Home ৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি ৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৫০ (২)

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৫০ (২)

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৫০ (২)
রুপান্জলি

সন্ধা নামার সাথে সাথেই আকাশে ঘন মেঘের আস্তরণ পরেছে,, ক্ষনে ক্ষনে মেঘ ডাকছে,, যখন তখন বৃষ্টি হতে পারে। অর্পনা এখনো বাড়ি ফিরেনি,, ফিরেনি বললে ভুল হবে,, দ্বীপ ফিরতে দেয়নি। হাজারটা কাজের বাহানা বানিয়ে পুরোটা দিন তাকে নিজের ক্যাবিনে আটকে রেখেছে। ফোনটা পর্যন্ত ইউজ করতে দেয়নি,, এখন কোথায় যেনো গিয়েছে,, মেবি ইফতার আইটেম রেডি হয়েছে কিনা সেটাই দেখতে গিয়েছে।

অর্পনা কাজ শেষ করার পর বোরিং হচ্ছিলো বলে দ্বীপের কয়ককটা রেডি করা ফাইল পড়ে কন্সট্রাকশন সম্পর্কে ধারনা নিচ্ছে। ওর গভীর মনোযোগের মাঝে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ কল এলো,, ফ্রেন্ডদের কল দেখে অর্পনার মনটা খুশিতে টইটম্বুর হয়ে গেলো,, মনে জমে থাকা বোরিং ন্যাস যেনো এক লহমায় মিটে গিয়েছে। সে তারাহুরো কল ধরতেই ওপাশে থাকা চার মুর্তির দেখা মিললো,, পল্লব মাথায় টুপি পরে বসে আছে, রাত্রি মাথায় ঘোমটা দিয়ে ঝিমাচ্ছে, দেখেই মনে হচ্ছে বেচারি বড্ড ক্লান্ত। ইরা মুখে হাত দিয়ে বসে আছে, নির্ঘাৎ কিছু একটা খাচ্ছে। তারা সামনে দেখে মুখ ঢেকে রেখেছে। অরুনের বাচ্চাও কি যেনো খাচ্ছে,, তবে লুকিয়ে নয় বরং সবাইকে দেখিয়ে দেখিয়ে খাচ্ছে। এই ছেলেটা রমজান মাস এলেই ভন্ডামি শুরু করে দেয়, রোজা রাখেনা। তারা বিষয়টা নিয়ে পচানি দিলে সে একটু ও লজ্জিত হয়না বরং বুক ফুলিয়ে হাজারটা অজুহাত তামিল করে। অরুন পিজ্জার একটা পিস ক্যামেরার সামনে এনে বললো — খাবি? অনেক মজা, ইসস!! কত্ত জুসি, চিজি, প্রতিটি কামরে ক্যাপসিকাম, চিকেন, মাশরুম, ওরেগানো, ওলিভ,,, ওমম,,ইয়াম্মি।

,,, বলতে বলতে পিজ্জাতে কামর বসালো, রাত্রি আর ইরা অবাক চোখে অরুনের দিকে তাকিয়ে,, এই ছেলে এখনো রোজা রাখেনা? এইতো গতো রমজানেও বললো সে নাকি এবার রোজা রাখবে অথচ এইবারো আগের রুপ ধারন করেছে। এই সময়ে কল না দিলে বিষয়টা তো জানতেই পারতো না তারা। পল্লব নাক সিটকে বললো — তর জীবনের অর্ধেকটা পার হয়ে গেলো বন্ডামি করতে করতে এইবার আখিরাতের জন্য কিছু কামা। আল্লাহ তো তকে ছাড়বে নারে।
,,, অরুন খাবার চিবুতে চিবুতে বললো — আরে সামনের বছর থেকেই রোজা রাখা শুরু করবো, আরেকটু বড়ো হয়ে নেই।
,,, ইরা অবাকের চরম পর্যায়ে গিয়ে প্রশ্ন করলো — তুই কি ছোট?
,,, অরুন মাথা ঝাকিয়ে শায় জানালো,, মুখটা বাচ্চাদের মতো করে বললো — আমার মম বলেছে আমার মাত্র ৯ বছর,, আর এক বছর পেরুলে ১০ বছর হবে। তখন রোজা রাখতে।
,,, ইরা দীর্ঘশ্বাস ফেললো,, রাত্রি ঝিমাতে ঝিমাতে বললো — এই একই কথা গতো তিন বছর যাবত শুনে আসছি,, তর এখনো দশ বছর হয়নি অরুন?

,,, অরুন মুখে ইনোসেন্ট হাসি ঝুলিয়ে বললো– এইতো সামনের বছর ই হবে।
,,, বলতে বলতে আবারো খেতে লাগলো,, অরুনের কান্ড দেখে অর্পনার পরশীর কথা মনে পরে গেলো। পরশীটাও রোজা রাখেনা, সারাক্ষণ এটা ওটা খায় আর যাকে সামনে পাবে তাকেই খাওয়ার জন্য সাধে,, খেতে না চাইলে একদম মুখের সামনে গিয়ে তৃপ্তি দায়ক শব্দ করতে করতে খাবার খায়। মেয়েটা বড্ড বাচ্চামি করে,,অর্পনার অবশ্য ভালোই লাগে। রাত্রি কিছুটা কাঁদো কাঁদো স্বরে বললো — দোস্ত এখনো আজান দেয়না কেনো? খিদায় আমার পেট কামড়াচ্ছে।
,,, অর্পনা সময় দেখে নিয়ে বললো — কিছুক্ষণের মাঝেই দিয়ে দিবে, অপেক্ষা কর।
,,, অর্পনার কথা শুনে রাত্রির মুখের কোনো পরিবর্তন হলো না, তবে কিছুটা বিচলিত কন্ঠে সুধালো — অর্পন জানিস কি হয়েছে? তকে তো বলতেই ভুলে গিয়েছিলাম।
,,, কি হয়েছে?
,,, আরে তর নানি বাড়ি মানে কাইসার বাড়িতে,,

