হৃৎস্পন্দন পর্ব ৪৬
সাঞ্জেনা শাজ
প্রিন্সিপালের রুমে মিটিং বসেছে। শায়ান তালুকদার বসে আছেন রণমুর্তি হয়ে। মেয়েকে আজ কোচিং এর জন্য আনেন নি। গতকাল হাসপাতাল থেকে নিয়ে সারা রাত মেয়েটা ব্যাথায় ছটফট করেছে। কলেজে আসারও সুযোগ পায়নি। তাই আজ এসেছে। যদিও মেয়ে নিষেধ করেছিলো, কিছু না বলতে। কিন্তু তিনি টলেন নি। মেয়েকে নিয়ে কোন কিছুতেই আর ছাড় দিবেন না তিনি।
“প্রিন্সিপাল সাহেব, আপনার কলেজের শিক্ষককে জিজ্ঞেস করুন, উনি ঠিক কোন অপরাধে আমার মেয়েটাকে এরকম জঘন্য একটা শাস্থি দিয়েছে? উনার জানার বাহিরে ছিলো, শুভ্রতার পা’য়ের সমস্যার কথা?”
খ্যাঁক করে উঠলো শাকিল স্যার। চিড়বিড় করে উঠলো রাগে, “পা’য়ে সমস্যা, পঙ্গু মেয়েকে এতো পড়ানোর জন্যই কি গেলো! আমি শিক্ষক, ছাত্র ছাত্রী কে শাস্থি দিতেই পারি। তাই বলে আপনি একজন সম্মানিত শিক্ষকের গা’য়ে হাত তুলবেন? পুলিশ কেস করবো আমি আপনার নামে। ”
শায়ান তালুকদার ঘার বাকিয়ে তাকালেন দূরে দাঁড়িয়ে থাকা শাকিল স্যারের দিকে। নাক, ঠোঁট ফেটে রক্ত ঝড়ছে। এ কাজও করেছেন তিনি নিজেই। তবুও ভালো,গতকাল দেখা হয়নি। হলে ঠিক গলা চেপে ধরতো। আজ কলেজে এসে দেখা পেতেই দুই চার ঘুষি মেরে দিয়েছে। তার কথা, তার মেয়েকে শাস্থি, দিয়েছে, তা যেমন আর ফিরিয়ে নেওয়া যাবে না, তার দেওয়া মা’ইর নিয়েও কিছু করা যাবে না। বিচার শালিস যা হবে দেখা যাবে!
এরকম শিক্ষক নামের জানোয়ারদের এরকমই করা উচিৎ। এরা শিক্ষকের শাসন নামের অজুহাতে নিজেদের জালিম রূপ দেখায় মাঝেমধ্যে। এরকম শিক্ষকদের কঠিন থেকে কঠিনতম শাস্থি হওয়া উচিৎ!
“যে কেস’ই করেন না কেন, গিয়ে দেখবেন আপনার পুলিশেরও বাপ আমি। ”
“আপনি…”
“থামুন, এবার প্লিজ। ”
প্রিন্সিপাল স্যারের ধমকে থেমে গেলো শাকিল স্যার। কিন্তু রাগ জেদ একটুও কমলো না।
চিন্তায় পড়লো সেই সাথে। এই লোকটা কে এমন, যে যার জন্য তার মেয়েকে সকল টিচার’রা স্পেশাল ক্যায়ার করে! এমনি তে তো, খুব সাধারণই মনে হয়।
“দেখুন, মিস্টার তালুকদার। আমাদের কলেজের স্যার যেটা করেছে, খুবিই নিন্দনীয় অপরাধ করেছে। এর জন্য আমি তার হয়ে ক্ষমা চাইছি আপনার কাছে। শিক্ষকের কাছে ছাত্রছাত্রী সন্তান সমতূল্য। আমরা তাদের শাস্থি দিতেই পারি। কিন্তু লিমিটেশনে রেখে। মা বাবা যেমন সন্তান যতটুকু আঘাত নিতে পারবে তা চিন্তা করে শাসন করে আমরাও ঠিক ততটুকুতেই সীমাবদ্ধ থাকার চেষ্টা করি। কিন্তু তিনি তা ক্রস করেছেন। আমি খুবিই লজ্জিত এ বিষয়ে। কিন্তু, সেই সাথে আপনিও নিজের হাতে সব কিছু নিয়ে ভালো কিছু করেন নি। আমি চাইবো, এসব কিছু এখানেই শেষ হোক, না-হয় আমাদের কলেজের রেপুটেশন খারাপ হবে। আশা করি আপনি বুঝবেন!”
