Home অপরাহ্নে উপসংহার অপরাহ্নে উপসংহার পর্ব ৩

অপরাহ্নে উপসংহার পর্ব ৩

অপরাহ্নে উপসংহার পর্ব ৩
তোনিমা খান

–“আম্মা আমি বিয়ে করতে চাই না। আমি পড়াশুনা করতে চাই। নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই, একজন বড় ডাক্তার হতে চাই।”, রুপকথা অশ্রুসিক্ত নয়নে মায়ের দিকে তাকিয়ে বলল।
নিলীমা’র বুকটা কেঁপে উঠল মেয়ের আর্তনাদে। তবুও মুখাভঙ্গি অপরিবর্তিত থেকে গেল। শক্ত কন্ঠে বলল,,
–“পড়াশুনা করে যতো বড় ডাক্তার’ই হয়ে যাও না কেন! একটা সময় স্বামী সন্তানের অভাব তোমায় কুঁড়ে কুঁড়ে খাবে। আর তাছাড়া বিয়ের পরেও পড়াশুনা করা যায়, স্বামীর মন জুগিয়ে চলবে। দেখবে সেও রাজি হবে তোমায় পড়াশুনা করাতে।”

রূপকথা অবাকপানে মাকে দেখছে এই কি সেই মা—যে তাকে সবসময় সাহস জোগাতো? সবসময় বলত জীবনটা একটা যুদ্ধক্ষেত্র! এখানে কেউ কারোর না। নিজের লড়াই নিজেকে লড়তে হবে। তাহলে আজ মাঝপথে এসে মা এমন পিছিয়ে যাচ্ছে কেন?
ছোট বোনের থেকে এমন অবিশ্বাস্য কথা শুনে সে ছুটতে ছুটতে মায়ের কাছে আসে। এই একজন-ই আছে যে তার মনের সকল ভয়,শঙ্কা দূর করতে সক্ষম। সেই মা তাকে নিশ্চিত করল বিয়ের কথাবার্তা পাকাপাকি হয়ে গিয়েছে। এমনকি আজ সন্ধ্যায় তার বিয়ে।
–“আম্মা তুমি এই কথা বলছ? যে সারাজীবন বিবাহ নামক পবিত্র সম্পর্কটাকে ঘৃণা করে এসেছে?”
–“সব পুরুষ এক হয়না, কথা। সিকদার বাড়ির বড় ছেলে একজন সুপুরুষ। তোমায় সম্মান করবে, ভালোবাসবে, গুরুত্ব দেবে।”, নিলীমার কম্পিত কণ্ঠ।
–“তাই বলে একজন বীপত্নিক লোকের সাথে? যার সন্তান কি-না ক্লাস টেনে পড়ে? তার ছেলে আর আমার বয়সের পার্থক্য কতটুকুই বা হবে, আম্মা?”

–“একজন বীপত্নিক কি ভালো মানুষ হতে পারে না , কথা? বীপত্নিক হওয়া দোষের কিছু না, কথা। সে একজন বিপত্নিক, একটা সন্তানের বাবা হওয়ার পরেও সে একজন ভালো মানুষ। সে একজন ভালো স্বামী হবে, কথা। তুমি একটা ভালো জীবনসঙ্গী পাবে। বয়সটাই কি বড় একজন ভালো মানুষের চেয়ে? বিশ্বাস কর, জীবনে একজন সঠিক জীবনসঙ্গীর অনেক অনেক গুরুত্ব! আজ হয়ত বুঝবি না, কিন্তু কখনো বুঝবি! আমি চাই তুমি ভালো থাকো। আমার যেই পরিনতি হয়েছে সেই পরিনতি তোমার না হোক।”, নিলীমার চোখ ঝাপসা হয়ে আসলো।
–“আজ তোমায় বড্ডো অচেনা লাগছে, আম্মা। সবসময় বলতে আমাকে লেখাপড়া করিয়ে অনেক বড় করবে। ডাক্তার হয়ে আমরা নিজেদের দূরাবস্থা দূর করে, নিজেদের ঢাল হবো। তুমি, আমি আর তারা একটা সুন্দর হাস্যজ্জ্বল জীবনযাপন করব। তবে আজ কেন এতো পরিবর্তন? কেন এভাবে হাল ছেড়ে দিচ্ছ? আমার নিজস্ব কিছু চাওয়া পাওয়া ও তো থাকতে পারে। আমার অবশ্যই এমন একজন জীবনসঙ্গী কামনীয় নয়!” , রূপকথা ফ্যাসফ্যাসে ধিমি কন্ঠে বলল।

