Home ৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি ৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৪২ (৩)

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৪২ (৩)

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৪২ (৩)
রুপান্জলি

কিছুদিন সময় গড়াতেই যখন জমিলা খাতুন মেয়ে ব্যাতিত অন্য কারোর কাছে আশ্রয় পেলেন না তখনি মেয়ের খোজে ছুটলেন,, ফিরে এলেন সুহাসিনীর কাছে। তখনো তিনি সুহাকে বিশ্বাস করেননি অথচ সুহাসিনী বরাবর মাকে এটাই বুঝাতে চেয়েছে এই সন্তান তার নয়৷ মা আসার পর সেই ছোট্ট মেসটায় মাকে নিয়ে দুইটা মাস কাটিয়ে দিলো সুহা। ঠিক দশমাস তিনদিনের মাথায় সুহাসিনীর লিভার পে*ইন উঠলো। ফাহিমা আর জমিলা খাতুন দ্রুততার সাথে হসপিটালে ভর্তি করালেন ওকে। বহু কষ্টের পর একটা ফুটফুটে মেয়ের জন্ম দিলো সুহাসিনী,, মেয়েটা বড্ড সুন্দর,, বাবা মা সুন্দর বলে কথা। একদম পুতুল পুতুল দেখতে হয়েছে মেয়েটা। পুরো মুখ জুড়ে যেনো সৌন্দর্যের বর্ষন। বাচ্চা মেয়েটাকে দেখে জমিলা খাতুন বলেছিলেন”” মাশাল্লাহ!!

চান্দের টুকরা হইছে তর ঘরে,, যেইখানে যাইবো একদম আলোয় আলোয় ভরায় দিবো।” মায়ের কথায় বাচ্চাটার দিকে প্রথম বারের মতো তাকালো সুহাসিনী সাথে সাথে তার বুকটা কেমন মোচড় দিয়ে উঠলো। হিসেব মতো এই বাচ্চাটা মিস্টার এন্ড মিসেস শেখরের হলেও জন্ম তো সেই দিয়েছে,, দশটা মাস ধরে আগলে রেখেছে নিজের মাঝে। বাচ্চাটাকে কাছ ছাড়া করতে বড্ড কষ্ট হবে তার। তবুও ফিরিয়ে দিতে হবে,, অন্যের সন্তান চাইলেও নিজের বলে আটকে রাখা যায়না। সুহাসিনী যখন নিজের মনকে প্রস্তুত করেছিলো,,তখনি আরেকটা দুঃসংবাদ ধেয়ে এলো তার জীবনে। বাচ্চা হওয়ার খুশিতে মিস্টার এন্ড মিসেস শেখর গাড়ি নিয়ে যখন হসপিটালে আসছিলেন তখনি রোড এক্সিডেন্টে তারা মারা যান। আরও একবার থমকে গেলো সুহাসিনীর জীবন,, কি হচ্ছে তার সাথে? কেনো হচ্ছে এসব? তার উত্তর জানা নেই। সদ্য জন্ম নেওয়া বাচ্চাটাকে আপাতত আগলে নিলো সুহাসিনী। আদর করে কাছে টেনে নিলো সন্তান হিসেবে।

একজন সন্তান তার মায়ের থেকে যতটা আদর স্নেহ পায় তার সবটা পুরন করতে লাগলো সুহাসিনী। এরপর চারদিনের মাথায় হসপিটাল থেকে রিলিজ পাওয়ার পর এই অসুস্থ শরীর নিয়ে ছুটে গেলো মিস্টার শেখরের আত্মীয় স্বজনের খোঁজে। যাদের পেয়েছে তারা এই সন্তানের দায়িত্ব নিতে নারাজ,, ফাহিমাদের বললে ফাহিমার মাও একই কথা বললেন। তারা কিছুতেই এই বাচ্চার দায়িত্ব নিতে পারবেন না। এরকম পরিস্থিতি দেখে জমিলা খাতুন চাইলেন বাচ্চাটাকে অনাথ আশ্রমে পাঠিয়ে দিতে,, কিন্তু বিষয়টা মানতে পারলোনা সুহাসিনী। এই কদিনেই বাচ্চাটার উপর মায়া চলে এসেছে তার,, বাচ্চাটা যখন তার মাধ্যমে দুগ্ধ পান করে,, ছোট ছোট হাত দিয়ে সুহাসিনীর মুখ ছুয়ে দেয়,, ঘুমানোর সময় একদম বুকের সাথে মিশে যায়। তখন তার আলাদা একটা শান্তি অনুভব হয়,, নিজের মাঝে মাতৃত্বের সাধ খুজে পায়। একটা বিরাট সিদ্ধান্ত নিলো সুহাসিনী,, এই মেয়েকে সে ছাড়বেনা। মেয়েটার যখন কেউ নেই তখন সেই হবে তার মা। জন্মদাত্রী আত্ম-মা। সুহাসিনী আদর করে নিজের নামের সাথে মিলিয়ে মেয়ের নাম রাখলো “” সুহাসিনী রাত”” ফাহিমা রাখলো “রাত্রি” আর জমিলা খাতুন প্রথমে দোনামোনা করলেও পরবর্তীতে নাম রাখলেন “চাঁদনি ” এভাবেই নাম করন হলো রাতের। ফাহিমার সাথে একটা সম্পর্ক থাকায় আর ফাহিমার জন্যই রাতকে পাওয়ার দরুন সকলেই ওকে রাত্রি নামে চিনলো। জমিলা খাতুন জীবিত থাকা কালিন ওকে চাঁদ বলে ডাকতো। এতো এতো নামের ভিরে সুহাসিনী তার মেয়েকে নিজের অংশ রুপেই চিনতো। রাত্রি যখন হাত পা ছোড়াছুড়ি করে আদো আদো বুলি আওড়াতো তখন সিহাসিনী মেয়ের কপালে , গালে, পেটে, ছোট ছোট হাতে, পায়ে চুমু খেতে খেতে বলতো—