“স্যার, আপনিও ওই লোকটার কথাই বলছেন। আমায় যে আঘাত করলো তার জন্য কোন স্টেপ নিবেন না? আমি আজই এই কলেজ থেকে বেরিয়ে যাবো, যদি আপনি কোন স্টেপ না নিন।” শাকিল স্যার এগিয়ে এসে প্রিন্সিপালের ডেস্কের সামনে দাড়িয়ে বললো।
প্রিন্সিপাল স্যার খুব রেগে গেলেন। শাকিল স্যারের নিয়ে কম কমপ্লিন পাওয়া হয় নি এ পর্যন্ত। কিন্তু তিনি তেমন কিছুই পাবলিশড করেন নি রেপুটেশনের ভয়ে। দেখা যাবে, ঘটেছে এক, লোক জানবে এক, মানুষকে জানাবে আরেক। একে একে কলেজের রেপুটেশন খারাপ হতে থাকবে এতে। তাই এড়িয়ে গিয়েছেন। কিন্তু দিন দিন তিনি লিমিট ক্রস করেই যাচ্ছেন। এর বিহিত করা দরকার। তাই কিছুটা কড়া স্বরেই জানালেন,
“আপনায় যেতে হবে না। আমি নিজেই আপনায় এ কলেজ থেকে ডাস্টিগেট করে দিবো। আপনার সম্পর্কে এর আগে থেকেও কপ্লেইন পেয়েছি আমি। আপনায় জানানোও হয়েছে। কিন্তু আপনি শুধরান নি। আপনার মতো একজন টিচারের জন্য আমার কলেজ, কলেজের শিক্ষার্থীরা কোন ভাবে হেও হোক তা আমি চাইনা। আপনি এখন আসতে পারেন।”
” কিন্তু স্যার….”
“দারোয়ান, সাহেব! স্যারকে নিয়ে যান প্লিজ।”
দু’জন দারোয়ান সঙ্গে সঙ্গে অফিস কক্ষে ঢুকতেই তীব্র অপমান বোধে শাকিল স্যার অফিস হতে বেরিয়ে গেলেন। রোষানলে পুড়তে পুড়তে জ্বলসে যাওয়া দৃষ্টিতে দেখে নিলেন শায়ান তালুকদারকে।
শায়ান তালুকদার সেসব দেখেও কোন রা’মাত করলেন না। তিনি যা চেয়েছেন তাই-ই হয়েছে। ব্যাস এতেই হলো। এবার তিনি চেয়ার ছেড়ে উঠে যেতে যেতে প্রিন্সিপালের উদ্দেশে বললেন,
“ধন্যবাদ স্যার। শিক্ষার্থীদের হুমকি স্বরুপ কোন শিক্ষকই শিক্ষা দানের যোগ্যতা রাখে না। তাদের সাথে শিক্ষক তকমাটা আসলে যায় না। বলা যায়, দুর্জন বিদ্বান হলেও পরিত্যাজ্য। ওনার বিষয়টাও ঠিক তাই-ই। আপনার সিদ্ধান্তে আমি খুব খুশি হয়েছি। অনেকেই হয়তো এটা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করতো, কিন্তু আপনি তা করেন নি। অস্যংখ্য ধন্যবাদ আপনায়। ”
প্রিন্সিপাল স্যার কপালের ঘাম মুছে হালকা হাসলেন। অতীত অতীত রেখেই ধামাচাপা দিলেন হেসে। একজন রিটায়ার্ড আর্মির মেজরের সাথে তিনি কিভাবে পেরে উঠতেন সব কিছু ধামাচাপা দিতে গেলে? তাই তো ভালো ভালোই সব মেনে গেলেন। নাহলে কে-ই বা চায় নিজের কলেজের রেপুটেশন খারাপ করতে! এই যে একজন শিক্ষককে বাতিল করা হলো , কতো কুৎসা রটবে এতে! সব তো তাকেই পোহাতে হবে!
