Home ৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি ৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ২

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ২

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ২
রুপান্জলি

,,,দরজা খুলে ঘর থেকে বের হতেই দরজার বাহিরে দেয়ালে হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে থাকা আদ্রিয়ানকে দেখে অর্পনার ভ্রুঁ কুচকে এলো। এই হেংলা এখানে কি করছে, সারা রাত এখানে ছিলো নাকি? এসব আবার কি নাটক? এই ছেলে কি বুঝেনা? তার প্রতি অর্পনার বিন্দু পরিমান অনুভূতি কাজ করেনা? না না!! অনুভুতি কাজ করেনা বিষয়টা এমন নয়। তবে যেই অনুভুতিটা কাজ করে সেটা হলো শুধুমাত্র বিরক্তি। এই ছেলেকে দেখলে তার মনে চরম বিরক্তি জাগে, মন চায় থাপরে গাল লাল করে দিতে। তবে এখন যেহেতু তার দরজার পাশে হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে আছে তাই এটাকে ডেকে জাগিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব তারই। অর্পণা কিছুটা ঝুকে আদ্রিয়ানের পরনের স্যুট টেনে ডাকলো –

,,,এইযে প্রোফেসার, বাড়ি নেই? এখানে ঘুমাচ্ছেন কেনো?
,,,সাথে সাথে ধরফরিয়ে উঠলো আদ্রিয়ান, অর্পনাকে সামনে দাড়িয়ে থাকতে দেখে ওর দু বাহু আকরে ধরে বিচলিত কন্ঠে সুধালো — তুমি ঠিক আছো জানেম? কি হয়েছিলো রাতে? ভাঙচুর করছিলে না কেনো?
,,,অর্পনা ভ্রু কুচকে সন্দিহান কন্ঠে জিঙ্গেস করলো — আপনি কি চান,আমি ভাঙচুর করে আমার বাবার এতো দাম দিয়ে কেনা ফ্লাট টা ভেঙে গুরিয়ে দেই?
,,,আদ্রিয়ান চিন্তিত মুখেই হালকা হাসি ফুটিয়ে বললো — না না তা বলিনি, মানে কাল তোমায় এতো ডাকলাম উত্তর করলেনা যে?
,,,,অপর্না বাহু থেকে আদ্রিয়ানের হাত সরিয়ে বিরক্তি ভরা কন্ঠে বললো — মন চায়নি করিনি, আর আপনাকে ডাকতে বলেছে কে? কতোদিন নিষেধ করেছি আমার পিছনে সময় নষ্ট না করতে? আপনার প্রতি আমার কোনো অনুভূতি নেই, সামান্য পরিমান ও না। আমার জন্য সময় নষ্ট করা শুধুই সময় নষ্ট, তাই বলবো নিজের ভালোটা বুঝে নতুন কাউকে নিয়ে সংসার করা শুরু করুন। বয়স তো কম হলোনা? ২৮ চলে, এবার একটা ভাবি আনুন, যদিও আপনাকে আমি ভাই হিসেবেও মানিনা।

,,,,আদ্রিয়ান সেসবে পাত্তা দিলোনা, এই মেয়ের এক কথা। এসব সেও বহুবার শুনেছে আপাতত এসব শুনতে শুনতে তারো বিরক্তি ধরে গিয়েছে, তাই এসবে আর কান দিবেনা। আদ্রিয়ান তিক্ষ্ণ চোখে সামনে দাড়ানো মেয়েটাকে পরখ করতে লাগলো, কোথাও কোনো আঘাত কিংবা অঘটন ঘটিয়েছে কিনা। হিসাব মাফিক ডান হাতে একটা কাটা দাগ থাকার কথা কিংবা সফেদ রঙা বেন্ডেজ থাকার কথা। কিন্তু ডান হাত তো মেয়েটা পকেটে ঢুকিয়ে রেখেছে, তাহলে সে এখন হাতটা দেখবে কি করে? আদ্রিয়ান কিছুটা গাড়ো নিশ্বাস ফেলে বললো — জানেম!! তোমার ডান হাতটা
পকেট থেকে বের করো, কতোটুকু কেটেছে আমি দেখতে চাই।
,,,সেসব দেখে আপনার কি কাজ? আমি বেন্ডেজ করে নিয়েছি। এসব আবার পাপ্পাকে বলতে যাবেন না তাহলে দেখা যাবে, ইয়াং ম্যান কাজ কাম ছেড়ে তর্পি তর্পা গুটিয়ে আমার কাছে চলে এসেছে।
,,,অর্পনার মুখ থেকে কথাটা বেরুতে দেরি ফ্লাটের কলিং বেল বাজতে দেরি নেই, অর্পনা রাগে কটমট করে আদ্রিয়ানের দিকে তাকালো। আদ্রিয়ান ঠোট চেপে এদিক ওদিক নজর ঘুড়িয়ে নিজেকে সাধু প্রমান করতে চাইলো। অর্পনা দেখলো সেই সাধু গিরি, নির্ঘাৎ ওপাশে পাপ্পা আছে, যদি ওপাশে পাপ্পা থেকে থাকে তাহলে এই চামচিকার আজ জান কবজের ব্যাবস্থা করে দিবে সে। ফালতু লোক!! অর্পনা ধীরো গতিতে দরজার দিকে এগিয়ে দরজা খুলতেই ওপাশে কাঙ্ক্ষিত মানুষটিকেই দেখতে পেলো। আরশাদ জামান মেয়েকে চোখের সামনে দেখতে পেয়ে এক পাশে জড়িয়ে ধরে বিচলিত কন্ঠে সুধালেন — আমার প্রিন্সেস!! রাতে কি হয়েছিলো তোমার? দরজা লক করে রেখেছিলে কেনো? ভাঙচুর করছিলে? পাপ্পা তোমায় কতোবার কল দিলাম কিন্তু তোমার ফোন বন্ধ। তোমার পাপ্পার বুঝি টেনশন হয়না?