—- আমার রাত!! তুই আমার অংশ না হলেও,, আমার নাড়ি ছিড়া ধন তুই। তকে আমি আগলে রাখবো,, খুব খুব আগলে রাখবো। তকে আমি সেই সকল সুখ দিবো যেগুলো আমি কখনো পাইনি। তর ফাহিমা আন্টি বলেনা? ওসব সুখ, সাচ্ছন্দ্য নাকি বড়োলোকদের হয়। তর মাম্মা কি কম বড়োলোক? তর মাম্মার কাছে তর মতো একটা চাঁদ আছে। এরকম চাঁদ এই জগতে আর কার কাছে আছে বল? নেইতো,, আমার রাত শুধুই আমার,, তাই এই পৃথিবীতে সবচেয় ধনী ব্যাক্তি আমি। আমার মেয়ে আহ্লাদী না হলে কে হবে? আমি, তর মা, তকে পৃথিবীর সব সুখ এনে দিবো। সবটা!!

,,, কান্না আটকাতে ঠোঁট চেপে ধরলো অর্পনা,, আঙ্গুল দিয়ে নাকের ডগায় স্লাইড করলো। কাঁদতে চায়না সে,, কার জন্য কাদবে? এমন একজনের জন্য যার কাছে অর্পনার কোনো দাম ই ছিলো না। রাত্রির মা কতোটা ভালো,, নিজের সন্তান না হওয়া সত্ত্বেও রাতকে নিজের কাছে আগলে রেখেছে। উনি চাইলেই তো বিয়ে করতে পারতেন,, সুন্দর একটা সংসার হতো উনার,, কিন্তু করেননি,, রাতের মুখ চেয়ে “২৩ “টা বছর কাটিয়ে দিলেন। আর অর্পনার মা? নিজের স্বামী, সন্তান রেখেও বিয়ে করে নিজের সংসার গুছাতে ব্যাস্ত হয়ে পরলো। এমন মায়ের জন্য কান্না করাটা কি খুব প্রয়োজন? নাহ!! এমন মায়ের জন্য কান্না করা সময় নষ্ট ব্যাতিত কিছুই নয়। মেধা আর ইরার ফোপানোর স্বরে ধ্যান ভাঙলো অর্পনার। সে চোখ উচিয়ে একবার রাতের মায়ের দিকে তাকালো। মহিলার চোখে পানি নেই,, কেমন নির্জিব চাহনিতে তাকিয়ে আছে অরুনের দিকে। আর অরুন এখনো শক্ত হয়ে মেঝের দিকে তাকিয়ে আছে। বিহান দ্রুত পায়ে এগিয়ে গিয়ে অরুনের পাশাপাশি বসে পরলো। ওর হাত টেনে ডাকলো কয়েকবার,, ডাকতে ডাকতে রাতের মায়ের উদ্দেশ্য বললো —

,,,, আন্টি আপনি একজন বুঝদার মানুষ হয়েও ওকে এসব প্রশ্ন করছেন? ও কি রাতকে কম ভালোবাসে? রাত আপনার সন্তান বলে কি পরের ছেলের ভালোবাসাটা তুচ্ছ? নাহ!! একদমি না। এই অরুন, উঠো ভাইয়া,, উঠো। তোমার রাতের কিছুই হবেনা,, আসো!!
,,, বলতে বলতে টেনে তুলতেই ঢলে পরলো অরুন। হতভম্ব হয়ে পরলো সবাই। ছেলেটা না এতোক্ষণ ঠিক ছিলো? টেনে তুলতে চাইলেই তো শক্তি খাটিয়ে গো দরে বসে ছিলো। তাহলে এইটুকু সময়ের মধ্যে কি হলো? অর্পনা, ইরা তাড়াহুড়ো করে অরুনের কাছে এগিয়ে যেতে চাইলে বিহান ওকে আগলে নিয়ে অর্পনার দিকে ক্ষিপ্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে রাগি কন্ঠে বললো– তোমার থেকে এটা আশা করা যায়? এখন কি অরুনকে মরে যেতে দেওয়া উচিৎ ? কষ্ট কি শুধু তোমাদের হচ্ছে? সত্যি হোক আর মিথ্যা, তোমাদের থেকে হাজার গুন বেশি কষ্ট ওর হচ্ছে। ইরাদ!! যাও নার্স কিংবা ওয়ার্ড বয়, কাুকে ডেকে আনো। নির্বোধের মতো ছেলেটাকে টর্চার করে যাচ্ছে সবাই। কাউকে বাচাতে অন্য কাউকে মেরে ফেলা কোনো সমাধান নয়।( অর্পনার দিকে তাকিয়ে) কি হলো? আন্টিকে নিয়ে যাও,, আন্টি!! যান আপনি, একটু রেস্ট নিন। মেধা!! ইরাদের সাথে যাও একটু।
,,, বলতে বলতে অরুনকে নিয়ে ব্যাস্ত হয়ে পরলো বিহান। মেধা ছুটে গেলো ইরার পিছু পিছু। অর্পনার চোখে পানি টইটুম্বুর,, এতো যন্ত্রণা জানলে কখনোই বন্ধু বানাতো না। সে আবারও নাক ঘষে রাতের মাকে তুলতে নিতেই উনি বিহানের দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে উঠে দাড়ালেন। অর্পনা উনার অভিব্যাক্তি বুঝতে পেরে উনাকে নিয়ে হাটতে হাটতে বললো– কিছু মনে করবেন না,, উনি যা বলার আমাকে বলেছে। আসলে, সম্পর্কে দেবর হলেও উনি আমার ভাই। উনার সাথে আমার সবসময় লেগেই থাকে। এসব বকা ঝকাও আহামরি কিছুনা। ভাইয়া আপনাদের কিছু বলেনি।