তবুও তিনি হেসে শুভ্রতার কথা জিজ্ঞেস করলেন। আর কোচিং এ আসবে কি-না তা জিজ্ঞেস করলেন। শায়ান তালুকদার জানালেন, “শুভ্রতা আর আসবে না। এমনিতে সপ্তাহ দশ দিন খানেক বাকি পরিক্ষার। ঢাকা ব্যাক করতে হবে। অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষার্থীকে এতো দিন কোচিং করার সুযোগ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানবেন, প্রিন্সিপাল সাহেবকে। আজ আসি। শুভ্রতা যাওয়ার আগে একদিন না-হয় দেখা করতে নিয়ে আসবো আপনাদের সাথে। আসছি। ”
“ঠিক আছে। ঠিক আছে। আবার আসবেন মেজর সাহেব। ” বলেই হেসে এগিয়ে দিলেন ওনায়, প্রিন্সিপাল। শায়ান তালুকদার আরও একবার বিদায় নিলেন ওনার কাছে।
দুই দিন পের হয়েছে শুভ্রতা কোচিং এ যায়না। পরিক্ষার বাকি এক সপ্তাহ। আজ থেকে ঠিক সাত দিন পর সে আবার সেই চিরচেনা কলেজে, ঢাকার অলিতে-গলিতে থাকবে।হয়তো পুরনো সেই মানুষ গুলোকে দেখবে। পুরনো সেই সুখ সুখ স্মৃতি গুলো অন্তরে নাড়া দিবে। বুকে হাহাকার বাড়াবে। শূন্য এ বুক আগের পূর্নতা খুঁজে বেরাবে। সোহানা, সামান্তা, আশিককে দেখবে।
আচ্ছা, এতদিন পর ওরা যদি আমায় দেখে, তাহলে কি আমার সাথে কথা বলবে? নাকি রাগ দেখিয়ে থাকবে? না-কি ভুল বুঝে আছে? নাকি আমায় চিনবেই না?
নিশ্চয়ই আমায় চিনেও না চেনার মতো থাকবে তাই না! আমায় চিনে কি লাভ ওঁদের! আমি কে! কেউ না! না, তালুকদার বাড়ির মেয়ে, না বউ…..
বউ? কার বউ? ওই মানুষটার? এতো বছর সব উঝার করে যে ভালোবেসে গেলো, সেই মানুষটা মানে এখনো বউ তাকে? মানলে কি না খুঁজে থাকতে পারতো? তার কে আছে এখন? কেউ নেই। নাহ, বাবা আছে তো! এই যে শুধু তাকে নিয়েই তো বেচে আছে সে। সে ছাড়া যে ওই মানুষটারও কেউ নেই। কেউ না।
হটাৎই চিৎকার করে কেঁদে উঠলো শুভ্রতা। শাওয়ারের নিচে বসে ভিজে যাচ্ছে ঘন্টা পের হবে। এক হাটু থুতনিতে ঠেকানো। আরেক পা ব্যাথিত, যেটা ছড়ানো ফ্লোরে। এই এক পা’য়ের দিকে তাকালে শুভ্রতার দুনিয়ার সকল কিছু অন্ধকার ঠেকে। তাকে দেখিয়ে দেয়, সে ঠিক কি এখন! সে কারো যোগ্য নয়। তার কমতির কোন খামতি নেই। তার মতো মেয়ে বোঝা ব্যাতিত কিছুই না। কিছুই না। কিন্তু সে তো কারো বোঝা হতে চায় না! কারো দয়া দাক্ষিণ্য পেতে যায় না। অনুগ্রহ চায় না।
এ দুনিয়ায় সকল চিন্তারা শুভ্রতার ভাঙা হৃদয়ে হাতুড়ি পেটাচ্ছে। জানান দিচ্ছে, তার হৃদয়ে ক্ষত’র অভাব নেই। তারা শুভ্রতাকে কখনো একা ছাড়ে না। একা থাকতে দেয় না। সুখের সাথে দূর দূরান্ত তাক তার কোন রিশতা নেই৷ কিন্তু দুঃখকে তার কখনো পর মনে হয় না। কখনো যে সঙ্গই ছাড়ে না!
