Home এক প্রণয় রাত্রি এক প্রণয় রাত্রি পর্ব ১৮

এক প্রণয় রাত্রি পর্ব ১৮

এক প্রণয় রাত্রি পর্ব ১৮
আসিফা খান

গাড়ি ড্রাইভ করছে রিফাত,,,পাশেই চুপটি করে বসে আছে ইয়ানা।। ইয়ানার কল করার আগেই কলেজের সামনে এসে হাজির রিফাত,,,জিজ্ঞাসা সূত্রে প্রকাশ করে,,,সামনেই কোনো দরকারে এসেছিল তাই ইয়ানার ফোন করার আগেই চলে এসেছে।।,,, ইয়ানা কথা এগালোনা নিরবে গিয়ে বসলো ড্রাইভিং সিটের পাশে।।,, এক পলক রিফাত তার পাশে বসে থাকা হালকা মিষ্টি রঙের ফ্রক প্লাজো আর মাথায় কাপড় টানা মেয়েটির দিকে তাকিয়ে গাড়ি স্টার্ট দিলো।।

ইয়ানা কেমন নিশ্চুপ বসে আছে,,,চোখ মুখ কেমন গোমড়া করে আছে সে।। চোরা চোখে একবার রিফাত এর দিকে তাকালো সে,,, হালকা আকাশী রঙের শার্ট,কালো জিন্স,,, শার্ট এর হাত কনুই পর্যন্ত গুটিয়ে রাখা,,,চোখে সব সময়ের মত গোল ফ্রেমের চশমা,,,,সিল্কি চুল কিছুটা কপালে অস্থানা খুঁজেছে।।,,, চাপ দাড়ি ওয়ালা ফর্সা সুশ্রী মাসুম চেহারা,,,,যে কেও এই মানুষটির সান্নিধ্য লাভ করতে চাইবে এমন গঠন লোকটার।।,,,কিন্তু এই মাসুন,নির্মল চেহারার পিছনে যে একটা দুর্বোধ্য,ক্রুদ্ধ মানুষ লুকিয়ে আছে তঃ বোঝা অসম্ভব।।,,, আতিকার বলা কথার সাথে রিফাত এর এই শান্তশিষ্ট চেহারার কোনো তুলনা নেই।
“বেশিই হ্যান্ডসাম লাগছে নাকি আমায়!”

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

খুবই স্বাভাবিক কণ্ঠ,দৃষ্টি তখনও সামনে দিকে রিফাত এর।। হুট করেই রিফাত এর এরকম অবাঞ্ছিত কথায় ভরকে গেল ইয়ানা,,,দ্রুত চোখ সরিয়ে নিলো।। সামনের দিকে তাঁকিয়ে গাড়ি চালানোর পরেও ইয়ানার দৃষ্টি কিভাবে লক্ষ্য করতে পারলো রিফাত,,,ইয়ানা ভাবনায় পড়লো,,,পড়লো লজ্জয় ও।। রিফাত আড় চোখে ইয়ানার থমথমে মুখ দেখে দেশ মজা পেলো, বাঁকা হাসলো সংগোপনে।
মনে পড়লো আজ সকালে বলা আহিল এর প্রশ্ন,,,
“তো কি ভাবলি?”
আহিল এর এরকম প্রশ্নে ফাইল থেকে মাথায় তুলে,ভ্রু কুঁচকে বললো,,,”কোন বিষয়ে?”
“তোর আর ইয়ানার সম্পর্কের বিষয়ে,,,”

এরকম এক প্রকার কথায় রিফাত বুঝলো না কি উত্তর দেবে সে।,,কিন্তু এই কয়দিনে এই টুকু বুঝতে পেরেছে ইয়ানা কে সে আর ছাড়তে পারবে না ,মূলত ছাড়তে চায়না। সে বাঁধা পড়েছে,,, ভরসা,আস্থা আর দায়িত্বের বেড়াজালে।। ইয়ানার চেহারা ভেসে ওঠে চোখের সামনে,,,নাহ পারবে না মেয়েটার থেকে দূরে যেতে,,,এই পবিত্র বন্ধন ভেঙ্গে ফেলতে পারবে না সে। মেয়েটার বাড়িয়ে দেওয়া ভরসার হাত কে ফিরিয়ে দিতে পারবেনা। রিফাত দেখেছে ইয়াসমিন বেগম এর চোখে এক পাহাড় সমান আশা,,,মেয়েকে সুখে দেখার তাড়না,,,সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে হবে রিফাত কে,,,উপেক্ষা করার বিধান নেই।।,,,যদি স্বয়ং ইয়ানা ও তাকে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলে,,তাহলে তার কথাও সে শুনবে না,মানবে না,,,দরকার পড়লে আজীবন এই দায়িত্ব পালন করেই কাটিয়ে দেবে সে ।।
“বন্ধু তুমি পড়েছো প্রেমে,,,,গভীর প্রেমে,,,আর উঠতে পারবে না চান্দু।।,, মাঝে মাঝে নিঃশব্ধতাই সকল প্রশ্নের জবাব হয়।,, বুঝি বুঝি।”
আহিল এর কথায় চমকে উঠে রিফাত।।,,,,সে কি সত্যিই প্রেমে পড়লো,,,নাকি মায়ায়!,,,উঁহু,,,কোনো টা তেই নয়। শুধুই কর্তব্য, আর কিছুই না।।