,,, বালিশে হেলান দিয়ে আদশোয়া হয়ে শুয়ে আছে অর্পনা তার হাতে ক্যানেল লাগানো। দ্বীপের কথামতো সত্যি সত্যি ই ব্লাড নিতে হচ্ছে,, ব্লাড টাও দ্বীপের। স্বভাবত একজন মানুষের থেকে এক ইউনিটের বেশি ব্লাড নেওয়া হয়না। কিন্তু দ্বীপকে কিছু বলার সাহস পেলো না কেউ, সে যেভাবে বললো সবটা সেভাবেই করা হলো। সে তার বউকে হসপিটালের ব্লাড দিতে রাজি নয়, যদি ব্লাডে কোনো সমস্যা থাকে? তার বউয়ের যদি কিছু হয়ে যায়? ভেলোরাকে নিয়ে অন্তত সে রিস্ক নিতে পারবে না। এসব ভ্রান্ত ধারনা থেকেই তার এরকম সিদ্ধান্ত নেওয়া। অর্পনার আপাতত সে সবে মন নেই,, তার চিন্তা হচ্ছে অরুনের জন্য। অরুনটা বাক শক্তি হাড়িয়েছে,, তবে একেবারে নয়। ডাক্তার জানিয়েছেন স্বাভাবিক হতে কয়েকদিন সময় লাগবে। মস্তিষ্কে অতিরিক্ত চাপ পড়ার ফলে তার ভাষা নিয়ন্ত্রণকারী স্নায়বিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ফলে মুখের পেশিগুলোর সাথে মস্তিষ্কের সমন্বয় ঠিকমতো কাজ করছে না। কন্ঠনালী ভেদ করে শব্দ এলেও ঠোঁট, জিহ্বা, দন্ত ও গলবিলের দুর্বলতার কারণে শব্দগুলো স্পষ্ট বাক্যে রূপ নিতে পারছে না।

তবে রাতের ব্যাপারটায় কিছুটা চিন্তা মুক্ত সে,, অপারেশন সাক্সেস হয়েছে এবং ডক্টর জানিয়েছেন জ্ঞান ফিরলেই রাত বিপদ মুক্ত। হয়তো কয়েক ঘান্টার মধ্যে জ্ঞান ফিরে আসবে। সেসব ভাবতে ভাবতে অর্পনা চোখ উচিয়ে একবার দ্বীপের দিকে তাকালো। লোকটা চোখ মুখ শক্ত রেখে বসে বসে ফোনে কি যেনো করছে। রাতকে ব্লাড দিয়ে আসার পর থেকে ওর সাথে হু হা ব্যাতিত একটা কথা ও বলেনি। অকারনেই অর্পনার মনটা অভিমানে ছেয়ে গেলো। সবসময় ইম্পর্ট্যান্স দেওয়া মানুষটা হঠাৎ ইগনর করলে কষ্ট হয়না? অর্পনা যতই ভাব ধরুক না কেনো, সত্যি অর্থে সে তো দ্বীপকে ভালোবাসে। ভালোবাসার মানুষের হঠাৎ পরিবর্তন তাকে ব্যাথিত করছে। তাই বলে এমন ও নয় যে সে দ্বীপের কাছে আপোষ করবে। সে পৃথিবী থমকে গেলেও দ্বীপের সামনে আপোষ করবেনা। অগত্যা সে স্বভাব সুলভ ত্যারা কন্ঠে বললো — এরকম ঢং করার কি খুব প্রয়োজন ছিলো? রক্ত হীনা মরে যাচ্ছিলাম আমি?
,,, অর্পনার কথায় তাকালো না দ্বীপ,, যেনো ওকে পাত্তাই দিলো না। পাত্তা না পেয়ে আরও ব্যাথিত হলো অর্পনা। তার কি সরি বলা উচিৎ? কিন্তু সরি বলতে যে ইগুতে লাগবে,, সেটার কি হবে? ভেবেই আবার বললো — কিছু জিজ্ঞেস করছি আমি, উত্তর দেওয়া প্রয়োজন মনে করছেন না?