,,, রাত্রির কথার মাঝেই হুট করে কারেন্ট চলে গেলো,, তীব্র অন্ধকারে চাপা পরলো দ্বীপের ক্যাবিন। ওয়াইফাই ডিসকানেক্ট দেখানোর সাথে সাথে কল কেটে গেলো। অর্পনা বিচলিত হয়ে পরলো। দ্রুত ডাটা অন করতেই দেখলো সিম ডিসেবল দেখাচ্ছে,,পরক্ষণেই জেনারেটর অন হওয়ার অপেক্ষা করতে লাগলো। কিন্তু হচ্ছেনা, আজব তো!! বৃষ্টির দিনে হঠাৎ কারেন্ট চলে যাওয়াটা আহামরি কোনো ব্যাপার না। তবে জেনারেটর চালু হচ্ছেনা কেনো? অর্পনা ভাবুক হলো, কিছুটা চিন্তিত,, রাত কি বলতে চেয়েছিলো? কাইসার বাড়িতে কি হয়েছে? আর হুট করেই তার সিম ডিসেবল হয়ে গেলো কি করে? এখানে কি সীম এক্সিস্ট করেনা? পরোক্ষনেই বাহিরের ঝর ঝাপ্টার কথা মাথাশ আসতেই নিশ্চিন্ত হলো। হয়তো এই ওয়েদারের কারনেই কারেন্ট এবং সিম দুটোই ডিসেবল হয়ে গিয়েছে। অর্পনা ফাইল গুলো আগের জায়গায় রেখে উঠে দাড়ালো। দ্বীপদের অফিসটা গ্লাসের তৈরি তবে ভিতর থেকে পর্দা দিয়ে ঢাকা থাকে। অর্পনা দ্বীপের চেয়ার থেকে উঠে দাড়ালো, এগিয়ে গেলো কাচের দেওয়ালের দিকে,, সফেদ রঙা পর্দাটা সরাতেই পুরো রাস্তা, আকাশ, গাছ-পালা দৃশ্যমান হলো। বাতাসের তোপে গাছগুলো এদিক ওদিক নড়াচড়া করছে,, ঝিরি ঝিরি বৃষ্টিতে রাস্তাঘাট ভিজে টইটুম্বুর হচ্ছে। পরিবেশ দেখতে দেখতে অর্পনার নজর আটকালো কারেন্টের খাম্বায় এটাস্ট করা তারের উপর। সেখানে দুটো পাখি বসে আছে, সাইজ দেখে মনে হচ্ছে একটি মেয়ে অন্যটি ছেলে। ঝিরি ঝিরি বৃষ্টিতে ভিজছে দুজন। ছেলে পাখিটি নিজের চিন্তা বাদ দিয়ে ঠোঁট দিয়ে মেয়ে পাখিটির পালক ঝেড়ে দিচ্ছে। একটা সময় মেয়ে পাখিটি কিচির মিচির করে কিসব যেনো বললো,, তারপর ছেলে পাখিটিও কিচির মিচির করলো। এরপর দুজনার মাঝে কি হলো কে জানে? মেয়ে পাখিটি ছেলে পাখিটিকে ইগনর করে সোজা পথে হাটতে লাগলো,, ছেলে পাখিটি কিছুক্ষণ থম মেরে দাড়িয়ে থেকে উড়ে গিয়ে মেয়ে পাখিটির সামনে গিয়ে দাড়ালো। মেয়ে পাখিটি আবারও ছেলে পাখিটিকে ইগনর করে উল্টো পথে হাঁটা দিলো। এই পর্যায়ে ছেলে পাখিটিও মেয়ে পাখিটির সঙ্গে তাল মিলিয়ে হাঁটতে লাগলো। এরুপ দৃশ্যে হেসে ফেললো অর্পনা,, তখনি তার কানের কাছে ফিসফিস করে বললো কেউ,,,

