর্ব ৩২ (২)
সাঞ্জেনা শাজ
শুভ্রতা পা টিপে টিপে গেলো মেহরাদের রুমের সামনে। দরজা ভেজানো। মিনিট খানেক ব্যায় করলো ঠোঁটে ঠোঁট চেপে কিছু চিন্তাতে। তারপর সে এমনিই ঢুকে গেলো আজ রুমের ভিতরে । তার স্বামীর রুম! এতো অনুমতি টনুমতি নেওয়ার কি আছে! সে নিবে না এখন থেকে, ব্যাস! এতক্ষণ এ সিদ্ধান্তই এসেছে দাঁড়িয়ে সে,হু।
“রাত ক’টা বাজে? জেগে? তারউপর বিনা অনুমতিতে রুমে? মুক্তিতে বুদ্ধির খুব ধার খুলেছে দেখা যাচ্ছে, বেশ!”
ওয়াশরুমের থেকে ভেজা চুল টাওয়াল দিয়ে মুছতে মুছতে বের হয়ে বললো মেহরাদ। হাতের ভেজা টাওয়াল খানা ছুড়ে কাউচের এক কিনারায় ফেলে দাঁড়িয়ে রইলো বিছানার সামনে। যেখানে আপাতত শুভ্রা বসে, পা ঝুলিয়ে।
চোখ দুটি তীক্ষ্ণ মেহরাদের, কপালে গুটিকয়েক ভাজ। রাত বারোটা বেজে গিয়েছে। এই মেয়েকে তখন দেখেছে ঘুমায়নি। এখন আবার রুমে না গিয়ে এখানে কি? তা-ও রুমে এসে একদম খাট জুড়ে বসে আছে বিনা অনুমতিতে!
শুভ্রতা ঠোঁটে ঠোঁট চেপে তাকিয়ে রইলো মেহরাদের দিকে। তাকে আবার অপমান করা হয়েছে, সে বুঝতে পেরেছে এটা। কিন্তু এ লোক কি বেশে তার সামনে দাড়িয়ে! না চাইতেও তার চোখ উপর নিচ হয়ে গেল চোখের পলকে৷ শুভ্রতা এবার সংকুচিত হয়ে এলো কিছুটা। সেদিন রাতেও এরকমই উন্মুক্ত দেখেছিলো মেহরাদকে। বরংচ আরও…
অর্ধভেজা উন্মুক্ত দেহে কেবল একটি মাত্র ট্রাউজার জড়িয়ে মেহরাদ। সম্পূর্ন ফর্সা পেটানো দেহ পানির ফোটা ফোটা জলে চিক চিক। ট্রাউজার জড়ানো কোনরকম লুজ করে, একদম শেষ পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে। এটা আদও রাতে ঘুমের মধ্যে পড়া থাকবে তো! তার সন্দেহ সঙ্গে কৌতহলও বটে। তবে তার সন্দেহের ইতি ঘটলো আবারও মেহরাদের তীক্ষ্ণ কথার বানে,
“কি সমস্যা? এখানে কি? ক’টা বাজে?”
শুভ্রতা নড়েচড়ে বসলো। মেহরাদ তার সামনা-সামনি একটু দুরত্ব রেখে দাঁড়িয়ে। সে এবার উঠে দাঁড়ালো। সরাসরি মেহরাদের দিকে না তাকিয়ে এদিক সেদিক তাকালো ফ্লোরে নক খুটতে খুটতে। তারপর বললো,
“কোন সমস্যা নেই। মন চেয়েছে তাই এসেছি। আর এখন ক’টা বাজে আমি জানি না।” বলেই তাকিয়ে রইলো আরেক দিকে।
শুভ্রতার জবাবে মেহরাদের এক ভ্রু উঁচু হলো। বাহ! জবাব দিচ্ছে তো বেশ মুড নিয়ে ম্যাম! আজ বোধহয় খুব সাহস নিয়ে এসেছে!