“আপনি ওই লোকটা কে মেরেছেন?”
খুবিই সঙ্গিন ভাবে প্রশ্ন ছুড়ে দিল ইয়ানা রিফাত এর দিকে।। ইয়ানার কথার অর্থ না বুঝে রিফাত ভ্রূ কুচকে বিবশ কন্ঠে বলে,,,,”কার কথা বলছো?,,কাকে মেরেছি আমি?”
ইয়ানা এবার ঘুরে তাকালো রিফাত এর দিকে,,,”ইসস কি অবুঝ।,,,আমি ওই লোকটার কথা বলছি যে সেই রাতে আমা,,,,”
পুরোটা বলার সুযোগ দিলো না রিফাত,,,মিনিটের মধ্যেই তার চেহারার মোহনীয় রূপ উবে সেখানে এসে হাজির হলো এক রাশ রুষ্ট।।,,, ইয়ানার দিকে গরম দৃষ্টি নিক্ষেপ করে দাতে দাঁত পিষে বললো,,
“তো,,,তোমার কি মনে হয় আমি ওই বা*স্টা*র্ড কে বাড়িতে ডেকে পঞ্চো ভোগ খাওয়াবো,,আদর , যত্ন করবো তাকে,,,স্টুপিড।”

রিফাত এর চাহনি দেখে ইয়ানা গোপনে ঢোক গিলল,,,নিভে গেল এতক্ষণ ধরে জ্বালিয়ে রাখা শিখা।। মিহিয়ে গেলো মেয়েটা। ভাবলো সত্যিই তো রিফাত ভুল কি করেছে। উচিত শিক্ষা লোকটার প্রাপ্য ছিল।।,,,
“কে বলেছে তোমায় এই কথাটা,,, কোথা থেকে জেনেছো?”
রিফাত এর রাশভারী কন্ঠে ইয়ানা কেপে উঠল,,,মিনমিনে কন্ঠে উচ্চারিত করলো,,”আতিকা।”
রিফাত ভেবে ছিল আহিল ছাড়া এই কথা ইয়ানা কে কেও বলবে না কিন্তু আতিকার নাম শুনে কিছুটা বিস্মিত হলো,,, তত্পর বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগ করলো। আজ কাল আহিল এই উড়ে বেড়ানোর কারণ বুঝতে সক্ষম হলো।।,,এরই মধ্যে শোনা গেলো ইয়ানার মৃদু স্বরে বলা কঙ্ক্ষিত শব্দ,,,

“আমি জানতাম না আপনি এত ক্রুদ্ধ,,, মারপিট ও করতে পারেন,,,দেখে মনে হয় না।”
ইয়ানার বাচ্চা সুলভ ভাবে বলে উঠা কথায় রিফাত বকা হাসি ফুটিয়ে তুলে,,, সহসা ইয়ানার ডগর আঁখি যুগলের পানে চাহিয়া বললো,,
“আরো অনেক কিছু উপলব্ধি করা বাকি আছে,,,তোমায় যে আমি আর ছাড়ছি না।”
রিফাত কথাটি বলেই গাড়ি চালাতে মন দিল,,,,আর ইয়ানা সে হতবাক, নির্বাক। বুকের মধ্যে কেমন ছলাত শব্দ হচ্ছে। কণ্ঠ নালীতে শব্দে ফেসেছে। নিশ্বাস হয়েছে দৃঢ়। চোখের পাতা যেনো রিফাত হতে সোড়ছেই না।