,,, ছেলে পাখিটা আমার মতো ধৈর্যশীল আর মেয়ে পাখিটা তোমার মতো ঘারত্যারা। সারাক্ষণ জ্বালায়,, নিজের খেয়াল রাখেনা আবার কিছু হলেই হাসবেন্ডকে পাত্তা না দিয়ে এদিক ওদিক ছুটে বেড়ায়।
,,, অর্পনা ভ্রু কুঁচকে দ্বীপের দিকে তাকালো, দ্বীপ টুপ করে চুমু খেলো অর্পনার গালে। পরপর চেয়ার টেনে দেওয়ালের কাছে এনে সে চেয়ার বসলো তারপর অর্পনাকে ইশারা করলো কোলের উপর বসার জন্য। কেনো যেনো মানা করলো না রমনি, উল্টো আয়েশ করে পায়ের উপর পা তুলে দ্বীপের কোলে জায়গা করে নিলো। আজ অর্পনা আসার উপলক্ষে অফিসে ইফতার পার্টি হচ্ছে,, এমনিতেও রমজানের তিরিশ দিনে তারা ১০ -১২ বার ইফতার সাবমিট করে। আজ তেমনি একটা দিন,, দ্বীপ সেখান থেকেই বিরিয়ানি, ফলের জুস আর কিছু এক্সট্রা খাবার এনেছে। মাগরিবের আজান পরতেই দ্বীপ ফলের জুসটা অর্পনার মুখের সামনে ধরলো, অর্পনা সেখান থেকে কিছুটা খেয়ে সরিয়ে দিলো,, বাকিটা দ্বীপ সানন্দে খেয়ে নিলো। তবে খাওয়ার ধরনটা ঠিক ছিলো না, অর্পনা যেদিকে ঠোঁট স্পর্শ করে খেয়েছে দ্বীপ সেখানেই অনেকটা সময় ঠোঁট চেপে রেখেছে। অর্পনা সেসবে পাত্তা দিলো না, তার নজর দুটো পাখির দিকে,, তারা এখন ভাব করেছে। ছেলে পাখিটা ফুসলিয়ে ফাসলিয়ে মেয়ে পাখিটাকে মানিয়েছে। দুজন এখন পাশাপাশি দাড়িয়ে,, এই পর্যায়ে বৃষ্টির মাত্রা কিছুটা বাড়লো। দ্বীপ বিরিয়ানির প্যাকেট খুলে কিছুটা অর্পনার মুখের সামনে ধরলো, অর্পনা মুখে নিয়ে খেতে খেতে বললো — ওরা ভাব করে নিয়েছে,, দেখুন।

,,, দ্বীপ আরও একটা লোকমা এগিয়ে দিয়ে বললো — পাখিরাও ভাব করে নিলো তাও আমাদের ভাব হলো না।
,,, দ্বীপ অর্পনার মুখে বিরিয়ানি তুলে দিতেই অর্পনা বিরিয়ানি সমেত দ্বীপের হাত কামরে ধরলো। দ্বীপ ব্যাথাতুর শব্দ করলেও হাত সরালো না। অর্পনা অনেকটা সময় নিয়ে কামর দিয়ে হাতটা ছেড়ে দিলো, দ্বীপ চোখ খিচে বন্ধ করে রেখেছে। অর্পনা ঘাড় বাকিয়ে দ্বীপের চোখ মুখ দেখে মুচকি হেসে কামর দেওয়া জায়গাটায় উষ্ঠ ছোয়ালো। ধীরে ধীরে ভেজা চুম্বন করলো সেখানে। দ্বীপের চোখ মুখ শীতল হয়ে এলো, চোখ খুলে বোকার মতো অর্পনার দিকে তাকিয়ে রইলো। মেয়েটার মনে কখন কি চলে সে বুঝতে পারেনা। এটা দ্বারা কি বুঝাতে চাইলো? তাদের মাঝে ভাব হয়েছে? নাকি হবে? নাকি সারাজীবন এমন ঝগড়া করে যাবে? অর্পনাকে দেখে দ্বীপের মনে একটা কথা খুব করে বাজে “” পুরুষ তুমি মাকড়সার জ্বালে হাজারটা পেচ লাগিয়ে সেটাও খুলে ফেলতে পারবে কিন্তু নারীর মনের গিট!! সেটা খোলার সাধ্যে তোমার নেই। “” দ্বীপকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে অর্পনা বিরক্তির কন্ঠে সুধালো — কি হয়েছে? খাওয়াবেন নাকি উঠে পরবো?

,,,বলে অর্পনা উঠতে চাইলে দ্বীপ অর্পনার কোমর জড়িয়ে ধরে আটকে দিলো। ওর একটা হাত হাতের ভাজে নিয়ে ফিসফিস করে গাইলো —
,,, বলো আমায় কখনো ছেড়ে যাবেনা।
এই হাত দুটো আলাদা করে দিবে না।,,
না না আমি আর কিছু চাই না,,
তুমি হলে আমার আর কিছু লাগে না।
আমি তোমায় ছাড়া আর কিছু বুঝিনা,,
আমি তোমায় ছাড়া ভাবতে পারিনা।
আমি তোমায় ছাড়া আর কিছু বুঝিনা,,
আমি তোমায় ছাড়া থাকতে পারিনা।,,,,,
( পাঠিকা!! গানটা ঠিক আছে?কমেন্টে জানাবে)

,,, অর্পনা গান শুনতে শুনতে আবারও পাখিগুলোর দিকে তাকালো আর সাথে সাথেই অযাচিত কিছুর সম্মুখীন হলো। না চাইতেও লজ্জায় লাল হয়ে গেলো অর্পনা,, মুখ ঘুরিয়ে দ্বীপের শক্ত পোক্ত বুকে মুখ লুকিয়ে বিরবির করে আওড়ালো — নাউজুবিল্লাহ!! আসতাগফিরুল্লাহ!!
,,, অর্পনার রিয়্যাকশন দেখে দ্বীপ ভ্রু কুঁচকে সেদিকে তাকাতে নিতেই অর্পনা দু-হাতে দ্বীপের চোখ চেপে ধরে বললো — না প্লিজ!!
,,, দ্বীপ ঠোঁট বাকিয়ে হাসলো, তার বোকা বউ ভুলেই বসেছে সে এতোক্ষণ যেদিকে তাকিয়ে ছিলো দ্বীপ ও সেদিকেই তাকিয়ে ছিলো। সে যা দেখেছে,, দ্বীপ নিজেও তা দেখেছে।