–“একজন যুবক দেখতে ভালো, চাকরি করে এমন এক পুরুষ কামনীয় তাই তো? কিন্তু সেই কম বয়সী যুবক যদি স্ত্রীকে সম্মান না করে, গুরুত্ব না দেয়, মারধর করে, খারাপ আচরণ করে, মাতাল হয়, পরকিয়ায় লিপ্ত থাকে কিংবা এমনি একদিন হুট করেই যদি চলে যায়? এমন এক পুরুষ কি কামনীয়?”, নিলীমার শক্ত কণ্ঠে রূপকথা ম্লান হাসল,
–“তুমি তো বয়স্ক বড়লোক তপোবন সিকদারকে‌ পেয়ে রীতিমতো অবুঝ হয়ে গেলে, আম্মা? সব পুরুষ এক হয় না এটা কি তুমি জানো না? আর আমি এখন কোন বিয়েই তো করতে চাই না আম্মা। আমি পড়াশুনা করতে চাই। চাকরি করে আমাদের এই দূরাবস্থা দূর করতে চাই। ”, শেষের কথাগুলো রূপকথা আর্তনাদের সুরে বলল।

নিলীমা চোখ তুলে মেয়ের দিকে তাকায়। বিশ বছরের সদ্য যুবতির তকমা প্রাপ্ত একজন মেয়ে। উচ্চ মাধ্যমিকের দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছে মেয়েটা। উজ্জ্বল শ্যামলা গায়ের রং হ্যাংলা পাতলা গড়নের মেয়েটি‌। বছর দশ আগে সু স্বাস্থ্যের অধিকারী ছিল। ভারী মিষ্টি দেখাতে লাগতো তখন। এখন সেগুলো তাদের স্মৃতির পাতায় উঠে গিয়েছে। তিনবেলা যাদের খাবারের সংকট তাদের স্বাস্থ্য আসবে কোত্থেকে? দুপুরে তরকারি থাকলে রাতে মরিচ ভর্তা, সকালে এক কাপ চা আর মুড়ি। এভাবে সুস্বাস্থ্য কিভাবে হবে? সুস্বাস্থ্য তাদের কাছে স্বপ্ন। নিলীমা দৃষ্টি সরালো। ঘেমে নেয়ে একাকার হয়ে আছে মাত্র কলেজ থেকে এসেছে, এক গ্লাস পানি পর্যন্ত খায় নি। নিজের ব্যাস্ততাকে পাশ কাটিয়ে, কাঠের পড়ার টেবিলের উপর থেকে এক গ্লাস পানি এনে মেয়ের সম্মুখে বাড়িয়ে দিলো নিলীমা। রুপকথা ছুঁয়েও দেখলো না সেভাবেই তাকিয়ে রইল মায়ের দিকে। মেয়ের চোখের দিকে তাকাতেই নিলীমার ভেতর থেকে চাপা অবসাদের উষ্ণ নিঃশ্বাস বেরিয়ে এল। শক্ত কন্ঠ নরম হলো। মেয়ের হাত ধরে বিছানায় বসায় নিলীমা। পড়াশুনার কথাটি সন্তপর্নে উপেক্ষা করে কপালের এলোমেলো চুলগুলো আলতো হাতে গুছিয়ে দিতে দিতে নম্র কন্ঠে বললো,,

–“একটা মেয়ের জন্য তার জীবনটা কখন সহজ, সুখের , অভয়ের হয় জানিস? যখন তার স্বামীর ছায়া তার উপর থাকে। তুই আমাকে দিয়েই দেখ না। আজ আমার স্বামী নেই আমাকে সকলে দেহ ব্যাবসায়ী বলতেও দ্বিধা বোধ করে না। বলে কি-না আমি এগুলো করেই খাই! দেখেছিস লোকটার অনুপস্থিতি কত নিকৃষ্ট বানিয়ে দিয়েছে আমায়? কেন আজ আমি এই অবস্থায় আছি জানিস? কারণ লোকটা একটা কাপুরুষ ছিল। কাপুরুষরা কখনো কাউকে আঘাত করতে, ছেড়ে যেতে, সম্পর্ক, স্ত্রী সন্তান ভুলে যেতে দ্বিধাবোধ করে না। কিন্তু একজন সুপুরুষ! একজন সুপুরুষ কেমন হয় জানিস? যার কাছে তার স্ত্রীর জন্য রয়েছে সম্মান, ভালোবাসা, অজশ্র অবহেলিত সময়, গুরুত্ব রয়েছে। শত শত ব্যাস্ততা, কাজ, বিপদ আপদ যাই হয়ে যাক না কেন সে কখনো তার স্ত্রী সন্তানের হাত ছাড়ে না। এমন একজন স্বামীর ছায়া যেই মেয়ের মাথার উপর থাকে, দুনিয়ার কোন শক্তি নেই যা সেই মেয়েটিকে হারাতে পারবে। স্বামীর সঙ্গ থাকলে তুমি যেকোন কিছু অর্জন করতে পারবে। এতোটাই শক্তিশালী হয় এই মানুষটা একজন মেয়ের জীবনে।