সে এগিয়ে গেল শুভ্রতার বরাবর। ঠিক মুখোমুখি দাঁড়াতে দাঁড়াতে বললো,
“রাত বারোটা বেজে তেরো মিনিট। এবার বল,এতো রাতে আমার রুমে কি?”
“কিছুনা। ইচ্ছে হয়েছে তাই এসেছি!”
“এভাবে যখন ইচ্ছে তখনিই এসে পড়বি? সকলের রুমেই?”
“নাহ। শুধু এখানেই।”
“এখানেই? এর কারণ?”
“এটা আমারও রুম।”
“আর, তা কিভাবে?”
“আপনার বিয়ে করা বউ, সেভাবে।”
এযাত্রায় মেহরাদ তাচ্ছিল্যের ভঙ্গিমা করলো ইচ্ছে করেই। চিবিয়ে চিবিয়ে বললো,
“কে যেনো বলেছিলো, আমার এসব থেকে মুক্তি চাই। আর ভালো লাগছে না এসব। etc….etc…”
শুভ্রতার নাক ফুসে উঠলো মেহরাদের তাচ্ছিল্যতা দেখে। তিরতির করে কাপতে থাকলো ওষ্ঠজোড়া। যা ঠিক করতে এসেছিলো রাগে তা ভুলে বসলো।
“বলেছি, বেশ করেছি! আমার মুখ দিয়ে আমি যা খুশি বলবো। আপনার কি?”
“আচ্ছা তাই নাকি? আমিও আমার হাত দিয়ে যাকে খুশি তাকে ঘার ধরে আমার রুম থেকে বের করে দিবো। আ’না মেজাজ!(আমার ইচ্ছে) ” শেষের কথাটা শুভ্রতার দিকে তাকিয়ে ভাবলেশহীন ভাবে কাধ উঁচিয়ে বললো মেহরাদ।
শুভ্রতার রাগ যেন আকাশ ছুলো। লোকটা অতিরিক্ত করছে না! তাকে ঘার ধরে বের করে দিবে বলছে!
“আপনি কি ইনডায়রেক্টলি আমায় কথাটা বললেন?”
“ডায়রেক্টলিই বলেছি। আমার মুখ! আমি যা খুশি বলবো! ”
“এরকম আর কতদিন চলবে? আমি আর নিতে পাড়ছি না তো এসব! পরশু পরিক্ষা অথচ আমি এগুলো মাথা থেকেই সড়াতে পারছি না। রেজাল্ট খারাপ হলে এর দায়ভার কে নিবে? আপনি নিবেন?”
“আমি কেন নিবো? ভার তো সব তুই নিবি। তা-ও পুরোটা।” শুভ্রতা বুঝলো না মেহরাদের কথার মিনিং। সে একিই ভাবে বলে গেলো,
“আমি কেন নিবো? আপনিই নিবেন।আপনার জন্যই… ”
“ওকেই। আমার কোন প্রবলেম নেই। উইথ ইউ, এভরি পজিশন আই উইল এনজয়।”
“আপ….” শুভ্রতার চলতি মুখ বন্ধ হয়ে গেল মেহরাদের মুখ থেকে নিঃসৃত বাক্য শুনে। হা করে কিয়ৎপল তাকিয়ে রইলো মেহরাদের দিকে। সে যেন এখনো বুঝতে পারলো না মেহরাদের কথা।
এদিকে শুভ্রতার হা সদৃশ মুখশ্রী দেখে মেহরাদ চুটকি বাজালো। শুভ্রতা হুশে ফিরলো। হা করেই বললো,
“আপনি একটা অশ্লীল। কি থেকে কি বললেন?”
“কি বললাম?”
“একদম কথা ঘোরাবেন না। আজ এটার ইস্তফা দিবেন। আমি এসব আর নিতে পাড়ছি না।”
“এখনো কিছু দিয়েছি তোকে?”
“দিননি? মাথায় কি পরিমাণ প্যারা দিয়ে রেখেছেন জানেন?”