,,,বাবার আহ্লাদে অর্পনাও খানিকটা আহ্লাদি হলো কিছুক্ষণ বাবার বুকে পরে থেকে কপট রাগ দেখিয়ে বললো — তো ইয়্যাং ম্যান!! তুমি এখানে কি করছো? ডিউটি নেই? এরকম হেলা ফেলা করে ডিটেকটিভের জব? তোমাকে চাকরি থেকে বের করে দেয়না?
,,,মেয়ের কথায় হাসলেন আরশাদ জামান, মেয়েকে সোজা করে দাড় করিয়ে দুটো হাত বের করে নিজের হাতের মুঠোয় নিলেন। ডান হাতটা বেন্ডেজে মুড়ানো ওপর দিয়ে হালকা ছোপ ছোপ র*ক্তের দাগ বুঝা যাচ্ছে। আরসাদ জামান সেখানে হাত ছুইয়ে আফসোসের স্বরে বললেন— ইসস!! এরকমটা কেনো করলে আম্মু? অনেকটা কেটেছে নিশ্চয়ই? পাপ্পাকে টেনশন দিয়ে কি আনন্দ পাও বলোতো?
,,,অর্পনা হাত দুটো গুটিয়ে নিয়ে বাবার বুকে মাথা হেলিয়ে বললো — সরি পাপ্পা!! ওন্ট ডু সামথিং লাইক দিজ এগেইন।
,,, বাবা মেয়ের সুন্দর মুহুর্তের মাঝে দু কাপ কফি নিয়ে হাজির হলো আদ্রিয়ান। দু কাপ দেখে অর্পনা ভাবলো তার জন্য বোধয় বানায়নি তাই সেদিকে পাত্তা না দিয়ে ব্যাস্ত কন্ঠে বললো — এসেছো যখন বাড়িতে বসে থাকো, তোমার গোয়েন্দাগিরি জাহান্নামে যাক, আমি আপাতত বাড়িতে থাকছিনা। আজ ভার্সিটি এটেন্ড করতেই হবে, আরজেন্ট!!

,,,বলেই রান্নাঘরের দিকে এগুতে নিবে বাতাসের মতো শো করে ওর সামনে হাজির হলো আদ্রিয়ান, এক কাপ কফি এগিয়ে দিয়ে বললো — এটা তোমার জন্যই বানিয়েছি, আর হে!! আজ তোমার কোথাও যাওয়া হচ্ছেনা।
,,,আপনার কথায়?
,,,তো? আবার কার কথায় ?
,,,অর্পনা কফির কাপটা নিয়ে সোফায় পা ভাজ করে বসলো। এটা সে বরাবরি করে, সবাই যেই নিয়মে সোফায় বসে সে সেভাবে বসতে পারেনা। মোট কথা সে ভদ্রলোকেদের মতো চলাচল করতে পছন্দ করেনা। দু পা ভাজ করে ইউগা স্টাইলে বসে কফির কাপে ফু দিতে দিতে বললো — পাপ্পা নিজেও যদি আমাকে নিষেধ করে, তবুও আজ আমি ভার্সিটি যাচ্ছি।
,,,আদ্রিয়ান এগিয়ে এলো, নিজের জন্য বানানো কফির কাপটা হাতে নিয়ে অর্পনার পাশের সোফায় বসে বুঝানোর মতো করেই বললো — জেদ করোনা, আজ তো তেমন ইম্পর্ট্যান্ট ক্লাস নেই। তবুও যা নোট্স দরকার তা আমি কালেক্ট করে দিবো, এই শরীর নিয়ে ভার্সিটি যেতে হবেনা।
,,, অর্পনা কফিতে চুমুক দিয়ে মগটা সোফার হাতলে রেখে, তর্জনী আঙ্গুল তাগ করে খানিক শাসানো স্বরেই বললো — ইউ!! আদ্রিয়ান কাইসার। অতিরিক্ত করছেন, নিষেধ করলামনা আমার বিষয়ে নাক গলাতে? পাপ্পা!! এই উজবুকটাকে নিজের বাড়িতে যেতে বলো। অন্যের বাড়িতে এভাবে ছ্যাচড়ার মতো পরে থাকে। একটু তো লজ্জা থাকা উচিত।