,,, এবারেও দ্বীপের মাঝে কোনো ভাবান্তর দেখা দিলো না। সে নিজের মতো ফোনে বিজি। অর্পনার মাথায় জেদ তিরতিরিয়ে উঠলো। বার বার বলার পরেও লোকটা ফিরে তাকাচ্ছে না? সে এবার দাতে দাত চেপে বললো — কি হলো, কথা বলছেন না কেনো? কথা না বললে আমায় তালাক দিয়ে দিন। এসব ঢং দেখতে ভালো লাগছেনা।
,,, দ্বীপ ফোন থেকে নজর সরিয়ে অর্পনার দিকে তাকিয়ে নরম স্বরে বললো — আচ্ছা দিয়ে দিবো।
,,, দ্বীপের উত্তরে অবাক লোচনে তাকালো অর্পনা, কন্ঠে অবাকতা মিশিয়ে বললো– দিয়ে দিবেন?
,,, দ্বীপ কিছু বললো না,, আবার চোখ মুখ শক্ত করে বসে রইলো। অর্পনার খুব রাগ হচ্ছে,, অকারনেই রাগ হচ্ছে। সে কি ন্যাকা হয়ে গেলো? নাহ!! ন্যাকা হলে চলবে না। অর্পনা স্ট্রং,, এসব পাতি হাসবেন্ড টাসবেন্ডের জন্য ন্যাকামি করা বেমানান। এই পৃথিবীতে হাসবেন্ডের কোনো অভাব পরেছে নাকি? তিনবার কবুল করলেই তার জন্য এরকম হাসবেন্ডের মেলা বসে যাবে। এসব ভেবে নিজেকে শান্ত করলো মেয়েটা। তার সাথে জেদ দেখায়? সেও দেখবে কতোক্ষন টিকে এই জেদ। দ্বীপ যদি জেদি হয় তাহলে সেও ঘারত্যারা। জীবনে কারোর কাছে আপোষ করেনি এবারেও করবে না। হয়তো সে ব্লাড দেওয়ার সময় দ্বীপের পারমিশন নেয়নি তাই বলে এমন করতে হবে?

এটা কি তার দোষ? কেউ কি আগে বলে দিয়েছিলো? যে ব্লাড দিতে হলে তার থেকে অনুমতি নিতে হবে? যেহেতু আগে থেকে বলে দেয়নি সেহেতু অর্পনার কোনো দোষ নেই। সব দোষ দ্বীপের উপর চাপিয়ে দিয়ে চোখ বুঝে নিলো। আপাতত সে নিজেও রাগ করেছে,, কেউ কথা না বলতে চাইলে সেও যেচে পরে কথা বলতে যাবেনা। সারা রাত নির্ঘুম থাকায় চোখ বুঝে নিতেই ঘুমিয়ে পরলো অর্পনা। আধ শোয়া হয়ে থাকার দরুন চোখে ঘুম ভিরতেই মাথা হেলে পরতে নিলো সাথে সাথে হাত দিয়ে মাথাটা আটকে দিলো দ্বীপ। পরপর ধীরো গতিতে ওকে টেনে নিজের বুকের সাথে মিশিয়ে নিলো। টানার ফলে ডান হাতে থাকা নলটা একটু বাকা হয়ে যেতেই দ্বীপ সন্তর্পণে হাতটা নিজের উরুর উপর রেখে নলটা ঠিক করে দিলো। কি মনে করে যেনো অর্পনার বাম হাতটা এক হাতের সাহায্য তুলে নিয়ে নিজের গালে রাখলো,, অকারনেই হাতটা দিয়ে নিজের পুরো মুখশ্রীতে হাত বুলালো। হাত বুলাতে বুলাতে চোখ বুঝে নিলো,, অনেকটা সময় হাত বুলানোর পর অর্পনার হাতের তালুতে ঠোঁট ছোয়ালো,,

অগণিত হাড়ে ভেজা চুমু লেপন করলো সেখানে। ঘুমের মাঝেই কেপে উঠলো অর্পনা,, স্বামীর আদুরে স্পর্শে শিরশির করে উঠলো সর্ব কায়া। ঠোঁট ফুরে বেড়িয়ে এলো গরম নিশ্বাস যা সহাস্যে আছড়ে পড়লো দ্বীপের শার্ট গলিয়ে উন্মুক্ত বুকে। হাতের ভাজে থাকা অর্পনার হাতখানা শক্ত করে চেপে ধরে ঢোক গিললো দ্বীপ,, মনের মাঝে নিষিদ্ধ অনুভূতিরা হানা দিচ্ছে। কিন্তু পরিস্থিতির চাপে সেসব অনুভতিদের প্রশ্রয় দিতে পারছে না সে। অর্পনা যতদিন না অনুমতি দিবে ততোদিনে কিছুই সম্ভব না। কজ, অর্পনার অতিত,,দ্বীপ নিজ থেকে ওকে ছুতে চাইলে যদি অতিতের সেই বাজে দৃশ্য গুলো মনে পরে যায়? তখন তো ভেলোরা আবারও ট্রমাটাইস্ড হয়ে যাবে। হয়তো দ্বীপকে ভয় পাবে। আর সেটা দ্বীপ কিছুতেই মানতে পারবেনা। তাই আপাতত থাক এসব,, দ্বীপ এবার অর্পনার হাতের পৃষ্ঠ দেশে চুম্বন করে আওড়ালো-