দু হাতে মুখ চেপে কেদেই যাচ্ছে মেয়েটা। গলায় কাটা তারের মতো আটকে থাকা দুঃখ কষ্ট গুলো চার দেয়ালের বারি খাচ্ছে। রোজকার রুটিন তাদের, শুভ্রতা নামক এক রমনীর কন্ঠের চিৎকার, কান্না এগুলো তাদের অভ্যাসে পরিনত হচ্ছে এখন।।
এরকম করে, ঠিক আরও আধা ঘণ্টা পর শুভ্রতা শাওয়ার নিয়ে বের হলো। পরনে নরমাল সুতি থ্রি পিস। চোখ মুখ এতটা ফোলা! ফর্সা ত্বক ফ্যাকাসে হয়ে আছে। চোখের নিচে দীর্ঘ রাত জাগার অন্ধকার প্রতিফলন। ছোট্ট চিকন নাকে একটা ছোট্ট নাক ফুল। গলা, কাধের হাড্ডি ভেসে আছে। এক পা’য়ে ভর দিয়ে ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাড়িয়ে চুল গুলো তোয়ালে দিয়ে মুচছে। চেহারার দিকে নজর নেই। খুব কমই নজর দেওয়া হয়। আয়নায় নিজের চোখ দুটো কেও দেখতে ভয় পায় সে। এ চোখেও সে তার মেহরাদ ভাইয়ের জন্য, তীব্র হাহাকার দেখে। তাইতো দৃষ্টি পরখ করে না।
আয়নায় নিজের দৃষ্টিতে,দৃষ্টি না মেলাতে পারার মতো ভয়ংকর কিছু এ দুনিয়ায় দুটো নেই। কিচ্ছুটি না।
শুভ্রতা সে ভয়ংকর রোগে ভোগে। দীর্ঘ মাস ধরে ভুগছে। এক প্রণয় পুরুষের জন্য পুড়ছে। যে পুরুষ তার অস্থিত্বে মিশে ছিলো। গভীর ভাবে ভালোবেসে ছিলো। তাকে আগলে রাখতে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত চেয়েছিলো। কিন্তু শুভ্রতা তো তার যোগ্য নয়। তার জীবনে বোঝা ছাড়া কিছুই হবে না এখন সে।
ভালোবাসার মানুষকে বোঝা তে আটকাতে নেই, মুক্তি দেওয়া উচিৎ। মুক্ত বিহঙ্গের মতো বাচতে দেওয়া উচিৎ।তাই সে দিয়েছে।
মেয়েটা নিজেকেই আনমনে আবার প্রশ্ন করে, আর সে বাচবে কবে? জবাব মেলে, যে দিন দেহ থেকে আত্নার মুক্তি মিলবে সেদিনই সে বেঁচে যাবে।
শুভ্রতা আনমনে ক্লেশ হেসে সহমত জানালো। কাধ ছাড়ানো ছোট চুল গুলো হাসপাতালের সে বিভৎস দিন গুলোর কথা মনে করিয়ে দেয়। আবারও দলা পাকানো কান্না গুলো হানা দিচ্ছে দু চোখ ভরে। শক্ত ঢোক চেপে গিলে ফেলতে চায় মেয়েটা সেসব। পারে না। বিনা অনুমতিতে অশ্রু ঝড়ে কপোল বেয়ে। একটু হেটে বিছানায় বসে পরে ধপ করে, শরীর কাপে তীব্র ঠান্ডায় , নাকি সেই মানুষটার বিয়োগের চিন্তাতে, তা অজানা। ।
এই এক মানুষের স্মৃতি তাকে ঢেউয়ের মতো ভাসিয়ে দূরে নিয়ে যায়। এতো অদূরে, সে তখন হাতরে কিছু পায় না। অন্ধকার, অন্ধকার ব্যাতিত। স্মৃতির হাতটা ছায়া হয়ে যায়। তাকে ফেলে রাখে যায় হাহাকারে মুড়িয়ে।