,,,আদ্রিয়ান কিছু বলতে নিবে তার আগেই আরসাদ জামান আদ্রিয়ানের সাইড নিয়ে মেয়েকে বুঝাতে চাইলেন যেনো আজ ভার্সিটিতে না যায়। তবে এই মেয়ে প্রচন্ড জেদি, যেটা একবার করবে বলে মনে করে সেটা করেই ছাড়ে। এই ২২ বছরের জীবনে সে কারোর মন মাফিক চলেছে কিনা সন্দেহ। যদিও আজ তার ভার্সিটিতে একটা ইম্পর্ট্যান্ট কাজ রয়েছে,, সেটাও আবার ভিসির দেওয়া, অমান্য করার চান্স নেই।
,,এই পড়ালেখার ক্ষেত্রেই যা একটু অন্যের কথা শুনে চলতে হয়, পড়ালেখাটা শেষ হয়ে নিক তারপর সে আকাশে উড়বে। তাকে বেধে রাখবে এমন কোনো শক্তি পৃথিবীতে থাকবেইনা। তাই সে পাপ্পাকে বুঝানোর চেষ্টা করলো বাট আরশাদ জামান সেসব মানলেন না। মেয়েকে নিয়ে ঘরে গেলেন। কিছু সময় পেরুতেই বাড়িতে বুয়া আসলো। আদ্রিয়ান বুয়াকে অর্পনার ঘর পরিষ্কার করতে বলে নিজে ব্রেকফাস্ট বানানোর দায়িত্ব নিলো। এরকমটা সে প্রায় ই করে, আরশাদ জামানের পোস্টিং এখানে থাকলেও মাঝেমধ্যেই তদন্তের খাতিরে বিভিন্ন জায়গায় যেতে হয়। যতদিন তিনি বাহিরে থাকেন ততোদিন অর্পনা এখানে একাই থাকে মাঝেমধ্যে রাত্রি আর ইরাও এসে থাকে। যখন ওরা তিনজন থাকে তখন বুয়ার পরিবর্তে আদ্রিয়ান রান্না করে দেয়। এতে অবশ্য অর্পনার রাগারাগির শেষ থাকেনা, কিন্তু আদ্রিয়ান সেসব কানে তোলার প্রয়োজন মনে করেনি কোনোদিন।

,,,, ব্রেকফাস্ট শেষ হতেই অর্পনা ভার্সিটির উদ্দেশ্যে রেডি হয়ে ঘর থেকে বের হতেই কাজের বুয়া চেচিয়ে উঠে বললো — স্যার!! আপায় তো ভার্সিটিতে যাইতাছে, আপনে না মানা করলেন যাইতে।
,,,হাওয়ার গতিতে সামনে এসে দাড়ালো আদ্রিয়ান, সে নিজেও ভার্সিটি যাওয়ার জন্য রেডি। আদ্রিয়ান ওর সামনে দাড়িয়ে ভ্রু কুচকে বললো — তোমায় নিষেধ করলামনা? ঘরে যাও, সবসময় ত্যারামো ভালো লাগেনা।
,,,অর্পনা দাতে দাত চেপে বললো — তর ভালো লাগায় না লাগায় আমার কি এসে যায়? প্রোফেসর প্রোফেসরের মতো থাক নয়তো এক ঘুষিতে চাপা ফাটিয়ে দিবো।
,,,আদ্রিয়ান অর্পনার দিকে কিছুটা এগিয়ে এলো, এক গালে হাত রেখে আদুরে স্বরে বললো— আ’ম নট জাস্ট প্রোফেসর। আ’ম ইউর ফিউচার এন্ড কাজিন।
,,,ফুট শালা!! ( হালকা ধাক্কা দিয়ে)
,,,বলেই দরজার দিকে পা বাড়াতে নিবে, আরশাদ জামান এসে মেয়েকে আটকে দিলেন। নিজ বাহুডরে আগলে নিয়ে অর্পনার ঘরের দিকে যেতে যতে মাথায় হাত ভুলিয়ে বললেন— প্রিন্সেস!! তোমার হাত ইন্জুর্ড। এই অবস্থায় ভার্সিটি এটেন্ড করতে হবেনা। চলো পাপ্পা তোমায় ঘুম পারিয়ে দিচ্ছি, রাতে নিশ্চই ভালো ঘুম হয়নি?

