Home এক দেখায় এক দেখায় পর্ব ১০

এক দেখায় পর্ব ১০

এক দেখায় পর্ব ১০
সুরভী আক্তার

কিছুক্ষণের জন্য স্তব্ধ হয়ে যায় মিহি । ভেতরটা কেমন কেঁপে ওঠে । সামনে তার আব্বু টলমল পায়ে অন্য কারোর উপর ভর করে দাঁড়িয়ে আছে । চেহারায় নরম ছায়া, ক্লান্ত চোখ দুটো কোনরকমে খুলে রাখার চেষ্টা করছে । আব্বুকে এমন অবস্থায় দেখে মিহি হুড়মুড়িয়ে বাবার বাহু ধরে উত্তেজিত কন্ঠে বলে..
” আব্বু কি হয়েছে তোমার ? এমন অবস্থা কিভাবে হলো তোমার ? কি হয়েছে আব্বু ?
সাবিনা বেগম ও এবার স্বামীকে এমন অবস্থায় এভাবে দেখে অস্থির হয়ে পড়েন । এলোমেলো ভাবে ছুটে যান স্বামীর কাছে ।

” কি হয়েছে আপনার ? আপনি তো অফিসে ছিলেন , তাহলে আপনার এমন অবস্থা হলো কি করে ? কি হয়েছে বলুন না ?
মিহি এবং মিহির মায়ের অবস্থা বুঝতে পেরে পাশে থাকা অচেনা লোকটি বলে ওঠে….
” Excuse me…
আপনারা Hyper হবেন না please । উনি এখন ঠিক আছেন ‌।
আর এভাবে ওনাকে উত্তেজিত করবেন না । ওনার এখন Rest এর প্রয়োজন । ওনাকে ভেতরে নিয়ে যেতে হবে ‌।
বলেই কারোর তোয়াক্কা না করে লোকটি নিজেই আজমাল হোসেনকে ধরে ভেতরে নিয়ে এসে সোফায় বসিয়ে দেন। পা দুটো সামনে থাকা টেবিলের উপর তুলে দেন তার । আজমাল হোসেন ক্লান্ত শরীরটা সোফায় এলিয়ে দিয়ে চোখ বন্ধ করে নেন ।
এদিকে অযাচিত লোকটির এমন কাজে মিহি এবং সাবিনা বেগম দুজনেই হকচকিয়ে যান । সাবিনা বেগম পাশে বসে আজমাল হোসেনকে পর্যবেক্ষণ করতে থাকে । মিহি এগিয়ে এসে আজমাল হোসেনের পাশে বসে । বাবার হাতটা নিজের হাতের মুঠোয় নেয়। বাবার অবস্থা বুঝতে পেরে বাবাকে আর কোন প্রশ্ন করে না সে । এবার চোখে একরাশ প্রশ্ন নিয়ে চোখ তুলে তাকায় অযাচিত লোকটির দিকে, মিহি তাকাতেই চোখ সরিয়ে নেয় লোকটি । তারপর আবারো তাকায় মিহির দিকে,, মিহির দিকে দৃষ্টি বজায় রেখে বলে ওঠে….

” আমি ‘সারফারাজ’ .. ‘সারফারাজ মির্জা’ ।‌
তারপর আজমাল হোসেনের দিকে ইশারা করে বলে..
” উনি নিশ্চয়ই আপনার বাবা ? রাস্তায় ওনাকে বুক চেপে ধরে মুড়িয়ে বসে থাকতে দেখে এগিয়ে যাই ওনার কাছে । প্রথমে উনি কথা বলতে পারছিলেন না , নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল বোধহয় । ওনার অবস্থা বুঝতে পেরে কাছাকাছি একটা হাসপাতালে নিয়ে যাই ওনাকে । ওনার ব্লাড প্রেসার মারাত্মক ভাবে লো ছিল ,, Doctor দেখার পর খানিকটা ঠিক হন ।
কথাগুলো একসাথে বলার পর আবার তাকায় মিহির দিকে ‌ । মিহি এখনো সেভাবেই তাকিয়ে আছে ।
সারফারাজ শান্ত দৃষ্টিতে চেয়ে আবারো বলে ওঠে…
” একটু সুস্থ হয়েই উনি বারবার আপনাদের কথা বলছিলেন । উনার কাছেই ঠিকানা জেনে, নিয়ে আসলাম । তবে চিন্তা করবেন না,, এখন উনি অনেকটাই সুস্থ আছেন ।
মিহি নিঃশব্দে শুনে গেল কথা গুলো । মিহির চোখে কৃতজ্ঞতার রেখা সাথে বাবার জন্য চিন্তা,,কি হয়েছে তার বাবার , কোন বড় কিছু কি ? মিহির মাথায় একসাথে অনেক প্রশ্ন,ও শঙ্কা আঘাত হানছে । মিহির ভেতরটা ধক্ করে ওঠে কেমন । সাথে সাথে জড়িয়ে ধরে বাবাকে ।