“উঁহু! আমি যদি কিছু দেই সেটা ওখানে থাকবে। মাথায় কি? আর কিসের প্যারা? এসব তুই নিজে থেকেই নিচ্ছিস। নিজে সেধে সেধে ডেকে এনেছিস। ” শুভ্রতার উদরের নিম্নাংশে ইশারা করে বললো মেহরাদ৷
শুভ্রতার পা’য়ের তালু দুটো শিরশির করে উঠলো। আরক্তিম হলো কপোল জোড়া। সে আবারও লোকটার কথায় খেয় হাড়াচ্ছে। লোকটা তাকে কথার জাদুতে সব ভুলিয়ে দেয় সব সময়! তবে আজ এটা শেষ করেই ছাড়বে সে।
“আপনি…আপনি কিসব বলছেন আজ? আমি সেদিনের কথাটা বলছি। আপনি অযথাই রাগ দেখাচ্ছেন আমার উপর সেটা নিয়ে। ”
“আমি তো কথাই বলছি না! রাগ দেখালাম কই? এখন আবার এই রাগের উছিলাতেও মুক্তি চেয়ে বসবি?”
মেহরাদের হেয়ালি কথায় শুভ্রতার কান্না পেল। মিনিট খানেক আগের লজ্জামিশ্রীত অনুভূতি অদূরে পালালো। মেহরাদ যেন আজ তার কথা না বোঝার পন করে বসেছে!
“একটা কথার দোষে আর কত ভাবে আঘাত করবেন বলতে পাড়েন? আর কতো ভাবে ক্ষমা চাওয়া বাকি?”
নাক টেনে বললো শুভ্রতা। হাতের তালুতে নাক ঘষে আবারও বললো,
“আমি সেদিন কি সিচুয়েশনে ছিলাম সেটা আপনার অজানা? বলেছি নিজের শূন্য অনুভূতি থেকে। নিজেকে জীবনের শেষ দোরগোড়ায় মনে হচ্ছিলো তখন। মনে হচ্ছিলো আমি শেষ হলে সব কিছুর সমাপ্তি হবে। আমি বুঝিই সব নাষের কারিগড়। মানসিক টানাপোড়েনে ছিলাম। বাচ্চা নই বুদ্ধি কম একটু শুধু। তাই বলে ফেলেছি, ক্ষমা চেয়েছিও। একবার না বারবার। মোবাইলে ব্লকও করে দিয়েছেন। এরপর একেবারে নিজের জীবন থেকেও তাড়িয়ে দিবেন। এর জন্যই বুঝি এমন করছেন? আজকের পর আপনার সামনে আর দাড়াবো না এ অভিযোগ নিয়ে।” চোখের জল গড়িয়ে গাল বেয়ে চিবুক ছুলো। সেভাবেই ঘুরে দরজা দিকে ঘুরলাও বের হয়ে যাওয়ার জন্য।
এতক্ষণে বুক ফুলিয়ে শ্বাস ছাড়লো মেহরাদ। তার সামনে ক্রন্দনরত মেয়েটা দরজার কাছে পৌছে গিয়েছ ইতিমধ্যে। সে দু কদমে শুভ্রতার কাধের জামা খামচে ধরে দরজা লক করে দিলো ভালো করে। শুভ্রতাকে নিজের দিকে ফিরিয়ে দেয়ালের সাথে চেপে ধরে বললো,