,,,রাত ১১ টা ২৫,,
,, পড়াশোনার পাশ কাটিয়ে স্টাডি টেবিল ছাড়লো রাত্রি,, আজ তার মনটা খুব খুশি খুশি,, তারো বৃহৎ একটা কারন রয়েছে,, আর সেটা হলো পিজ্জা। সন্ধায় অরুন যখন পিজ্জা খাচ্ছিলো তখন তার একটু একটু লোভ লাগছিলো। লাগারি কথা, সে তো ফাস্ট ফুড প্রেমি। সবচেয়ে বড়ো কথা প্রেমিক পুরুষের থেকে প্রিয় কোনোকিছু পাওয়া তাও সারপ্রাইজ আকারে,, এর থেকে আনন্দের কিছু হতে পারে? ওহুম,, একদমিনা।রাত্রি আর অরুন রাতের এই সময়টায় প্রেমালাপে মত্ত হয় কারন সন্ধা থেকে রাত সারে এগারোটা পর্যন্ত অরুন বইয়ে মুখ গুজে রাখে তবে রাত্রির বেপারটা আলাদা। সে চাইলেও পড়ালেখায় মন দিতে পারেনা, মন দিলেও মাথায় পড়ালেখার প ও ঢুকে না। এ নিয়ে বন্ধু বান্ধব বহুবার সন্দেহ প্রকাশ করেছে,, তার মতো একটা গোবর ঠাসা কি করে ঢাবিতে চান্স পায়? এখন সে তো আর বলতে পারবেনা যে ভর্তি পরিক্ষাটাও সে তাদের মধ্যেই একজনের থেকে দেখে দেখে দিয়েছিলো। এখনো পর্যন্ত এই বিষয়টা প্রকাশ পায়নি,, রাত্রি প্রকাশ করতে চায় ও না।

প্রকাশ পেলেই পল্লবের বাচ্চা তাকে পাচিয়ে মারবে। এই ছেলেটা আস্তো এক গাম্বাট, সারাদিন লাফাঙ্গার মতো চলে আবার ভালো রেসাল্ট ও করে। সেদিন রাত্রি পল্লবের পাশাপাশি ব্যান্চে বসেছিল, ভাগ্যক্রমে তাদের সেট ও মিলে যায়। রাত্রি তখন খুশি খুশি প্রতিটি এমসিকিউ পল্লবের কাছ থেকে দেখে দেখে টিক দিয়েছিলো, রাইটিং এর বেলায় ও একই ঘটটা ঘটেছে,, আর সেই কারণেই সে ঢাবিতে চান্স পেয়েছে। পল্লব হয়তো একদিনের দেখায় তাকে মনে রাখেনি, কিন্তু রাত্রি ঠিকই মনে রেখেছে তাকে। রাখারই কথা,, বারবার প্রশ্নপত্র দেখতে দেখতে সে পল্লবের দিকেও বেশ কয়েকবার তাকিয়েছিল। এমনিতেও আমরা যাদের কাছ থেকে দেখে লিখি, তাদেরকে সহজে ভুলতে পারি না।। এমন নয় যে তাদের দেখাটা কো-ইন্সিডেন্টলি হয়ে গিয়েছিলো। মূলত রাত্রি সেদিন পল্লবকে দেখেই মুরির ঠোঙাটা ছুড়ে মেরেছিলো কিন্তু রাত্রি তো রাত্রি ই। তার দ্বারা আজো পর্যন্ত কোনো কাজ ঠিক মতো সাধিত হয়নি,, যার ফলে মুরির ঠোঙা গিয়ে পরে অরুনের মাথায়। তারপর তুমুল ঝগড়া, মারামারি,অভিমান, অভিযোগ, ভালোবাসা আর আজ তারা এখানে দাড়িয়ে। আগেকার স্মৃতি চোখে ভাসতেই শব্দ করে হেসে ফেললো রাত্রি,, বারান্দায় গিয়ে রেলিঙে হেলান দিয়ে দাড়ালো। অরুনের নম্বরে ডায়াল করতেই ওপাশ থেকে কল কেটে দিলো। রাত্রি ভাবলো অরুন মনে হয় বিজি তবে তাকে অবাক করে দিয়ে অরুন ভিডিও কল করলো। রাত্রি সময় নিয়ে কলটা ধরলো,, অন্যান্য সময়ে তারা গ্রুপে ভিডিও কল করলেও এমনি খুব কম ভিডিও কলে আসা হয়।রাত্রি ফোন ধরতেই অরুন হাস্যজ্বল কন্ঠে সুধালো — কেমন আছো প্রিয়া!!