” তোমার কিচ্ছু হবে না আব্বু । তুমি একদম ঠিক হয়ে যাবে দেখো । জানো আমি না আজকে তোমার জন্য নিজের হাতে বিরিয়ানি রান্না করেছি । খাবে না তুমি..?
আজমাল হোসেন চোখ বন্ধ করেই মুচকি হাসেন ,, আলতো হাত রাখেন মেয়ের মাথায় ।
এদিকে মিহির কথায় সারফারাজ অজান্তেই ভ্রু কুঁচকে হালকা হাসে ‌। সাবিনা বেগম উঠে যায় সারফারাজের কাছে ।
তারপর কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বলেন…
” তোমাকে অসংখ্য ধন্যবাদ বাবা ,, আজকে তুমি না থাকলে জানি না কি হয়ে যেত ।
” আরে আন্টি ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করবেন না প্লিজ । বরং আপনার মেয়ের হাতের বিরিয়ানি খাইয়ে ধন্য করতে পারেন ।
সারফারাজের এমন কথায় মিহি চোখ সরু করে তাকায় ‌। অযাচিত লোকটির এমন কথা বোধহয় পছন্দ হলো না ওর ‌।
হঠাৎ কথাটা বলে সারফারাজ ও কেমন অসস্থিতে পড়ে যায় ‌। দুই আঙ্গুল দিয়ে কপাল চুলকে আমতা আমতা করে বলে…
” ই..ইয়ে মানে ,,, Sorry…. এমন হুট করে হওয়া পরিচয়ে আমার বোধহয় কথাটা বলা উচিত হয়নি ।
এদিকে সাবিনা বেগম স্মিথ হেসে বলেন..
” আরে নাহ বাবা । তোমাকে Sorry বলতে হবে না । আমরা কিছু মনে করিনি ‌। আচ্ছা তোমার নামটা কি বললে যেন ?
” জ্বী, সারফারাজ ,, সাফি বলে ডাকতে পারেন।
সাফি নামটা শুনে মিহি কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে। কিছুক্ষণের মধ্যেই আবার চোখ সরিয়ে নেয় । অচেনা অজানা একটা লোকের এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যবহার এবং কথাবার্তা মোটেই পছন্দ হচ্ছে না মিহির ।