এই ক্ষেত্রে তুই কি সেই মানুষটিকে তার বয়স দিয়ে যাচাই করবি না-কি তার স্বভাব চরিত্র, মানবিক মূল্যবোধ দিয়ে? একটা মানুষ কখনোই সর্বোপরী নিখুঁত হয় না। তার কিছু না কিছু অপূর্ণতা থাকবেই। তাই বলে কি সেই তুচ্ছ এক খুঁত এর জন্য তুই মানুষটার সকল ভালো গুনগুলোকে উপেক্ষা করবি? তেমনি সিকদার বাড়ির বড় ছেলের খুঁত বলতে সে বিপত্নিক একজন সন্তানের বাবা। এটা কি তার পাপ বল? তপোবন সিকদার ও ঠিক এমনি একজন সুপুরুষ! যে কি-না সন্তানের কথা চিন্তা না করে আজ পর্যন্ত একা জীবনযাপন করে গিয়েছে। আমাদের মতো সমাজের নিচু স্তরের মানুষের কাছে কখনো একটা বংশীয় ভালো ছেলে আসবে? আসবে তো সেই মিন্টু, পাড়ার মাতালদের মতো ছেলেদের সম্বন্ধ। সেখানে তারা বংশীয় মানুষজন। তারা সর্বাবস্থায় তোর পাশে থাকবে, এই অভিশপ্ত জীবনটা থেকে মুক্তি পাবি। সোনা খুঁজতে গিয়ে আমারা হীরা না হারিয়ে ফেলি, কথা। তোর বাবা যখন আমায় বিবাহ করেছিল তখন সে আঠাশ বছরের একজন সুদর্শন চাকরিজীবী যুবক ছিল। খুলনার বড় কোম্পানিতে চাকরি করতো, ঠিক যেমনটা প্রতিটা মেয়ে তার স্বপ্ন পুরুষ কল্পনা করে। আমিও এমনটাই চাইতাম পেয়েও ছিলাম। তবে আজ আমারা এই পর্যায়ে কেন আছি? ভেবে দেখেছিস? বিগত দশ বছর ধরে আমরা যেই জীবনযাপন করছি এর কারণ কি? মায়ের কথা বিশ্বাস কর কথা, অনেক ভালো থাকবি তুই। বড় গিন্নি তোকে অনেক আদর,স্নেহ করবে; মাথায় তুলে রাখবে। আর তপোবন সিকদার ও অনেক মিষ্টভাষী, নরম মনের একজন মানুষ। সে তোকে মাথায় করে রাখবে, আমি চাইনা আমার যেই অবস্থা হয়েছে সেই অবস্থা তোমারো হোক। বোঝার চেষ্টা কর, কথা।”,,,বলতে বলতেই নিলীমার চোখের কোল ঘেঁষে না বলা কষ্টগুলো গড়িয়ে পড়লো ।রুপকথা কান্নারত চোখে তাচ্ছিল্য হেসে উঠলো।

–“মাথায় তুলে তো অবশ্যই রাখবে, আম্মা। বুড়ো বয়সে এসে এতো অল্প বয়সী বউ পাচ্ছে যে। আমরা দরিদ্র, নিচু শ্রেণীর মানুষ বলে কি একজন বীপত্নিককে বিবাহ করতে হবে, আম্মা? একটু কষ্ট করে ধৈর্য্য ধরে থাকলেই তো আমি পড়াশুনা করে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবো আম্মা। আমার কষ্ট করতে কোন সমস্যা নেই আম্মা। তবুও বিয়ে দিও না। একবার পড়াশুনা শেষ হলে দেখবে তখন বংশীয় ছেলেদের অভাব হবে না, আম্মা। আমার কথা বোঝার চেষ্টা করো।”, বলতে বলতেই পুনরায় অশ্রু গড়িয়ে পড়তে লাগলো রূপকথার নয়নদ্বয় থেকে।
মেয়ের আঁকড়ে ধরা হাতটি ছেড়ে দিয়ে নিলীমা নিরুত্তর তাকায় মেয়ের দিকে।
মায়ের নিরাবতায় রূপকথার কান্নার বেগ বেড়ে গেলো। মায়ের হাত দুটো আঁকড়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়লো। হাউমাউ করে কেঁদে উঠে বলতে লাগলো,

–“ও আম্মা দয়াকরে এমন করো না। আমি জানি তুমিও চাও না আমায় বিয়ে দিতে। তবে কিসের জন্য এমন করছো? আমাদের এই কষ্ট তো আজীবন থাকবে না। আমরা চলো না দূরে কোথাও চলে যাই। আমরা দুজনে মিলে সব ঠিক করে ফেলবো। তুমি কোন চিন্তা করো না। আমরা তো এভাবেই ভালো আছি তাই না? এতো গুলো বছর যখন কষ্ট সহ্য করতে পেরেছি আর কয়টা বছর একটু কষ্ট করি আম্মা সবাই মিলে। দেখো আজকেও আমি ভালো রেজাল্ট করছি। শুধু একটু অংকে খারাপ করছি। ওটাও ঠিক হয়ে‌ যাবে। আমি কষ্ট করে ডাক্তারি টা পাশ করলেই আমাদের আর দুঃখ থাকবে না আম্মা। তাহলে কেনো আমাকে নিজেদের থেকে দূর করার চেষ্টা করছো? ”
নিলীমা আর নিজেকে শক্ত খোলসে আবৃত রাখতে পারলো না। সে মেয়ের হাতটা ঝামটা মেরে দূরে সরিয়ে দিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল। চেঁচিয়ে বলে,