হাওয়ার বুক চিরে এগিয়ে যাচ্ছে হাফিজ এর বাইক। লুকিং গ্লাসে বারবার দেখে চলেছে তার পিছনে বসে থাকা মেয়েটা কে।। সকালের মোলায়েম রোদ মেয়েটির চোখে মুখে এসে পড়াতে তাকে সদ্য ফুটে ওঠা সূর্যমুখী লাগছে।।,,, বেলায় নাকি মেয়েটার টিউশন একা একা রাস্তা থেকে হেঁটে যেতে দেখে হাফিজ ইনিয়ে বিনিয়ে তাকে ঠিক নিজের বাইকে তোলে।।,,, বোঝাপড়া আছে মেয়েটার সাথে,, এই মুহূর্তে হাফিজের আলেয়ার প্রতি অনুরাগের বদলে একরাশ রাগ কাজ করছে ।হুট করে নিজের বাইকটা থামিয়ে দিতে আলেয়া হুমড়িয়ে পড়ে হাফিজের পিঠে,,,নাকে ব্যাথা লাগে।,,, নাক ডলতে ডোলতে আলেয়া তেঁতে যাওয়া সুরে বলে,,,
“এই হাঁপানি রোগির বাচ্চা,,, বাইক থামালে কেন? আমার যে টিউশনের দেরি হয়ে যাচ্ছে,,, তার ওপরে নাকে ও লেগে গেল,,, ধুর,,,।”
হাফিজ কোন উত্তর দেয় না চুপচাপ বাইক থেকে নেমে এসে বাইকস্ট্যান্ড করে। আর আলেয়া একওই রকম ভাবে বাইকের উপর বসে থাকে।।,,, ততপর আলেয়ার সামনাসামনি দাঁড়ায় আলেয়ার পাশে সিটে হাত রেখে রূষ্ট কন্ঠে বলে,,,

“আজ সকাল সকাল ওই সিয়াম এর সাথে এত হেসে হেসে কি কথা হচ্ছিল ,,,আমায় ও বল আমিও একটু হাসি।”
আলেয়া কিছুক্ষণ ইনোসেন্স ফেস বানিয়ে হাফিজার কথা হজম করে ততপর খুবই মিষ্টি হেসে জবাব দেয়,,,”আরে তুমি জানো সিয়াম ভাই একটা নতুন বাইক কিনেছে তোমার বাইক থেকেও আরো বেশি সুন্দর।”
“তাই না!”(দাতে দাঁত পিষে)
আলেয়া একই রকম ভাবে মিষ্টি সুর ারাতে থাকে হাফিজের রাগ যেন তার চোখেই পড়ছে না,,,”তুমি জানো ! সিয়াম ভাই ভীষণ ভালো। আমি মিশিকে খুঁজে পাচ্ছিলাম না,,, বাইরে খুঁজতে গেছিলাম তখনই সিয়াম ভাই আমায় দেখে মিশিকে আমার কোলে দেয়।।,,, উনি কথা বলে কি সুন্দর,,, খুবই ফ্রি মাইন্ডেড উনি,,,,, আর কি।”
হাফিজের জ্বলন্ত রাগে আলেয়ার কথা যেন কেরোসিনের মত কাজ করছে,, হাত মুঠি বদ্ধ করে,, ক্রুদ্ধ চোখে আলিয়ার দিকে তাকিয়ে রয়। কিন্তু মেয়েটা চুপি হয় না একনাগাড়ে সিয়ামের তারিফ করেই চলেছে। আশেপাশে জানো আর কিছুই নেই,,, হাফিজের ক্লেশ পূর্ণ চেহারা তার সামনে থেকে যেন উবেই গেছে।।

আর সহ্য হচ্ছে না হাফিজের আলিয়াকে একপ্রকার বাচ্চাদের মত বাইক থেকে নামিয়ে রাস্তায় দাড় করায়।।,,, হুট করে এরকম হাওয়াতে আলেয়া হকচকিয়ে যায়,,, এতক্ষনে হাফিজ নিজের বাইকে বসে,, বাইক স্টার্ট ও করে ফেলেছে আলিয়া ভ্রু কুঁচকে বলে,,,”আরে আমিও তো যাবো নাকি,,, আমায় নামালে কেন?”
“কেন আমার বাইকে উঠবি কেন,,, ওই সিয়ামের বাইকে যা।।,,,”
“কিন্তু।”