,,, সেই চিরোচারিত লুস ট্রাউজার আর ওভার সাইজ টিশার্ট পরিহিত রমনি, তার মাথায় একটা সাদা কালো রং মিস্রিত ক্যাপ আর কাধে ৪২ ইঞ্চির একটা গিটার। ঝির্ন সির্ন শরীর আর লম্বা চুল না থাকলে তার চলন বলন অনুসারে যে কেউ তাকে ছেলের উপাধিতে ভুষিতো করতো। ভার্সিটির মেইন গেইট ক্রস করে ক্যাম্পাসে পা রাখতেই চারজন ছেলে মেয়ে ছুটে এলো। একদম অর্পনার সামনে দাড়িয়ে সবাই হাপাতে লাগলো, ওদের এমন অবস্থা দেখে অর্পনা মাথা থেকে ক্যাপটা খুলে ভ্রু নাচিয়ে বললো —
,,,হোয়াট্স আপ ভাগিনারা!! কাহিনী কি? সগ্গলে মিল্লা এতো হাপা হাপি করবার লাগছো কিল্লাই?
,,,,পল্লব অর্পনার মাথায় চাটি মেরে বললো — এসব কি ভাষা বলছ মামা? বুঝিনা কিছুই, খাটি বাংলায় বল।
,,, ঢাকা কি বাংলাদেশের বাহিরে? ঢাকাইয়া বাংলা ভাষা ব্যাট্টা, তর এক্সদের মনের মতোই খাটি।
,,, এক্সদের কথা শুনে বেচারা পল্লব মুখ খানা হাড়ির মতো করে নিলো। রাত্রি পল্লবের কাধে হাত রেখে শান্তনা বানী ছুড়ে বললো — আরে তুই ওর কথায় কান দিসনা, তর এক্সগুলো পাপি হলেও মানুষ ভালো। এই অর্পনা!! তর এতো লেইট হলো কেনো? আর গতকাল এভাবে চলে গেলি কেনো? তকে ছাড়া খেতে আমাদের একটু ও ভালো লাগেনি।

,,, অর্পনা কাধের গিটার টা অরুনের কাধে রেখে হাত দুটো টানা দিয়ে আঙুল ফুটাতে ফুটাতে বললো– আরে তরা তো সবি জানিস!! ঐ প্রোফেসারের নাটক দেখতে দেখতে জীবন কয়লা। চল ঘাসের উপর বসি। পাইপ বেয়ে নামতে গিয়ে হাত পায়ে ব্যাথা ধরে গিয়েছে।
,,, ক্যাম্পাসে যেখানে বড়ো বড়ো ঘাস রয়েছে সবাই মিলে সেদিকটায় পা বাড়ালো, ওরা বেশিরভাগ সময় গেইট থেকে কিছুটা দূরে ঘাসের উপর বসে আড্ডা দেয়। যেনো কোনো ফ্রেসার ট্রেসার পেলে টুকটাক রেগ দিতে পারে। ফাস্ট ইয়ারদের রেগ দেয়ার মতো মজা বোধয় ঈদের দিনেও পাওয়া যায়না। ইরা অর্পনার পাশাপাশি হেটে প্রশ্ন করলো — পাইপ বেয়ে নামতে গেলি কেনো? কোথাও চুরি টুরি করতে গিয়েছিলি নাকি?
,,, আর বলিসনা!! গতকাল একটু হাতটা কেটে গিয়েছিলো সেই নিয়া পাপ্পা আমাকে ভার্সিটিতে আসতে দিবেনা বলে ঘর বন্ধি করে রেখেছে। অগত্যা পাইপ বেয়ে নামতে হলো। নয়তো দেখা যাবে তদের হেড মাস্টার অফিস রুমে ডেকে নিয়ে আচ্ছাছে ঝাড়ছেন।

