Home ৪ বছরের চুক্তির মা ৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ৪৫

৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ৪৫

৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ৪৫
সারা চৌধুরী

শুভ্র সবার মাঝ থেকে বেরিয়ে বাড়ির সদর দরজায় দাড়িয়ে থাকা ডেলিভারি ম্যান থেকে কিছু আনিয়ে নেয় দারোয়ান কে দিয়ে। বেশ বড় সড় বাক্স।শুভ্র বক্স টি মিসেস সুমনা কে ডেকে কিছু একটা বলে।মিসেস সুমনা ও সাবধানে রেখে দেয় বক্সটি নিরাপদ স্থানে।
শুভ্র আর সুমনা বেগম আবার নিজেদের জায়গায় এসে দাড়ালো।শুভ্র অর্ক কে চোখের ইশারায় হ্যা সুচক ইশারা দিলো।অর্ক ও সস্থির নিশ্বাস ফেলেছে এতক্ষনে।
ফারুক তালুকদার বেশ কিছুক্ষন চুপ রইলেন তার পর নিজের গম্ভীর মুখশ্রী নিয়ে সবাইকে এক পলক পর্যবেক্ষন করলো তারপর গলা ঝাড়া দিয়ে বলে উঠলো..

-“আমি অনেক ভেবে যা বুজলাম যদি মেইন কাল/প্রিট কেও হয়ে থাকে সেটা আকাশ।একটা ভাই কতটা পাষান্ড হলে তার বড় বোনের সংসার নষ্ট করতে পারে তাও আবার বন্ধু সমতুল্য দেবর কে নিয়ে।ছি:
অহনার মাথা নিচু। চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পড়ছে।ফাতিহা এবার অবাকের৷চরম পর্যায়ে যত টা খারাপ সে রিহান কে ভেবেছিলো তার থেকে হাজার গুন বেশি খারাপ সে।নিজের ই ঘৃনা লাগছে ওমন অসভ্য একটা ছেলেকে ভালোবাসার জন্য যে কিনা নিজের বোনের সুখের সংসার টা নষ্ট করে দিলো।সারার চোখের কোন ভেজা।তার ও খারাপ লাগছে।বাড়ির প্রতিটি মানুষ নির্বাক।শ্রাবন এর মাথা নিচু।ফারুক তালুকদার ইতিমধ্যে মনিরা কে তালুকদার বাড়িতে যত দ্রত সম্ভব ফিরতে বলেছে।তবে মনিরা আসতে লেট হবে।
ফারুক তালুকদার আবার বলে উঠলেন..

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

-“আমি আকাশ কে মেইন কাল/প্রিট বলেছি এর শাস্তি সে পাবে । (শ্রাবন & অহনা) তাকিয়ে।তবে তোমরা কম দোষি না।তোমাদের শাস্তি সন্ধ্যাই পুলিশ আসবে তখন হাতে নাতে পেয়ে যাবে।সবার মনের মাঝে কৌতুহল জন্ম নেই পুলিশ কেন আসবে ফারুক তালুকদার কি তাদের ধরিয়ে দিবে।তবে মনের প্রশ্ন মনেই থাকে মুখ ফুটে আর কিছু বলতে পারে না।
ফারুক তালুকদার সোফা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে ড্রয়িং রুম থেকে বেরিয়ে আসে তার পর জোরে বলে..
-“অহনা আর শ্রাবন একা ছেড়ে দিয়ে সবাই বেরিয়ে এসো।শুভ্রর মা আমাদের খেতে দাও ফ্রেশ হয়ে এক্ষুনি আসছি।আনিস আই।

ভাইয়ের কথাই আনিস ও চলে আসে।আনিতা ব্যাস্ত হয়ে পড়েন খাবার গরম করতে।শুভ্র সারাকে নিয়ে উপরে চলে আসে।অর্ক ও উঠে বাগানে চলে এলো তার বাবারা চলে আসার মতো হয়েছে।ফাতিহাও বেরিয়েছে অর্কের পিছন পিছন। তার মন টা আজ বেশ খারাপ।ফাতিহা বাগানের ভিতরে গিয়ে দোলনায় বসে।আকাশের দিকে চেয়ে রয় এক দৃষ্টিতে।অর্ক মেইন গেট এর দারোয়ান এর সাথে কথা বলে বাড়ির ভেতরেই যাচ্ছিলো হটাৎ চোখ পড়ে বাগানের ভিতরে দোলনায় বসে থাকা ফাতিহার দিকে।
অর্ক আগেই খেয়াল করেছিলো ফাতিহার চোখে পানি আর এখন আকাশের দিকে চেয়ে উদাশ হয়ে বসে থাকা।অর্ক ফাতিহার দিকে হেটে যায় ধীরে ধীরে। ফাতিহার পাশে বসতে গিয়ে ফাতিহাকে বলে..