,,, “তুমি” সম্মোধন শুনে রাত্রি লজ্জায় লাল হয়ে গেলো, গলায় কথা আটকে আসছে যেনো,,কি করবে কি বলবে ভেবে পাচ্ছে না। রাত্রিকে লজ্জা পেতে দেখে আরেকটু অবাধ্য হলো অরুন, মাদকিয় কন্ঠে সুধালো — লজ্জা পেলে তোমায় দারুন লাগে রাত,, ইচ্ছা করে তোমার লজ্জা রাঙা গালদ্বয় চুমুতে আরও রাঙিয়ে দেই।
,,, রাত্রি ঠোঁট চেপে নিজের বুকের ভিতর চলা আন্দোলন দমাতে চাইলো তবে পারলো না। ব্যার্থ হয়ে কিছুটা রাগ দেখিয়ে বললো — অরুণ!! তুই কিন্তু বেশি বেশি করছিস।
,,, অরুন হাসলো, মেয়েটা রাগ দেখাচ্ছে অথচ চোখে মুখে লজ্জার ছাপ স্পস্ট। অরুন কন্ঠ আরেকটু খাদে নামিয়ে বললো –আরও করবো,, শুধু ফোর্থ ইয়ারের এক্সামটা শেষ হোক তারপর পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ নির্লজ্জ হবো আমি।
,,, রাত্রি হাসফাস করতে করতে বললো– আমার আন ইজি লাগছে,, প্লিজ এসব বলিস না।
,,, বলবো না, কিন্তু একটা শর্ত আছে।
,,, কি?
,,, আমায় তুমি করে বলো তাহলে আর এসব বলবোনা।
,,, মাফ কর,, আমি পারবো না।
,,, এপর্যায়ে কাতর হলো অরুন,, আবদার ভরা কন্ঠে বললো,– পারবে,, বলোনা প্রিয়া!! তোমার মুখে তুমি শুনার এক আকাশ পরিমান শখ আমার,, একবার বলো।
,,, রাত্রি কি করবে বুঝে পাচ্ছেনা,, সে কিছুতেই অরুনকে “তুমি”বলতে পারবেনা,, আবার আপনিও বলতে পারবেনা। এই সম্মোধনগুলো ওর সাথে যায়না। রাত্রি নাকোচ করে বললো — প্লিজ!! আমি কিন্তু কল কেটে দিবো।
,,, অরুন বেহায়ার মতো করে নেশালো কন্ঠে সুধালো — আমি কিন্তু তোমার রুমে চলে আসবো। তারপর,, ( কিছুটা টেনে)

,,, রাত্রি ঢোক গিলে মাথা নত করে মিনমিনে স্বরো ডাকলো — অরুন প্লিজ!!
,,,অরুন শব্দ করে হেসে বললো– আচ্ছা!! ওকে ওকে,, কি করছিলি?
,,, এইতো পড়ছিলাম।
,,, বাহ!! তুই পড়তেও বসিস? কি শুনালি রাত? আমি না হার্ট এটাক করে ফেলি।
,,, ঢং করিস নাতো,, যাই হোক তকে অনেক ধন্যবাদ!!
,,, হঠাৎ ধন্যবাদ?
,,, এহ!! নাটক করিস নাতো,, আমি সব বুঝতে পেরেছি।
,,, কি বুঝেছিস? কি হয়েছে বলতো?
,,, তুই ইফতারির পর আমার জন্য পিজ্জা পাঠিয়েছিলি না? ওটার কথাই বলছি।
,,, রাতের কথায় অবাক হলো অরুন,, ভ্রু গুটিয়ে প্রশ্ন করলো — আমি? কই নাতো,, আমি তো কিছু পাঠাইনি।
,,, মজা করিস না অরুন,, সিরিয়াস হো।
,,, মজা করছিনা রাত,, আমি তকে কিছু পাঠাইনি,,আল্লাহ এর কসম।

,,, রাত্রি এবার বেশ বিচলিত হলো,, কে পাঠিয়েছে তবে? তখন তো ওরা বন্ধুরা বন্ধুরাই ছিলো তাহলে কি বন্ধুদের মধ্যেই কেউ পাঠিয়েছে? কে পাঠাবে?অর্পনা, ইরা নাকি পল্লব? তওবা তওবা!! এই পল্লবের বাচ্চা কখনোই পাঠাবেনা। ওহুম, পাঠাতে পারে। পল্লব তো তাদের খুব খেয়াল রাখে। অলওয়েজ খাওয়া দাওয়া পছন্দ-অপছন্দ নিয়ে তদারকি করে,, বিশেষ করে তার পছন্দের বিষয়গুলো খুব বেশি ই মনে রাখে। তাহলে বোধহয় পল্লব ই পাঠিয়েছে। রাত্রি মনে মনে ঠিক করলো অরুনের সাথে কথা শেষ করে পল্লবকে একটা কল দিবে। রাত্রিকে ভাবুক দেখে অরুন বললো — কিছু হয়েছে রাত? এনি প্রবলেম?
,,, রাত্রি দুদিকে মাথা ঝাকিয়ে বললো — নারে, তেমন কিছুনা।
,,, তাহলে কেমন কিছু?

,,, রাত্রি ঘুরে দাঁড়িয়ে রাস্তার দিকে তাকিয়ে অরুনের প্রশ্নের উত্তর দিতে নিতেই চোখ আটকালো স্ট্রিট লাইটের পিছনে দাড়ানো সেই মানবের উপর,, হুট করেই রাত্রির হাত থেকে ফোনটা পরে গেলো। আজ ছয়দিন পর লোকটা এখানে এসে দাড়িয়েছে,, হাতে চিরোচেনা আগুনে পোড়া সিগারেট। এখানকার স্ট্রিট লাইটের আলো বড্ড ক্ষিন। ওখানে দাড়ানো লোকটাকে পুরোপুরি দেখা যায়না। ফোনটা নিচে পরে কোনা বরাবর বারি খেতেই আপনাআপনি বন্ধ হয়ে গেলো৷ রাতের সেদিকে খেয়াল নেই,, সে বড্ড বিচলিত। কে এই লোক? তাদের আগের ফ্লাটের সামনে এসেও লুকিয়ে দাড়িয়ে থাকতো অথচ সে বেশ কয়েকবার দেখেছে। এই ফ্লাটে আসার পরেও একই ব্যাপার ঘটছে। রাত্রি মনে মনে ঠিক করলো সে আর কখনো বারান্দায় আসবেনা, তাহলে নিশ্চয়ই লোকটা আসা বন্ধ করে দিবে?