“নিজেকে ভিক্টিম সাজাচ্ছিস! আমার ইগনোর মেনে নিতে পাড়িস না। আর সেদিন এতো গুলো মানুষের সামনে যখন আমায় ফেলে সামনে চলে গেলি! মুক্তি চাইলি! আমি সেদিন একশত চার ডিগ্রি জ্বর নিয়ে পাগলা কুত্তার মতো হন্যে হয়ে খুঁজেছি তোকে। পাগলের মতো ড্রাইভ করতে করতে কতো বার এক্সিডেন্ট হতে হতে বেচেছি! চোখে ঝাপসা দেখেছি! তা-ও খুঁজেছি তোকে। ঐ ছেলেগুলোর সাথে ঐ অবস্থায় তোকে দেখে নিজেকে পৃথিবীর ব্যার্থ স্বামী, ব্যার্থ প্রেমিক মনে হয়েছে,জানিস? আমি বেঁচে থাকতে তোকে এই অবস্থা ফেস করতে হয়েছে ভাবলেই এখনো আমার রুহ আটকে আসে। ঐ ছেলেগুলোকে কি শাস্থি দিয়েছি নিজের হাতে জানিস? শুধু তোকে ছুঁতে চাওয়ার কারণে? তারপর কি করলি! ঘোরের মধ্যে ব্রিজ থেকে সুইসাইড করতে গেলি! তখনও আরও একবার ভেঙেছি, তারপর শেষ আঘাতটা করেছিস৷ একদম ভেঙে চুড়ে রেখে দিয়েছিলি মুক্তি চেয়ে। আমি তোর মানসিক টানাপোড়েনের কারণ এটা আমার মানতে একসপ্তাহ শুধু ঘোরের মধ্যে গিয়েছে। তারপর মেনে নিয়েছি। তোকে তোর মতো মুক্তি দিয়েছি। এখন এতে তোর এতো সমস্যা কেন? থাক, তুই তোর মুক্তি নিয়ে! আমি মেহরাদ বাচলাম কি মর*লাম, কথা বললাম কি না বললাম তাতে কি? এখন কিছু এসে যাওয়ার কারণ কি? আমি কি তোর চাওয়ার বাইরে কিছু করেছি? ”
শুভ্রতার কান্না বন্ধ হয়ে গিয়েছে সেই কখন। মেহরাদের একের পর এক যুক্তিতর্ক কথা শুনে তার মুখটা আবারও ছোট হয়ে গেল। বিনা হুশে মানুষটাকে কতটা আঘাত করে ফেলেছে সে! সে তার নামের মা’য়ের ডিস্টার্বনেসের মধ্যে এই লোকটাকে কষ্ট দিয়ে ফেলেছে। কিভাবে লাঘব করবে এ কষ্ট সে? সে কান্না ভুলে মিনমিন সুরে বললো,
“কোন ভাবেই কি এগুলো ভুলা যায় না? আমি তো তখন ছোট ছিলাম তাই না?আবার বিনা হুশে ছিলাম।” কাধের জামার একাংশ এখনো মেহরাদের হাতের মুঠোয়। তার কাধের জামার মুঠোয় তার ইনার সহ উপস্থিত। মেহরাদের ঠান্ডা হাতের পৃষ্টদেশ তার কাধের জামার নিচের অংশ ঠান্ডা বানিয়ে দিচ্ছে।
মেহরাদ চোখ ছোট করে তাকালো শুভ্রতার মিনমিনে সুরে। একমাসে বড় হয়ে গিয়েছে! তখন ছোট ছিলো। ভালোতো!