ঘড়ির কাঁটায় রাত ১০ টা….
রাফি খোলা ব্যালকনিতে বসে গিটারে টুংটাং সুর তুলে যাচ্ছে । নিস্তব্ধ রাতের চারদিক টুংটাং গিটারের ধ্বনিতে মুখরিত । তবে এই মুখরিত শব্দে রাফির মন নেই ‌ । আনমনে বসে গিটারে সুর তুলে যাচ্ছে সে ।
মাঝখানে কেটে গেছে আরো দুটো দিন । এই দুই দিন মিহিকে দেখতে পায়নি রাফি ।‌
রোজ রুহিকে কোচিং থেকে আনার বাহানায় একবার করে হলেও মিহিকে দেখতে পেত সে । মিহিকে একবার দেখার তাগিদে অফিসের সকল কাজ ফেলে ছুটতো ।
তবে আজ দুদিন হলো মেয়েটা কোচিং আসছে না । রাফি অনেকবার রুহিকে জিজ্ঞেস করতে চেয়েছিল মিহির ব্যপারে । কিন্তু কিছু বলতে পারে নি । এসব ব্যপারে এখন রুহিকে জড়াতে চায় না রাফি ।‌ তবে এখন ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙে গেছে রাফির ‌। কিছু একটা ভেবে হাতে থাকা গিটারটা নিয়ে উঠে দাঁড়ায় সে‌। নিজের ঘর থেকে বেরিয়ে রুহির ঘরের সামনে আসে । সবে রাত ১০ টা পেরিয়েছে, রাফি জানে রুহি এখনো ঘুমায় নি ।
তবে এতো রাতে বোনকে ডেকে তার বান্ধবীর ব্যপারে জিজ্ঞেস করতে বেশ অস্বস্তি বোধ হচ্ছে রাফির । দরজা কড়া নাড়তে গিয়েও বারবার হাত সরিয়ে নিচ্ছে ।
অবশেষে কিছুটা ভেবে দরজায় একবার টোকা দেয় রাফি । আরো একবার টোকা দিতেই রুহি দরজা খুলে দেয় । রুহির কানে ফোন, ঠোঁটে চিরচেনা হাসি । রাফি তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকায় রুহির দিকে । ভাইয়াকে এভাবে তাকাতে দেখে শুকনো ঢোক গেলে । কান থেকে ফোনটা নামিয়ে,ভ্যাবলা মার্কা হাসি দিয়ে মিনমিন করে বলে….

” ভা.. ভাইয়া তুমি ? এতো রাতে,, কিছু বলবে ?
” কার সাথে কথা বলছিলি ?
রাফির গম্ভীর কণ্ঠ শুনে রুহি জ্বিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে নেয় । মাথা নিচু করে বলে…
” ঐ… ভাইয়া…
রুহিকে আমতা আমতা করতে দেখে রাফি মুচকি হাসে । কথা ঘুরিয়ে বলে….
” কাল তোর কোচিং আছে না ?
” হুম,, আছে ।
” কোচিংয়ের পর অপেক্ষা করিস,, আমি তোকে আনতে যাবো ।
রুহি ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে বলে….
” তুমি তো রোজ আমাকে আনতে যাও । এতে আলাদা করে বলার কি আছে ?
” হ্যাঁ..? হুম । এখন তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়,,কাল তোর কোচিং আছে তো । এতো রাত জাগা ঠিক না । চোখের নিচে ডার্ক সার্কেল পড়ে যাবে নয়তো ।
” হুম,,আচ্ছা ভাইয়া ।
বলেই রুহি দরজা বন্ধ করতে নেয় ,, রাফি ও নিজের ঘরের দিকে দুই পা এগোয় । চটজলদি আবারো পিছন ফিরে রুহিকে ডাকে…

” Sissy….
” হ্যাঁ ভাইয়া..
” তোর Pakhi , মানে ঐ মিহি — ওকে দুইদিন দেখলাম না কেন ‌? ও কি কোচিং আসে না ?
রুহির কপালে হালকা ভাঁজ পড়ে ।
” আসলে ভাইয়া,, আঙ্কেল মানে মিহির বাবা একটু অসুস্থ ছিলেন । তাই Pakhi দুদিন ধরে কোচিং আসে নি আর কলেজ তো অফ এখন । তবে কালকে কোচিং আসবে ,ওর সাথে আমার একটু আগেই কথা হলো ‌। ওকে নিয়ে চিন্তা করো না ।
শেষের কথাটা রুহি উৎফুল্ল কন্ঠে বলে । রাফি এদিক ওদিক তাকিয়ে গাঁ ছাড়া ভাব নিয়ে বলে..
” আ..আমি ওকে নিয়ে চিন্তা করতে যাবো কেনো ? আমি তো এমনি বললাম । যা এখন ঘুমা গিয়ে।
বলেই রাফি চলে যায় । রাফি চলে যেতেই রুহি মুচকি হেসে দরজা বন্ধ করে নেয় ।
এদিকে রুমে এসে লাইট অফ করে শুয়ে পড়ে রাফি ‌। তবে কিছুতেই ঘুম আসছে না ‌। নিজের ফোনটা হাতে নেয় । কল লিস্ট ঘেঁটে একটা নম্বরে ফোন করে…
প্রথম বার ওপাশ থেকে ফোন রিসিভ হয় না । রিং হতে হতেই কেটে যায় । রাফি নাম্বার টার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে আবারো ডায়াল করে ,, এবার কয়েকবার রিং হতেই ফোন রিসিভ হয় । রাফির রুম নিস্তব্ধ,, শুধু নিজের নিঃশ্বাসের শব্দ শুনতে পাচ্ছে সে । ফোনের ওপাশ থেকে কেউ কোনো কথা বলছে না।
অবশেষে ফোনের ওপাশ থেকে একটা ঘুম জড়ানো মেয়েলি কন্ঠ ভেসে আসে ।