মাঝরাতে কিছু একটা পরে যাওয়ার শব্দে দ্বীপের ঘুমটা হালকা হয়ে এলো,, চোখ মেলে তাকাতে চাইলো তবে পারলো না।চোখে তীব্র ঘুম,, বুকের বাম পাশটা খালি খালি লাগছে,, সে বিছানা হাতরে এদিক ওদিক অর্পনাকে খুঁজলো তবে পেলোনা। অর্পনাকে না পেয়ে চোখ মেলে তাকালো দ্বীপ, তড়িৎ গতিতে পুরো রুম স্ক্যান করে নিলো কিন্তু পেলোনা। কোথায় গেলো মেয়েটা? ওয়াসরুমের লাইট অফ, দরজা বাহির থেকে বন্ধ,, এমনকি তাদের ঘরের দরজাটাও ভিতর থেকে আটকানো। তাহলে কোথায় গেলো অর্পনা? পরক্ষণেই বারান্দার কথা মাথায় এলো, দ্বীপ তড়িঘরি করে বিছানা ছেড়ে বারান্দায় পা বাড়ালো। কাচের লম্বা থাই পেরিয়ে বারান্দায় পা রাখতেই পা যুগল থমকে গেলো,, অর্পনা সুইমিং পুলের পাশে পরে আছে,, কেমন যেনো করছে, দুহাতে মাথা চেপে ধরে রেখেছে,, পাশে কো*কেন পেপার পরে আছে সাথে দুটো ইনজেকশন। দ্বীপের তুখোড় মস্তিষ্ক বিষয়টা ক্যাচ করে নিলো,, অর্পনা কো*কেনের ঘ্রাণ নিয়েছে? নাকি ইনজেকশন নিয়েছে? দ্বীপ তাড়াহুড়ো করে ছুটে গেলো,, অর্পনাকে দুহাতে ঝাপ্টে ধরে উঠানোর চেষ্টা করলো কিন্তু মেয়েটা উঠতে পারছেনা,, দ্বীপের নিজেকে পাগল পাগল লাগছে, সে অর্পনাকে কোলে তুলে নিয়ে বিচলিত কন্ঠে সুধালো– কি হয়েছে সোনা? কি নিয়েছিস তুই? কো*কেনের ঘ্রাণ নিয়েছিস নাকি ইনজেকশন? বলনা জান,, এই।

,,, দ্বীপের কথাগুলো বুঝলো বোধয় অর্পনা, সে সকল যন্ত্রণা ভুলে ভাঙা ভাঙা কন্ঠে সময় নিয়ে বললো — আম, আমার অনেক কষ্ট দ্বীপ,, আপনার থেকেও বেশি কষ্ট। আপনাকে ভালোবাসার জন্য সবাই আছে,, সবচেয়ে বড়ো কথা আমি আছি, আমি আপনায় অনেক ভালোবাসি কিন্তু আমায় ভালোবাসার কেউ নেই,, আপনিও না। আপনি শুধুই পারুকে ভালোবাসেন,,আজো তাকেই খুঁজেন,, আপনার কোথাও আমি নেই। তাই আমি আপনার নিয়মে কষ্ট কমাতে চাইছি। কিন্তু কমছে নাতো,, আমার দম বন্ধ লাগছে,, কষ্ট হচ্ছে অনেক। কো*কেন নেওয়ার পরেও আমার শান্তি লাগছেনা কেনো? আমি কি মরে যাবো?

,,, দ্বীপ বোকার মতো তাকিয়ে রইলো, চোখ জোড়া ভিজে উঠেছে,,সাথে সাথে গড়িয়ে পরেছে কয়েকফোটা জল। এই মেয়েটা এসব কি বলছে? তাকে ভালোবাসার কেউ নেই? এইযে অধ্বপ্রান্ত দ্বীপ মির্জাটা,, সে কি তাকে কম ভালোবাসে? শুধু প্রকাশ করতে পারেনা,, হাড়ানোর ভয় পায় বলেই বলতে পারেনা “” আমি তকে ভালোবাসি ভেলোরা”” কিন্তু মুখে না বললেও যত্নে, চোখের ভাষায় বহুবার বুঝাতে চেয়েছে,, মেয়েটা কেনো তার চোখের ভাষা বুঝেনা?
দ্বীপের ভাবনার মাঝেই ওর পরনের টিশার্ট খামচে ধরলো অর্পনা, মুখ দিয়ে ফ্যানা বের হচ্ছে, চোখ উল্টে আসছে,, হাত পা খিঁচিয়ে নিচ্ছে, দাঁতে দাঁত খিলি লেগে গিয়েছে। দ্বীপের আত্মাটা ছলকে উঠলো,, চোখ ফেটে গড়িয়ে পরা জল এখন তীব্রতা ধারন করেছে,, শব্দ তুলে কেদে দিলো দ্বীপ,, অর্পনার মুখশ্রীতে হাত বুলিয়ে ফেনা মুছে দিতে দিতে আল্লাহ এর কাছে পানাহ চাইলো–
,,, আল্লাহ, আল্লাহ গো আমার ভেলোরা। কু*ত্তার বাচ্চা!! তকে এটা ছোয়ার সাহস দিয়েছে কে? আল্লাহ!! বউ!! কোথায় কষ্ট হচ্ছে তোমার? বলোনা, সোনা!! তুমি,, তোমার কিছু হলে আমি ভিষন আঘাত পাবো ভেলোরা। এ,,এবার আমি আত্মহত্যা করবো,, কসম!!