-“বসতে পারি.?
-“বসুন।
-“মন খারাপ কেন জানতে পারি.?
ফাতিহা চোখের পানি বাম হাতের তালু দিয়ে মুছে আকাশের দিকে তাকিয়ে থেকেই শান্ত ভাবে বলে..
-“কই..?
-“বি এফ এর জন্য মন খারাপ।
-“মানে.?
-“এইজে এতো কিছু জানলেন তার বেপারে খারাপ তো লাগতেই পারে সাভাবিক তাই বললাম আরকি।
অর্কের কথায় ফাতিহা তড়িএ অর্কের দিকে তাকায়।চোখ বড় বড় করে বলে..
-” কি বললেন.?
-“কি বললাম আর কি অহনা মেয়েটার সেই ভাই তোমার বি এফ বা কাছের কেও।
ফাতিহা কেপে উঠে ভয় মনে বাসা বাধে যদি অর্ক বাড়িতে বলে দেই তো তার বাবা আর ভাই তো তাকে মেরেই ফেলবে।ফাতিহা কাপতে বলে উঠে..

-“আপনি জানলেন কি করে..?
অর্ক বোধহয় হাসলো তারপর উঠে দাঁড়িয়ে উল্টো দিকে ফিরে পকেটে হাত গুজে বলে উঠলো..
-“চিন্তা নেই মিস: ফাতিহা আপনি ভয় পাবেন না আমি কাওকে বলবো না।তবে শুনুন আপনি যেখানকার স্টুডেন্ট আমি সেখানকার লেকচারার।
-“মানে বুজলাম না..?
-“কিছু জিনিসের মানে হয় না।আসি পরে এক সময় কথা হবে। তবে মন খারাপ করবেন না।আপনি জার বুকের পাজড় দিয়ে তৈরী আপনার তার সাথে গাটছড়া বাধবে।

অর্ক আর দাড়ালো না।তার ফোন বাজছে হয়তো তার বাবা চলে এসেছে।আজ তার খুশির দিন তার অসুস্থ মা আবার ঠিক হয়ে যাবে।তার পুচকি বনু আবার তার কাছে আবদার করবে একের পর এক।আবার তাদের বাড়িটা আনন্দে ভরে উঠবে।অর্কের চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আসে ফাতিহা।আচ্ছা মানুষ টা কেমন জানি আমি তার ছোট জেনেও আপনি বলে সম্বোধন করলো।কতোটা রেসপেক্ট এর সাথে কথা বললো।কি আজব বেপার আমার মন খারাপ বুজেও গেলো।আচ্ছা সে কিসের স্টুডেন্ট আর সার এর কথা বললো।ফাতিহার মাথায় ঢুকলো না তবে আপাতত মনের মাঝে রিহান নেই।মন খারাপ ও নেই।
আনিশা আর অন্তু রুমে বসে আছে তো আছেই।আনিশার খুব খারাপ লাগছে সারার জন্য। ইশ অহনা যদি শুভ্র ভাইয়ার কাছে থেকে যায় তবে সারার কি হবে। আচ্ছা সারা কি এসব সহ্য করতে পারবে।আচ্ছা এতক্ষন কি করছে নিচে।একবার গিয়ে দেখবো।না না বাবা থাক ওর চেয়ে বরং চকলেট খাই দেখা গেলো চাচ্চুর সামনে ওই খাটাশ ভোম্বল টা আমাকে বকা দিলো।
আচ্ছা ওনি কি বুজে না আমি ওনাকে এতো ভালোবাসি। যতটা ভালোবাসলে ঘুমের মাঝেও ওই শ্যামলা রাগী মুখটা ভেসে উঠে।
আনিশা আবার মনে মনে মনে বিড়বিড় করে উঠে..

-“ইশ বেডা খাটাশ,, আমিও আপনাকে ভাইয়া বলে জালাবো উপন্যাসের নায়িকাদের মতো।কি কিউট হবে ইশ।কবে বুজবেন আপনি বয়স তো বেড়েই চলেছে।
আনিশার বিড়বিড় দেখে অন্তু খাওয়া থামিয়ে কপাল কুচকালো তারপর হটাৎ করে ধাক্কা দিয়ে বলে..
-“এই আপুউউ তোর কি ভুতে ধরলো এমন বিড়বিড় করছিস কেন..?
অন্তুর ধাক্কায় আনিশা বেচারি লাফিয়ে উঠে সাথে বুকে থু থু দেই।আনিশার লাফানো দেখে অন্তু ও ভয় পেয়ে যায়।ছিটকে দূরে সরে যায়।অন্তু আবারো বলে উঠে..
-“কি বিড়বিড় করছিলি..?
-“কই কি..?
-“এই যে এক্ষুনি..?
আনিশা অন্তুর মাথাই একটা গাট্টা মেরে বলে..
-“তোর চোখে দিনের বেলা ভুল দেখা শুরু করেছিস আব্বুকে বলে ডাক্তার দেখানোর বেবস্থা করছি দাড়া।
কথাটি বলে হুহা হা করে হেসে উঠে আনিশা বোকার মতো।যদিও হাসির কোনো কারন নেই তবুও অন্তুকে এই প্রসঙ্গ ভুলাতে হাসছে।কাজ ও হলো আনিশা অন্তুর ভাগের চকলেট টান দিতেই অন্তু ও চেতে গেলো শুরু হলো কাড়াকাড়ি। একবার অন্তু টানছে তো আর একবার আনিশা।