,,,ভাই ওটা হেড মাস্টার না ডিপার্টম্যান্ট হেড হবে। ( পল্লব)
,,, ঐ একি হলো, আমার কাছে গাজর ও যা মুলাও তা। তফাৎ খুজে পাইনা। ( অর্পনা)
,,,ইরা কিছু একটা মনে করার মতো করে বললো — আরে হে!! মনে পরেছে। ফাস্ট ক্লাসে এক সিনিয়র ভাই এসেছিলো, তকে নাকি ভি.সি স্যার কি কাজের দায়িত্ব দিয়েছিলো? তকে খুজে না পেয়ে বলেছে, তুই আসলে যেনো থিওরি ক্লাসের পর একবার ডি. এইচ স্যারের অফিস রুমে গিয়ে দেখা করে আসিস।
,,,,অর্পনা ধপাস করে ঘাসের উপর বসলো একটা ঘাস ফুল নিয়ে ছিড়তে ছিড়তে বললো — ইদানীং আমি খুব ভদ্র হয়ে যাচ্ছি, সবাই ভালোই হুকুম চালাচ্ছে। এতোদিন ভি.সির বাচ্চা আমার পরিচয় জানতোনা। মাস দুয়েক আগে পাপ্পার সাথে বিয়ে খেতে গিয়েছিলাম, সেখানেই বি.ছি. সরি ভি.সির সাথে দেখা হয়ে যায়। যেইনা জানতে পারলো আমি ডিটেকটিভ আরশাদ জামানের মেয়ে অমনি আমার খোজ খবর নেওয়া শুরু৷ এমন ভাবে কথা বলেন যেনো সামনের সপ্তাহেই আমি উনার ছেলের বউ হতে যাচ্ছি, যদিও বিয়ের জন্য প্রস্তাব রেখেছিলেন পাপ্পা নিজ উদ্দমে নিষেধ করে দিয়েছে। কজ অফ, বিরক্তিকর প্রোফেসর!! মানে আমার সো কল্ড মামাতো ভাই আদ্রিয়ান কাইসার। পাপ্পা মনে মনে ঠিক করে রেখেছেন আমাকে উনার হাতেই তুলে দিবেন। আমি অবশ্য কিছুই বলিনি, আমার কথা হচ্ছে আমি বিয়েই করবোনা। সেটা যেই হোক, ভোটকা ভি.সির হেন্ডসাম ছেলে হোক কিংবা বোরিং প্রোফেসর। সব আমার কাছে একই। যাই হোক, এবার মেইন টপিকে আসি, দুদিন আগে ভি. সি স্যার আমাকে ডেকে পাঠিয়ে বললো ৫০০ বছর ধরে নাকি লাইব্রেরির বই চেন্জ করা হয়না। বই টই সব ছিড়ে চৌচির হয়ে পরে আছে, তাই সেসব নীলখেত নিয়ে এক্সচেঞ্জ করে আনতে হবে। এখন আমার দায়িত্ব হচ্ছে কোন কোন বই এক্সচেঞ্জ করতে হবে তার লিস্ট বানানো। ভাবতে পারছিস, আমি কতো কাজের? নিজেকে ভদ্রতার সাগর মনে হচ্ছে।

,,, সকলেই ঠোট কামরে মাথা ঝাকালো। সত্যি ই ইদানিং অর্পনা বেশ ভদ্র হয়ে যাচ্ছে। পল্লব কিছুটা সিরিয়াস ভাবেই বললো — দোস্ত!!তাহলে তর ভদ্রতার সাগর থেকে আমাদের একগ্লাস পানি দে, আমরাও খেয়ে ভদ্র হয়ে যাই।
,,, ভদ্র হওয়া লাগবেনা, তরা ভদ্র হলে ভদ্রতা শব্দটাও লজ্জায় কচুগাছে ফাসি দিয়ে আত্মহত্যা করার পায়তারা করবে। এই মামা!! ( অর্পনার দিকে তাকিয়ে) তুই পেরা খাইসনা!! পাঁচ জন মিলে লিস্ট বানালে সন্ধার আগে কাজ শেষ হয়ে যাবে, তারপর উরাধুরা চিল। ( ইরা)
,,, অরুন কিছুটা কনফিউস্ড হয়ে বললো — লাইব্রারিতে এখন যাবি? আজকে কিন্তু থিওরির ক্লাস আছে। বুঝিস!!
,,, রাত্রি মোবাইলের স্ক্রিনে আয়না দেখতে দেখতে ঠোট দুটো পাওট করে বললো — দূর!! ঐ পেট মোটা সফিকের বকবক কিছুই বুঝিনা। আগের ক্লাসে নাকি পুরো ভেক্টর রিভিশন দিয়েছে, এদিকে আমি ভেক্টরের ভি ও কম্প্লিট করতে পারিনি।
,,,অরুন বিরক্তির স্বরে বললো — সেটা তর প্রবলেম, পড়া লেখা না করে সারাদিন কোরিয়ান ড্রামা নিয়ে পরে থাকলে এরকমি হবে।
,,, রাত্রি মুখ বাকিয়ে বললো — হলে হবে, আমি তর মতো বিদ্যাসাগর না যে, কিছু হলেই বইয়ের ভিতর মুখ গুজে রাখবো।

,,,ওদের ঝগড়া জাটি আজকের নয়, দুটো দুই মেরুর। অরুন পড়ালেখায় ফাস্ট ক্লাস আর রাত্রি মোটে টেনে টুনে পাশ করে। তাই এ নিয়ে ওদের মাঝে বাক বিতন্ডতা লেগেই থাকে। ইরা ওদের থামাতে ধমকের স্বরে বললো– এই তরা থামবি? অর্পণ কি করবি? থিওরির ক্লাস বাঙ্ক দিবি?
,,,অর্পনা এতক্ষন বসে বসে ঘাষের ফুল ছিড়ছিলো আর ওদের কথা শুনছিলো এবার ও ওর হাতে থাকা সকল ফুল অরুনের মুখে ছুড়ে মেরে অলশ ভঙ্গিতে বললো — তদের বলেছি? হুদাই চিল্লাস। থিওরি শুরু হবে ১২ টায় শেষ হবে ২ টায়। তারপর আমরা টানা ৩, ৪ ঘন্টা কাজ করবো সাথে কিছু জুনিয়র সিনিয়র রাও থাকবে। এতো সেন্টি খাও কেন মামা?
,,,তো এই এক ঘন্টা কি করবি? ( ইরা)
,,,এন্টারটেইনমেন্ট!! ( অর্পনা)
,,কিভাবে? ( ইরা)