হাফিজ বাইকের টান দিল আর চোখের নিমিসেই গায়েব হয়ে গেল আলেয়ার দৃশ্য হতে।।,,,আলেয়া যখন বুঝতে পারলো এই প্রায় শুনশান সড়কে সে একা আর হাফেজ তাকে ছেড়ে চলে গিয়েছে,,, তখনই মেয়েটা নাক ঠোঁট ফুলিয়ে ফুপিয়ে উঠলো।। অভিমানের পাহাড় জমলো হাফিজার প্রতি।।

রাত তখন সাড়ে নয়টা ড্রইং রুমের সোফা তে বসে টিভিতে সিন-চ্যান দেখতে ব্যাস্ত ইয়ানা আর আলেয়া।। চোখ টিভি থেকে সোরছেই না। এরই মধ্যে বেজে উঠলো কলিং বেল,,,এক বার ,দুই বার। এবার রান্না ঘর থেকে আওয়াজ আসলো মিসেস আসফিয়ার,,,
“কি আলু ,, টিভির মধ্যে ঢুকে গিয়েছিস নাকি,,,কানের দোরগোড়ায় কি তালা ঝোলানো!,,,, শুনতে পাচ্ছিস না কলিংবেলের আওয়াজ আসছে।”
মায়ের চিৎকার শুনে আলেয়া করুণ চোখে ইয়ানার দিকে তাকালো ,,, ইয়ানা আলেয়ার চোখের ভাষা বুঝতে পারল,, তার মানে ও যেতে ইচ্ছুক নয় দরজা খুলতে। ইয়ানা ঠোঁট ফুলিয়ে মুখ থেকে ‘ চ ‘ উচ্চারণ করে হেলে দুলে দরজা খুলতেই সামনে দেখলো রিফাতের ক্লান্ত মুখ,,, দরজার পিলারের সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ছেলেটা,, খারাপ লাগলো ইয়ানার।।,,, রিফাত একবার চোখ তুলে মাথা থেকে পা পর্যন্ত ইয়ানার পানে তাকিয়ে চোখ বুলালো ততপর ভেতরে প্রবেশ করতে করতে ইয়ানের উদ্দেশ্যে বলল,,,

“কফি নিয়ে আসো।”
ইয়ানা কিছু বলল না শুধুই মাথা নাড়িয়ে সম্মতি পোষণ করল ততপর চলে গেল রান্নাঘরে।।,,, ইয়াসমিন বেগম এবং মিসেস আসফিয়া রান্নাঘরের টুকিটাকি কাজ করছে,, তাদের দিকে তাকিয়ে ইয়ানা ঠোট বাকিয়ে বলল,,,”উনি কফি চায়ছে।”
ইয়ানার কথায় মিসেস আসফিয়া এবং ইয়াসমিন বেগম একে অপরের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলো,,, দুইজনের মনে অদ্ভুত শান্তি লাগছে,, ছেলে মেয়ে দুটোর সম্পর্ক স্বাভাবিকের দিকে এগোচ্ছে সেটা দেখেই দুইজনের অন্তর শিথিল হয়ে গেলো।,,,
ইয়াসমিন বেগম বললো,,,”তো নিয়ে যা,,,আমাদের বলছিস কেনো আবার।”
মিসেস আসফিয়া ইয়ানার কাছে এসে বললো,,,”কফি চেয়েছে তোর উনি,,,আমার উনি চাইলে আমি করেদিতাম,,,,এখন তোর উনি চায়ছে তুই দে।।,,,”
ইয়ানার চিত্ত আকুল হলো,,,লাজুকতা এসে ভর করলো হলদেটে মুখে।।,,চুপ চাপ চুলায় পাতিল বসলো।

দরজা খুলে রুমে প্রবেশ করতে দেখলো রুম ফাঁকা, বাথরুম থেকে পানি পাওয়ার আর আওয়াজ আসছে।। ইয়ানার পিছন পিছন রুমে প্রবেশ করল মিশি ও।। সোফার সামনের টি টেবিলে কফির মগ রেখে,, ধপ করে সোফাতে বসে পড়ল ইয়ানা যেন কত বড় যুদ্ধে জয়ী হয়ে এসছে সে।।,,, কিয়ৎকাল পর ইয়ানার নজর গেল তার পাশে রিফাতের রাখা ব্যাগ আর স্টেথোস্কোপ এর দিকে,,, ইয়ানার চোখ চকচক করে উঠলো,,, চটজলদি স্টেথোস্কোপ নিয়ে কানে গুজে নিল তারপর,,, কিছুটা ডক্টরই ভঙ্গিতে তার পায়ের কাছে দাড়ানো মিশিকে কোলে তুলে নিল,,,
“আয়,,,তোর হার্ট বিট মাপি।”