” আসলামুয়ালাইকুম,, কে ?
রাফি নিশ্চুপ । চোখ বন্ধ করে অনুভব করে সেই ঘুমকাতর কন্ঠ টাকে । ঐদিক থেকে আবারো বলে…
” হ্যালো,,কে বলছেন..?
“………..
পর পর দু’বার রাফির নিরবতায় এবার ফোনের ওপাশের জন রেগে যায় । রাগে গজগজ করতে করতে ঝাঁজিয়ে বলে ওঠে….
” কে রে তুই গোলাপের পুত ? কথা বলতে পারিস না ? কিছুদিন ধরেই দেখছি রাত হলেই কল দিয়ে ডিস্টার্ব করতে চলে আসিস । কিছু বলছি না বলে মাথায় উঠে গেছিস তাই না ? তুই জানিস আমি কে ? আরে আমি তোর দাদির বয়সী হবো বুঝলি ? ঘরে আমার তোর মতো দু-দুটো নাতি-নাতনি আছে । তুই যদি আর একদিন কল করিস ,,তাহলে আমার চেয়ে খারাপ আর কেউ হবে না , বলে দিলাম । ফোন রাখ ,, শালা ।
কথা শেষ হতেই টুং করে ফোনটা কেটে যায় । রাফি অবাকের চরম সীমানায় ,,,হাঁ হয়ে পাথরের মতো তাকিয়ে আছে ফোনের স্ক্রিনের
দিকে । মুখ দিয়ে অস্ফুটে বলে…
” অ্যাহ্ ,,,ও কি বলল এসব । ওর নাকি আমার মতো দু-দুটো নাতি-নাতনি আছে ।
বলেই শব্দ করে গা দুলিয়ে হেসে উঠলো রাফি ‌। হাসতে হাসতে পেটে খিল ধরার মতো অবস্থা । হাসতে হাসতে তাকায় ফোনের স্ক্রিনের দিকে,, ফোনের স্ক্রিনে Blossom নামে সেভ করা নাম্বারটা ঝকঝক করছে । রাফি চেয়ে থাকে সেদিকে ।

ইদানিং চৌধুরী বাড়িতে আসা যাওয়া বেড়ে গেছে মিহির ‌। যেকোনো ছোট ছোট কারন এবং অজুহাতে চৌধুরী বাড়িতে আসা হয় ওর । রুহিও নানান অজুহাতে মিহিকে নিয়ে আসে বাড়িতে । মিহিও কোন আপত্তি করে না । চৌধুরী বাড়ির মানুষ গুলো অনেকটা আপন হয়ে উঠেছে । তাদের সাথে থাকতে,সময় কাটাতে বেশ ভালো লাগে মিহির । এই যেমন আজকে ,, গত কয়েকদিনের ক্লাসের সব নোট নেওয়ার উদ্দেশ্যে রুহির সাথে চৌধুরী বাড়িতে এসেছে মিহি । চৌধুরী বাড়ির সবাই তো মিহিকে পেয়ে অনেক খুশি ।
সবার সাথে কিছুটা সময় কাটানোর পর সন্ধ্যার দিকে বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রাফির সাথে বের হয় মিহি ‌ । গাড়ির সামনের সিটে বসে আছে মিহি ,, দৃষ্টি তার জানালার বাইরে । মাঝে মাঝে আড়চোখে দেখছে রাফিকে। কালো রঙের টিশার্ট পড়ে আছে রাফি,,যা বারবার নজর কাড়ছে মিহির । রাফির জীম করা শক্ত পোক্ত ফর্সা বডিতে কালো রঙের টিশার্ট বেশ ভালোই মানিয়েছে । মিহিকে বারবার আড়চোখে তাকাতে দেখে রাফি ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসে ,হাস্কি স্বরে বলে উঠে…