–“আর কতো জ্বালাবি আমাকে? মানুষ মনে হয় না আমায়, তাই না? সারাদিন মেশিন চালিয়ে যে কয়টা টাকা আয় করি তাতে ঘর ভাড়া দিয়ে, তোদের দুবেলা পেটপুরে খাবার দিতে পারি না। সকাল বেলা না খেয়ে খালিপেটে এই যে দুপুর একটা পর্যন্ত কলেজ করে আসিস; এগুলো দেখে আমি কিভাবে থাকি একবার ভেবে দেখছিস? কখনো একটু ভালোকরে দেখেছিস আমার মুখটির দিকে? রাতের পর রাত নির্ঘুম কাটাতে কাটাতে আমার ভেতরটা ভেঙে আসে তবুও চাতক পাখির মতো চোখ মেলে তাকিয়ে থাকতে হয়। সারারাত ঘুমাতে পারি না কখন বুঝি দরজা ভেঙে ঢুকে যায় দস্যুরা। আমার মেয়েটাকে আমার কোল থেকে কেড়ে নেয়। তুই সায়েন্স নিয়ে পড়ছিস—অথচ একটা ভালো শিক্ষকের কাছে পড়তে দিতে পারি না। উচ্চশিক্ষা নেওয়ার সুযোগ নেই বাগেরহাটে, যেতে হবে শহরে। স্বপ্ন ডাক্তার হবি। আমার কি সেই সামার্থ্য আছে যে তোকে শহরে রেখে ডাক্তারি পড়াবো? যেখানে পাড়ার সকলে আইসক্রিম ওয়ালা দেখতেই দৌড়ে ভীড় জমায়। তোর ছোট বোন সেদিকে মলিন মুখে তাকিয়ে থাকে। কখনো সাহস করে বলেনা আমায় একটা আইসক্রিম কিনে দেও। কতোটা অসহায় লাগে তখন নিজেকে তুই জানিস না, কথা। আমার কি দোষ ছিল বলতো? লোকটা মাঝপথে আমায় এভাবে নিঃস্ব করে চলে গেলো কেন? আমি নিজে সব কষ্ট মুখ বুঁজে সহ্য করে নিতে পারব। কিন্তু আমার সন্তানদের কষ্ট আমার সহ্য হয় না। আমি চাই আমার মেয়েদুটো একটু পেটপুরে খেতে পাক। ঘরে চাল নেই, আটা নেই, ডাল নেই তরকারি নেই চিনি নেই। মেজো গিন্নির জামাকাপড় বানিয়ে ছয়শো টাকা পেয়েছি তাতে ঘর ভাড়া দিয়ে, তরকারি আর কিনতে পারি নি। আমি আর পারছি না কথা। দয়াকরে আমার বোঝা আর বাড়িয়ে দিস না, কথা। তোকে বিয়ে দিলে তোর বোনটাকে আমি একটু ভালোভাবে ভরণপোষণ করতে পারব। ওকে অন্তত তিনবেলা পেটপুরে খাবার দিতে পারব। মায়ের কথা একটু রাখ। মায়েরা কখনো সন্তানের খারাপ চায় না। ”

মায়ের আর্তনাদভরা কন্ঠের এই বৃহৎ সংলাপটিতে রূপকথা নির্বাক হয়ে গেল। গায়ের ভর ছেঁড়ে অনুভূতি শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল মায়ের দিকে। বৃহৎ এই সংলাপটি থেকে সে সারাংশ হিসেবে শুধু একটা শব্দই বুঝতে পেয়েছে আর সেটা হলো “বোঝা।” সে মায়ের‌ বোঝা? মায়ের কষ্ট বাড়াচ্ছে? রূপকথার কান্নারা থমকায়। বহুকষ্টে কন্ঠনালী থেকে নিঃসৃত হলো একটি কঠিন বাক্য। কঠিনই তো একজন সন্তান তার মায়ের কাছে বোঝা এটা তো পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন একটা বাক্য।
–“আমি কি তোমার বোঝা, আম্মা? দয়াকরে হ্যাঁ বলো না, আম্মা। তাহলে যে আমি ভেঙেচুরে চুরমার হয়ে‌ যাব। আমার ভেতরে যেটুকু শক্তি আছে সেটুকু ও শেষ হয়ে যাবে।”
নিলীমা অশ্রুসিক্ত লালচে নয়নে তাকিয়ে বিলম্বহীন দৃঢ় কন্ঠে বললো,,
–“হ্যাঁ। তুই আমার বোঝা, কথা।”