বলেই মিশিকে উল্টিয়ে স্টেথোস্কোপের diaphragm চেপে ধরে মিশির নরম দেহে।,,, ইয়ানার এই অদ্ভুত কার্যক্রম মিশির ঠিক পছন্দ হলো না তাই ছটফট করতে শুরু করলো সে,,, এদিকে ইয়ানা পুরোপুরি ডাক্তারি অবতার নিজের মধ্যে আনার চেষ্টা করছে। কিন্তু সে অসফল কিচ্ছু শুনতে পাচ্ছে না সে হার্টবিটের ‘ হ ‘ ও নয়।।,,, এরই মধ্যে দরজা খুলে বেরিয়ে এল রিফাত,,, ইয়ানার কার্যক্রমে সে অতবাক,, হাসবে না কাঁদবে ঠিক বুঝতে পারছে না,,, এদিকে মিশি রিফাতের দিকে তাকিয়ে কোল থেকে এক ঝটকায় নেমে বেরিয়ে গেল রুম থেকে। ইয়ানা কিছুটা ভোরকে গেল চকচকিয়ে,, দ্রুত চোখে সামনের দিকে তাকিয়ে দেখল রিফাত তারি দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।।,,,

ইয়ানা নার্ভাস একটা স্মাইল দিয়ে কান থেকে স্টেথোস্কোপ খোলার আগেই রিফাত এগিয়ে এলো ইয়ানার পাশে বসে পড়ল নীরবে।।,,,তত্পর সংগোপনে ইয়ানার হাতের উপর নিজের হাত রেখে স্টেথোস্কোপের diaphragm চেপে ধরে ইয়ানার বুকের বা পাশে।। এদিকে ইয়ানা পুরোই ‘ থ ‘,,, ঠোঁটের মাঝে কিঞ্চিৎ ফাঁকের সৃষ্টি হয়েছে,,, রিফাতের হঠাৎ এরকম কাজ ই আনার কাম্য নয় ,,,শুনতে পাচ্ছে নিজের হার্টবিট যা তুলনা মূলক ভাবে আধ্যাত্মিক জোরে দৌড়াচ্ছে,,, ধক ধক শব্দ জানান দিচ্ছে মেয়েটার অন্তর নিপুণ ,, বড়ো বড়ো করে চোখ রিফাতের দিকে দৃষ্টি মিলে তাকিয়ে আছে,,, গলা শুকিয়ে আসছে। আশপাশটা কেমন গরম লাগছে। নিশ্বাসের গতির বাড়োন ধরেছে।।,,,
ইয়ানার হার্টবিট এত জোরেই দৌড়াচ্ছে যে রিফাত ও তার আভাস পাচ্ছে।। ইয়ানার কম্পনের ঠোঁটের দিকে রিফাত অনিমেষ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।

ইয়ানা এবার কাপা ঠোটে, শুকনো গলায় কোনরকম বলে,,,”ক কফি,,,, ঠা ঠান্ডা,,,,হয়ে যা যাচ্ছে।”
রিফাত বাস্তবে ফিরল,,,নিজের হাত ঝট করে সরিয়ে নিলো রিফাত,,,মাথা বাঁকিয়ে কপালে বৃদ্ধা আঙ্গুল ঘষে,,,পাশে তাকাতেই দেখলো ইয়ানা নেই,,নিল রঙের ওড়না মুহূর্তেই দরজার কাছে থেকে উড়ে বেরিয়ে গেল।।,,রিফাত দীর্ঘশ্ব ফেলে,,,সামনের চুল টেনে ধরে,,,কি ভাবে তাকিয়ে ছিল সে ইয়ানার পানে,,,নিজের উপর বিরক্ত হলো। কফির মগ হাতে তুলে ব্যালকনিতে চলে গেল।।
ডিনার টেবিলে বসে ভাতের উপর আঙ্গুল চালিয়ে যাচ্ছে ইয়ানা।। রিফাত কোনা চোখে সবটাই পরখ করছে,,, ইয়ানার প্রতিটা মুভমেন্ট অত্যন্ত সূক্ষ ভাবে দেখছে সে।।,,,