,,, আই লাব্স ইউর হেন্ড ভেলোরা,, এন্ড অলসু নিড ইউর সফ্ট টার্চ। আজ মাস খানিক হতে চললো তুমি আমায় আদর করো না। আমার খুব লাগে,, বুকের ভিতরটা হাসফাস করে। ইচ্ছে করে আবার পাগল হয়ে যাই। তুমি আবার কবে আমায় আদর করবে? আই নিড ইউ বেইব,, অলসু নিড! মোর এন্ড মোর নিড। ট্রাস্ট মি!!
,,অর্পনা ঘুমের মধ্যে নড়ে চরে হালকা গুঙানো স্বরে বললো — ওমমম!” জ্বালাবেন নাতো ঘুমান।
,,বলতে বলতে হাত ছাড়িয়ে নিয়ে দ্বীপের মাথা খুজতে লাগলো হাত বুলানোর জন্য। দ্বীপ ঠোঁট বাকিয়ে সুক্ষ্ম হেসে হাতটা গলার ভাজে তুলে দিলো। অর্পনার হাতটা ধীর ধীরে দ্বীপের গলা বেধ করে ঘাড়ের পিছনে গিয়ে থামলো। ঘাড়ের পিছনের চুল গুলো টানতে টানতে আবারও তলিয়ে গেলো গভীর ঘুমে। দ্বীপ অর্পনার গালে শব্দ করে চুমু খেলো,, পরপর কানের লতিতে চুমু খেলো। ঘাড় থেকে উড়নাটা সরিয়ে সেখানেও ঠোঁট দাবিয়ে ফের চুমু খেলো। চুমুতে চুমুতে ভিজিয়ে দিলো অর্পনার গাল, গলা। এটা নতুন কিছু নয়,, সে বরাবরই অর্পনাকে ঘুমন্ত অবস্থায় আদর করে। জেগে থাকলে তো মেডামের হাজারটা কথা ,, ভালোবাসেন? ভালো না বেসে কাছে এসেছেন কেনো? তালাক দিন!! আপনার সাথে থাকবোনা। সেসব ভেবে মুচকি হাসলো দ্বীপ,, তৎক্ষনাৎ ভেসে এলো কারোর গলা খাকারি স্বর। দ্বীপ অর্পনার গলাটা উড়না দিয়ে ঢেকে দিয়ে বিহানের দিকে কড়া চোখে তাকালো। বিহান হাতে থাকা কফির ওয়ানটাইম গ্লাসটা দেখিয়ে নিশ্পাপ হেসে বললো — কফি দিতে এসেছি।

,,, দ্বীপ শক্ত কন্ঠে বললো — এসেছিস, গুড!! বাট যখন দেখলি আমি বিজি আছি, ফিরে গেলিনা কেনো?
— এগিয়ে এসে বসতে বসতে– ফিরবো কেনো?
,,, এটা কেমন প্রশ্ন? অদ্ভুত!!
,,,বিহান কাধ উচিয়ে অবাক কন্ঠে বললো— অদ্ভুতের কি হলো? সেদিন রাতে তুই আমার রোমান্সে বাধা দিয়েছিস আজ আমি দিলাম। সমান সমান।
,,, বিহানের কথায় দ্বীপ অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে বললো — রাবিস!!
,,, দ্বীপের বকা শুনে বিহান মুখটা কাঁদো কাঁদো করে বললো– বকা দিলি তো? দাড়া আম্মুকে গিয়ে বলে দিবো, বিচার দিবো তর নামে। ছোট বেলা থেকে তুই আমার সাথে এমন করিস,, ঠাস ঠুস মারিস,, মেরে মেরে আবার পাম দিস। এবারে আর পামে কাজ হবে না, আম্মুর কাছে বিচার দিবোই।

,,, বিহানের নাটক দেখে ভ্রু গুটালো দ্বীপ, চোখে চোখ পরতেই হুট করেই হেঁসে ফেললো বিহান,, দ্বীপ ও ঠোট চেপে হেঁসে চোখ ফিরিয়ে নিলো। ছোট বেলায় তাদের কতো সুন্দর সুন্দর মোমেন্ট ছিলো, সাথে দুঃখেরো ছিলো তবে সেটা শুধুই বিহানের জন্য। দ্বীপ যদি কোনো ছেলের সাথে ঝগড়া করতো আর বিহান মারামারি করতে নিষেধ করতো তাহলে ঐ ছেলের ভাগের মারটা বিহানের ভাগে পরতো তো পরতোই সাথে বিহানকে মেরে মুরে বিহানকে দিয়েই আবার সেই ছেলেকে মারাতো। মারতে না চাইলে আবার দ্বীপের থেকে মার খেতো। বিহান তো ছোট বেলায় খুব ভিতু ছিলো তাই দ্বীপ ওকে প্রচুর মারতো যেনো সেও রিপিট দ্বীপকে আঘাত করে। প্রথম দিকে বিহান মার খেয়ে কাঁদতো, কেঁদে কেঁদে রোমানা বেগমের কাছে বিচার দিতো৷ বিচার দেওয়ার দায়ে আবার দ্বীপের হাতে মার খেতো,, এভাবে মার খেতে খেতে একদিন সেও দ্বীপকে পাল্টা আঘাত করলো। দুই ভাই সেদিন মারামারি করে একদম যাতা অবস্থা করে ফেলেছিলো নিজেদের। রোমানা বেগম দুই ছেলেকে বুকে জড়িয়ে সেদিন হাওমাও করে কাঁদতে কাঁদতে বলেছিলেন “”এভাবে যদি তরা ভাইয়ে ভাইয়ে মারামারি করিস তাহলে বাহিরের মানুষ তদেরকে আস্ত রাখবে? তদের বাপ চাচারা রাজনীতি করে যেই শত্রু বানিয়েছে তারা এসে তদের ছিড়ে খুরে শেষ করে দিবেনা?”” মায়ের কথা শুনে সেদিন ঐ অবস্থাতেও দুই ভাই দুই ভাইয়ের চোখের দিকে তাকিয়ে হেসেছিলো। যেমন করে আজ হাসছে। তারা তো ভাই কম বন্ধু বেশি,, তারচেয়েও বড়ো কথা তারা দুজন ক্রাইম পার্টনার, জীবনে যত পাপ করেছে সব একসাথে। বিহান হাসতে হাসতে থেমে গিয়ে অর্পনার দিকে তাকিয়ে সতর্ক কন্ঠে বললো — হাসিস না ভাই, তর বউ জেগে গেলে খবর আছে। বলবে,, আমার বান্ধবী অসুস্থ আর আপনারা হাসছেন? মজা মনে হচ্ছে ?