ব্যস! মায়ের কঠোর গলায় বলা এতটুকু বাক্য-ই রূপকথাকে ভেঙেচুরে চুরমার করে দিল। কিয়ৎকাল জড়বস্তুর ন্যায় তাকিয়ে রইল মায়ের ঐ কঠোর মুখটির দিকে। আজ আর ঐ মায়াময় মুখটিতে রূপকথার জন্য কোন মাতৃ স্নেহ, আহ্লাদ, দয়া-মায়া নেই; আছে শুধুই কঠোরতা। মায়ের দিকে তাকাতে তাকাতেই রূপকথা চোখ মুখ মুছে বিছানা থেকে উঠে দাঁড়ালো। মায়ের ঐ কঠোর মুখাবয়বের দিকে তাকিয়ে হাসিমুখে বললো,,
–“বিয়ে কখন আম্মা? আমি কি এখনি গোসল করে আসব? না না তোমার তো অনেক কাজ আছে তাই না? বিয়ে বাড়ি বলে কথা! অনেক কাজ! তুমি একা হাতে পারবে না; আমায় বলো কি কি করা লাগবে আমি করে দিচ্ছি। তারপর তাড়াতাড়ি করে আমি গোসল সেরে নেবো যেন তারা আসলেই আমায় নিয়ে যেতে পারে। তোমার বোঝা আর বাড়াবো না। তাদের একটু তাড়াতাড়ি আসতে বলো, ঠিক আছে? তাহলেই তো তোমার বোঝা তাড়াতাড়ি কমে যাবে। তাড়াতাড়ি আসতে বলো।”
বিলাপ করতে করতেই রূপকথা হেঁটে রান্নাঘরে চলে গেল। নিলীমা ঠোঁট কামড়ে কান্না আটকালো মেয়ের অস্বাভাবিক আচরণে। তবে বেশিক্ষণ পারল না সে মুখ চেপে ডুকরে কেঁদে উঠল। দরজার কপাট ধরে দাঁড়িয়ে থাকা শুকতারা মা আর বোনের কান্নায় নিজেও ফুঁপিয়ে উঠল। কেন সব সমস্যা তাদের জীবনেই? বুবু চলে গেলে সে থাকবে কি করে? বুবুকে জড়িয়ে ধরে ঘুমাতে যে খুব আরাম।
ঐ বাড়ি থেকে একটু আগে ফোন এসেছিল তারা বলেছে তারা রাজি এবং আজ রাতেই বিয়ে তারপরে তারা বুবুকে নিয়ে যাবে।

–“আম্মা আপনি নাকি আমার বিয়ে ঠিক করেছেন?” , তপোবনের গভীর সুপ্ত শীতল হুঙ্কার যুক্ত কন্ঠে মৃদু হকচকালো নির্জনা বেগম, ওরফে বড় গিন্নি। শুরু থেকেই মেজো জা এর কীর্তিকর্মে সায় দিয়ে দিয়ে এসে, তপোবনকে রাজি করানোর বেলায় শক্তপোক্ত এই মহিলাটি দূর্বল হয়ে পড়ে। ছেলে তার আদরের এবং বড় সন্তানটি মায়ের খুব নিকটের হয়। তেমনি নির্জনা বেগমের ও খারাপ ভালো সবকিছু জুড়েই সর্বপ্রথম রয়েছে তপোবন। মায়ের সবকথা যেমন তপোবন শোনে, তেমনি নির্জনা বেগম ও তপোবনের সবকথা শোনে। তবে দুজনের জন্যই কথা যুক্তিযুক্ত হতে হবে। তবে তপোবনকে বিয়ের জন্য রাজি করানো তার সাধ্যের ভিতর নেই। থাকলে বিগত এগারো বছরে ছেলের একটা বিয়ে সে দিয়ে ফেলতো। যেহেতু এটা সম্ভব হয়নি সেহেতু এটা কষ্টসাধ্য একটা ব্যাপার। কষ্টসাধ্য, অসম্ভব তো নয়! মেজো জা এর কথা এটি। তার-ই বুদ্ধিতে সে নিলীমাকে পাকা কথা দিয়ে ফেলেছে, এমনকি সন্ধ্যায় বিয়ে পড়ানো হবে তার ও নিশ্চয়তা দিয়ে দিয়েছে। মেজো জা এর কথা হলো একবার বিয়ে পাকাপাকি হয়ে গেলে তপোবন না করতে পারবে না। আর তাদের খুলনা যাওয়ার কথা আগামীকাল থাকলেও তপোবনের জরুরি কাজ পরে যাওয়ায়, আজ রাতেই তারা সকলে খুলনাতে চলে যাবে।