,,,রাত্রি হেন্ড বেগ থেকে লিপস্টিক বের করে ঠোটের ভাজে দিতে দিতে বললো– এই পল্লব সোনা!! যাও তো ফাস্ট ইয়ারের রাস্ট্র বিজ্ঞান ডিপার্টমেন্ট থেকে দুটো ছেলে নিয়ে আসো। জুনিয়রদের খোরমা ( চেহারা) দেখতে মন চাচ্ছে।
,,,অরুণ নাক সিটকে বললো — জাস্ট বিরক্তকর।
,,, ওর নাক সিটকানো দেখে রাত্রি রাগে ফেটে পরলো। সে অরুনের হাত থেকে বইটা কেরে নিয়ে দূরে ছুড়ে মেরে রাগে ফুসতে ফুসতে বললো — তর কি বে? তর কি? আমার কথা শুনতে এতো বিরক্ত লাগলে শুনিসনা। যাহ!!
,,,বলতে বলতে কন্ঠ ভেঙে এলো মেয়েটার চোখ দুটো চিক চিক করছে, ভাব এমন যেনো এখনি কেদে দিবে। এই মেয়েকে নিয়ে বন্ধু মহল সত্যি ই বিরক্ত। ওদের পাঁচ জনের মাঝে রাত্রি সবচেয়ে আদুরে, কিছু হলেই অভিমান করে কেদে কেটে বন্যা বানিয়ে দিবে। অরুন আড় চোখে রাত্রিকে দেখে অর্পনাকে ইশারা করলো যেনো বিষয়টা দেখে নেয়। অর্পনা হাতে থাকা ক্যাপটা ঘুরাতে ঘুরাতে বললো — অরুন!! তুই সবসময় এমন করিস। এই রাত্রি!! একদিন রাতে একটা বস্তা নিয়ে বের হবি, ওইটাতে অরুনকে ভরে বুরিগঙ্গায় ভাষিয়ে দিবো। হেপি?

,,, মেয়ে মানুষের নাটক দেখতে দেখতে আজ ১৮ টা এক্স জমা হয়েছে। তাই এসব মেয়ে মানুষের ঢং সহ্য হয়না পল্লবের। সে হাত পা ছাড়িয়ে ঘাষের উপর শুয়ে পরে বললো– তগো নাটক শেষ হলে বলিস, এখন আমরা কিভাবে এন্টারটেইন হতে যাচ্ছি। জীবনে এন্টারটেইনমেন্ট এর দুর্ভিক্ষ চলতেছে, কিছু একটা কর।
,,,ইরা বললো — আয় সবাই মিলে একটা গান গাই, গতকাল কিন্তু অর্পন লাইভে পুরো ফাটিয়ে দিয়েছিলো। একদম হিন্দি বাংলা মিক্সড করে, অসাম হইছে গানটা। যদিও পুরোটা গাওয়া হয়নি তবুও সকাল থেকে ইন্সটাতে তোলপার। সবজায়গায় এক গান,, ভেবে দেখেছো কি তারারাও যত আলোক বর্ষ দূরে,,,
,,,থাম!! সেসব কথা বাদ, লাইভ নিয়ে আলোচনা করা আমার পছন্দ না। অরুণ তুই গিটার বাজা আমার ডান হাত ইন্জুর্ড। ( অর্পনা)
,,, অরুণ গিটারটা সামনে এটে টুং টাং করতে করতে বললো– কোনটা গাইতে চাস?
,,,, পল্লব বললো — লাস্ট বার সবাই মিলে একটা গান শিখেছিলামনা? ঐযো “” এখন অনেক রাত”” ঐটা গা।
,,,ওকে স্টার্ট!!! ( ইরা)
,,,অরুন হাতের ধাচ বাড়ালো, গানে তেমন পারদর্শী না হলেও সে ভালোই গিটার বাজাতে পারে। তাদের বন্ধু মহলে পাচ জনের কন্ঠই সুন্দর তবে অর্পনারটা বেস্ট ওর সাথে কারোর তুলোনা হয়না। রাত্রি বাদে সবাই মিলে একসাথে শুরু করলো–