,,, দ্বীপ ঠোট টিপে বিরবির করে এড করলো — এখোনি তালাক দিন।
,,, কথাটা শুনে শব্দ করে হেসে ফেললো বিহান। দ্বীপ ও হাসলো পরপর ঘুমন্ত অর্পনার মুখের দিকে তাকিয়ে চিন্তিত কন্ঠে বললো– অরুন এখন কেমন আছে? মুখের অবস্থা ঠিক হয়েছে?
,,, বিহান কফিতে চুমুক দিয়ে বললো — সবকয়টা নির্বোধ,, ছেলেটাকে অস্বাভাবিক দেখেও তরা ডক্টর ডাকলি না? যদি বড়ো কোনো ক্ষতি হয়ে যেতো?
,,, দ্বীপ নিজেও কফিতে চুমুক দিয়ে বললো — ও এসেছে বেশিক্ষণ হয়নি,, আসার পর থম মেরে দাড়িয়ে ছিলো কতক্ষণ, তারপর ভেলোরা ওকে চর মারলো। এরপর মেঝেতে শক্ত হয়ে বসে রইলো, আমি তো ওদের বললাম যেনো ওকে উঠায় বাট কি থেকে কি হলো বুঝলাম না।
,,, বিহান মাথা ঝাকালো, পরপর ঠোঁট চেপে বললো — এখনো কথা ঠিক হয়নি, বেডে শুয়ে শুধু ছলছল করে তাকিয়ে থাকে, একটাবার চোখ ও বুঝেনি, কতো বুঝালাম ছেলেটার মস্তিষ্ক বোধয় কথাগুলো ধরতে পারছেনা।
,,তপ্ত শ্বাস ফেললো দ্বীপ, অরুনের ব্যাপারটা সে বুঝতে পারছে। সম্ভাবত ছেলেটা নিজের অনুভুতি প্রকাশ করতে পারেনা,, কাঁদতেও পারেনা বোধয়। এই কান্না করতে না পারার যন্ত্রনাটা বোধয় পৃথিবীর সকল যন্ত্রণাকে হাড় মানায়।

,, মায়ের কোলে মাথা রেখে শুয়ে আছে রাত্রি,, অর্পনা আর ইরা পাশে বসে আছে, কিছুক্ষণ আগেই জ্ঞান ফিরেছে ওর। পল্লব অড়ন হয়ে দাড়িয়ে আছে ওর পায়ের কাছে,, সবার চোখ মুখ ফোলা। সবাইকে দেখতে দেখতে হঠাৎ নজর আটকালো দূরে দাড়িয়ে থাকা অরুনের পানে,, সে শান্ত দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে আছে। চোখাচোখি হতেই চোখ ফিরিয়ে নিয়ে রুম থেকে বেড়িয়ে গেলো অরুন। অরুনকে চলে যেতে দেখে চোখ ভিজে উঠলো রাত্রির,, ইরা ওর চোখের পানি মুছে দিয়ে বললো — কাদিসনা, অসুস্থ তুই। আমি ডাকছি ওকে।
,,, ইরার কথায় রাত্রি ভয়ে ভয়ে মায়ের দিকে তাকালো, মা কি সবটা জেনে গিয়েছে? রাগ করেছে কি তার উপর? মেয়েকে তাকাতে দেখে মুচকি হাসলেন সুহাসিনী, মাথাশ হাত বুলিয়ে বললেন — খিদে পেয়েছে মা? কিছু নিয়ে আসি?