ড্রয়িং রুম থেকে সবাই এক এক করে বেরিয়ে যায়।দাঁড়িয়ে রই দুটি অনুতপ্ত হৃদয়।নিজেদের ভুলের জন্য তারা আজ এতো দূরে।কখোনো কেও কারোর কাছে ছোট হয়নি।নিজেদের ইগো ঠিক রাখতে গিয়ে সম্পর্ক শেষ করে দিলো।তাদের মেয়েটাও তার আসল বাবার কাছে থেকেও ছিলোনা।
শ্রাবন খুবই অনুতপ্ত নিজের ভুলের জন্য। অহনার সামনে মুখ উচিয়ে দাড়ানোর সাহস হচ্ছে না তার।অহনা উঠে দাঁড়ায়।অহনার মুখটা মলিন,, নিজের প্রতি লজ্জা লাগছে সাথে বড্ড অভিমান জমেছে শ্রাবন এর প্রতি।অভিমান কেন বা জমবে না শ্রাবন যদি একবার সত্যি টা যাচাই করতো।তবুও অহনা এতে লজ্জিত যে এত দিন যাকে ভুল নিষ্ঠুর ভেবে এসেছে আসলে তার কোনো দোষ ই ছিলো না।অহনার মাথা নিচু কি বলবে সে।কখোনো ভুলেও কল্পনা করতে পারে নাই তার আপন ভাই তার জীবন টা নষ্ট করে দেবে।একদিন অবশ্যই সকল প্রশ্নের উত্তর সে নিবে খুব ভয়ংকর ভাবে।
শ্রাবন ধীর পায়ে অহনার সামনে এসে দাঁড়ায়।মাথা উচু করে দাড়ানোর ক্ষমতা নেই তার মাঝে। তবুও অনেক কষ্টে হৃদপিন্ডের প্রচন্ড গতি সামাল দিয়ে শান্ত কন্ঠে বলে উঠে…

-“অ..অ..অহনা..!
শ্রাবন এর এই শান্ত কন্ঠ টা অহনার হৃদয়ে নদীর ঠান্ডা শীতল স্রোত এর মতো বয়ে যায়।অহনা আর নিজের অভিমান ধরে রাখতে পারে না আচড়ে পড়ে শ্রাবন বুকে জড়িয়ে ধরে খুব জোরেই কেদে উঠে।শ্রাবন স্তব্ধ সব কিছু বুজতে সময় লাগে তার।শ্রাবন ও হাত উচিয়ে অহনার পিঠে হাত রাখে জড়িয়ে নেই।অহনাকে।অহনা কাদতে থাকে ধারাহীন।শ্রাবন এর চোখেও পানি।নিজের বুকের খালি অংশ টুকু আজ পরিপূর্ণ লাগছে তবে তাও জেনো কিছুটা খালি।
অহনা কাদতে কাদতে বলে উঠে..
-“আপনি আমাকে ছেড়ে আসার আগে কারন টা বলেন নি কেন শ্রাবন।বলেন বলেননি কেন।কেন কাদালেন এতো আমায়..?প্রশ্নের উত্তর দেন শ্রাবন.?

শ্রাবন স্তব্ধ কি উত্তর দিবে সে।চোখ বেয়ে পড়ছে নোনা জল অহনার কালো চুলের ভাজে মিলে যাচ্ছে। আনিশা মাত্র দরজা থেকে বেরিয়ে সিড়ির কাছে আসতেই অহনার কান্না শুনতে পায় পরক্ষনেই চোখ যায় সোফার পাশে স্থির দাঁড়িয়ে থাকা শ্রাবন ভাই আর তার বুকে অহনা লেপ্টে আছে।স্রাবন ও জড়িয়ে আছে অহনাকে।আনিশা স্থির হয়ে যায়।চোখ পড়ে বাড়ির সকলের দিকে যে যার কাজে ব্যাস্ত।

৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ৪৪

আনিশার মাথা শুন্য লাগছে কি দেখলো সে।কেন দেখলো।সপ্ন নাকি সত্যি।ভেবে পাইনা আনিশা।মাথা চক্কর দিয়ে উঠে। টাল সামলাতে না পেরে প্রথম সিড়িতেই আচড়ে বসে পড়ে।চোখে পানি টলমলিয়ে উঠে।

৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ৪৬