” এভাবে বারবার আমাকে আড়চোখে দেখবেন না ম্যাডাম ,, আমার কিন্তু লজ্জা করে । আমি তো আপনার পাশেই বসে আছি,, চাইলে সরাসরি ভালোভাবে দেখতে পারেন, তাতে আমার কোন আপত্তি নেই ।
রাফি কথায় ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায় মিহি,, এলোমেলো পলক ফেলে ঠোঁট ভিজিয়ে বলে …
” কোই,,,আ.. আমি তো আপনাকে দেখছিলাম না । আমি তো ঐ বাইরের দিকে তাকিয়ে ছিলাম ।
” তাই ? কিন্তু আমি যে দেখলাম আপনি বারবার আড়চোখে আমাকে দেখছেন ।
” আপনি কি করে বুঝলেন ? তার মানে আপনিও কি আড়চোখে আমাকে দেখছিলেন ?
মিহির কথায় রাফি তাকায় মিহির দিকে,, চোখাচোখি হয় দুজনের । দুজনেই একে অপরের চোখের দিকে তাকিয়ে হেসে ওঠে একসাথে । মিহি লাজুক হেসে মাথা নামিয়ে নেয়।
রাফি সামনের দিকে তাকিয়ে গলা ছেড়ে দু’লাইন গেয়ে ওঠে বলে …
ভাল্লাগে চাইলে তুই আড়চোখে
চাইছি তোর ঐ দু’চোখ আর তোকে
এলোমেলো দিস করে
সারাটা দুপুর ধরে
বসে বসে বুনে চলি কল্পনায়………

রাফির মুখে এমন গান শুনে মিহি তড়িৎ বেগে তাকায় । রাফি কি কোন ভাবে ওকে মিন করে গান গাইলো..?
রাফি একটু থেমে বলে….
” Ice cream খাবেন ?
” খাওয়াবেন ?
” হুম । কোন ফ্লেভার পছন্দ ?
” Chocolate !!
” আচ্ছা আপনি বসুন আমি গাড়ি পার্ক করে নিয়ে আসছি ।
” আজকে দুটো নিয়ে আসবেন কিন্তু ,, সেদিনের মত আপনার ভাগে ভাগ বসাতে না হয় যেন ।
মিহির দুষ্টুমি করে বলা কথায় রাফি মুচকি হাসে । গাড়ি পার্ক করে সামনের শপ থেকে দুটো Ice cream নিয়ে আসে । Chocolate ফ্লেভারের ice cream টা‌ মিহির হাতে দেয় ‌। রাফির হাতে অন্য ফ্লেভারের ice cream দেখে মিহি জিজ্ঞেস করে…

” আপনি Chocolate পছন্দ করেন না ?
” নাহ __ রাফির ছোট উত্তর।
খেতে খেতেই টুকটাক কথা হয় দুজনের মাঝে । রাফি বলে..
” জানেন,, আপনাকে না একজনের মতো দেখতে ..
মিহি খেতে খেতে আগ্রহী হয়ে প্রশ্ন করে…
” কার মতো ?
” আমার দাদির মতো ।
মিহি চোখ গোল গোল করে তাকিয়ে ঠোঁট উল্টে প্রশ্ন করে…

এক দেখায় পর্ব ৮+৯

“‌ মানে ?
” হুম । জানেন আমার দাদির না আমার মতো দু-দুটো নাতি-নাতনি আছে ।
রাফির ঘোর প্যাঁচ কথার আগা মাথা কিছুই বুঝতে পারলো না মিহি । ভ্যাবলার মত সে শুধু মাথা ঝাঁকিয়ে মুখে বলে..
“ও আচ্ছা ” ।
মিহির অবুঝের মতো অবস্থা দেখে রাফি কোন রকমে হাসি আটকে রাখে ।

এক দেখায় পর্ব ১১