,,,এখন অনেক রাত,, তোমার কাধে আমার নিশ্বাস,,,
,,,আমি বেচে আছি,, তোমার ভালোবাসায়,,,
,,,ছুয়ে দিলে হাত,,, আমার বৃদ্ধ বুকে তোমার মাথা,,
,,,,চেপে ধরে,, টলছি কেমন নেশায়,,,
,,রাত্রিকে গাইতে না দেখে ইরা ওর পিঠে কিল বসালো, রাত্রি শ্বাস টেনে ঠোঁট উল্টে গাইলো–
,,,কেনো যে অসংকোচে,, বন্ধ গানের কলি,,
,,,পাখার বেডের তালে,, সোজাসুজি কথা বলি,,,
,,, আমি ভাবতে পারিনি,, তুমি বুকের ভিতর ফাটছো আমার,, শরীর জুড়ে তোমার প্রেমের বীজ,,,
,,,আমি থামতে পারিনি,,, ,,,তোমার গালের নরম দুঃখ আমায়,, দুহাত দিয়ে মুছতে দিয়ো প্লিজ!!
,,,এখন অনেক রাত,, তোমার কাধে আমার নিশ্বাস,,,
,,,আমি বেচে আছি,, তোমার ভালোবাসায়,,,
,,,ছুয়ে দিলে হাত,,, আমার বৃদ্ধ বুকে তোমার মাথা,,
,,,,চেপে ধরে,, টলছি কেমন নেশায়,,,

,,,, আচ্ছা!! এই সফিক্কাকে এক্সচেঞ্জ করে অনু ম্যামকে নেওয়া যায়না? ভাই বিশ্বাস কর অই ভোটকার পড়া আমি কিছুই বুঝি ,, এহেম এহেম!! এহেম, এহেম।
,,,বলতে বলতে লাইব্রারির চিপায় থাকা মোটা বইয়ের স্তুপ থেকে একটা বই টান দিতেই ধুলো বালির তোপে কাশতে শুরু করলো রাত্রি। বইটা টেবিলে রেখে নাক মুখ চেপে ধরে হাপাতে হাপাতে বললো– আল্লাহ!! মাবুদ, এগুলো কি বই না ময়লার স্তুপ? ৫০০ বছর না, আমার মনে হয় ২০০০ বছর ধরে কেউ এই তাকের বই ছুয়েও দেখেনি।
,,,সবি তদের মতো মুর্খ স্টুডেন্টদের ঢাবিতে চান্স দেওয়ার ফল। ( অরুন)
,,,তরা এখানেও শুরু করে দিসনা। এই রাত্রি!! বোন আমার, এদিকে আয়। আমরা শুধু লিস্ট করবো বই নামানোর দায়িত্ব জুনিয়রদের। ( ইরা)

,,,পল্লব হতাশ কন্ঠে বললো — যার জন্য আসা সেই তো হাওয়া, অর্পণ কই? এই ছেমরির জন্য যতটা প্যারা খাওয়া লাগে আমার ১৮ টা এক্স একসাথে মিলেও মনে হয় এতো প্যারা দেয়নি।
,,,থাক বাদ দে, বেডি মানুষ। ( অরুন)
,,ওদের আলোচনার মাঝেই গুনে গুনে ১২ জন জুনিয়র ঢুকলো লাইব্রেরিতে এর মধ্যে একটা জুনিয়রকে দেখে রাত্রি হা করে তাকিয়ে রইলো । আরিব্বাস!! পোলাটা তো সেই, পুরো কোরিয়ান ড্রামার নায়কদে মতো সুন্দর । হোকনা জুনিয়র, একটা চান্স তো নেওয়াই যায়। রাত্রিকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে অরুণ ওর মাথায় ঠাস করে একটা থাপ্পর মেরে বললো — এগুলো তর জুনিয়র, ওল্টা পাল্টা কাজ করলে ভার্সিটি থেকে লাত্থি দিয়ে বের করে দিবো।
,,,রাত্রি মাথা ঘষতে ঘষতে বললো– ভার্সিটি কি তর বাপের? সরকারে তর বাপ লাগে?
,,,মুখের ভাষা ঠিক কর নয়তো আরেকটা খাবি ( অরুন)
,,,রাত্রি মুখ বাকালো। তখনি একটা সিনিয়রের সাথে কথা বলতে বলতে লাইব্রারিতে ঢুকলো অর্পনা। সবাইকে দাড়িয়ে থাকতে দেখে হাত উচিয়ে হাই দিলো। পল্লব বা হাত পিছনে নিয়ে বায়ু দূষনের মতো অঙ্গভঙ্গি করে সেই বায়ু হাতের মুঠোয় নিয়ে অর্পনার দিকে ছুড়ে মারলো। সাথে সাথে ফিক করে হেসে দিলো সেখানে উপস্থিত থাকা সকলে। অর্পনা নাক কুচকে বিরবির করে বললো — ফাজিলের কারখানা।