“ভুলা যায় না?” শুভ্রতা আবারও জিজ্ঞেস করলো।
মেহরাদ এমনিতেই সব ভুলে। তবে মেয়েটাকে লাইনে আনতে এতদিন ইগনোর করেছে। ছোট থেকে পেলে পুষে বড় করেছে ;মেয়েটা হুটহাট বোকামি তার অজানা কিছু না। কিন্তু নিজেকে এবার মানাতে খুব কষ্ট হয়েছে তার। এই মেয়েটার জন্য তার ভালোবাসা সব কিছুর ঊর্ধ্বে। মেয়েটার দেওয়া আঘাতও সব ক্ষতের ঊর্ধ্বে। সাড়াতে সময় তো লাগতোই! তাই নিজে সময় নিয়েছে, ওঁকে-ও পুড়িয়েছে। সে সফলও হয়েছে এবার। বলা যায়,
❝ভালোবাসা যত নিবিড়
আঘাত তত গভীর,
ক্ষত যত অন্তর্গত
অবশেষ তত অমোচনীয় ❞
“তুই বড় হয়ে গিয়েছিস? “”
শুভ্রতা উপর নিচ মাথা নাড়াল। তারপর বললো,
“এরপর থেকে বুঝে শুনে জ্ঞান খাটিয়ে কথা বলবো। সত্যিই! এবারের মতো সবকিছু ভুলে টুলে যান প্লিজ।”
“আচ্ছা গেলাম।” মাথা নাড়িয়ে বললো মেহরাদ, শুভ্রতার উচ্ছ্বসিত চোখের দিকে তাকিয়ে।
“সত্যিই?” শুভ্রতা এক প্রকার লাফিয়ে উঠতে চাইলো কিন্তু কাধের উপরে মেহরাদের এক হাত থাকার কারণে পারলো না বেচারি।
“হুম, সত্যিই। কিন্তু এর বিনিময় চাই …..” মেহরাদের চতুর কন্ঠঃ ধ্বনিত হলো। চোখের চাহনি প্রগাঢ়। কাধের কাপড়ের অংশটুকুর নিচে আঙুলের নড়াচড়া দোর্বধ্য৷
শুভ্রতা মেহরাদের ওই লাগামহীন প্রগাঢ় চোখে চোখ রাখতে পাড়েনা। কাধ শিরশির করছে। লোম দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। কোনরূপ বললো,
“বি…বিনিময়! ভালোবেসে ভুলে যাবেন। এখানে আবার কিসের বিনিময়? ”
“ভালোবেসেই ভুলে গিয়েছি। বিনিময়েও ভালোবাসাই চাই। উমমম, গভীর ভালোবাসা….” বলতে বলতেই কাধের কাপড়ের অংশটকুর সাথে লেগে থাকা শুভ্রতার ইনারের স্ট্র্যাপটা আঙুল ডগায় নিয়ে পেচিয়ে উপর করলো। শুভ্রতা বিস্ফোরিত নয়নে চাইলো মেহরাদের দিকে। সমস্ত শরীর ঝাকিয়ে উঠেছে তার৷ মেহরাদের ওই বাহুতে অপর হাতে চেপে ধরলো ও। চোখ মুখে বিস্ময়, আকুতি, লজ্জা সব।
মেহরাদ শুভ্রতার চাহনি থেকে নজর সড়িয়ে মুখটা এগিয়ে নিলো শুভ্রতার কাধের দিকে। লাইটের আলোয় জ্বলজ্বল করা দৃশ্য।
মেহরাদ প্রথম ঠোঁট দুটো ছোঁয়ালে আঙুলের ডগায় অবস্থিত কালো বস্তু খানায়। শুভ্রতার সাড়া শরীর হিম হয়ে এলো। হৃদযন্ত্রটা ধ্ব্ক ধ্ব্ক করে বাজতে লাগলো। অজানা লাভুডাভুতে পা দুটি দাঁড়িয়ে থাকার ক্ষমতা হাড়াচ্ছে। এরপরই উন্মুক্ত কাধে অনুভব করলো উষ্ণ ঠোঁটের গভীর ছোঁয়া। তারপর ঘারে।
মেহরাদ আঙুলটায় আরেকটা পেচ টেনে শুভ্রতাকে আরও নিকটে আনলো। কানের কাছে খুবিই ধিমে, সফটলি আওড়াল,
“আমার যে হক, সেটা সম্পূর্ণ হালাল ভাবে অস্বাদন করতে চাই। ”
মেহরাদের এমন ভালোবাসার কথা শুনে শুভ্রতা সাথে সাথেই নিশ্বাস আটকে তোতাপাখির মতো বললো,
“এর থেকে তো কিছু না ভুলাই ভালো ছিলো!”