নিজের শয়নকক্ষে বিছানাতে বসে আরাম করছিলো নির্জনা বেগম। ছেলের আচমকা আগমনে মৃদু হকচকালেও চোখেমুখের গাম্ভীর্যতা ,নির্লিপ্ততা বজায় রেখেই ভদ্রমহিলা হাতের কুশিকাটা চালাতে থাকে। যেন ছেলের এহেন ক্রুব্ধ কন্ঠ তার কর্নকুহরে প্রবেশ ই করেনি। তপোবন ত্রস্ত পায়ে এগিয়ে আসে। চোয়াল শক্ত করে পুনরায় বলে,
–“আম্মা আমি কিছু জিজ্ঞাসা করছি আপনাকে।”
নির্জনা বেগম নিম্নমুখি দৃষ্টি রেখেই কুশিকাটা করতে করতে জবাব দিলেন,,
–“হ্যাঁ।”
–“আপনি আমার বিয়ে ঠিক করেছেন আর আমি স্বয়ং এই বিষয়ে অজানা; বিষয়টা অদ্ভুত তাই না, আম্মা?”, তপোবনের গনগনে আওয়াজে নির্জনা বেগম চোখ তুলে তাকায়। চেয়ার ইশারা করে বললেন,
–“শান্ত হয়ে বসো, তপোবন। ঠান্ডা মাথায় আলোচনা করি।”

–“আপনি কি আলোচনার কিছু রেখেছেন, আম্মা? কোনকিছু না ভেবে চিন্তে আপনি কাউকে পাকা কথা দিয়ে দিয়েছেন, সন্ধ্যায় বউ আনতে যাবেন পুরো এলাকায় এটাই ছড়িয়ে পড়েছে। সকলে আমায় অভিনন্দন জানাচ্ছে। আপনি কি ভেবে এমনটা করলেন আম্মা? কিভাবে করতে পারলেন? আপনি কি ভুলে গিয়েছেন তানশানের কথা? এই কথা যদি তানশান শোনে তাহলে ওর উপর কেমন প্রভাব পড়বে আপনি বুঝতে পারছেন? আর আমি আপনাকে অনেক আগেই পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছি, আমি বিয়ে করবো না। তবে আপনি আমাকে কোনকিছু না জিজ্ঞাসা করে এতোবড় পদক্ষেপ কিভাবে নিতে পারেন? এভাবে সকলের সামনে আমায় হাসির পাত্র বানিয়ে, আমার ছেলের সামনে আমায় ছোট করে কি পেলেন?”, তপোবনের কন্ঠে চাপা হুঙ্কার। নিজেকে যতোটুকু পারছে ততোটুকু সে সামলানোর চেষ্টা করছে, কেননা সম্মুখের মহিলাটি তার মা।

–“তবে তুমি কি লোকদেখানো’র জন্য বিয়ে করছো না? তুমি কি বিয়ে না করে এটা বোঝাতে চাইছো যে তুমি তোমার মৃত স্ত্রীকে কত ভালোবাসো? তানশান কি ভাববে এই ভেবে বিয়ে করছো না? কিন্তু এগুলো না থাকলে তুমি ঠিকই বিয়ে করতে, তাই তো? তাহলে আমি বলব তোমার এই বিয়ে না করা— তোমার স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা নয়, লোকদেখানো ভালোবাসা।”, নির্জনা বেগম চোখে চোখ রেখে দৃঢ় কন্ঠে বললো।
তপোবনের দৃষ্টি সরু হয়। সে বিলম্বহীন কন্ঠে বললো,,
–“আমার ভালোবাসা লোকদেখানো না-কি অন্যকিছু, এটার কৈফিয়ত দেওয়াও আমার জন্য লোকদেখানো আম্মা। তাই এই বিষয়ে আমি মোটেই আপনার সাথে যুক্তিতর্কে লিপ্ত হবো না। আমার স্ত্রী এবং তার প্রতি ভালোবাসা একান্তই আমার ব্যাক্তিগত ব্যাপার! কিন্তু আম্মা আমি আমার ছেলে নিয়ে সুখী আছি। ওহ্ ভুল! সুখী ছিলাম কিন্তু আপনি থাকতে দিলেন না। এখন আমার ছেলের সামনে দাঁড়াতে হলেও আমার চোখে লজ্জা ভর করবে। আমার ছেলে অনেক বড় আম্মা; ও ছোট নয়—যে কিছু বোঝেনা। তবুও আপনি ওর চোখে আমায় লজ্জিত করলেন; এই বুড়ো বয়সে এসে বিয়ে করবো আমি? লোকমুখে আমায় নিয়ে চর্চা হচ্ছে। আপনি ভালো করে জানেন আমি কখনো কারোর চর্চায় থাকতে পছন্দ করি না। আমার ছেলে নিয়ে আমার একটা সাধারণ জীবন রয়েছে। আপনি তাদের এখনি না করে দেবেন।”