“রিফাত,,,”
মিস্টার আফতাব এর আওয়াজ শুনে রিফাত গলা কেশে তার দিকে তাকালো,,,”জ্বী।”
“নার্সিং হোমে সব ঠিক আছে তো!,,,কোনো অসুবিধা হচ্ছে না তো?’
“না,,,সব ঠিক আছে।। আর কম সময়ে এত বেশি সাফল্য আমার কাম্য নয়।”
কথাটা খুবই আলতো কণ্ঠে বলল রিফাত।। ইব্রাহীম সাহেব রিফাতের কথায় পুলকিত হলেন।
নাতির সফলতায় তার বুক যেনো চওড়া হয়ে যায়।
মোনে মোনে আল্লাহর শুটিয়া আদায় করে। তত্পর রিফাত এর কাধে হালকা চাপড়িয়ে গর্বের সুরে বলল,,
,”সাফল্য হবেই না বা কেনো? নাতি আমার বিদেশ ফেরত ডাক্তার ,,, তাও আবার হৃদয় বিশেষজ্ঞ।।,,,বলি কি দাদুভাই,,,অত্যাধিক বেশি ব্যাস্ত হওয়ার আগে,,,ইনু দিদিভাই কে নিয়ে একটু ঘুরে এসো,,,, আরে ইংরেজি তে ওটাকে কি বলে যেনো ,,,জমিলা।”

আলেয়া এবার দাদুর ভুল ভাল নাম ডাকাতে রেগে গেলো না,,বরং এক প্রকার লাফিয়ে বললো,,,”হানিমুন বলে দাদু ওটাকে।”
রিফাত থতমত খেয়ে যায় আলেয়ার কথায়,, ইয়ানার লজ্জায় থুতনি ঠেকেছে বুকের সাথে,,,মা খালাদের,খালুদের সামনে টনটনে অবস্থা ইয়ানার।। মিস্টার আফতাব গলা ঝেড়ে উঠে গেলেন টেবিল থেকে। ছেলে বউকে লজ্জায় ফেলতে চাননা তিনি। দাদু রিফাত আর ইয়ানার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলো।। আলেয়া অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নিলো,,,দ্রুত বেগে দুই লোকমা ভাত শেষ করে দৌড় দিল রুমের দিকে।।,, রিফাত ও উঠে গেলো। পরে থাকলো ইয়ানা,,,চিয়ার ছেড়ে ওঠার পূর্বেই ইয়াসমিন বেগম মেয়ের হাত ধরে থামিয়ে দিলেন,,,মেয়ে যে এতক্ষণ ধরে শুধুই ভাতের উপর আঁকি-বুকি করছিল সেটা তার চোখ এড়াইনি।,,,নিজের হাতে ভাত মেখে ইয়ানার মুখের সামনে ধরতেই মেয়েটা চুপ চাপ খেয়ে নিল।।

রুমে এসে দেখলো রিফাত সোফায় বসে ল্যাপটপ চালাচ্ছে । ডাইনিং টেবিলের ঘটনা মনে পড়তেই কেমন লজ্জা লজ্জা লাগলো।। ইয়ানা গুটি গুটি পায়ে ফ্রেশ হয়ে,,,শুয়ে পড়ল বিছানার এক কোন ঘেঁষে ,,,আর মুহূর্তেই তলিয়ে গেলো ঘুমের সাগরে।।,,,বেশ রাত পর্যন্ত রিফাত কাজে ব্যাস্ত থেকে মুক্তি পেয়ে বিছানায় গেলো।। বেঘোরে ঘুমিয়ে থাকা ইয়ানা ঘুমের মধ্যেই দুরত্ব গুছিয়ে ফেললো,,,ঝাপটে ধরলো রিফাত কে কোল বালিশ ভেবে।। রিফাতের প্রশস্ত বুকে নিজের জায়গা খুঁজে নিল ইয়ানা।

এক প্রণয় রাত্রি পর্ব ১৭

মুখ গুজে দিল রিফাত এর গলো দেশে,,, ইয়ানার উষ্ণ নিঃশ্বাস রিফাতের গলা বুক দখল করল।।,,, যুবক বয়সের বেসামাল ইচ্ছে রিফাত কে ধরা দিলো,,,কিন্তু তাহ প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা জারি করলো সে।,, ইয়ানা কে সরানোর চেষ্টা করে হিতের বিপরীত হলো,,,আরো দৃঢ় হলো ইয়ানার বন্ধন।। চোখ বুজে রুদ্ধশ্বাস ফেলে,,,হারিয়ে গেলো সেও তন্দ্রার রাজ্যে।

এক প্রণয় রাত্রি পর্ব ১৯