মেহরাদ ঠোঁট কামড়ে মৃদু হেসে ফেললো শুভ্রতার বাচ্চামো কথা শুনে। শব্দ করে স্ট্র্যাপটা ছাড়লো কাধের উপরে। শুভ্রতা ‘উফফফ’ করে উঠলো। ব্যাথা পেয়েছে মেয়েটা। এক হাতের তালু ঘষা শুরু করলো সেখানটায় চোখ মুখ কুচকে।
“ব্যাথা পাইনা? উফফফফ!” চোখ কুচকেই বললো শুভ্রতা।
“এসব আমার একদম ভালো লাগে না। আমার সামনে মোটেও না। এরপর থেকে এটা মাথায় রাখবি। আর না হলে…”
“না হলে কি, হু? নির্লজ্জ, অসভ্য লোক। আমি আর এখানেই আসবো না। ”
“তোর কাজটা আমি করে দিবো। আমি মিন… ”
“ছিহহহহ্! আমি আর আসবোই না এ রুমে। সড়ুউউন…” বলেই শুভ্রতা ঘুরতে নিলে এক ঝটকায় শুভ্রতার বাহু চেপে ধরে মেহরাদ।
“এসেছিস তোর ইচ্ছেয়, যাবি আমার ইচ্ছেয়। আজ এখানেই,আমার সাথে রাতের অন্তিম প্রহর গুনবি । ” বলেই শুভ্রতাকে নিয়ে বিছানায় পৌছে গেলো। এক হাতে লাইট অফ করে ডিম লাইট জ্বালিয়ে দিলো৷ তার উন্মুক্ত দেহে চেপে শুভ্রতাকে বাহুডোরে আটকে শুয়ে পড়লো বিছানায়।
“ভোরের আগে ছুটি নেই। ঘুমা।”
শুভ্রতা চোখ বড় বড় করে ফেললো। আতংক নিয়ে বললো,
“কি বলছেন? কেউ বুঝতে পারলে কি ভাববে জানেন?”
“হু ক্যায়ারস? কারো অজানা না কিছু। ”
“তবুও…”
“চুপ আর একটা কথাও না। কিছুই তো করছি না তোকে। শুধু একটু জড়িয়ে ধরে ঘুমাবো রিল্যাএক্সে। আজ প্রচুর প্রেশার গিয়েছে। নিড ইউর কোম্পানি বেইবি। তুই কাছে থাকলে আমার সকল ক্লান্তিরা হুর হুর করে পালায়। এখন চুপচাপ ঘুমাবি। নয়তো অঘটন ঘটাতে সময় লাগবে না কিন্তু!”
হুহ্! ক্লান্তিরা তো হুর হুর করে পালাবেই! তা না হলে তাকে জ্বালাবে কি করে! মনে মনে মুখ মুচড়িয়ে শুভ্রতা চুপটি করে মেহরাদের বাহুতে পড়ে রইলো। নিশ্বাস ফেলছে গুনে গুনে। তার পিঠ ঠেকেছে মেহরাদের উন্মুক্ত বুকে, মাথা মেহরাদের বাহুতে। শুভ্রতা অনুভব করলো একটা হাত তার কাধ উন্মুক্ত করছে, শুভ্রতা দ্রুতই হাত দিয়ে কাপড় চেপে ধরলো কাধের উপর। এই না শুধু ঘুমোবে, রিলেক্সে! এসব আবার কি?