–“তুমি ঠিক বলেছো তানশান এখন আর ছোট নেই। অনেক বড় হয়ে গিয়েছে ও, এখন বোঝে কোন মানুষ আজীবন একা থাকতে পারে না। তাই তার ও কোন সমস্যা নেই তোমার বিয়ে নিয়ে।”
–“আপনি এইসব কথা তানশানকেও বলেছেন আম্মা?”,তপোবন আশ্চর্য হয়ে গেল।
–“তানশান এখন অনেক বড় হয়েছে, তপোবন। জীবনের স্বর্নালী মুহূর্তে আছে সে। এখন তার একটাই ধ্যানজ্ঞান তাকে পড়াশুনা করতে হবে, বড় হতে হবে, ক্যারিয়ার গড়তে হবে। সে নিজেকে নিয়ে ব্যাস্ত হয়ে পড়বে—তবে তোমার কি হবে? দিনশেষে সেই তো তুমি একা! তোমার পাশে তো কেউ রইল না। তানশানের সুখ দুঃখ দেখার জন্য তুমি আছো, কিন্তু তোমার সুখ দুঃখ দেখার জন্য কে আছে? একটা বয়সে গিয়ে তোমার খেয়াল রাখার জন্য, তোমার অসুস্থতায় তোমার পাশে থাকার জন্য কাউকে‌ প্রয়োজন হবে। কিন্তু তখন আর তোমার কাছে সুযোগ থাকবে না। যার জন্য নিজের সব বিসর্জন দিয়ে দিচ্ছো, সে ব্যাস্ত হয়ে পড়বে নিজের জীবন নিয়ে। আর দ্বিতীয় বিয়ে কোন পাপ নয় তপোবন। সমাজে অহঃরহ মানুষ দ্বিতীয় বার জীবন শুরু করছে তাও নির্লিপ্ত ভাবে। তুমি আমায় বলতে পারো ঠিক কতোজন প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর একজন পুরুষ একা জীবন পার করে?”

–“কে পার করে সেটা আমার বিবেচ্য বিষয় নয়। আমি এভাবেই ভালো আছি। তানশানকে বড় হতে দেখা, তাকে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই আমার জীবনের একমাত্র চাওয়া পাওয়া। আর কোন চিন্তা নেই আমার। আমার পাশে কেউ থাকুক বা না থাকুক কোন সমস্যা নেই। তবুও জীবনের এই শেষ পর্যায়ে আমি কখনোই তানশানকে সৎ মায়ের ছায়াতলে বাঁচতে দেবো না।”, তপোবন দৃঢ় কন্ঠে বললো।
–“আমি তানশানের জন্য মা নয়, তোমার জন্য স্ত্রী আনছি তপোবন। আমার নাতিকে দেখাশোনা করার জন্য আমি একাই যথেষ্ট; কোন সৎ মায়ের প্রয়োজন নেই তার। আমি শুধু তোমার একাকীত্ব দূর করতে চাইছি। তানশানের জীবনে তার কোনধরনের হস্তক্ষেপ থাকবে না। ”, নির্জনা বেগম গম্ভীর গলায় বললেন।
–“হাসালেন আম্মা। সে আমার স্ত্রী হবে কিন্তু আমার সন্তানের জীবনে তার কোন হস্তক্ষেপ থাকবে না; এটা কি ছেলেখেলা আম্মা? আমার সাথে জড়ালে, সে আপনাআপনিই জড়িয়ে যাবে আমার ছেলের জীবনে। আর একজন সৎ মা কখনোই মা হয়ে উঠতে পারে না।”, রাগে রীতিমতো হুশ হারা হয়ে কথাটি বললেও তপোবন থমকালো নিজের বলা কথাটির অর্থ মাথায় আঁটতেই। তড়াক তর রাগ নিভে যায় সে নম্র দৃষ্টিতে তাকায় মায়ের দিকে। নির্জনা বেগমের এতোক্ষণে সকলের উদ্বেগ, জেদ, গলার জোর কেমন নুইয়ে গেলো।
তপোবন তড়িৎ বললো,,

–“আম্মা আপনি যা ভাবছে….”
–“ব্যস! তপোবন।”, নির্জনা বেগম থমথমে মুখে বা হাতটি জাগিয়ে তপোবনকে থামিয়ে দিল। শুকনো এক ঢোক গিলে বললো,
–“কোন কৈফিয়তের প্রয়োজন নেই তপোবন। আমি জনি সৎ মা কখনো মা হতে পারে না।”
নির্জনা বেগমের উদ্বেগ নুইয়ে গেলেও তপোবনের মাঝে মৃদু উদ্বেগ দেখাগেল। সে দৃঢ়তার সাথে বললো,
–“আম্মা আপনি যেমনটা ভাবছেন আমি তেমনটা বলিনি। তবে আপনি ভালো করেই জানেন, আমি তানশানকে রূপকথার কাহিনী শুনিয়ে বড়ো করিনি। বাস্তবতা শিখিয়ে বড়ো করেছি। আর বাস্তবতা এটাই যে নিরানব্বই ভাগ মানুষ খারাপ, লোভী , স্বার্থান্বেষী হয়। বাকি এক পার্সেন্ট যারা হয় মমতাময়ী, দয়ালু , আপন মায়ের থেকেও বেশি ভালোবাসাময়। কিন্তু আম্মা এই এক পার্সেন্টের ভিত্তিতে আমি এতো বড়ো সিদ্ধান্ত নিয়ে, তানশানের কৈশোরকে ধ্বংস করে দিতে পারি না। ও সবেমাত্র দুনিয়া চিনতে শুরু করেছে। আমি চাই ওর এই দুনিয়া সবসময় আনন্দ, সুখের সহিত আলোকিত থাকুক; কোন মেঘ না জমা হোক!”