,,, রাত্রি বিনিময়ে হালকা হেসে মাথা ঝাকালো। হাসলেও তার চোখে ভিতি স্পষ্ট । যোকের বসে সবাইকে কতো কষ্ট দিলো,, এখন মনে হচ্ছে মরতে না এলেই ভালো হতো। ওর চোখে মুখে ভয় আর কান্না ভেজা আখি দেখে ইরা নম্র কন্ঠে বললো–
,,, আন্টি!! অরুন রাতকে খুব ভালোবাসে, আপনি তো সবটাই দেখলেন,, বুঝলেন ও। ওরা কেউ কাউকে ছাড়া বাচবে না,, আমরা একটু ওদেরকে আলাদা কথা বলতে দেই? প্লিজ!!
,,ইরার কথায় চোখ মুখ অন্ধকার করে নিলো রাতের মা। কঠোর কন্ঠে বললো — এটা কিভাবে বলতে পারো তোমরা? যেখানে আমার মেয়ের পরিচয় নিয়ে ওর সমস্যা সাথে অন্য একটা মেয়ের সাথে তুলনা করে,, তার কাছে মেয়ে দিবো কোন যুক্তিতে? আমার মেয়ে অর্থমন্ত্রীর মেয়ে না হলেও সে কোনো ফেলনা নয়। “২৩ “বছর যেহেতু আগলে রাখতে পেরেছি বাকি জীবন ও পারবো।
,,, উনার কথাটা অর্পনা সুধরে দিয়ে বললো — আমার বাচ্চা ননদটাকে টানবেন না আন্টি। ও এসবের কিছুই জানেনা ,, একদম নিশ্পাপ, চঞ্চল একটা মেয়ে। ওকে এসবে টানলে পরে ওর মনে ইফেক্ট পরবে। মুলত অরুন পরশীকে পছন্দ করে না, সেতো,,
,,, বলতে বলতে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সবটা খুলে বললো। হয়তো বুঝলেন উনি তাই চুপ করে রইলেন। অর্পনা উঠে এসে রাতের মায়ের হাত ধরে বললো–
,,, আন্টি!! আমাদেরকে একটু সময় দিন,, একটু। আমরা যেভাবেই হোক অরুনের বাবা মাকে রাজি করিয়ে আপনার কাছে নিয়ে যাবো। আপনি আপনার মেয়েকে সসম্মানে বিয়ে দিবেন, প্লিজ আন্টি। আপনার রাতের জন্য হলেও অরুনকে তুচ্ছ করবেন না। আপনিও যদি না বুঝেন তাহলে ব্যাপারটা আমাদের কাছে টাফ হয়ে যাবে।

,,, পল্লব বললো — আপনাকে বা রাতকে চুল পরিমান অপমানিত হতে দিবোনা আমরা, প্লিজ মেনে নিন।
,,, ইরাও শায় জানালো। সবার কথা কানে নিলেও সুহাসিনী সোজা নজর তাক করলেন মেয়ের দিকে। রাতের চোখে অসহায়ত্ব,, তাতে মিশে আছে একরাশ কাতরতা। সুহাসিনী মেয়ের মাথাটা কোল থেকে নামিয়ে বালিশে রাখলেন। উঠে যেতে যেতে বললেন — খাবার নিয়ে আসছি। আর হে!! আশা করছি তোমরা এমন কিছু করবেনা যেখানে আমার মেয়ে কিংবা আমার মাথা নত হয়। যে ওর সব জেনে ওকে নিতে রাজি হবে তার কাছেই মেয়ে দিবো আমি।
,,, বলতে বলতে বেড়িয়ে গেলেন তিনি। অর্পনা আর ইরা কিছুক্ষণ রাত্রির সাথে কথা বললো। অরুনের কান্ডিসন, কেনো কি বলেছে? সবটা এক্সপ্লেন করলো। দুজনার ভুল বুঝাবুঝি মেটাতে যা যা করা যায় সব করলো তিনজন। ওকে বুঝিয়ে ইরা আর অর্পনা বেড়িয়ে গেলো। ওরা বেড়িয়ে যেতেই অরুনকে টেনে ভিতরে নিয়ে এলো পল্লব। ওকে রাত্রির পাশে বসিয়ে দিয়ে তাড়াহুড়ো করে নিজে বেড়িয়ে গেলো। রাত্রি এক যোকে চেয়ে রইলো অরুনের মুখে,, কি অবস্থা করেছো নিজের? শ্যামলা মুখটা মলিনতায় কালো হয়ে আছে, শার্টের বোতাম এলোমেলো, কুচকে আছে। চুলগুলো এলোমেলো, মুখের একপাশে কালসিটে দাগ পরে আছে। অরুনকে দেখতে দেখতে রাত্রির চোখ জোড়া ভিজে উঠলো,, ছেলেটাকে ও কতোটা কষ্ট দিয়েছে সে,, এবার তো মরতেও চাইলো অথচ সে ভালো করেই জানে অরুন তাকে কতোটা ভালোবাসে। রাত্রি তাকিয়ে আছে বিদায় অরুন ওর দিকে তাকালো না, এদিক ওদিক চোখ ঘুরিয়ে নিজেকে স্থির করতে চাইলো। অরুনের অভিমানি চেহারাটা দেখে চোখে পানি নিয়ে মুচকি হাসলো রাত,, বললো — তখন চলে গিয়েছিলি কেনো?

,,, অরুন দেয়ালের দিকে চেয়ে রইলো, সে মুখে এখনো পুরোপুরি শক্তি পায়নি,, তবে আগে থেকে কিছুটা রিলিফ ফিল করছে। অরুনকে কথা বলতে না দেখে রাত্রি আবার বললো–
,,, তুই নাকি কথা বলতে পারছিস না?
,,, এবারেও নিরুত্তাপ অরুন তবে চোখে পানিরা ভির জমিয়েছে। রাত্রি বাম হাতে অরুনের শার্টের কলার শক্ত করে টেনে নিজের দিকে ফিরাতে চেয়ে বললো–
,,, কি হয়েছে? আমি মরে গেলে তর কি? তুই কেনো কথা বলতে পারবি না? তর তো পরশী আছে,, ওকে আদর করবি না? ও না তর বউ হবে? ওর কাছে যা।
,,, অরুন ছলছল দৃষ্টিতে রাত্রির দিকে তাকালো সাথে সাথে টুপটাপ করে কয়েকফোটা পানি গড়ালো। কাল রাত থেকে আজ সকাল পর্যন্ত এই প্রথম কাদলো অরুন। সে পারেনা,, সবার মতো কেঁদে কুটে ভালোবাসা প্রকাশ করতে পারেনা। মহান আল্লাহ তায়ালা তার মনটাকে নরম বানালেও আবরনটাকে যে শক্ত বানিয়েছেন। সে মরে যাবে তবুও কেদে মন হালকা করতে পারবেনা। কাউকে বলে বুঝাতে পারবেনা তার কষ্ট হচ্ছে। রাত্রি অরুনের গালে হাত রেখে ভাঙা কন্ঠে বললো —