,,পরপর সিনিয়রের উদ্দেশ্যে বললো — নিহার ভাইয়া!! এখানে ছয়টা কাগজ আছে, লাইব্রারির তাক গুলো ছয় ভাগে ভাগ করে একেক ভাগের লিস্ট একেক জন করবে। জুনিয়র যারা যারা এসেছে তাদের মধ্যে একেকজনের আন্ডারে দুজন দুজন কাজ করবে। এবার, আমার প্রস্তাব আপনার মন মতো হোক বা না হোক, আমি এভাবেই কাজ করবো। আপনার কোনো অভিযোগ থাকলে গুড বাই, আপনি একাই কাজ করুন।
,,,নিহার নামক ছেলেটা ভ্রু কুচকে অর্পনার দিকে তাকালো,, এই মেয়েটাকে সে ক্যাম্পাসে বহুবার দেখেছে কেমন ছেলেদের মতো চলাফেরা। পোশাক আসাক ও ছেলেদের মতো, তবে মেয়েটা বেশ সুন্দরী। কিন্তু ব্যাবহার আর এটিটিউড জঘন্য!! এইভাবে কেউ থ্রেড দিয়ে কথা বলে? প্রস্তাবটা অবশ্য খারাপ না। এমনিতেই সে এই প্রস্তাব মেনে নিতো, এখন যেহেতু এতো বড়ো থ্রেট আসলো তখন ঝামেলা না করে মেনে নেয়াই যাক। নিহার মাথা ঝাকিয়ে বললো — ওকে স্টার্ট করো।

,,,অর্পনা নির্বিকার ভাবে দাড়িয়ে হাতে থাকা ক্যাপটা উল্টে পাল্টে দেখতে লাগলো। এভাবেই কাটলো দুই মিনিট। নিহার বাকি চারজনের দিকে তাকিয়ে দেখলো তারাও তাদের মতো কথা বলায় ব্যাস্ত। নিহার অবাক হয়ে জানতে চাইলো — কি হলো সবাই দাড়িয়ে আছো কেনো? কাজ স্টার্ট করো।
,,,অর্পনা শিষ বাজিয়ে গলা খাকারি দিয়ে বললো– আপনার মন চাইলে আপনি করেন। আমাদের যখন মর্জি হবে তখন আমরা কাজ করবো। আমাদের উপর কারোর হুকুম চলেনা। যান, আপনি সামনের দিকটা দেখুন আমরা পাচ জন বাকি গুলো দেখে নিবো।

,,,, বলেই পকেটে হাত গুজে অন্য দিকে তাকিয়ে আবারো শিষ বাজাতে শুরু করলো। নিহার বিরক্তি সুচক দৃষ্টি ফেলে দুজন জুনিয়র নিয়ে কাজে লেগে পরলো। সময় গেলো আরও দশ মিনিট, হাত দুটো টানা দিয়ে একটা জুনিয়রের দিকে তাকিয়ে ১০০০ টাকা নোট বাড়িয়ে দিয়ে বললো — এই বাবু!! যাও তো পাঁচটা স্পিড নিয়ে আসো, তুমি খাবে? থাক!! ১০০০ টাকার যতটা আসে ততোটাই নিয়া আইসো।
,,,বাবু ডাক শুনে থতমত খেয়ে গেলো ছেলেটি তবুও সিনিয়র আপু দেখে টাকা নিয়ে চুপচাপ বেড়িয়ে গেলো। অর্পনা সবাইকে ইশারা করতেই যে যার মতো জুনিয়র নিয়ে কাজে লেগে পরলো। লাইব্রারির আকার অনেক বিশাল হওয়ায় বইয়ের সংখ্যা অনেক। কম করে হলেও ৮-১০ বছর ধরে বইগুলো পড়া হচ্ছে, অনেক বই ছিড়ে খুলে খুলে গিয়েছে। বড়ো বড়ো দার্শনিকদের লেখা বইগুলোর যাচ্ছেতাই অবস্থা। এমনিতে এগুলো কেউ ছুয়েও দেখেনা আর ছুয়ে দেখেনি বলেই ময়লা আবর্জনায় ভরপুর হয়ে রয়েছে। সবাইকে ভালো দিকগুলো দিয়ে অর্পনা একদম পিছনের সাইডের দায়িত্ব নিলো। জুনিয়র দুজন যখন মন দিয়ে বই নামাচ্ছিলো তখন মাঝামাঝি পর্যায়ে বইয়ের তাক থেকে ধাম করে একটা কালো বই পড়লো। বইটা দেখতে কালো, উপরে কিংবা সাইডে কোনো লেখক কিংবা বইয়ের নাম লেখা নেই। যেই ছেলেটি বইটা পেলো সে বইটা অর্পনার দিকে এগিয়ে দিয়ে বললো–

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ১

,,,আপু!! এটা একটু দেখুন, দেখতে বই মনে হচ্ছেনা। কোনো লেখক কিংবা বইয়ের নাম লেখা নেই।
,,,অর্পনা অলশ ভঙ্গিতে বইটা নিলো, হাতে নিয়ে পকেট থেকে রুমাল বের করে বইটা মুছতেই বুঝলো এটা একটা ডাইরি। ডাইরিটা কালো এবং বেশ মোটা, এই ডাইরি এখন খুব একটা চলেনা। ২০১৯ এর দিকে এটার বেশ চল ছিলো। অর্পনা ডাইরিটা ঘুড়িয়ে ফিরিয়ে দেখতেই পিছনের দিকে একটা ১৯ সালের ট্যাগ দেখতে পেলো।

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৩