,,, অর্পনা কথা বলতে পারছেনা, মুখ দিয়ে তখনো ফ্যানা জাতীয় তরল বের হচ্ছে,, দ্বীপের মাথা কাজ করা বন্ধ,,কি থেকে কি করবে বুঝতে পারছেনা। সে বিহানকে ফোন করার উদ্দেশ্যে ফোন খুঁজতেই মাথায় এলো সে ফোন রুমে রেখে এসেছে,, দ্বীপ এক হাতে নিজের চুল নিজেই খামচে ধরলো । এই পর্যায়ে অর্পনা কাতরাতে কাতরাতে জ্ঞান হাড়ালো। দ্বীপ শব্দ তুলে কাঁদতে কদাঁতে জ্ঞান হাড়িয়ে পরে থাকা অর্পনার মুখ চেপে ধরে হিসহিসিয়ে বললো — এই!! চোখ বন্ধ করলি কেনো? ভেলোরা!! কু*ত্তার বাচ্চা,, অমানুষের বাচ্চা!! তুই মরে দেখ,, তর মরা শরীর কেটে টুকরো টুকরো করবো আমি। তর কঙ্কালের প্রতিটি হার হাতুড়ি দিয়ে গুরো করবো। তর বাপকেও খু*ন করে মাটি চাপা দিবো। একটা পাথর জন্ম দিয়েছেন উনি। ঘারত্যাড়া নারী,, তুই আমায় চিনিস না। তর কিছু হলে পুরো পৃথিবী ধ্বংস করে দিবো, খোদার কসম। তাকা না সোনা!! একটু তাকা। আল্লাহ!! মরে যাবো তো। আমাকে আর কতো জ্বালাবি তুই? এভাবে না জ্বালিয়ে মেরে ফেল, জান!! জানরে,, ভেলোরা!!

,,,বিরবির করতে করতে ঘুমন্ত দ্বীপ ধরফরিয়ে উঠলো,, শ্বাসের মাত্রা বেড়েছে কয়েক গুন,, এতো বাজে একটা স্বপ্ন তাও এতোটা বাস্তব রুপে দেখে দ্বীপের হাত পায়ে কাঁপন ধরে গেলো। ভাগ্যিস এটা স্বপ্ন ছিলো নয়তো, নয়তো তার কি হতো? দ্বীপ হাপাতে হাপাতে তার নিচে শুয়ে থাকা অর্পনার গলায় মুখ ডুবিয়ে দিলো। সেখানে লম্বা শ্বাস টেনে অনেকটা সময় পরে রইলো,, এখনো তার বুক ধরফর করছে। এই মেয়েটা!! এই মেয়েটা তার প্রান,, ওকে ছাড়া এক টুকরো নিশ্বাস যেনো বিষবায়ুর সমান। এই মেয়েটাকে সে হাড়িয়ে বাঁচবে কি করে? নাহ!! বাঁচা তো দূর সে এক পল নিশ্বাস ও নিতে পারবেনা,, বুকে ব্যাথা করবে, গলায় আটকে আসবে। দ্বীপ গভীর মনযোগ দিয়ে জীবনের অংক কষলো,, অংক কষতে গিয়ে অনুভব করলো অর্পনা হচ্ছে সেই অংকের প্রকৃত সূত্র। যেই সূত্রটা প্রয়োগ না করলে দ্বীপের এক জীবনের সম্পূর্ণ অংকটাই বৃথা,, কোনো ফলাফল নেই,, যা আসে তা গ্রহনযোগ্য নয়। অতএব শক্তপোক্ত ব্যাক্তিত্বের মানব দ্বীপ মির্জার চোখ বেয়ে সত্যি সত্যি ই দু ফোটা তরল পদার্থ গড়িয়ে পরলো। এই পানিটা ছিলো কোনোকিছু জয় করার আশা,, মূল্যবান কোনোকিছু ত্যাগ আর সব ছাড়িয়ে মুল্যাবান কিছু আপন করার পন। অর্পনার গলা থেকে মুখ তুলে উঠে বসলো দ্বীপ,,