,,, বোবা হয়ে গিয়েছিস? আর কথা বলতে পারবি না?
কোথায় কষ্ট হচ্ছে? মুখে শক্তি পাচ্ছিস না?
,,, অরুণ রাত্রির হাতটা ধরে ঠোঁটের কাছে নিয়ে চুমু খেয়ে বুকের বাম পাশে রাখলো, পরপর ইশারা করে বুঝালো এখানে ব্যাথা করছে। রাত্রি সেখানে হাত বুলিয়ে শার্ট খামচে ধরে উঠতে চাইলে অরুন ওকে আগলে নিয়ে উঠিয়ে বসালো। ভার রাখতে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরলো রাতের পাতলা কোমর। রাত্রি তখনো অরুনের শার্ট খামচে ধরে রেখেছে,, অরুন ওর পিছনে বালিস দাড় করিয়ে ওকে ছাড়তে চাইলে রাত্রি ছাড়লো না। অরুনের বুকের বাম পাশে চুমু খেয়ে বললো — কষ্ট কমেছে?
,,, অরুন অসহায়ের মতো চেয়ে রইলো,, ওর চোখ মুখ দেখে আবারও বুকে চুমু খেলো রাত। পরপর চুমু খেতে খেতে বললো — এখনো কমেনি?

,,, অরুন দুহাতে রাত্রির মুখটা আগলে নিলো। কিছুক্ষণ শান্ত মেজাজে চেয়ে থেকে হুট করেই এক হাতে ওর মুখ চেপে ধরলো। চোখ দ্বারা শাসালো। রাত্রি বুঝলো সেই চোখের ভাষা,, অরুন হয়তো বলতে চাচ্ছে,, রাতের সাহস হলো কি করে ওকে ছেড়ে যাবার? ওর কিছু হলে অরুনের কি হতো? মরে যেতো না? কেনো এতো জ্বালায় মেয়েটা? ও কাছে যেতে চাইলে দূরে সরিয়ে দেয়। এমন এমন কথা বলে যেগুলো অরুনকে ভিতর থেকে শেষ করে দেয়। অরুনের স্পর্শে নাকি ঘৃণা হয় তার। এতো এতো কষ্ট দেওয়ার পর অরুন যখন একটা তিক্ত কথা বললো তখন কেনো মেয়েটা তার সাথে এসব করবে? কেনো ছেড়ে যেতে চাইবে? রাত যখন ওকে বার বার আঘাত করেছিলো, তখন কি অরুন মরতে গিয়েছিলো? যায়নি তো, তাহলে রাত কেনো করবে? অরুনের অভিব্যাক্তি বুঝতে পেরে রাত্রি ভাঙা কন্ঠে আওড়ালো–

,,, সরি!! সরি, আর কখনো এমন করবো না,, তকে কষ্ট ও দিবোনা।
,,, অরুন আঙুলের সাহায্যে রাতের চোখের পানি মুছে দিয়ে কোনো আগাম বার্তা ছাড়াই আকরে ধরলো রাতের উষ্ঠোধর,, আবেশে চোখ বুঝে নিলো রাত্রি। স্পর্শটা প্রথমে কোমল হলেও ধীরে ধীরে তা কঠোর হলো,, মনের মাঝে জমে থাকা সকল রাগ উগলে দিলো অরুন। রাত্রি ব্যাথা পেলেও চুপটি করে মেনে নিলো সেসব। আদর, ভালোবাসা আর রাগের মিশ্রন ঘটতেই ফুপিয়ে উঠলো অরুন,, কাঁদতে কাঁদতে ছেড়ে দিলো রাত্রির উষ্ঠ। কাঁদছে রাত্রিও,, কতগুলো দিন দূরে ছিলো তারা। ভালোবাসাবাসির সম্পর্কটা এই কয়েকদিনের হলেও কখনোই তাদের মাঝে দূরত্ব ছিলোনা।

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৪২ (২)

রাগ করা, অভিমান করা, একে অপরের পছন্দ অনুযায়ী নিজেকে সাজানো। তাদের মাঝে তৃতীয় কেউ এন্ট্রি নিলে একে অপরকে শাসানো, কাছে আসা, নাম হীন আদর, কেয়ার, দুষ্ট মিষ্টি ঝগড়া এসব লেগেই থাকতো। অথচ এই একটা মাসে দুজনার চোখে চোখ রাখেনি,, সরাসরি কথা বলেনি, কাছে আসেনি, ভালোবাসেনি। এসব আর কতো মানা যায়? আল্লাহ যেহেতু আরও একবার ভালোবাসার সুযোগ দিয়েছে, রাত হাতছাড়া করবেনা। বন্ধুমহল যেহেতু কথা দিয়েছে আর মাম্মাও সুযোগ দিয়েছে,, সেহেতু বাকি লড়াইটা লড়বে সে। যেমন করেই হোক সম্পর্কটা বাচিয়ে রাখবে।

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৪৩

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here