মেয়েটা আবারও বাস্তবতায় ফিরে। চুল গুলো পিঠময় ছড়িয়ে দিতে দিতে আবারও ঘোরে ডুবে। আনমনে আওড়ায়,
“এই চুল গুলো বড়ো হচ্ছে না কেন? কবে বড়ো হবে? মেহরাদ ভাইয়ের কতটা পছন্দ ছিলো আমার চুল গুলো। ছিলো? এখন? এখন নিশ্চয়ই নেই! কে-ই বা পছন্দ করবে এরকম মেয়েকে! ”
সুন্দর অতীতে আবারও বিভৎস বর্তমান হানা দিয়ে বাস্তবতায় ফিরিয়ে আনলো মেয়েটাকে। যদি স্মৃতি হত্যা করা যেতো, শুভ্রতা সবার আগে এই স্মৃতি গুলোকে বুঝি হত্যা করে ফেলতো! এরা শুভ্রতাকে আবারও এইরকম দিন ফিরে পাওয়ার লোভ দেখায়। কিন্তু শুভ্রতা তো লোভি হতে চায় না। এ লোভে নিজেকে শেষ করে দেওয়ার মতো কষ্ট’রা আকড়ে ধরে।
সন্ধ্যায় শুভ্রতাদের ফ্ল্যাটে শুভ্রতার এখানকার নতুন এক বান্ধবী আসলো। এখানে আসার পর থেকে এই এক জনের সাথেই মেয়েটার কথাবার্তা হয়। পরিচয়। ভাগ্য ক্রমে মেয়েটাও তাদের একই ভবনের ফ্ল্যাটে থাকে। আবার কলেজেও একিই ক্লাসে পড়তো। তাই বন্ধুত্বটাও একটু গাঢ় হয়েছে।
সন্ধ্যায় দু’জনে এক সাথে স্টাডি করছে। শুভ্রতাকে এটা ওটা দেখিয়ে দিচ্ছে মহিমা। মেয়েটার কিছুটা মন খারাপ। শুভ্রতারা চলে যাবে পরিক্ষার জন্য ঢাকা, তাই। পড়া দেখে নেওয়ার ফাঁকে শুভ্রতা আলতো গলায় ওঁকে বলল,
“মন খারাপ করিস না। পরিক্ষা শেষ হলেই তো চলে আসবো। ওখানে তো আর থাকছি না, বল!”
“যদি না আসিস? পুরনো স্মৃতি পিছু টেনে ধরলে তো, না-ও ফিরতে পারিস বল?” মেয়েটা মন খারাপ জানালো।
শুভ্রতা এক সিন্ধু পরিমাণ বিষাদ নিয়ে দীর্ঘ শ্বাস ত্যাগ করে বললো,
“স্মৃতির কথা জানি না। কিন্তু পুরনো মানুষ কেউ পিছু টেনে ধরবে নারে। কে ধরবে! কেউ নেই তো! তুই চিন্তা করিস না। বেচে থাকলে ফিরে আসবো এখানেই। ওখানে স্মৃতি থাকলেও স্মৃতির মানুষগুলো নেই। স্মৃতির পরিবর্তন হতে দেখলে মৃত্যু যন্ত্রণা হয় রে। এর থেকে দূরে থাকাই ভালো। ”
হৃৎস্পন্দন পর্ব ৪৫
মহিমা সংযোত করলো নিজেকে। নিজের মন খারাপে সে মেয়েটার পুরনো কষ্ট মনে করিয়ে দিচ্ছে। এটা একদমই ঠিক না। কথা ঘুরানোর চেষ্টা করলো সে। আজ কলেজে কি কি হয়েছে তা জানালো। শুভ্রতা সম্পর্কে সব জানা মেয়েটার। আর জেনেই, তার দেখা সবচেয়ে অভাগী, এ মহাবিশ্বে, শুভ্রতা ছাড়া কেউ আছে কি-না তা নিয়ে সন্দেহ জাগে মেয়েটার।
জীবন মেয়েটাকে কোথা থেকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে, তা বুঝাও দায়। এ জীবন তরীর ভেলা কোন ঘাটে ভীরে কে জানে!