মেহরাদ সড়িয়ে দিলো শুভ্রতার হাতখানা । শুভ্রতা আবার দিলো, মেহরাদ এবারও শক্তি খাটিয়ে সড়িয়ে দিলো। এযাত্রায় হাতটা চেপে ধরে নির্লজ্জের চুরান্তে গিয়ে বললো,
“আর একটু বেশি করবি, আমার গা’য়ে যতটুকু আছে ততটুকুও রাখবো না তোর। এন্ড আই হেব দ্যা রাইট এন্ড স্ট্রেন্থ, বোথ বেইবি (এবং আমার অধিকার এবং শক্তি দুটোই আছে।)। ” বলেই উষ্ণ ঠোঁট জোড়া চেপে ধরলো উন্মুক্ত কাধে।
শুভ্রতা কুকড়ে গেল মেহরাদের ছোঁয়ায়। লোকটা আজ বেশ পাগলামো করছে। এতো দিনের ভালোবাসা সব জমিয়ে রেখেছিলো যে সেগুলো না-কি? সে আর বাধা দিবে কি! মেহরাদের একের পক এক ছোঁয়ায় মেয়েটার নাজেহাল অবস্থা। অনুভূতিকে সামাল দিতে হিমশিম কাচ্ছে। বড় বড় নিশ্বাস টেনে নিচ্ছে ভিতরে। তার মনে হচ্ছে তার অক্সিজেনের ঘাটতি পড়ছে বোধহয়।
মেহরাদ শুভ্রতার গভীর ভারী নিশ্বাসে আরও বেশি বেসামাল হচ্ছে। আন্দোলন হচ্ছে পুরুষালী দেহের রন্ধ্রে রন্ধ্রে। মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে মন গহীনের বহুল কাঙ্খিত অদম্য অনুভূতি। মেয়েটা কাছে এলেই তার সকল কিছু বেলাগাম বেপরোয়া হয়ে উঠে।
নিজেকে দমিয়ে রাখায় দায়।নিশপিশ করা হাতটা চেপে ধরলো কামিজের ফাঁক গলিয়ে শুভ্রতার মেদহোন চিকন নরম তুলতুলে উদরে। চেপে টেনে নিয়ে আসলো আরেকটু নিজের কাছে। মিশিয়ে নিলো সম্পূর্ণ নিজের সাথে। নাক ঘষলো ঘারে। হাতের স্পর্শ এলোমেলো উদরের উপর।
শুভ্রতা গুঙ্গিয়ে উঠলো নরম, কোমল আওয়াজে। মেহরাদের হাতের উপর নিজের শক্তিহীন কাপা হাতটা চেপে ধরে ফিসফিস করে বললো,,
“উমমম, এ…মন করবেন না প্লিজ। আমার নিশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। আপনার ছোঁয়া এ… এতো…বেসামাল।. ”
“আমি মানুষটাই তোর সংস্পর্শে বেসামাল, বেলাগাম হয়ে যাই। আর ছাোঁয়া তো উপর নিচ, ছন্নছাড়া হবেই৷”
“আমি নিতে পাড়িনা যে! ”
“নিতে হব জান। ভবিষ্যতে আরও গভীরভাবে ছুঁবো। এখন থেকেই প্রিপেয়ার হতে হবে তোকে। ”
শুভ্রতা চোখ মুখ কুচকে শক্ত ঢোক চাপলো। মেহরাদের হাতটা শক্ত করে চেপে ধরেছে উদরে। কাধে দন্তের আঘাত অনুভত হচ্ছে তীক্ষ্ণ ভাবে। শুভ্রতা আবারও গুঙ্গিয়ে উঠলো,
“উমম,ব্যাথা পাই!”
উন্মুক্ত লাল ক্ষত হওয়া কাধে নাক ঘষলো মেহরাদ। সফট, হাস্কি টোনে আওড়াল,
হৃৎস্পন্দন পর্ব ৩২
“আরও ব্যাথা পাবি। তবুও স্বাধরে গ্রহণ করবি। এভাবেই মেনে নেওয়ার চেষ্টা করবি। তোর ভালোবাসার, ভালোবাসা আর রোমান্স দুটোই খুব হাই ইরোটিক লেভেলের । খুব বেশিইই….দেট ইউ কা’ন্ট ইমেজিন বেইবি। Day by day, আমার ছোঁয়া আরও তীব্র আর তীক্ষ্ণ হবে। এবং তোকে সবটা প্রাউডলি এবং পেশেন্টলি এক্সেপ্ট করতে হবে, ফর মাই সেক । ওকেই, মে’রি জান?”
শুভ্রতার পুরো দেহে উষ্ণ তাপদাহ ছড়িয়ে পরেছে। মেহরাদের এই অল্প ছোঁয়াতেই তার অক্কা পাওয়ার মতো অবস্থা। আবার নাকি ইরোটিক লেভেলের রোমান্স! কেমন ইরোটিক? কতটা ইরোটিক? শুভ্রতা বেচে থাকতে পাড়বে তো!!!!