ছেলেকে সৎ মায়ের কবলে পড়তে না দেওয়ার তীব্র বাসনাতেই—যে এতো বছর সিঙ্গেল ফাদারের দায়িত্ব পালন করে গিয়েছে তপোবন, তা বেশ বুঝলো নির্জনা বেগম। বুক চিরে একটা বিদঘুটে শব্দ হাঁক ছাড়লো “সৎ মা” পৃথিবীর অন্যতম এক যন্ত্রণাময় শব্দ এটি। সে ছেলের চোখে চোখ রাখে। নিভন্ত দৃঢ় কন্ঠে বললেন,,
–“আমার নাতিকে সৎ মায়ের অত্যাচার সহ্য করতে হবে, এতো দুঃসাহস এখন পর্যন্ত সিকদার বাড়ির বউদের হয়নি; আর না আমি হতে দেবো। তবে সে একজন ভালো মেয়ে, তপোবন। আমি নিজে তাকে তোমার যোগ্য করে গড়ে তুলব। তুমি একজন ভালো জীবনসঙ্গী পাবে—যে কি-না তোমার অক্ষমতায় তোমার ঢাল হবে।”
–“আমার চাই না কোন ঢাল, আম্মা। আমার তানশান আমার একমাত্র ঢাল; এর চেয়ে অতিরিক্ত আর কিছু চাই না। আমি ভালো আছি।”,

তপোবনের কন্ঠে অবসাদ। সে কোনক্রমেই এই প্রসঙ্গটিকে এতো বিদঘুটে, বিকৃতভাবে নিজের জীবনে আশা করেনি। ছেলের সামনে দাঁড়াবে কি করে? চোখে চোখ রেখে কথা বলবে কি করে? তার মাকে তার বাবা ভুলে গিয়েছে? নতুন কারোর মাঝে নিমগ্ন হবে? তার মায়ের অবস্থান কি এতোটাই ঠুনকো তার জীবনে? তপোবনের শেষ নিঃশ্বাস অব্দি একটাই দীর্ঘশ্বাস থেকে যাবে “পূর্বা, তপোবন আর তানশান” কেনো তাদের পথচলা দীর্ঘ হলো না? পূর্বা, তপোবনের পূর্বা।
নির্জনা বেগম ও ক্লান্ত দৃষ্টিতে তাকায় ছেলের দিকে। বিগত এগরোটা বছর কম চেষ্টা করেনি। সে ম্লান কন্ঠে বললো,,
–“তুমি ভালো আছো, কিন্তু কেউ একজন হয়তো ভালো নেই। তার তোমার সঙ্গ, তোমার ভরসার হাতটির খুব প্রয়োজন, তপোবন। রাজি হয়ে যাও। কারোর জীবন সুন্দর হয়ে যাবে তোমার কারণে। আমি তাদের কথা দিয়েছি, আমার সম্মান নষ্ট করো না।”
–“চ্যারিটির বিয়ে? আমি কি মানুষকে সাহায্য করার জন্য কোন বিবাহের চ্যারিটি খুলে বসেছি আম্মা?”, তপোবন ত্যাক্ত কন্ঠে শুধায়।
নির্জনা বেগম ধিমি কন্ঠেই বললো,,

অপরাহ্নে উপসংহার পর্ব ২

–“আমার মেয়েটা আমায় বলে গিয়েছিল যেন আমি তার আমানত দুটোর হেফাজত করি। তাদের জীবন কখনো ম্লান হতে না দেই। হাসি, আনন্দ বজায় রাখি যেন। সে বলেছিল তুমি দ্বিতীয়বার জীবন শুরু করো। দ্বিতীয়বার জীবন উপভোগ করা পাপের নয় তপোবন। তাতে যদি কারো মঙ্গল লুকিয়ে থাকে তবে তো আরো নয়। কারোর জন্য কারোর জীবন থেমে থাকে না।”
তপোবন নির্বাক নির্নিমেষ প্রতিক্রিয়াহীন দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে মায়ের দিকে।

অপরাহ্নে উপসংহার পর্ব ৪