কোনোদিকে না তাকিয়ে শক্ত কদমে এগিয়ে গেলো বারান্দার দিকে। বারান্দায় প্রবেশ করতেই নজর আটকালো সেই জায়গাটায়,, যেখানে স্বপ্নে অর্পনা কাতরাচ্ছিলো। দ্বীপ সেদিক ক্ষিপ্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে বারান্দার গ্লাস আটকে দিলো। ওর রুমটা সাউন্ড প্রুফ হওয়ায় বর্তমানে এপাশে যাই হোক না কেনো রহমের ভিতরে থাকা ঘুমন্ত অর্পনা টের পাবেনা। দ্বীপ হনহন করে হেটে কর্নারে রাখা মিনি ফ্রিজের কাছে গেলো। ফ্রিজটার দুটো পার্ট,, একপাশে দ্বীপের প্রয়োজনীয় বিয়ার, হুইস্কি, ওয়াইন, শ্যাম্পেন, ককটেল রাখা। আর অন্যটাতে অর্পনার প্রিয় স্পিড, স্পিড ক্যান, চকলেট, আইসক্রিম, কেক, ডেসার্ট, কাস্টার্ড, ফালুদা, আরও টুকটাক অনেক কিছু। দ্বীপ একে একে তার প্রয়োজনীয় সকল ড্রিঙ্কস অপ্রয়োজনীয়র খাতায় ফেলে একটা একটা বোতল হাতে নিয়ে সুইমিং পুলের পাশের সেই জায়গাটায় ছুড়ে মারলো। দ্বীপ আর ঐ জায়গাটার দূরত্ব বিশাল হলেও দ্বীপের দক্ষ নিশানার তোপে প্রতিটি বোতল ঝন ঝন শব্দ তুলে সেখানে আছড়ে পরলো, সাথে সাথে ভেঙে চুর্ন চুর্ণ হলো সব বোতল।

এই পর্যায়ে দ্বীপের আচরন বড্ড অস্বাভাবিক ঠেকলো,, সে কাঁচের দেওয়ালের সামনে দাড়িয়ে,, দেওয়ালে লাগানো পা সমান পর্দাগুলো থেকে একটা পর্দা স্টেন্ড থেকে আলাদা করে নিলো। তারপর ভাঙা কাচগুলোর কাছে এগিয়ে গিয়ে পর্দাটা কাচগুলোর উপর রেখে দিলো। পকেট থেকে লাইটার বের করে পর্দায় আগুন ধরিয়ে দিতেই সেটা ধীরে ধীরে জ্বলে উঠলো। প্রতিটি ড্রিংকসে ৮-১০% দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুনের মাত্রা বাড়লো। আগুন লগেছে বুঝতে পেরে নিচে দাড়িয়ে থাকা গার্ডরা শতর্ক হলো। দ্বীপকে সরাসরি কল করার সাহস নেই বিদায় তারা বিহানের ফোনে কল করলো। এই মুহুর্তে তারা পারমিশন ছাড়া কোনো পদক্ষেপ নিতে পারবেনা। দ্বীপ ধীরে ধীরে আগুনের সামনে বসে পরলো। এখানে শুধু তার নেশাদ্রব্য নয় আরও একটা গুরুত্বপূর্ণ জিনিস রয়েছে যা ঐ আনারি মেয়েটার জন্য ত্যাগ করতে যাচ্ছে। দ্বীপ এক দৃষ্টিতে আগুনের দিকে তাকিয়ে রইলো,, চোখ জোড়া শান্ত, গভীর,, পানি টলমল করছে,, আকষ্মিক আগুনের লেলিহান সিখায় পারুর হাস্যজ্বল মুখটা ভেসে উঠলো,, পারু হাঁসছে,, সবসময়কার মতো হাঁসি,, যাতে কোনো কষ্ট নেই,, রাগ নেই আর না আছে কোনো অভিযোগ। দ্বীপ জানে এটা শুধুই তার হেলোসুলেশন,, তবুও এতোদিন পারুকে দেখতে পেতো,, আজ থেকে আর পাবেনা। দ্বীপ অনুভব করলো পারু তার কাছ থেকে হাড়িয়ে যাচ্ছে আর কখনো দেখতে পাবেনা তাকে,, স্বপ্ন ব্যাতিত অন্য কোনো মাধ্যম নেই যেটা দ্বারা পারুকে দেখা যাবে। দ্বীপের চোখ থেকে আরও দুফোটা পানি গড়ালো,, এটুকু পারুর,, পারুকে আরও একবার হাড়ানোর ব্যাদনায় দগ্ধ হলো দ্বীপ। বুকের এক পাশটা যন্ত্রনায় কাবু হচ্ছে,, তবুও নিজেকে শক্ত রাখলো। ভালোবাসে তো? ভালোবাসায় আরও একবার মরেছে দ্বীপ,, অর্পনাকে নিয়ে রিস্ক নেওয়ার মতো শক্তি নেই তার। মেয়েটার প্রতি দ্বীপের সকল দূর্বলতা বিরাজমান।

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৫০

“””অতঃপর এক আনারি, অভাগী, নিশ্ব রমনিকে হারানোর ভয়ে নেশাদ্রব্য ছেড়ে দিলো দ্বীপ মির্জা। যে কিনা নেশার আগে তার বাবা মাকেও রাখতো না,,”” সে আজ তার তৈরি করা নিয়ম নিজ হাতে ধ্বংস করে দিলো। সাথে ছাড়লো তার প্রথম ভালোবাসা, প্রথম স্ত্রীর সাক্ষাৎ পাওয়ার সূত্র। এরপর থেকে পারু রয়ে যাবে দ্বীপের অস্তিত্বে, কল্পনার ভাজে, মনের এক কোনে, স্মৃতির পাতায়,, ভালোবাসার এক রঙিন মলাটে!!”‘

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৫১

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here